খুঁজুন
                               
, ,
           

সেনাপ্রধানের চীন সফর, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে এবার সামরিক কূটনীতিতে বাংলাদেশ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ৯ নভেম্বর, ২০১৯, ৬:৪৭ পূর্বাহ্ণ
সেনাপ্রধানের চীন সফর, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে এবার সামরিক কূটনীতিতে বাংলাদেশ

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো :

দীর্ঘদিনের রোহিঙ্গা সংকট ‘দ্বিপক্ষীয় সমাধানে’ বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি চীনের পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস আদায় করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই গতিধারায় মায়ানমার থেকে জোরপূর্বক নির্বাসিত ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে সেখানে ফিরিয়ে নিতে এবার সামরিক কূটনীতির পথে হেঁটেছে বাংলাদেশ সরকার।

আরও পড়ুনঃ সেনাপ্রধানের চীন সফর, বাংলাদেশ-চীন সেনাবাহিনীর সম্পর্ক নতুন উচ্চতায়

ফলে প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের চার মাসের মাথায় মায়ানমারের এ শক্তিধর মিত্র দেশের সামরিক নীতি নির্ধারকদের সঙ্গে আলোচনায় রোহিঙ্গা সংকটের আদ্যোপান্ত সুনিপুণভাবে তুলে ধরেছেন দেশটিতে সফরত বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ।

কূটনৈতিক তৎপরতায় সাহসী ও অভিজ্ঞ প্রধানমন্ত্রীর গাইডলাইনে সেনাপ্রধান চীনের সামরিক শীর্ষ ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠকে এ বিষয়ে মতৈক্যে পৌঁছেন।

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বেসামরিক কূটনীতির পাশাপাশি সফল সামরিক কূটনৈতিক তৎপরতায় বাংলাদেশ সরকার আরও একধাপ এগিয়ে গেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

আরও পড়ুন: রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে জেনারেল আজিজ-উয়েই ফেং’র বৈঠক, চীনের ‘গুড উইল’ কামনা

তাঁরা বলছেন, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনে একমাত্র চীনই যে প্রভাবকের ভূমিকা পালন করতে পারে এ বিষয়টি সামরিক নীতি নির্ধারকদের কাছে জোরালোভাবে উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছেন সেনাপ্রধান।

এসবের পাশাপাশি নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের অভিমত হচ্ছে, সেনাপ্রধানের এ সফর বন্ধুপ্রতীম বাংলাদেশ এবং চীনের মৈত্রী বন্ধন আরও সুদৃঢ় করবে। ঢাকা-বেইজিং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নেও যোগ হবে নতুন মাত্রা। নিবিড় হবে দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কও। ফলে তাঁরা সেনাপ্রধানের এ সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন।

জানা যায়, দুই বছর আগে মায়ানমার থেকে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের গণবাস্তুচ্যুতি ও মানবতার চরম বিপর্যয়ের পর চলতি বছরের জুলাই মাসের প্রথম দিকে চীন সফর করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই সফরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং থেকে শুরু করে শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সঙ্গে তিনি ফলপ্রসু আলোচনা করেন।

ওই  সময় মায়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশকে আলোচনার মাধ্যমেই এ সঙ্কট সমাধান করতে বলার পাশাপাশি প্রয়োজনে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস আদায় করে বড় রকমের কূটনৈতিক সাফল্য অর্জন করেন প্রধানমন্ত্রী।

এরপর রোহিঙ্গা ইস্যুতে মায়ানমারের ওপর চীনের চাপ বাড়াতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় ‘নীরব দূতিয়ালী’ বা সাইলেন্ট ডিপ্লোমেসির মোড়কে কাজ শুরু করে বাংলাদেশ।

আরও জানা যায়, মায়ানমারে এনএলডির নেতৃত্বাধীন বেসামরিক সরকার ক্ষমতায় থাকলেও দেশটির সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ হিসেবে কাজ করা ১১ সদস্যের জাতীয় প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা পরিষদে সেনাবাহিনীর আধিপত্য সুপ্রিতিষ্ঠিত।

সেনাবাহিনী ও তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন মন্ত্রণালয়গুলো প্রত্যক্ষভাবে সেখানকার রোহিঙ্গা এলাকায় সহিংসতা মোকাবিলায় যুক্ত থাকায় সেখানে রাজনৈতিক সরকারের চেয়ে তাদের সেনাপ্রধানের মনোভাবই প্রাধান্য পায়। এমনকি রোহিঙ্গা সমস্যার দ্রুত ও কার্যকর সমাধানও তাদের ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপরই নির্ভর করে।

সূত্র মতে, চলমান এমন বাস্তবতায় প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া সমাধান সূত্রের আলোকে ষ্ট্রাটেজি ঠিক করে সামরিক কূটনীতির পথে হাঁটতে শুরু করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

রোহিঙ্গাদের মায়ানমারে ফিরে যাওয়ার মতো পরিবেশ সৃষ্টিতে তাদের সম্মত করতে একমাত্র চীনই সক্রিয় ইতিবাচক ভূমিকা রাখার অধিকারী হওয়ায় মহাপরাক্রমশালী দেশটিতে সফরে গিয়ে তাদের সামরিক নীতি নির্ধারকদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ।

গত সোমবার (০৪ নভেম্বর) থেকে বৃহস্পতিবার (০৭ নভেম্বর) পর্যন্ত চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী উয়েই ফেং, পিপলস্ লিবারেশন আর্মি গ্রাউন্ড ফোর্স এর কমান্ডার জেনারেল হান উয়েগো, চীন অলিম্পিক এসোসিয়েশনের কর্ণধার ও চীনের ডিফেন্স ইন্ডাষ্ট্রিজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে তাঁর বৈঠকে জ্বলন্ত রোহিঙ্গা ইস্যুটিই সর্বোচ্চ প্রাধান্য পায়।

চীনের শীর্ষস্থানীয় সামরিক নেতৃত্বের কাছে লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে সম্পূর্ণ মানবিক কারণে বাংলাদেশের আশ্রয় প্রদানের পর সাম্প্রতিক সময়ে যে মানবিক বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছে এ বিষয়টিও তিনি জোরালোভাবে উপস্থাপন করেন।

‘বাংলাদেশ বর্তমানে ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে, যা দেশের জন্য পরিবেশ ও নিরাপত্তার দিক থেকে একটি বড় চ্যালেঞ্জ’ প্রায় চার মাস আগে চীনের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ বক্তব্যটিও তাদের সামনে তুলে ধরেন।

সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ চীনের সামরিক বাহিনীর নীতি নির্ধারকদের মাধ্যমে মায়ানমারের সেনা নায়কদের এ বিষয়টি বোঝানোর অনুরোধ করেন। দীর্ঘায়িত রোহিঙ্গা সমস্যা দ্রুত সমাধানের বিষয়ে তাঁরা সেনাপ্রধানের বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাংলাদেশ-চীনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক প্রাচীন। ইতিহাসের মহানায়ক জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাত ধরে যে সম্পর্কের সূচনা হয়েছিল সেই ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে তাঁর জ্যেষ্ঠ কন্যা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়েও।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও কৃষি, বিনিয়োগ এবং শিল্প-বাণিজ্যে মহাচীনের সঙ্গে এ সম্পর্কের ক্রমশ বিস্তার ঘটছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বংলাদেশের ভূরাজনৈতিক, ভূকৌশলগত ও ভূ-অর্থনৈতিক অবস্থান আঞ্চলিক কৌশলগত ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশে রূপ দিয়েছে। বৈশ্বিক কৌশলগত ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের স্থান বেশ গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ার সংযোগ-সেতু হিসেবে বিবেচিত।

কিন্তু রোহিঙ্গা সংকটকে ঘিরে বাংলাদেশ ও মায়ানমারের মধ্যে দফায় দফায় আলোচনা এবং মায়ানমারের শেষ মুহুর্তে বেঁকে বসায় প্রত্যাবাসন ভেস্তে যাওয়ায় দু’দেশের সম্পর্ক এখন শীতল অবস্থায় রয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে সামরিক কূটনীতিতেও এ সংকটের সম্ভাব্য সমাধান খুঁজছে বাংলাদেশ।

ফলে নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা সেনাপ্রধানের চীন সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ অভিহিত করে বলছেন, বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি জেনারেল আজিজ আহমেদের প্রথম চীন সফর।

যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, সৌদি আরব, তুরস্ক ও ইন্দোনেশিয়া সফরের মতোই তাঁর এ চীন সফরে কাঙ্খিত প্রত্যাশার পাশাপাশি অর্জনও রয়েছে।

রাজনৈতিক কূটনীতির মতোই সামরিক কূটনীতিতে রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে চীনের সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে যেমন ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে তেমনি প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ক আরও বেগবান হওয়ার পাশাপাশি বন্ধুত্বপূর্ণ এ দেশটির সঙ্গে পারস্পরিক বিশ্বাসকে আরও শক্তিশালী করবে।

দুই জাতির সাধারণ বিশ্বাস, মূল্যবোধ এবং প্রকৃত মৈত্রীর চেতনারও মূর্ত প্রকাশ ঘটবে।

জানতে চাইলে নিরাপত্তা বিশ্লেষক মুবিন এস খান কালের আলোকে বলেন, ‘গত কয়েক বছর ধরেই প্রতিবেশী দুই শক্তিশালী রাষ্ট্র ভারত ও চীনের সঙ্গে একই সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রেখে চলেছে বাংলাদেশ। এরই মধ্যে রোহিঙ্গা সংকট ক্রমশ জটিল আকার নিয়েছে।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ চীনের জোরালো ভূমিকা প্রত্যাশা করছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চীন সফরে তাকে এ বিষয়ে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা নিজ দেশ মিয়ানমারে ফিরবে কীনা এটি নির্ধারণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে চীন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার মাধ্যমে সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন করতে পারে।’  

তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে সামরিক সরঞ্জাম কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ ঐতিহ্যগতভাবেই চীনা সামরিক অস্ত্রের উপর অনেক নির্ভর করে। ফলে বৃহৎ দু’ দেশের সঙ্গে সম্পর্কের ‘ভারসাম্য’ রক্ষায় সেনাপ্রধানের চীন সফর নতুন মাত্রা নেবে’, যোগ করেন এ নিরাপত্তা বিশ্লেষক।

সূত্র মতে, সামরিক কূটনীতিতে ইতোপূর্বেও সফলতার মুখ দেখেছিলেন বর্তমান সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ। ২০১৪ সালের মে মাসে মায়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) গুলিতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্য নায়েক মিজানুর রহমান নিহত হওয়ার পর দুই দেশের সীমান্তে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়।

পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে মায়ানমার বর্ডার গার্ড পুলিশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেন ওই সময়কার বিজিবি মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ। তিনি ওই বছরের জুন মাসে মায়ানমারের রাজধানী নেপিডোতে বিজিবি ও মিয়ানমার পুলিশ ফোর্সের (এমপিএফ) প্রধানদের বৈঠকে বাংলাদেশের ৮ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন।

মিয়ানমার পুলিশ ফোর্সের (এমপিএফ) সঙ্গে বিজিবির এটি ছিল প্রথম বৈঠক। সেই বৈঠক দুই দেশের সীমান্ত বাহিনীর সম্পর্ক উন্নয়নে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়। তৎকালীন বিজিবি মহাপরিচালকের ওই সফরের মধ্যে দিয়ে স্থল সীমান্ত চুক্তি মেনে নিয়ে দীর্ঘদিন একযোগে কাজ করে বিজিবি ও বিজিপি।

এতে করে স্বস্তি ফিরে আসে মায়ানমারের সাথে বাংলাদেশের ২৬১ কিলোমিটার সীমান্তভূমিতে। ওই বৈঠকের  সূত্র ধরেই এরপর বাংলাদেশের সঙ্গে সুপ্রতিবেশীসুলভ আচরণের বহি:প্রকাশ ঘটায় মায়ানমার।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রোহিঙ্গা ইস্যুতে সামরিক শীর্ষ ব্যক্তিদের সঙ্গে সেনাপ্রধানের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে চীনের জোর সমর্থনের পাশাপাশি কাউন্টার টেরোরিজম, সাইবার সিকিউরিটিসহ নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় উন্নত প্রশিক্ষন সহায়তা, দুই দেশের বিশেষ বাহিনীর সদস্যদের যৌথ অনুশীলন, চিকিৎসা ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর চিকিৎসকদের বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ, সেনা সদস্যদের বিনা খরচে উন্নত চিকিৎসা সেবা প্রদানের বিষয়েও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়।

কালের আলো/কেটিআইবি/এমএএএমকে

‘শিল্পের দুনিয়ায় হারিয়ে যাওয়া’, মাদ্রিদে সুনেরাহ্

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:১৬ অপরাহ্ণ
‘শিল্পের দুনিয়ায় হারিয়ে যাওয়া’, মাদ্রিদে সুনেরাহ্

অভিনেত্রী সুনেরাহ্ বিনতে কামাল ভ্রমণ করতে ভালোবাসেন। কাজের ব্যস্ততার ফাঁকে সুযোগ পেলেই ঘুরে বেড়ান দেশের বাইরে। এবার স্পেনের মাদ্রিদে গিয়ে ইউরোপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্প জাদুঘর মুসেও দেল প্রাদোতে সময় কাটানোর ছবি প্রকাশ করেছেন তিনি।

শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিজের ফেসবুক পেজে একগুচ্ছ ছবি পোস্ট করেন সুনেরাহ্। ছবিগুলোর সঙ্গে অভিনেত্রী লিখেছেন, ‘শিল্পের দুনিয়ায় হারিয়ে যাওয়া।’

ছবি<<সংগৃহীত

সুনেরাহ্র প্রকাশ করা ছবিগুলো স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে তোলা। ছবিতে তাঁকে প্রাদো জাদুঘরের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখতে এবং শিল্পকর্ম উপভোগ করতে দেখা গেছে।

মুসেও দেল প্রাদো স্পেনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্প জাদুঘর। বিশেষ করে স্প্যানিশ চিত্রকলার ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে এই জাদুঘরকে ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ সংগ্রহশালাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

ছবি<<সংগৃহীত

জাদুঘর ঘোরার নানা মুহূর্তের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুসারীদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন সুনেরাহ্। কোথাও তাঁকে শিল্পকর্মের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে, আবার কোথাও জাদুঘরের পরিবেশ উপভোগ করতে দেখা গেছে।

ছবি<<সংগৃহীত

চলতি মাসের শুরু থেকেই ইউরোপে অবস্থান করছেন সুনেরাহ্। মূলত ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিতে তিনি ইউরোপে যান।

এবারের ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার প্রিমিয়ার হয়েছে। সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন সুনেরাহ্ বিনতে কামাল।

ছবি<<সংগৃহীত

ভেনিসের আনুষ্ঠানিকতা শেষে এবার মাদ্রিদে ঘুরে বেড়ানোর মুহূর্তগুলোও ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছেন এই অভিনেত্রী। ভ্রমণের পাশাপাশি শিল্প ও সংস্কৃতির সঙ্গে সময় কাটানোর এসব ছবি এরই মধ্যে তাঁর অনুসারীদের নজর কেড়েছে।

সুনেরাহ পোস্ট করা ছবিগুলোতে তাঁর ইউরোপ ভ্রমণের অন্যরকম এক দিকও ফুটে উঠেছে—শুধু পর্যটন নয়, শিল্প ও ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো ঘুরে দেখতেও আগ্রহী এই অভিনেত্রী।

কালের আলো/এসএ

পারমাণবিক প্রযুক্তি ও নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের নতুন চুক্তি

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:০৫ অপরাহ্ণ
পারমাণবিক প্রযুক্তি ও নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের নতুন চুক্তি

বেসামরিক পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি কৌশলগত সহযোগিতা চুক্তি সই করেছে বাংলাদেশ।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এ চুক্তি সই হয়। বাংলাদেশের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসাদ এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে দেশটির অর্থনীতিবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জ্যাকব হেলবার্গ চুক্তিতে সই করেন।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিএনপির মিডিয়া সেলের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়।

চুক্তির আওতায় দুই দেশের মধ্যে পারমাণবিক প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক জ্ঞান বিনিময়ের সুযোগ বাড়বে। পাশাপাশি পারমাণবিক নিরাপত্তা এবং বেসামরিক জ্বালানি খাতেও সহযোগিতার পরিধি বিস্তৃত হবে।

বিএনপির মিডিয়া সেল জানিয়েছে, ১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে শুরু হওয়া বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক সহযোগিতা উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় নতুন এ চুক্তি সই হয়েছে।

বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা পূরণে পারমাণবিক শক্তিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মাধ্যমে দেশে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের অবকাঠামো গড়ে উঠছে।

নতুন চুক্তির ফলে পারমাণবিক প্রযুক্তি, নিরাপত্তা, বৈজ্ঞানিক জ্ঞান এবং বেসামরিক জ্বালানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে ঢাকা ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

কালের আলো/এমএসআইপি 

কাগজের দিন শেষ, চট্টগ্রাম বন্দরের ডিজিটাল রূপান্তর

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:০২ অপরাহ্ণ
কাগজের দিন শেষ, চট্টগ্রাম  বন্দরের ডিজিটাল রূপান্তর

একটি বন্দরের সক্ষমতা শুধু জাহাজ ভেড়ানো কিংবা পণ্য ওঠানামায় মাপা হয় না; কত দ্রুত, স্বচ্ছ ও নির্বিঘ্নে সেই সেবা মানুষের কাছে পৌঁছায়, তার ওপরও নির্ভর করে বন্দরটির কার্যকারিতা। সেই জায়গাতেই বড় পরিবর্তনের পথে এগোচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দর। কাগজের ফাইল, কাউন্টারের অপেক্ষা ও ম্যানুয়াল অনুমোদনের দীর্ঘ প্রক্রিয়াকে পেছনে ফেলে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরকে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে পুরোপুরি পেপারলেস ও ‘স্মার্ট পোর্টে’ রূপান্তরের লক্ষ্য নিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (চবক)।

  • চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামানের উদ্যোগে সমন্বিত অটোমেশন
  • ডিসেম্বরের মধ্যে স্মার্ট পোর্টে রূপান্তরের লক্ষ্য
  • এক প্ল্যাটফর্মে বিল, পেমেন্ট, ডেলিভারি ও গেট ব্যবস্থাপনা
  • কমবে সময়, কাগজ ও শারীরিক উপস্থিতি

এই রূপান্তরের কেন্দ্রে রয়েছে একটি সমন্বিত ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা—যেখানে বিল পরিশোধ থেকে পণ্য ডেলিভারি, গেট পাস থেকে জাহাজের অনুমোদন এবং ট্রাকের প্রবেশ থেকে পার্কিং পর্যন্ত সেবার বড় অংশই পরিচালিত হবে অনলাইনে। চবক চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামানের দক্ষ নেতৃত্ব ও কার্যকর ধারাবাহিক উদ্যোগে ইতোমধ্যে বেশ কিছু সেবা ডিজিটাল কাঠামোয় এসেছে। এখন লক্ষ্য সেগুলোকে একটি পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন ব্যবস্থায় যুক্ত করা।

কাউন্টার ছাড়াই বন্দরের সেবা
চট্টগ্রাম বন্দরের শতভাগ বিল ইতোমধ্যে অনলাইনে সম্পাদিত হচ্ছে। কনটেইনার ও কনসাইনি বিলও টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেমের (টিওএস) মাধ্যমে তৈরি ও আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওয়ান-স্টপ সার্ভিস সেন্টারে সোনালী ব্যাংক পিএলসির বুথ স্থাপনের পাশাপাশি এপিআই ইন্টিগ্রেশনের মাধ্যমে চালু হয়েছে অনলাইন পেমেন্ট। ফলে ছুটির দিন কিংবা প্রচলিত ব্যাংকিং সময়ের বাইরেও বিল পরিশোধ করা যাচ্ছে।

বন্দর ব্যবহারকারীদের জন্য এর অর্থ সরাসরি—বিল পরিশোধে কাউন্টারে যেতে হবে না, নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অপেক্ষাও করতে হবে না। একই সঙ্গে কমছে কাগজপত্রের ব্যবহার ও শারীরিক উপস্থিতির প্রয়োজন।

৭২ ঘণ্টা পর স্বয়ংক্রিয় আদায়
ডিজিটাল ব্যবস্থাপনায় শুধু গতি নয়, আর্থিক শৃঙ্খলাকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বন্দরের কোনো মাশুল বা ফি ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পরিশোধ না হলে ‘অটো পুল পেমেন্ট’ ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। অন্যদিকে, টিওএসের মাধ্যমে স্পেশাল ডেলিভারি অ্যাসাইনমেন্টের অনলাইন অনুমোদন এবং এনবিআর ও কাস্টমসের এপিআই ব্যবহার করে অকশন ডেলিভারির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ফলে অনুমোদন, মাশুল আদায় ও পণ্য ডেলিভারির বিভিন্ন ধাপে কাগজনির্ভরতা কমিয়ে আনার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। চবকের পরিকল্পনার বড় বৈশিষ্ট্য এখানেই—আলাদা আলাদা সেবা অনলাইনে নেওয়ার পরিবর্তে পুরো কার্যপ্রবাহকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল ব্যবস্থায় আনা।

গেটেই বদলাবে বন্দরের চিত্র
চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যানজটের বিষয়টি জড়িয়ে আছে। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় গেট ব্যবস্থাপনাতেও আনা হচ্ছে প্রযুক্তিনির্ভর পরিবর্তন। ই-গেট পাস ইস্যু এবং গেটের ইন-আউট কার্যক্রম শতভাগ অনলাইনের আওতায় আনা হয়েছে। টিওএসের মাধ্যমে ‘টাইম স্লট ম্যানেজমেন্ট’, অনলাইন কার্ড টিকিট, ই-গেট চালান এবং শতভাগ ভেসেল ই-এনওসি চালুর কার্যক্রমও এগিয়ে চলছে।

নতুন টিওএস সংস্করণে ড্রপ টিকিট, পিকআপ টিকিট ও ইআইআর ই-গেট পাসের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। ফলে বন্দরে যানবাহনের প্রবেশ, পণ্য সংগ্রহ ও বের হওয়ার প্রক্রিয়াকে আরও পরিকল্পিত করার সুযোগ তৈরি হবে।

ট্রাকের অপেক্ষা কমাতে প্রযুক্তি
বন্দরের ভেতরের যানজট কমানোর পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে আরও নির্দিষ্টভাবে। টার্মিনালে রুট-বাই-রুট ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে চালু করা হচ্ছে পেমেন্টভিত্তিক ট্রাক পার্কিং টিকিটিং ব্যবস্থা। এর ফলে নির্দিষ্ট রুট ও ব্যবস্থাপনার আওতায় ট্রাক চলাচল করতে পারবে। অপ্রয়োজনীয় অপেক্ষা ও ঘোরাফেরা কমলে বন্দরের অভ্যন্তরীণ চাপ কমার পাশাপাশি পণ্য পরিবহনের সময়ও সাশ্রয় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

নেতৃত্বে গতি, পরিকল্পনায় সমন্বয়
চবক চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে ডিজিটাল রূপান্তরের উদ্যোগে মূল গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে সেবার গতি ও প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাকে। বিচ্ছিন্নভাবে কয়েকটি সফটওয়্যার চালুর বদলে বিলিং, পেমেন্ট, ডেলিভারি, গেট, জাহাজ ও ট্রাক ব্যবস্থাপনাকে একই ডিজিটাল কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ সেই পরিকল্পনারই প্রতিফলন। ওয়ান-স্টপ সার্ভিস সেন্টারে রিয়েল-টাইম ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশন, বিল জেনারেশন ও কনফার্মেশনের পাশাপাশি অফডকের সঙ্গে ইন্টিগ্রেশনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে বন্দর ব্যবহারকারীর একটি কাজ সম্পন্ন করতে একাধিক দপ্তরে ঘোরার প্রয়োজন কমবে।

চবক কর্মকর্তাদের মতে, এর প্রভাব শুধু সেবা গ্রহণের সময় কমানোতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। দ্রুত মাশুল আদায়, স্বচ্ছ আর্থিক হিসাব, পণ্য খালাসে গতি এবং যানবাহনের অপেক্ষার সময় কমানোর মাধ্যমে বন্দরের সামগ্রিক দক্ষতাও বাড়বে।

ডিসেম্বরের লক্ষ্য, বদলে যাবে সেবার সংস্কৃতি
চট্টগ্রাম বন্দরকে স্মার্ট পোর্টে রূপান্তরের উদ্যোগের সবচেয়ে বড় তাৎপর্য প্রযুক্তি সংযোজনের চেয়েও বেশি—এটি বন্দরের সেবা প্রদানের সংস্কৃতিতে পরিবর্তনের প্রচেষ্টা। যেখানে একটি বিলের জন্য কাউন্টারে দাঁড়ানো, একটি অনুমোদনের জন্য ফাইল খোঁজা কিংবা গেট পার হওয়ার জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা ধীরে ধীরে অতীতের দৃশ্যে পরিণত হবে।

ডিসেম্বরের মধ্যে পূর্ণ পেপারলেস বন্দর গড়ার লক্ষ্য বাস্তবায়নে তাই প্রযুক্তির পাশাপাশি প্রয়োজন হবে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত অংশগ্রহণ। চবক চেয়ারম্যানও এ লক্ষ্য অর্জনে বন্দর ব্যবহারকারী ও সব স্টেকহোল্ডারের সহযোগিতা চেয়েছেন। সফল হলে চট্টগ্রাম বন্দরের এই পরিবর্তন শুধু একটি আধুনিক সফটওয়্যার ব্যবস্থার সংযোজন হবে না; বরং দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের সেবা ব্যবস্থাপনাকে কাগজের ফাইল থেকে রিয়েল-টাইম ডিজিটাল অপারেশনে নেওয়ার একটি দৃশ্যমান রূপান্তর হয়ে উঠবে বলে মনে করা হচ্ছে।

কালের আলো/এএইচ/এমকে