খুঁজুন
                               
, ,
           

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী: সাহস ও পেশাদারিত্বের এক ঐতিহ্য

ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন:
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৯:৩০ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী: সাহস ও পেশাদারিত্বের এক ঐতিহ্য

সম্প্রতি স্পেনের ভবিষ্যৎ রানী, ক্রাউন প্রিন্সেস লিওনর, সর্বাধিনায়ক হিসেবে তার ভূমিকার জন্য প্রস্তুত হতে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বিমান ও মহাকাশ বাহিনী জুড়ে তিন বছরের কঠোর সামরিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। এই প্রাতিষ্ঠানিক সাফল্যের পর, তিনি এখন রাজতন্ত্রের জীবনের পরবর্তী অধ্যায়ের সূচনা করছেন।

তথ্য ও গণমাধ্যমের এই যুগে, উপরোক্ত সংবাদটি বিশ্বজুড়ে প্রশংসাসূচক মন্তব্যসহ প্রচারিত হয়েছে, যা দেশে ও বিদেশের অনেক সামরিক কর্মকর্তা মহলে শেয়ার করা হয়েছে। জানা গেছে, পরবর্তী পর্যায়ে তিনি রাষ্ট্রবিজ্ঞানে তার বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা গ্রহণ করবেন। আমার অনেক ছাত্রছাত্রী এবং কিছু শিশুও কৌতূহলী ছিল যে, কেন এবং কীভাবে একজন ভবিষ্যৎ রানীর এমন কঠিন সামরিক প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হলো। আমি “সামরিক কায়দায়” উত্তর দিয়েছিলাম এবং আমার উত্তরের সারমর্ম ছিল বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দৃষ্টিকোণ থেকে।

প্রত্যেক সার্বভৌম রাষ্ট্র তার স্বাধীনতা, ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা, স্থিতিশীলতা এবং উন্নয়ন রক্ষার জন্য জাতীয় শক্তির বিভিন্ন উপকরণের উপর নির্ভর করে। এই উপাদানগুলোর মধ্যে সাধারণত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে কূটনৈতিক শক্তি, তথ্যগত শক্তি, সামরিক শক্তি এবং অর্থনৈতিক শক্তি—সংক্ষেপে ডাইম (DIME)। শীতল যুদ্ধ এবং শীতল যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা ও সামরিক কৌশলগত পরিকল্পনা থেকে ডাইম (DIME) ধারণাটির উদ্ভব হয়। সামরিক বাহিনী জাতীয় শক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে সার্বভৌমত্ব, জাতীয় ঐক্য এবং সাংবিধানিক শৃঙ্খলার প্রতীক হিসেবে কাজ করে।

১৯৭১ সালের গৌরবময় মুক্তিযুদ্ধে সাধারণ জনগণের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জন্ম হয়। বিগত দশকগুলোতে, শেষ আশ্রয়স্থল হিসেবে সেনাবাহিনী শুধু দেশের সার্বভৌমত্বই রক্ষা করেনি, বরং জাতি গঠন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষায়ও উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী: সাহস ও পেশাদারিত্বের এক ঐতিহ্য
১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের বিষয়ে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর নথি অনুযায়ী, সবচেয়ে ধারাবাহিকভাবে উল্লিখিত তথ্যটি হলো, তৎকালীন ক্যাপ্টেন জিয়াউর রহমান (পরবর্তীতে মেজর জেনারেল ও রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান) পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে কর্মরত ছিলেন এবং যুদ্ধের সময় খেম করণ সেক্টরে যুদ্ধ করেছিলেন। আজকের বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পূর্বসূরি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় পদাতিক বাহিনীর মধ্যে সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক সম্মাননা লাভ করে অসাধারণ স্বীকৃতি অর্জন করেছিল। এই গৌরবময় কীর্তি স্বাধীন বাংলাদেশের আবির্ভাবের অনেক আগেই বাঙালি সৈন্যদের সাহস, শৃঙ্খলা এবং যুদ্ধ করার মানসিকতার পরিচয় দিয়েছিল।

জাতীয় সংকটকালে একটি স্থিতিশীলকারী শক্তি
ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে, জাতীয় অনিশ্চয়তা ও সংকটের সময়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বারবার একটি স্থিতিশীলকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করেছে। ১৯৯০-৯১, ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৬, ২০০৭-০৯ এবং ২০২৪-২৬ সালের রাজনৈতিক পালাবদল ও জরুরি অবস্থার সময় শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং আরও অস্থিতিশীলতা প্রতিরোধে সেনাবাহিনীর ভূমিকা নাগরিকদের দ্বারা ব্যাপকভাবে স্বীকৃত হয়েছে।
এই সময়গুলোর অনেকগুলোতে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানগুলো সংকট সমাধানে উল্লেখযোগ্য বাধার সম্মুখীন হয়েছিল। সেনাবাহিনী, আইনানুগ কর্তৃত্ব এবং জাতীয় প্রয়োজনে, প্রায়শই স্থিতিশীলতা রক্ষা, জীবন ও সম্পত্তি সুরক্ষা এবং শান্তিপূর্ণ পালাবদল সহজতর করতে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা প্রদান করেছে। প্রাতিষ্ঠানিক মূল্যবোধ ও আদর্শে অনুপ্রাণিত কঠোর প্রশিক্ষণের কারণে সামরিক কর্মীদের জন্য কঠিন কাজও সহজ হয়ে ওঠে।

সেনাবাহিনীর মূল্যবোধ ও আদর্শের ভিত্তি
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শক্তি শুধু অস্ত্র বা সরঞ্জামের মধ্যে নিহিত নয়, বরং এর প্রাতিষ্ঠানিক মূল্যবোধ ও আদর্শের মধ্যে নিহিত, যা ২০১০-১২ সালে উদ্ভূত হয়েছিল, যেখানে আমার অবদান ছিল । এই মূল্যবোধগুলোর মধ্যে রয়েছে সম্মান ও গর্ব, সততা ও নিষ্ঠা, আনুগত্য, দেশপ্রেম, বিশ্বাস ও আস্থা, শ্রদ্ধা, ন্যায়পরায়ণতা, আত্মত্যাগের আগে সেবা এবং সাহস। একইভাবে, সেনাবাহিনীর আদর্শ দেশের প্রতি নিষ্ঠা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতি অঙ্গীকার, সংবিধানের প্রতি আনুগত্য, পেশাগত উৎকর্ষ এবং দেশ রক্ষায় সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের প্রস্তুতির ওপর জোর দেয়। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সকল সদস্য ২০২৪ সালের জুলাই/আগস্ট বিপ্লবের চেতনাকে মূল্য দেয়, যেখানে সৈন্যরা সংকটময় মুহূর্তে জনগণকে সমর্থন করেছিল, যার জন্য সেনাবাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বকে অবশ্যই কৃতিত্ব দিতে হবে। অন্যথায়, একটি বড় বিপর্যয় ঘটতে পারত।

আমরা “জনগণের সেনাবাহিনী”
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী যথার্থই জনগণের সেনাবাহিনী নামে পরিচিত, কারণ এর শক্তি শুধু এর পেশাদারিত্ব ও সামরিক সক্ষমতা থেকেই আসে না, বরং এর সেবায় নিয়োজিত নাগরিকদের আস্থা, বিশ্বাস ও সমর্থন থেকেও আসে। একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার জন্য জনগণ ও তাদের সেনাবাহিনীর মধ্যকার স্থায়ী অংশীদারিত্ব অপরিহার্য। তাই মাও জেদুং বলেছেন, “জনগণ ছাড়া সেনাবাহিনী শক্তিশালী হতে পারে না”। এবং একটি পেশাদার সেনাবাহিনী তার কঠোর সামরিক প্রশিক্ষণ ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর কারণে জনগণের প্রতি সহানুভূতিশীল এবং সামাজিক ঋণে দায়বদ্ধ হয়ে ওঠে। সকল প্রশিক্ষণার্থীকে প্রথমে তার সহকর্মী/সহযোদ্ধার (বন্ধু) যত্ন নিতে শেখানো হয়, যারা প্রতীকীভাবে এবং সম্মিলিতভাবে নিজেদের নাগরিক/দেশবাসী/জনগণে পরিণত হয়।

স্প্যানিশ রাজকুমারী লিওনরের বিষয়টি প্রতীকী এবং এটি উন্নয়নশীল বাংলাদেশের জন্য বিশাল শিক্ষা বহন করে। সকল সেনাবাহিনী একই নীতিতে প্রশিক্ষণ নেয়: “কঠোর প্রশিক্ষণ, সহজ যুদ্ধ”। আমাদের সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণের মান অত্যন্ত উঁচু, কারণ ১৯৭৬ সাল থেকে এটি আমাদের বিদ্রোহ দমনে বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছে, জাতিসংঘে ভূমিকা রেখেছে এবং বিদেশে প্রশিক্ষণার্থীদের প্রশিক্ষণ প্রদান করেছে। বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি (বিএমএ) একটি অনন্য এবং বিশ্বমানের প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান, কারণ আমার একটি প্রথম বিশ্বের সেনাবাহিনীর এই প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শন করার সুযোগ হয়েছিল। ৮০-এর দশক এবং ৯০-এর দশকের শুরুতে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) ক্যাডারের কর্মকর্তাদের বিএমএ থেকে প্রশিক্ষণ নিতে হতো। পরবর্তীতে, কথিত আছে যে “স্বস্তিদায়ক পরিবেশ”-এর সন্ধানে এটি বন্ধ হয়ে যায় এবং এটি ছিল বেসামরিক-সামরিক সম্পর্কের অবক্ষয়ের অন্যতম কারণ। গত দশকে সামরিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের অন্যান্য কারণগুলো ছিল সামাজিক-রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং বিপজ্জনক ধরনের বাহ্যিক প্রভাব। এখন আমাদের লাগাম আরও শক্ত করার সময় এসেছে, যার মধ্যে বিসিএস অফিসারদের বিএমএ-তে যথাযথ প্রশিক্ষণের জন্য পুনরায় পাঠানোও অন্তর্ভুক্ত। অন্যথায় আরও বহুমাত্রিক বিপর্যয় অপেক্ষা করছে।

পরিশেষে, আমাদের সকলকে অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে, সারা বিশ্বের সৈন্যরা একটি কঠোর কমান্ড শৃঙ্খলের মাধ্যমে কাজ করে এবং সরকারের আইনানুগ কর্তৃত্বের অধীনে, সংবিধান ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রীসহ নির্ধারিত বেসামরিক নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য রেখে পরিচালিত হয়। চূড়ান্তভাবে, সেনাবাহিনী সর্বদা একটি বেসামরিক নেতৃত্বের দ্বারা পরিচালিত হয়—সাধারণত শাসক দলের প্রধান। গবেষক, শিক্ষাবিদ এবং বিশ্লেষকরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, বাংলাদেশের রাজনীতিবিদরা ব্যবসায়ীদের দ্বারা প্রভাবিত। একাদশ সংসদে ব্যবসায়ীরা ছিলেন ৬১-৬৩% এবং দ্বাদশ সংসদে তা এখন ৬৫-৭০%। এবং ঐতিহ্যগতভাবে পুঁজিবাদী মডেলে “ব্যবসায়ীরা মুনাফা/অর্থের (দ্বিতীয় ঈশ্বর) উপর মনোযোগ দেয় এবং রাজনীতিবিদদের ক্ষমতার প্রয়োজন হয়”। এখানে, সৎ নাগরিকরা—সে রাজনীতিবিদ, আমলা, সরকারি কর্মকর্তা বা জেন “জি” যেই হোক না কেন—একমাত্র তারাই সেই শক্তিকে প্রতিহত করতে পারে। আমাদের সকলকেই মানতে হবে যে, প্রকৃত শক্তি নিহিত রয়েছে কঠোর প্রশিক্ষণ এবং ব্যাপক সামরিক দক্ষতা অর্জনের মধ্যে, এবং এই বিষয়গুলোই স্পেনের ভবিষ্যৎ তরুণী রানী/সর্বাধিনায়ককে শুধুমাত্র একজন নেতা হয়ে ওঠার জন্য তাঁর মূল্যবান সময় প্রশিক্ষণে ব্যয় করতে বাধ্য করেছিল। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রকৃত পেশাদারিত্ব এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ গড়ে ওঠে, যা দীর্ঘমেয়াদে একটি রাষ্ট্র এবং/অথবা সংস্থার স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে, এবং আমরা এ থেকে অনেক পিছিয়ে আছি। সম্ভবত এটি আমাদের চোখ খুলে দেবে ‘তাদের (স্পেন) এবং আমাদের (বাংলাদেশ)’ মধ্যকার পার্থক্য খুঁজে বের করার জন্য। কিন্তু আমরা ভবিষ্যতের জন্য সবসময় শিখতে পারি—ভবিষ্যতের জন্য শিখুন।

লেখকঃ অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল।

ইশরাকের পদত্যাগপত্র গৃহীত, অবিলম্বে কার্যকরের প্রজ্ঞাপন জারি

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ২:০৫ অপরাহ্ণ
ইশরাকের পদত্যাগপত্র গৃহীত, অবিলম্বে কার্যকরের প্রজ্ঞাপন জারি

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ইশরাক হোসেনের পদত্যাগ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

মন্ত্রিপরিষদসচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের পদত্যাগপত্র রাষ্ট্রপতি গ্রহণ করেছেন। এর মধ্য দিয়ে সরকারের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে তাঁর দায়িত্বের আনুষ্ঠানিক অবসান ঘটল। ইশরাক হোসেনের পদত্যাগ কার্যকর হওয়ার পর সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্যসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫০ জনে। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রীসহ পূর্ণ মন্ত্রী রয়েছেন ২৭ জন এবং প্রতিমন্ত্রী ২৩ জন।মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে পদত্যাগ কার্যকরের বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে। ফলে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ইশরাক হোসেনের দায়িত্ব আর থাকছে না।

এর আগে সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। সংবাদ সম্মেলনে তাঁর পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়। পরদিন মঙ্গলবার রাষ্ট্রপতি পদত্যাগপত্র গ্রহণ করার পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। এর আগে গত শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়া এলাকায় রেললাইন-সংলগ্ন স্থানে অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নিয়ে বিতর্কের মুখে পড়েন ইশরাক হোসেন।

ঘটনাটির পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে তাঁকে নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় তাঁর পদত্যাগের ঘোষণা ও পরবর্তী সময়ে পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়টি রাজনৈতিক আলোচনায় আসে। তবে পদত্যাগের আনুষ্ঠানিক কারণ এবং বিতর্কিত অভিযানের সঙ্গে পদত্যাগের সিদ্ধান্তের সম্পর্ক বিষয়ে প্রজ্ঞাপনে বিস্তারিত কিছু উল্লেখ করা হয়নি। মন্ত্রিপরিষদসচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণের সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ইশরাক হোসেনের পদত্যাগ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

দেশে অনাহারেও কিমের অবকাশে কোটি ডলারের নৌযান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক , কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৫৮ অপরাহ্ণ
দেশে অনাহারেও কিমের অবকাশে কোটি ডলারের নৌযান

উত্তর কোরিয়ার সাধারণ মানুষের একাংশ যখন দীর্ঘস্থায়ী খাদ্যসংকট, অপুষ্টি ও কঠোর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের মধ্যে জীবন কাটাচ্ছেন, তখন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং–উনের অবকাশযাপনের জন্য রয়েছে বিলাসবহুল নৌযানের বহর। উত্তর কোরিয়ার ওয়ানসান উপকূলে কিমের অবকাশকেন্দ্রের আশপাশে চারটি বড় নৌযানের উপস্থিতি শনাক্ত করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। কৃত্রিম উপগ্রহ থেকে তোলা ছবিতে দেখা গেছে, নৌযানগুলোর দৈর্ঘ্য আনুমানিক ৫০, ৫৫, ৬০ ও ৮০ মিটার। এগুলো কিম ও তাঁর পরিবারের ব্যক্তিগত বিনোদনের কাজে ব্যবহৃত হয় বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা। নৌযানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড়টির দৈর্ঘ্য প্রায় ৮০ মিটার বা ২৬৩ ফুট। এর ডেকে রয়েছে প্রায় ৫০ মিটার দীর্ঘ একটি সুইমিংপুল, যার এক প্রান্তে রয়েছে ওয়াটার স্লাইড। দীর্ঘদিন একটি মেরামতকেন্দ্রে থাকার পর গত জুলাইয়ের শুরুতে নৌযানটিকে ওয়ানসানের কালমা উপদ্বীপের উপকূলীয় জলসীমায় দেখা যায়। জুলাই থেকে অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত স্যাটেলাইট ছবিতে নৌযানটির উপস্থিতি বারবার ধরা পড়েছে। বিবিসির বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, শুধু বড় নৌযানটিই নয়, কিমের অবকাশকেন্দ্রের আশপাশে থাকা অন্য নৌযানগুলোর চলাচলও নজরে এসেছে। এসব নৌযানের মালিকানা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। তবে উত্তর কোরিয়ার সাবেক কর্মকর্তা, দেশত্যাগী নাগরিক এবং বিশেষজ্ঞদের ধারণা, দেশটির শাসকগোষ্ঠীর বাইরে কারও পক্ষে এ ধরনের ব্যয়বহুল নৌযানের মালিক হওয়া অত্যন্ত কঠিন।

কিমের অবকাশকেন্দ্র ঘিরে চার নৌযানের আনাগোনা
বিবিসির শনাক্ত করা চারটি নৌযানের দৈর্ঘ্য আনুমানিক ৫০, ৫৫, ৬০ ও ৮০ মিটার। চলতি বছর বিভিন্ন সময়ে এগুলোকে ওয়ানসানের কালমা উপদ্বীপ এবং আশপাশের দ্বীপগুলোর জলসীমায় দেখা গেছে। এর মধ্যে ৮০ মিটার দীর্ঘ নৌযানটির উপস্থিতি সবচেয়ে স্পষ্টভাবে শনাক্ত হয়েছে। ৫০ ও ৫৫ মিটার দীর্ঘ দুটি নৌযানকে আগস্টের শেষ পর্যন্ত ওয়ানসানের কাছে তে ও সিন দ্বীপের আশপাশে বারবার দেখা গেছে। স্যাটেলাইট ছবিতে ৫০ মিটার দীর্ঘ নৌযানটির পাশে চারটি ছোট নৌকাও দেখা যায়। অন্যদিকে, ৬০ মিটার দীর্ঘ নৌযানটিকে অক্টোবরের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত কিমের অবকাশকেন্দ্রের কাছাকাছি অবস্থান করতে দেখা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব নৌযানের অবস্থান ও চলাচল কিমের ব্যক্তিগত অবকাশযাপনের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তবে স্যাটেলাইট ছবিতে কোনো নৌযানকে নির্দিষ্ট স্থানে দেখা গেলেই সেখানে কিম বা তাঁর পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।

নৌযানগুলো কীভাবে ব্যবহার করা হয়
উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির ‘৩৯ নম্বর দপ্তরে’ একসময় কাজ করতেন রি জং হো। দেশটির শাসকগোষ্ঠীর বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনার সঙ্গে এই দপ্তর জড়িত বলে ধারণা করা হয়। পরবর্তী সময়ে তিনি উত্তর কোরিয়া ছেড়ে চলে যান। রি জং হোর ভাষ্য অনুযায়ী, শীতকালে এসব নৌযান জাহাজ নির্মাণকেন্দ্রে রাখা হয়। গ্রীষ্ম এলে সেখান থেকে সরিয়ে কিমের ভিলা বা কালমা উপদ্বীপের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কিম ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা সাঁতার কাটা এবং বিনোদনের কাজে এগুলো ব্যবহার করেন বলে তিনি জানান। স্যাটেলাইট ছবিতে নৌযানগুলোর অবস্থান সম্পর্কে পাওয়া তথ্য এবং সাবেক কর্মকর্তাদের বক্তব্যের মধ্যে কিছু মিল রয়েছে। তবে নৌযানগুলোর মালিকানা, সুনির্দিষ্ট ব্যবহার কিংবা প্রতিটির প্রকৃত মূল্য সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ্যে নেই।

ওয়ানসান কেন কিম পরিবারের কাছে গুরুত্বপূর্ণ
উত্তর কোরিয়ার পূর্ব উপকূলে অবস্থিত ওয়ানসান দীর্ঘদিন ধরে কিম পরিবারের অবকাশযাপনের গুরুত্বপূর্ণ স্থান হিসেবে পরিচিত। শহরটির আশপাশে রয়েছে উপকূলীয় ভিলা, ব্যক্তিগত বিনোদনকেন্দ্র এবং বিভিন্ন অবকাশসুবিধা। কিম জং–উন শৈশবের একটি বড় সময় তাঁর মায়ের সঙ্গে ওয়ানসানে কাটিয়েছেন বলে জীবনীকার ও গোয়েন্দা সূত্রের তথ্য থেকে জানা যায়। নব্বইয়ের দশক থেকে ২০০০ সালের শুরুর দিক পর্যন্ত কিম জং–ইলের ভিলার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক দেশত্যাগী ব্যক্তি জানিয়েছেন, ওই এলাকার ভিলাগুলোতে মূলত অভিজাত ব্যক্তিরাই যাতায়াত করতেন। গ্রীষ্মকালে সেখানে শিশু-কিশোরদের পানিতে স্কি করতেও দেখেছেন তিনি। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে কিমের ব্যক্তিগত অবকাশযাপনের বিস্তারিত সাধারণত প্রকাশ করা হয় না। তাঁর বিভিন্ন সফরকে বরং সরকারি কর্মসূচি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। তবে উত্তর কোরিয়া ছেড়ে আসা কয়েকজন বিবিসিকে জানিয়েছেন, কিম পরিবারের ওয়ানসানে অবকাশযাপনের বিষয়টি দেশটির অন্তত কিছু মানুষের জানা।

অবকাশকেন্দ্রে পর্যটন সুবিধা বাড়াচ্ছে উত্তর কোরিয়া
ওয়ানসান কালমা অবকাশকেন্দ্রকে পর্যটন আকর্ষণ হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে বহুতল হোটেল, রেস্তোরাঁ, দোকান, ক্রীড়াসুবিধা এবং জলবিনোদনকেন্দ্র রয়েছে। প্রায় ২০ হাজার পর্যটকের থাকার ব্যবস্থা করা সম্ভব বলেও দাবি করা হয়েছে। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে কেন্দ্রটি চালু হওয়ার পর রুশ পর্যটকদের সেখানে ভ্রমণের ছবি প্রকাশ করেছে উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়ার সংবাদমাধ্যম। বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যটকদের জন্যও কেন্দ্রটি উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার একটি সংবাদমাধ্যম নাম প্রকাশ না করা এক সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়ার কিছু স্থানীয় বাসিন্দার জন্য চার রাতের ভ্রমণ প্যাকেজের দাম প্রায় ১০০ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে দেশটির অধিকাংশ মানুষের আয় ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের তুলনায় এ পরিমাণ অর্থও বড় অঙ্কের।

সাধারণ মানুষের সংকটের বিপরীতে শাসকের বিলাসী জীবন
উত্তর কোরিয়ার অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া কঠিন। দেশটির শাসনব্যবস্থা অত্যন্ত গোপনীয় হওয়ায় জাতীয় বাজেট, ব্যক্তিগত সম্পদ এবং অর্থনৈতিক বৈষম্যের প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট নয়। তবে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার মূল্যায়নে দেশটিতে দারিদ্র্য, খাদ্যনিরাপত্তাহীনতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের গুরুতর সমস্যা উঠে এসেছে। জাতিসংঘের ২০২৫ সালের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়ার বিপুলসংখ্যক মানুষ কঠোর মানবাধিকার পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছেন। রাষ্ট্র নাগরিকদের জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ন্ত্রণ করে এবং অনেককে জোরপূর্বক শ্রমে নিয়োজিত করা হয়। দীর্ঘস্থায়ী খাদ্যসংকটের কারণে দেশটির প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ অপুষ্টিতে ভুগছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে কিমের অবকাশকেন্দ্রের কাছে একাধিক বড় নৌযানের উপস্থিতি দেশটির শাসকগোষ্ঠী ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার বৈপরীত্যকে সামনে এনেছে। তবে নৌযানগুলোর প্রকৃত মূল্য এবং রক্ষণাবেক্ষণে কত অর্থ ব্যয় হয়, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য নেই। একই ধরনের বিলাসবহুল প্রমোদতরির দাম কয়েক কোটি ডলার থেকে ১০ কোটি ডলারেরও বেশি হতে পারে। এর আগে কিমের ব্যবহৃত ২৯ মিটার দীর্ঘ একটি প্রিন্সেস প্রমোদতরির আনুমানিক মূল্য প্রায় ৭০ লাখ ডলার বলে ধারণা করা হয়েছিল। তবে এই হিসাবকে নতুন শনাক্ত হওয়া চারটি নৌযানের প্রকৃত দাম হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।

স্যাটেলাইট ছবিতে নৌযানের চলাচল কেন গুরুত্বপূর্ণ
উত্তর কোরিয়ার মতো কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত দেশে শাসকগোষ্ঠীর ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা কঠিন। এ কারণে কৃত্রিম উপগ্রহের ছবি দেশটির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, সামরিক অবকাঠামো এবং শীর্ষ নেতাদের ব্যবহৃত স্থান পর্যবেক্ষণের অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠেছে। বিবিসির বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কিম জং–উন দীর্ঘ সময় জনসমক্ষে অনুপস্থিত থাকলে কখনো কখনো এসব বিলাসবহুল নৌযানের চলাচল বেড়ে যায়। তবে এ ধরনের সময়গত মিল থেকে কিমের অবস্থান বা তাঁর পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা যায় না। নৌযানগুলো ঠিক কোন কাজে ব্যবহৃত হয়েছে, তা জানতে আরও তথ্য প্রয়োজন। কৃত্রিম উপগ্রহের ছবিতে ২০০২ সালেও ওয়ানসানে একই ধরনের একটি বড় নৌযান দেখা গিয়েছিল। সে সময় উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতায় ছিলেন কিম জং–ইল।

এতে বোঝা যায়, ওয়ানসান উপকূলকে কেন্দ্র করে কিম পরিবারের বিলাসবহুল নৌযান ব্যবহারের ইতিহাস বেশ পুরোনো। সাবেক মার্কিন বাস্কেটবল তারকা ডেনিস রডম্যান ২০১৩ সালে উত্তর কোরিয়া সফরের সময় কিম জং–উনের সঙ্গে ওয়ানসানে সময় কাটানোর কথা জানিয়েছিলেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য সানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সফরের বড় একটি অংশ তাঁরা সেখানে কাটিয়েছিলেন। ওই সময়ে তাঁরা জেট স্কি চালিয়েছেন এবং ঘোড়ায় চড়েছেন। রডম্যান আরও জানিয়েছিলেন, তাঁরা প্রায় ৬০ মিটার দীর্ঘ একটি নৌযান ব্যবহার করেছিলেন, যা দেখতে ফেরি ও ডিজনিল্যান্ডের ক্রুজের সংমিশ্রণের মতো ছিল। তবে তাঁর বর্ণিত নৌযানটি বিবিসির সাম্প্রতিক স্যাটেলাইট ছবিতে শনাক্ত হওয়া ৬০ মিটার দীর্ঘ নৌযানটিই কি না, তা নিশ্চিত নয়।

সাধারণ মানুষের ছুটিও অনেকের কাছে বিলাসিতা
উত্তর কোরিয়ায় অবকাশযাপন ও স্বাধীনভাবে ভ্রমণের সুযোগ সাধারণ মানুষের জন্য সীমিত। দেশত্যাগী কয়েকজন বিবিসিকে জানিয়েছেন, আইন অনুযায়ী শ্রমিক, দপ্তরের কর্মী এবং সমবায় খামারের কৃষকদের বছরে ১৪ দিনের ছুটি পাওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে এই নিয়ম নিয়মিতভাবে অনুসরণ করা হয় না। ছুটি পেলেও এক শহর বা জেলা থেকে অন্য এলাকায় যেতে সরকারি অনুমতির প্রয়োজন হতে পারে। ফলে দেশের ভেতরে অবাধে ভ্রমণ করা অনেকের জন্য কঠিন। দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, আর্থিক সীমাবদ্ধতা এবং চলাচলের ওপর বিধিনিষেধের কারণে ছুটি কাটানোও অনেকের নাগালের বাইরে থেকে যায়।

বিশ্বব্যাংক ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের তথ্যের সীমাবদ্ধতার কারণে উত্তর কোরিয়ার অর্থনীতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যায় না। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার তুলনায় দেশটির অর্থনৈতিক অবস্থান যে অনেক দুর্বল, তা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মূল্যায়নে উঠে এসেছে। ২০২৪ সালে উত্তর কোরিয়ার মাথাপিছু জিডিপি ছিল আনুমানিক ৬৬৭ ডলার, যেখানে দক্ষিণ কোরিয়ার ছিল ৩৬ হাজার ২২৭ ডলার। রি জং হোর বক্তব্য অনুযায়ী, কিমকে রাষ্ট্রীয় প্রচারে জনগণের জন্য আত্মত্যাগী নেতা হিসেবে তুলে ধরা হয়। অথচ সাধারণ মানুষ যখন খাবার জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছেন, তখন শাসকের অবকাশকেন্দ্র ঘিরে রয়েছে একাধিক বিলাসবহুল নৌযান। এই বৈপরীত্যই উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতাকাঠামো, অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং শাসকগোষ্ঠীর জীবনযাত্রা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। সব মিলিয়ে, ওয়ানসানের উপকূলে চারটি বড় নৌযানের উপস্থিতি কিম জং–উনের ব্যক্তিগত অবকাশযাপন সম্পর্কে নতুন তথ্য সামনে এনেছে। তবে নৌযানগুলোর মালিকানা ও ব্যবহার নিয়ে আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ না থাকায় স্যাটেলাইটের ছবি, বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ এবং সাবেক কর্মকর্তাদের বক্তব্যের ভিত্তিতেই বিষয়টি মূল্যায়ন করতে হচ্ছে। সূত্র: বিবিসি, রয়টার্স, জাতিসংঘ

কালের আলো/আরআইকে/এসএ

ছুটির প্রভাবে ঢাকার বাজারে বেচাকেনায় ভাটা, কমেছে মাছ-মাংসের বিক্রি

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪৩ অপরাহ্ণ
ছুটির প্রভাবে ঢাকার বাজারে বেচাকেনায় ভাটা, কমেছে মাছ-মাংসের বিক্রি

দুর্গাপূজার টানা ছুটির প্রভাব পড়েছে রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজারে। ক্রেতা ও বিক্রেতার উপস্থিতি কমে যাওয়ায় মাছ-মাংসের বেচাকেনাও আগের তুলনায় কমেছে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাজধানীর মিরপুর, মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন এলাকার বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। তবে ক্রেতার উপস্থিতি কমলেও মাংসের দামে তেমন স্বস্তি নেই। বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৯০ টাকা, গরুর মাংস ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মিরপুরের ২, ১০ ও ১৩ নম্বর এলাকার বাজার এবং মোহাম্মদপুরের বিভিন্ন বাজারে ক্রেতাদের আনাগোনা তুলনামূলক কম দেখা গেছে। ফার্মগেট ও সেগুনবাগিচার সিটি করপোরেশন বাজারেও একই ধরনের পরিস্থিতির কথা জানা গেছে।

মিরপুর ২ নম্বর বাজারে গিয়ে দেখা যায়, মাংসের আটটি দোকানের মধ্যে তিনটি বন্ধ রয়েছে। খোলা দোকানগুলোতেও বিক্রি তুলনামূলক কম। একটি দোকানে হোটেলে জবাই করা গরুর মাথা, পা ও কম দামের বিভিন্ন অংশ বিক্রি করতে দেখা যায়। বন্ধ থাকা একটি মাংসের দোকানের বিক্রেতা মো. জসিম বলেন, এবার দুর্গাপূজার ছুটি ঈদের ছুটির মতো দীর্ঘ হয়েছে। গতকাল থেকেই বাজারে মানুষের আনাগোনা কমেছে। সামনে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে—এমন ধারণা থেকে অনেক বিক্রেতা গরু জবাই করেননি। জসিমের ভাষ্য, গরুর দামও বেশি। সব মিলিয়ে গরুর মাংসের দাম বেশি পড়ছে। অন্য সময়ে কিছুটা কম দামে মাংস বিক্রি করা গেলেও বর্তমানে প্রতি কেজি ৮০০ টাকার নিচে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না।

রাজধানীর বাজারগুলোতে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ বিক্রি হচ্ছে ভিন্ন ভিন্ন দামে। দেশি কৈ মাছ প্রতি কেজি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা, বড় বোয়াল ৮০০ টাকা, গলদা চিংড়ি ১ হাজার ২০০ টাকা, ভেনামি চিংড়ি ৮০০ টাকা এবং রূপচাঁদা ১ হাজার থেকে ১ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া দেশি ছোট চিংড়ি প্রতি কেজি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা, শরপুঁটি ২৫০ টাকা, ট্যাংরা ৫৫০ থেকে ৬৫০ টাকা, মাঝারি বাইম ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা এবং বড় বাইম ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যান্য মাছের মধ্যে বাটা প্রতি কেজি ২৮০ টাকা, ছোট সিলভার কার্প ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা এবং বড় সিলভার কার্প ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাজলি মাছের দাম প্রতি কেজি ১ হাজার ৪০০ টাকা, শোল ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, গুঁড়া মাছ ৬০০ টাকা, কাচকি ৫৫০ টাকা এবং পাবদা ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা।

ওজনভেদে রুই মাছের দামেও পার্থক্য রয়েছে। এক কেজির কম ওজনের রুই প্রতি কেজি ২৯০ টাকা এবং দুই কেজি পর্যন্ত ওজনের রুই ৩৮০ টাকা বা তার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। প্রায় একই দামে বিক্রি হচ্ছে কাতল মাছ। অন্যদিকে, এক কেজি ওজনের আইড় মাছের দাম ৬০০ টাকা। মাছটির ওজন বেশি হলে দাম বেড়ে ৭০০ টাকা পর্যন্ত হচ্ছে।

মিরপুর বাজারের মাছ বিক্রেতা মো. সজল বলেন, গত শুক্রবারের তুলনায় এবার বাজারে ক্রেতা ও বিক্রেতা—দুজনের সংখ্যাই কম। টানা ছুটির কারণে চাকরিজীবীদের পাশাপাশি অনেক মাছ ব্যবসায়ীও বাড়ি গেছেন কিংবা অন্য কাজে ব্যস্ত রয়েছেন। এতে বাজারে মাছের সরবরাহ কমেছে। অন্যদিকে ক্রেতার উপস্থিতিও কম থাকায় সামগ্রিকভাবে বেচাকেনা কম হচ্ছে। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, যাঁরা কেনাকাটা করতে আসছেন, তাঁদের অনেকেই দ্রুত প্রয়োজনীয় পণ্য কিনে চলে যাচ্ছেন। ফলে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বাজারে মানুষের ভিড় কম।

মোহাম্মদপুরের কৃষি মার্কেটের ব্যবসায়ী আলী আসগর বলেন, সাপ্তাহিক ছুটির দিনে সাধারণত বাজারে ক্রেতার ভিড় বেশি থাকে। এ সময় মাছও তুলনামূলক তাজা পাওয়া যায়। তবে মঙ্গলবার বাজারে ক্রেতার ভিড় কম ছিল, মাছ বিক্রেতার সংখ্যাও ছিল কম। সব মিলিয়ে দুর্গাপূজার ছুটিতে রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতার উপস্থিতি কমে যাওয়ায় মাছ-মাংসের বেচাকেনায় স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। তবে বাজারে ক্রেতা কম থাকলেও গরু ও খাসির মাংসের দাম এবং বিভিন্ন প্রজাতির মাছের উচ্চমূল্য ক্রেতাদের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করছে।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি