খুঁজুন
                               
মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

আকাশে বিমান বাহিনীর বীরত্বের গর্জন, নির্বাচনে সর্বাত্মক সহযোগিতায় দৃঢ় প্রতিজ্ঞ বিমান বাহিনী প্রধান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২৫, ১১:২৭ অপরাহ্ণ
আকাশে বিমান বাহিনীর বীরত্বের গর্জন, নির্বাচনে সর্বাত্মক সহযোগিতায় দৃঢ় প্রতিজ্ঞ বিমান বাহিনী প্রধান

এম.আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর, কালের আলো:

কুয়াশার চাদর সরিয়ে পূর্ব আকাশে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর বীরত্বের গর্জন। ধেয়ে আসছে একের পর এক আকাশযান। আকর্ষণীয় অ্যারোবেটিক ডিসপ্লে, প্যারাট্রুপারদের দৃষ্টিনন্দন প্যারা জাম্পিং বা নান্দনিক ফ্লাইপাস্ট। কী নেই সেখানে? ৮৭তম বাফা কোর্স, ডিরেক্ট এন্ট্রি-২০২৫বি এবং এসপিএসএসসি-২০২৫বি কোর্স এর চির আরাধ্য কমিশন প্রাপ্তির উজ্জ্বলতম এমনই একদিন ছিল বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর)। বাংলার আকাশ সুরক্ষায় জীবনবাজি রাখার শপথ নিলেন ৮জন মহিলা অফিসার ক্যাডেটসহ মোট ৪০ জন অফিসার ক্যাডেট। যুক্ত হলেন বিমান বাহিনীতে। যশোরে বিমান বাহিনী একাডেমি প্যারেড গ্রাউন্ডে রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজে (শীতকালীন) প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন নবীনদের নতুন প্রভাতে দুর্জয় অভিযাত্রার মনোমুগ্ধকর প্রদর্শনী উপভোগ করেন।

সুশৃঙ্খলা মার্চপাস্ট আর দক্ষতা প্রদর্শনে হয়েছেন মুগ্ধ। প্রথমেই কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করেন বিমান বাহিনী প্রধান। গ্র্যাজুয়েটিং অফিসারদের মাঝে পদক এবং ফ্লাইং ব্যাজও বিতরণ করেন। বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণ করেন নতুন ক্যাডেট কমিশনপ্রাপ্তরা। তাদের চোখে-মুখেও ছিল আনন্দ-উচ্ছ্বাস আর শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তির পূর্ণতা। এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন নবীন কর্মকর্তাদের প্রতিটি পদক্ষেপে বিমান বাহিনীর তিনটি মূলমন্ত্র-শৃঙ্খলা, সততা এবং এক্সিলেন্সি ইন অল উই ডু’ ধারণের উপদেশ দিলেন। কেবল আকাশ রক্ষা নয়, জনগণের বিশ্বাস রক্ষা করার পবিত্র দায়িত্ব ও কর্তব্যের কথা স্মরণ করিয়ে দিলেন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সব রকমের সহায়তা দিতে সরকার ও ইসিকে আশ্বস্ত করলেন। বলেছেন, ‘আসন্ন জাতীয় নির্বাচনেও আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা দিতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।’

  • একটি নতুন যাত্রার সূচনায় আনন্দিত ও গর্বিত হাসান মাহমুদ খাঁন
  • শুরুতেই মুক্তিযুদ্ধকালীন কিলো ফ্লাইটের বীরত্বগাঁথাকে স্মরণ
  • যে জাতি নিজ হাতে নিজের শক্তি গড়ে তুলতে পারে তাকে কেউ থামাতে পারে না
  • আসন্ন জাতীয় নির্বাচনেও আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা দিতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ
  • তোমাদের দায়িত্ব কেবল আকাশ রক্ষা করা নয় বরং জনগণের বিশ্বাস রক্ষা করা
  • বিমান বাহিনীকে এক সময় এয়ার এন্ড স্পেইস ফোর্সে রূপান্তরিত হতে হবে

আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, অফিসার ক্যাডেট নাফীস রাফীদ ৮৭তম বাফা কোর্সের প্রশিক্ষণে সার্বিক কৃতিত্বের জন্য ‘সোর্ড অব অনার’ লাভ করেন। এছাড়াও অফিসার ক্যাডেট মো. সাদিক ইসলাম তামীম উড্ডয়ন প্রশিক্ষণে সেরা কৃতিত্বের জন্য ‘বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান ট্রফি’ এবং অফিসার ক্যাডেট জান্নাতুল ইসরাত সাবা জেনারেল সার্ভিস প্রশিক্ষণে কৃতিত্বের জন্য ‘কমান্ড্যান্টস্ ট্রফি’ পেয়েছেন। ৮৭তম বাফা কোর্স (গ্রাউন্ড ব্রাঞ্চ) এ সেরা কৃতিত্বের জন্য অফিসার ক্যাডেট নুসরাত বিনতে ইসলাম নাইস ‘বিমান বাহিনী প্রধানের ট্রফি’ লাভ করেন। এই শীতকালীন টার্মে বীর উত্তম বদরুল আলম স্কোয়াড্রন চ্যাম্পিয়ন বিবেচিত হয়ে একাডেমি পতাকা লাভ করেছে।

একটি নতুন যাত্রার সূচনায় আনন্দিত ও গর্বিত বিমান বাহিনী প্রধান
আজকের এই শীতকালীন রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি উপস্থিত হতে পেরে বিমান বাহিনী প্রধান বলেন, ‘আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। আজকের প্যারেড নিখুঁত সমন্বয়, শৃঙ্খলা ও প্রথাগত উৎকর্ষের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বেরই প্রতিফলন বলেও মনে করেন তিনি। সদ্য কমিশনপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, ‘আজকের প্যারেড প্রত্যক্ষ করে আমি বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর উজ্জ্বল ভবিষ্যত সম্পর্কে নতুন করে গর্ব ও অগাধ আস্থা অনুভব করছি। এই মুহুর্তটি যেমন একটি অর্জন তেমনি একটি নতুন যাত্রার সূচনাও বটে। এটি এমন একটি অর্জন যা এসেছে তোমাদের অদম্য পরিশ্রম, নিষ্ঠা, অক্লান্ত অধ্যাবসায়ের ফসল হিসেবে। আর এর সূচনা হলো আমাদের প্রিয় মাতৃভূমির আকাশসীমা রক্ষার উদ্দেশ্যে তোমাদের পেশাগত জীবনের যাত্রার শুরু দিয়ে।’

শুরুতেই মুক্তিযুদ্ধকালীন কিলো ফ্লাইটের বীরত্বগাঁথাকে স্মরণ
শুরুতেই মুক্তিযুদ্ধকালীন কিলো ফ্লাইটের বীরত্বগাঁথাকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। তিনি বলেন, ‘সীমিত সম্পদ ও নানাবিধ প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তারা যে দায়িত্ববোধ, অদম্য সাহস ও দেশপ্রেমের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন তা আজও আমাদের অনুপ্রেরণার উৎস। তাদের ত্যাগ আমাদেরকে শেখায় দেশমাতৃকার প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা থাকলে যেকোন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব। আজকের প্রযুক্তি নির্ভর বিমান বাহিনী সেই বীর বিমান সেনাদের ত্যাগের ওপরই দাঁড়িয়ে আছে।’

মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় জন্ম নেওয়া বিমান বাহিনী আজ একটি আধুনিক, পেশাদার ও দক্ষ বাহিনী হিসেবে পরিণত হয়েছে মন্তব্য করে বিমান বাহিনী প্রধান বলেন, ‘ভবিষ্যত যুদ্ধের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য আমরা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ অর্জনের পথে দ্রুত এগিয়ে চলছি। অত্যাধুনিক যুদ্ধ বিমান, পরিবহন বিমান, হেলিকপ্টার, এয়ার ডিফেন্স রাডার, ক্ষেপনাস্ত্র ব্যবস্থা, আনম্যান্ড এয়ার ভেহিকেল এবং উন্নত সিমুলেটর সংযোজনের মাধ্যমে আমাদের অপারেশনাল সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি নতুন ঘাঁটি স্থাপন, আধুনিক অবকাঠামো উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিকমানের ট্রেনিং ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আমরা একটি ভবিষ্যমুখী বিমান বাহিনী গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি।’

যে জাতি নিজ হাতে নিজের শক্তি গড়ে তুলতে পারে তাকে কেউ থামাতে পারে না
দৃঢ়তার সঙ্গে বিমান বাহিনী প্রধান বলেন, ‘আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে জাতি নিজ হাতে নিজের শক্তি গড়ে তুলতে পারে তাকে কেউ থামাতে পারে না। আমাদের লক্ষ্য হলো দেশীয় মেধা ও বুদ্ধিবৃত্তিকে কাজে লাগিয়ে নিজস্ব প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী ক্ষমতার বিকাশ ঘটানো যা ভবিষ্যতে আমাদের বিমান ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরিতে সক্ষম করে তুলবে। স্বনির্ভরতার দিকে এই যাত্রা কেবল একটি প্রকল্প নয় এটি জাতির প্রতি আমাদের পবিত্র অঙ্গীকার।’

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনেও আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা দিতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ
‘আকাশসীমা রক্ষার পাশাপাশি বাংলাদেশ বিমান বাহিনী মানবিক সহায়তা, উদ্ধার অভিযান ও দুর্যোগ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে’-যোগ করেন বিমান বাহিনী প্রধান। তিনি বলেন, ‘ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, বন্যা মোকাবিলা, দুর্গত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ, জরুরি মেডিকেল ইভাকুয়েশন কিংবা বিদেশে মানবিক সহায়তা প্রদানে বিমান বাহিনীর সদস্যরা অসাধারণ দক্ষতা ও নিষ্ঠার পরিচয় দিয়েছে। এছাড়াও বিদেশে আটকে পড়া নাগরিকদের উদ্ধার ও জাতিসংঘে শান্তিরক্ষা মিশনে বিমান বাহিনীর প্রশংসনীয় ভূমিকা দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে। বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা প্রদানেও বিমান বাহিনীর সদস্যরা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে গত দেড় বছর ধরে দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসমূহ সচল রাখতে এই বাহিনীর সদস্যরা যে পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠা দেখিয়েছে তা সত্যিই প্রশংনীয়।’

‘আসন্ন জাতীয় নির্বাচনেও আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা দিতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ’- এমনটি জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমি আপনাদের আশ্বস্ত করছি, জাতীয় বা বৈশ্বিক যেকোন প্রয়োজনে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।’ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বহুমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য যে ইস্পাত কঠিন মানসিকতা ও পেশাদারিত্বের প্রয়োজন তাঁর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয় এই একাডেমি থেকে- এই মন্তব্য করে বিমান বাহিনী প্রধান বলেন, ‘বাংলাদেশ বিমান বাহিনী একাডেমি তরুণ ক্যাডেটদের কেবল সামরিক প্রশিক্ষণই দেয় না বরং তাদের চরিত্র, দক্ষতা ও দেশপ্রেমের সমন্বয়ে একেকজন অকুতোভয় আকাশ যোদ্ধা হিসেবে গড়ে তুলে। দীর্ঘ সময় ধরে এই প্রতিষ্ঠানটি কেবল বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর চৌকস কর্মকর্তা তৈরি করেনি বরং বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর ক্যাডেটদের প্রশিক্ষণ দিয়ে আন্তর্জাতিক সামরিক সহযোগিতাকে সুদৃঢ় করেছে। বিশ্বমানের উড্ডয়ন প্রশিক্ষণ ছাড়াও কঠোর সামরিক, একাডেমিক এবং নেতৃত্ব বিকাশের প্রশিক্ষণের সমন্বয়ে প্রণীত এখানকার পাঠ্যক্রম প্রতিটি গ্র্যাজুয়েট অফিসারকে আগামীর যেকোন পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত করে। ভবিষ্যতের নেতৃত্ব তৈরিতে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী একাডেমির এই ভূমিকা আমাদের সক্ষমতার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ।’

তোমাদের দায়িত্ব কেবল আকাশ রক্ষা করা নয় বরং জনগণের বিশ্বাস রক্ষা করা
নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বিমান বাহিনী প্রধান বলেন, ‘আজ থেকে শুরু হলো তোমাদের পেশাগত জীবনের মূল যাত্রা। মনে রাখবে, এই যাত্রা মসৃণ নয়। তোমাদের প্রতিটি পদক্ষেপে ধারণ করতে হবে বিমান বাহিনীর তিনটি মূলমন্ত্র- শৃঙ্খলা, সততা এবং এক্সিলেন্সি ইন অল উই ডু। আজ যে ইউনিফর্ম তোমরা পরিধারণ করেছো তা কেবল একটি পোশাক নয়, সম্মান দায়িত্ব ও দেশের প্রতি আমৃত্যু অঙ্গীকারের প্রতীক। এগুলো কেবল নীতিকথা নয় বরং তোমাদের পেশাগত জীবনের চালিকাশক্তি। আজ তোমরা যে শপথ গ্রহণ করলে তা কেবল একটি অনুষ্ঠান নয় এটি একটি পবিত্র অঙ্গীকার যা তোমাদের প্রতিটি সিদ্ধান্ত দায়িত্ব ও কাজকে পরিচালিত করবে। পথ যতো কঠিনই হোক না কেন নৈতিক সাহস যেন সর্বদা তোমাদের পথপ্রদর্শক হয়। মনে রাখবে তোমাদের দায়িত্ব কেবল আকাশ রক্ষা করা নয় বরং জনগণের বিশ্বাস রক্ষা করা। এই ইউনিফর্ম কেবল একটি পোশাক নয় এটি একটি শপথ, তোমাদের চালচলণে সেই দৃঢ়তা, সংযম এবং মর্যাদা থাকতে হবে। যা বিমান বাহিনীর একজন ভবিষ্যত নেতার কাছে সকলের কাম্য।’

বিমান বাহিনীকে এক সময় এয়ার এন্ড স্পেইস ফোর্সে রূপান্তরিত হতে হবে
আজ থেকে তোমরা বিমান বাহিনীর গৌরবময় পরিবারের সদস্য হলে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এখানে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আনুগত্য এবং পেশাদারিত্বই মূল শক্তি। সহকর্মীদের সম্মান করবে এবং জ্যেষ্ঠদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবে। সর্বদা ব্যক্তিস্বার্থের উর্ধ্বে বিমান বাহিনীর স্বার্থকে স্থান দিবে। যুদ্ধ ক্ষেত্রে বা শান্তিকালীন সময়ে একক প্রচেষ্টার চেয়ে দলগত প্রচেষ্টাই সাফল্যের চাবিকাঠি। সর্বদা মনে রাখবে ‘টিম ওয়ার্কস মেকস দ্য মিশন পসিবল’। ফোর্সেস গোল ২০৩০ এর রূপরেখা অনুযায়ী বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর আধুনিকায়ন দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। সর্বাধুনিক যুদ্ধ বিমান, অ্যাটাক হেলিকপ্টার, অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা র‌্যাডার, নেটওয়ার্ক সেন্ট্রিক ওয়ারফেজের সক্ষমতা এবং মহাকাশ গবেষণা এসবই আমাদের ভবিষ্যত আধুনিক বিমান বাহিনীর ভিত্তি। তোমরা হচ্ছো সেই ভবিষ্যতের কর্ণধার যারা এই আধুনিক সরঞ্জাম ও প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করবে।

ভবিষ্যতের যুদ্ধ ক্ষেত্র হবে প্রযুক্তি নির্ভর, বহুমাত্রিক ও দ্রুত পরিবর্তনশীল জানিয়ে বিমান বাহিনী প্রধান আরও বলেন, ‘এআই মানে আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স, সাইবার ওয়ারফেয়ার, আনম্যান্ড এয়ার ভেহিকেল এন্ড স্পেইসবেজড অপারেশন সামরিক কৌশলকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করেছে। তাই তোমাদের প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার মানসিকতাকে থাকতে হবে। সময়ের প্রয়োজনেই আমাদের বিমান বাহিনীকে এক সময় এয়ার এন্ড স্পেইস ফোর্সে রূপান্তরিত হতে হবে। তাই সেই লক্ষ্য অর্জনে সর্বদা প্রস্তুত এবং প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থেকো। ভবিষ্যত যুদ্ধক্ষেত্রে প্রস্তুতির পাশাপাশি জাতীয় যেকোন দুর্যোগ, ত্রাণ কার্যক্রম, উদ্ধার অভিযান কিংবা দেশের যেকোন প্রয়োজনে তোমাদেরকে সর্বদা জনগণের পাশে দাঁড়াতে হবে।

কালের আলো/এমএএএমকে

চারদিকে বস্তিবাসীর হাহাকার, আগুনের তাণ্ডবে পুড়ল কালশী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ২:৫৮ পূর্বাহ্ণ
চারদিকে বস্তিবাসীর হাহাকার, আগুনের তাণ্ডবে পুড়ল কালশী

চারদিকে শুধু ধোঁয়া আর আগুনের লেলিহান শিখা। কেউ ঘর থেকে মালামাল বের করতে ব্যস্ত, কেউ স্বজনকে খুঁজছেন কান্নাজড়িত চোখে। রাজধানীর কালশী বস্তিতে ভয়াবহ আগুনে মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক ও হাহাকার।

সরু রাস্তা, পানির সংকট আর দাহ্য সামগ্রীর কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয় ফায়ার সার্ভিসকে। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় ১৫টি ইউনিটের ১২৩ জন ফায়ার ফাইটার স্থানীয়দের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

রাজধানীর কালশী বস্তির সেই ভয়াবহ আগুন নিয়ন্ত্রণে যখন প্রাণপণ লড়ছিলেন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা, তখন তাদের পাশেই দাঁড়িয়েছিল সাধারণ মানুষ কাঁধে তুলে নিয়েছেন ভারী পানির পাইপ।

সোমবার (২৬ মে) পল্লবীর কালশী অগ্নি সম্বলিত বস্তিত এলাকায় আগুন নেভানোর সময় এমন চিত্র দেখা যায়।

ভয়াবহ এই আগুন নির্বাপণে ফায়ার সার্ভিসের ১৫টি ইউনিটের ১২৩ জন ফায়ার ফাইটার, স্থানীয় জনগণ, ভলেন্টিয়ার, পুলিশ, র‍্যাব ও সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় নেভানো হয় এই আগুন।

এদিকে রাস্তাগুলো সরু হওয়া ও আসে পাশে পানির কোনো উৎস না থাকায় আগুন নেভাতে বেগ পেতে হয়েছে বলে জানান ফায়ার সার্ভিসে সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশিক্ষণ, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) লে. কর্নেল এম এ আজাদ আনোয়ার।

সোমবার (২৫ মে) রাতে রাজধানীর পল্লবী এলাকার কালশী বস্তিতে অগ্নি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব বলেন তিনি।

লে. কর্নেল এম এ আজাদ আনোয়ার বলেন, আনুমানিক সন্ধ্যা ৭টা ২৩ মিনিটে আমাদের কন্ট্রোল রুম থেকে আমরা সংবাদ পাই কালশী বস্তিতে আগুনের ঘটনা ঘটেছে। যেখানে প্রায় হাজার ১২০০ ঘর এবং ভাঙারি দোকান রয়েছে, তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার লোকের বসতি।

এরপর ৭টা ৩২ মিনিটে আমাদের প্রথম ইউনিট এখানে উপস্থিত হয়। পরে আগুনের ভয়াবহতা দেখে আরো ১৪টি ইউনিট মোট ১৫টি ইউনিট ও ১২৩ জন ফায়ার ফাইটার, স্থানীয় জনগণ, ভলেন্টিয়ার, পুলিশ, র‍্যাব ও সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় আমরা ৯টা ৩৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হই। কিছুক্ষণের মধ্যেই আমরা আগুন সম্পূর্ণ নিরাপন করতে পারব। আগুনের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং সূত্রপাত এখনো কিছু জানা যায়নি। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তীতে জানানো সম্ভব হবে।

আগুন নিয়ন্ত্রণে এত বেগ পাওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, কারণ এখানে রাস্তাগুলো সরু রাস্তা। যেখানে আগুনের ঘটনা ঘটেছে সেখানে পৌঁছানো যাচ্ছিল না। আর একটা বড় সমস্যা আসে পাশে পানির কোনো উৎস নেই। যার কারণে আমাদের ১৫টা বিশেষ পানিবাহী গাড়ি নিয়ে আসতে হয়েছে। এবং সেই গাড়ি দিয়ে আগুনটা নিয়ে নিভাতে হয়েছে।

আগুনের তীব্রতা বেশি হওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, কারণ এখানে ভাঙারি ও কাগজপত্রের দোকান, প্লাস্টিকের জিনিসপত্রের দোকানের কারণে ধোঁয়া বেশি হচ্ছে। ভেতরের সব দাহ্য ধরনের যেমন কাগজ কাপড় টাইপের জিনিসপত্র ছিল। এবং আজ বৃষ্টির কারণে বাতাস ছিল প্রচুর। যার কারণে আগুনটা দ্রুত ছড়িয়ে গেছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেছি, এখন পর্যন্ত কোনো নিখোঁজ ও হতাহতের সংবাদ আমরা পায়নি বলেও জানান তিনি।

এখানে কয়েকদিন আগে উচ্ছেদ অভিযান হয়েছিল। এর সঙ্গে আগুনের কোনো যোগসূত্র আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে এটা বলতে পারব। আমরা ফায়ার সার্ভিস এর পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করব।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

যমুনা সেতু দিয়ে পার হলো স্বাভাবিকের চেয়ে ৩১ হাজারের বেশি যানবাহন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১:৪৪ পূর্বাহ্ণ
যমুনা সেতু দিয়ে পার হলো স্বাভাবিকের চেয়ে ৩১ হাজারের বেশি যানবাহন

পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে ঘরে ফিরতে শুরু করেছেন মানুষ। এতে দেশের বিভিন্ন মহাসড়কে বেড়েছে যানবাহনের চাপ। এর প্রভাব পড়েছে উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার যমুনা সেতুতেও, যেখানে দিন দিন বাড়ছে যানবাহন পারাপারের সংখ্যা।

স্বাভাবিক সময়ে যেখানে প্রতিদিন ২০ থেকে ২২ হাজার যানবাহন পারাপার হয়, সেখানে ঈদযাত্রার ব্যস্ততম সময়ে গত ২৪ ঘণ্টায় সেতুটি দিয়ে চলাচল করেছে ৫৩ হাজার ২৪৬টি যানবাহন। অর্থাৎ স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় ৩১ হাজার বেশি যানবাহন পারাপার হয়েছে।

যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন ঢাকা পোস্টকে বলেন, সোমবার (২৫ মে) ২৪ ঘণ্টায় সেতুর পূর্ব প্রান্ত দিয়ে ৩২ হাজার ১৮৬টি যানবাহন চলাচল করেছে। এসব যানবাহন থেকে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৯৬ লাখ ৪০ হাজার ৭০০ টাকা।

অন্যদিকে পশ্চিম প্রান্ত দিয়ে পারাপার হয়েছে ২১ হাজার ৬০টি যানবাহন। এ খাত থেকে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৮১ লাখ ১৭ হাজার ৫০০ টাকা।

দুই প্রান্ত মিলিয়ে ২৪ ঘণ্টায় মোট ৫৩ হাজার ২৪৬টি যানবাহন যমুনা সেতু ব্যবহার করেছে। একই সময়ে মোট টোল আদায়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৭৭ লাখ ৫৮ হাজার ২০০ টাকা।

এর আগের দিন রবিবার (২৪ মে) ২৪ ঘণ্টায় সেতুটি দিয়ে ৩৯ হাজার ৯১৯টি যানবাহন পারাপার হয়েছিল এবং টোল আদায় হয়েছিল ৩ কোটি ২৫ লাখ ১৫ হাজার ৬৫০ টাকা। সেই হিসাবে একদিনের ব্যবধানে যানবাহন পারাপার বেড়েছে ১৩ হাজার ৩২৭টি এবং টোল আদায় বেড়েছে ৫২ লাখ ৪২ হাজার ৫৫০ টাকা।

সোমবার রাত পর্যন্ত যমুনা সেতুর পশ্চিম পাড়, কোনাবাড়ি মোড়, সায়দাবাদ, কড্ডার মোড় ও নলকা এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, যানবাহনের চাপ ক্রমাগত বাড়লেও কোথাও যানজট নেই। বাস, ট্রাক, প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলে করে মানুষ বাড়ির পথে

মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশ সদস্যদেরও দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। নির্ধারিত স্থান ছাড়া কোথাও যানবাহন থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করতে দেওয়া হচ্ছে না।

কালের আলো/এএন/এমএসআইপি 

ময়মনসিংহে চাঁদা না পেয়ে বিস্কুট ফ্যাক্টরিতে হামলার অভিযোগ

ময়মনসিংহ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ১০:১৯ অপরাহ্ণ
ময়মনসিংহে চাঁদা না পেয়ে বিস্কুট ফ্যাক্টরিতে হামলার অভিযোগ

ময়মনসিংহে “চাঁদনী ফুড প্রোডাক্টস” নামের একটি বিস্কুট ফ্যাক্টরিতে হামলা, ভাঙচুর, মারধর ও নগদ টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২৫ মে) নগরের কোতোয়ালী থানাধীন মধ্যবাড়েরা ২৬ নম্বর ওয়ার্ড হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে দুই সহোদর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ফ্যাক্টরির ম্যানেজার এনামুল হক সুমন (৩২) কে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় সোমবার বিকেলে মধ্যবাড়েরা এলাকার বাসিন্দা মোঃ আপন মিয়া কোতোয়ালী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ফ্যাক্টরির ম্যানেজার এনামুল হক সুমন (৩২) এর বড় ভাই মোঃ হুরমুজ আলী দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর ধরে হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় “চাঁদনী ফুড প্রোডাক্টস” নামে বিস্কুট ফ্যাক্টরি পরিচালনা করে আসছেন। স্থানীয় ফয়সাল আহমেদ বাবু (৩০), শাহ আলী (৪০), জুনাইদ, আলমাছ, আকাশ মিয়া, রিয়েন, হৃদয় মিয়া, নাহিদ মিয়া, শামীম মিয়া ও আসিফ মিয়াসহ অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজন দীর্ঘদিন ধরে ফ্যাক্টরিতে এসে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করত।

অভিযোগ অনুযায়ী, সোমবার (২৫ মে) সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ফ্যাক্টরিতে প্রবেশ করে গালিগালাজ শুরু করে। এ সময় আপন মিয়ার ছোট ভাই এনামুল হক সুমন প্রতিবাদ করলে তাকে ব্যাপক মারধর করা হয়। অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, অভিযুক্তরা লোহার রড ও লাঠিসোটা দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে তাকে আহত করে এবং শ্বাসরোধের চেষ্টাও চালায়।

এ সময় ফ্যাক্টরির স্বত্বাধিকারী হুরমুজ আলী এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ফ্যাক্টরির ক্যাশ থেকে নগদ দুই লাখ টাকা নিয়ে যাওয়ার এবং ভাঙচুর করে প্রায় এক লাখ ২০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত এনামুল হক সুমনকে (৩২) ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।

অভিযোগকারী আপন মিয়া বলেন, “ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা এলাকায় মাদক ব্যবসা, মাদক সেবন ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তাদের অত্যাচারে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ। তারা অতর্কিত হামলা চালিয়ে আমার দুই ভাইকে আহত করেছে এবং ফ্যাক্টরিতে ভাঙচুর ও নগদ টাকা লুট করেছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”

তবে এসব ঘটনা অস্বীকার করেছেন ফয়সাল আহমেদ বাবু। তিনি বলেন, এমন কোনো ঘটনা আমরা করিনি, আপনারা এলাকায় এসে তদন্ত করে দেখেন।

মারামারির ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ফ্যাক্টরির কারিগর উজ্জ্বল মিয়া বলেন, আজ সকালে এ ঘটনা ঘটে। আহত একজন ময়মনসিংহ মেডিকেলে ভর্তি আছেন।

এ বিষয়ে কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি