খুঁজুন
                               
, ,
           

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে মিষ্টির পদত্যাগে রাজনীতিতে তুমুল আলোচনা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৩৪ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে মিষ্টির পদত্যাগে রাজনীতিতে তুমুল আলোচনা
মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় অভিযোগ ওঠার পর বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দলীয় সেই সিদ্ধান্তের পর বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন মিষ্টি। তার পদত্যাগের পর সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের ৩২৩ নম্বর আসন (মহিলা আসন-২৩) শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে। তাঁর পদত্যাগ এখন দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
  • মিরপুরের ঘটনায় অভিযোগের পর দলীয় সিদ্ধান্ত
  • স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র
  • শূন্য হলো সংরক্ষিত নারী আসন
স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র
এদিন দুপুরে জাতীয় সংসদে স্পিকারের কার্যালয়ে যান ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন। সংসদ ভবন থেকে বের হওয়ার সময় সাংবাদিকরা পদত্যাগের বিষয়ে জানতে চাইলে মিষ্টি বলেন, তিনি স্পিকারের সঙ্গে কথা বলতে এসেছেন এবং কথা বলেছেন। তবে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন কি না—এ প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেননি তিনি। এ সময় পদত্যাগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তদন্ত হোক।’ আর পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘বিএনপির সিদ্ধান্ত যেটা হবে, তা হবে।’
পদত্যাগ নিশ্চিত করলেন স্পিকার 
পরে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগপত্র পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এদিন সংসদ ভবনের টানেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় স্পিকার জানান, সংরক্ষিত নারী আসন-২৩-এর সংসদ সদস্য মিষ্টি তার কার্যালয়ে এসে লিখিত পদত্যাগপত্র দিয়ে গেছেন। স্পিকার বলেন, সংবিধানের বিধান অনুযায়ী পদত্যাগপত্র পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তার সংসদ সদস্য পদ শূন্য হয়ে গেছে। পদত্যাগের গ্যাজেট প্রকাশের পর তা নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হবে। পদত্যাগপত্রে কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে স্পিকার বলেন, সংসদের বিধান অনুযায়ী কোনো সংসদ সদস্য পদত্যাগের সময় পদত্যাগের কারণ উল্লেখ করেন না।
‘স্বজ্ঞানে ও স্বেচ্ছায়’ পদত্যাগ

‘বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ প্রসঙ্গে’ শিরোনামে দেওয়া পদত্যাগপত্রে ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি জানান, তিনি সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। পদত্যাগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, সম্পূর্ণ স্বজ্ঞানে ও স্বেচ্ছায় জাতীয় সংসদের সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একই সঙ্গে তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে তা কার্যকর করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্পিকারের প্রতি অনুরোধ জানান।

শূন্য ঘোষণা আসন

মিষ্টির পদত্যাগের পর জাতীয় সংসদের ৩২৩ নম্বর আসন, অর্থাৎ মহিলা আসন-২৩ শূন্য ঘোষণা করে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে জাতীয় সংসদ সচিবালয়। এদিন সংসদ সচিবালয়ের লেজিসলেটিভ সাপোর্ট উইংয়ের আইন প্রণয়ন শাখা-২ থেকে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ফেরদৌসী আহমেদ ১ অক্টোবর পদত্যাগ করায় বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৭(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী একই তারিখ থেকে আসনটি শূন্য হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া স্বাক্ষর করেন।

নির্বাচন কমিশনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ 

শূন্য হওয়া আসনটি পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বিজ্ঞপ্তির অনুলিপি পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে। সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির ১৭৭ বিধি অনুযায়ী, কোনো সংসদ সদস্য পদত্যাগ করতে চাইলে স্পিকারকে উদ্দেশ করে নিজ স্বাক্ষরে লিখিতভাবে তা জানাতে হয়। পদত্যাগপত্র স্পিকারের কাছে পৌঁছানোর পর সংবিধানের ৬৭(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পদত্যাগ কার্যকর হয় এবং সংশ্লিষ্ট আসন শূন্য হয়ে যায়।

দলীয় সিদ্ধান্তের পর শেষ হলো প্রক্রিয়া

মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে আলোচনায় আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন। দলীয় নির্দেশনার পর বৃহস্পতিবার স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন মিষ্টি। স্পিকার পদত্যাগপত্র পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করার পর সংবিধান অনুযায়ী তার পদত্যাগ কার্যকর হয়। একই দিনে সংসদ সচিবালয়ের বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তার আসনটি আনুষ্ঠানিকভাবে শূন্য ঘোষণা করা হয়। এর ফলে তারেক রহমানের নির্দেশের পর শুরু হওয়া পদত্যাগ প্রক্রিয়া বৃহস্পতিবারই সাংবিধানিক ও প্রশাসনিকভাবে সম্পন্ন হলো।

রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা 

মিরপুরের ঘটনায় অভিযোগ ওঠার পর দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশে একজন সংসদ সদস্যের পদত্যাগ দলীয় শৃঙ্খলা ও জবাবদিহির প্রশ্নকে সামনে এনেছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সরাসরি নির্দেশের পর দ্রুত পদত্যাগের ঘটনা রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। এতে দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি সংসদ সদস্যদের দায়বদ্ধতার বিষয়টিও নতুন করে সামনে এসেছে। একই সঙ্গে অভিযোগের তদন্ত ও সত্যতা নির্ধারণের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ, রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ঘটনার আইনগত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়াও নিজস্ব গতিতে এগোবে। মিষ্টির পদত্যাগের মধ্য দিয়ে সংরক্ষিত নারী আসনটি শূন্য হওয়ায় এখন সেই আসন পূরণের প্রক্রিয়াও রাজনৈতিক আলোচনায় আসবে। সব মিলিয়ে ঘটনাটি বিএনপির অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা, নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত এবং সংসদীয় রাজনীতির ওপর এর প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

কালের আলো/জেএন/এমকে 

তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মৃত্যুতে তথ্যমন্ত্রীর শোক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৫৪ অপরাহ্ণ
তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মৃত্যুতে তথ্যমন্ত্রীর শোক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আন্দালিভ রহমান।

এক শোকবার্তায় তথ্যমন্ত্রী বলেন, তৌফিক ইমরোজ খালিদী ছিলেন বাংলাদেশের অনলাইন সংবাদমাধ্যমের অন্যতম পথিকৃৎ। দেশের গণমাধ্যমের বিকাশ ও অনলাইন সাংবাদিকতার প্রসারে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। তাঁর মৃত্যু দেশের গণমাধ্যম জগতের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।

তথ্যমন্ত্রী মরহুম তৌফিক ইমরোজ খালিদীর রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মৃত্যু সাংবাদিকতা অঙ্গনের অপূরণীয় ক্ষতি: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫৭ অপরাহ্ণ
তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মৃত্যু সাংবাদিকতা অঙ্গনের অপূরণীয় ক্ষতি: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক ও বিশিষ্ট সাংবাদিক তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এমপি।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) এক শোকবার্তায় প্রতিমন্ত্রী মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। একই সঙ্গে তিনি তৌফিক ইমরোজ খালিদীর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্য, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, তৌফিক ইমরোজ খালিদী দেশের সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম জগতের একজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তার নেতৃত্বে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম বাংলাদেশের অনলাইন সাংবাদিকতার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে এবং সংবাদ পরিবেশনে ডিজিটাল মাধ্যমের নতুন দিগন্ত উন্মোচনে অবদান রেখেছে।

দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে পেশাদারিত্ব, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও তথ্যনির্ভর সাংবাদিকতার চর্চায় তৌফিক ইমরোজ খালিদীর গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের গণমাধ্যমের আধুনিকায়ন ও ডিজিটাল সাংবাদিকতার বিকাশে তৌফিক ইমরোজ খালিদীর অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তার মৃত্যু দেশের সাংবাদিকতা অঙ্গনের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।

প্রতিমন্ত্রী মরহুমের পরিবারের সদস্য ও সহকর্মীদের এই গভীর শোক ও ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার শক্তি কামনা করেন।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী ২০০৬ সালে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব নেন। পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান সম্পাদক হিসেবে তিনি এর সাংবাদিকতা ও ডিজিটাল সংবাদ কার্যক্রম এগিয়ে নেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মৃত্যুতে গভীর শোক রাষ্ট্রপতির

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪৪ অপরাহ্ণ
তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মৃত্যুতে গভীর শোক রাষ্ট্রপতির

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক সাংবাদিক তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় লন্ডনের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তৌফিক ইমরোজ খালিদী। তার বয়স হয়েছিল ৫৯ বছর। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের কারণে বৃহস্পতিবার রাতে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে স্থানীয় সময় শুক্রবার বেলা ২টা ২৩ মিনিটে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এক শোকবার্তায় রাষ্ট্রপতি মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের অনলাইন ও ডিজিটাল সাংবাদিকতার বিকাশে তৌফিক ইমরোজ খালিদী ছিলেন একজন পথিকৃৎ। তার মৃত্যুতে দেশ একজন অভিজ্ঞ, সজ্জন ও বরেণ্য গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বকে হারিয়েছে।

সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমে তৌফিক ইমরোজ খালিদীর অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলেও শোকবার্তায় উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি।

তৌফিক ইমরোজ খালিদীর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিগত স্মৃতির কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, তার মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক। এ মৃত্যুতে তিনি গভীরভাবে মর্মাহত ও শোকাহত।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি