খুঁজুন
                               
, ,
           

গ্রিড বিপর্যয় কাটল, বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিকের পথে

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:১৫ অপরাহ্ণ
গ্রিড বিপর্যয় কাটল, বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিকের পথে

আকস্মিক বিপর্যয়ের প্রায় পৌনে দুই ঘণ্টা পর সচল হয়েছে জাতীয় গ্রিড। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুর ১২টা ৪৩ মিনিটে বিপর্যয়ের পর দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে গ্রিড পুনরুদ্ধারের কাজ শেষ হয়। বর্তমানে গ্রিড লাইন ও উপকেন্দ্রগুলো চালু করা হয়েছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পর্যায়ক্রমে সচল হওয়ায় উৎপাদন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে জানিয়েছে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি।

এর আগে দুপুরে গ্রিড বিপর্যয়ের কারণে সচিবালয়সহ রাজধানীর মধ্যাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। একই সঙ্গে ঢাকার পূর্বাঞ্চল ও চট্টগ্রামের একাংশেও বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়।

বিদ্যুৎ না থাকায় ভুলতা, হরিপুর, সিদ্ধিরগঞ্জ, গুলশান, রামপুরা, উলন ও মতিঝিলসহ বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েন। তীব্র গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ না থাকায় জনজীবনে অস্বস্তি তৈরি হয়। দুপুর ১টার দিকে সচিবালয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় সরকারি দপ্তরগুলোর দাপ্তরিক কার্যক্রমেও সাময়িক বিঘ্ন ঘটে।

গ্রিড বিপর্যয়ের সুনির্দিষ্ট কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে প্রকৌশলীরা কাজ শুরু করেন। জাতীয় গ্রিডের নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র এনএলডিসির তত্ত্বাবধানে পরিচালিত পুনরুদ্ধার কার্যক্রমের মাধ্যমে দুপুর আড়াইটার মধ্যে গ্রিড সচল করা হয়।

কর্তৃপক্ষ জানায়, বিপর্যয়ের সময় দেশের উত্তরাঞ্চলসহ অন্যান্য এলাকার বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক ছিল। বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন পুরোপুরি স্বাভাবিক হলে সাময়িক লোডশেডিংয়ের পরিস্থিতিও দ্রুত কেটে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অনাকাঙ্ক্ষিত এই বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণে সৃষ্ট সাময়িক অসুবিধার জন্য গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

যানজটমুক্ত ঢাকার পথে আরও এক ধাপ, মেট্রোরেলের চার প্যাকেজে চুক্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:০৪ অপরাহ্ণ
যানজটমুক্ত ঢাকার পথে আরও এক ধাপ, মেট্রোরেলের চার প্যাকেজে চুক্তি

রাজধানী ঢাকাকে আরও গতিশীল, আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব নগরী হিসেবে গড়ে তোলার পথে মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে যুক্ত হয়েছে নতুন গতি। যানজট কমানো, যাতায়াতের সময় সাশ্রয় এবং নগরবাসীর চলাচলকে আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় করার লক্ষ্যে এমআরটি লাইন-১ ও এমআরটি লাইন-৫-এর উত্তরাংশের চারটি গুরুত্বপূর্ণ নির্মাণ প্যাকেজের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে রাজধানীর গণপরিবহন অবকাঠামো উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়িতে এমআরটি লাইন-৬-এর ডিপো এলাকায় অবস্থিত মেট্রোরেল ভবনের সম্মেলনকক্ষে এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ সরকার ও জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্প দুটির অবকাঠামো নির্মাণে এসব চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

  • ৫টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নতুন উড়াল স্টেশন, নির্মিত হবে ৫৪টি আধুনিক স্থাপনা ও ১১.৫০৭ কিলোমিটার উড়াল রেলপথ
  • এমআরটি লাইন-১ ও লাইন-৫-এর উত্তরাংশে চার প্যাকেজের চুক্তি স্বাক্ষর, এগোবে ডিপো ও রেলপথ নির্মাণ

চুক্তির আওতায় এমআরটি লাইন-১-এ ৫.০০৭ কিলোমিটার উড়াল রেলপথ ও তিনটি স্টেশন এবং এমআরটি লাইন-৫-এর উত্তরাংশে ৬.৫০ কিলোমিটার উড়াল রেলপথ ও পাঁচটি স্টেশন নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি দুটি প্রকল্পের ডিপো, পরিচালনাকেন্দ্র, কর্মশালা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে। এমআরটি লাইন-১-এর ডিপোতে নির্মিত হবে মোট ৪৯টি আধুনিক স্থাপনা।

এই অবকাঠামোগত সম্প্রসারণ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার মধ্যে গণপরিবহন সংযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতে দ্রুত, নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য যাতায়াতব্যবস্থা গড়ে তোলার ভিত্তি শক্তিশালী করবে। মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক যত বিস্তৃত হবে, তত বেশি মানুষের জন্য আধুনিক গণপরিবহন ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে মেট্রোরেলের এই সম্প্রসারণ রাজধানীকে আধুনিক, গতিশীল ও পরিবেশবান্ধব নগরী হিসেবে গড়ে তোলার চলমান উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। পরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণ, উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার এবং নাগরিকদের যাতায়াতের সুবিধাকে গুরুত্ব দিয়ে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে ঢাকাবাসীর জন্য আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় ও নির্ভরযোগ্য গণপরিবহনব্যবস্থা গড়ে তোলার পথ সুগম হবে।

আধুনিক গণপরিবহন গড়ে তোলাই মূল লক্ষ্য
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাওগাতুল আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (ভারপ্রাপ্ত সচিব) কবির আহমদ। এ ছাড়া জাপান দূতাবাস, জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা, প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এবং চুক্তি স্বাক্ষরকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক বলেন, ‘রাজধানীর যানজট নিরসন ও যাতায়াতের সময় কমানো বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্য অর্জনে আধুনিক, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।’ এসময় তিনি বলেন, ‘নির্মাণকাজে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও গুণগত মান নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কোনো আপস করা যাবে না। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ করতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ভোগান্তি দীর্ঘায়িত না হয়।’

সড়ক সচিব আরও বলেন, ‘নির্মাণকাজের পরিবেশগত প্রভাব এবং প্রকল্প এলাকার আশপাশে বসবাসকারী মানুষের কল্যাণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ, প্রকৌশলী ও ঠিকাদারদের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় ও যোগাযোগ নিশ্চিত করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ঢাকাবাসীর জন্য আধুনিক, দক্ষ ও আরামদায়ক গণপরিবহন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা সম্ভব হবে।’

আধুনিক গণপরিবহনব্যবস্থা একটি নগরীর যোগাযোগব্যবস্থাকে গতিশীল করার পাশাপাশি মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, কর্মঘণ্টার ব্যবহার এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। সচিবের গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যে মেট্রোরেল সম্প্রসারণের পাশাপাশি জনবান্ধব উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও গুণগত মানের ওপর গুরুত্ব প্রতিফলিত হয়েছে।

চার প্যাকেজে বিস্তৃত হচ্ছে মেট্রোরেলের অবকাঠামো
এমআরটি লাইন-১-এর চুক্তি প্যাকেজ সিপি-০২-এর আওতায় ডিপোর পূর্ত ও ভবন নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হবে। এই প্যাকেজে কর্মশালা, রেলগাড়ি রাখার ছাউনি, পরিচালনা ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রসহ মোট ৪৯টি আধুনিক স্থাপনা নির্মাণ করা হবে। এ কাজের জন্য ‘সিনোহাইড্রো-এসইবিসিএল যৌথ উদ্যোগ’-এর সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। মেট্রোরেলের নিয়মিত পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ডিপো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে রেলগাড়ি সংরক্ষণ, কারিগরি পরীক্ষা, পরিচর্যা এবং পরিচালনাসংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পন্ন হবে। পরিকল্পিত এসব স্থাপনা ভবিষ্যতে নির্ভরযোগ্য রেলসেবা পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত ভিত্তি তৈরি করবে।

এমআরটি লাইন-১: ৫.০০৭ কিলোমিটার উড়াল রেলপথ, তিনটি নতুন স্টেশন
এমআরটি লাইন-১-এর চুক্তি প্যাকেজ সিপি-০৭-এর আওতায় পাতালপথ থেকে উড়ালপথে উত্তরণের স্থান থেকে বালু নদীর শুরু পর্যন্ত ৫.০০৭ কিলোমিটার উড়াল রেলপথ নির্মাণ করা হবে। এ অংশে জোয়ার সাহারা, বোয়ালিয়া ও মস্তুল—এই তিনটি উড়াল স্টেশন নির্মিত হবে। এই কাজের জন্য ‘সিআরইসি-এমআইএল-এমবিইসি যৌথ উদ্যোগ’-এর সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

নতুন এই অংশের অবকাঠামো রাজধানীর মেট্রোরেল নেটওয়ার্ককে আরও বিস্তৃত করার সুযোগ তৈরি করবে। পাশাপাশি স্টেশনগুলো চালু হলে সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের আধুনিক গণপরিবহন ব্যবহারের সুযোগ বাড়বে। কর্মস্থল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য গন্তব্যে যাতায়াতের ক্ষেত্রে মেট্রোরেলকে আরও কার্যকর বিকল্প হিসেবে গড়ে তোলার সম্ভাবনাও তৈরি হবে।

এমআরটি লাইন-৫-এর উত্তরাংশ: গড়ে উঠবে আধুনিক ডিপো
এমআরটি লাইন-৫-এর উত্তরাংশের চুক্তি প্যাকেজ সিপি-০২-এর আওতায় ডিপোর প্রশাসনিক ভবন, পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র, রেলগাড়ি রাখার প্রাঙ্গণ, গুদাম এবং কর্মশালার ছাউনিসহ বিভিন্ন পূর্তকাজ সম্পন্ন করা হবে। এ কাজের জন্য ‘সিপিসি-হানিল যৌথ উদ্যোগ’-এর সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ডিপোর এসব অবকাঠামো প্রকল্পটির পরিচালনাগত সক্ষমতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। রেলগাড়ি সংরক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ, যন্ত্রাংশ ব্যবস্থাপনা এবং দৈনন্দিন পরিচালনার জন্য পরিকল্পিত সুযোগ-সুবিধা তৈরি হলে ভবিষ্যৎ রেলসেবা আরও সুসংগঠিতভাবে পরিচালনার ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হবে।

এমআরটি লাইন-৫-এর উত্তরাংশ: ৬.৫০ কিলোমিটার উড়াল রেলপথ ও পাঁচটি স্টেশন
এমআরটি লাইন-৫-এর উত্তরাংশের চুক্তি প্যাকেজ সিপি-০৩-এর আওতায় হেমায়েতপুর থেকে আমিনবাজার এবং নতুন বাজার থেকে ভাটারা পর্যন্ত মোট ৬.৫০ কিলোমিটার উড়াল রেলপথ নির্মাণ করা হবে। একই সঙ্গে হেমায়েতপুর, বালিয়াপুর, বিলামালিয়া, আমিনবাজার ও ভাটারা—এই পাঁচটি উড়াল স্টেশন নির্মাণ করা হবে। এই কাজের জন্য ‘সিআরইসি-এমআইএল-এমবিইসি যৌথ উদ্যোগ’-এর সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

এই অংশের নির্মাণকাজ রাজধানীর গণপরিবহন নেটওয়ার্কের বিস্তারে নতুন মাত্রা যোগ করবে। একাধিক এলাকায় মেট্রোরেলের অবকাঠামো সম্প্রসারিত হলে বৃহত্তর নগরাঞ্চলের মানুষের জন্য আধুনিক গণপরিবহন ব্যবহারের সুযোগ বাড়ানোর পথ তৈরি হবে। বিশেষ করে বাসসহ অন্যান্য পরিবহনব্যবস্থার সঙ্গে কার্যকর সংযোগ প্রতিষ্ঠা করা গেলে যাত্রীদের দৈনন্দিন যাতায়াত আরও সহজ ও সুশৃঙ্খল করার সম্ভাবনা তৈরি হবে।

যাতায়াতে সময় সাশ্রয়, নগরজীবনে নতুন সম্ভাবনা
ঢাকার ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা ও যাতায়াতের চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে গণপরিবহন অবকাঠামো সম্প্রসারণ এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মেট্রোরেলের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, এটি নির্দিষ্ট পথে দ্রুতগতিতে বিপুলসংখ্যক যাত্রী পরিবহনের সুযোগ সৃষ্টি করে। ফলে সড়কনির্ভর যাতায়াতের বিকল্প হিসেবে এ ব্যবস্থা নগরবাসীর কাছে আরও কার্যকর হয়ে উঠতে পারে। মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক বিস্তৃত হলে কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার যাত্রীদের যাতায়াতের সুযোগ বাড়বে। যাতায়াতে সময় সাশ্রয়ের সুযোগ তৈরি হলে মানুষ কর্মক্ষেত্র, শিক্ষা, ব্যবসা ও পারিবারিক জীবনে সময় আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারবেন। একই সঙ্গে নির্ভরযোগ্য গণপরিবহনব্যবস্থা নগরের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে গতিশীল রাখতেও সহায়তা করতে পারে।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, চারটি নির্মাণ প্যাকেজের চুক্তি স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে এমআরটি লাইন-১ ও এমআরটি লাইন-৫-এর উত্তরাংশের অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম আরও এগিয়ে গেল। দুটি প্রকল্পের আওতায় উড়াল রেলপথ, আটটি স্টেশন এবং আধুনিক ডিপো অবকাঠামো নির্মাণের উদ্যোগ রাজধানীর গণপরিবহনব্যবস্থাকে সম্প্রসারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। প্রকল্পগুলোর পরিকল্পিত বাস্তবায়ন ঢাকার যাতায়াতব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক পরিবর্তনের সুযোগ সৃষ্টি করবে। নতুন স্টেশন ও রেলপথের সঙ্গে বিদ্যমান পরিবহনব্যবস্থার সংযোগ বাড়ানো গেলে যাত্রীদের চলাচল আরও সহজ হবে।

কালের আলো/এমএএএমকে

স্থানীয় ভোটে উত্তাপ, সংঘাতের শঙ্কা

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৩৮ অপরাহ্ণ
স্থানীয় ভোটে উত্তাপ, সংঘাতের শঙ্কা

স্থানীয় সরকার নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ। দলীয় প্রতীক না থাকলেও ভোটের মাঠে দলীয় প্রভাব, মনোনয়ন ঘিরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং স্থানীয় নেতৃত্বের আধিপত্য বিস্তারের লড়াই নির্বাচনী পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলতে পারে। সবচেয়ে বড় উদ্বেগ বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল। একই এলাকায় দলের একাধিক নেতা প্রার্থী হলে কিংবা কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত অমান্য করে কেউ নির্বাচনে নামলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা রূপ নিতে পারে সংঘাতে। এমন আশঙ্কা প্রকাশ করছেন বিরোধী দলের নেতারা। অন্যদিকে বিএনপি বলছে, একক প্রার্থী নিশ্চিত করতে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত নজরদারি চলছে; সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে প্রার্থী হলে নেওয়া হবে সাংগঠনিক ব্যবস্থা।

  • প্রতীকহীন নির্বাচনেও দলীয় প্রভাব
  • প্রার্থী বাছাইয়ে ব্যস্ত রাজনৈতিক দলগুলো
  • বিএনপির কোন্দল নিয়ন্ত্রণ ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করাই বড় চ্যালেঞ্জ

সরকারের পক্ষ থেকে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের আশ্বাস দেওয়া হলেও বিরোধীদের প্রশ্ন, প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন কতটা হবে? নির্বাচনী প্রচারে বাধা, পোস্টার ছেঁড়ার অভিযোগ এবং নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে বিতর্ক পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে। ফলে এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুধু জনপ্রতিনিধি বেছে নেওয়ার লড়াই নয়, বরং রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা, সরকারের নিরপেক্ষতা এবং নির্বাচন কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতারও পরীক্ষা হয়ে উঠছে।

একক প্রার্থী নিয়ে বিএনপির কঠোর অবস্থান
বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে চেয়ারম্যান, মেম্বার ও অন্যান্য পদে সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় গঠন করা হয়েছে চার সদস্যের বিশেষ কমিটি। কমিটিতে রয়েছেন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ও মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ এবং বিশেষ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন মৃধা। নির্বাচন ঘনিয়ে এলে কমিটির পরিধি বাড়ানো হতে পারে।

প্রার্থীদের গ্রহণযোগ্যতা যাচাইয়ে জীবনবৃত্তান্ত সংগ্রহ, গোপন জরিপ এবং তৃণমূলের মতামত নেওয়ার উদ্যোগও চলছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় জানিয়েছেন, তাঁর এলাকায় সম্ভাব্য প্রার্থীদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে, যাতে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী প্রার্থী নির্ধারণ করা যায়। তাঁর দাবি, একই এলাকায় একাধিক প্রার্থী রাখবে না দল।

সিরাজগঞ্জে ৮৩টি ইউনিয়নে তিন সদস্যের মনিটরিং কমিটি গঠন করেছে জেলা বিএনপি। জেলা সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু জানিয়েছেন, এসব কমিটি সম্ভাব্য প্রার্থীদের অবস্থান যাচাই করে কেন্দ্রকে তথ্য দেবে। কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কেউ প্রার্থী হলে তাঁকে সমর্থন না দেওয়ার পাশাপাশি সাংগঠনিক ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে।

তবে প্রশ্ন উঠেছে, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় নেতাদের সবাইকে সন্তুষ্ট রেখে একক প্রার্থী নিশ্চিত করা কতটা সম্ভব হবে। কেন্দ্রের মনোনয়ন বা সমর্থন না পেয়ে কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হলে দলীয় সমর্থকদের মধ্যে বিরোধ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

বিরোধীদের শঙ্কা, ভোটের মাঠে উত্তাপ বাড়তে পারে
বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিরোধকে সম্ভাব্য সংঘাতের কারণ হিসেবে দেখছে বিরোধী দলগুলো। তাদের আশঙ্কা, স্থানীয় পর্যায়ে আধিপত্য ও প্রার্থী হওয়ার প্রতিযোগিতা থেকেই সহিংসতার সূত্রপাত হতে পারে। একই সঙ্গে প্রতিপক্ষের প্রচার বাধাগ্রস্ত হলে কিংবা প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলে নির্বাচনী পরিবেশ আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সম্ভাব্য প্রার্থী শেখ ফজলুল করীম মারুফ জানিয়েছেন, সিটি করপোরেশনগুলোর পাশাপাশি ওয়ার্ড পর্যায়েও প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। তাঁর অভিযোগ, কিছু এলাকায় তাঁদের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে এবং এ ঘটনায় বিএনপি ও জামায়াতের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগগুলোর স্বাধীন যাচাই অবশ্য প্রয়োজন।

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানও স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা সামনে এনেছেন। জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের শরিক বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমীনের আশঙ্কা, ক্ষমতাসীন দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধই নির্বাচনী সংঘাতের কারণ হতে পারে। এসব বক্তব্যে বিরোধীদের মূল উদ্বেগ স্পষ্ট—নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকলেই সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা নিশ্চিত হয় না; প্রতিদ্বন্দ্বীদের নিরাপত্তা, প্রচারের স্বাধীনতা এবং ভোটারদের নির্ভয়ে ভোট দেওয়ার পরিবেশও থাকতে হয়।

প্রতীক নেই, কিন্তু দলীয় প্রভাব থাকছেই
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ব্যবহারের ব্যবস্থা বাতিল করা হয়। এর ফলে আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থীরা দলীয় প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না। তবে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থী বাছাই ও সমর্থনের প্রস্তুতি বলছে, প্রতীক বাদ পড়লেও দলীয় প্রভাব নির্বাচনের বাইরে থাকছে না।

বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), গণঅধিকার পরিষদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণসংহতি আন্দোলন, নাগরিক ঐক্য ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসসহ বিভিন্ন দল নিজেদের প্রার্থী প্রস্তুত করছে। জামায়াত, এনসিপি ও ইসলামী আন্দোলন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে প্রার্থীও ঘোষণা করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিএনপির রাজনৈতিক মিত্রদের মধ্যেও স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে পুরোপুরি অভিন্ন অবস্থান তৈরি হয়নি। বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ জানিয়েছেন, নির্বাচনে বিএনপির সঙ্গে যৌথভাবে নাকি আলাদাভাবে অংশ নেওয়া হবে, সে বিষয়ে আলোচনা বাকি রয়েছে। গণঅধিকার পরিষদ অবশ্য নিজস্ব অবস্থান থেকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে। এতে জাতীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক সমঝোতা স্থানীয় নির্বাচনে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। একই জোটে থাকা দলগুলোর মধ্যে স্থানীয় আসন ও প্রার্থী নিয়ে প্রতিযোগিতা দেখা দিলে নির্বাচনী সমীকরণ আরও জটিল হতে পারে।

সরকারের আশ্বাস, নজরদারিতে বাস্তব পদক্ষেপ
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, নির্বাচনে সরকার কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করবে না। ভোটাররা স্বাধীনভাবে পছন্দের প্রার্থীকে নির্বাচিত করতে পারবেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর অবস্থানে থাকবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের দলীয় পরিচয়ের কারণে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানিয়েছেন সরকারের এই প্রতিনিধি। তবে রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির চেয়ে বাস্তব পদক্ষেপই নির্বাচনী আস্থা তৈরিতে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হবে। অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রচারে সমান সুযোগ, সংঘাতপ্রবণ এলাকায় আগাম নিরাপত্তা এবং প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকা নিশ্চিত করা না গেলে সরকারের আশ্বাস প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।

নির্বাচন কমিশনের ঘোষণায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আগামী ২১ জানুয়ারি শুরু করে পাঁচ ধাপে সম্পন্ন করার পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে। এই সময়সূচি সামনে রেখে কমিশনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে প্রতিটি এলাকায় সমান মানের নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর আস্থা অর্জন।

নির্ধারক হবে শৃঙ্খলা ও নিরপেক্ষতা
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে স্পষ্ট দুটি প্রবণতা হলো—প্রার্থী বাছাইয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর তৎপরতা এবং নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে বাড়তে থাকা উদ্বেগ। বিএনপি একক প্রার্থী নিশ্চিত করতে পারবে কি না, কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত তৃণমূলে কতটা কার্যকর হবে এবং বিরোধীরা কতটা বাধাহীনভাবে প্রচার চালাতে পারবে, তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে।

নির্বাচন সুষ্ঠু করতে হলে বিএনপিসহ সব দলকে নিজেদের অভ্যন্তরীণ বিরোধ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। একই সঙ্গে সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে প্রমাণ করতে হবে, প্রতিদ্বন্দ্বী কোনো পক্ষই প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে না। কারণ, দলীয় প্রতীক না থাকলেই নির্বাচন সংঘাতমুক্ত হয় না। বরং স্থানীয় নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা, ব্যক্তিগত প্রভাব ও দলীয় সমর্থনের লড়াই নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে প্রতীকহীন নির্বাচনেও সংঘাত ছড়িয়ে পড়তে পারে। শেষ পর্যন্ত এই নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নির্ধারিত হবে রাজনৈতিক দলগুলোর শৃঙ্খলা, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা এবং ভোটারদের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার বাস্তব সুযোগ দিয়ে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমকে

সবার জন্য স্বাস্থ্য’ নিশ্চিতে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান জুবাইদার

কূটনৈতিক প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৩৫ অপরাহ্ণ
সবার জন্য স্বাস্থ্য’ নিশ্চিতে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান জুবাইদার

বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা, স্বাস্থ্য গবেষণা, মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য এবং আধুনিক চিকিৎসা অবকাঠামো উন্নয়নে জাপানের সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনকে সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) জাপানের টোকিওতে ফাউন্ডেশন আয়োজিত স্বাস্থ্যবিষয়ক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, বর্তমান সরকার স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ নীতিগত অগ্রাধিকার দিয়েছে। সবার জন্য সাশ্রয়ী চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা, সরকারি স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন, স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বাড়াতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ডসহ পরিবারভিত্তিক সামাজিক সহায়তা কর্মসূচির মাধ্যমে মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকার কাজ করছে।

নিজের পেশাগত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় দুই দেশের অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে স্বাস্থ্য ও সামাজিক খাতের উদীয়মান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব।

শিশুদের সুস্থ ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের সম্ভাবনার পূর্ণ বিকাশে টেকসই সামাজিক কাঠামো, মানসম্মত শিক্ষা এবং দারিদ্র্য ও ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বিশ্বব্যাপী আন্তঃসংযোগের এ সময়ে স্বাস্থ্য কূটনীতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে উল্লেখ করে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ অর্জনে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্যের উন্নয়নে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ও জনকল্যাণমূলক ফাউন্ডেশনগুলোর অবদানও গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক স্বাস্থ্যনীতি বাস্তবায়ন ও আধুনিক চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।

সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের শিশু ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় পরিচালিত কার্যক্রমের প্রশংসা করে তিনি বাংলাদেশে ফাউন্ডেশনটির কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের অনুরোধ জানান। স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও টেকসই সেবা নিশ্চিত করতে ফাউন্ডেশনকে সব ধরনের সহযোগিতা দিতে বাংলাদেশ সরকার প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।

সেমিনারে নিপ্পন ফাউন্ডেশন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের অনারারি চেয়ারম্যান ইয়োহেই সাসাকাওয়াসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি