খুঁজুন
                               
, ,
           

আকাশে বিমান বাহিনীর বীরত্বের গর্জন, নির্বাচনে সর্বাত্মক সহযোগিতায় দৃঢ় প্রতিজ্ঞ বিমান বাহিনী প্রধান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২৫, ১১:২৭ অপরাহ্ণ
আকাশে বিমান বাহিনীর বীরত্বের গর্জন, নির্বাচনে সর্বাত্মক সহযোগিতায় দৃঢ় প্রতিজ্ঞ বিমান বাহিনী প্রধান

এম.আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর, কালের আলো:

কুয়াশার চাদর সরিয়ে পূর্ব আকাশে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর বীরত্বের গর্জন। ধেয়ে আসছে একের পর এক আকাশযান। আকর্ষণীয় অ্যারোবেটিক ডিসপ্লে, প্যারাট্রুপারদের দৃষ্টিনন্দন প্যারা জাম্পিং বা নান্দনিক ফ্লাইপাস্ট। কী নেই সেখানে? ৮৭তম বাফা কোর্স, ডিরেক্ট এন্ট্রি-২০২৫বি এবং এসপিএসএসসি-২০২৫বি কোর্স এর চির আরাধ্য কমিশন প্রাপ্তির উজ্জ্বলতম এমনই একদিন ছিল বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর)। বাংলার আকাশ সুরক্ষায় জীবনবাজি রাখার শপথ নিলেন ৮জন মহিলা অফিসার ক্যাডেটসহ মোট ৪০ জন অফিসার ক্যাডেট। যুক্ত হলেন বিমান বাহিনীতে। যশোরে বিমান বাহিনী একাডেমি প্যারেড গ্রাউন্ডে রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজে (শীতকালীন) প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন নবীনদের নতুন প্রভাতে দুর্জয় অভিযাত্রার মনোমুগ্ধকর প্রদর্শনী উপভোগ করেন।

সুশৃঙ্খলা মার্চপাস্ট আর দক্ষতা প্রদর্শনে হয়েছেন মুগ্ধ। প্রথমেই কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করেন বিমান বাহিনী প্রধান। গ্র্যাজুয়েটিং অফিসারদের মাঝে পদক এবং ফ্লাইং ব্যাজও বিতরণ করেন। বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণ করেন নতুন ক্যাডেট কমিশনপ্রাপ্তরা। তাদের চোখে-মুখেও ছিল আনন্দ-উচ্ছ্বাস আর শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তির পূর্ণতা। এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন নবীন কর্মকর্তাদের প্রতিটি পদক্ষেপে বিমান বাহিনীর তিনটি মূলমন্ত্র-শৃঙ্খলা, সততা এবং এক্সিলেন্সি ইন অল উই ডু’ ধারণের উপদেশ দিলেন। কেবল আকাশ রক্ষা নয়, জনগণের বিশ্বাস রক্ষা করার পবিত্র দায়িত্ব ও কর্তব্যের কথা স্মরণ করিয়ে দিলেন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সব রকমের সহায়তা দিতে সরকার ও ইসিকে আশ্বস্ত করলেন। বলেছেন, ‘আসন্ন জাতীয় নির্বাচনেও আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা দিতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।’

  • একটি নতুন যাত্রার সূচনায় আনন্দিত ও গর্বিত হাসান মাহমুদ খাঁন
  • শুরুতেই মুক্তিযুদ্ধকালীন কিলো ফ্লাইটের বীরত্বগাঁথাকে স্মরণ
  • যে জাতি নিজ হাতে নিজের শক্তি গড়ে তুলতে পারে তাকে কেউ থামাতে পারে না
  • আসন্ন জাতীয় নির্বাচনেও আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা দিতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ
  • তোমাদের দায়িত্ব কেবল আকাশ রক্ষা করা নয় বরং জনগণের বিশ্বাস রক্ষা করা
  • বিমান বাহিনীকে এক সময় এয়ার এন্ড স্পেইস ফোর্সে রূপান্তরিত হতে হবে

আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, অফিসার ক্যাডেট নাফীস রাফীদ ৮৭তম বাফা কোর্সের প্রশিক্ষণে সার্বিক কৃতিত্বের জন্য ‘সোর্ড অব অনার’ লাভ করেন। এছাড়াও অফিসার ক্যাডেট মো. সাদিক ইসলাম তামীম উড্ডয়ন প্রশিক্ষণে সেরা কৃতিত্বের জন্য ‘বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান ট্রফি’ এবং অফিসার ক্যাডেট জান্নাতুল ইসরাত সাবা জেনারেল সার্ভিস প্রশিক্ষণে কৃতিত্বের জন্য ‘কমান্ড্যান্টস্ ট্রফি’ পেয়েছেন। ৮৭তম বাফা কোর্স (গ্রাউন্ড ব্রাঞ্চ) এ সেরা কৃতিত্বের জন্য অফিসার ক্যাডেট নুসরাত বিনতে ইসলাম নাইস ‘বিমান বাহিনী প্রধানের ট্রফি’ লাভ করেন। এই শীতকালীন টার্মে বীর উত্তম বদরুল আলম স্কোয়াড্রন চ্যাম্পিয়ন বিবেচিত হয়ে একাডেমি পতাকা লাভ করেছে।

একটি নতুন যাত্রার সূচনায় আনন্দিত ও গর্বিত বিমান বাহিনী প্রধান
আজকের এই শীতকালীন রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি উপস্থিত হতে পেরে বিমান বাহিনী প্রধান বলেন, ‘আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। আজকের প্যারেড নিখুঁত সমন্বয়, শৃঙ্খলা ও প্রথাগত উৎকর্ষের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বেরই প্রতিফলন বলেও মনে করেন তিনি। সদ্য কমিশনপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, ‘আজকের প্যারেড প্রত্যক্ষ করে আমি বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর উজ্জ্বল ভবিষ্যত সম্পর্কে নতুন করে গর্ব ও অগাধ আস্থা অনুভব করছি। এই মুহুর্তটি যেমন একটি অর্জন তেমনি একটি নতুন যাত্রার সূচনাও বটে। এটি এমন একটি অর্জন যা এসেছে তোমাদের অদম্য পরিশ্রম, নিষ্ঠা, অক্লান্ত অধ্যাবসায়ের ফসল হিসেবে। আর এর সূচনা হলো আমাদের প্রিয় মাতৃভূমির আকাশসীমা রক্ষার উদ্দেশ্যে তোমাদের পেশাগত জীবনের যাত্রার শুরু দিয়ে।’

শুরুতেই মুক্তিযুদ্ধকালীন কিলো ফ্লাইটের বীরত্বগাঁথাকে স্মরণ
শুরুতেই মুক্তিযুদ্ধকালীন কিলো ফ্লাইটের বীরত্বগাঁথাকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। তিনি বলেন, ‘সীমিত সম্পদ ও নানাবিধ প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তারা যে দায়িত্ববোধ, অদম্য সাহস ও দেশপ্রেমের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন তা আজও আমাদের অনুপ্রেরণার উৎস। তাদের ত্যাগ আমাদেরকে শেখায় দেশমাতৃকার প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা থাকলে যেকোন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব। আজকের প্রযুক্তি নির্ভর বিমান বাহিনী সেই বীর বিমান সেনাদের ত্যাগের ওপরই দাঁড়িয়ে আছে।’

মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় জন্ম নেওয়া বিমান বাহিনী আজ একটি আধুনিক, পেশাদার ও দক্ষ বাহিনী হিসেবে পরিণত হয়েছে মন্তব্য করে বিমান বাহিনী প্রধান বলেন, ‘ভবিষ্যত যুদ্ধের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য আমরা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ অর্জনের পথে দ্রুত এগিয়ে চলছি। অত্যাধুনিক যুদ্ধ বিমান, পরিবহন বিমান, হেলিকপ্টার, এয়ার ডিফেন্স রাডার, ক্ষেপনাস্ত্র ব্যবস্থা, আনম্যান্ড এয়ার ভেহিকেল এবং উন্নত সিমুলেটর সংযোজনের মাধ্যমে আমাদের অপারেশনাল সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি নতুন ঘাঁটি স্থাপন, আধুনিক অবকাঠামো উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিকমানের ট্রেনিং ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আমরা একটি ভবিষ্যমুখী বিমান বাহিনী গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি।’

যে জাতি নিজ হাতে নিজের শক্তি গড়ে তুলতে পারে তাকে কেউ থামাতে পারে না
দৃঢ়তার সঙ্গে বিমান বাহিনী প্রধান বলেন, ‘আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে জাতি নিজ হাতে নিজের শক্তি গড়ে তুলতে পারে তাকে কেউ থামাতে পারে না। আমাদের লক্ষ্য হলো দেশীয় মেধা ও বুদ্ধিবৃত্তিকে কাজে লাগিয়ে নিজস্ব প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী ক্ষমতার বিকাশ ঘটানো যা ভবিষ্যতে আমাদের বিমান ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরিতে সক্ষম করে তুলবে। স্বনির্ভরতার দিকে এই যাত্রা কেবল একটি প্রকল্প নয় এটি জাতির প্রতি আমাদের পবিত্র অঙ্গীকার।’

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনেও আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা দিতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ
‘আকাশসীমা রক্ষার পাশাপাশি বাংলাদেশ বিমান বাহিনী মানবিক সহায়তা, উদ্ধার অভিযান ও দুর্যোগ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে’-যোগ করেন বিমান বাহিনী প্রধান। তিনি বলেন, ‘ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, বন্যা মোকাবিলা, দুর্গত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ, জরুরি মেডিকেল ইভাকুয়েশন কিংবা বিদেশে মানবিক সহায়তা প্রদানে বিমান বাহিনীর সদস্যরা অসাধারণ দক্ষতা ও নিষ্ঠার পরিচয় দিয়েছে। এছাড়াও বিদেশে আটকে পড়া নাগরিকদের উদ্ধার ও জাতিসংঘে শান্তিরক্ষা মিশনে বিমান বাহিনীর প্রশংসনীয় ভূমিকা দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে। বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা প্রদানেও বিমান বাহিনীর সদস্যরা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে গত দেড় বছর ধরে দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসমূহ সচল রাখতে এই বাহিনীর সদস্যরা যে পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠা দেখিয়েছে তা সত্যিই প্রশংনীয়।’

‘আসন্ন জাতীয় নির্বাচনেও আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা দিতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ’- এমনটি জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমি আপনাদের আশ্বস্ত করছি, জাতীয় বা বৈশ্বিক যেকোন প্রয়োজনে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।’ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বহুমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য যে ইস্পাত কঠিন মানসিকতা ও পেশাদারিত্বের প্রয়োজন তাঁর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয় এই একাডেমি থেকে- এই মন্তব্য করে বিমান বাহিনী প্রধান বলেন, ‘বাংলাদেশ বিমান বাহিনী একাডেমি তরুণ ক্যাডেটদের কেবল সামরিক প্রশিক্ষণই দেয় না বরং তাদের চরিত্র, দক্ষতা ও দেশপ্রেমের সমন্বয়ে একেকজন অকুতোভয় আকাশ যোদ্ধা হিসেবে গড়ে তুলে। দীর্ঘ সময় ধরে এই প্রতিষ্ঠানটি কেবল বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর চৌকস কর্মকর্তা তৈরি করেনি বরং বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর ক্যাডেটদের প্রশিক্ষণ দিয়ে আন্তর্জাতিক সামরিক সহযোগিতাকে সুদৃঢ় করেছে। বিশ্বমানের উড্ডয়ন প্রশিক্ষণ ছাড়াও কঠোর সামরিক, একাডেমিক এবং নেতৃত্ব বিকাশের প্রশিক্ষণের সমন্বয়ে প্রণীত এখানকার পাঠ্যক্রম প্রতিটি গ্র্যাজুয়েট অফিসারকে আগামীর যেকোন পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত করে। ভবিষ্যতের নেতৃত্ব তৈরিতে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী একাডেমির এই ভূমিকা আমাদের সক্ষমতার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ।’

তোমাদের দায়িত্ব কেবল আকাশ রক্ষা করা নয় বরং জনগণের বিশ্বাস রক্ষা করা
নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বিমান বাহিনী প্রধান বলেন, ‘আজ থেকে শুরু হলো তোমাদের পেশাগত জীবনের মূল যাত্রা। মনে রাখবে, এই যাত্রা মসৃণ নয়। তোমাদের প্রতিটি পদক্ষেপে ধারণ করতে হবে বিমান বাহিনীর তিনটি মূলমন্ত্র- শৃঙ্খলা, সততা এবং এক্সিলেন্সি ইন অল উই ডু। আজ যে ইউনিফর্ম তোমরা পরিধারণ করেছো তা কেবল একটি পোশাক নয়, সম্মান দায়িত্ব ও দেশের প্রতি আমৃত্যু অঙ্গীকারের প্রতীক। এগুলো কেবল নীতিকথা নয় বরং তোমাদের পেশাগত জীবনের চালিকাশক্তি। আজ তোমরা যে শপথ গ্রহণ করলে তা কেবল একটি অনুষ্ঠান নয় এটি একটি পবিত্র অঙ্গীকার যা তোমাদের প্রতিটি সিদ্ধান্ত দায়িত্ব ও কাজকে পরিচালিত করবে। পথ যতো কঠিনই হোক না কেন নৈতিক সাহস যেন সর্বদা তোমাদের পথপ্রদর্শক হয়। মনে রাখবে তোমাদের দায়িত্ব কেবল আকাশ রক্ষা করা নয় বরং জনগণের বিশ্বাস রক্ষা করা। এই ইউনিফর্ম কেবল একটি পোশাক নয় এটি একটি শপথ, তোমাদের চালচলণে সেই দৃঢ়তা, সংযম এবং মর্যাদা থাকতে হবে। যা বিমান বাহিনীর একজন ভবিষ্যত নেতার কাছে সকলের কাম্য।’

বিমান বাহিনীকে এক সময় এয়ার এন্ড স্পেইস ফোর্সে রূপান্তরিত হতে হবে
আজ থেকে তোমরা বিমান বাহিনীর গৌরবময় পরিবারের সদস্য হলে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এখানে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আনুগত্য এবং পেশাদারিত্বই মূল শক্তি। সহকর্মীদের সম্মান করবে এবং জ্যেষ্ঠদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবে। সর্বদা ব্যক্তিস্বার্থের উর্ধ্বে বিমান বাহিনীর স্বার্থকে স্থান দিবে। যুদ্ধ ক্ষেত্রে বা শান্তিকালীন সময়ে একক প্রচেষ্টার চেয়ে দলগত প্রচেষ্টাই সাফল্যের চাবিকাঠি। সর্বদা মনে রাখবে ‘টিম ওয়ার্কস মেকস দ্য মিশন পসিবল’। ফোর্সেস গোল ২০৩০ এর রূপরেখা অনুযায়ী বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর আধুনিকায়ন দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। সর্বাধুনিক যুদ্ধ বিমান, অ্যাটাক হেলিকপ্টার, অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা র‌্যাডার, নেটওয়ার্ক সেন্ট্রিক ওয়ারফেজের সক্ষমতা এবং মহাকাশ গবেষণা এসবই আমাদের ভবিষ্যত আধুনিক বিমান বাহিনীর ভিত্তি। তোমরা হচ্ছো সেই ভবিষ্যতের কর্ণধার যারা এই আধুনিক সরঞ্জাম ও প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করবে।

ভবিষ্যতের যুদ্ধ ক্ষেত্র হবে প্রযুক্তি নির্ভর, বহুমাত্রিক ও দ্রুত পরিবর্তনশীল জানিয়ে বিমান বাহিনী প্রধান আরও বলেন, ‘এআই মানে আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স, সাইবার ওয়ারফেয়ার, আনম্যান্ড এয়ার ভেহিকেল এন্ড স্পেইসবেজড অপারেশন সামরিক কৌশলকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করেছে। তাই তোমাদের প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার মানসিকতাকে থাকতে হবে। সময়ের প্রয়োজনেই আমাদের বিমান বাহিনীকে এক সময় এয়ার এন্ড স্পেইস ফোর্সে রূপান্তরিত হতে হবে। তাই সেই লক্ষ্য অর্জনে সর্বদা প্রস্তুত এবং প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থেকো। ভবিষ্যত যুদ্ধক্ষেত্রে প্রস্তুতির পাশাপাশি জাতীয় যেকোন দুর্যোগ, ত্রাণ কার্যক্রম, উদ্ধার অভিযান কিংবা দেশের যেকোন প্রয়োজনে তোমাদেরকে সর্বদা জনগণের পাশে দাঁড়াতে হবে।

কালের আলো/এমএএএমকে

সরকারের পাঁচ মাস পূর্তি : শনিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ১০:৪২ অপরাহ্ণ
সরকারের পাঁচ মাস পূর্তি : শনিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন

জনগণের ভোটে নির্বাচিত বাংলাদেশ সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পাঁচ মাস পূর্তি উপলক্ষ্যে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।

শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টায় প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ের ‘করবী’ হলে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন, প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত থাকবেন।

উল্লেখ্য, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে নতুন মেয়াদের কার্যক্রম শুরু করে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি। সেই ধারাবাহিকতায় সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পাঁচ মাস পূর্তি উপলক্ষ্যে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি 

‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’-  ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীও তারেক রহমানের ভাষায় আশ্বাস দিয়েছেন দেশবাসীকে: তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ৯:২৫ অপরাহ্ণ
‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’-  ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীও তারেক রহমানের ভাষায় আশ্বাস দিয়েছেন দেশবাসীকে: তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, একজন রাষ্ট্রনায়কের প্রকৃত শক্তি হলো তাঁর সুস্পষ্ট পরিকল্পনায়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকার গঠনের আগে ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ এর মাধ্যমে জাতির সামনে যে রাষ্ট্র পরিচালনার পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছিলেন, সম্প্রতি ব্রিটেনের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীও তাঁর বক্তব্যের সূচনায় আই হ্যাভ এ প্ল্যান বলে পরিকল্পনাভিত্তিক নেতৃত্বের সাথে মিলিয়ে একই ভাষায় কথা বলেছেন।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাজধানীর সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন ভবনের শহীদ শফিউর রহমান মিলনায়তনে আপন, ঢাকা’র উদ্যোগে মহাত্মা ভেগাই হালদারের আবির্ভাব ও তিরোধান উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, “একটু আগে দেখলাম ব্রিটেনের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যের শুরুতেই ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ বলেছেন। শুনে মনে হয়েছে, পরিকল্পনাভিত্তিক নেতৃত্বের যে দর্শন তারেক রহমান বাংলাদেশের মানুষের সামনে উপস্থাপন করেছিলেন, সেই একই ভাষায় জনগণের কাছে ভবিষ্যতের রূপরেখা তুলে ধরা হচ্ছে।”

তিনি বলেন, একজন রাষ্ট্রনায়ক যখন জাতির সামনে একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা তুলে ধরেন, তখন জনগণ সেই পরিকল্পনার মধ্যেই দেশের ভবিষ্যৎ দেখতে পায় এবং সেই নেতৃত্বের ওপর আস্থা রাখে। বাংলাদেশের মানুষও তারেক রহমানের ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’-এ ঘোষিত রাষ্ট্রচিন্তা ও কর্মপরিকল্পনার প্রতি বিশ্বাস রেখেই তাঁকে এবং তাঁর দলকে বিপুল সমর্থন দিয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, তারেক রহমানের পরিকল্পনার অন্যতম ভিত্তি হলো ধর্ম, বর্ণ, ভাষা, জাতিসত্তা ও সংস্কৃতি নির্বিশেষে সকল নাগরিকের সমঅধিকার নিশ্চিত করা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অটুট রাখা।

মাহাত্মা ভেগাই হালদারও অনুরূপ মানবিক মূল্যবোধ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কথা প্রচার করে গিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তথ্যমন্ত্রী।

তথ্যমন্ত্রী দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ সকল বৈচিত্র্যের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের দেশ হিসেবে এগিয়ে যাবে এবং বিভাজনের রাজনীতির কোনো স্থান এখানে হবে না।

তিনি বলেন, যারা একক ধর্ম, একক সংস্কৃতি বা একদলীয় আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে, তারা প্রকৃতির নিয়ম, মানবতা ও সভ্যতার বিরোধী।  বাংলাদেশে ধর্ম, বর্ণ, ভাষা ও জাতিগত পরিচয় নির্বিশেষে সকল নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

অনুষ্ঠানে কৃতি শিক্ষার্থী ও গুণীজনদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আপন, ঢাকার সভাপতি শচীন্দ্র নাথ হালদার।

কালের আলো/এম/এএইচ

কাবাডিতে নেপালের বিপক্ষে বাংলাদেশের উড়ন্ত সূচনা, জাইমা রহমানের উচ্ছ্বাস

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ৬:৪৭ অপরাহ্ণ
কাবাডিতে নেপালের বিপক্ষে বাংলাদেশের উড়ন্ত সূচনা, জাইমা রহমানের উচ্ছ্বাস

ঘরের মাঠে নেপাল জাতীয় নারী কাবাডি দলের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের সিরিজটা দারুণভাবেই শুরু করল বাংলাদেশ। শুক্রবার(১৭ জুলাই) ঢাকার জাতীয় কাবাডি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সিরিজের প্রথম ম্যাচে নেপালকে ৩৪-২৪ পয়েন্টের ব্যবধানে হারিয়ে ১-০ তে লিড নিল স্বাগতিকরা। বাংলাদেশের এই জয়ের ম্যাচে বাড়তি আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কন্যা জাইমা রহমান।

ম্যাচের শুরু থেকেই নেপালিদের ওপর আগ্রাসী মেজাজ নিয়ে খেলতে থাকে বাংলাদেশ। কৌশলী আক্রমণ ও রক্ষণভাগে অটুট থেকে প্রথমার্ধেই ১৪-১০ পয়েন্টের লিড নিয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলে দেন স্বাগতিক মেয়েরা। দ্বিতীয়ার্ধে নেপাল ম্যাচে ফেরার জোর চেষ্টা চালালেও আর পেরে উঠেনি। শেষ পর্যন্ত ১০ পয়েন্টের বড় ব্যবধানে জয় নিয়ে খেলা শেষ করে বাংলাদেশ। ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক শ্রাবণী মল্লিক।

ম্যাচটি বাড়তি মাত্রা পেয়েছিল প্রধানমন্ত্রী কন্যা জাইমা রহমানের উপস্থিতিতে। ম্যাচের শুরুতে দুই দলের খেলোয়াড়দের সাথে সৌজন্য সাক্ষাতে অংশ নেন তিনি। এরপর ভিআইপি বক্সের গাম্ভীর্য ছাপিয়ে এক পর্যায়ে তিনি নিচে নেমে এসে সাধারণ দর্শকের মতোই দাঁড়িয়ে পুরো খেলা উপভোগ করেন।

ম্যাচের প্রতিটি মুহূর্তে খেলোয়াড়দের উৎসাহিত করেছেন তিনি। খেলা শেষে তিনি নিজেই বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়দের কাছে ডাকেন। তাদের সাথে কুশল বিনিময় করেন এবং দলের সাফল্যের অংশীদার হয়ে হাস্যোজ্জ্বল মুখে সেলফি তুলতে দেখা যায় তাকে। জাইমা রহমানের এমন আন্তরিকতা খেলোয়াড়দের দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করেছে।

এর আগে সিরিজের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশনের সভাপতি মো. আলী হোসেন ফকির। তিনি বলেন, কাবাডি আমাদের জাতীয় খেলা এবং সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সাফল্য আমাদের ক্রীড়া ঐতিহ্যের গর্ব। আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যকার এই সিরিজ দুই দেশের খেলোয়াড়দের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বন্ধুত্বের সেতুবন্ধন আরও দৃঢ় করবে।

অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (ক্রীড়া) আমেনা বেগম, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক (ক্রীড়া) মোহাম্মদ আমিনুল এহসান উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও কাবাডি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এস এম নেওয়াজ সোহাগসহ ফেডারেশনের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মাঠের জয় এবং গ্যালারির বাড়তি উৎসাহ সব মিলিয়ে কাবাডি স্টেডিয়ামে এক উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছিল। বাংলাদেশের মেয়েরা তাদের এই জয়যাত্রা পরবর্তী ম্যাচগুলোতেও ধরে রাখতে পারবে বলেই প্রত্যাশা দর্শকদের।

কালের আলো/এসএকে