খুঁজুন
                               
, ,
           

ছাত্র-আন্দোলনের পক্ষে শুরু থেকেই ‘ইতিবাচক’ বিজিবিকে নিয়ে অপপ্রচারে সতর্ক বার্তা  

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২৪, ৭:৫৫ অপরাহ্ণ
ছাত্র-আন্দোলনের পক্ষে শুরু থেকেই ‘ইতিবাচক’ বিজিবিকে নিয়ে অপপ্রচারে সতর্ক বার্তা  

কালের আলো রিপোর্ট:

বহু প্রাণ ও স্বপ্নের মূল্যে মিলেছে নতুন এক বাংলাদেশ। ‘৩৬ জুলাই’ গণঅভ্যুত্থানে উত্তাল দেশে বীর ছাত্র-জনতার রক্ত আর বুদ্ধিবৃত্তিক অভূতপূর্ব কৌশলে শেষতক পর্যদস্তু হয় তৎকালীন সরকার। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন শেখ হাসিনা। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে অবিশ্বাস্য রকমের বহুবর্ণিল পথরেখায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনার বিষয়বস্তু হয়ে ওঠেছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন নিয়ে বিজিবি এবং বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকীর ভূমিকা সম্পর্কে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভিত্তিহীন ও মনগড়া তথ্য ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠেছে।

বিজিবি বলছে, একটি চক্র উদ্দেশ্যমূলকভাবে মিথ্যা প্রচারণার মাধ্যমে জনগণের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে চাইছে। দুঃখের বিষয় হচ্ছে বিজিবি এবং ডিজি বিজিবির নামে এই অপপ্রচারগুলোতে দাবি করা হচ্ছে যে, বিজিবি প্রধান ছাত্র আন্দোলনে হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে এবং ভারতীয় নাগরিকদের পোশাক পরিয়ে মাঠে নামিয়েছে। এমনকি শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখার ষড়যন্ত্র এবং শিক্ষার্থীকে হত্যার মনগড়া তথ্যও ছড়ানো হচ্ছে। এগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট।

বিভিন্ন গণমাধ্যমের অনুসন্ধানেও বিজিবি’র দাবিকৃত বক্তব্যের সত্যতা মিলেছে। প্রকৃত পক্ষেই ছাত্র-জনতার রক্তস্নাত গণঅভ্যুত্থানের আগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষে শুরু থেকেই ইতিবাচক থেকে কাজ করেছেন বিজিবি ও ডিজি বিজিবি। তৎকালীন সরকার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকা ‘লংমার্চ টু ঢাকা’ ঠেকাতে বিজিবিকে দায়িত্ব দিয়েছিল। কিন্তু বিজিবি সেই দায়িত্ব পালন না করে কৌশলগতভাবে ছাত্র-জনতার পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করে। এমনকি ঝুঁকি কমাতে তাঁরা ভারী গোলাও মোতায়েন করেনি। ৫ আগস্ট সকাল থেকে ঢাকার প্রবেশদ্বারে বিজিবি ছাত্র জনতাকে সমর্থন করেছে। বিজিবি মহাপরিচালকের আন্তরিকতায় ও চিকিৎসা শাখার সার্বিক তত্ত্বাবধানে গত ১৯ জুলাই শুরু থেকেই আহত ছাত্রদের পিলখানা বিজিবি হাসপাতালে নিয়ে এসে মোবাইল অ্যাম্বুলেন্সে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়। বেশি আহত রোগীদের হাসপাতালের ভেতরে গোপনে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়। এমনকি আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে বেশকিছু বিজিবির সদস্য আহত হয়েছেন। পুরো আন্দোলনে নিহত হয়েছেন বিজিবির একজন সদস্য। আহত হয়েছেন ১০৩ জন সদস্য।

শনিবার (৩০ নভেম্বর) বিজিবির ভেরিফাইড ফেসবুক পেজ থেকে একটি পোস্টে বলা হয়েছে, একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে একটি স্বার্থান্বেষী মহল বিজিবি ও ডিজি বিজিবি’র সুনাম নষ্টের জন্য এসব অপপ্রচার চালিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। অপপ্রচারে কান না দিয়ে সত্যের পক্ষে থাকুন। বিভ্রান্তি এড়াতে যাচাই-বাছাই করুন এবং প্রকৃত তথ্য সবার সামনে তুলে ধরুন। বিজিবি দেশের মানুষের পাশে থেকে দায়িত্ব পালন করেছে এবং ভবিষ্যতেও করে যাবে।

ওই পোস্টে সোশ্যাল মিডিয়ার অপপ্রচারের জবাবে প্রকৃত সত্য হিসেবে ৫টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট তুলে ধরেছে বিজিবি। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে- ডিজি বিজিবির নির্দেশনায় আন্দোলনে ছাত্র জনতাকে হত্যার বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। ভারতীয় নাগরিকদের বিজিবির পোশাক পরিয়ে আন্দোলন দমন করার তথ্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ৫ আগস্ট বিজিবি ডিজি’র তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ১০ হাজার লোক মেরে ফেলা কিংবা শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখা ইত্যাদি বিষয়ে কোন ধরনের কথাই হয়নি। মূলত ৫ আগস্ট সকাল থেকে ঢাকার প্রবেশদ্বারে বিজিবি ছাত্র জনতাকে সমর্থন করেছে। বিজিবির যে সদস্য অপেশাদার আচরণ করেছে তার/তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

জানা যায়, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে বিজিবি’র ভূমিকার আদ্যোপান্ত নিয়ে চলতি বছরের বৃহস্পতিবার (৩ অক্টোবর) বিজিবি সদর দপ্তরে কনফারেন্স হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন বিজিবি মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। সেদিন তিনি বলেন, ‘ছাত্র আন্দোলনে বিজিবিকে হেলিকপ্টার ব্যবহার করতে বলা হয়েছিল, কিন্তু সেটি করিনি আমরা। সরকারি আদেশ মান্য করার পাশাপাশি অভ্যুত্থানে বিজিবি ছাত্রদের সহায়তা করেছে। ৫ আগস্ট ‘লংমার্চ টু ঢাকা’ ঠেকাতে বিজিবিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। অনেক বড় বড় জায়গা থেকে রিকোয়েস্ট করা হয়েছিল। অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার পক্ষে কৌশলগতভাবে কাজ করেছে বিজিবি।’ এসব কারণেই সম্ভবত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অনেকে বিজিবির পিলখানার গেটে মিষ্টি নিয়ে আসে এবং উল্লাস প্রকাশ করে, এমন তথ্যও ঘুরেফিরে উচ্চারিত হচ্ছে অনেকের মুখে মুখে।

আত্মপ্রচারের বিপরীতে বরাবরই অবস্থান বিজিবি মহাপরিচালকের। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে তাঁর মেয়ে ও জামাই, ভাগ্নে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তিনি বাধা দেননি। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেছেন, আন্দোলন তো হচ্ছিল অধিকারের জন্য। সেই অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইকে সমর্থন করেছিলেন বলেই কীনা জুলাই মাসের শেষের দিকে ওপরের নির্দেশে যখন গণগ্রেপ্তার কার্যক্রম শুরু হয় তখনও সেই কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেনি বিজিবি। ওই গণগ্রেপ্তারে অংশ না নিয়ে বিজিবি ডিজি তখন উল্টো যুক্তি দেখিয়েছেন, গ্রেপ্তার কার্যক্রমের জন্য বিজিবি প্রশিক্ষিত ও প্রস্তুত নয়।

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার থেকে সরকার পতনের এক দফা-মাত্র ৩৬ দিনের আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর যখন নানা কায়দা-কানুনে বিজিবিকে কোন কোন পক্ষ কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর অপপ্রয়াস চালিয়েছে তখনও তিনি চুপ আর নমনীয় থেকেছেন। কিন্তু ওই সংবাদ সম্মেলনে সত্য যে কঠিন, সেই কঠিনকেই যেন ভালোবেসেছেন ডিজি বিজিবি। তাঁর একটি বক্তব্যের মধ্যে দিয়েই ছাত্র আন্দোলনে বিজিবির ভূমিকা স্পষ্ট হয়ে যায়। ওইদিন তিনি বলেন, ‘বিজিবির জনবল প্রায় ৫৭ হাজার। পুরো বিজিবি সদস্যের ৬ শতাংশের কিছু বেশি ছাত্র-জনতার আন্দোলনে মোতায়েন ছিল। কেন এতো কম মোতায়েন হয়েছে সেজন্য আগের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আগের রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের নেতাদের কাছে কৈফিয়ত ও জবাবদিহি দিতে হয়েছে অসংখ্যবার।’ পুলিশ যে ভূমিকা পালন করছে সেই ভূমিকা বিজিবি অনেকক্ষেত্রে ইচ্ছে করে পালন করছে না সে বিষয়ে আমাকে দোষারোপ করা হয়েছে, যোগ করেছিলেন মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী।

বিজিবি মহাপরিচালক সংবাদ সম্মেলনটিতে জানান, ‘পুলিশের চাইতে বিজিবির ১৫ থেকে ২০ গুণ মারণাস্ত্র বা আগ্নেয়াস্ত্র আছে। বিজিবির কাছে লাইট মেশিনগান, মেশিনগান, মর্টার, গ্রেনেড, রকেট বিধ্বংসী কয়েক প্রকারের অস্ত্র রয়েছে এগুলোর কোনোটাই ছাত্র আন্দোলনে ব্যবহার করা হয়নি। তাছাড়া ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আহতের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় সেখান থেকে আমরা অনেককে আমাদের বিজিবি হাসপাতালে নিয়ে এসে চিকিৎসা দিয়েছি। তাদের যাবতীয় খরচ বিজিবি বহন করেছে।’

সেদিনের সংবাদ সম্মেলনে বিজিবি ডিজি গুরুত্বপূর্ণ আরও একটি তথ্য উপস্থাপন করে বলেন, ‘ছাত্র আন্দোলনে একজন ব্যাটালিয়ন কমান্ডার অফিসার গুলি করছেন। ওই ঘটনায় বিজিবি থেকে তাকে অপসারণ করা হয়েছে। তাকে শুধু ওএসডি করা হয়নি, তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত করে তাকে সর্বোচ্চ শাস্তিমূলক শাস্তির জন্য সুপারিশ করে লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদমর্যাদার ওই কর্মকর্তাকে বাহিনীতে ফেরত পাঠানো হয়েছে। যেন সেনাবাহিনীর অধীনে তার সাজা কার্যকর হয়। তদন্ত করতে গিয়ে জানতে পারি, তার সঙ্গে একজন মেজর ছিলেন। যদিও তিনি গুলি করেননি। তবে তিনি ভয়-ভীতি প্রদর্শন করেছেন। তাকেও আমরা কিছুটা শাস্তির আওতায় নিয়ে আসছি।’

কালের আলো/এমএসএএকে

ডেঙ্গু প্রতিরোধে দেড় হাজার কর্মী নিয়ে মাঠে নামছে ডিএনসিসি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৩৪ অপরাহ্ণ
ডেঙ্গু প্রতিরোধে দেড় হাজার কর্মী নিয়ে মাঠে নামছে ডিএনসিসি

ভয়ানক হয়ে ওঠা ডেঙ্গু জ্বর ও এর জীবাণুবাহিত এডিস মশা প্রতিরোধে দেড় হাজার কর্মী নিয়ে বিশেষ কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে জীবানু ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় ডেঙ্গু প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে বাড়ি পরিদর্শন, সোর্স রিডাকশন ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

আগামীকাল থেকে ডিএনসিসির তত্ত্বাবধানে ১ হাজার ৫০০ সদস্যকে ২৪টি দলে ভাগ করে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এসব দল ডিএনসিসির আওতাধীন বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি বাড়ি পরিদর্শনের পাশাপাশি এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত ও ধ্বংস এবং নগরবাসীর মধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা তৈরিতে কাজ করবে।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি জানান ডিএনসিসির মুখপাত্র জাকির হোসেন।

তিনি জানান, জাতীয় ডেঙ্গু প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে শনিবার সকাল ৯টায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা থেকে প্রধানমন্ত্রী দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রমের উদ্বোধন ঘোষণা করবেন। উদ্বোধন অনুষ্ঠানের পরপরই ডিএনসিসির উদ্যোগে মাঠপর্যায়ে বিশেষ কার্যক্রম শুরু হবে।

জাতীয় ডেঙ্গু প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ডিএনসিসির স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগে একটি স্টল স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে ডেঙ্গু প্রতিরোধের বিভিন্ন উপায়, করণীয় এবং এডিস মশার প্রজননস্থল সম্পর্কে নগরবাসীকে ধারণা দিতে বিভিন্ন সচেতনতামূলক উপকরণ প্রদর্শন করা হবে।

এদিকে দিবসটি উপলক্ষে ডিএনসিসির স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগে বিশেষ মশকনিধন ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে ডিএনসিসির অঞ্চল-৫-এর বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে।

বিশেষ করে সংসদ ভবন ও এর আশপাশের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে এডিস মশার প্রজননস্থল শনাক্ত করে তা ধ্বংস করা, জমে থাকা পানির উৎস অপসারণ, সোর্স রিডাকশন এবং লার্ভা নিধনে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

ডিএনসিসি জানিয়েছে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু মশকনিধন কার্যক্রম নয়, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের পাশাপাশি নাগরিকদের সচেতন করাকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এ কারণে বাড়ি বাড়ি পরিদর্শনের মাধ্যমে সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত করার পাশাপাশি নগরবাসীকে নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে সচেতন করা হবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

সবজির দামে আগুন, স্বস্তি মাছ-মুরগির বাজারে

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৪৬ অপরাহ্ণ
সবজির দামে আগুন, স্বস্তি মাছ-মুরগির বাজারে

রাজধানীর কাঁচাবাজারে আবারও চড়েছে সবজির দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে গ্রীষ্মকালীন প্রায় সব ধরনের সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বাজারে সবজির সরবরাহ মোটামুটি স্বাভাবিক থাকলেও দামে তার প্রভাব পড়েনি। ফলে বাড়তি দামে সবজি কিনতে গিয়ে ক্রেতাদের নাভিশ্বাস উঠছে। তবে তুলনামূলক স্বস্তি রয়েছে মাছ ও মুরগির বাজারে। অধিকাংশ মাছ ও মুরগি আগের সপ্তাহের দামেই বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে কেজিতে ১০ টাকা কমেছে ব্রয়লার মুরগির দাম। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর তালতলা ও আগারগাঁও এলাকার কাঁচাবাজার ঘুরে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

বাজারে বর্তমানে বেগুনের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১৪০ টাকায়, যা সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় ২০ টাকা বেশি। টমেটো ১২০ থেকে ১৪০ টাকা এবং করলা ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পটল, ঢ্যাঁড়স, কাঁকরোল ও ঝিঙা মানভেদে ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি।

এ ছাড়া পেঁপে ও আলু ৩০ টাকা, পেঁয়াজ ৪৫ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কচুর লতি ৬০ থেকে ৭০ টাকা, কচুরমুখি ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং শসা ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি। বটবটি ৮০ টাকা, গাজর ১২০ টাকা এবং মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে এক হালি লেবু কিনতে গুনতে হচ্ছে ২০ থেকে ৩০ টাকা। দেশি ধনেপাতা কেজি ৩০০ টাকা এবং হাইব্রিড ধনেপাতা ২৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা কলা হালি ৪০ টাকা, চাল কুমড়া প্রতি পিস ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং ক্যাপসিকাম কেজি ৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

শাকের বাজারেও খুব একটা স্বস্তি নেই। লাল শাকের আঁটি ১৫ টাকা, লাউ শাক ৫০ টাকা, কলমি শাক দুই আঁটি ২০ টাকা, পুঁই শাক ৪০ টাকা এবং ডাটা শাক দুই আঁটি ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

তবে মুরগির বাজারে তুলনামূলক স্থিতিশীলতা দেখা গেছে। সোনালি কক মুরগি কেজি ৩২০ টাকা, সোনালি হাইব্রিড ২৯০ টাকা, লাল লেয়ার ৩৫০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে ব্রয়লার মুরগির দাম আগের সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ১০ টাকা কমে ১৮০ টাকায় নেমেছে।

মাছের বাজারেও বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়নি। আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে ইলিশ। ৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ কেজি ১১০০ থেকে ১২০০ টাকা, ৫০০ থেকে ৭০০ গ্রামের ইলিশ ১৮৯০ থেকে ২০০০ টাকা এবং ১ কেজি ওজনের ইলিশ ২৭০০ থেকে ২৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

অন্য মাছের মধ্যে চাষের শিং আকারভেদে ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা, দেশি শিং ১২০০ থেকে ১৪০০ টাকা, রুই ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, দেশি মাগুর ৯০০ থেকে ১২০০ টাকা এবং মৃগেল ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চাষের পাঙ্গাস ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, চিংড়ি ৮০০ থেকে ১৪০০ টাকা, বোয়াল ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং বড় কাতল ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা কেজি।

এ ছাড়া পোয়া মাছ ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২৪০ টাকা, কৈ ২২০ থেকে ২৩০ টাকা, মলা ৫০০ টাকা এবং বাতাসি টেংরা ১৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। টেংরা ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা, কাচকি ৫০০ টাকা এবং পাঁচমিশালি মাছ ২৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মাংসের বাজারেও তেমন পরিবর্তন নেই। প্রতি কেজি গরুর মাংস ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

ডিমের বাজারে এক ডজন লাল ডিম ১৫০ টাকা, হাঁসের ডিম ২০০ টাকা এবং দেশি মুরগির ডিমের হালি ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সোনালি কক মুরগির ডিমের হালি ৭০ টাকা।

সব মিলিয়ে রাজধানীর বাজারে মাছ, মাংস ও মুরগির দামে বড় ধরনের অস্থিরতা না থাকলেও সবজির বাড়তি দামে চাপে পড়েছেন ক্রেতারা। বিশেষ করে মৌসুমি সবজির সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার পরও দাম বাড়ায় বাজার ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ ক্রেতারা। তাদের অভিযোগ, এক সপ্তাহের ব্যবধানে কয়েকটি সবজির দাম ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ায় পরিবারের দৈনন্দিন বাজার খরচও বেড়ে গেছে।

কালের আলো/এম/এএইচ

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সারাদেশে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৪৪ অপরাহ্ণ
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সারাদেশে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বাড়তে থাকায় সারাদেশে তিন মাসব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হচ্ছে। আগামীকাল শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হওয়া ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার সকাল ৯টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশব্যাপী এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে। তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় জনস্বার্থে বিশেষ এই অভিযান নেওয়া হয়েছে। আগামী তিন মাস দেশের বিভিন্ন এলাকায় ডেঙ্গু প্রতিরোধের পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

অভিযানের আওতায় ডেঙ্গুর প্রজননস্থল ধ্বংস, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার এবং দেশের সব বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচারের জন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানিয়েছে তথ্য অধিদপ্তর।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি