খুঁজুন
                               
, ,
           

ময়মনসিংহ বিভাগে প্রথমবারের মতো হচ্ছে নৌযান শুমারি

ময়মনসিংহ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬, ১২:০৮ পূর্বাহ্ণ
ময়মনসিংহ বিভাগে প্রথমবারের মতো হচ্ছে নৌযান শুমারি

সারা দেশের মতো ময়মনসিংহ বিভাগেও প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে নৌযান শুমারি-২০২৬। এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকালে ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলনায়তনে ‘নৌযান শুমারি-২০২৬’ বিষয়ক অংশীজন অবহিতকরণ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)-এর বিভাগীয় পরিসংখ্যান কার্যালয়, ময়মনসিংহ।

অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মো. আজাদ জাহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার এস. এম. হুমায়ুন কবির সরকার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি এবং জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান।

সেমিনারে বিভাগীয় পরিসংখ্যান কার্যালয়ের যুগ্ম পরিচালক মো. ফিরোজ ইবনে ইউসুফ পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনার মাধ্যমে শুমারির সার্বিক কার্যক্রম তুলে ধরেন। তিনি জানান, নৌযান শুমারি-২০২৬-এর মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের সমুদ্রগামী ও অভ্যন্তরীণ নৌপথে চলাচলকারী সব ধরনের নৌযানের সংখ্যা, ধরন এবং কাঠামোগত বৈশিষ্ট্য সম্পর্কিত একটি সমন্বিত জাতীয় তথ্যভাণ্ডার (ডেটাবেজ) তৈরি করা। এই তথ্যভাণ্ডার নৌ-নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, নৌ-দুর্ঘটনা হ্রাস এবং নৌ-শ্রমিকদের আর্থসামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ময়মনসিংহ রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) তাঁর বক্তব্যে বলেন, নৌযান শুমারি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উদ্যোগ। এই ডেটাবেজের মাধ্যমে সরকার নৌখাতে আরও কার্যকরভাবে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সক্ষম হবে। এ কার্যক্রমে পুলিশ বিভাগের সার্বিক সহযোগিতারও আশ্বাস দেন তিনি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার এস. এম. হুমায়ুন কবির সরকার বলেন, নৌযান শুমারি-২০২৬ সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাই শুমারি সফল করতে সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

নৌযান সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সমিতির নেতৃবৃন্দ শুমারির জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। এছাড়া ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক এবং জেলা তথ্য অফিসের পরিচালক শুমারির প্রচারণায় সার্বিক সহযোগিতা করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

সেমিনারে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এম/এএইচ

নেপালের ভয়াবহ বন্যা-ভূমিধসে প্রধানমন্ত্রীর শোক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ৩:১২ পূর্বাহ্ণ
নেপালের ভয়াবহ বন্যা-ভূমিধসে প্রধানমন্ত্রীর শোক

নেপালে আকস্মিক বন্যা ও ভয়াবহ ভূমিধসে প্রাণহানি ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞে গভীর শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে দুর্যোগকবলিত নেপালের সরকার ও জনগণের প্রতি সংহতি জানিয়ে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে বাংলাদেশ।

বুধবার (২৬ আগস্ট) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী এ কথা জানান।

শোকবার্তায় তারেক রহমান বলেন, নেপালে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানি ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞে বাংলাদেশের জনগণ গভীরভাবে মর্মাহত ও শোকাহত। বাংলাদেশ পরিস্থিতির সর্বশেষ খবর নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

তিনি জানান, দুর্যোগের ঘটনায় শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের অনেকেই মারা গিয়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নিখোঁজদের মধ্যে পর্যটকরাও রয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই কঠিন সময়ে বাংলাদেশ সরকার ও জনগণ নেপাল সরকার এবং দেশটির বন্ধুত্বপূর্ণ জনগণের পাশে রয়েছে। তিনি দুর্যোগে নিহতদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং নিখোঁজদের দ্রুত উদ্ধার ও আহতদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত হওয়ার আশা প্রকাশ করেন।

একই সঙ্গে নেপালের উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতা করতে বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে বলেও শোকবার্তায় জানানো হয়।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

নেপালে ভয়াবহ দুর্যোগ: ১৫৭ মরদেহ উদ্ধার, নিখোঁজ ৪০৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ৩:০৩ পূর্বাহ্ণ
নেপালে ভয়াবহ দুর্যোগ: ১৫৭ মরদেহ উদ্ধার, নিখোঁজ ৪০৩

নেপালে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানি বেড়ে ১৫৭ জনে দাঁড়িয়েছে। একই ঘটনায় এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৪০৩ জন। নিখোঁজদের বড় একটি অংশ বিদেশি নাগরিক বলে জানিয়েছে দেশটির পর্যটন বোর্ড।

বুধবার (২৬ আগস্ট) দেশটির মধ্যাঞ্চলীয় বাগমাতি প্রদেশের রসুয়া ও আশপাশের কয়েকটি জেলায় আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। পরে বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে মরদেহ উদ্ধার শুরু করে উদ্ধারকারী দল।

নেপাল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রসুয়া, নুয়াকোট, ধাদিং, চিতওয়ান, গোর্খা, তানাহুঁ ও নওয়ালপুরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে এখন পর্যন্ত ১৫৭টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

নেপাল পর্যটন বোর্ড জানিয়েছে, নিখোঁজ ৪০৩ জনের মধ্যে ৩৪১ জন বিদেশি নাগরিক। তাদের মধ্যে ভারতের ১৩৩ জন, যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭ জন এবং যুক্তরাজ্যের ৩৩ জন রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে ২০০ জন নারী ও ২০৩ জন পুরুষ। ধারণা করা হচ্ছে, তারা ২৬টি দেশের নাগরিক।

এ ছাড়া ৬১ জন নেপালি নাগরিকও নিখোঁজ রয়েছেন। পর্যটন সংশ্লিষ্টদের বরাতে জানা গেছে, নিখোঁজদের অনেকেই ভারত-নেপাল সীমান্তবর্তী মানস সরোবরের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন।

দুর্যোগে নেপালের বিদ্যুৎ অবকাঠামোও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশটির বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জলবিদ্যুৎ ও সৌরবিদ্যুৎ মিলিয়ে প্রায় ৪৩০ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণে ব্যাঘাত ঘটছে।

নেপাল সেনাবাহিনী হেলিকপ্টার ও দুর্যোগ মোকাবিলাকর্মী মোতায়েন করে উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে। নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার সতর্কতাও দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ ভয়াবহ এই প্রাণহানিতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, উদ্ধার অভিযান দ্রুত শুরু করতে সরকার তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সক্ষমতা কাজে লাগিয়েছে।

কালের আলো/এমএসআইপি

আগামীতে কৃষিপণ্য রফতানিতে বাংলাদেশ শীর্ষ অবস্থানে থাকবে: কৃষিমন্ত্রী

সিলেট প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ১০:২৫ অপরাহ্ণ
আগামীতে কৃষিপণ্য রফতানিতে বাংলাদেশ শীর্ষ অবস্থানে থাকবে: কৃষিমন্ত্রী

আগামীতে কৃষিপণ্য রফতানিতে বাংলাদেশ শীর্ষ অবস্থানে থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিনুর রশীদ। তিনি বলেন, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের আধুনিকায়নের মাধ্যমে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি সারাদেশে কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে এবং মিনি কোল্ডস্টোরেজ স্থাপনের মাধ্যমে সবজির ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে কাজ করছে সরকার।

বুধবার (২৬ আগস্ট) বেলা ২টার দিকে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় নদী বিধৌত চলাঞ্চলের সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায়, ২ দিনব্যাপী আয়োজিত সুফলভোগী প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন।

কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিনুর রশীদ বলেন, মার্কেটে এই মুহূর্তে যত সারের প্রয়োজন আছে, তার চেয়ে বহুগুণ বেশি গোডাউনে মজুত আছে। তিনি বলেন, দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণে সারের মজুত রয়েছে। কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। সার নিয়ে কোনো ধরনের সংকট বা ঘাটতি তৈরি হবে না। কৃষকরা যাতে সময়মতো ন্যায্য দামে প্রয়োজনীয় সার পান, সে বিষয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে। কেউ কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজার অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, দেশের সাতটি জেলার চরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং কৃষি ও প্রাণিসম্পদভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে, মানিকগঞ্জ, ঢাকা, মুন্সিগঞ্জ, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর জেলার নদীবেষ্টিত চরাঞ্চলে সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।

প্রশিক্ষণ শেষে ২৫ জন খামারিকে একটি করে বকনা বাছুর ও প্রত্যেককে ৫০ কেজি করে প্রাণী খাদ্য দেওয়া হয়। পাশাপাশি, ঢাকা অঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ১০০ জন সুফলভোগীর মাঝে পাঁচটি করে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ করা হয়।

সমাপনী প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে, মুন্সিগঞ্জের জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফীর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক, মুন্সিগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম এবং সাত জেলার সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ডা. মো. আব্দুর রহিম সহ আরও অনেকে।

এদিকে, অনুষ্ঠান শেষে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের রাজস্ব খাতের আওতায় গজারিয়ার ভবেরচরে-রসুলপুর খালে পোনামাছ অবমুক্ত করেন কৃষিমন্ত্রী আমিনুর রশীদ।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ