খুঁজুন
                               
বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ১৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

পাখির চোখে বন্যাদুর্গত এলাকা পর্যবেক্ষণ সেনাপ্রধানের; উদ্ধারকাজ ও ত্রাণ তৎপরতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৪, ১১:০৭ অপরাহ্ণ
পাখির চোখে বন্যাদুর্গত এলাকা পর্যবেক্ষণ সেনাপ্রধানের; উদ্ধারকাজ ও ত্রাণ তৎপরতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:

পাখির চোখে দেখলে দেশের গোটা পূর্বাঞ্চল যেন এক দ্বীপাঞ্চল। উজানের পানিতে ভাসছে ফেনী ও কুমিল্লার বিস্তীর্ণ জনপদ। বসতভিটা থেকে সড়ক সবখানেই বানের স্রোত। পানিবন্দি কয়েক লক্ষ মানুষ। ভয়াবহ বন্যায় সরকারি হিসাবে মারা গেছেন ১৫ জন। কয়েক প্রজন্মের মানুষ এমন পানি দেখেননি কখনও। বিভীষিকাময় এমন সময়ে বন্যাদুর্গতদের জন্য বিবেক আর হৃদয়ের টানে পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি দেওয়া হচ্ছে প্রয়োজনীয় ত্রাণ সহায়তা।

দুর্যোগ-দুর্বিপাকে বরাবরই আস্থার প্রতীক বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবারও স্থাপন করেছে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। দিন-রাত একাকার করে সামগ্রিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় সম্মুখে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। শুক্রবার (২৩ আগস্ট) বিকেলে তিনি ফেনী ও কুমিল্লার বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেন। এদিন দুপুরে তিনি হেলিকপ্টারযোগে ফুলগাজী, পরশুরামসহ ফেনী ও কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন পাখির চোখে। উদ্ধারকাজ ও ত্রাণ তৎপরতা নিয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন সেনাবাহিনীর সদস্যদের।

জানা যায়, আর্মি এভিয়েশন গ্রুপের হেলিপ্যাড থেকে‌ সেনাপ্রধানের প্রথম গন্তব্য ছিল কুমিল্লা সেনানিবাস। উদ্দেশ্য বন্যা কবলিত এলাকায় সেনাবাহিনীর কার্যক্রম ও প্রস্তুতি সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত হওয়া। কুমিল্লা পৌঁছানোর পরেই তাকে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি সম্পর্কে জানান উর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তারা। সেখানে কার্যক্রম শেষে পুনরায় হেলিকপ্টারে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান কুমিল্লার বিভিন্ন উপজেলা ও পরে ফেনীর ফুলগাজীর বন্যা কবলিত এলাকা পর্যবেক্ষণ করেন।

এ সময় বিভিন্ন বাড়ির ছাদে যেসব মানুষ অবস্থান নিয়েছিল তাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে নির্দেশনা দেন সেনাপ্রধান। এরপর স্থানীয় পরশুরামে তিনি পর্যবেক্ষণ করেন সেনাবাহিনীর ত্রাণ কার্যক্রম ও উদ্ধার তৎপরতা। পরে তিনি ঢাকায় ফিরে আসেন। এর আগে একই দিন সকালে আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, ফেনী, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, নোয়াখালী সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জে চলমান বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় সেনাবাহিনীর সব সদস্যের একদিনের বেতনের সমপরিমাণ অর্থ প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ তহবিলে দেওয়া হয়েছে।

এ সময় সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসান, সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার ইন চীফ মেজর জেনারেল ইফতেখার আনিস, সেনাবাহিনীর ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও কুমিল্লার এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল জাহাঙ্গীর আলমসহ সেনা সদর দপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আইএসপিআর আরও জানায়, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৭, ২৪ ও ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের সেনাসদস্যরা সিলেট, চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা এলাকায় বন্যাদুর্গতদের উদ্ধারে মোতায়েন রয়েছে। মোতায়েনরত সেনাসদস্যরা নিরলসভাবে পানিবন্দী মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সেই সঙ্গে বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ ও চিকিৎসা সেবা প্রদান কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সেনাবাহিনীকে এই মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার নির্দেশনা প্রদান করেছেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

১ জুন রামিসা হত্যা মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু: আইনমন্ত্রী

ঝিনাইদহ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৮:৪৭ অপরাহ্ণ
১ জুন রামিসা হত্যা মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু: আইনমন্ত্রী

১ জুন রামিসা হত্যা মামলার বিচারের কার্যক্রম শুরু হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

তিনি বলেন, ‘আমি বলেছিলাম এক সপ্তাহের মধ্যে রামিসা হত্যা মামলার চার্জশিট হবে। আপনারা দেখেছেন, এক সপ্তাহ পূরণ হওয়ার আগেই চার্জশিট দাখিল করেছি। আমরা রামিসা হত্যাকাণ্ডের বিচারের এ প্রক্রিয়াকে ন্যায় বিচারের মানদণ্ডে যেমন স্বচ্ছতা রাখতে চেয়েছি, ঠিক একইভাবে যারা এ ধরনের অপরাধে জড়িত হয় তাদের সামনে একটি দৃষ্টান্তমূলক বিচার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে নিরন্তরভাবে পথ চলছি, নিরলসভাবে চলছি।‘

বুধবার (২৭ মার্চ) বিকালে ঝিনাইদহের শৈলকুপা সরকারি ডিগ্রি কলেজ মাঠে মেধা ও মনন মঞ্চ আয়োজিত দ্যা গ্রান্ড ফিনাল-২০২৬ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ফাঁসির আসামিদের পেপার বুক তৈরির দীর্ঘসূত্রিতা নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে এর সঙ্গে শুধুমাত্র আমরা জড়িত নই, সরকার জড়িত না। এর সঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট জড়িত। ইতিমধ্যেই আমি প্রধান বিচারপতির সঙ্গে কথা বলেছি এবং ফাঁসির আসামিদের বিষয়ে শাস্তি ও বিচার এবং বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার জন্য যতটা পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন ঠিক ততটাই পদক্ষেপ নেব। এইভাবে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা ধৈর্য ধরুন। ঠিক রামিসার মতো মাগুরার আসিয়াসহ যতগুলো ফাঁসির আসামি সেই নির্জন সেলে আছেন তাদের মামলার নিষ্পত্তি দ্রুততম সময়ের মধ্যে করব ইনশাল্লাহ।’

‘আমি অ্যাটর্নি জেনারেল থাকা অবস্থায় দেশের সবচেয়ে সেনসেটিভ যে কয়টি হত্যা মামলা ছিল তার মধ্যে ছিল মেজর সিনহা হত্যা মামলা, আবরার ফাহাদ হত্যা মামলা। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এসব হত্যা মামলার বিচার প্রক্রিয়া হাইকোর্ট পর্যন্ত সমাপ্ত করে আসতে চেয়েছিলাম। আপিল বিভাগও আশা করি এ বিষয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পদক্ষেপ নেবেন।’

মেধা ও মনন মঞ্চ প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘এটা কোনো রাজনৈতিক মঞ্চ নয়। এটাকে রাজনৈতিক মঞ্চ হিসেবে দেখতে চাই না। আমি চাই এ সংগঠনটি, এই মঞ্চটি অরাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে, এই সোসাইটির ওয়াচডগ হিসেবে থাকুক।’

মেধা ও মনন মঞ্চের সভাপতি মাসুম বিল্লাহ তুর্যের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ডা. এ কে এম মতিনুর রহমান, রোজ সোয়েটার্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান প্রবীর সাহা বিদ্যুৎ, শৈলকুপা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহফুজুর রহমান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে শৈলকুপা থেকে ২০২৫ ও ২০২৬ সালে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ প্রাপ্ত ৫ শতাধিক শিক্ষার্থীর হাতে ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট তুলে দেওয়া হয়।

 কালের আলো/এসআর/এএএন

ইরানের আশপাশের অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৮:২৮ অপরাহ্ণ
ইরানের আশপাশের অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতা স্মারকের একটি প্রাথমিক খসড়া নথি পেয়েছে। এতে দুই দেশের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনার একটি সম্ভাব্য কাঠামো তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই কাঠামোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ইরানের আশপাশের অঞ্চল থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনী প্রত্যাহার। এর বিনিময়ে ইরান ৩০ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল যুদ্ধ-পূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে আনার অনুমতি দেবে।

তবে খসড়ায় বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ এই ব্যবস্থার আওতায় থাকবে না। ওই অঞ্চলে জাহাজ চলাচল ইরান ও ওমানের সমন্বয়ে পরিচালিত হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এই কাঠামো এখনও চূড়ান্ত হয়নি এবং বাস্তব যাচাই ছাড়া ইরান কোনো চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেবে না।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ। সাম্প্রতিক যুদ্ধ ও উত্তেজনার কারণে সেখানে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে।

সূত্র: আল-জাজিরা

কালের আলো/এম/এএইচ

নেতানিয়াহুকে একদিন উচিত শিক্ষা দেবে মুসলিমরা: এরদোয়ান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৮:১৬ অপরাহ্ণ
নেতানিয়াহুকে একদিন উচিত শিক্ষা দেবে মুসলিমরা: এরদোয়ান

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর তীব্র সমালোচনা করে তাকে ‘অত্যাচারী শাসক’ আখ্যা দিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, নিপীড়ন ও আগ্রাসন চালানোর কারণে একদিন মুসলিমরা ঐক্যবদ্ধভাবে নেতানিয়াহুকে একটি কঠোর ও উপযুক্ত শিক্ষা দেবে।

বুধবার ইস্তাম্বুলের কামলিকা মসজিদে ঈদুল আজহার নামাজের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এ মন্তব্য করেন তিনি।

এরদোয়ান বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি যে, নেতানিয়াহু নামক এই স্বৈরশাসক বিশ্বের মুসলমানদের হাতে প্রয়োজনীয় শিক্ষা লাভ করবে।’

পৃথকভাবে বিশ্বজুড়ে মুসলিমদের শুভেচ্ছা জানিয়ে এক বার্তায় এরদোয়ান ঈদুল আযহাকে একটি ‘আধ্যাত্মিক আশীর্বাদ’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, তিনি আশা করেন এই উৎসবটি তুরস্ক, তুর্কি জাতি, ইসলামী বিশ্ব এবং সমগ্র মানবজাতির জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে।

তিনি বলেন, গাজা উপত্যকার পরিস্থিতি তুরস্কে এবং বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের উদযাপনের ওপর ছায়া ফেলেছে।

গাজাবাসীর প্রতি সংহতি জানিয়ে তুর্কি প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘আমাদের আধ্যাত্মিক ভূখণ্ডের বিভিন্ন প্রান্তে, বিশেষ করে গাজায় যে সমস্ত ভাই-বোনেরা দুঃখ, কষ্ট এবং গভীর বেদনার মধ্য দিয়ে এই ঈদকে স্বাগত জানাচ্ছেন, আমি আমার ও আমার দেশের পক্ষ থেকে তাঁদের প্রতি গভীর সংহতি প্রকাশ করছি এবং তাদের প্রত্যেককে ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।’

প্রসঙ্গত, এরদোয়ান ও নেতানিয়াহুর মধ্যকার রাজনৈতিক বিরোধ এবং গাজা সংঘাত নিয়ে তাদের বক্তব্য বিশ্ব রাজনীতিতে অত্যন্ত আলোচিত বিষয়। গাজায় নেতানিয়াহুর কর্মকাণ্ডকে তীব্র সমালোচনা করে তাকে বিভিন্ন সময়ে ‘গাজার কসাই’, ‘ফেরাউন’ ও ‘আধুনিক হিটলার’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট। এছাড়াও প্রথম থেকেই গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের তীব্র বিরোধিতা এবং ফিলিস্তিনিদের অধিকারের পক্ষে বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সূত্র: আনাদোলু

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ