খুঁজুন
                               
, ,
           

সামাজিক দূরত্ব বজায়ে কঠোর সেনাবাহিনী, বদলে গেছে দৃশ্যপট (ভিডিও)

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২০, ৯:২৬ অপরাহ্ণ
সামাজিক দূরত্ব বজায়ে কঠোর সেনাবাহিনী, বদলে গেছে দৃশ্যপট (ভিডিও)

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো :

সীমিত আকারে হলেও করোনাভাইরাসের ‘কমিউনিটি ট্রান্সমিশন’ শুরু হয়েছে। আইইডিসিআরের এমন ভাষ্যে দুশ্চিন্তার ভাঁজ সবার কপালে। প্রথম থেকেই সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে প্রতিটি মানুষকে ঘরের ভেতরে থাকার আহ্বান উপেক্ষা করে কারণে-অকারণে ঘর থেকে বের হওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়।

আরও পড়ুন: করোনার বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত যুদ্ধে সেনাবাহিনী, সেনাপ্রধানের বক্তব্যে আশার সঞ্চার

এতে করে রাস্তায় হঠাৎ করেই বেড়ে যায় মানুষের চলাচল। অলিতে গলিতে প্রয়োজনের বাইরেও খোলে দোকানপাট। ক্ষণে ক্ষণেই মাঝারি মানের গাড়ি জট চলতে থাকে রাজধানীর ব্যস্ততম সড়কগুলোতে।

সামাজিক দূরত্বের নির্দেশনা ভাঙার বাতিক তৈরি হয় দেশের বিভিন্ন জেলা শহরগুলোতেও। সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে কঠোর হওয়ার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

আরও পড়ুন: প্রকৃতিতে ফিরেছে প্রাণ, আতঙ্ক নয় প্রতিরোধের ডাক সেনা সদস্যদের (ভিডিও)

আরও পড়ুন: প্রখর খরতাপেও পথে পথে মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে সেনাবাহিনী (ভিডিও)

বুধবার (০১ এপ্রিল) করোনাভাইরাসের প্রভাব মোকাবেলা ও দেশের সার্বিক ব্যবসা-বাণিজ্য পরিস্থিতি নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, ‘এই করোনাভাইরাসকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একটি যুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করেছেন।

আমরা সৈনিক, আমরা সব সময় যুদ্ধ করতে প্রস্তুত এবং সেই প্রস্তুতি নিয়ে আমরা আছি। সবাইকে সহযোগিতা করবো।’  

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রনায়কোচিত নেতৃত্বে এক মোহনায় দেশ, মানুষকে ‘সুরক্ষার যুদ্ধে’ সেনাবাহিনী

একই সভাতেই মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড.খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সরকারি নিয়ম মানতে সাধারণ মানুষকে বাধ্য করার বিষয়ে ইঙ্গিত দেন। সাফ জানিয়ে দেন, চলমান এই বিশেষ ছুটিতে জনসাধারণের ঘরে থাকা নিশ্চিত করতে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: বৃত্তের মাধ্যমে দূরত্ব চিহ্নিত; সেনাবাহিনীর কর্মযজ্ঞে দেশজুড়ে স্বস্তির সুবাতাস (ভিডিও)

এরপর ওই রাতেই আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ঘোষণা দেয়, সামাজিক দূরত্ব বজায় আর হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিতে সেনাবাহিনীর কঠোর হওয়ার বিষয়ে।

আরও পড়ুন: দুই বিষয়ে বৃহস্পতিবার থেকে কঠোর হচ্ছে সেনাবাহিনী

মূলত এই ঘোষণার পরপরই দৃশ্যপট বদলে যেতে শুরু করে। গত দু’ বা তিনদিনে কোন প্রয়োজন ছাড়াই অহেতুক বাড়ি ছেড়ে সড়কে দাবড়ে বেড়িয়েছেন কিংবা পাড়া-মহল্লার অলিগলিতে আড্ডা জমিয়েছেন এমন শ্রেণির মানুষজন যেন এই বার্তাতে সতর্ক হয়ে যায়।

আর এর ইতিবাচক প্রভাব লক্ষ্য করা যায় বৃহস্পতিবার (০২ এপ্রিল) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজধানী তো বটেই দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় নগরী ও জেলা শহরেও। ঘর ছেড়ে বের হওয়ার পুরনো প্রবণতায় মগ্ন নাগরিকদের শৈথিল্য বা উদাসীনতারও রাশ টেনে ধরা হয়েছে।

সরকারি নির্দেশনা মানার আহ্বানের ধারাবাহিকতায় সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা ও সচেতনতার জন্য দিনব্যাপী রাজধানীসহ দেশজুড়ে টহল দিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

যৌক্তিক কারণ ছাড়া ঘর থেকে বের হওয়া মানুষজন কীভাবে নিজের পাশাপাশি পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীদের জীবনের ঝুঁকির মুখে ফেলে দিচ্ছেন সেই বিষয়টিও বুঝিয়ে তাদের বাড়ি পাঠানো এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলারও পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

সেনাবাহিনীসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর তৎপরতায় দিনভর রাজধানীর বদলে যাওয়া দৃশ্যপট অবলোকন করেছে কালের আলো টিম।

তাদের ভাষ্য মতে, বৃহস্পতিবার (০২ এপ্রিল) সকাল সোয়া ১১ টার দিকে রাজধানীর পান্থপথ মোড়ে সাধারণ মানুষের জটলা দেখা যায়।

এরই মধ্যে সবার কানে আসে সাইরেনের আওয়াজ। দূর থেকে দেখা যাচ্ছে সেনাবাহিনী হ্যান্ড মাইকে সবাইকে সচেতন করছেন এবং ঘরে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন। ব্যাস, মুহুর্তেই ভেঙে গেলো জটলা।

একই রকম চিত্র চোখে পড়ে রাজধানীর কলাবাগান, ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, আজিমপুর, শ্যামলী, কাওরান বাজার, নাজিরাবাজার, বনানী, বাড্ডাসহ আরও কয়েকটি এলাকায়। এসব এলাকার প্রতিটি প্রধান সড়ক পেরিয়ে, পাড়া-মহল্লার গলিতেও সেনা সদস্যদের বাড়তি তৎপরতা দৃষ্টিতে আসে।

রাজধানীর ভাষানটেক, লালবাগ, বাড্ডা ও ভাটারা ও সবুজবাগ এলাকা থেকে সেনাবাহিনীর সদস্যদের পৃথক টিম তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করেন। সচেতনতার জন্য সবার উদ্দেশ্যে মাইকিং করেন।

কালের আলো টিমের আরও পর্যবেক্ষণ হচ্ছে, রাজধানীর পাড়া-মহল্লায় প্রয়োজনীয় দোকানের বাইরে যেসব দোকান-পাট খোলা হয়েছে, সেসব দোকানে সেনা সদস্যরা গিয়ে বন্ধ করে দিয়েছেন।

সেনাবাহিনীকে কঠোর হতে হয় এমন কোনো কর্মকান্ড না করতে সবার প্রতি সবিনয় অনুরোধ জানানো হয়।

আমাদের বিভিন্ন জেলার প্রতিনিধিদের নিউজরুমে পাঠানো খবরে নিজেদের এলাকায় মানুষকে যেকোনো মূল্যে ঘরে রাখার কর্মসূচি নিয়ে সেনাবাহিনীর কর্মউদ্যোগের কথা জানিয়েছেন।

‘করোনা যুদ্ধ করব জয়, ঘরের বাইরে আর নয়’ এমন প্ল্যাকার্ড হাতে সামাজিক দূরত্ব বজায় এবং হোম কোয়ারেন্টিনের বিষয়টি কঠোরভাবে নিশ্চিত করেছেন।

আবার দেশের বিভিন্ন জেলায় সাধারণ মানুষকে হাত ধোয়ার জন্য সাবান বিতরণের পাশাপাশি হতদরিদ্র ও খেটে খাওয়া মানুষের মাঝে মাস্ক বিতরণ করেছেন। রাস্তায় ও যানবাহনে জীবণুনাশক ওষুধ ছিটিয়েছেন।

চট্টগ্রামে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করে সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনী সদস্যরা কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে মানুষকে ঘরে ফেরাতে। কাউকেই সড়কে এবং অলিগলিতেও দাঁড়াতে দেওয়া হয়নি।

নগরীর ষোল শহরের দুই নম্বর গেট, জিইসি, দামপাড়া, এ কে খান, সেটডিয়াম পাড়া, আন্দরকিল্লা, নিউমার্কেট, চকবাজার, দেওয়ান হাট, আগ্রাবাদসহ বিভিন্ন স্থানে সেনাবাহিনী শক্ত অবস্থান গ্রহণ করে।

ফেনী শহরের ট্রাংক রোড, দোয়েল চত্বর, খেঁজুর চত্বর ও বড় বাজারে জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেটসহ অভিযান পরিচালনা করেছে সেনাবাহিনী। এ সময় তারা পথচারীদের ঘরে ফেরার জন্য অনুরোধ করেছেন।

ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বন্ধ করে রাখার আহ্বান করেছেন। কক্সবাজারে সকাল থেকে পূর্ণ ফাঁকা দেখা যায় শহর। একান্ত প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হয়নি।

মাগুরায় জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে শহরে অবিরত চলে পরার্মশমূলক মাইকিং। বিদেশ থেকে ফিরে আসা প্রবাসীদের বাড়িতে লাল পতাকা টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং তাদেরকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে বের হতে নিষেধাজ্ঞা থাকায় শহরে জনসাধারণের আনাগোনা অনেকটা কমেছে।

কুমিল্লায় চান্দিনায় সেনাবাহিনীর দু’টি টহল টিমকে উপজেলার আনাচে-কানাচে অভিযান চালাতে দেখা গেছে। এ সময় ওষুধ দোকানে অতিরিক্ত ভিড়, দোকানে অযথা আড্ডা ও নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নির্মাণ শ্রমিকদের দিয়ে কাজ করানোর অপরাধে ২৬ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

নির্মাণ কাজ বন্ধ করার পাশাপাশি ৭ জন নির্মাণ শ্রমিকের দৈনিক মজুরি আদায় করে শ্রমিকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে সেনাবাহিনীর টহলের পাশাপাশি হোম কোয়ারেন্টিন না মানা ও সামাজিক দূরত্ব বজায় না রাখায় সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলায় ৩৫ জনকে আটক ও অর্থ দণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। এছাড়া আরও ৪৩ জনকে বাড়ির বাইরে অপ্রয়োজনে আর বের না হওয়ার জন্য সতর্ক করা হয়।

নারায়ণগঞ্জে সামাজিক দূরত্ব ও হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। একই চিত্র দেখা যায় বরিশালেও। এদিন যারা মাস্ক না পরে সড়কে বের হয়েছেন তাদের মাঝে মাস্ক বিতরণ করা হয়।

জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফ দস্তেগীর জানান, সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে দোকান খোলা রেখে জনসমাগম করার অপরাধে পপুলার সু’হাউজকে তিন হাজার টাকা ও অন্য একটি দোকানকে ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়।

সিলেটে সেনা সদস্যরা নগরের বিভিন্ন স্থানে টহল দেয়। এ সময় মাইকিং করে মানুষকে সচেতন করা ছাড়াও নগরের বিভিন্ন স্থানে গাড়ি দিয়ে রাস্তায় জীবাণুনাশক স্প্রে করতে দেখা যায় তাদের।

কালের আলো/এমএএএমকে

রাজশাহীতে বিএসটিআই’র অনুমোদনহীন জন্মদিনের কেক

রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ২:৫২ অপরাহ্ণ
রাজশাহীতে বিএসটিআই’র অনুমোদনহীন জন্মদিনের কেক

বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস এন্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) বিভাগীয় কার্যালয়, রাজশাহীর উদ্যোগে অদ্য বৃহস্পতিবার দুপুর ১২.০০ ঘটিকায় রাজশাহী মহানগরীতে একটি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়।

এতে বিএসটিআই’র গুণগত মানসনদ গ্রহণ ছাড়াই অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে এবং নন-ফুডগ্রেড উপাদান ব্যবহার করে ‘ডেকোরেটেড কেক (জন্মদিনের কেক)’ উৎপাদন ও বিক্রি-বিতরণ করায় নগরীর কুমারপাড়া আলুপট্টি এলাকায় অবস্থিত কেক ব্রাইট প্রতিষ্ঠানটিকে ৮,০০০/- (আট হাজার টাকা মাত্র) জরিমানা করা হয়।

 রাজশাহী জেলা প্রশাসনের বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ শাহরিয়ার ইসলাম নাসিফ এর নেতৃত্বে পরিচালিত উক্ত মোবাইল কোর্টে প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিএসটিআই বিভাগীয় অফিস, রাজশাহীর সার্টিফিকেশন মার্কস উইং এর কর্মকর্তা প্রকৌশলী জুনায়েদ আহমেদ।

এসময় রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। জনস্বার্থে ভেজাল প্রতিরোধ এবং গুণগত মানসম্পন্ন খাদ্যপণ্য সরবরাহ নিশ্চিতকল্পে বিএসটিআই, রাজশাহীর এধরণের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

ঢাকাকে বাসযোগ্য করতে সবাইকে ভাবতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ২:২৫ অপরাহ্ণ
ঢাকাকে বাসযোগ্য করতে সবাইকে ভাবতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

বিশ্বের বসবাসের অযোগ্য শহরের তালিকায় ঢাকা তৃতীয় স্থানে থাকা নিয়ে গভীর শঙ্কা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ঢাকাকে বাসযোগ্য করতে সিরিয়াসলি চিন্তা করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় পরিবেশ পদক প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিল কারখানার কারণে পরিবেশের দূষণ যেভাবে হচ্ছে, তা নিয়ে আমাদের সবাই দায় আছে। ইকোসিস্টেমের নিরাপদ লালন ও বিকাশের সঙ্গে মানবসমাজ জড়িত। বৃক্ষমেলা নিরাপদ ভবিষ্যৎ নির্মাণের বিনিয়োগ। এটি শুধু আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকা উচিত হবে না, নৈমিত্তিক এটি করতে হবে।

তিনি বলেন, সন্তান জন্ম নিলে আমরা তার নামে একটি গাছ লাগাতে পারি। লন্ডনেও এমন দেখেছি।

সরকার গ্রিন ভলান্টিয়ারিজম চালু করবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ক্লাইমেট ইয়ুথ ফেলোশিপ চালুসহ বেশকিছু উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। নিরাপদ, স্বাস্থ্যকর, সবুজায়নের লক্ষ্যে ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপণ করবে সরকার। আমরা ছাদ বাগান, নগর বনায়ন, ইকো ট্যুরিজমকে অর্থনীতির নতুন ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করতে চাই। এছাড়া রিডিউস, রিইউজ, রিসাইকেল জাতীয় পর্যায়ে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

এসময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, আকাশমনিসহ অনেক ক্ষতিকর গাছ আছে, যা রোপণ থেকে বিরত থাকতে হবে। এছাড়া কোন মাটিতে কোন গাছ রোপণ ভালো হবে, তা জানতে হবে। ঔষধিসহ দেশীয় গাছ রোপণে মনযোগী হতে হবে।

তিনি বলেন, সবকিছু আইন দিয়ে করা সম্ভব নয়, সচেতনতার মধ্য দিয়ে করতে হবে।

অনুষ্ঠানে ৭টি ক্যাটাগরিতে মোট ২১ জনের হাতে জাতীয় পরিবেশ পদক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

চলতি বছর ব্যক্তিগত ক্যাটাগরিতে পরিবেশ সংরক্ষণ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণে পদক পেয়েছেন আলহাজ ফরহাদ আলী মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. হাসমত আলী। পরিবেশ বিষয়ক শিক্ষা ও প্রচারে অবদানের জন্য পদক পেয়েছেন মো. মনির হোসেন। এছাড়া পরিবেশ বিষয়ক গবেষণা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন ক্যাটাগরিতে অনন্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে পদক পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ও প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর ড. আব্দুস সালাম।

প্রাতিষ্ঠানিক ক্যাটাগরিতে পরিবেশ সংরক্ষণ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ অবদানের জন্য পদক লাভ করেছে ক্লাসিক্যাল হ্যান্ডমেইড প্রোডাক্টস বিডি লিমিটেড। পরিবেশ বিষয়ক শিক্ষা ও প্রচার ক্যাটাগরিতে পুরস্কৃত হয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস। অন্যদিকে, পরিবেশ বিষয়ক গবেষণা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন ক্যাটাগরিতে এই গৌরবময় পদক পেয়েছে বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

পরিবেশ মেলা ও জাতীয় বৃক্ষমেলার উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ২:২৩ অপরাহ্ণ
পরিবেশ মেলা ও জাতীয় বৃক্ষমেলার উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর

‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা-২০২৬ এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬-এর উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এ দুটি আয়োজনের উদ্বোধন করেন তিনি।

পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে অন্যান্য ধর্মগ্রন্থ থেকেও পাঠ করা হয়। এরপর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন খাতে বর্তমান সরকারের সাফল্য নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় পরিবেশ পদক-২০২৫, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে জাতীয় পুরস্কার-২০২৬ এবং বৃক্ষরোপণে জাতীয় পুরস্কার-২০২৫ প্রদান করেন। এছাড়া সামাজিক বনায়নের উপকারভোগীদের মধ্যে লভ্যাংশের চেক বিতরণ করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ুবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইমুম পারভেজ এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম।

অনুষ্ঠান শেষে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র প্রাঙ্গণে প্রধানমন্ত্রী একটি করে জলপাই, জারুল ও নিমগাছের চারা রোপণ করেন। পরে তিনি পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে আয়োজিত জাতীয় বৃক্ষমেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন।

পরিবেশ সংরক্ষণ, বন সম্প্রসারণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর লক্ষ্যে এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে।

রাজধানীতে পরিবেশ মেলা ও মাসব্যাপী জাতীয় বৃক্ষমেলার পাশাপাশি সাতটি বিভাগীয় শহরে ১৫ দিনব্যাপী, ৫৬টি জেলা সদরে সাত দিনব্যাপী এবং ২৯টি উপজেলায় তিন দিনব্যাপী বৃক্ষমেলার আয়োজন করা হচ্ছে। ঢাকার জাতীয় বৃক্ষমেলায় অংশ নিয়েছে ১২০টি স্টল।

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে একটি বিশেষ সেল গঠন করা হয়েছে।

এ কর্মসূচির আওতায় জিআইএস, রিমোট সেন্সিং, ন্যাশনাল ট্রি ডেটাবেজ এবং ড্রোন প্রযুক্তির মাধ্যমে ডিজিটাল পদ্ধতিতে বনায়ন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হবে। এর মাধ্যমে প্রায় সাড়ে তিন লাখ নতুন সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ১০ হাজার নতুন নার্সারি উদ্যোক্তা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

বাংলাদেশে বৃক্ষরোপণকে রাষ্ট্রীয় আন্দোলনে রূপ দিয়েছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। ১৯৭৯ সালে তাঁর উদ্যোগেই দেশের প্রথম জাতীয় বননীতি প্রণয়ন করা হয়।

পরবর্তীতে ১৯৯৪ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া জাতীয় বৃক্ষমেলার সূচনা করেন এবং সামাজিক বনায়নের সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। বর্তমান সরকার সেই ধারাবাহিকতায় প্রযুক্তিনির্ভর ও টেকসই বনায়ন ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে কাজ করছে।

এর আগে গত ১৩ জুন কক্সবাজারের চকরিয়ার মালুমঘাট সংরক্ষিত বনে একটি গর্জনগাছের চারা রোপণের মাধ্যমে দেশব্যাপী ‘৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সূত্র : বাসস

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি