খুঁজুন
                               
, ,
           

নতুনের আবাহনে সম্প্রীতি ও ঐক্যচেতনার বার্তা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৫, ২:০৮ অপরাহ্ণ
নতুনের আবাহনে সম্প্রীতি ও ঐক্যচেতনার বার্তা

এম.আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর:

সময় পরিবর্তনশীল। হাজার বছরের বাংলায় আরেক দফা সময়ের পালাবদল। আরেকটি পহেলা বৈশাখ বাঙালির সংস্কৃতিরই অগ্রযাত্রা। আবহমান বাংলার সংস্কৃতির নিজস্ব দিন রঙিলা পহেলা বৈশাখ। বাঙালিত্বকে জাগিয়ে তোলার পাশাপাশি শাণিত করে। প্রকাশ ঘটায় জাতিসত্তার। নববর্ষের অতীতের রঙ রূপ, বৈশিষ্ট্যকে অনুধানে স্বয়ংক্রিয়। তেমনি সমকালীন সংস্কৃতি তাঁর বৈচিত্র্য ও সৃজনশীলতাকে সঞ্চালিত করে। ভবিষ্যতে এগিয়ে চলার শক্তি ও অনুপ্রেরণার উৎসহ হয়ে উঠে। ফল্গুধারা বয়ে যায় চারিদিকে। সম্ভাবনার পানসিতে চড়ে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে পড়া।

লাল-সাদা পোশাকের বাহার থেকে শুরু করে খানাপিনা সব জায়গাতেই প্রাধান্য পায় বাঙালিয়ানা। আড্ডা, ঘোরাঘুরি, আমন্ত্রণ-নিমন্ত্রণের মধ্যে দিয়ে শিকড়সন্ধানী উৎসবে নিজেকে মেলে ধরা। গ্রামের হালখাতার হাওয়া এখন অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে পড়েছে নগর জীবনে। উৎসব, উচ্ছ্বাস আর উল্লাসে মেতে উঠে জেলার প্রতিটি গ্রামের মাঠঘাট-প্রান্তর।

নাগরদোলা আর ইলিশ-পান্তার স্বাদ নগরজীবনে অনেককে টেনে নিয়ে যাবে স্মৃতিতাড়িত শৈশবে। স্বাগত জানানো হবে নতুন সম্ভাবনা জাগানিয়া উদীয়মান সূর্যকে। নববর্ষের প্রথম দিনে বদলে যাবে রাজধানী ঢাকার দৃশ্যপট। আনন্দ শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও মেলায় বর্ণবহুল হয়ে উঠবে নগরী। এবারের বর্ষবরণের স্লোগান ঠিক করা হয়েছে ‘নববর্ষের ঐকতান, ফ্যাসিবাদের অবসান’।
বরাবরের মতোই ভোর সোয়া ছ’টায় রমনার বটমূলে ছায়ানটের প্রভাতী অনুষ্ঠানে ভোরের সুর তুলে শুরু হবে বর্ষবরণের আনুষ্ঠানিকতা। যেখানে প্রায় দেড়শ কণ্ঠ ও যন্ত্রশিল্পী উপবেশন করে সুরবাণীতে নতুন বছরকে আবাহন জানানো হবে।

এর সঙ্গে সঙ্গেই রমনার বটমূল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, ধানমণ্ডির লেকের পাড়, সংসদ ভবনসহ শেরেবাংলা নগর, গুলশান, বনানী, উত্তরা, মিরপুর, যাত্রাবাড়ীসহ পুরো রাজধানীই বৈশাখী আমেজে মেতে উঠবে। কাকডাকা ভোর থেকেই নগরীর পথে ঢল নামবে বাঙালি সংস্কৃতি লালনকারী আনন্দপিয়াসী নগরবাসীর। সবার পরনেই থাকবে বৈশাখী রঙ লাল, সাদার পাশাপাশি অন্যান্য রঙের বাহারি নকশার পোশাক।

সেকালের নববর্ষের হালচাল নিয়ে সংখ্যাতীত গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে বাংলা ভাষায়। সাহিত্য, কবিতা, গান, নাচ বাংলা নববর্ষে উজ্জীবিত এবং প্রাণিত। বসন্তের পর গ্রীষ্মকালীন সূচনায় বৈশাখ প্রকৃতির রূপান্তর। তেমনি বৈশাখের আবেদন সার্বজনীন। সব বয়সের, নারী-পুরুষের মন এই বৈশাখে পুরাতনকে বিদায় জানিয়ে নতুনকে বরণ করে। একেকজনের চিন্তা-চেতনা, মেধা-মননে নতুনের আবাহনে নয়া উদ্যমে স্বপ্নগুলোর বাস্তবায়নে নিজেকে নিয়োজিত করে। জীর্ণতাকে পিছে ফেলে, সাফল্য-ব্যর্থতার সালতামামিতে বৈশাখ মানুষকে নতুনভাবে জাগ্রত করে। পরম্পরার ঐতিহ্যকে লালন করে বাঙালিয়ানাকে সবার ওপরে তুলে ধরার নামই বৈশাখী উৎসব। শুদ্ধ বাঙালি হওয়ার প্রেরণা সঞ্চারিত হয় দিনটিতে।

আমরা সবাই বাঙালি। এটিই হচ্ছে বৈশাখের প্রধান বার্তা। জাতির গর্ব ও গৌরব, সমাজ সংসারের চালচিত্র, খেলাধূলা, যাপিত জীবন নিয়ে নববর্ষ-যা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের মধ্যে আমাদের সভ্যতার মহিমাকে গৌরবোজ্জ্বল করে। মহান মুক্তিযুদ্ধ ও চব্বিশের চেতনায় বাংলা নববর্ষ প্রাণবন্ত। ছায়ানটের সেই ছায়াতল থেকে নতুন সকাল, নতুন স্বপ্ন এবং সুন্দর আগামীর আগমনী সুর হয়ে আসে, রঙের আবির ছড়ায় শুভ নববর্ষ। ‘আজকে তুমি মৃত্যুবিহীন মুক্ত সীমারেখা’- এমন অনুভবই তো জেগে ওঠে আমাদের মধ্যে আজকের এই দিনে; এই পহেলা বৈশাখে।

কবি জীবনানন্দ দাশের মগ্ন চৈতন্যে দুলে ওঠা ওই মৃত্যুবিহীন মুক্ত সীমারেখায় আমরা দাঁড়িয়ে থাকি মুক্ত মায়া নিয়ে, মুগ্ধ-হৃদয় চেয়ে। আকাশে-বাতাসে আন্দোলিত হয় বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথের এই আহ্বান- ‘তাপসনিশ্বাসবায়ে মুমূর্ষুরে দাও উড়ায়ে’। কালবৈশাখীতেও হৃদয়ে তরঙ্গিত হয় বিদ্রোহী নজরুলের উজ্জ্বল উল্লাস, ‘তোরা সব জয়ধ্বনি কর’। নতুন বছরের নতুন স্বপ্ন, প্রত্যাশা আর সম্ভাবনা, সম্প্রীতি ও ঐক্যচেতনার বার্তা নিয়ে আজ জেগে উঠবে এই দেশের সব মানুষ।

লেখক : ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, কালের আলো.কম এবং সম্পাদক ও প্রকাশক, দৈনিক সন্ধানী বার্তা

কালের আলো/এমএএএমকে

পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব হলেন ড. ফাহমিদা খানম

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ২:০২ পূর্বাহ্ণ
পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব হলেন ড. ফাহমিদা খানম

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানমকে মন্ত্রণালয়টির ভারপ্রাপ্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছে সরকার।

একইসঙ্গে বর্তমান সচিব মোহা. রায়হান কাওছারকে ওই পদ থেকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

সোমবার(৬ জুলাই)  এ সংক্রান্ত পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

ড. ফাহমিদা খানম বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (প্রশাসন) ক্যাডারের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। কর্মজীবনে তিনি পরিবেশ, বন, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন এবং প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা–সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সফলভাবে পালন করেছেন।

এর আগে তিনি জাতীয় পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন ইনস্টিটিউটের (ন্যাকসিআই) নির্বাহী পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্বে ছিলেন তিনি।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি 

বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ১:৫৬ পূর্বাহ্ণ
বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা

অব্যাহত ভারী বৃষ্টিপাত এবং সম্ভাব্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কায় আগামী ১০ জুলাই পর্যন্ত বান্দরবান জেলার সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন। একই সময়ের জন্য জেলার সব ঝরনা, পাহাড়ি ট্রেইল, নদীপথ, দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পর্যটক, ট্যুর অপারেটর এবং সাধারণ মানুষের প্রবেশ ও ভ্রমণও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

সোমবার (৬ জুলাই) রাত ১০টার দিকে জেলা প্রশাসনের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, টানা ভারী বর্ষণের কারণে জেলার বিভিন্ন এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বিদ্যমান আবহাওয়া পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য দুর্ঘটনার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পর্যটক ও সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগামী ১০ জুলাই (শুক্রবার) পর্যন্ত জেলার সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এ সময় জেলার সব পর্যটনকেন্দ্রের পাশাপাশি ঝরনা, পাহাড়ি ট্রেইল, নদীপথ, দুর্গম এলাকা ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে পর্যটক, ট্যুর অপারেটর এবং সর্বসাধারণের ভ্রমণ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে।

জেলা প্রশাসন সংশ্লিষ্ট সবাইকে এ নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

বরগুনায় বিদ্যুৎকেন্দ্রে আগুন বন্ধ থাকতে পারে বিদ্যুৎ সরবরাহ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ১:৪৪ পূর্বাহ্ণ
বরগুনায় বিদ্যুৎকেন্দ্রে আগুন বন্ধ থাকতে পারে বিদ্যুৎ সরবরাহ

সোমবার (৬ জুলাই) রাত সাড়ে ১০ টার দিকে বরগুনা সদর উপজেলার ২ নম্বর গৌরীচন্না ইউনিয়নের খেজুরতালা নামক এলকার গ্রিড সবস্টেশনে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বরগুনা জোনাল অফিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গৌরীচন্না ইউনিয়নের খেজুরতলা এলাকার গ্রিড সাবস্টেশনটির মাধ্যমে বরগুনা সদর উপজেলায় পল্লী বিদ্যুত সঞ্চালন ও বিতরণের নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

রাতে হঠাৎ করে ওই সাবস্টেশনটির ভেতরে একটি বিকট শব্দ হয়। এর পরপরই স্টেশনটির ৬ নম্বর ফিডারে আগুন লেগে যায়। আগুনের স্থায়িত্ব মাত্র ১ থেকে ২ মিনিট হলেও স্টেশনের ভিতরে থাকা অন্য ফিডার, বিভিন্ন তারের সংযোগ পুড়ে যাওয়াসহ কিছু যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে এ ঘটনায় বড় কোনো দুর্ঘটনা না ঘটলেও বরগুনা সদর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের ৬৭ হাজার গ্রাহক এখন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছেন।

এ বিষয়ে পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বরগুনা জোনাল অফিসের ডিজিএম মোহাম্মদ নাজমুল হাসান বলেন, রাতে অফিসেই ছিলাম। হঠাৎ করে বিকট একটা শব্দ হয়ে বিদ্যুৎ বন্ধ হয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থলে এসে দেখি ১১ কেভি এসিআর বিস্ফোরণ হয়ে বিদ্যুৎ সঞ্চালন বন্ধ হয়ে গেছে। এ ছাড়াও অনেক তার ও যন্ত্রাংশ পুড়ে গেছে।

আমরা কাজ শুরু করেছি এবং সকল যন্ত্রাংশ পরীক্ষা করছি। তবে যে যন্ত্রাংশটি পুড়েগেছে তা পটুয়াখালী থেকে নিয়ে আসতে হবে। আমাদের চেষ্টা  অব্যাহত রয়েছে। রাতের মধ্যে বিদ্যুৎ সঞ্চালন চালু করতে না পারলেও আগামীকাল সকালের মধ্যে চালু করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।

কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অভ্যান্তরীন ত্রুটির কারণে এ ঘটনা ঘটতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বোঝা যাচ্ছে না কেনো এ ঘটনা ঘটেছে৷

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি