খুঁজুন
                               
, ,
           

সুস্বাদু পাউরুটিতে ক্যান্সারের ফাঁদ!

আহসান হাবিব বরুন:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ৭:৫৬ অপরাহ্ণ
সুস্বাদু পাউরুটিতে ক্যান্সারের ফাঁদ!

সকালের নাশতার টেবিলে কিংবা ব্যস্ত নগরজীবনের দ্রুতগতির সকালে এক স্লাইস পাউরুটি এখন বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের প্রধান অনুষঙ্গ। দুধে ভেজানো পাউরুটি শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ—সবার কাছেই পুষ্টিকর ও সহজপাচ্য খাবার হিসেবে সমাদৃত। কিন্তু এই নরম, সুস্বাদু ও আকর্ষণীয় ফোলানো পাউরুটির প্রতি স্লাইসেই যে লুকিয়ে আছে মরণব্যাধি ক্যান্সারের মতো এক বিষাক্ত ফাঁদ, তা আমাদের অজানা থেকে যাচ্ছে। অতি মুনাফালোভী একশ্রেণীর বেকারি মালিক ও সরকারের তদারকি সংস্থার চরম উদাসীনতায় প্রতিদিন দেশের কোটি কোটি মানুষ বিষ গিলে খাচ্ছে। প্রাতঃরাশের এই সাধারণ উপাদানটি এখন জনস্বাস্থ্যের জন্য নীরবে ডেকে আনছে মহা বিপর্যয়।

সম্প্রতি বাংলাদেশের হাইকোর্টে দায়ের হওয়া একটি রিট আবেদন খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টি আবারও জনসমক্ষে এনে দাঁড় করিয়েছে। মুভমেন্ট ফর হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড গুড গভর্নেন্স ফাউন্ডেশন (এমএইচআরজিএফ)-এর পক্ষে সংস্থাটির চেয়ারম্যান কবীর আলমগীর জনস্বার্থে এই রিট আবেদনটি করেন। এতে পাউরুটি উৎপাদনের সময় বিষাক্ত পটাশিয়াম ব্রোমেটের (Potassium Bromate – \text{KBrO}_3) ব্যবহার সম্পূর্ণ বন্ধের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। একই সাথে বাজারজাতকৃত পাউরুটির প্যাকেটের গায়ে ‘পটাশিয়াম ব্রোমেট ব্যবহার হয়নি’—এই মর্মে স্পষ্ট ঘোষণা রাখা বাধ্যতামূলক করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এই আইনি পদক্ষেপের গুরুত্ব ও ভয়াবহতা বোঝা যায় রিটে বিবাদী হিসেবে অভিযুক্তদের তালিকা দেখলে। রিটে খাদ্যসচিব, বিএসটিআই মহাপরিচালক, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রতিষ্ঠান—যেমন প্রাণ ফুডস, নাবিস্কো, ডেনিস, ফ্রেশ (মেঘনা গ্রুপ), আকিজ ফুড এবং হক ফুডের মতো প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের বিবাদী করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কেবল কাগুজে সিদ্ধান্ত নয়, বাজারে বিদ্যমান অনিয়মের লাগাম টানার এক কঠোর বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

পাউরুটি তৈরির চিরাচরিত ও নিরাপদ পদ্ধতি ছিল ইস্ট (Yeast) বা খাবার সোডার ব্যবহার। কিন্তু প্রযুক্তির বিকাশ এবং বাজার দখলের অসম প্রতিযোগিতায় উৎপাদন ত্বরান্বিত ও সস্তা করার কৌশল হিসেবে নব্বইয়ের দশক থেকে বেকারিতে পটাশিয়াম ব্রোমেটের অনুপ্রবেশ ঘটে।

পটাশিয়াম ব্রোমেট প্রধানত আটার খামিরকে দীর্ঘস্থায়ী করা, রুটিকে তুলতুলে রাখা এবং অস্বাভাবিকভাবে ফুলিয়ে তোলার ‘ডফ ইম্প্রুভার’ (Dough Improver) বা আটা প্রক্রিয়াজাতকরণ উপাদান হিসেবে কাজ করে। এটি সস্তা এবং খুবই অল্প পরিমাণে ব্যবহার করলেও পাউরুটির চেহারা চমৎকার ও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। ফলে প্রচলিত ইস্টের বাড়তি খরচ বাঁচাতে বেকারির মালিকেরা অজান্তেই বা জেনেশুনেই এই বিপজ্জনক রাসায়নিক উপাদানের ওপর ঝুঁকছেন।

বিশ্বের প্রায় ৪০টিরও বেশি দেশে পটাশিয়াম ব্রোমেটের ব্যবহার অনেক আগেই নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কানাডা, যুক্তরাজ্য, চীন, ভারত, অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডের মতো দেশগুলোতে বেকারি খাদ্যে রাসায়নিকটির ব্যবহার আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। কারণ আন্তর্জাতিক ক্যানসার গবেষণা সংস্থা (IARC) একে ‘গ্রুপ টু-বি কারসিনোজেন’ (Group 2B Carcinogen) হিসেবে চিহ্নিত করেছে—যা মানবদেহে নিশ্চিতভাবে ক্যানসার সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখে।

আন্তর্জাতিকভাবে এমন উদ্বেগ থাকলেও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট ছিল দীর্ঘসূত্রতায় ভরা। বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) ২০১৬ সালে পাউরুটির মান নির্ধারণের সময় ১ কেজি পাউরুটিতে ৫ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম ব্রোমেট ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিল। পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক গবেষণার ভিত্তিতে ২০১৮ সালে বিএসটিআই এবং ২০২২ সালে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ বেকারি খাদ্যে পটাশিয়াম ব্রোমেট ও পটাশিয়াম আয়োডেট সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।

কিন্তু খাতা-কলমে এই নিষেধাজ্ঞা জারি হলেও বাস্তবে ঢাকা শহরসহ জেলা ও উপজেলার আনাচে-কানাচে গড়ে ওঠা অগণিত অনিবন্ধিত ও অপরিকল্পিত বেকারিতে এর ব্যবহার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। ২০২১ সালে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের পরিচালিত এক ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় দেখা যায়, ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে সংগৃহীত ১৯টি পাউরুটির নমুনার মধ্যে ১৬টিতেই—অর্থাৎ ‘৮৪ শতাংশ নমুনায়’—অতিরিক্ত মাত্রায় পটাশিয়াম ব্রোমেট বিদ্যমান ছিল। যার মাত্রা ছিল ৩.৩১ পিপিএম থেকে ১২.৯১ পিপিএম পর্যন্ত। এমনকি ২০২৫ সালেও নতুন করে নেওয়া একাধিক নমুনায় পটাশিয়াম ব্রোমেট এবং সহনশীল মাত্রার চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি ক্ষতিকর ‘ক্যালসিয়াম প্রোপিওনেট’ (১.৫৭%, যেখানে অনুমোদিত মাত্র ০.৭%) পাওয়ার তথ্য উঠে এসেছে।

ভেজাল খাদ্যের এই তাণ্ডবে বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ৪৫ লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে। বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটি ও অন্যান্য স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, দেশে বর্তমানে ক্যানসার আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ৪৬ হাজার। প্রতিবছর নতুন করে প্রায় ১ লাখ ৬৭ হাজার মানুষ ক্যানসারে আক্রান্ত হচ্ছে এবং ১ লাখ ১৭ হাজারের বেশি মানুষ এই মরণব্যাধিতে অকালে প্রাণ হারাচ্ছে। এ ছাড়া দেশের প্রায় ১৬ শতাংশ মানুষ নানা ধরনের কিডনি জটিলতায় ভুগছে।

খাদ্যে বিদ্যমান পটাশিয়াম ব্রোমেট কেবল সাধারণ ক্যানসার নয়, এটি একটি ‘জেনোটক্সিক কারসিনোজেন’—যা সরাসরি মানুষের ডিএনএ এবং জিনগত গঠনে পরিবর্তন বা মিউটেশন ঘটাতে সক্ষম। এটি থাইরয়েড গ্রন্থির ম্যালিগন্যান্সি এবং কিডনি বিকল হওয়ার অন্যতম অনুঘটক।

আমাদের রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে যেভাবে কোনো নিয়ম-কানুন ও স্বাস্থ্যবিধি না মেনে বেকারি গড়ে উঠছে, তা সত্যি উদ্বেগের। সেখানে একদিকে যেমন নেই ন্যূনতম পরিচ্ছন্নতা, তেমনি নেই কোনো টেকনিশিয়ান বা রসায়নবিদ, যিনি উপাদান পরিমাপ করতে পারেন। আন্দাজের ওপর ভিত্তি করে ক্ষতিকর রাসায়নিক মিশিয়ে দেওয়া হচ্ছে আটার খামিরে।

এখানে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের নজরদারির অভাব স্পষ্ট। কেবল মাঝেমধ্যে কিছু মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং নামমাত্র জরিমানা করে খাদ্য নিরাপত্তার মতো একটি স্পর্শকাতর বিষয় সামাল দেওয়া সম্ভব নয়। নিয়মিত ল্যাব টেস্টিং, কঠোর মনিটরিং এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির অভাবেই অসাধু ব্যবসায়ীরা আদালতের নির্দেশ কিংবা কর্তৃপক্ষের বিজ্ঞপ্তিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে।

জনস্বাস্থ্য রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ক্যানসারের এই বিষাক্ত হাত থেকে বাঁচাতে অবিলম্বে রাষ্ট্রকে কঠোর ও যুগোপযোগী পদক্ষেপ নিতে হবে:
১.হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী পাউরুটি ও বেকারি খাদ্যে পটাশিয়াম ব্রোমেটের ব্যবহার শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে একটি স্থায়ী তদারকি কমিটি গঠন করতে হবে।
২.সকল প্রক্রিয়াজাত পাউরুটির প্যাকেটে ব্যবহৃত উপাদানের বিস্তারিত তালিকা এবং ‘পটাশিয়াম ব্রোমেট-মুক্ত’ সনদ প্রদর্শন নিশ্চিত করতে হবে।
৩.যেসকল বেকারি বা ব্র্যান্ড নিষিদ্ধ রাসায়নিক ব্যবহার করবে, তাদের কারখানা তাৎক্ষণিক সিলগালা এবং মালিক পক্ষকে দৃশ্যমান মেয়াদের কারাদণ্ড দিতে হবে।
৪.ঐতিহ্যগত ও নিরাপদ উপাদান যেমন ভালো মানের ইস্ট এবং প্রাকৃতিক এনজাইম ব্যবহারে বেকারি মালিকদের উদ্বুদ্ধ ও প্রশিক্ষণ প্রদান করা।
৫.সাধারণ মানুষকে প্লাস্টিক বা সাধারণ প্যাকেটে মোড়কহীন এবং অনিবন্ধিত বেকারির লোভনীয় ফোলানো পাউরুটি কেনা থেকে সতর্ক থাকতে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালাতে হবে।

পরিশেষে বলতে চাই,একটি জাতির সমৃদ্ধি নির্ভর করে তার নাগরিকদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর। বিষাক্ত খাদ্যের অবাধ প্রবাহ বজায় রেখে কোনো দেশ কখনো উন্নত বা কল্যাণকামী হতে পারে না। প্রাতঃরাশের স্লাইস পাউরুটি যেন পরিবারের কারো জন্য ক্যান্সারের টিকিট হয়ে না দাঁড়ায়, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। আদালতের দরজায় হানা দিয়ে সচেতন নাগরিকেরা তাঁদের দায়িত্ব পালন করছেন; এখন সময় এসেছে প্রশাসনিক যন্ত্রের জাগরণের। নিরাপদ খাদ্য প্রাপ্তি কোনো দয়া নয়, এটি প্রতিটি নাগরিকের সংবিধানসম্মত মৌলিক অধিকার। সুতরাং আর কাল বিলম্ব না করে এই বিষাক্ত ফাঁদ গুঁড়িয়ে দিয়ে সুস্থ ও ক্যান্সারমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে এখনই চূড়ান্ত আঘাত হানতে হবে। তা না হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অভিশাপ থেকে আমরা কেউ বাঁচতে পারব না।

লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট,রাজনৈতিক বিশ্লেষক।

পুলিশকে ‘নিষ্ক্রিয়’ করার চেষ্টা রুখতে জনসম্পৃক্ততার ডাক তথ্য প্রতিমন্ত্রীর

বিশেষ সংবাদদাতা ও ময়মনসিংহ প্রতিবেদক:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৯ অপরাহ্ণ
পুলিশকে ‘নিষ্ক্রিয়’ করার চেষ্টা  রুখতে জনসম্পৃক্ততার ডাক তথ্য প্রতিমন্ত্রীর

পুলিশকে নিষ্ক্রিয় করতে একটি চক্র নানা ধরনের বিতর্ক ও বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এমপি। এমন পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশকে এককভাবে নির্ভর না করে জনগণকে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে অপরাধীদের শনাক্ত করে তাদের বিষয়ে গোপনে পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।

  • জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সমন্বয় কমিটি গঠনের তাগিদ
  • অপরাধীদের গোপন তথ্য দিতে আহ্বান
  • মাদকবিরোধী অভিযানে বাড়ি বাড়ি যাওয়ার নির্দেশ

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা কমিটির বিশেষ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সীমিত পুলিশ, বাড়াতে হবে জনসম্পৃক্ততা
ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, একটি থানায় কর্মরত সীমিতসংখ্যক পুলিশ সদস্য দিয়ে এককভাবে পুরো এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। অপরাধের ধরন ও পরিধি বিবেচনায় নিয়ে পুলিশ এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো প্রয়োজন। এ জন্য স্থানীয় পর্যায়ে পুলিশ-জনগণের সমন্বয় কমিটি গঠনের ওপর জোর দেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব শুধু পুলিশের ওপর রেখে দিলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন। স্থানীয় জনগণের কাছ থেকে অপরাধসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ এবং দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তা জানানোর ব্যবস্থা কার্যকর হলে অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশের সক্ষমতাও বাড়তে পারে—এমন একটি সমন্বিত কাঠামোর প্রয়োজনীয়তার কথাই তুলে ধরেন তিনি।

‘বিতর্ক সৃষ্টি করে পুলিশকে দুর্বল করার চেষ্টা’
পুলিশকে নিষ্ক্রিয় করতে একটি চক্র নানা ধরনের বিতর্ক সৃষ্টির চেষ্টা করছে উল্লেখ করে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তথ্য প্রতিমন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য, অপরাধীদের শনাক্ত করতে জনগণকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য গোপনে পুলিশকে দিতে হবে।

একই সঙ্গে একটি নিষিদ্ধ দলের রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ও তৎপর থাকার আহ্বান জানান তিনি। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের নামে যেন নিরীহ মানুষ হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও পুলিশকে কঠোরভাবে সতর্ক করেন প্রতিমন্ত্রী।

মিথ্যা মামলা নয়, আইনের প্রয়োগে সতর্কতা
পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, কোনো অবস্থাতেই মিথ্যা মামলা নেওয়া যাবে না। আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে নিরীহ মানুষ যাতে হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যদিকে, সংবাদকর্মীদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি। তাঁর মতে, মিথ্যা অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের মাধ্যমে এলাকায় যাতে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, সেদিকে সাংবাদিকদের অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে। অর্থাৎ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে একদিকে পুলিশের সক্রিয়তা, অন্যদিকে গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল তথ্য পরিবেশন—দুই দিকের ভারসাম্যকেই গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

মাদকবিরোধী অভিযানে তালিকা ধরে অভিযান
মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা উল্লেখ করে মাদক কারবারিদের তালিকা অনুযায়ী বাড়ি বাড়ি অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী। ইয়াবাসহ মাদক উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ জনগণকেও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তাঁর বক্তব্যে মাদক নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে শুধু অভিযান পরিচালনার পরিবর্তে স্থানীয় পর্যায়ে তথ্য, জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা এবং নাগরিক সহযোগিতাকে সমান গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি উঠে আসে। মাদক কারবারিদের শনাক্তকরণ ও তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে স্থানীয়ভাবে সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন তিনি।

নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাতেমা জান্নাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেবাশীষ কর্মকার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সালাহ উদ্দিন মাহমুদ এবং নান্দাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজহারুল ইসলাম। এ ছাড়া উপজেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারাও সভায় উপস্থিত ছিলেন।

সভা শেষে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে লিফলেট বিতরণ করেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী। এ সময় নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে ডেঙ্গুর প্রজননস্থল ধ্বংসের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিতে নান্দাইল উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। এর আগে পাঁচ দিনের সফরে মঙ্গলবার দুপুরে ময়মনসিংহের নান্দাইলে পৌঁছান ইয়াসের খান চৌধুরী। সফরের অংশ হিসেবে কিশোরগঞ্জ ও জামালপুরের একাধিক কর্মসূচিতে তাঁর অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএএএমকে

সংবাদমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞার পর ‘ট্রাম্প টিভি’ চালু হোয়াইট হাউসের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৬ অপরাহ্ণ
সংবাদমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞার পর ‘ট্রাম্প টিভি’ চালু হোয়াইট হাউসের

দ্য এসেনশিয়ালস স্টেশন’ নামে একটি নতুন ২৪ ঘণ্টার অনলাইন সম্প্রচার চ্যানেল চালু করেছে। ২১ সেপ্টেম্বর থেকে চ্যানেলটির সম্প্রচার শুরু হয়। হোয়াইট হাউসের নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে এটি পরিচালিত হচ্ছে এবং প্রশাসনের ঘোষণা, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য ও বিভিন্ন পুরোনো ভিডিও প্রচার করা হচ্ছে।

চ্যানেলটি চালুর সময়টি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে, কারণ এর কয়েক দিন আগে CNN, পলিটিকো ও MS NOW-এর সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। ট্রাম্প ওই সংবাদমাধ্যমগুলোর কাভারেজ নিয়ে আপত্তি প্রকাশ করে তাদের বিরুদ্ধে ‘ভুয়া খবর’ প্রচারের অভিযোগ করেন।

সরাসরি প্রশাসনের ভিডিও

হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প টিভিতে প্রশাসনের ভিডিও, প্রেসিডেন্টের বক্তব্য ও বিভিন্ন ঘোষণা সম্প্রচার করা হচ্ছে। প্রেসিডেন্টের অতীতের নির্বাচিত ভিডিও এবং প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ফুটেজও এতে দেখানো হচ্ছে।

সরকার ও প্রেসিডেন্টের নিজস্ব ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে সরাসরি বক্তব্য প্রচারের নজির অবশ্য নতুন নয়। তবে স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে হোয়াইট হাউসের চলমান বিরোধের মধ্যে নতুন চ্যানেলটি চালু হওয়ায় বিষয়টি আলাদা গুরুত্ব পেয়েছে।

তিন সংবাদমাধ্যমের মামলা

হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার ফিরে পেতে CNN, পলিটিকো ও MS NOW ২১ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটনের ফেডারেল আদালতে মামলা করেছে। প্রতিষ্ঠান তিনটি অভিযোগ করেছে, তাদের সংবাদ কাভারেজের কারণে প্রবেশাধিকার বাতিল করা মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার সুরক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

মামলায় তারা দ্রুত নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করে সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার আবেদন করেছে।

অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্য, হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার একটি বিশেষ সুবিধা এবং প্রেসিডেন্টের কাভারেজ নিয়ে প্রশাসনের নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রয়েছে।

টেলিভিশন পুলে সংকট

হোয়াইট হাউসে সব টেলিভিশন চ্যানেলের ক্যামেরা একসঙ্গে প্রবেশ করতে না পারায় দীর্ঘদিন ধরে প্রধান সম্প্রচারমাধ্যমগুলো একটি টিভি পুলের মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের অনুষ্ঠান কাভার করে আসছে। CNN, ABC, CBS, NBC ও Fox News এই ব্যবস্থার অংশ।

CNN-কে পুল থেকে বাদ দেওয়ার পর অন্য বড় সম্প্রচারমাধ্যমগুলোও প্রেসিডেন্টের নির্ধারিত পুল কাভারেজ স্থগিত করে। ফলে ট্রাম্পের কয়েকটি অনুষ্ঠানের ভিডিও কাভারেজে ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি তৈরি হয়।

স্বাধীন সাংবাদিকতার বিকল্প কি?

ট্রাম্প টিভিতে প্রচারিত ভিডিও ও তথ্য প্রশাসন নিজেই তৈরি, বাছাই ও প্রচার করবে। ফলে এটি স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের মতো বাইরের সাংবাদিকদের অনুসন্ধান, প্রশ্ন, যাচাই বা সম্পাদনার মাধ্যমে তৈরি সংবাদপ্ল্যাটফর্ম নয়।

সমর্থকেরা বলছেন, এর মাধ্যমে সংবাদমাধ্যমের মধ্যস্থতা ছাড়াই প্রেসিডেন্টের বক্তব্য সরাসরি জনগণের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে। অন্যদিকে সংবাদমাধ্যম ও প্রেস-স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো বলছে, সরকারি যোগাযোগমাধ্যম ও স্বাধীন সাংবাদিকতার ভূমিকা আলাদা।

এদিকে CNN, পলিটিকো ও MS NOW-এর করা মামলার মাধ্যমে বিষয়টি এখন আদালতের বিচারাধীন।

কালের আলো/এসএ

ফায়ার সার্ভিসের নতুন মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৪ অপরাহ্ণ
ফায়ার সার্ভিসের নতুন মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক পদে পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের বর্তমান মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ জাহেদ কামালকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে প্রত্যাবর্তন করা হয়েছে।

এর ফলে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ। নতুন মহাপরিচালক হিসেবে তিনি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের দায়িত্ব পালন করবেন।

কালের আলো/এমএসআইপি