খুঁজুন
                               
, ,
           

ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিতে ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ, নতুন ৪০ লাখ নারী পাবেন ভাতা

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৫৩ অপরাহ্ণ
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিতে ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ, নতুন ৪০ লাখ নারী পাবেন ভাতা

দেশের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিকে আরও বিস্তৃত, আধুনিক ও তথ্যনির্ভর করতে দেশব্যাপী ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম জোরদার করেছে সরকার। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে আনুমানিক ৪ কোটি ৪৫ লাখ পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করে জাতীয় ডেটাবেজে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সংগৃহীত তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে ভাতা পাওয়ার যোগ্য পরিবার নির্বাচন করা হবে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে নতুন করে ৪০ লাখ নারী পরিবারপ্রধানকে ফ্যামিলি কার্ড ও ভাতা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পর্যায়ক্রমে পরবর্তী তিন অর্থবছরে যোগ্য সব নারী পরিবারপ্রধানকে এই কর্মসূচির আওতায় আনার লক্ষ্য সরকারের।

নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি এবং দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারের জীবনমান উন্নয়নের উদ্দেশ্যে নেওয়া এ কর্মসূচিতে চলতি অর্থবছরে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা সরাসরি ভাতা হিসেবে বিতরণের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে দেশব্যাপী ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, এমপি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, এমপি।

  • ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় ডেটাবেজে যুক্ত হবে ৪ কোটি ৪৫ লাখ পরিবারের তথ্য
  • পিএমটি স্কোরের ভিত্তিতে বাছাই হবেন যোগ্য উপকারভোগীরা

নারীর ক্ষমতায়ন ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতায় ফ্যামিলি কার্ড
সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন, অধিকার, মর্যাদা ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়ন ও সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠা সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে পরিবারের নারীপ্রধানের নামে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম জনগণের সামনে তুলে ধরার পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির তথ্য দেশবাসীকে জানাতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।

পরিবারের নারীপ্রধানের নামে কার্ড প্রদানের মাধ্যমে নারীর হাতে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং পরিবারে তাঁদের অর্থনৈতিক ভূমিকা আরও শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি হবে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে সামাজিক সুরক্ষার সুবিধা আরও সুসংগঠিতভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যাশা করছে সরকার।

পাইলটিং কার্যক্রমে ভাতা পেয়েছেন ৭১ হাজার ৮৩১ জন
মন্ত্রী জানান, গত ১০ মার্চ ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির পাইলটিং কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। পাইলটিং পর্যায়ে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত দেশের আট বিভাগের ৪৪টি জেলার ৫৫টি উপজেলা ও সিটি করপোরেশনের ৫৭টি ইউনিটে মোট ১ লাখ ১২ হাজার ৯৪টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে প্রক্সি মিন্স টেস্ট (পিএমটি) স্কোর অনুযায়ী নির্বাচিত ৭১ হাজার ৮৩১ জন যোগ্য উপকারভোগীকে ফ্যামিলি কার্ড ও ভাতা দেওয়া হয়েছে। পাইলটিং কার্যক্রমে ৮৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা বরাদ্দের বিপরীতে ব্যয় হয়েছে ৬৫ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে ৫৭ কোটি ২০ লাখ টাকা ভাতা হিসেবে বিতরণ করা হয়েছে বলে জানান সমাজকল্যাণমন্ত্রী। পাইলটিং কার্যক্রমের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে দেশব্যাপী কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে উপকারভোগী নির্বাচন, তথ্য ব্যবস্থাপনা ও ভাতা বিতরণব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

চলতি অর্থবছরে বরাদ্দ ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা
সমাজকল্যাণমন্ত্রী জানান, চলতি বছরের জুলাই থেকে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মূল বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এ কর্মসূচির জন্য মোট ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ১২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা উপকারভোগীদের ভাতা হিসেবে বিতরণ করা হবে।

বরাদ্দের বড় অংশ সরাসরি ভাতা প্রদানের জন্য নির্ধারণ করায় কর্মসূচির আওতায় আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। চলতি অর্থবছরে নতুন ৪০ লাখ নারী পরিবারপ্রধানকে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে তথ্য সংগ্রহ, যাচাই-বাছাই, যোগ্যতা নির্ধারণ ও কার্ড বিতরণ কার্যক্রম সমন্বিতভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে।

পিএমটি স্কোরে নির্ধারিত হবে ভাতার যোগ্যতা
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা, ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হালনাগাদ করা প্রক্সি মিন্স টেস্ট পদ্ধতিতে দেশের পরিবারগুলোকে আর্থসামাজিক অবস্থার ভিত্তিতে পাঁচটি কোয়াইন্টাইলে ভাগ করা হয়েছে। শ্রেণিগুলো হলো—অতিদরিদ্র, দরিদ্র, ঝুঁকিপূর্ণ নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত।

মন্ত্রী জানান, পিএমটি স্কোর ৮৬০ বা তার কম পাওয়া নারী পরিবারপ্রধান ভাতা পাওয়ার যোগ্য বিবেচিত হবেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, সব নারী পরিবারপ্রধানকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হবে। তবে ভাতা দেওয়া হবে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় কোয়াইন্টাইলভুক্ত পরিবারগুলোর নারী পরিবারপ্রধানকে। এই পদ্ধতিতে পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থা মূল্যায়নের মাধ্যমে যাঁদের আর্থিক সহায়তা বেশি প্রয়োজন, তাঁদের অগ্রাধিকার দিয়ে ভাতা প্রদানের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় সরকারি সহায়তা আরও পরিকল্পিতভাবে বিতরণের সুযোগ তৈরি হবে।

দেশব্যাপী তথ্য সংগ্রহে নিয়োজিত ৭৩ হাজারের বেশি কর্মী
সোমবার (১২ অক্টোবর) থেকে দেশের সব এলাকায় খানা বা পরিবারের তথ্য সংগ্রহ শুরু হয়েছে বলে জানান সমাজকল্যাণমন্ত্রী। এ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড খানা তথ্যভান্ডারের তথ্য সংগ্রহ নির্দেশিকা, ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে। তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমে নিয়োজিত রয়েছেন ৬৬ হাজার ৮১৫ জন তথ্য সংগ্রহকারী এবং ৬ হাজার ৬৮১ জন সুপারভাইজার। সংশ্লিষ্ট কর্মীদের প্রশিক্ষণের প্রথম পর্যায়ও সম্পন্ন হয়েছে।

তথ্য সংগ্রহকারীরা বিশেষায়িত ট্যাবলেট ব্যবহার করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করবেন। মোবাইল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এসব তথ্য সরাসরি অনলাইন ডেটাবেজে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। মন্ত্রী জানান, কার্যক্রমটি কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য মোবাইল সিম কার্ড সংগ্রহ, নেটওয়ার্কভিত্তিক সাইবার নিরাপত্তা, কর্মী ব্যবস্থাপনা এবং নেটওয়ার্ক অপারেশন সেন্টার (এনওসি) স্থাপনসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার ও মাঠপর্যায়ে বিপুলসংখ্যক কর্মী নিয়োগের ফলে দ্রুততম সময়ে দেশব্যাপী পরিবারের তথ্য সংগ্রহ এবং একটি সমন্বিত তথ্যভান্ডার গড়ে তোলার উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

ডিসেম্বরের মধ্যে ডেটাবেজে যুক্ত হবে ৪ কোটি ৪৫ লাখ পরিবার
সমাজকল্যাণমন্ত্রী জানান, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে আনুমানিক ৪ কোটি ৪৫ লাখ পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করে ডেটাবেজে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। প্রতি পাঁচজন সদস্যকে একটি পরিবার হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে এ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে পিএমটি পদ্ধতিতে সংগৃহীত তথ্য মূল্যায়ন করে ভাতা পাওয়ার যোগ্য উপকারভোগী নির্বাচন করা হবে।

দেশের বিপুলসংখ্যক পরিবারের তথ্য নিয়ে সমন্বিত ডেটাবেজ তৈরি হলে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন আরও সুসংগঠিত করার সুযোগ সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি আর্থসামাজিক অবস্থার ভিত্তিতে উপকারভোগী শনাক্তকরণ এবং সরকারি সহায়তা বিতরণের কার্যক্রমও তথ্যনির্ভর হবে। পরিবারের তথ্য সংগ্রহ থেকে শুরু করে যোগ্যতা যাচাই পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে নির্ভুলতা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যাতে প্রকৃত উপকারভোগীরা কর্মসূচির সুবিধা পান।

ফ্যামিলি কার্ডে থাকবে ডুয়াল চিপ, কিউআর কোড ও এনএফসি সুবিধা
উপকারভোগীদের জন্য তৈরি ফ্যামিলি কার্ডে ডুয়াল চিপ, কিউআর কোড ও নিয়ার ফিল্ড কমিউনিকেশন (এনএফসি) সুবিধা থাকবে বলে জানান মন্ত্রী। কার্ডটি সরকারের টাকাপের পেমেন্ট ব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। এর মাধ্যমে উপকারভোগীরা ব্যাংকের এটিএম বুথ, বিপণি-বিতানের পয়েন্ট অব সেলস (পিওএস) এবং মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের (এমএফএস) মাধ্যমে ভাতার অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন। ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার সঙ্গে কার্ড সংযুক্ত করার ফলে অর্থ বিতরণ ও লেনদেনের হিসাব সংরক্ষণ আরও সহজ হবে। একই সঙ্গে উপকারভোগীদের জন্য ভাতার অর্থ গ্রহণের একাধিক মাধ্যম তৈরি হবে, যা আর্থিক সেবায় তাঁদের প্রবেশাধিকার বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।

চার অর্থবছরে অন্তর্ভুক্ত হবেন সব যোগ্য নারী পরিবারপ্রধান
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে নতুন করে ৪০ লাখ নারী পরিবারপ্রধানকে ফ্যামিলি কার্ড ও ভাতা দেওয়া হবে। পরবর্তী তিন অর্থবছরে পর্যায়ক্রমে কর্মসূচির আওতায় আসবেন যোগ্য সব নারী পরিবারপ্রধান।

এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমে নারীর অংশগ্রহণ আরও বাড়বে। পাশাপাশি পরিবারের দৈনন্দিন ব্যয় নির্বাহ, জরুরি প্রয়োজন মোকাবিলা এবং আর্থিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে এ কর্মসূচি ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। সরকারের লক্ষ্য হলো, নির্ধারিত আর্থসামাজিক মানদণ্ড অনুসরণ করে যোগ্য পরিবারগুলোকে কর্মসূচির আওতায় এনে আর্থিক সহায়তার পরিধি বাড়ানো। এ ক্ষেত্রে তথ্যভান্ডার, পিএমটি স্কোর এবং ডিজিটাল কার্ডভিত্তিক অর্থ বিতরণব্যবস্থার সমন্বিত ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সংবাদ সম্মেলনে সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এমপির সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মিস ফারজানা শারমীন, এমপি; সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ; সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহবুব; তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সামাজিক সুরক্ষায় নতুন সম্ভাবনা
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও বিস্তৃত, আধুনিক ও তথ্যনির্ভর করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ৪ কোটি ৪৫ লাখ পরিবারের তথ্য সংগ্রহ, চলতি অর্থবছরে নতুন ৪০ লাখ নারী পরিবারপ্রধানকে কার্ড ও ভাতা প্রদান এবং পরবর্তী তিন অর্থবছরে যোগ্য সব নারীকে কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা এই উদ্যোগের ব্যাপকতা তুলে ধরে। নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি এবং দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা জোরদারে এই কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। পরিকল্পিতভাবে তথ্য সংগ্রহ, যোগ্য উপকারভোগী নির্বাচন এবং ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভাতা বিতরণের মাধ্যমে সরকারি সহায়তা আরও কার্যকরভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

কালের আলো/এমএএএমকে

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সচিব হলেন তিন নারী কূটনীতিক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ২:২৫ পূর্বাহ্ণ
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সচিব হলেন তিন নারী কূটনীতিক

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সচিব পদমর্যাদায় পদোন্নতি পেয়েছেন বিদেশে বাংলাদেশের মিশনে নেতৃত্ব দেওয়া অভিজ্ঞ তিন নারী কূটনীতিক। তাঁরা হলেন ব্রুনাই দারুস সালামে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার নওরীন আহসান, মিশরে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত সামিনা নাজ এবং গ্রিসে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত নাহিদা রহমান সুমনা।

সোমবার (১২ অক্টোবর) তাঁদের সচিব পদমর্যাদায় পদোন্নতি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। কূটনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই তিন কর্মকর্তার পদোন্নতিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিসিএস পররাষ্ট্র ক্যাডারের তিন কর্মকর্তা

পদোন্নতিপ্রাপ্ত তিন কর্মকর্তার মধ্যে সামিনা নাজ ও নওরীন আহসান বিসিএস পররাষ্ট্র ক্যাডারের ১৫তম ব্যাচের কর্মকর্তা। নাহিদা রহমান সুমনা ১৭তম ব্যাচের কর্মকর্তা।

তিনজনই বিদেশে বাংলাদেশের বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়ন, কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁদের।

সামিনা নাজের দীর্ঘ কূটনৈতিক অভিজ্ঞতা

সামিনা নাজ একজন অভিজ্ঞ বাংলাদেশি কূটনীতিক। মিশরে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনের আগে তিনি ভিয়েতনাম ও লাওসে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ছিলেন।

কূটনৈতিক জীবনে ভারতের মুম্বাই, নেদারল্যান্ডসের হেগ, ভারতের দিল্লি এবং নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

২০১৩ সালে মুম্বাইয়ে বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের সময় তাঁর নেতৃত্বে একটি বাংলাদেশ মিশনের কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে নারী কূটনীতিকের নেতৃত্বের একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত তৈরি হয়।

নাহিদা রহমান সুমনার কূটনৈতিক পথচলা

নাহিদা রহমান সুমনা বর্তমানে গ্রিসে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এথেন্সে দায়িত্ব নেওয়ার আগে তিনি চার বছর ব্রুনাই দারুস সালামে বাংলাদেশের হাইকমিশনার ছিলেন।

দীর্ঘ কূটনৈতিক ক্যারিয়ারে তিনি ব্রাজিলের ব্রাসিলিয়া, কানাডার অটোয়া, ভারতের কলকাতা এবং অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরায় বাংলাদেশের বিভিন্ন মিশনে দায়িত্ব পালন করেছেন। এসব অভিজ্ঞতা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও কূটনৈতিক কার্যক্রমে তাঁর পেশাগত দক্ষতাকে সমৃদ্ধ করেছে।

নওরীন আহসানের কূটনৈতিক ক্যারিয়ার

নওরীন আহসান ১৯৯৫ সালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগ দেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার প্রিটোরিয়া, নেদারল্যান্ডসের হেগ এবং কানাডার অটোয়ায় বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন।

বর্তমানে ব্রুনাই দারুস সালামে বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। বিদেশে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব এবং কূটনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এবার সচিব পদমর্যাদায় পদোন্নতি পেলেন এই কর্মকর্তা।

তিন নারী কূটনীতিকের এই পদোন্নতির মধ্য দিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কাঠামোতে তাঁদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে তাঁদের নির্দিষ্ট সচিব পদে দায়িত্ব বণ্টন সম্পর্কে প্রজ্ঞাপনে কী বলা হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়ার পর বিস্তারিত জানা যাবে।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

ঢাকা থেকে সৌদিগামী ৬১ ফ্লাইট বাতিল, ভোগান্তিতে হাজারো যাত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ২:০৭ পূর্বাহ্ণ
ঢাকা থেকে সৌদিগামী ৬১ ফ্লাইট বাতিল, ভোগান্তিতে হাজারো যাত্রী

সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে কার্যক্রম সীমিত হওয়ায় ঢাকা থেকে পরিচালিত ৬১টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট স্থগিত হয়েছে। এতে অন্তত ৮ হাজার ৩৮১ জন যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন। এর মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট ২২টি এবং ট্রানজিট ফ্লাইট ৩৯টি। রিয়াদ এয়ারলাইন্সের যাত্রীদের হিসাব যুক্ত হলে ভোগান্তিতে পড়া মানুষের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

সোমবার (১৩ অক্টোবর) রাত ১২টা ৭ মিনিটে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এ তথ্য জানায়।

সরাসরি ফ্লাইট স্থগিত ২২টি

বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, স্থগিত হওয়া সরাসরি ফ্লাইটগুলোর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ৯টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের দুটি, সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের চারটি এবং রিয়াদ এয়ারলাইন্সের সাতটি ফ্লাইট রয়েছে।

এসব ফ্লাইট স্থগিত হওয়ায় সৌদি আরবগামী যাত্রীদের নির্ধারিত সময়ে যাত্রা করা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। যাঁরা আগে থেকেই টিকিট কেটেছিলেন, তাঁদের অনেকের ভ্রমণসূচি ব্যাহত হয়েছে।

ট্রানজিট ফ্লাইট স্থগিত ৩৯টি

সরাসরি ফ্লাইটের পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সের ৩৯টি ট্রানজিট ফ্লাইটও স্থগিত হয়েছে। এর মধ্যে ইন্ডিগোর ১৬টি, এমিরেটসের ৯টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৫টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৫টি, সালাম এয়ারের ৩টি এবং ইজিপ্টএয়ারের একটি ফ্লাইট রয়েছে।

এসব ফ্লাইটে যাতায়াতের পরিকল্পনা করা যাত্রীদেরও ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। ট্রানজিট ফ্লাইটের ক্ষেত্রে যাত্রীরা অন্য বিমানবন্দর হয়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর কথা থাকলেও ফ্লাইট স্থগিত হওয়ায় তাঁদের যাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।

ভোগান্তিতে হাজারো যাত্রী

বেবিচকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ফ্লাইট স্থগিতের কারণে এখন পর্যন্ত অন্তত ৮ হাজার ৩৮১ জন যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন। তাঁদের মধ্যে সৌদি আরবগামী সরাসরি ফ্লাইটের যাত্রীদের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশ হয়ে সৌদি আরবে যাওয়ার পরিকল্পনা করা যাত্রীরাও রয়েছেন।

ফ্লাইট স্থগিত হওয়ায় যাত্রীদের ভ্রমণসূচি পিছিয়ে যাচ্ছে। এতে সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছানো নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। রিয়াদ এয়ারলাইন্সের যাত্রীদের হিসাব যুক্ত হলে মোট ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

সৌদির বিমানবন্দর পরিস্থিতিতে প্রভাব

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, হুথিদের হামলার কারণে সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে কার্যক্রম সীমিত হওয়ায় ফ্লাইট চলাচলে এই বিঘ্ন ঘটেছে। বিমানবন্দরগুলোর কার্যক্রম সীমিত থাকায় নির্ধারিত সময়ে যাত্রা ও গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন না অনেক যাত্রী।

পরিস্থিতির প্রভাবে আন্তর্জাতিক আকাশপথে যাতায়াতের পরিকল্পনাও ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে সৌদি আরবগামী যাত্রীদের জন্য ফ্লাইটের সময়সূচি ও যাত্রার সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের তথ্য অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

ছয় শব্দের পোস্টে তোলপাড়, কী লিখলেন জামায়াত আমির?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪৯ পূর্বাহ্ণ
ছয় শব্দের পোস্টে তোলপাড়, কী লিখলেন জামায়াত আমির?

বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের ফেসবুক পোস্ট ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে আলোচনা। সোমবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টা ২৩ মিনিটে দেওয়া সংক্ষিপ্ত পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘চোরের মন পুলিশ-পুলিশ। সাধু সাবধান।’

মাত্র ছয় শব্দের এই পোস্টে কাকে বা কোন বিষয়কে ইঙ্গিত করা হয়েছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু উল্লেখ করেননি জামায়াত আমির। ফলে পোস্টটির বক্তব্য ও সম্ভাব্য ইঙ্গিত নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

তুরস্ক সফর শেষে আলোচনায় জামায়াত আমির

সম্প্রতি তুরস্ক ও সৌদি আরব সফর শেষে দেশে ফিরেছেন ডা. শফিকুর রহমান। তাঁর ফেসবুক টাইমলাইনে তুরস্ক সফর নিয়ে একাধিক পোস্টও দেখা গেছে। সেখানে তুরস্ক সরকারের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।

জামায়াত আমিরের ভাষ্য অনুযায়ী, তুরস্ক সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশের শিক্ষা, তৈরি পোশাক খাত এবং মক্কা প্যাক্টসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে এসেছে।

রোববার সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি জানান, তুরস্কে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নেওয়ার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশকে তুলে ধরা।

বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় আলোচনার ওপর গুরুত্ব

সফর নিয়ে বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কোনো হামলাই বিশ্বের জন্য কল্যাণকর নয়। তাঁর মতে, আলোচনার মাধ্যমেই বিশ্বে শান্তি ফিরে আসা উচিত।

তুরস্ক সফরের সময় আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা ও বৈঠকে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো তুলে ধরার কথাও জানান তিনি।

৭ অক্টোবর তুরস্কের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন

গত ৭ অক্টোবর তুরস্কের ইস্তাম্বুল বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘সেকেন্ড ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন বাংলাদেশ স্টাডিজে’ প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিতে ঢাকা ছাড়েন ডা. শফিকুর রহমান।

তুরস্কে পৌঁছে ৮ অক্টোবর দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার অধ্যাপক ড. নুমান কুরতুলমুশের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। পরে ৯ অক্টোবর ইস্তাম্বুল বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াত আমির।

তুরস্ক সফর ও সৌদি আরবে ওমরাহ পালন শেষে দেশে ফেরার পর তাঁর দেওয়া নতুন ফেসবুক পোস্টটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে পোস্টে নির্দিষ্ট কাউকে লক্ষ্য করে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে কি না, তা তিনি স্পষ্ট করেননি।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি