খুঁজুন
                               
বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬, ২৪ বৈশাখ, ১৪৩৩
           

মনপুরার দু:খগাঁথা নিয়ে নৌপরিবহন উপদেষ্টার ক্ষোভ, লঞ্চঘাট আধুনিকায়নে একগুচ্ছ উদ্যোগ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২৫, ১০:০৫ অপরাহ্ণ
মনপুরার দু:খগাঁথা নিয়ে নৌপরিবহন উপদেষ্টার ক্ষোভ, লঞ্চঘাট আধুনিকায়নে একগুচ্ছ উদ্যোগ

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:

সবুজ শ্যামল ঘেরা ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ লীলাভূমি রূপালী দ্বীপ মনপুরা। ভোলা জেলার মূল ভুখণ্ড থেকে একেবারেই বিচ্ছিন্ন! এখানে নদী আর সাগরের মিতালীর অপরূপ সৌন্দর্য মানুষকে মুগ্ধ করে। মাইলের পর মাইল বৃক্ষের সবুজের সমাহার যেন ক্যানভাসে আঁকা শিল্পীর নিপুণ হাতে ছোঁয়া। যেখান থেকে সাগরের উত্তাল ঢেউয়ের দৃশ্য উপভোগ করাসহ সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত দেখতে পর্যটকেরা ভিড় জমায়। তবে আক্ষেপের বিষয় মনপুরায় মেঘনা নদীর ভাঙন ঠেকানো সম্ভব হয়নি আজও। পতিত সরকারের সময়ে নদীর এক পাশে জিও ব্যাগ ও সিসি ব্লক ফেলতে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ১ হাজার ১০০ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করলেও কাজের কাজ হয়নি কিছুই।

পুরো বিষয়টি নজরে এসেছে অন্তর্বর্তী সরকারের নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড.এম সাখাওয়াত হোসেন এর। শনিবার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে ভোলার মনপুরা উপজেলার হাজিরহাট ঘাট পরিদর্শনের পর স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় ‘সাগর কন্যা’ খ্যাত এই উপজেলার দু:খগাঁথা নিয়ে রীতিমতো ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের এই উপদেষ্টা। মতবিনিময় সভায় তিনি বলেছেন, ‘বিগত সরকারের আমলে বিচ্ছিন্ন মনপুরা উপজেলায় নদীভাঙন বন্ধে হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প পাস হয়েছে। কিন্তু এখনো মনপুরায় নদীভাঙন প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়নি।…এই দেশের কোটি কোটি টাকা দেশের বাইরে পাচার হয়ে গেছে। এই টাকাগুলো দেশে থাকলে দেশ অনেক উন্নত হতো। এখন কোনো উন্নয়ন করতে গেলে চিন্তা করতে হয়। দুর্নীতি তাদের রক্তের সঙ্গে মিশে গেছে।’ এজন্য আগামী নির্বাচনে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দেন উপদেষ্টা।

জানা যায়, দু’দিনের সরকারি সফরে বর্তমানে ভোলায় রয়েছেন নৌপরিবহন ও শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন। বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে আধুনিক লঞ্চ ঘাট ও জেটি প্রকল্পের স্থান পরিদর্শনে টানা দু’দিনই সেখানে ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করেন উপদেষ্টা। সফরের প্রথম দিন শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) বিকেলে ভোলার দৌলতখান উপজেলার বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল লঞ্চঘাট, তজুমদ্দিন উপজেলার চৌমুহনী লঞ্চঘাট ও লালমোহন উপজেলার বাত্তিরখাল লঞ্চঘাট পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় তিনি নৌপথে চাঁদাবাজি বন্ধের পাশাপাশি সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশ ও কোস্টগার্ডকে যৌথভাবে কাজ করার নির্দেশনা প্রদান করেন।

আগামী দিনে চোরদের নির্বাচিত না করার পরামর্শ
সফরের দ্বিতীয় দিনে শনিবার (১৮ জানুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে মনপুরা উপজেলার কলাতলী ইউনিয়নের ঢালচরে নতুন একটি লঞ্চঘাটের উদ্বোধন করেন উপদেষ্টা ড.এম সাখাওয়াত হোসেন। পরিদর্শন করেন একই উপজেলার রামনেওয়াজ ঘাট। পরে উপজেলার হাজিরহাট ঘাট পরিদর্শনের পর স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘আমরা হয়তো আর বেশি দিন নেই। আগামী নির্বাচনে কোনো চোরদের নির্বাচন করিয়েন না। আপনারা সব দেখেছেন এবং জানেন। আমার দুঃখ লাগে, এই দেশের কোটি কোটি টাকা দেশের বাইরে পাচার হয়ে গেছে। এই টাকাগুলো দেশে থাকলে দেশ অনেক উন্নত হতো।’

একটি দেশে উন্নয়ন বলতে কেবল শহরের রূপান্তরকেই বুঝায় না। উন্নয়ন শব্দটি গ্রামের ক্ষেত্রেও সমভাবে প্রযোজ্য হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু ‘উন্নয়ন’ শব্দটিকে ব্যবহার করে কেবলই নিজেদের আখের গুছিয়েছে বিগত সরকার। উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রান্তিক অঞ্চল থেকেছে বঞ্চিত আর অবহেলিত। ভোলা সফরকালে এই বৈষম্য দৃষ্টিতে এসেছে নৌপরিবহন ও শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন এর। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সার্বিক ব্যবস্থা ও সেবার মানে কোন উন্নতি পরিলক্ষিত না হওয়ায় প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘উন্নয়ন বলতে যেটা বোঝায়, সেটি হচ্ছে প্রান্তিক অঞ্চলের উন্নয়ন। বিগত দিনে প্রান্তিক অঞ্চলের উন্নয়ন হয়নি। বিগত সরকারে যারা ছিল, তারা নিজেদের মধ্যে টাকা লুটপাট করার জন্য বড় বড় প্রকল্প হাতে নিয়েছে। তাই প্রান্তিক অঞ্চলের উন্নয়ন হয়নি। ফলে দেশেরও উন্নয়ন হয়নি।’

ভোলার লঞ্চঘাট আধুনিকায়নে একগুচ্ছ উদ্যোগ
ভোলার প্রধান সমস্যা নদী ভাঙন। বর্ষা মৌসুমে সমুদ্র উত্তাল থাকে। নদী পারাপারে স্থানীয় জনসাধারণের নানাবিধ সমস্যার মুখে পড়তে হয়। ঝুঁকি নিয়ে পার হতে হয় নদী। এখানে যাত্রীসেবার মান নিয়েও রয়েছে অনেক প্রশ্ন। সরকার গিয়ে সরকার এলেও লঞ্চঘাটগুলোর সমস্যা সমাধানে নেওয়া হয়নি কার্যকর কোন উদ্যোগ। ভোলার লঞ্চঘাটগুলোকে মানসম্মত নয় বলে মন্তব্য করেছেন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন। তিনি এসব লঞ্চঘাটে যাত্রী ছাউনি থেকে শুরু করে আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতের দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘ভোলার চারপাশে নদী। এই দ্বীপ জেলা ভোলায় যে ঘাটগুলো আছে, তা মানসম্পন্ন ও পর্যাপ্ত নয়। ঘাটগুলোতে তেমন কোনো সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যায় না। এর পরিপ্রেক্ষিতে ভোলায় বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বেশ কিছু ঘাটের পুন:নির্মাণ করা হচ্ছে। ভোলার লঞ্চঘাটগুলোতে যাত্রীছাউনিসহ আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা থাকবে। যাতে ঝড়-বৃষ্টিতে লঞ্চের যাত্রীদের দুর্ভোগে পড়তে না হয়।’

মতবিনিময় সভায় ও ঢালচরে লঞ্চঘাটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাবেক জ্বালানি সচিব মো. নাজিম উদ্দিন চৌধুরী, বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান কমডোর আরিফ আহমেদ মোস্তফা, ভোলার জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. আজাদ জাহান, মনপুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পাঠান মোহাম্মদ সাইদুজ্জামান, মনপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহসান কবির, উপজেলা বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুদ্দিন বাচ্চু চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

লঞ্চঘাটগুলোতে অরাজকতা বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা
যাত্রীদের জিম্মি বানানোর ‘উৎকৃষ্ট’ উদাহরণ হিসেবে বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে ওঠে এসেছে বিভিন্ন লঞ্চঘাট। দেশের লঞ্চঘাটগুলোতে ইজারা নিয়ে অনিয়মের ঘটনা, স্থানীয় রাজনীতির প্রভাব ও নানা অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিষয়টি নতুন কিছু নয়। ঘাটগুলো নিয়ন্ত্রণে ইজারাদার ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা মিলে গড়ে ওঠেছে একটি চক্র। এই চক্রই ঘাটগুলোকে ঘিরে অরাজকতা তৈরি করছে প্রতিনিয়ত। এমন সব অসঙ্গতি নিয়ে কথা বলেছেন নৌপরিবহন উপদেষ্টা। শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) বিকেলে ভোলার দৌলতখান উপজেলার বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল লঞ্চঘাট, তজুমদ্দিন উপজেলার চৌমুহনী লঞ্চঘাট ও লালমোহন উপজেলার বাত্তিরখাল লঞ্চঘাট পরিদর্শনকালে উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘আমরা যত দিন আছি, তত দিন লঞ্চঘাটগুলোতে অরাজকতা সৃষ্টি হতে দেব না। লঞ্চঘাটগুলোতে যে অরাজকতা হয়, তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

‘ভবিষ্যতে যারা সরকারে ক্ষমতায় আসবে, আশা করি তারা অতীত থেকে শিক্ষা নেবে’- এমন মন্তব্য করে তিনি সেদিন আরও বলেন, ‘ঘাটের ইজারাদারদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাঁচ টাকার ঘাটের টিকিটের স্থানে ১০ টাকা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আমরা সে বিষয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছি। এ বিষয়ে সবাইকে সোচ্চার হতে হবে। কেননা এখন আর আগের সেই স্বৈরাচারী সরকার নেই। স্বৈরাচারী সরকারের সময় যা খুশি তা করেছে, সেটা যেন এখন আর না হয়।’

কালের আলো/এমএএএমকে

র‍্যাবের জন্য কেনা হচ্ছে ১৬৩ গাড়ি, খরচ ১২২ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬, ৬:০৭ অপরাহ্ণ
র‍্যাবের জন্য কেনা হচ্ছে ১৬৩ গাড়ি, খরচ ১২২ কোটি টাকা

র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) আভিযানের সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে ১৬৩টি গাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে ৩টি জিপ, ১০০টি টহল পিকআপ এবং ৬০টি এসি মাইক্রোবাস রয়েছে। দরপত্র ছাড়াই সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এসব গাড়ি কেনা হবে। এতে ব্যয় হবে ১২২ কোটি টাকার বেশি।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এই গাড়ি কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন র‍্যাবের ‘র‍্যাব ফোর্সেসের আভিযানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি (১ম সংশোধিত)’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১২২ কোটি ২৭ লাখ ৪৫ হাজার টাকার যানবাহন ক্রয়ের প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। মন্ত্রিসভা কমিটি প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করে অনুমোদন দিয়েছে।

সুপারিশ অনুযায়ী, ৩টি জিপ, ১০০টি প্যাট্রল পিকআপ এবং ৬০টি এসি মাইক্রোবাস রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের মাধ্যমে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে সংগ্রহ করা হবে। এ সংক্রান্ত প্রস্তাবটি গত ২৭ জানুয়ারি অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির (সিসিইএ) বৈঠকে নীতিগত অনুমোদন পায়।

জানা গেছে, গত ৫ এপ্রিল অর্থ বিভাগের পরিপত্র অনুযায়ী সব ধরনের যানবাহন ক্রয় বন্ধ থাকলেও দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং র‍্যাবের আভিযানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রয়োজন বিবেচনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিশেষভাবে এ প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়।

প্রকল্পটি ২০১৮ সালের ৭ নভেম্বর একনেক থেকে অনুমোদিত হয়। এর মেয়াদ ১ ডিসেম্বর ২০১৮ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত নির্ধারিত। চলতি আরএডিপিতে প্রকল্পটির অনুকূলে ১৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে।

কালের আলো/এসএকে

বাংলাদেশে আরেকটি শিক্ষা আন্দোলনের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে: দেবপ্রিয়

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬, ৫:২৬ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশে আরেকটি শিক্ষা আন্দোলনের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে: দেবপ্রিয়

নতুন করে আরেকটি শিক্ষা আন্দোলনের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ও গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, এই আন্দোলন শুধু শিক্ষার্থীদের স্কুলে ভর্তি করানোর জন্য নয়, বরং শিক্ষার প্রকৃত মান ও ফলাফল নিশ্চিত করার আন্দোলন হতে হবে।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে রাজধানীতে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম আয়োজিত ‘সরকারের অগ্রাধিকার ও শিক্ষা খাত: বাজেট ও বাস্তবতা’ শীর্ষক সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নের পরবর্তী ধাপে যেতে হলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হচ্ছে মানসম্পন্ন শিক্ষা। কিন্তু শিক্ষার মান, বরাদ্দ, ব্যয়ের কাঠামো, ঝরে পড়া, বাল্যবিবাহ, শিশুশ্রম ও আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ শিক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এখনও বড় ঘাটতি রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, শিক্ষাখাত নিয়ে বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের ব্যাখ্যা বা বয়ান চালু রয়েছে। কেউ বলেন, সরকার শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। কিন্তু অর্থনীতির ছাত্র হিসেবে আমরা অগ্রাধিকার বুঝি বরাদ্দ দিয়ে। বরাদ্দ যদি যথেষ্ট না হয়, তাহলে সেই অগ্রাধিকার বাস্তব নয়। আবার শুধু বরাদ্দ দিলেই হবে না, সেই বরাদ্দ কোথায় এবং কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা, মাধ্যমিক শিক্ষা কিংবা উচ্চশিক্ষা— কোন খাতে কত ব্যয় হচ্ছে, সেটি যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি গুরুত্বপূর্ণ সেই ব্যয় অবকাঠামো নির্মাণে যাচ্ছে নাকি শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়নে ব্যয় হচ্ছে। কেবল ভবন নির্মাণ করলেই শিক্ষার মান বাড়ে না।

সরকারের উপবৃত্তি কর্মসূচির প্রসঙ্গ তুলে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, বিভিন্ন সময় বলা হয়েছে যে শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমাতে উপবৃত্তি দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু শুধু উপবৃত্তি দিয়ে শিক্ষার ব্যয় মোকাবিলা সম্ভব নয়। পরিবারের আরো নানা ধরনের খরচ রয়েছে, যা দরিদ্র ও পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর জন্য বড় চাপ তৈরি করে। বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে দেখা গেছে, সবাই শিক্ষার মান নিয়ে উদ্বিগ্ন। মানুষ মনে করছে, শিক্ষাক্ষেত্রে বিদ্যমান বিশৃঙ্খলা দূর করা না গেলে এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে শিক্ষার ভেতরে ধরে রাখা না গেলে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব হবে না।

ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা, বিশেষ করে মেয়েদের ঝরে পড়া, বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রম বৃদ্ধিকে উদ্বেগজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব সমস্যা সমাধান না হলে প্রকৃত অর্থে শিক্ষার অগ্রগতি হবে না। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য ও তুলনামূলক মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করাও সম্ভব হবে না।

সম্প্রতি পরিচালিত এক গবেষণার তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, আগামী দিনের শ্রমবাজার বড় ধরনের পরিবর্তনের মুখে পড়তে যাচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবটিক্স ও প্রযুক্তির বিস্তারের কারণে প্রায় ৫৬ লাখ কর্মসংস্থান হারিয়ে যেতে পারে। আবার নতুন করে প্রায় ৫০ লাখ কাজের সুযোগও সৃষ্টি হবে। কিন্তু সেই নতুন ধরনের কাজের জন্য দেশের তরুণ সমাজ প্রস্তুত কি না, তা নিয়ে বড় ধরনের আশঙ্কা রয়েছে।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, আগে আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল সবাইকে শিক্ষার আওতায় আনা। এখন সময় এসেছে শিক্ষার ফলাফল নিশ্চিত করার। ইংরেজিতে যেটা বলা হয়, আগে ছিল ‘ফাইট ফর এডুকেশন’, এখন সময় এসেছে ‘ফাইট ফর আউটকাম অব এডুকেশন’ এর। শিক্ষা আন্দোলনকে শুধু কারিগরি মতামতের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না। এটিকে রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতে হবে। এ লক্ষ্যে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নিয়েও একটি জোট গঠনের চিন্তা করা হচ্ছে, যাতে শিক্ষা সংস্কার ও মানোন্নয়নের দাবিকে আরো জোরালোভাবে সামনে আনা যায়।

কালের আলো/এসআর/এএএন

দীপু মনি, সাংবাদিক বাবু ও ফারজানাকে হাজিরের নির্দেশ ট্রাইব্যুনালের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬, ৫:১৯ অপরাহ্ণ
দীপু মনি, সাংবাদিক বাবু ও ফারজানাকে হাজিরের নির্দেশ ট্রাইব্যুনালের

রাজধানীর মতিঝিলে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাংবাদিক ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবুকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ রাষ্ট্রপক্ষ থেকে এই আবেদন করা হয়। পরে তাদের ১৪ মে হাজিরের নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

আদেশের বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ২০১৩ সালে হেফাজতের সমাবেশে হত্যাকাণ্ড ছিল পূর্বপরিকল্পিত। ওই ঘটনায় অন্যদের সঙ্গে সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, ৭১ টিভির সাংবাদিক মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রতিবেদনে কার কী ভূমিকা ছিল, তা বিস্তারিত উল্লেখ করা হবে। আপাতত তিনজনের বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট চাওয়া হয়েছে।

আগামী ৭ জুন এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য রয়েছে। এরই মধ্যে হেফাজতের সমাবেশকে কেন্দ্র করে ৫৮ জন নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে তদন্ত সংস্থা।

কালের আলো/এসআর/এএএন