খুঁজুন
                               
, ,
           

সেনাপ্রধানের চীন সফর, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে এবার সামরিক কূটনীতিতে বাংলাদেশ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ৯ নভেম্বর, ২০১৯, ৬:৪৭ পূর্বাহ্ণ
সেনাপ্রধানের চীন সফর, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে এবার সামরিক কূটনীতিতে বাংলাদেশ

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো :

দীর্ঘদিনের রোহিঙ্গা সংকট ‘দ্বিপক্ষীয় সমাধানে’ বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি চীনের পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস আদায় করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই গতিধারায় মায়ানমার থেকে জোরপূর্বক নির্বাসিত ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে সেখানে ফিরিয়ে নিতে এবার সামরিক কূটনীতির পথে হেঁটেছে বাংলাদেশ সরকার।

আরও পড়ুনঃ সেনাপ্রধানের চীন সফর, বাংলাদেশ-চীন সেনাবাহিনীর সম্পর্ক নতুন উচ্চতায়

ফলে প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের চার মাসের মাথায় মায়ানমারের এ শক্তিধর মিত্র দেশের সামরিক নীতি নির্ধারকদের সঙ্গে আলোচনায় রোহিঙ্গা সংকটের আদ্যোপান্ত সুনিপুণভাবে তুলে ধরেছেন দেশটিতে সফরত বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ।

কূটনৈতিক তৎপরতায় সাহসী ও অভিজ্ঞ প্রধানমন্ত্রীর গাইডলাইনে সেনাপ্রধান চীনের সামরিক শীর্ষ ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠকে এ বিষয়ে মতৈক্যে পৌঁছেন।

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বেসামরিক কূটনীতির পাশাপাশি সফল সামরিক কূটনৈতিক তৎপরতায় বাংলাদেশ সরকার আরও একধাপ এগিয়ে গেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

আরও পড়ুন: রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে জেনারেল আজিজ-উয়েই ফেং’র বৈঠক, চীনের ‘গুড উইল’ কামনা

তাঁরা বলছেন, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনে একমাত্র চীনই যে প্রভাবকের ভূমিকা পালন করতে পারে এ বিষয়টি সামরিক নীতি নির্ধারকদের কাছে জোরালোভাবে উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছেন সেনাপ্রধান।

এসবের পাশাপাশি নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের অভিমত হচ্ছে, সেনাপ্রধানের এ সফর বন্ধুপ্রতীম বাংলাদেশ এবং চীনের মৈত্রী বন্ধন আরও সুদৃঢ় করবে। ঢাকা-বেইজিং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নেও যোগ হবে নতুন মাত্রা। নিবিড় হবে দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কও। ফলে তাঁরা সেনাপ্রধানের এ সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন।

জানা যায়, দুই বছর আগে মায়ানমার থেকে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের গণবাস্তুচ্যুতি ও মানবতার চরম বিপর্যয়ের পর চলতি বছরের জুলাই মাসের প্রথম দিকে চীন সফর করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই সফরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং থেকে শুরু করে শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সঙ্গে তিনি ফলপ্রসু আলোচনা করেন।

ওই  সময় মায়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশকে আলোচনার মাধ্যমেই এ সঙ্কট সমাধান করতে বলার পাশাপাশি প্রয়োজনে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস আদায় করে বড় রকমের কূটনৈতিক সাফল্য অর্জন করেন প্রধানমন্ত্রী।

এরপর রোহিঙ্গা ইস্যুতে মায়ানমারের ওপর চীনের চাপ বাড়াতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় ‘নীরব দূতিয়ালী’ বা সাইলেন্ট ডিপ্লোমেসির মোড়কে কাজ শুরু করে বাংলাদেশ।

আরও জানা যায়, মায়ানমারে এনএলডির নেতৃত্বাধীন বেসামরিক সরকার ক্ষমতায় থাকলেও দেশটির সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ হিসেবে কাজ করা ১১ সদস্যের জাতীয় প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা পরিষদে সেনাবাহিনীর আধিপত্য সুপ্রিতিষ্ঠিত।

সেনাবাহিনী ও তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন মন্ত্রণালয়গুলো প্রত্যক্ষভাবে সেখানকার রোহিঙ্গা এলাকায় সহিংসতা মোকাবিলায় যুক্ত থাকায় সেখানে রাজনৈতিক সরকারের চেয়ে তাদের সেনাপ্রধানের মনোভাবই প্রাধান্য পায়। এমনকি রোহিঙ্গা সমস্যার দ্রুত ও কার্যকর সমাধানও তাদের ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপরই নির্ভর করে।

সূত্র মতে, চলমান এমন বাস্তবতায় প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া সমাধান সূত্রের আলোকে ষ্ট্রাটেজি ঠিক করে সামরিক কূটনীতির পথে হাঁটতে শুরু করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

রোহিঙ্গাদের মায়ানমারে ফিরে যাওয়ার মতো পরিবেশ সৃষ্টিতে তাদের সম্মত করতে একমাত্র চীনই সক্রিয় ইতিবাচক ভূমিকা রাখার অধিকারী হওয়ায় মহাপরাক্রমশালী দেশটিতে সফরে গিয়ে তাদের সামরিক নীতি নির্ধারকদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ।

গত সোমবার (০৪ নভেম্বর) থেকে বৃহস্পতিবার (০৭ নভেম্বর) পর্যন্ত চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী উয়েই ফেং, পিপলস্ লিবারেশন আর্মি গ্রাউন্ড ফোর্স এর কমান্ডার জেনারেল হান উয়েগো, চীন অলিম্পিক এসোসিয়েশনের কর্ণধার ও চীনের ডিফেন্স ইন্ডাষ্ট্রিজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে তাঁর বৈঠকে জ্বলন্ত রোহিঙ্গা ইস্যুটিই সর্বোচ্চ প্রাধান্য পায়।

চীনের শীর্ষস্থানীয় সামরিক নেতৃত্বের কাছে লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে সম্পূর্ণ মানবিক কারণে বাংলাদেশের আশ্রয় প্রদানের পর সাম্প্রতিক সময়ে যে মানবিক বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছে এ বিষয়টিও তিনি জোরালোভাবে উপস্থাপন করেন।

‘বাংলাদেশ বর্তমানে ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে, যা দেশের জন্য পরিবেশ ও নিরাপত্তার দিক থেকে একটি বড় চ্যালেঞ্জ’ প্রায় চার মাস আগে চীনের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ বক্তব্যটিও তাদের সামনে তুলে ধরেন।

সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ চীনের সামরিক বাহিনীর নীতি নির্ধারকদের মাধ্যমে মায়ানমারের সেনা নায়কদের এ বিষয়টি বোঝানোর অনুরোধ করেন। দীর্ঘায়িত রোহিঙ্গা সমস্যা দ্রুত সমাধানের বিষয়ে তাঁরা সেনাপ্রধানের বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাংলাদেশ-চীনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক প্রাচীন। ইতিহাসের মহানায়ক জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাত ধরে যে সম্পর্কের সূচনা হয়েছিল সেই ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে তাঁর জ্যেষ্ঠ কন্যা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়েও।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও কৃষি, বিনিয়োগ এবং শিল্প-বাণিজ্যে মহাচীনের সঙ্গে এ সম্পর্কের ক্রমশ বিস্তার ঘটছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বংলাদেশের ভূরাজনৈতিক, ভূকৌশলগত ও ভূ-অর্থনৈতিক অবস্থান আঞ্চলিক কৌশলগত ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশে রূপ দিয়েছে। বৈশ্বিক কৌশলগত ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের স্থান বেশ গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ার সংযোগ-সেতু হিসেবে বিবেচিত।

কিন্তু রোহিঙ্গা সংকটকে ঘিরে বাংলাদেশ ও মায়ানমারের মধ্যে দফায় দফায় আলোচনা এবং মায়ানমারের শেষ মুহুর্তে বেঁকে বসায় প্রত্যাবাসন ভেস্তে যাওয়ায় দু’দেশের সম্পর্ক এখন শীতল অবস্থায় রয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে সামরিক কূটনীতিতেও এ সংকটের সম্ভাব্য সমাধান খুঁজছে বাংলাদেশ।

ফলে নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা সেনাপ্রধানের চীন সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ অভিহিত করে বলছেন, বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি জেনারেল আজিজ আহমেদের প্রথম চীন সফর।

যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, সৌদি আরব, তুরস্ক ও ইন্দোনেশিয়া সফরের মতোই তাঁর এ চীন সফরে কাঙ্খিত প্রত্যাশার পাশাপাশি অর্জনও রয়েছে।

রাজনৈতিক কূটনীতির মতোই সামরিক কূটনীতিতে রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে চীনের সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে যেমন ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে তেমনি প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ক আরও বেগবান হওয়ার পাশাপাশি বন্ধুত্বপূর্ণ এ দেশটির সঙ্গে পারস্পরিক বিশ্বাসকে আরও শক্তিশালী করবে।

দুই জাতির সাধারণ বিশ্বাস, মূল্যবোধ এবং প্রকৃত মৈত্রীর চেতনারও মূর্ত প্রকাশ ঘটবে।

জানতে চাইলে নিরাপত্তা বিশ্লেষক মুবিন এস খান কালের আলোকে বলেন, ‘গত কয়েক বছর ধরেই প্রতিবেশী দুই শক্তিশালী রাষ্ট্র ভারত ও চীনের সঙ্গে একই সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রেখে চলেছে বাংলাদেশ। এরই মধ্যে রোহিঙ্গা সংকট ক্রমশ জটিল আকার নিয়েছে।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ চীনের জোরালো ভূমিকা প্রত্যাশা করছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চীন সফরে তাকে এ বিষয়ে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা নিজ দেশ মিয়ানমারে ফিরবে কীনা এটি নির্ধারণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে চীন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার মাধ্যমে সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন করতে পারে।’  

তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে সামরিক সরঞ্জাম কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ ঐতিহ্যগতভাবেই চীনা সামরিক অস্ত্রের উপর অনেক নির্ভর করে। ফলে বৃহৎ দু’ দেশের সঙ্গে সম্পর্কের ‘ভারসাম্য’ রক্ষায় সেনাপ্রধানের চীন সফর নতুন মাত্রা নেবে’, যোগ করেন এ নিরাপত্তা বিশ্লেষক।

সূত্র মতে, সামরিক কূটনীতিতে ইতোপূর্বেও সফলতার মুখ দেখেছিলেন বর্তমান সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ। ২০১৪ সালের মে মাসে মায়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) গুলিতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্য নায়েক মিজানুর রহমান নিহত হওয়ার পর দুই দেশের সীমান্তে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়।

পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে মায়ানমার বর্ডার গার্ড পুলিশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেন ওই সময়কার বিজিবি মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ। তিনি ওই বছরের জুন মাসে মায়ানমারের রাজধানী নেপিডোতে বিজিবি ও মিয়ানমার পুলিশ ফোর্সের (এমপিএফ) প্রধানদের বৈঠকে বাংলাদেশের ৮ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন।

মিয়ানমার পুলিশ ফোর্সের (এমপিএফ) সঙ্গে বিজিবির এটি ছিল প্রথম বৈঠক। সেই বৈঠক দুই দেশের সীমান্ত বাহিনীর সম্পর্ক উন্নয়নে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়। তৎকালীন বিজিবি মহাপরিচালকের ওই সফরের মধ্যে দিয়ে স্থল সীমান্ত চুক্তি মেনে নিয়ে দীর্ঘদিন একযোগে কাজ করে বিজিবি ও বিজিপি।

এতে করে স্বস্তি ফিরে আসে মায়ানমারের সাথে বাংলাদেশের ২৬১ কিলোমিটার সীমান্তভূমিতে। ওই বৈঠকের  সূত্র ধরেই এরপর বাংলাদেশের সঙ্গে সুপ্রতিবেশীসুলভ আচরণের বহি:প্রকাশ ঘটায় মায়ানমার।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রোহিঙ্গা ইস্যুতে সামরিক শীর্ষ ব্যক্তিদের সঙ্গে সেনাপ্রধানের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে চীনের জোর সমর্থনের পাশাপাশি কাউন্টার টেরোরিজম, সাইবার সিকিউরিটিসহ নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় উন্নত প্রশিক্ষন সহায়তা, দুই দেশের বিশেষ বাহিনীর সদস্যদের যৌথ অনুশীলন, চিকিৎসা ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর চিকিৎসকদের বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ, সেনা সদস্যদের বিনা খরচে উন্নত চিকিৎসা সেবা প্রদানের বিষয়েও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়।

কালের আলো/কেটিআইবি/এমএএএমকে

বার কাউন্সিলের মতো সাংবাদিক নিবন্ধনের ব্যবস্থা হচ্ছে: তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ১২:৪৪ অপরাহ্ণ
বার কাউন্সিলের মতো সাংবাদিক নিবন্ধনের ব্যবস্থা হচ্ছে: তথ্যমন্ত্রী

১৯৭৪ সালের প্রেস কাউন্সিল আইন যুগোপযোগী করে প্রেস কাউন্সিলকে অধিকতর তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন শক্তিশালী, কার্যকর ও গণমাধ্যমবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের জন্য আইন সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি জানান, এই সংশোধনীতে সাংবাদিকদের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ এবং বার কাউন্সিলের মতো সাংবাদিক নিবন্ধনের ব্যবস্থা প্রস্তাব করা হবে।

বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহর প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।

তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, পেশাদারত্ব ও জবাবদিহি এবং দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মোবাইল জার্নালিজমের নামে অনুমোদনহীন, অপেশাদার বা অনৈতিক কার্যক্রম সরকার সমর্থন করে না।

তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ১৯৭৪ সালের প্রেস কাউন্সিল আইন যুগোপযোগী করে প্রেস কাউন্সিলকে অধিকতর শক্তিশালী, কার্যকর ও গণমাধ্যমবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের জন্য আইন সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই সংশোধনীতে সাংবাদিকদের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ; বার

কাউন্সিলের মতো সাংবাদিক নিবন্ধনের ব্যবস্থা; মিথ্যা, হয়রানিমূলক ও নীতিনৈতিকতাবিরোধী সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে আর্থিক জরিমানাসহ কার্যকর বিধান এবং গুজব, ভুয়া খবর, ঘৃণামূলক বক্তব্য বা জাতীয় স্বার্থবিরোধী সংবাদ প্রকাশের ঘটনায় প্রেস কাউন্সিলের স্বতঃপ্রণোদিত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষমতা অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে।

সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য সেলিনা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, পরিবর্তিত প্রযুক্তিগত পরিবেশ, ডিজিটাল সম্প্রচার ব্যবস্থার বিকাশ, অনলাইন ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মের সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য বিধানের লক্ষ্যে ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় বিজ্ঞাপন প্রচারসংক্রান্ত নীতিমালা পর্যালোচনাসহ প্রয়োজনীয় সংশোধন, পরিমার্জন ও পরিবর্ধনের বিষয়টি সরকার বিবেচনায় রেখেছে।

সংরক্ষিত আসনের সদস্য আরিফা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে জহির উদ্দিন বলেন, পডকাস্ট, ব্লগিং এবং ইনফ্লুয়েন্সারভিত্তিক ডিজিটাল কনটেন্টসমূহের বিষয়বস্তু, প্রচার ও প্রকাশের ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন, বিধিবিধান এবং নীতিমালার আওতায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়ে থাকে। ডিজিটাল মাধ্যমের দ্রুত বিকাশ, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও জনস্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে একটি যুগোপযোগী নীতিগত কাঠামো প্রণয়নের বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম-১৬ আসনের মোহাম্মদ জহিরুল ইসলামের প্রশ্নে তথ্যমন্ত্রী বলেন, নবম সংবদপত্র মজুরি বোর্ড রোয়েদারের গেজেট প্রকাশের দিন থেকে বাসসে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। সাংবাদিক ও সংবাদপত্র মালিকপক্ষের আয়কর প্রদান নিয়ে মতপার্থক্য দেখা দেয়ায়, নবম সংবদপত্র মজুরি বোর্ড পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। উচ্চ আদালতে মামলা চলমান রয়েছে।

যশোর-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোক্তার আলীর প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশে মোট ৩ হাজার ৩৩৮টি নিবন্ধিত পত্রিকা রয়েছে। এর মধ্যে দৈনিক পত্রিকা ১ হাজার ৪৩৬টি, সাপ্তাহিক পত্রিকা ১ হাজার ২৩১টি, মাসিক পত্রিকা ৪৫২টি, পাক্ষিক পত্রিকা ২১৫টি এবং অর্ধসাপ্তাহিক, দ্বিমাসিক, ত্রৈমাসিক, ষাণ্মাসিক ও বার্ষিক পত্রিকার সংখ্যা ৫৪।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

দাবি আদায়ে বৃষ্টি উপেক্ষায় ইসলামী ব্যাংক গ্রাহকদের বিক্ষোভ মিছিল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ১২:৩২ অপরাহ্ণ
দাবি আদায়ে বৃষ্টি উপেক্ষায় ইসলামী ব্যাংক গ্রাহকদের বিক্ষোভ মিছিল

টানা বৃষ্টি উপেক্ষা করে রাজধানীতে পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ মিছিল করেছেন ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকরা। ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ গঠনসহ প্রকৃত মালিকদের কাছে মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়াসহ সাত দফা দাবি আদায়ে সচেতন গ্রাহক ফোরামের ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে থেকে মিছিলটি শুরু হয়। পরে প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পল্টন মোড়ে গিয়ে কর্মসূচি শেষ করেন বিক্ষোভকারীরা।

মিছিলে অংশ নেওয়া গ্রাহকদের হাতে বিভিন্ন দাবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য দাবি ছিল, এস আলমসহ ব্যাংক লুটেরাদের বিচারের জন্য আলাদা ট্রাইব্যুনাল গঠন, ফ্যাসিস্ট আমলে বন্দুকের নলের মুখে কেড়ে নেওয়া মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়া, বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত এনে ইসলামী ব্যাংকের দায় মেটানো ও ইসলামী ব্যাংকে গ্রাহকবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা।

এ সময় বিক্ষোভকারীরা বলেন, ব্যাংকটির স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। একইসঙ্গে ব্যাংকখাতে অনিয়ম ও অর্থপাচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানান তারা।

এছাড়া, পূর্বঘোষিত সাত দফা দাবি না মানলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

দেশের ১৯ অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের আভাস, নদীবন্দরে সতর্কতা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ১২:২২ অপরাহ্ণ
দেশের ১৯ অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের আভাস, নদীবন্দরে সতর্কতা

দেশের ১৯টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সেই সঙ্গে এসব এলাকায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টিপাতেরও সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

বৃহস্পতিবার (০৯ জুলাই) বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেসার দেওয়া অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, আজ সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের উপর দিয়ে এই বৈরী আবহাওয়া অতিক্রম করতে পারে। এসব অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

ঝোড়ো আবহাওয়ার সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এবং নৌযান ও যাত্রীসাধারণের নিরাপত্তার স্বার্থে এসব এলাকার নদীবন্দরকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার নৌযানকে সাবধানে চলাচল করতে এবং পরবর্তী নির্দেশনা পর্যবেক্ষণ করতে অনুরোধ করা হয়েছে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি