খুঁজুন
                               
, ,
           

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী: সাহস ও পেশাদারিত্বের এক ঐতিহ্য

ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন:
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৯:৩০ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী: সাহস ও পেশাদারিত্বের এক ঐতিহ্য

সম্প্রতি স্পেনের ভবিষ্যৎ রানী, ক্রাউন প্রিন্সেস লিওনর, সর্বাধিনায়ক হিসেবে তার ভূমিকার জন্য প্রস্তুত হতে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বিমান ও মহাকাশ বাহিনী জুড়ে তিন বছরের কঠোর সামরিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। এই প্রাতিষ্ঠানিক সাফল্যের পর, তিনি এখন রাজতন্ত্রের জীবনের পরবর্তী অধ্যায়ের সূচনা করছেন।

তথ্য ও গণমাধ্যমের এই যুগে, উপরোক্ত সংবাদটি বিশ্বজুড়ে প্রশংসাসূচক মন্তব্যসহ প্রচারিত হয়েছে, যা দেশে ও বিদেশের অনেক সামরিক কর্মকর্তা মহলে শেয়ার করা হয়েছে। জানা গেছে, পরবর্তী পর্যায়ে তিনি রাষ্ট্রবিজ্ঞানে তার বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা গ্রহণ করবেন। আমার অনেক ছাত্রছাত্রী এবং কিছু শিশুও কৌতূহলী ছিল যে, কেন এবং কীভাবে একজন ভবিষ্যৎ রানীর এমন কঠিন সামরিক প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হলো। আমি “সামরিক কায়দায়” উত্তর দিয়েছিলাম এবং আমার উত্তরের সারমর্ম ছিল বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দৃষ্টিকোণ থেকে।

প্রত্যেক সার্বভৌম রাষ্ট্র তার স্বাধীনতা, ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা, স্থিতিশীলতা এবং উন্নয়ন রক্ষার জন্য জাতীয় শক্তির বিভিন্ন উপকরণের উপর নির্ভর করে। এই উপাদানগুলোর মধ্যে সাধারণত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে কূটনৈতিক শক্তি, তথ্যগত শক্তি, সামরিক শক্তি এবং অর্থনৈতিক শক্তি—সংক্ষেপে ডাইম (DIME)। শীতল যুদ্ধ এবং শীতল যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা ও সামরিক কৌশলগত পরিকল্পনা থেকে ডাইম (DIME) ধারণাটির উদ্ভব হয়। সামরিক বাহিনী জাতীয় শক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে সার্বভৌমত্ব, জাতীয় ঐক্য এবং সাংবিধানিক শৃঙ্খলার প্রতীক হিসেবে কাজ করে।

১৯৭১ সালের গৌরবময় মুক্তিযুদ্ধে সাধারণ জনগণের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জন্ম হয়। বিগত দশকগুলোতে, শেষ আশ্রয়স্থল হিসেবে সেনাবাহিনী শুধু দেশের সার্বভৌমত্বই রক্ষা করেনি, বরং জাতি গঠন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষায়ও উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী: সাহস ও পেশাদারিত্বের এক ঐতিহ্য
১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের বিষয়ে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর নথি অনুযায়ী, সবচেয়ে ধারাবাহিকভাবে উল্লিখিত তথ্যটি হলো, তৎকালীন ক্যাপ্টেন জিয়াউর রহমান (পরবর্তীতে মেজর জেনারেল ও রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান) পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে কর্মরত ছিলেন এবং যুদ্ধের সময় খেম করণ সেক্টরে যুদ্ধ করেছিলেন। আজকের বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পূর্বসূরি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় পদাতিক বাহিনীর মধ্যে সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক সম্মাননা লাভ করে অসাধারণ স্বীকৃতি অর্জন করেছিল। এই গৌরবময় কীর্তি স্বাধীন বাংলাদেশের আবির্ভাবের অনেক আগেই বাঙালি সৈন্যদের সাহস, শৃঙ্খলা এবং যুদ্ধ করার মানসিকতার পরিচয় দিয়েছিল।

জাতীয় সংকটকালে একটি স্থিতিশীলকারী শক্তি
ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে, জাতীয় অনিশ্চয়তা ও সংকটের সময়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বারবার একটি স্থিতিশীলকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করেছে। ১৯৯০-৯১, ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৬, ২০০৭-০৯ এবং ২০২৪-২৬ সালের রাজনৈতিক পালাবদল ও জরুরি অবস্থার সময় শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং আরও অস্থিতিশীলতা প্রতিরোধে সেনাবাহিনীর ভূমিকা নাগরিকদের দ্বারা ব্যাপকভাবে স্বীকৃত হয়েছে।
এই সময়গুলোর অনেকগুলোতে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানগুলো সংকট সমাধানে উল্লেখযোগ্য বাধার সম্মুখীন হয়েছিল। সেনাবাহিনী, আইনানুগ কর্তৃত্ব এবং জাতীয় প্রয়োজনে, প্রায়শই স্থিতিশীলতা রক্ষা, জীবন ও সম্পত্তি সুরক্ষা এবং শান্তিপূর্ণ পালাবদল সহজতর করতে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা প্রদান করেছে। প্রাতিষ্ঠানিক মূল্যবোধ ও আদর্শে অনুপ্রাণিত কঠোর প্রশিক্ষণের কারণে সামরিক কর্মীদের জন্য কঠিন কাজও সহজ হয়ে ওঠে।

সেনাবাহিনীর মূল্যবোধ ও আদর্শের ভিত্তি
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শক্তি শুধু অস্ত্র বা সরঞ্জামের মধ্যে নিহিত নয়, বরং এর প্রাতিষ্ঠানিক মূল্যবোধ ও আদর্শের মধ্যে নিহিত, যা ২০১০-১২ সালে উদ্ভূত হয়েছিল, যেখানে আমার অবদান ছিল । এই মূল্যবোধগুলোর মধ্যে রয়েছে সম্মান ও গর্ব, সততা ও নিষ্ঠা, আনুগত্য, দেশপ্রেম, বিশ্বাস ও আস্থা, শ্রদ্ধা, ন্যায়পরায়ণতা, আত্মত্যাগের আগে সেবা এবং সাহস। একইভাবে, সেনাবাহিনীর আদর্শ দেশের প্রতি নিষ্ঠা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতি অঙ্গীকার, সংবিধানের প্রতি আনুগত্য, পেশাগত উৎকর্ষ এবং দেশ রক্ষায় সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের প্রস্তুতির ওপর জোর দেয়। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সকল সদস্য ২০২৪ সালের জুলাই/আগস্ট বিপ্লবের চেতনাকে মূল্য দেয়, যেখানে সৈন্যরা সংকটময় মুহূর্তে জনগণকে সমর্থন করেছিল, যার জন্য সেনাবাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বকে অবশ্যই কৃতিত্ব দিতে হবে। অন্যথায়, একটি বড় বিপর্যয় ঘটতে পারত।

আমরা “জনগণের সেনাবাহিনী”
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী যথার্থই জনগণের সেনাবাহিনী নামে পরিচিত, কারণ এর শক্তি শুধু এর পেশাদারিত্ব ও সামরিক সক্ষমতা থেকেই আসে না, বরং এর সেবায় নিয়োজিত নাগরিকদের আস্থা, বিশ্বাস ও সমর্থন থেকেও আসে। একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার জন্য জনগণ ও তাদের সেনাবাহিনীর মধ্যকার স্থায়ী অংশীদারিত্ব অপরিহার্য। তাই মাও জেদুং বলেছেন, “জনগণ ছাড়া সেনাবাহিনী শক্তিশালী হতে পারে না”। এবং একটি পেশাদার সেনাবাহিনী তার কঠোর সামরিক প্রশিক্ষণ ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর কারণে জনগণের প্রতি সহানুভূতিশীল এবং সামাজিক ঋণে দায়বদ্ধ হয়ে ওঠে। সকল প্রশিক্ষণার্থীকে প্রথমে তার সহকর্মী/সহযোদ্ধার (বন্ধু) যত্ন নিতে শেখানো হয়, যারা প্রতীকীভাবে এবং সম্মিলিতভাবে নিজেদের নাগরিক/দেশবাসী/জনগণে পরিণত হয়।

স্প্যানিশ রাজকুমারী লিওনরের বিষয়টি প্রতীকী এবং এটি উন্নয়নশীল বাংলাদেশের জন্য বিশাল শিক্ষা বহন করে। সকল সেনাবাহিনী একই নীতিতে প্রশিক্ষণ নেয়: “কঠোর প্রশিক্ষণ, সহজ যুদ্ধ”। আমাদের সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণের মান অত্যন্ত উঁচু, কারণ ১৯৭৬ সাল থেকে এটি আমাদের বিদ্রোহ দমনে বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছে, জাতিসংঘে ভূমিকা রেখেছে এবং বিদেশে প্রশিক্ষণার্থীদের প্রশিক্ষণ প্রদান করেছে। বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি (বিএমএ) একটি অনন্য এবং বিশ্বমানের প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান, কারণ আমার একটি প্রথম বিশ্বের সেনাবাহিনীর এই প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শন করার সুযোগ হয়েছিল। ৮০-এর দশক এবং ৯০-এর দশকের শুরুতে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) ক্যাডারের কর্মকর্তাদের বিএমএ থেকে প্রশিক্ষণ নিতে হতো। পরবর্তীতে, কথিত আছে যে “স্বস্তিদায়ক পরিবেশ”-এর সন্ধানে এটি বন্ধ হয়ে যায় এবং এটি ছিল বেসামরিক-সামরিক সম্পর্কের অবক্ষয়ের অন্যতম কারণ। গত দশকে সামরিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের অন্যান্য কারণগুলো ছিল সামাজিক-রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং বিপজ্জনক ধরনের বাহ্যিক প্রভাব। এখন আমাদের লাগাম আরও শক্ত করার সময় এসেছে, যার মধ্যে বিসিএস অফিসারদের বিএমএ-তে যথাযথ প্রশিক্ষণের জন্য পুনরায় পাঠানোও অন্তর্ভুক্ত। অন্যথায় আরও বহুমাত্রিক বিপর্যয় অপেক্ষা করছে।

পরিশেষে, আমাদের সকলকে অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে, সারা বিশ্বের সৈন্যরা একটি কঠোর কমান্ড শৃঙ্খলের মাধ্যমে কাজ করে এবং সরকারের আইনানুগ কর্তৃত্বের অধীনে, সংবিধান ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রীসহ নির্ধারিত বেসামরিক নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য রেখে পরিচালিত হয়। চূড়ান্তভাবে, সেনাবাহিনী সর্বদা একটি বেসামরিক নেতৃত্বের দ্বারা পরিচালিত হয়—সাধারণত শাসক দলের প্রধান। গবেষক, শিক্ষাবিদ এবং বিশ্লেষকরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, বাংলাদেশের রাজনীতিবিদরা ব্যবসায়ীদের দ্বারা প্রভাবিত। একাদশ সংসদে ব্যবসায়ীরা ছিলেন ৬১-৬৩% এবং দ্বাদশ সংসদে তা এখন ৬৫-৭০%। এবং ঐতিহ্যগতভাবে পুঁজিবাদী মডেলে “ব্যবসায়ীরা মুনাফা/অর্থের (দ্বিতীয় ঈশ্বর) উপর মনোযোগ দেয় এবং রাজনীতিবিদদের ক্ষমতার প্রয়োজন হয়”। এখানে, সৎ নাগরিকরা—সে রাজনীতিবিদ, আমলা, সরকারি কর্মকর্তা বা জেন “জি” যেই হোক না কেন—একমাত্র তারাই সেই শক্তিকে প্রতিহত করতে পারে। আমাদের সকলকেই মানতে হবে যে, প্রকৃত শক্তি নিহিত রয়েছে কঠোর প্রশিক্ষণ এবং ব্যাপক সামরিক দক্ষতা অর্জনের মধ্যে, এবং এই বিষয়গুলোই স্পেনের ভবিষ্যৎ তরুণী রানী/সর্বাধিনায়ককে শুধুমাত্র একজন নেতা হয়ে ওঠার জন্য তাঁর মূল্যবান সময় প্রশিক্ষণে ব্যয় করতে বাধ্য করেছিল। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রকৃত পেশাদারিত্ব এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ গড়ে ওঠে, যা দীর্ঘমেয়াদে একটি রাষ্ট্র এবং/অথবা সংস্থার স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে, এবং আমরা এ থেকে অনেক পিছিয়ে আছি। সম্ভবত এটি আমাদের চোখ খুলে দেবে ‘তাদের (স্পেন) এবং আমাদের (বাংলাদেশ)’ মধ্যকার পার্থক্য খুঁজে বের করার জন্য। কিন্তু আমরা ভবিষ্যতের জন্য সবসময় শিখতে পারি—ভবিষ্যতের জন্য শিখুন।

লেখকঃ অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল।

পুলিশকে ‘নিষ্ক্রিয়’ করার চেষ্টা রুখতে জনসম্পৃক্ততার ডাক তথ্য প্রতিমন্ত্রীর

বিশেষ সংবাদদাতা ও ময়মনসিংহ প্রতিবেদক:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৯ অপরাহ্ণ
পুলিশকে ‘নিষ্ক্রিয়’ করার চেষ্টা  রুখতে জনসম্পৃক্ততার ডাক তথ্য প্রতিমন্ত্রীর

পুলিশকে নিষ্ক্রিয় করতে একটি চক্র নানা ধরনের বিতর্ক ও বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এমপি। এমন পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশকে এককভাবে নির্ভর না করে জনগণকে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে অপরাধীদের শনাক্ত করে তাদের বিষয়ে গোপনে পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।

  • জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সমন্বয় কমিটি গঠনের তাগিদ
  • অপরাধীদের গোপন তথ্য দিতে আহ্বান
  • মাদকবিরোধী অভিযানে বাড়ি বাড়ি যাওয়ার নির্দেশ

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা কমিটির বিশেষ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সীমিত পুলিশ, বাড়াতে হবে জনসম্পৃক্ততা
ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, একটি থানায় কর্মরত সীমিতসংখ্যক পুলিশ সদস্য দিয়ে এককভাবে পুরো এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। অপরাধের ধরন ও পরিধি বিবেচনায় নিয়ে পুলিশ এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো প্রয়োজন। এ জন্য স্থানীয় পর্যায়ে পুলিশ-জনগণের সমন্বয় কমিটি গঠনের ওপর জোর দেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব শুধু পুলিশের ওপর রেখে দিলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন। স্থানীয় জনগণের কাছ থেকে অপরাধসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ এবং দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তা জানানোর ব্যবস্থা কার্যকর হলে অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশের সক্ষমতাও বাড়তে পারে—এমন একটি সমন্বিত কাঠামোর প্রয়োজনীয়তার কথাই তুলে ধরেন তিনি।

‘বিতর্ক সৃষ্টি করে পুলিশকে দুর্বল করার চেষ্টা’
পুলিশকে নিষ্ক্রিয় করতে একটি চক্র নানা ধরনের বিতর্ক সৃষ্টির চেষ্টা করছে উল্লেখ করে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তথ্য প্রতিমন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য, অপরাধীদের শনাক্ত করতে জনগণকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য গোপনে পুলিশকে দিতে হবে।

একই সঙ্গে একটি নিষিদ্ধ দলের রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ও তৎপর থাকার আহ্বান জানান তিনি। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের নামে যেন নিরীহ মানুষ হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও পুলিশকে কঠোরভাবে সতর্ক করেন প্রতিমন্ত্রী।

মিথ্যা মামলা নয়, আইনের প্রয়োগে সতর্কতা
পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, কোনো অবস্থাতেই মিথ্যা মামলা নেওয়া যাবে না। আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে নিরীহ মানুষ যাতে হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যদিকে, সংবাদকর্মীদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি। তাঁর মতে, মিথ্যা অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের মাধ্যমে এলাকায় যাতে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, সেদিকে সাংবাদিকদের অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে। অর্থাৎ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে একদিকে পুলিশের সক্রিয়তা, অন্যদিকে গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল তথ্য পরিবেশন—দুই দিকের ভারসাম্যকেই গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

মাদকবিরোধী অভিযানে তালিকা ধরে অভিযান
মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা উল্লেখ করে মাদক কারবারিদের তালিকা অনুযায়ী বাড়ি বাড়ি অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী। ইয়াবাসহ মাদক উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ জনগণকেও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তাঁর বক্তব্যে মাদক নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে শুধু অভিযান পরিচালনার পরিবর্তে স্থানীয় পর্যায়ে তথ্য, জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা এবং নাগরিক সহযোগিতাকে সমান গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি উঠে আসে। মাদক কারবারিদের শনাক্তকরণ ও তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে স্থানীয়ভাবে সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন তিনি।

নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাতেমা জান্নাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেবাশীষ কর্মকার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সালাহ উদ্দিন মাহমুদ এবং নান্দাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজহারুল ইসলাম। এ ছাড়া উপজেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারাও সভায় উপস্থিত ছিলেন।

সভা শেষে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে লিফলেট বিতরণ করেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী। এ সময় নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে ডেঙ্গুর প্রজননস্থল ধ্বংসের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিতে নান্দাইল উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। এর আগে পাঁচ দিনের সফরে মঙ্গলবার দুপুরে ময়মনসিংহের নান্দাইলে পৌঁছান ইয়াসের খান চৌধুরী। সফরের অংশ হিসেবে কিশোরগঞ্জ ও জামালপুরের একাধিক কর্মসূচিতে তাঁর অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএএএমকে

সংবাদমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞার পর ‘ট্রাম্প টিভি’ চালু হোয়াইট হাউসের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৬ অপরাহ্ণ
সংবাদমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞার পর ‘ট্রাম্প টিভি’ চালু হোয়াইট হাউসের

দ্য এসেনশিয়ালস স্টেশন’ নামে একটি নতুন ২৪ ঘণ্টার অনলাইন সম্প্রচার চ্যানেল চালু করেছে। ২১ সেপ্টেম্বর থেকে চ্যানেলটির সম্প্রচার শুরু হয়। হোয়াইট হাউসের নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে এটি পরিচালিত হচ্ছে এবং প্রশাসনের ঘোষণা, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য ও বিভিন্ন পুরোনো ভিডিও প্রচার করা হচ্ছে।

চ্যানেলটি চালুর সময়টি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে, কারণ এর কয়েক দিন আগে CNN, পলিটিকো ও MS NOW-এর সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। ট্রাম্প ওই সংবাদমাধ্যমগুলোর কাভারেজ নিয়ে আপত্তি প্রকাশ করে তাদের বিরুদ্ধে ‘ভুয়া খবর’ প্রচারের অভিযোগ করেন।

সরাসরি প্রশাসনের ভিডিও

হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প টিভিতে প্রশাসনের ভিডিও, প্রেসিডেন্টের বক্তব্য ও বিভিন্ন ঘোষণা সম্প্রচার করা হচ্ছে। প্রেসিডেন্টের অতীতের নির্বাচিত ভিডিও এবং প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ফুটেজও এতে দেখানো হচ্ছে।

সরকার ও প্রেসিডেন্টের নিজস্ব ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে সরাসরি বক্তব্য প্রচারের নজির অবশ্য নতুন নয়। তবে স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে হোয়াইট হাউসের চলমান বিরোধের মধ্যে নতুন চ্যানেলটি চালু হওয়ায় বিষয়টি আলাদা গুরুত্ব পেয়েছে।

তিন সংবাদমাধ্যমের মামলা

হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার ফিরে পেতে CNN, পলিটিকো ও MS NOW ২১ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটনের ফেডারেল আদালতে মামলা করেছে। প্রতিষ্ঠান তিনটি অভিযোগ করেছে, তাদের সংবাদ কাভারেজের কারণে প্রবেশাধিকার বাতিল করা মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার সুরক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

মামলায় তারা দ্রুত নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করে সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার আবেদন করেছে।

অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্য, হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার একটি বিশেষ সুবিধা এবং প্রেসিডেন্টের কাভারেজ নিয়ে প্রশাসনের নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রয়েছে।

টেলিভিশন পুলে সংকট

হোয়াইট হাউসে সব টেলিভিশন চ্যানেলের ক্যামেরা একসঙ্গে প্রবেশ করতে না পারায় দীর্ঘদিন ধরে প্রধান সম্প্রচারমাধ্যমগুলো একটি টিভি পুলের মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের অনুষ্ঠান কাভার করে আসছে। CNN, ABC, CBS, NBC ও Fox News এই ব্যবস্থার অংশ।

CNN-কে পুল থেকে বাদ দেওয়ার পর অন্য বড় সম্প্রচারমাধ্যমগুলোও প্রেসিডেন্টের নির্ধারিত পুল কাভারেজ স্থগিত করে। ফলে ট্রাম্পের কয়েকটি অনুষ্ঠানের ভিডিও কাভারেজে ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি তৈরি হয়।

স্বাধীন সাংবাদিকতার বিকল্প কি?

ট্রাম্প টিভিতে প্রচারিত ভিডিও ও তথ্য প্রশাসন নিজেই তৈরি, বাছাই ও প্রচার করবে। ফলে এটি স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের মতো বাইরের সাংবাদিকদের অনুসন্ধান, প্রশ্ন, যাচাই বা সম্পাদনার মাধ্যমে তৈরি সংবাদপ্ল্যাটফর্ম নয়।

সমর্থকেরা বলছেন, এর মাধ্যমে সংবাদমাধ্যমের মধ্যস্থতা ছাড়াই প্রেসিডেন্টের বক্তব্য সরাসরি জনগণের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে। অন্যদিকে সংবাদমাধ্যম ও প্রেস-স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো বলছে, সরকারি যোগাযোগমাধ্যম ও স্বাধীন সাংবাদিকতার ভূমিকা আলাদা।

এদিকে CNN, পলিটিকো ও MS NOW-এর করা মামলার মাধ্যমে বিষয়টি এখন আদালতের বিচারাধীন।

কালের আলো/এসএ

ফায়ার সার্ভিসের নতুন মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৪ অপরাহ্ণ
ফায়ার সার্ভিসের নতুন মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক পদে পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের বর্তমান মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ জাহেদ কামালকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে প্রত্যাবর্তন করা হয়েছে।

এর ফলে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ। নতুন মহাপরিচালক হিসেবে তিনি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের দায়িত্ব পালন করবেন।

কালের আলো/এমএসআইপি