খুঁজুন
                               
, ,
           

ছাত্র-আন্দোলনের পক্ষে শুরু থেকেই ‘ইতিবাচক’ বিজিবিকে নিয়ে অপপ্রচারে সতর্ক বার্তা  

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২৪, ৭:৫৫ অপরাহ্ণ
ছাত্র-আন্দোলনের পক্ষে শুরু থেকেই ‘ইতিবাচক’ বিজিবিকে নিয়ে অপপ্রচারে সতর্ক বার্তা  

কালের আলো রিপোর্ট:

বহু প্রাণ ও স্বপ্নের মূল্যে মিলেছে নতুন এক বাংলাদেশ। ‘৩৬ জুলাই’ গণঅভ্যুত্থানে উত্তাল দেশে বীর ছাত্র-জনতার রক্ত আর বুদ্ধিবৃত্তিক অভূতপূর্ব কৌশলে শেষতক পর্যদস্তু হয় তৎকালীন সরকার। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন শেখ হাসিনা। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে অবিশ্বাস্য রকমের বহুবর্ণিল পথরেখায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনার বিষয়বস্তু হয়ে ওঠেছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন নিয়ে বিজিবি এবং বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকীর ভূমিকা সম্পর্কে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভিত্তিহীন ও মনগড়া তথ্য ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠেছে।

বিজিবি বলছে, একটি চক্র উদ্দেশ্যমূলকভাবে মিথ্যা প্রচারণার মাধ্যমে জনগণের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে চাইছে। দুঃখের বিষয় হচ্ছে বিজিবি এবং ডিজি বিজিবির নামে এই অপপ্রচারগুলোতে দাবি করা হচ্ছে যে, বিজিবি প্রধান ছাত্র আন্দোলনে হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে এবং ভারতীয় নাগরিকদের পোশাক পরিয়ে মাঠে নামিয়েছে। এমনকি শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখার ষড়যন্ত্র এবং শিক্ষার্থীকে হত্যার মনগড়া তথ্যও ছড়ানো হচ্ছে। এগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট।

বিভিন্ন গণমাধ্যমের অনুসন্ধানেও বিজিবি’র দাবিকৃত বক্তব্যের সত্যতা মিলেছে। প্রকৃত পক্ষেই ছাত্র-জনতার রক্তস্নাত গণঅভ্যুত্থানের আগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষে শুরু থেকেই ইতিবাচক থেকে কাজ করেছেন বিজিবি ও ডিজি বিজিবি। তৎকালীন সরকার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকা ‘লংমার্চ টু ঢাকা’ ঠেকাতে বিজিবিকে দায়িত্ব দিয়েছিল। কিন্তু বিজিবি সেই দায়িত্ব পালন না করে কৌশলগতভাবে ছাত্র-জনতার পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করে। এমনকি ঝুঁকি কমাতে তাঁরা ভারী গোলাও মোতায়েন করেনি। ৫ আগস্ট সকাল থেকে ঢাকার প্রবেশদ্বারে বিজিবি ছাত্র জনতাকে সমর্থন করেছে। বিজিবি মহাপরিচালকের আন্তরিকতায় ও চিকিৎসা শাখার সার্বিক তত্ত্বাবধানে গত ১৯ জুলাই শুরু থেকেই আহত ছাত্রদের পিলখানা বিজিবি হাসপাতালে নিয়ে এসে মোবাইল অ্যাম্বুলেন্সে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়। বেশি আহত রোগীদের হাসপাতালের ভেতরে গোপনে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়। এমনকি আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে বেশকিছু বিজিবির সদস্য আহত হয়েছেন। পুরো আন্দোলনে নিহত হয়েছেন বিজিবির একজন সদস্য। আহত হয়েছেন ১০৩ জন সদস্য।

শনিবার (৩০ নভেম্বর) বিজিবির ভেরিফাইড ফেসবুক পেজ থেকে একটি পোস্টে বলা হয়েছে, একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে একটি স্বার্থান্বেষী মহল বিজিবি ও ডিজি বিজিবি’র সুনাম নষ্টের জন্য এসব অপপ্রচার চালিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। অপপ্রচারে কান না দিয়ে সত্যের পক্ষে থাকুন। বিভ্রান্তি এড়াতে যাচাই-বাছাই করুন এবং প্রকৃত তথ্য সবার সামনে তুলে ধরুন। বিজিবি দেশের মানুষের পাশে থেকে দায়িত্ব পালন করেছে এবং ভবিষ্যতেও করে যাবে।

ওই পোস্টে সোশ্যাল মিডিয়ার অপপ্রচারের জবাবে প্রকৃত সত্য হিসেবে ৫টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট তুলে ধরেছে বিজিবি। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে- ডিজি বিজিবির নির্দেশনায় আন্দোলনে ছাত্র জনতাকে হত্যার বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। ভারতীয় নাগরিকদের বিজিবির পোশাক পরিয়ে আন্দোলন দমন করার তথ্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ৫ আগস্ট বিজিবি ডিজি’র তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ১০ হাজার লোক মেরে ফেলা কিংবা শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখা ইত্যাদি বিষয়ে কোন ধরনের কথাই হয়নি। মূলত ৫ আগস্ট সকাল থেকে ঢাকার প্রবেশদ্বারে বিজিবি ছাত্র জনতাকে সমর্থন করেছে। বিজিবির যে সদস্য অপেশাদার আচরণ করেছে তার/তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

জানা যায়, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে বিজিবি’র ভূমিকার আদ্যোপান্ত নিয়ে চলতি বছরের বৃহস্পতিবার (৩ অক্টোবর) বিজিবি সদর দপ্তরে কনফারেন্স হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন বিজিবি মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। সেদিন তিনি বলেন, ‘ছাত্র আন্দোলনে বিজিবিকে হেলিকপ্টার ব্যবহার করতে বলা হয়েছিল, কিন্তু সেটি করিনি আমরা। সরকারি আদেশ মান্য করার পাশাপাশি অভ্যুত্থানে বিজিবি ছাত্রদের সহায়তা করেছে। ৫ আগস্ট ‘লংমার্চ টু ঢাকা’ ঠেকাতে বিজিবিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। অনেক বড় বড় জায়গা থেকে রিকোয়েস্ট করা হয়েছিল। অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার পক্ষে কৌশলগতভাবে কাজ করেছে বিজিবি।’ এসব কারণেই সম্ভবত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অনেকে বিজিবির পিলখানার গেটে মিষ্টি নিয়ে আসে এবং উল্লাস প্রকাশ করে, এমন তথ্যও ঘুরেফিরে উচ্চারিত হচ্ছে অনেকের মুখে মুখে।

আত্মপ্রচারের বিপরীতে বরাবরই অবস্থান বিজিবি মহাপরিচালকের। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে তাঁর মেয়ে ও জামাই, ভাগ্নে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তিনি বাধা দেননি। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেছেন, আন্দোলন তো হচ্ছিল অধিকারের জন্য। সেই অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইকে সমর্থন করেছিলেন বলেই কীনা জুলাই মাসের শেষের দিকে ওপরের নির্দেশে যখন গণগ্রেপ্তার কার্যক্রম শুরু হয় তখনও সেই কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেনি বিজিবি। ওই গণগ্রেপ্তারে অংশ না নিয়ে বিজিবি ডিজি তখন উল্টো যুক্তি দেখিয়েছেন, গ্রেপ্তার কার্যক্রমের জন্য বিজিবি প্রশিক্ষিত ও প্রস্তুত নয়।

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার থেকে সরকার পতনের এক দফা-মাত্র ৩৬ দিনের আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর যখন নানা কায়দা-কানুনে বিজিবিকে কোন কোন পক্ষ কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর অপপ্রয়াস চালিয়েছে তখনও তিনি চুপ আর নমনীয় থেকেছেন। কিন্তু ওই সংবাদ সম্মেলনে সত্য যে কঠিন, সেই কঠিনকেই যেন ভালোবেসেছেন ডিজি বিজিবি। তাঁর একটি বক্তব্যের মধ্যে দিয়েই ছাত্র আন্দোলনে বিজিবির ভূমিকা স্পষ্ট হয়ে যায়। ওইদিন তিনি বলেন, ‘বিজিবির জনবল প্রায় ৫৭ হাজার। পুরো বিজিবি সদস্যের ৬ শতাংশের কিছু বেশি ছাত্র-জনতার আন্দোলনে মোতায়েন ছিল। কেন এতো কম মোতায়েন হয়েছে সেজন্য আগের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আগের রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের নেতাদের কাছে কৈফিয়ত ও জবাবদিহি দিতে হয়েছে অসংখ্যবার।’ পুলিশ যে ভূমিকা পালন করছে সেই ভূমিকা বিজিবি অনেকক্ষেত্রে ইচ্ছে করে পালন করছে না সে বিষয়ে আমাকে দোষারোপ করা হয়েছে, যোগ করেছিলেন মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী।

বিজিবি মহাপরিচালক সংবাদ সম্মেলনটিতে জানান, ‘পুলিশের চাইতে বিজিবির ১৫ থেকে ২০ গুণ মারণাস্ত্র বা আগ্নেয়াস্ত্র আছে। বিজিবির কাছে লাইট মেশিনগান, মেশিনগান, মর্টার, গ্রেনেড, রকেট বিধ্বংসী কয়েক প্রকারের অস্ত্র রয়েছে এগুলোর কোনোটাই ছাত্র আন্দোলনে ব্যবহার করা হয়নি। তাছাড়া ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আহতের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় সেখান থেকে আমরা অনেককে আমাদের বিজিবি হাসপাতালে নিয়ে এসে চিকিৎসা দিয়েছি। তাদের যাবতীয় খরচ বিজিবি বহন করেছে।’

সেদিনের সংবাদ সম্মেলনে বিজিবি ডিজি গুরুত্বপূর্ণ আরও একটি তথ্য উপস্থাপন করে বলেন, ‘ছাত্র আন্দোলনে একজন ব্যাটালিয়ন কমান্ডার অফিসার গুলি করছেন। ওই ঘটনায় বিজিবি থেকে তাকে অপসারণ করা হয়েছে। তাকে শুধু ওএসডি করা হয়নি, তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত করে তাকে সর্বোচ্চ শাস্তিমূলক শাস্তির জন্য সুপারিশ করে লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদমর্যাদার ওই কর্মকর্তাকে বাহিনীতে ফেরত পাঠানো হয়েছে। যেন সেনাবাহিনীর অধীনে তার সাজা কার্যকর হয়। তদন্ত করতে গিয়ে জানতে পারি, তার সঙ্গে একজন মেজর ছিলেন। যদিও তিনি গুলি করেননি। তবে তিনি ভয়-ভীতি প্রদর্শন করেছেন। তাকেও আমরা কিছুটা শাস্তির আওতায় নিয়ে আসছি।’

কালের আলো/এমএসএএকে

‘আমার চোখে সবাই সেরা, আরেকজন আমি’-অপু বিশ্বাস

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৩৬ অপরাহ্ণ
‘আমার চোখে সবাই সেরা, আরেকজন আমি’-অপু বিশ্বাস

ঢালিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী অপু বিশ্বাস বর্তমানে অভিনয় নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সম্প্রতি ‘শিকার’ সিনেমার শুটিংয়ে অংশ নিয়েছেন তিনি। কামরুজ্জামান রোমান পরিচালিত সিনেমাটির বড় একটি অংশের শুটিং হয়েছে নেপালে। তবে সিনেমাটির বাকি কাজ নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কারণ, সিনেমাটির নায়ক মর্তুজা পলাশ বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

‘শিকার’ সিনেমায় অপু বিশ্বাস ও মর্তুজা পলাশের পাশাপাশি অভিনয় করেছেন মাহমুদুল ইসলাম মিঠু, সুমন আনোয়ার, পশ্চিমবঙ্গের কৌতুক অভিনেতা খরাজ মুখার্জি, শক্তিমান অভিনেতা রজতাভ দত্ত ও শ্যাম ভট্টাচার্যসহ আরও অনেকে।

এদিকে অভিনয়ের পাশাপাশি সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে নিজের পছন্দের নায়ক-নায়িকাদের তালিকা নিয়ে কথা বলেছেন অপু বিশ্বাস। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে দেশের অনেক জনপ্রিয় অভিনেতা-অভিনেত্রীর সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। তাই তার চোখে ঢালিউডের সেরা নায়ক ও নায়িকা কারা—এমন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় তাকে।

জবাবে অপু বিশ্বাস প্রথমেই বলেন, ‘আমার চোখে সবাই সেরা।’ এরপর নায়িকাদের প্রসঙ্গ উঠলে কয়েকজন জনপ্রিয় অভিনেত্রীর নাম উল্লেখ করেন তিনি। তার তালিকায় রয়েছেন মৌসুমী, পূর্ণিমা, শাবনূর ও পপি।

তবে এখানেই শেষ নয়। উপস্থাপিকা যখন উল্লেখ করেন যে চারজনের নাম হয়ে গেছে, তখন হাসতে হাসতে নিজের নামটিও সেই তালিকায় যোগ করেন অপু বিশ্বাস। তিনি বলেন, ‘আরেকজন আমি।’ নিজের নাম বলেই হেসে ওঠেন অভিনেত্রী। সাক্ষাৎকারের এই মুহূর্তটি বেশ হাস্যরসের জন্ম দেয়।

নায়কদের তালিকায় পাঁচজন

নায়িকাদের পর অপু বিশ্বাসের কাছে জানতে চাওয়া হয় তার পছন্দের নায়কদের নাম। এবার তিনি পাঁচজনের নাম উল্লেখ করেন। তার তালিকায় রয়েছেন রিয়াজ, ফেরদৌস, আমিন খান, শাকিব খান ও শাকিল খান।

দীর্ঘ অভিনয়জীবনে এসব অভিনেতার অনেকের সঙ্গেই পর্দা ভাগ করেছেন অপু বিশ্বাস। ফলে তার পছন্দের তালিকায় ঢালিউডের একাধিক পরিচিত ও জনপ্রিয় তারকার নাম থাকাটা নতুন করে আগ্রহ তৈরি করেছে।

তবে অপু বিশ্বাসের এই তালিকাকে কোনো আনুষ্ঠানিক ‘সেরা’ নির্বাচন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। সাক্ষাৎকারে তিনি নিজের ব্যক্তিগত পছন্দের জায়গা থেকেই নায়ক-নায়িকাদের নাম উল্লেখ করেছেন। আর নিজের নাম তালিকায় যোগ করে হাস্যরসের যে মুহূর্ত তৈরি করেছেন, সেটিই সাক্ষাৎকারের অন্যতম আলোচিত অংশ হয়ে উঠেছে।

কালের আলো/এসএ

দ্বিতীয় সিনেমার পর ফের বড় পর্দায় মেহজাবীন, প্রস্তুতি নিচ্ছেন তৃতীয় ছবির

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:০০ অপরাহ্ণ
দ্বিতীয় সিনেমার পর ফের বড় পর্দায় মেহজাবীন, প্রস্তুতি নিচ্ছেন তৃতীয় ছবির

নাটকের পরিচিত গণ্ডি পেরিয়ে কয়েক বছর আগেই বড় পর্দায় পা রেখেছেন মেহজাবীন চৌধুরী। ছোট পর্দায় দীর্ঘদিনের জনপ্রিয়তার পর এখন সিনেমাতেই নিজের অভিনয়ের পরিসর আরও বড় করার চেষ্টা করছেন তিনি। বেছে বেছে কাজ করার নীতিতে আগের তুলনায় পর্দায় তার উপস্থিতিও কমেছে। তবে এবার নতুন একটি সিনেমায় অভিনয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

তবে নতুন সিনেমাটির নাম, গল্প কিংবা সহশিল্পীদের বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। মূলত দ্বিতীয় সিনেমা ‘সাবা’-এর পর বড় পর্দায় আর দেখা যায়নি মেহজাবীনকে। এবার তৃতীয় সিনেমার জন্যই নিজেকে প্রস্তুত করছেন বলে শোনা যাচ্ছে।

২০০৯ সালে লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে শোবিজে যাত্রা শুরু করেন মেহজাবীন। এরপর নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে অল্প সময়েই দর্শকদের পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন তিনি। ধীরে ধীরে নিজের অভিনয় দক্ষতা ও বৈচিত্র্যময় চরিত্র নির্বাচনের মাধ্যমে তৈরি করেন আলাদা অবস্থান।

‘বড় ছেলে’, ‘পুনর্জন্ম’সহ বেশ কিছু আলোচিত নাটকে অভিনয় করে দর্শকদের প্রশংসা পেয়েছেন মেহজাবীন। টেলিভিশনের পাশাপাশি ওয়েব ফিল্ম ও ওয়েব সিরিজেও কাজ করেছেন তিনি। ‘রেডরাম’, ‘সাবরিনা’ ও ‘নীল জলের কাব্য’-এর মতো বিভিন্ন ওয়েবভিত্তিক প্রকল্পে দেখা গেছে এই অভিনেত্রীকে।

সিনেমায় ভিন্ন গল্পের খোঁজ

সিনেমাতেও নিজের অভিনয়ের পরিসর বাড়ানোর চেষ্টা করেছেন মেহজাবীন। শঙ্খ দাশগুপ্ত পরিচালিত ‘প্রিয় মালতী’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় তার। এরপর ‘সাবা’ সিনেমায় নাম ভূমিকায় অভিনয় করেন তিনি।

বিশেষ করে নারীপ্রধান চরিত্র এবং প্রচলিত ধারার বাইরে ভিন্নধর্মী গল্পের প্রতি তার আগ্রহের কথা বিভিন্ন সময়ে উঠে এসেছে। কাজ নির্বাচনের ক্ষেত্রেও গল্প ও চরিত্রকে গুরুত্ব দেন অভিনেত্রী। ফলে নিয়মিত কাজের পরিবর্তে পছন্দের গল্প ও চরিত্র পেলেই পর্দায় হাজির হচ্ছেন তিনি।

সিনেমায় মনোযোগ বাড়ানোর কারণে নাটকে তার উপস্থিতিও আগের তুলনায় কমেছে। তবে নাটক থেকে পুরোপুরি সরে যাওয়ার কথা কখনোই বলেননি মেহজাবীন। ভালো গল্প ও পছন্দের চরিত্র পেলে আবারও নাটকে অভিনয় করার আগ্রহ রয়েছে তার।

ব্যক্তিজীবনের নতুন অধ্যায়

অন্যদিকে ব্যক্তিজীবনেও নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন মেহজাবীন চৌধুরী। বিয়ের পর সংসার সামলানোর পাশাপাশি অভিনয় নিয়েও নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সাজাচ্ছেন তিনি।

সব মিলিয়ে নতুন সিনেমায় মেহজাবীনের প্রত্যাবর্তনের খবর তার ভক্তদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করেছে। নতুন ছবির গল্প, চরিত্র, পরিচালক ও সহশিল্পীদের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এলে তার সিনেমা ক্যারিয়ারের পরবর্তী অধ্যায় আরও স্পষ্ট হবে।

কালের আলো/এসএ

দুর্নীতির অভিযোগের পরও সেই সচিব নুরীর পুনর্বাসন, ঠিকানা ইউনাইটেড

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৫৮ অপরাহ্ণ
দুর্নীতির অভিযোগের পরও সেই সচিব নুরীর পুনর্বাসন, ঠিকানা ইউনাইটেড

সরকারি ক্ষমতার শীর্ষ করিডরে যার ছিল অবাধ যাতায়াত, ফ্যাসিবাদী সরকার বদলের পর এক সময়কার ক্ষমতাধর আমলা এ বি এম আমিন উল্লাহ নুরীর ঠিকানা এখন দেশের অন্যতম বড় শিল্পগোষ্ঠী ইউনাইটেড। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিবের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই তার এই নতুন কর্মস্থল নিয়ে প্রশ্ন উঠে।

কারণ, নুরীর নাম শুধু গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদায়নের সঙ্গে নয়—রাজউকের প্লট, বিধিমালা, ডিএসসিসির বিপুল অর্থ স্থানান্তরসহ নানা অভিযোগের সঙ্গেও আলোচিত। প্রশ্নটি তাই শুধু নতুন চাকরি নয়। সরকারি ক্ষমতার বলয়ে দীর্ঘদিন থাকা এবং বিতর্কিত অভিযোগে ঘেরা একজন কর্মকর্তাকে সরকার পরিবর্তনের পর এত দ্রুত একটি প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গোষ্ঠীতে জায়গা করে দেওয়ার নেপথ্যে কী ছিল?

  • কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ক্ষমতার কেন্দ্রে দাপট
  • রাজউক-ডিএসসিসিতে নানা অভিযোগ
  • সচিবের পদ হারানোর পরই বড় শিল্পগোষ্ঠীতে নির্বাহী পরিচালক—পুরোনো সম্পর্কের নতুন হিসাব

সচিবের চেয়ার থেকে ইউনাইটেডের বোর্ডরুম
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের ৫ জুন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিবের দায়িত্ব নেন নুরী। ২০২৪ সালের ২৬ জুন তার চুক্তির মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ানো হয়। সরকারি নথিতে তার দায়িত্বের অবসান দেখানো হয়েছে ১৪ আগস্ট ২০২৪। এরপরই ইউনাইটেড গ্রুপে নির্বাহী পরিচালক হিসেবে তার যোগদানের বিষয়টি সামনে আসে। এই সময়ের ব্যবধানই তৈরি করেছে ‘পুনর্বাসন’-এর প্রশ্ন। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ আমলা হিসেবে পরিচিত একজন কর্মকর্তা সরকার পরিবর্তনের পর প্রশাসনে জায়গা না পেলেও বেসরকারি খাতের একটি শক্তিশালী শিল্পগোষ্ঠীতে কীভাবে নির্বাহী পর্যায়ের পদ পেলেন—এটির উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়।

একের পর এক ক্ষমতাবান পদ
নুরীর প্রশাসনিক ক্যারিয়ার ছিল গুরুত্বপূর্ণ পদে ধারাবাহিক উত্থানের। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, শিল্প ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পদ, ধর্মবিষয়ক ও গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেরিয়ে তিনি ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হন। পরে ২০২১ সালে দায়িত্ব পান রাজউকের চেয়ারম্যান হিসেবে। ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হওয়ার সময় মেয়র ছিলেন শেখ ফজলে নূর তাপস। সে সময় নুরীর নিয়োগসহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসনিক পরিবর্তন নিয়ে সংবাদমাধ্যমে আলোচনা হয়েছিল। তাপসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণেই নুরী পরবর্তী সময়ে রাজউকের চেয়ারম্যানের পদ পেয়েছিলেন—এমন অভিযোগ রয়েছে।

রাজউকে প্লটের খেলা, বিধিমালা নিয়েও প্রশ্ন
রাজউকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব ছিল নুরীর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে প্রভাবশালী অধ্যায়গুলোর একটি। রাজধানীর জমি, ভবন ও নগর উন্নয়নসংক্রান্ত অনুমোদন ও নিয়ন্ত্রণের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা তখন তার প্রতিষ্ঠানের হাতে। এই সময় প্লট বরাদ্দ নিয়ে নুরীর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ওঠে। প্রভাবশালী ব্যক্তি ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্ঠদের প্লট পাওয়ার প্রক্রিয়ায় তিনি ভূমিকা রেখেছিলেন—এমন অভিযোগও রয়েছে। প্লট বরাদ্দের বিধিমালা পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল।

রাজউকের চেয়ারেই ইউনাইটেডের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ
নুরীর বর্তমান কর্মস্থল ইউনাইটেড গ্রুপ হওয়ায় তার রাজউক-পর্বের একটি ঘটনা নতুন করে তাৎপর্য পাচ্ছে।।২০২১ সালে রাজউকের চেয়ারম্যান থাকাকালে নুরী ইউনাইটেড ডেলকটের সঙ্গে পূর্বাচল পানি সরবরাহ প্রকল্পের একটি চুক্তিতে রাজউকের পক্ষে স্বাক্ষর করেন। প্রকল্পটি ছিল সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) আওতায়। একই অনুষ্ঠানে ইউনাইটেড ডেলকটের ব্যবস্থাপনা পরিচালকও চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। পরে সেই ইউনাইটেড গ্রুপেই নুরীর নির্বাহী পদে যোগদান করায় পুরোনো সরকারি দায়িত্বকালের যোগাযোগ এখন অনুসন্ধানের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। রাজউকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় যে প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তার আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ ছিল, পরবর্তী সময়ে সেই শিল্পগোষ্ঠীরই নির্বাহী পদে তার যোগদান—এই দুই ঘটনার মধ্যে কোনো স্বার্থগত সম্পর্ক ছিল কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

ডিএসসিসির ৯৬৬ কোটি টাকার অভিযোগ
নুরীর বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা থাকার সময়ের। অভিযোগকারীদের দাবি, সিটি করপোরেশনের ৫৪৩ কোটি টাকা এবং বিভিন্ন প্রকল্পের আরও ৪২৩ কোটি টাকা—মোট ৯৬৬ কোটি টাকা—মধুমতি ব্যাংকে স্থানান্তরের ঘটনায় নুরীর ভূমিকা ছিল। অভিযোগের সঙ্গে তৎকালীন মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের নামও এসেছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, অর্থ স্থানান্তরের ক্ষেত্রে তৎকালীন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে নুরী সহযোগিতা করেছিলেন। তবু অভিযোগের অঙ্কটি এত বড় যে, তার নতুন করপোরেট নিয়োগের প্রেক্ষাপটে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।

কালের আলো/এসআর/এএএন