খুঁজুন
                               
, ,
           

মনিটরিং করছেন সেনাপ্রধান, ‘ফণী’ বিপর্যয় রুখতে মাঠে সেনাবাহিনী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ৪ মে, ২০১৯, ৮:৪৩ অপরাহ্ণ
মনিটরিং করছেন সেনাপ্রধান, ‘ফণী’ বিপর্যয় রুখতে মাঠে সেনাবাহিনী

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো :

সুপার সাইক্লোন ‘ফণী’র সর্বনাশা হাওয়ায় লন্ডভন্ড হয়ে গেছে উপকূলীয় জেলা বরগুনার পাথরঘাটা, ভোলা ও নোয়াখালী। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ফণী’র আঘাতে এ পর্যন্ত ৪ জন নিহত ও ৬৩ জন আহত হয়েছেন।

ভয়ঙ্কর এ ঝড় আঘাত হানার আগেই মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে আনতে এবং দুর্যোগ মোকাবেলায় সরকারের সব সংস্থা ও বেসরকারি সংগঠনগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কড়া নির্দেশনা আর আবহাওয়া অধিদপ্তরের নিখুঁত পূর্বাভাসে বড় রকমের বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ।

আরো পড়ুন: ‘ফণী’ মোকাবেলায় সেনাবাহিনীর প্রস্তুতির ঘোষণায় সাহসের সঞ্চার উপকূলবাসীর

আর এ দুর্যোগে বরাবরের মতো এবারো ‘ত্রাণকর্তার’ ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী। অতি শক্তিশালী এ ঝড়ের হাতে মৃত্যু এবং ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখেছে জেনারেল আজিজ আহমেদের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

জীবনহানি রুখতে সরকারের আটঘাট বেঁধে প্রস্তুতি, মাঠ পর্যায়ে সেনাবাহিনীর কার্যকর পদক্ষেপ ও আগাম তৎপরতার মেলবন্ধনে শেষ পর্যন্ত ততটা দাঁত ফোটাতে পারেনি প্রবল এ ঘূর্ণিঝড়।

তান্ডবের যে রূপ ভারতের ওড়িশা দেখেছে সেই প্রভাব বাংলাদেশে পৌঁছার আগেই সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ ঘোষণা দিয়েছিলেন ‘ফণী’ মোকাবিলায় সেনাবাহিনীর সকল ডিভিশন ও এরিয়া হেডকোয়ার্টারকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।’

দুই দিন আগে বৃহস্পতিবার (০২ মে) সেনাবাহিনী প্রধানের এমন উচ্চারণ আশার আলো জ্বালিয়েছিলো উপকূলবাসীর মন-মননে। দিন-রাত ২৪ ঘন্টা তিনি নিজেই শক্তিশালী এ ঘূর্ণিঝড়ের সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছেন। ইতোমধ্যেই সেনাবাহিনীর সকল ফরমেশনে মনিটরিং সেল খুলেছেন।

পাশাপাশি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার সাথে সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থার সমন্বয় করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ১৭ হাজার ৫৫০ টি ত্রাণের প্যাকেট প্রস্তুত করা হয়েছে। খবর দায়িত্বশীল সূত্রের।

দেশের প্রতিটি দুর্যোগে বিপন্ন মানবতার পাশে দাঁড়ানোর গৌরবোজ্জল ও সমৃদ্ধ অতীত রয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর। আন্তর্জাতিক নানা দুর্যোগেও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্মদক্ষতা স্থাপন করেছে অনন্য দৃষ্টান্ত।

সেনাসদস্যদের একাগ্রতা ও নানা জনসেবামূলক কর্মকান্ড কুড়িয়েছে সার্বজনীন আস্থা। বিশ্ব পরিমন্ডলেও তাঁরা উজ্জ্বল করেছে রক্তের দামে কেনা লাল-সবুজের পতাকাকে।

দেশপ্রেমিক ও পেশাদার সেনাবাহিনী দেশের ভূখন্ড ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষার পাশাপাশি দেশের যেকোন প্রয়োজনে সব সময় সর্বোচ্চ আস্থা ও শৃঙ্খলার মাধ্যমে নিজেদের নিবেদিতপ্রাণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

একটি উন্নত, পেশাদার এবং প্রশিক্ষিত সেনাবাহিনী গড়ে তুলতে ১৯৭৪ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে ইতিবাচক অগ্রযাত্রার সূচনা করেছিলেন সেই ধারাবাহিকতায় তাঁর রক্তের উত্তরাধিকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘আর্মড ফোর্সেস গোল-২০৩০’র আলোকে সেনাবাহিনীর উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে নিবিষ্ট মনে কাজ করছেন।

‘মুক্তিযুদ্ধের সুমহান চেতনায় উজ্জীবিত আমাদের সেনাবাহিনী দেশের আস্থা ও গর্বের প্রতীক’ সব সময়েই এমন কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাঁর ভাষ্য মতে- সেবা ও কর্তব্যপরায়ণতার মাধ্যমে সেনাসদস্যরা জনগণের শ্রদ্ধা, ভালোবাসা এবং সমগ্র জাতির আস্থা অর্জন করেছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের স্বপ্ন বাস্তবায়নের ক্রমধারায় আজ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিশ্ব দরবারে একটি সুশৃঙ্খল ও আধুনিক সেনাবাহিনী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।’

‘ফণী’ বিপর্যয় রুখতে সেনাবাহিনী
দেশের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক ধারা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি আধুনিক, উন্নত ও সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে সেনাবাহিনী। সেনাপ্রধানের দায়িত্ব নিয়ে জেনারেল আজিজ আহমেদ নিষ্ঠার সঙ্গে দেশমাতৃকার সেবায় আরো অগ্রণী ভূমিকা রাখতে উদ্ধুদ্ধ করেছেন নিজ বাহিনীর সদস্যদের।

বিজ্ঞান-প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে পথচলা, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সারথী চৌকস এই সেনা কর্মকর্তা বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ মোকাবেলাতেও নিজ বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন আগেভাগেই।

বৃহস্পতিবার (০২ মে) সাভার সেনানিবাসের ফায়ারিং রেঞ্জে সেনাবাহিনীর বার্ষিক ফায়ারিং প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী ও সমাপনী অনুষ্ঠান শেষে শঙ্কিত এবং উদ্বিগ্ন উপকূলবাসীর মাঝে প্রেরণার মশাল জ্বালিয়ে বলেছিলেন, ‘সেনাবাহিনী আগাম কোনো নির্দেশনার জন্য অপেক্ষা করে না।

কারণ, দুর্যোগ মোকাবিলায় করণীয় সম্পর্কে সেনাবাহিনীকে স্থায়ী নির্দেশনাই দেয়া রয়েছে। তাই ঘূর্ণিঝড় ‘ফণি’ মোকাবিলায় সেনাবাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।’

ফণী বিপর্যয় কাটিয়ে তুলতে দেশের প্রতিটি ক্যান্টনমেন্টে দিন-রাত একাকার করে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছেন সেনাবাহিনীর সদস্যরা। সেনাবাহিনীর নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ১৭ হাজার ৫৫০ টি ত্রাণের প্যাকেট প্রস্তুত রাখার পাশাপাশি ৭৮ টি মেডিক্যাল টিম, ১৬টি পানি বিশুদ্ধকরণ প্লান্ট, ১৭০ টি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা টিম এবং সর্বমোট ৬৪০ টি বিভিন্ন প্রকার বোট প্রস্তুত রয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা টিমগুলো বিশেষ উদ্ধার সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখার পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারসমূহও প্রস্তুত রয়েছে। এছাড়াও সেনানিবাস সমূহে দায়িত্বপ্রাপ্ত এবং প্রয়োজনীয় সেনা সদস্যদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

বিশেষ যন্ত্রপাতিসহ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দল গঠন করা হয়েছে যাদের স্বল্প সময়ের মধ্যে মোতায়েন করা যাবে। ভূূমিধ্বসের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দল প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পেও তৎপর সেনাবাহিনী
মিয়ানমারের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত নাগরিকদের সহায়তায় সেনাবাহিনী দক্ষতা ও প্রশংসার সঙ্গে কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে-ইতোপূর্বে বলেছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, দুর্গম পার্বত্য এলাকায় সড়ক ও অবকাঠামো নির্মাণ, ভোটার তালিকা ও মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট তৈরির ক্ষেত্রেও দক্ষতা দেখিয়েছে সেনাবাহিনী।

ফণী’র সর্বনাশা ছোবলে ক্ষতিগ্রস্থ কক্সবাজারের ক্যাম্পগুলোতেও পূর্ণোদ্যমে তৎপরতা চালাচ্ছে সেনাবাহিনী।

সুপার সাইক্লোন পরবর্তী সময়ে সেখানে নানাভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী। এখানে ক্ষতিগ্রস্ত ঘড়বাড়ি মেরামত ও আহত রোহিঙ্গা সদস্যদের চিকিৎসা সহায়তা কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছে সেনাবাহিনীর সদস্যরা।

কালের আলো/এইকেআ/এএএমকে

শাহজালালে যাত্রীদের মুখোমুখি মন্ত্রী,ব্যাগেজ সেবায় সন্তুষ্টি

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৪৮ পূর্বাহ্ণ
শাহজালালে যাত্রীদের মুখোমুখি মন্ত্রী,ব্যাগেজ সেবায় সন্তুষ্টি

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের যাত্রীসেবা ও ব্যাগেজ ডেলিভারি কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করে যাত্রীদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এমপি। শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে আকস্মিকভাবে বিমানবন্দরে গিয়ে তিনি ব্যাগেজ ডেলিভারি এলাকায় অপেক্ষমাণ যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের অভিজ্ঞতার কথা শোনেন।

পরিদর্শনকালে মন্ত্রী বিমান থেকে নামার পর যাত্রীরা কত সময়ের মধ্যে লাগেজ হাতে পাচ্ছেন, ব্যাগেজ ডেলিভারি ব্যবস্থাপনা কেমন এবং যাত্রীদের কোনো ধরনের ভোগান্তি হচ্ছে কি না—এসব বিষয়ে সরাসরি তাদের মতামত জানতে চান।

মন্ত্রণালয়ের প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, যাত্রীরা ব্যাগেজ ডেলিভারি ব্যবস্থাপনা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লাগেজ হাতে পাওয়ার বিষয়েও তারা ইতিবাচক অভিজ্ঞতার কথা জানান। যাত্রীদের এই ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি সেবার মান আরও উন্নত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন মন্ত্রী। বিমানবন্দরের প্রতিটি কার্যক্রমে যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্য ও সন্তুষ্টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। একই সঙ্গে যাত্রীদের সুবিধা আরও বাড়াতে দ্রুত ট্রলির সংখ্যা বৃদ্ধির নির্দেশনাও দেন।

যাত্রীদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়

বিমানবন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থাপনায় যাত্রীসেবার বাস্তব চিত্র জানতে সরাসরি যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলার উদ্যোগটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন বা দাপ্তরিক উপস্থাপনার পরিবর্তে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকেই অভিজ্ঞতা জানার মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বোঝার সুযোগ তৈরি হয়। ব্যাগেজ ডেলিভারি নিয়ে যাত্রীদের সন্তুষ্টির বিষয়টি বিমানবন্দরের সেবাব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক অগ্রগতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে দেখা যেতে পারে। একই সঙ্গে সেবার মান আরও উন্নত করার জন্য মন্ত্রীর তাৎক্ষণিক নির্দেশনা ভবিষ্যতে যাত্রীদের অভিজ্ঞতা আরও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ করার উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে পারে।

যাত্রীসেবায় আরও উন্নতির লক্ষ্য

একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সেবার মান শুধু দ্রুত লাগেজ সরবরাহের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। যাত্রীদের বিমান থেকে নেমে লাগেজ সংগ্রহ, ট্রলি পাওয়া এবং স্বাচ্ছন্দ্যে টার্মিনাল ত্যাগ—পুরো প্রক্রিয়াটিই যাত্রী অভিজ্ঞতার অংশ। এ কারণে ট্রলির সংখ্যা দ্রুত বাড়ানোর নির্দেশনাকে যাত্রীসেবার ধারাবাহিক উন্নয়নের অংশ হিসেবে দেখা যায়। প্রয়োজনীয় সংখ্যক ট্রলি নিশ্চিত করা গেলে লাগেজ সংগ্রহের পর যাত্রীদের চলাচল আরও সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ হবে।

আকস্মিক পরিদর্শনে মাঠপর্যায়ের সেবায় গুরুত্ব

রাতে আকস্মিকভাবে মন্ত্রীর বিমানবন্দরে গিয়ে ব্যাগেজ ডেলিভারি এলাকা পরিদর্শন এবং যাত্রীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার মধ্য দিয়ে যাত্রীসেবার প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার একটি বার্তা উঠে এসেছে। বিশেষ করে যাত্রীদের ইতিবাচক অভিজ্ঞতা শোনা এবং একই সঙ্গে আরও উন্নয়নের জন্য তাৎক্ষণিক নির্দেশনা দেওয়া—দুটি বিষয়ই সেবাব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মতো দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক প্রবেশদ্বারে যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্য ও সন্তুষ্টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও উন্নত ও যাত্রীবান্ধব সেবা নিশ্চিত করার পথকে এগিয়ে নিতে পারে।

কালের আলো/এমএএএমকে

একই পরিবারের ৪ জনসহ ৬ জনকে হারিয়ে শোকে জামালপুর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ
একই পরিবারের ৪ জনসহ ৬ জনকে হারিয়ে শোকে জামালপুর

ময়মনসিংহে বাসচাপায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার সাত যাত্রী নিহত হওয়ার ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে জামালপুরের বিভিন্ন এলাকায়। নিহতদের মধ্যে ছয়জনই জামালপুরের বাসিন্দা। তাদের চারজন একই পরিবারের সদস্য।

একসঙ্গে পরিবারের চার সদস্যকে হারিয়ে স্বজনরা শোকে ভেঙে পড়েছেন। নিহতদের মধ্যে ছিলেন পরিবারের প্রবীণ সদস্য, তার ছেলে, অন্তঃসত্ত্বা মেয়ে এবং পাঁচ বছরের নাতি। মর্মান্তিক এ ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের আবহ।

একই পরিবারের চারজন নিহত

নিহতরা হলেন জামালপুর সদর উপজেলার রানাগাছা ইউনিয়নের দড়িহামিদপুর ভাটিপাড়া গ্রামের মোফাজ্জল হোসেন লেবু (৫৫), তার মা রাশিদা বেগম (৮৫), মেয়ে মর্জিনা (২৫) এবং মর্জিনার পাঁচ বছর বয়সী ছেলে মিনাল।

এ ছাড়া একই ইউনিয়নের বীর গোবিন্দবাড়ী গ্রামের সুজন আলী (৩৪) এবং একই উপজেলার নান্দিনা বাদেচান্দি গ্রামের আকরাম আলী (৪৮) নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় নিহত অপর নারী ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

গাজীপুর যাওয়ার পথেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা

স্বজনরা জানান, শুক্রবার (২ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মা রাশিদা বেগম, দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা মেয়ে মর্জিনা ও নাতি মিনালকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন মোফাজ্জল হোসেন লেবু।

নান্দিনা থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় প্রথমে ময়মনসিংহ যাওয়ার কথা ছিল তাদের। এরপর সেখান থেকে বাসে করে গাজীপুরে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই ময়মনসিংহে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান তারা।

পরিবারের সদস্যরা জানান, পেশায় রাজমিস্ত্রি মোফাজ্জল হোসেন লেবু দীর্ঘদিন ধরে স্ত্রী ও এক ছেলেকে নিয়ে গাজীপুরের হোতাপাড়া এলাকায় বসবাস করতেন। মা রাশিদা বেগম, মেয়ে মর্জিনা ও নাতি মিনালকে গাজীপুরের বাসায় নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যেই আগের দিন তিনি গ্রামের বাড়িতে এসেছিলেন।

‘একসঙ্গে সবাইকে হারিয়ে আমরা নিঃস্ব’

মোফাজ্জল হোসেন লেবুর ভাবি ইসমতারা বলেন, তার দেবর গাজীপুরে থেকে দিনমজুরের কাজ করতেন। পরিবারের সদস্যদের গাজীপুরে নিয়ে যাওয়ার জন্যই তিনি বাড়িতে এসেছিলেন।

তিনি বলেন, মর্জিনা দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। একসঙ্গে পরিবারের চারজনকে হারিয়ে তারা নিঃস্ব হয়ে গেছেন।

দুর্ঘটনার বিচার দাবি এলাকাবাসীর

এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও। স্থানীয় বাসিন্দা সোহেল রানা বলেন, রাজিব পরিবহনের বাসের কারণে নিয়মিত দুর্ঘটনা ঘটছে বলে তারা অভিযোগ করে আসছেন। তবে এবারের দুর্ঘটনায় একই পরিবারের চারজনের মৃত্যুতে এলাকার মানুষের কষ্ট আরও বেড়েছে।

তিনি বলেন, নিহতদের মধ্যে মর্জিনা অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন তিনি।

একসঙ্গে একই পরিবারের চার সদস্যের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে স্বজনদের পাশাপাশি প্রতিবেশী ও এলাকাবাসীর মধ্যেও শোক নেমে এসেছে। দুর্ঘটনার জন্য দায়ীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

একই সঙ্গে সড়কে বেপরোয়া যান চলাচল ও দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মৃত্যুতে তথ্যমন্ত্রীর শোক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৫৪ অপরাহ্ণ
তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মৃত্যুতে তথ্যমন্ত্রীর শোক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আন্দালিভ রহমান।

এক শোকবার্তায় তথ্যমন্ত্রী বলেন, তৌফিক ইমরোজ খালিদী ছিলেন বাংলাদেশের অনলাইন সংবাদমাধ্যমের অন্যতম পথিকৃৎ। দেশের গণমাধ্যমের বিকাশ ও অনলাইন সাংবাদিকতার প্রসারে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। তাঁর মৃত্যু দেশের গণমাধ্যম জগতের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।

তথ্যমন্ত্রী মরহুম তৌফিক ইমরোজ খালিদীর রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি