খুঁজুন
                               
, ,
           

আকাশে বিমান বাহিনীর বীরত্বের গর্জন, নির্বাচনে সর্বাত্মক সহযোগিতায় দৃঢ় প্রতিজ্ঞ বিমান বাহিনী প্রধান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২৫, ১১:২৭ অপরাহ্ণ
আকাশে বিমান বাহিনীর বীরত্বের গর্জন, নির্বাচনে সর্বাত্মক সহযোগিতায় দৃঢ় প্রতিজ্ঞ বিমান বাহিনী প্রধান

এম.আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর, কালের আলো:

কুয়াশার চাদর সরিয়ে পূর্ব আকাশে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর বীরত্বের গর্জন। ধেয়ে আসছে একের পর এক আকাশযান। আকর্ষণীয় অ্যারোবেটিক ডিসপ্লে, প্যারাট্রুপারদের দৃষ্টিনন্দন প্যারা জাম্পিং বা নান্দনিক ফ্লাইপাস্ট। কী নেই সেখানে? ৮৭তম বাফা কোর্স, ডিরেক্ট এন্ট্রি-২০২৫বি এবং এসপিএসএসসি-২০২৫বি কোর্স এর চির আরাধ্য কমিশন প্রাপ্তির উজ্জ্বলতম এমনই একদিন ছিল বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর)। বাংলার আকাশ সুরক্ষায় জীবনবাজি রাখার শপথ নিলেন ৮জন মহিলা অফিসার ক্যাডেটসহ মোট ৪০ জন অফিসার ক্যাডেট। যুক্ত হলেন বিমান বাহিনীতে। যশোরে বিমান বাহিনী একাডেমি প্যারেড গ্রাউন্ডে রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজে (শীতকালীন) প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন নবীনদের নতুন প্রভাতে দুর্জয় অভিযাত্রার মনোমুগ্ধকর প্রদর্শনী উপভোগ করেন।

সুশৃঙ্খলা মার্চপাস্ট আর দক্ষতা প্রদর্শনে হয়েছেন মুগ্ধ। প্রথমেই কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করেন বিমান বাহিনী প্রধান। গ্র্যাজুয়েটিং অফিসারদের মাঝে পদক এবং ফ্লাইং ব্যাজও বিতরণ করেন। বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণ করেন নতুন ক্যাডেট কমিশনপ্রাপ্তরা। তাদের চোখে-মুখেও ছিল আনন্দ-উচ্ছ্বাস আর শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তির পূর্ণতা। এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন নবীন কর্মকর্তাদের প্রতিটি পদক্ষেপে বিমান বাহিনীর তিনটি মূলমন্ত্র-শৃঙ্খলা, সততা এবং এক্সিলেন্সি ইন অল উই ডু’ ধারণের উপদেশ দিলেন। কেবল আকাশ রক্ষা নয়, জনগণের বিশ্বাস রক্ষা করার পবিত্র দায়িত্ব ও কর্তব্যের কথা স্মরণ করিয়ে দিলেন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সব রকমের সহায়তা দিতে সরকার ও ইসিকে আশ্বস্ত করলেন। বলেছেন, ‘আসন্ন জাতীয় নির্বাচনেও আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা দিতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।’

  • একটি নতুন যাত্রার সূচনায় আনন্দিত ও গর্বিত হাসান মাহমুদ খাঁন
  • শুরুতেই মুক্তিযুদ্ধকালীন কিলো ফ্লাইটের বীরত্বগাঁথাকে স্মরণ
  • যে জাতি নিজ হাতে নিজের শক্তি গড়ে তুলতে পারে তাকে কেউ থামাতে পারে না
  • আসন্ন জাতীয় নির্বাচনেও আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা দিতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ
  • তোমাদের দায়িত্ব কেবল আকাশ রক্ষা করা নয় বরং জনগণের বিশ্বাস রক্ষা করা
  • বিমান বাহিনীকে এক সময় এয়ার এন্ড স্পেইস ফোর্সে রূপান্তরিত হতে হবে

আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, অফিসার ক্যাডেট নাফীস রাফীদ ৮৭তম বাফা কোর্সের প্রশিক্ষণে সার্বিক কৃতিত্বের জন্য ‘সোর্ড অব অনার’ লাভ করেন। এছাড়াও অফিসার ক্যাডেট মো. সাদিক ইসলাম তামীম উড্ডয়ন প্রশিক্ষণে সেরা কৃতিত্বের জন্য ‘বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান ট্রফি’ এবং অফিসার ক্যাডেট জান্নাতুল ইসরাত সাবা জেনারেল সার্ভিস প্রশিক্ষণে কৃতিত্বের জন্য ‘কমান্ড্যান্টস্ ট্রফি’ পেয়েছেন। ৮৭তম বাফা কোর্স (গ্রাউন্ড ব্রাঞ্চ) এ সেরা কৃতিত্বের জন্য অফিসার ক্যাডেট নুসরাত বিনতে ইসলাম নাইস ‘বিমান বাহিনী প্রধানের ট্রফি’ লাভ করেন। এই শীতকালীন টার্মে বীর উত্তম বদরুল আলম স্কোয়াড্রন চ্যাম্পিয়ন বিবেচিত হয়ে একাডেমি পতাকা লাভ করেছে।

একটি নতুন যাত্রার সূচনায় আনন্দিত ও গর্বিত বিমান বাহিনী প্রধান
আজকের এই শীতকালীন রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি উপস্থিত হতে পেরে বিমান বাহিনী প্রধান বলেন, ‘আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। আজকের প্যারেড নিখুঁত সমন্বয়, শৃঙ্খলা ও প্রথাগত উৎকর্ষের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বেরই প্রতিফলন বলেও মনে করেন তিনি। সদ্য কমিশনপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, ‘আজকের প্যারেড প্রত্যক্ষ করে আমি বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর উজ্জ্বল ভবিষ্যত সম্পর্কে নতুন করে গর্ব ও অগাধ আস্থা অনুভব করছি। এই মুহুর্তটি যেমন একটি অর্জন তেমনি একটি নতুন যাত্রার সূচনাও বটে। এটি এমন একটি অর্জন যা এসেছে তোমাদের অদম্য পরিশ্রম, নিষ্ঠা, অক্লান্ত অধ্যাবসায়ের ফসল হিসেবে। আর এর সূচনা হলো আমাদের প্রিয় মাতৃভূমির আকাশসীমা রক্ষার উদ্দেশ্যে তোমাদের পেশাগত জীবনের যাত্রার শুরু দিয়ে।’

শুরুতেই মুক্তিযুদ্ধকালীন কিলো ফ্লাইটের বীরত্বগাঁথাকে স্মরণ
শুরুতেই মুক্তিযুদ্ধকালীন কিলো ফ্লাইটের বীরত্বগাঁথাকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। তিনি বলেন, ‘সীমিত সম্পদ ও নানাবিধ প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তারা যে দায়িত্ববোধ, অদম্য সাহস ও দেশপ্রেমের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন তা আজও আমাদের অনুপ্রেরণার উৎস। তাদের ত্যাগ আমাদেরকে শেখায় দেশমাতৃকার প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা থাকলে যেকোন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব। আজকের প্রযুক্তি নির্ভর বিমান বাহিনী সেই বীর বিমান সেনাদের ত্যাগের ওপরই দাঁড়িয়ে আছে।’

মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় জন্ম নেওয়া বিমান বাহিনী আজ একটি আধুনিক, পেশাদার ও দক্ষ বাহিনী হিসেবে পরিণত হয়েছে মন্তব্য করে বিমান বাহিনী প্রধান বলেন, ‘ভবিষ্যত যুদ্ধের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য আমরা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ অর্জনের পথে দ্রুত এগিয়ে চলছি। অত্যাধুনিক যুদ্ধ বিমান, পরিবহন বিমান, হেলিকপ্টার, এয়ার ডিফেন্স রাডার, ক্ষেপনাস্ত্র ব্যবস্থা, আনম্যান্ড এয়ার ভেহিকেল এবং উন্নত সিমুলেটর সংযোজনের মাধ্যমে আমাদের অপারেশনাল সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি নতুন ঘাঁটি স্থাপন, আধুনিক অবকাঠামো উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিকমানের ট্রেনিং ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আমরা একটি ভবিষ্যমুখী বিমান বাহিনী গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি।’

যে জাতি নিজ হাতে নিজের শক্তি গড়ে তুলতে পারে তাকে কেউ থামাতে পারে না
দৃঢ়তার সঙ্গে বিমান বাহিনী প্রধান বলেন, ‘আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে জাতি নিজ হাতে নিজের শক্তি গড়ে তুলতে পারে তাকে কেউ থামাতে পারে না। আমাদের লক্ষ্য হলো দেশীয় মেধা ও বুদ্ধিবৃত্তিকে কাজে লাগিয়ে নিজস্ব প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী ক্ষমতার বিকাশ ঘটানো যা ভবিষ্যতে আমাদের বিমান ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরিতে সক্ষম করে তুলবে। স্বনির্ভরতার দিকে এই যাত্রা কেবল একটি প্রকল্প নয় এটি জাতির প্রতি আমাদের পবিত্র অঙ্গীকার।’

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনেও আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা দিতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ
‘আকাশসীমা রক্ষার পাশাপাশি বাংলাদেশ বিমান বাহিনী মানবিক সহায়তা, উদ্ধার অভিযান ও দুর্যোগ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে’-যোগ করেন বিমান বাহিনী প্রধান। তিনি বলেন, ‘ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, বন্যা মোকাবিলা, দুর্গত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ, জরুরি মেডিকেল ইভাকুয়েশন কিংবা বিদেশে মানবিক সহায়তা প্রদানে বিমান বাহিনীর সদস্যরা অসাধারণ দক্ষতা ও নিষ্ঠার পরিচয় দিয়েছে। এছাড়াও বিদেশে আটকে পড়া নাগরিকদের উদ্ধার ও জাতিসংঘে শান্তিরক্ষা মিশনে বিমান বাহিনীর প্রশংসনীয় ভূমিকা দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে। বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা প্রদানেও বিমান বাহিনীর সদস্যরা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে গত দেড় বছর ধরে দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসমূহ সচল রাখতে এই বাহিনীর সদস্যরা যে পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠা দেখিয়েছে তা সত্যিই প্রশংনীয়।’

‘আসন্ন জাতীয় নির্বাচনেও আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা দিতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ’- এমনটি জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমি আপনাদের আশ্বস্ত করছি, জাতীয় বা বৈশ্বিক যেকোন প্রয়োজনে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।’ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বহুমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য যে ইস্পাত কঠিন মানসিকতা ও পেশাদারিত্বের প্রয়োজন তাঁর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয় এই একাডেমি থেকে- এই মন্তব্য করে বিমান বাহিনী প্রধান বলেন, ‘বাংলাদেশ বিমান বাহিনী একাডেমি তরুণ ক্যাডেটদের কেবল সামরিক প্রশিক্ষণই দেয় না বরং তাদের চরিত্র, দক্ষতা ও দেশপ্রেমের সমন্বয়ে একেকজন অকুতোভয় আকাশ যোদ্ধা হিসেবে গড়ে তুলে। দীর্ঘ সময় ধরে এই প্রতিষ্ঠানটি কেবল বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর চৌকস কর্মকর্তা তৈরি করেনি বরং বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর ক্যাডেটদের প্রশিক্ষণ দিয়ে আন্তর্জাতিক সামরিক সহযোগিতাকে সুদৃঢ় করেছে। বিশ্বমানের উড্ডয়ন প্রশিক্ষণ ছাড়াও কঠোর সামরিক, একাডেমিক এবং নেতৃত্ব বিকাশের প্রশিক্ষণের সমন্বয়ে প্রণীত এখানকার পাঠ্যক্রম প্রতিটি গ্র্যাজুয়েট অফিসারকে আগামীর যেকোন পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত করে। ভবিষ্যতের নেতৃত্ব তৈরিতে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী একাডেমির এই ভূমিকা আমাদের সক্ষমতার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ।’

তোমাদের দায়িত্ব কেবল আকাশ রক্ষা করা নয় বরং জনগণের বিশ্বাস রক্ষা করা
নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বিমান বাহিনী প্রধান বলেন, ‘আজ থেকে শুরু হলো তোমাদের পেশাগত জীবনের মূল যাত্রা। মনে রাখবে, এই যাত্রা মসৃণ নয়। তোমাদের প্রতিটি পদক্ষেপে ধারণ করতে হবে বিমান বাহিনীর তিনটি মূলমন্ত্র- শৃঙ্খলা, সততা এবং এক্সিলেন্সি ইন অল উই ডু। আজ যে ইউনিফর্ম তোমরা পরিধারণ করেছো তা কেবল একটি পোশাক নয়, সম্মান দায়িত্ব ও দেশের প্রতি আমৃত্যু অঙ্গীকারের প্রতীক। এগুলো কেবল নীতিকথা নয় বরং তোমাদের পেশাগত জীবনের চালিকাশক্তি। আজ তোমরা যে শপথ গ্রহণ করলে তা কেবল একটি অনুষ্ঠান নয় এটি একটি পবিত্র অঙ্গীকার যা তোমাদের প্রতিটি সিদ্ধান্ত দায়িত্ব ও কাজকে পরিচালিত করবে। পথ যতো কঠিনই হোক না কেন নৈতিক সাহস যেন সর্বদা তোমাদের পথপ্রদর্শক হয়। মনে রাখবে তোমাদের দায়িত্ব কেবল আকাশ রক্ষা করা নয় বরং জনগণের বিশ্বাস রক্ষা করা। এই ইউনিফর্ম কেবল একটি পোশাক নয় এটি একটি শপথ, তোমাদের চালচলণে সেই দৃঢ়তা, সংযম এবং মর্যাদা থাকতে হবে। যা বিমান বাহিনীর একজন ভবিষ্যত নেতার কাছে সকলের কাম্য।’

বিমান বাহিনীকে এক সময় এয়ার এন্ড স্পেইস ফোর্সে রূপান্তরিত হতে হবে
আজ থেকে তোমরা বিমান বাহিনীর গৌরবময় পরিবারের সদস্য হলে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এখানে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আনুগত্য এবং পেশাদারিত্বই মূল শক্তি। সহকর্মীদের সম্মান করবে এবং জ্যেষ্ঠদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবে। সর্বদা ব্যক্তিস্বার্থের উর্ধ্বে বিমান বাহিনীর স্বার্থকে স্থান দিবে। যুদ্ধ ক্ষেত্রে বা শান্তিকালীন সময়ে একক প্রচেষ্টার চেয়ে দলগত প্রচেষ্টাই সাফল্যের চাবিকাঠি। সর্বদা মনে রাখবে ‘টিম ওয়ার্কস মেকস দ্য মিশন পসিবল’। ফোর্সেস গোল ২০৩০ এর রূপরেখা অনুযায়ী বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর আধুনিকায়ন দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। সর্বাধুনিক যুদ্ধ বিমান, অ্যাটাক হেলিকপ্টার, অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা র‌্যাডার, নেটওয়ার্ক সেন্ট্রিক ওয়ারফেজের সক্ষমতা এবং মহাকাশ গবেষণা এসবই আমাদের ভবিষ্যত আধুনিক বিমান বাহিনীর ভিত্তি। তোমরা হচ্ছো সেই ভবিষ্যতের কর্ণধার যারা এই আধুনিক সরঞ্জাম ও প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করবে।

ভবিষ্যতের যুদ্ধ ক্ষেত্র হবে প্রযুক্তি নির্ভর, বহুমাত্রিক ও দ্রুত পরিবর্তনশীল জানিয়ে বিমান বাহিনী প্রধান আরও বলেন, ‘এআই মানে আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স, সাইবার ওয়ারফেয়ার, আনম্যান্ড এয়ার ভেহিকেল এন্ড স্পেইসবেজড অপারেশন সামরিক কৌশলকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করেছে। তাই তোমাদের প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার মানসিকতাকে থাকতে হবে। সময়ের প্রয়োজনেই আমাদের বিমান বাহিনীকে এক সময় এয়ার এন্ড স্পেইস ফোর্সে রূপান্তরিত হতে হবে। তাই সেই লক্ষ্য অর্জনে সর্বদা প্রস্তুত এবং প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থেকো। ভবিষ্যত যুদ্ধক্ষেত্রে প্রস্তুতির পাশাপাশি জাতীয় যেকোন দুর্যোগ, ত্রাণ কার্যক্রম, উদ্ধার অভিযান কিংবা দেশের যেকোন প্রয়োজনে তোমাদেরকে সর্বদা জনগণের পাশে দাঁড়াতে হবে।

কালের আলো/এমএএএমকে

সাবেক রাষ্ট্রপতির গ্রেপ্তারের দাবিতে ইসলামী ব্যাংক গ্রাহকদের বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ১:১৩ অপরাহ্ণ
সাবেক রাষ্ট্রপতির গ্রেপ্তারের দাবিতে ইসলামী ব্যাংক গ্রাহকদের বিক্ষোভ

সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকরা। সচেতন গ্রাহক ফোরামের ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা।

বুধবার (২৯ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে পল্টনে গিয়ে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

বিক্ষোভকারীরা জানান, একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠীর মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তনের পর ব্যাংকটির সুশাসন, আর্থিক স্থিতিশীলতা ও গ্রাহকদের স্বার্থ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই শেয়ার কেলেঙ্কারি, ব্যাংক দখল ও আর্থিক অনিয়মের ঘটনায় দায়ীদের বিচারের আওতায় না আনলে এ খাতে আস্থা ফিরবে না।

এ সময় তারা সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানান তারা।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ জনপরিসরে এসেছে, সেগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। একইসঙ্গে তাকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। নয়তো আরও কঠোর কর্মসূচি পালন করা হবে।

সচেতন গ্রাহক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক নুরুন্নবী মানিক বলেন, সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদ দেখিয়ে দায়মুক্তির দাবি করলেও রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগের কোনো কর্মকাণ্ড এ সুরক্ষার আওতায় পড়ে না। ফলে ২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংকের দায়িত্ব পালনের সময় শেয়ার কেলেঙ্কারি ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে তদন্ত, মামলাসহ গ্রেপ্তারের সুযোগ রয়েছে।

অতএব রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগেই তিনি ফৌজদারি অপরাধ করেছেন। এজন্য তাকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

সিআইডির প্রধানের দায়িত্ব নিলেন ব্যারিস্টার মোশাররফ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ১:০৫ অপরাহ্ণ
সিআইডির প্রধানের দায়িত্ব নিলেন ব্যারিস্টার মোশাররফ

সিআইডির নতুন প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেন অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোছাইন।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) নতুন প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোছাইন। এর আগে তিনি প্রেষণে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

বুধবার (২৯ জুলাই) সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) আবু তালেব এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানান।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৮ জুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে মোহাম্মদ মোশারফ হোছাইনকে সিআইডির প্রধান হিসেবে পদায়ন করা হয়। দায়িত্ব গ্রহণের আগে তিনি প্রেষণে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এনএসআই-এ কর্মরত অবস্থায় তিনি অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতি পান।

ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোছাইন ১৯৯৫ সালে ১৫তম বিসিএস-এর মাধ্যমে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করেন। কর্মজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি, সারদায় প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও কারিকুলাম উন্নয়ন-সংশ্লিষ্ট একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন।এছাড়া কর্মজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি, সারদায় প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও কারিকুলাম উন্নয়ন-সংশ্লিষ্ট একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। সিআইডির সদর দফতর, চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা ইউনিটে বিশেষ পুলিশ সুপার হিসেবে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করেন। মাঠ পর্যায়ে পিরোজপুর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার হিসেবেও সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন।

পাশাপাশি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি), চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি), র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব), পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স এবং রাজশাহী, বরিশাল, রংপুর, খুলনা ও ঢাকা রেঞ্জের বিভিন্ন ইউনিটে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে তিনি তদন্ত, গোয়েন্দা কার্যক্রম, প্রশিক্ষণ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।

‎শিক্ষাগত জীবনে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়া থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর (এমএস) ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়াও তিনি যুক্তরাজ্যের সিটি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে বার-অ্যাট-ল (Bar-at-Law) সম্পন্ন করেন। দেশ-বিদেশে বিভিন্ন পেশাগত প্রশিক্ষণ, কর্মশালা ও আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি আধুনিক পুলিশিং, তদন্ত এবং ফরেনসিক বিষয়ে বিশেষ দক্ষতা অর্জন করেছেন। উল্লেখযোগ্য প্রশিক্ষণের মধ্যে রয়েছে মালয়েশিয়ায় ফরেনসিক ল্যাবরেটরি কোর্স, পাকিস্তানে বিশেষ আঞ্চলিক কর্মশালা এবং তুরস্কে অনুষ্ঠিত ১০ম ইন্টারপা সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন।

দায়িত্ব গ্রহণ অনুষ্ঠানে সিআইডির ডিআইজি, অতিরিক্ত ডিআইজি, পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে নবনিযুক্ত সিআইডি প্রধানকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

সিআইডির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিলেন মোশাররফ হোছাইন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ১২:৫৯ অপরাহ্ণ
সিআইডির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিলেন মোশাররফ হোছাইন

বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রধান হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (অ্যাডিশনাল আইজিপি) ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোছাইন।

বুধবার(জুলাই) ঢাকার সিআইডি সদর দপ্তরে তিনি দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিআইডি মুখপাত্র অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার আবু তালেব।

এ সময় সিআইডির ডিআইজি, অতিরিক্ত ডিআইজি, পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে নবনিযুক্ত সিআইডির প্রধানকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

এর আগে, গত ২৮ জুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে সিআইডির প্রধান হিসেবে পদায়ন করা হয়। দায়িত্ব গ্রহণের আগে তিনি প্রেষণে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এনএসআইয়ে কর্মরত অবস্থায় তিনি অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতি লাভ করেন।

ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোছাইন ১৯৯৫ সালে ১৫তম বিসিএসের মাধ্যমে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেন। প্রায় তিন দশকের কর্মজীবনে তিনি পুলিশ একাডেমি, সিআইডি, ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি), চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি), র‍্যাব, পুলিশ সদর দপ্তর এবং বিভিন্ন রেঞ্জ ও জেলা পুলিশে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।

তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি এবং যুক্তরাজ্যের সিটি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে বার অ্যাট ল সম্পন্ন করেছেন। এ ছাড়া মালয়েশিয়া, পাকিস্তান ও তুরস্কে ফরেনসিক, তদন্ত এবং আধুনিক পুলিশিং-সংক্রান্ত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ ও সম্মেলনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে পেশাগত দক্ষতা অর্জন করেছেন।

কালের আলো/এসএকে