খুঁজুন
                               
, ,
           

মনপুরার দু:খগাঁথা নিয়ে নৌপরিবহন উপদেষ্টার ক্ষোভ, লঞ্চঘাট আধুনিকায়নে একগুচ্ছ উদ্যোগ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২৫, ১০:০৫ অপরাহ্ণ
মনপুরার দু:খগাঁথা নিয়ে নৌপরিবহন উপদেষ্টার ক্ষোভ, লঞ্চঘাট আধুনিকায়নে একগুচ্ছ উদ্যোগ

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:

সবুজ শ্যামল ঘেরা ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ লীলাভূমি রূপালী দ্বীপ মনপুরা। ভোলা জেলার মূল ভুখণ্ড থেকে একেবারেই বিচ্ছিন্ন! এখানে নদী আর সাগরের মিতালীর অপরূপ সৌন্দর্য মানুষকে মুগ্ধ করে। মাইলের পর মাইল বৃক্ষের সবুজের সমাহার যেন ক্যানভাসে আঁকা শিল্পীর নিপুণ হাতে ছোঁয়া। যেখান থেকে সাগরের উত্তাল ঢেউয়ের দৃশ্য উপভোগ করাসহ সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত দেখতে পর্যটকেরা ভিড় জমায়। তবে আক্ষেপের বিষয় মনপুরায় মেঘনা নদীর ভাঙন ঠেকানো সম্ভব হয়নি আজও। পতিত সরকারের সময়ে নদীর এক পাশে জিও ব্যাগ ও সিসি ব্লক ফেলতে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ১ হাজার ১০০ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করলেও কাজের কাজ হয়নি কিছুই।

পুরো বিষয়টি নজরে এসেছে অন্তর্বর্তী সরকারের নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড.এম সাখাওয়াত হোসেন এর। শনিবার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে ভোলার মনপুরা উপজেলার হাজিরহাট ঘাট পরিদর্শনের পর স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় ‘সাগর কন্যা’ খ্যাত এই উপজেলার দু:খগাঁথা নিয়ে রীতিমতো ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের এই উপদেষ্টা। মতবিনিময় সভায় তিনি বলেছেন, ‘বিগত সরকারের আমলে বিচ্ছিন্ন মনপুরা উপজেলায় নদীভাঙন বন্ধে হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প পাস হয়েছে। কিন্তু এখনো মনপুরায় নদীভাঙন প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়নি।…এই দেশের কোটি কোটি টাকা দেশের বাইরে পাচার হয়ে গেছে। এই টাকাগুলো দেশে থাকলে দেশ অনেক উন্নত হতো। এখন কোনো উন্নয়ন করতে গেলে চিন্তা করতে হয়। দুর্নীতি তাদের রক্তের সঙ্গে মিশে গেছে।’ এজন্য আগামী নির্বাচনে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দেন উপদেষ্টা।

জানা যায়, দু’দিনের সরকারি সফরে বর্তমানে ভোলায় রয়েছেন নৌপরিবহন ও শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন। বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে আধুনিক লঞ্চ ঘাট ও জেটি প্রকল্পের স্থান পরিদর্শনে টানা দু’দিনই সেখানে ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করেন উপদেষ্টা। সফরের প্রথম দিন শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) বিকেলে ভোলার দৌলতখান উপজেলার বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল লঞ্চঘাট, তজুমদ্দিন উপজেলার চৌমুহনী লঞ্চঘাট ও লালমোহন উপজেলার বাত্তিরখাল লঞ্চঘাট পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় তিনি নৌপথে চাঁদাবাজি বন্ধের পাশাপাশি সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশ ও কোস্টগার্ডকে যৌথভাবে কাজ করার নির্দেশনা প্রদান করেন।

আগামী দিনে চোরদের নির্বাচিত না করার পরামর্শ
সফরের দ্বিতীয় দিনে শনিবার (১৮ জানুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে মনপুরা উপজেলার কলাতলী ইউনিয়নের ঢালচরে নতুন একটি লঞ্চঘাটের উদ্বোধন করেন উপদেষ্টা ড.এম সাখাওয়াত হোসেন। পরিদর্শন করেন একই উপজেলার রামনেওয়াজ ঘাট। পরে উপজেলার হাজিরহাট ঘাট পরিদর্শনের পর স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘আমরা হয়তো আর বেশি দিন নেই। আগামী নির্বাচনে কোনো চোরদের নির্বাচন করিয়েন না। আপনারা সব দেখেছেন এবং জানেন। আমার দুঃখ লাগে, এই দেশের কোটি কোটি টাকা দেশের বাইরে পাচার হয়ে গেছে। এই টাকাগুলো দেশে থাকলে দেশ অনেক উন্নত হতো।’

একটি দেশে উন্নয়ন বলতে কেবল শহরের রূপান্তরকেই বুঝায় না। উন্নয়ন শব্দটি গ্রামের ক্ষেত্রেও সমভাবে প্রযোজ্য হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু ‘উন্নয়ন’ শব্দটিকে ব্যবহার করে কেবলই নিজেদের আখের গুছিয়েছে বিগত সরকার। উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রান্তিক অঞ্চল থেকেছে বঞ্চিত আর অবহেলিত। ভোলা সফরকালে এই বৈষম্য দৃষ্টিতে এসেছে নৌপরিবহন ও শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন এর। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সার্বিক ব্যবস্থা ও সেবার মানে কোন উন্নতি পরিলক্ষিত না হওয়ায় প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘উন্নয়ন বলতে যেটা বোঝায়, সেটি হচ্ছে প্রান্তিক অঞ্চলের উন্নয়ন। বিগত দিনে প্রান্তিক অঞ্চলের উন্নয়ন হয়নি। বিগত সরকারে যারা ছিল, তারা নিজেদের মধ্যে টাকা লুটপাট করার জন্য বড় বড় প্রকল্প হাতে নিয়েছে। তাই প্রান্তিক অঞ্চলের উন্নয়ন হয়নি। ফলে দেশেরও উন্নয়ন হয়নি।’

ভোলার লঞ্চঘাট আধুনিকায়নে একগুচ্ছ উদ্যোগ
ভোলার প্রধান সমস্যা নদী ভাঙন। বর্ষা মৌসুমে সমুদ্র উত্তাল থাকে। নদী পারাপারে স্থানীয় জনসাধারণের নানাবিধ সমস্যার মুখে পড়তে হয়। ঝুঁকি নিয়ে পার হতে হয় নদী। এখানে যাত্রীসেবার মান নিয়েও রয়েছে অনেক প্রশ্ন। সরকার গিয়ে সরকার এলেও লঞ্চঘাটগুলোর সমস্যা সমাধানে নেওয়া হয়নি কার্যকর কোন উদ্যোগ। ভোলার লঞ্চঘাটগুলোকে মানসম্মত নয় বলে মন্তব্য করেছেন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন। তিনি এসব লঞ্চঘাটে যাত্রী ছাউনি থেকে শুরু করে আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতের দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘ভোলার চারপাশে নদী। এই দ্বীপ জেলা ভোলায় যে ঘাটগুলো আছে, তা মানসম্পন্ন ও পর্যাপ্ত নয়। ঘাটগুলোতে তেমন কোনো সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যায় না। এর পরিপ্রেক্ষিতে ভোলায় বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বেশ কিছু ঘাটের পুন:নির্মাণ করা হচ্ছে। ভোলার লঞ্চঘাটগুলোতে যাত্রীছাউনিসহ আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা থাকবে। যাতে ঝড়-বৃষ্টিতে লঞ্চের যাত্রীদের দুর্ভোগে পড়তে না হয়।’

মতবিনিময় সভায় ও ঢালচরে লঞ্চঘাটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাবেক জ্বালানি সচিব মো. নাজিম উদ্দিন চৌধুরী, বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান কমডোর আরিফ আহমেদ মোস্তফা, ভোলার জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. আজাদ জাহান, মনপুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পাঠান মোহাম্মদ সাইদুজ্জামান, মনপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহসান কবির, উপজেলা বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুদ্দিন বাচ্চু চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

লঞ্চঘাটগুলোতে অরাজকতা বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা
যাত্রীদের জিম্মি বানানোর ‘উৎকৃষ্ট’ উদাহরণ হিসেবে বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে ওঠে এসেছে বিভিন্ন লঞ্চঘাট। দেশের লঞ্চঘাটগুলোতে ইজারা নিয়ে অনিয়মের ঘটনা, স্থানীয় রাজনীতির প্রভাব ও নানা অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিষয়টি নতুন কিছু নয়। ঘাটগুলো নিয়ন্ত্রণে ইজারাদার ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা মিলে গড়ে ওঠেছে একটি চক্র। এই চক্রই ঘাটগুলোকে ঘিরে অরাজকতা তৈরি করছে প্রতিনিয়ত। এমন সব অসঙ্গতি নিয়ে কথা বলেছেন নৌপরিবহন উপদেষ্টা। শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) বিকেলে ভোলার দৌলতখান উপজেলার বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল লঞ্চঘাট, তজুমদ্দিন উপজেলার চৌমুহনী লঞ্চঘাট ও লালমোহন উপজেলার বাত্তিরখাল লঞ্চঘাট পরিদর্শনকালে উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘আমরা যত দিন আছি, তত দিন লঞ্চঘাটগুলোতে অরাজকতা সৃষ্টি হতে দেব না। লঞ্চঘাটগুলোতে যে অরাজকতা হয়, তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

‘ভবিষ্যতে যারা সরকারে ক্ষমতায় আসবে, আশা করি তারা অতীত থেকে শিক্ষা নেবে’- এমন মন্তব্য করে তিনি সেদিন আরও বলেন, ‘ঘাটের ইজারাদারদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাঁচ টাকার ঘাটের টিকিটের স্থানে ১০ টাকা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আমরা সে বিষয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছি। এ বিষয়ে সবাইকে সোচ্চার হতে হবে। কেননা এখন আর আগের সেই স্বৈরাচারী সরকার নেই। স্বৈরাচারী সরকারের সময় যা খুশি তা করেছে, সেটা যেন এখন আর না হয়।’

কালের আলো/এমএএএমকে

১৩ বছর বয়সে যিনি গাড়িতে তুলে নিয়েছিলেন, তিনিই এখন এমবাপ্পের কোচ

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৪৭ অপরাহ্ণ
১৩ বছর বয়সে যিনি গাড়িতে তুলে নিয়েছিলেন, তিনিই এখন এমবাপ্পের কোচ

ফ্রান্স জাতীয় দলের নতুন কোচ হিসেবে জিনেদিন জিদানকে পাওয়ার বিষয়টিকে ‘সিনেমার গল্পের মতো’ মনে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ফ্রান্সের তারকা ফুটবলার কিলিয়ান এমবাপ্পে।

প্রায় ১৫ বছর আগে রিয়াল মাদ্রিদের যুব দলে ট্রায়াল দিতে গিয়ে প্রথমবার জিদানের সঙ্গে দেখা হয়েছিল এমবাপ্পের। সেই সময়ের পরিচিত জিদানই এখন ফ্রান্স জাতীয় দলের প্রধান কোচ। ক্যারিয়ারের এই দীর্ঘ পথচলায় এমন পরিবর্তনকে বিশেষ মুহূর্ত হিসেবেই দেখছেন এমবাপ্পে।

গাড়িতে তুলে নিয়েছিলেন জিদান

স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এএসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পুরোনো স্মৃতি মনে করেন এমবাপ্পে। তিনি জানান, রিয়াল মাদ্রিদের অনুশীলন কেন্দ্রে যাওয়ার সময় জিদানই প্রথম তাকে গাড়িতে তুলে নিয়েছিলেন।

তখন এমবাপ্পের বয়স ছিল মাত্র ১৩ বা ১৪ বছর। সেই সময়ের স্মৃতি এখনো তার মনে গেঁথে আছে। এত বছর পর সেই জিদানই জাতীয় দলের কোচ হওয়ায় বিষয়টিকে অবিশ্বাস্য এক যাত্রা হিসেবে দেখছেন তিনি।

এমবাপ্পের ভাষায়, বিষয়টি যেন সিনেমার গল্পের মতো। তবে সবচেয়ে সুন্দর ব্যাপার হলো, সেই গল্প বাস্তবেই ঘটছে।

জিদানের অধীনে নতুন অধ্যায়

তুরস্কের বিপক্ষে শুক্রবার উয়েফা নেশনস লিগের ম্যাচ দিয়ে ফ্রান্সের কোচ হিসেবে প্রথমবার ডাগআউটে বসবেন জিদান। তার অধীনে নতুন একটি অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছে ফ্রান্স।

নতুন কোচের অধীনে দলের লক্ষ্যও পরিষ্কার বলে জানিয়েছেন এমবাপ্পে। সামনে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য দুই বছর সময় রয়েছে তাদের।

‘নতুন প্রক্রিয়া শুরু করছি’

এমবাপ্পে বলেন, ফ্রান্স নতুন একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। নেশনস লিগের চারটি ম্যাচকে সামনে রেখে নিজেদের প্রস্তুত করার পাশাপাশি নতুন কোচের সঙ্গে কাজের ধরনও বুঝে নেওয়ার সুযোগ পাবেন তারা।

২০২৮ সালের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপকে সামনে রেখে এখন থেকেই দলকে প্রস্তুত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন এমবাপ্পে।

বিশ্বকাপ ব্যর্থতার পর নতুন শুরু

গত জুলাইয়ে ফুটবল বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে বড় ব্যবধানে হেরে বিদায় নেয় ফ্রান্স। সেই হতাশা পেছনে ফেলে এবার নতুনভাবে পথচলা শুরু করতে চাইছে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

জিদানের মতো কিংবদন্তি ফুটবলারের অধীনে ফ্রান্সের নতুন অধ্যায় কেমন হয়, সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা। আর সেই অধ্যায়ের অন্যতম কেন্দ্রীয় চরিত্র এমবাপ্পে—যিনি কৈশোরে পাওয়া জিদানকে এবার জাতীয় দলের কোচ হিসেবেই পাশে পাচ্ছেন।

কালের আলো/এসএ

রাজনীতির পিচে নামছেন মোহাম্মদ শামি?

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৩৪ অপরাহ্ণ
রাজনীতির পিচে নামছেন মোহাম্মদ শামি?

ক্রিকেটের মাঠে দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ মোহাম্মদ শামি। এবার তাকে ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনীতিতে পা রাখার জল্পনা। ভারতের জাতীয় লোক দল (আরএলডি) সভাপতি ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জয়ন্ত চৌধুরীর সঙ্গে শামির সাক্ষাতের একটি ছবি প্রকাশ্যে আসার পরই নতুন করে এই আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে শামি বা আরএলডির পক্ষ থেকে এখনো রাজনীতিতে যোগ দেওয়া কিংবা নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।

জয়ন্তের সঙ্গে বৈঠক ঘিরেই যত আলোচনা

সম্প্রতি দিল্লিতে জয়ন্ত চৌধুরীর সঙ্গে দেখা করেন মোহাম্মদ শামি। পরে জয়ন্ত চৌধুরী নিজেই সামাজিক মাধ্যমে তাদের সাক্ষাতের ছবি প্রকাশ করেন। এরপর থেকেই উত্তরপ্রদেশের রাজনৈতিক মহলে শামির সম্ভাব্য রাজনৈতিক অভিষেক নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

বিভিন্ন ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ২০২৭ সালের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনে আমরোহা সদর আসন থেকে শামিকে প্রার্থী করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে বিষয়টি এখনো জল্পনার পর্যায়েই রয়েছে।

শামি নাকি ভাই হসিব?

শুধু মোহাম্মদ শামি নন, তার ভাই মোহাম্মদ হসিবের নামও আলোচনায় এসেছে। এর আগে হসিবের আমরোহা আসন থেকে আরএলডির সম্ভাব্য প্রার্থী হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছিল। ফলে শামি নিজে নির্বাচনে না দাঁড়িয়ে ভাইকে রাজনীতির মাঠে নামাতে পারেন—এমন আলোচনাও চলছে।

তবে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে শামি ও তার ভাই—দুজনের পক্ষ থেকেই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে এখনো স্পষ্ট ঘোষণা না থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

আমরোহার সঙ্গে শামির পুরোনো সম্পর্ক

মোহাম্মদ শামির শিকড় উত্তরপ্রদেশের আমরোহায়। আমরোহা সদর তহসিলের সাহসপুর আলিনগর তার পারিবারিক এলাকা। ফলে স্থানীয় রাজনীতিতে তাকে ঘিরে ‘নিজের এলাকার মানুষ’ হিসেবে সম্ভাব্য প্রার্থী হওয়ার আলোচনা তৈরি হয়েছে।

শামির পরিবারেও স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার ইতিহাস রয়েছে। তার ভাই হসিব এর আগে জেলা পঞ্চায়েত নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন বলেও ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

ক্রিকেট থেকে রাজনীতিতে—নতুন অধ্যায়?

মোহাম্মদ শামি সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন ২০২৫ সালের ৯ মার্চ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। এরপর থেকে জাতীয় দলের বাইরে থাকলেও ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলছেন তিনি।

এর মধ্যেই জয়ন্ত চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং সম্ভাব্য নির্বাচনী প্রার্থিতা নিয়ে আলোচনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। তবে শামির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত তথ্যের চেয়ে জল্পনাই বেশি।

অতএব, ক্রিকেটের মাঠে পরিচিত এই পেসার সত্যিই রাজনীতির মাঠে নামবেন কি না, নাকি জয়ন্ত চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাৎটি ছিল নিছক সৌজন্য সাক্ষাৎ—সেটির উত্তর মিলবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এলেই।

কালের আলো/এসএ

মেসি গোল করেই চলেছেন, ইন্টার মিয়ামি ড্রয়ের বৃত্তেই

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:২৭ অপরাহ্ণ
মেসি গোল করেই চলেছেন, ইন্টার মিয়ামি ড্রয়ের বৃত্তেই

লিওনেল মেসি গোল করেই চলেছেন, কিন্তু জয় যেন ধরা দিচ্ছে না ইন্টার মিয়ামির। সান দিয়েগো এফসির বিপক্ষে রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ২-২ গোলে ড্র করেছে মেসির দল। এর ফলে মেজর লিগ সকারে টানা চতুর্থ ম্যাচে ড্র করল ইন্টার মিয়ামি।

তবে ব্যক্তিগতভাবে মেসির জন্য ম্যাচটি ছিল আরেকটি মাইলফলকের। ইন্টার মিয়ামির জার্সিতে নিজের ১০১তম গোল করেছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। চলতি মৌসুমে লিগে এটি তার ২০তম গোল।

শুরুতেই এগিয়ে সান দিয়েগো

ম্যাচের ১২ মিনিটেই এগিয়ে যায় সান দিয়েগো। জেপ্পে টভের্সকভের বাড়ানো বল কাজে লাগিয়ে গোল করেন আন্দ্রেস দ্রেয়ার। ইন্টার মিয়ামির গোলরক্ষক দেইন সেন্ট ক্লেয়ারকে ফাঁকি দিয়ে বল জালে পাঠান তিনি।

তবে পিছিয়ে পড়ার পর বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি মেসিদের। ২৪ মিনিটে দুর্দান্ত এক ফ্রি-কিকে গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান মেসি। ডান দিক থেকে নেওয়া তার ফ্রি-কিক কোনো খেলোয়াড়ের স্পর্শ ছাড়াই দূরের পোস্ট ঘেঁষে জালে জড়ায়।

সুয়ারেজের গোলে এগিয়েও জয় পেল না মিয়ামি

দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে। একাধিক সুযোগ তৈরি করেও গোলের দেখা পাচ্ছিল না ইন্টার মিয়ামি।

অবশেষে ৭৪ মিনিটে লুইস সুয়ারেজের গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। রদ্রিগো ডি পলের বাড়ানো বল থেকে দারুণ ফিনিশিংয়ে দলকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন উরুগুইয়ান তারকা।

তবে সেই লিডও ধরে রাখতে পারেনি মিয়ামি। মাত্র আট মিনিট পর আবারও গোল করেন দ্রেয়ার। নিজের দ্বিতীয় গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান সান দিয়েগোর এই ডেনিশ ফরোয়ার্ড। শেষ পর্যন্ত ২-২ সমতায় শেষ হয় ম্যাচটি।

মেসির গোল, তবু জয়ের দেখা নেই

এই ড্রয়ের ফলে ইন্টার মিয়ামির পয়েন্ট এখন ৪৬। চলতি এমএলএসে ১২টি জয়, ১০টি ড্র ও ৪টি হারে এই পয়েন্ট পেয়েছে তারা। একই সঙ্গে টানা চার ম্যাচ ড্র করার হতাশাও সঙ্গী হলো মেসিদের।

ম্যাচের শেষ দিকেও জয়ের সুযোগ তৈরি করেছিল ইন্টার মিয়ামি। তবে সান দিয়েগোর গোলরক্ষক ও রক্ষণভাগের দৃঢ়তায় শেষ পর্যন্ত আর গোল পায়নি মেসির দল।

সামনে কলম্বাস ক্রু

এমএলএসে ইন্টার মিয়ামির পরবর্তী ম্যাচ আগামী রোববার কলম্বাস ক্রুর বিপক্ষে। অন্যদিকে সান দিয়েগো এফসি আগামী শনিবার অস্টিন এফসির মুখোমুখি হবে।

মেসি ব্যক্তিগতভাবে গোলের পর গোল করে যাচ্ছেন, কিন্তু দলকে টানা ড্রয়ের বৃত্ত থেকে বের করতে পারছেন কি না—সেটিই এখন ইন্টার মিয়ামিকে ঘিরে বড় প্রশ্ন।

কালের আলো/এসএ