খুঁজুন
                               
, ,
           

আকাশে বিমান বাহিনীর বীরত্বের গর্জন, নির্বাচনে সর্বাত্মক সহযোগিতায় দৃঢ় প্রতিজ্ঞ বিমান বাহিনী প্রধান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২৫, ১১:২৭ অপরাহ্ণ
আকাশে বিমান বাহিনীর বীরত্বের গর্জন, নির্বাচনে সর্বাত্মক সহযোগিতায় দৃঢ় প্রতিজ্ঞ বিমান বাহিনী প্রধান

এম.আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর, কালের আলো:

কুয়াশার চাদর সরিয়ে পূর্ব আকাশে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর বীরত্বের গর্জন। ধেয়ে আসছে একের পর এক আকাশযান। আকর্ষণীয় অ্যারোবেটিক ডিসপ্লে, প্যারাট্রুপারদের দৃষ্টিনন্দন প্যারা জাম্পিং বা নান্দনিক ফ্লাইপাস্ট। কী নেই সেখানে? ৮৭তম বাফা কোর্স, ডিরেক্ট এন্ট্রি-২০২৫বি এবং এসপিএসএসসি-২০২৫বি কোর্স এর চির আরাধ্য কমিশন প্রাপ্তির উজ্জ্বলতম এমনই একদিন ছিল বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর)। বাংলার আকাশ সুরক্ষায় জীবনবাজি রাখার শপথ নিলেন ৮জন মহিলা অফিসার ক্যাডেটসহ মোট ৪০ জন অফিসার ক্যাডেট। যুক্ত হলেন বিমান বাহিনীতে। যশোরে বিমান বাহিনী একাডেমি প্যারেড গ্রাউন্ডে রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজে (শীতকালীন) প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন নবীনদের নতুন প্রভাতে দুর্জয় অভিযাত্রার মনোমুগ্ধকর প্রদর্শনী উপভোগ করেন।

সুশৃঙ্খলা মার্চপাস্ট আর দক্ষতা প্রদর্শনে হয়েছেন মুগ্ধ। প্রথমেই কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করেন বিমান বাহিনী প্রধান। গ্র্যাজুয়েটিং অফিসারদের মাঝে পদক এবং ফ্লাইং ব্যাজও বিতরণ করেন। বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণ করেন নতুন ক্যাডেট কমিশনপ্রাপ্তরা। তাদের চোখে-মুখেও ছিল আনন্দ-উচ্ছ্বাস আর শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তির পূর্ণতা। এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন নবীন কর্মকর্তাদের প্রতিটি পদক্ষেপে বিমান বাহিনীর তিনটি মূলমন্ত্র-শৃঙ্খলা, সততা এবং এক্সিলেন্সি ইন অল উই ডু’ ধারণের উপদেশ দিলেন। কেবল আকাশ রক্ষা নয়, জনগণের বিশ্বাস রক্ষা করার পবিত্র দায়িত্ব ও কর্তব্যের কথা স্মরণ করিয়ে দিলেন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সব রকমের সহায়তা দিতে সরকার ও ইসিকে আশ্বস্ত করলেন। বলেছেন, ‘আসন্ন জাতীয় নির্বাচনেও আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা দিতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।’

  • একটি নতুন যাত্রার সূচনায় আনন্দিত ও গর্বিত হাসান মাহমুদ খাঁন
  • শুরুতেই মুক্তিযুদ্ধকালীন কিলো ফ্লাইটের বীরত্বগাঁথাকে স্মরণ
  • যে জাতি নিজ হাতে নিজের শক্তি গড়ে তুলতে পারে তাকে কেউ থামাতে পারে না
  • আসন্ন জাতীয় নির্বাচনেও আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা দিতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ
  • তোমাদের দায়িত্ব কেবল আকাশ রক্ষা করা নয় বরং জনগণের বিশ্বাস রক্ষা করা
  • বিমান বাহিনীকে এক সময় এয়ার এন্ড স্পেইস ফোর্সে রূপান্তরিত হতে হবে

আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, অফিসার ক্যাডেট নাফীস রাফীদ ৮৭তম বাফা কোর্সের প্রশিক্ষণে সার্বিক কৃতিত্বের জন্য ‘সোর্ড অব অনার’ লাভ করেন। এছাড়াও অফিসার ক্যাডেট মো. সাদিক ইসলাম তামীম উড্ডয়ন প্রশিক্ষণে সেরা কৃতিত্বের জন্য ‘বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান ট্রফি’ এবং অফিসার ক্যাডেট জান্নাতুল ইসরাত সাবা জেনারেল সার্ভিস প্রশিক্ষণে কৃতিত্বের জন্য ‘কমান্ড্যান্টস্ ট্রফি’ পেয়েছেন। ৮৭তম বাফা কোর্স (গ্রাউন্ড ব্রাঞ্চ) এ সেরা কৃতিত্বের জন্য অফিসার ক্যাডেট নুসরাত বিনতে ইসলাম নাইস ‘বিমান বাহিনী প্রধানের ট্রফি’ লাভ করেন। এই শীতকালীন টার্মে বীর উত্তম বদরুল আলম স্কোয়াড্রন চ্যাম্পিয়ন বিবেচিত হয়ে একাডেমি পতাকা লাভ করেছে।

একটি নতুন যাত্রার সূচনায় আনন্দিত ও গর্বিত বিমান বাহিনী প্রধান
আজকের এই শীতকালীন রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি উপস্থিত হতে পেরে বিমান বাহিনী প্রধান বলেন, ‘আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। আজকের প্যারেড নিখুঁত সমন্বয়, শৃঙ্খলা ও প্রথাগত উৎকর্ষের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বেরই প্রতিফলন বলেও মনে করেন তিনি। সদ্য কমিশনপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, ‘আজকের প্যারেড প্রত্যক্ষ করে আমি বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর উজ্জ্বল ভবিষ্যত সম্পর্কে নতুন করে গর্ব ও অগাধ আস্থা অনুভব করছি। এই মুহুর্তটি যেমন একটি অর্জন তেমনি একটি নতুন যাত্রার সূচনাও বটে। এটি এমন একটি অর্জন যা এসেছে তোমাদের অদম্য পরিশ্রম, নিষ্ঠা, অক্লান্ত অধ্যাবসায়ের ফসল হিসেবে। আর এর সূচনা হলো আমাদের প্রিয় মাতৃভূমির আকাশসীমা রক্ষার উদ্দেশ্যে তোমাদের পেশাগত জীবনের যাত্রার শুরু দিয়ে।’

শুরুতেই মুক্তিযুদ্ধকালীন কিলো ফ্লাইটের বীরত্বগাঁথাকে স্মরণ
শুরুতেই মুক্তিযুদ্ধকালীন কিলো ফ্লাইটের বীরত্বগাঁথাকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। তিনি বলেন, ‘সীমিত সম্পদ ও নানাবিধ প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তারা যে দায়িত্ববোধ, অদম্য সাহস ও দেশপ্রেমের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন তা আজও আমাদের অনুপ্রেরণার উৎস। তাদের ত্যাগ আমাদেরকে শেখায় দেশমাতৃকার প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা থাকলে যেকোন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব। আজকের প্রযুক্তি নির্ভর বিমান বাহিনী সেই বীর বিমান সেনাদের ত্যাগের ওপরই দাঁড়িয়ে আছে।’

মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় জন্ম নেওয়া বিমান বাহিনী আজ একটি আধুনিক, পেশাদার ও দক্ষ বাহিনী হিসেবে পরিণত হয়েছে মন্তব্য করে বিমান বাহিনী প্রধান বলেন, ‘ভবিষ্যত যুদ্ধের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য আমরা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ অর্জনের পথে দ্রুত এগিয়ে চলছি। অত্যাধুনিক যুদ্ধ বিমান, পরিবহন বিমান, হেলিকপ্টার, এয়ার ডিফেন্স রাডার, ক্ষেপনাস্ত্র ব্যবস্থা, আনম্যান্ড এয়ার ভেহিকেল এবং উন্নত সিমুলেটর সংযোজনের মাধ্যমে আমাদের অপারেশনাল সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি নতুন ঘাঁটি স্থাপন, আধুনিক অবকাঠামো উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিকমানের ট্রেনিং ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আমরা একটি ভবিষ্যমুখী বিমান বাহিনী গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি।’

যে জাতি নিজ হাতে নিজের শক্তি গড়ে তুলতে পারে তাকে কেউ থামাতে পারে না
দৃঢ়তার সঙ্গে বিমান বাহিনী প্রধান বলেন, ‘আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে জাতি নিজ হাতে নিজের শক্তি গড়ে তুলতে পারে তাকে কেউ থামাতে পারে না। আমাদের লক্ষ্য হলো দেশীয় মেধা ও বুদ্ধিবৃত্তিকে কাজে লাগিয়ে নিজস্ব প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী ক্ষমতার বিকাশ ঘটানো যা ভবিষ্যতে আমাদের বিমান ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরিতে সক্ষম করে তুলবে। স্বনির্ভরতার দিকে এই যাত্রা কেবল একটি প্রকল্প নয় এটি জাতির প্রতি আমাদের পবিত্র অঙ্গীকার।’

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনেও আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা দিতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ
‘আকাশসীমা রক্ষার পাশাপাশি বাংলাদেশ বিমান বাহিনী মানবিক সহায়তা, উদ্ধার অভিযান ও দুর্যোগ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে’-যোগ করেন বিমান বাহিনী প্রধান। তিনি বলেন, ‘ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, বন্যা মোকাবিলা, দুর্গত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ, জরুরি মেডিকেল ইভাকুয়েশন কিংবা বিদেশে মানবিক সহায়তা প্রদানে বিমান বাহিনীর সদস্যরা অসাধারণ দক্ষতা ও নিষ্ঠার পরিচয় দিয়েছে। এছাড়াও বিদেশে আটকে পড়া নাগরিকদের উদ্ধার ও জাতিসংঘে শান্তিরক্ষা মিশনে বিমান বাহিনীর প্রশংসনীয় ভূমিকা দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে। বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা প্রদানেও বিমান বাহিনীর সদস্যরা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে গত দেড় বছর ধরে দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসমূহ সচল রাখতে এই বাহিনীর সদস্যরা যে পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠা দেখিয়েছে তা সত্যিই প্রশংনীয়।’

‘আসন্ন জাতীয় নির্বাচনেও আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা দিতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ’- এমনটি জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমি আপনাদের আশ্বস্ত করছি, জাতীয় বা বৈশ্বিক যেকোন প্রয়োজনে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।’ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বহুমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য যে ইস্পাত কঠিন মানসিকতা ও পেশাদারিত্বের প্রয়োজন তাঁর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয় এই একাডেমি থেকে- এই মন্তব্য করে বিমান বাহিনী প্রধান বলেন, ‘বাংলাদেশ বিমান বাহিনী একাডেমি তরুণ ক্যাডেটদের কেবল সামরিক প্রশিক্ষণই দেয় না বরং তাদের চরিত্র, দক্ষতা ও দেশপ্রেমের সমন্বয়ে একেকজন অকুতোভয় আকাশ যোদ্ধা হিসেবে গড়ে তুলে। দীর্ঘ সময় ধরে এই প্রতিষ্ঠানটি কেবল বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর চৌকস কর্মকর্তা তৈরি করেনি বরং বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর ক্যাডেটদের প্রশিক্ষণ দিয়ে আন্তর্জাতিক সামরিক সহযোগিতাকে সুদৃঢ় করেছে। বিশ্বমানের উড্ডয়ন প্রশিক্ষণ ছাড়াও কঠোর সামরিক, একাডেমিক এবং নেতৃত্ব বিকাশের প্রশিক্ষণের সমন্বয়ে প্রণীত এখানকার পাঠ্যক্রম প্রতিটি গ্র্যাজুয়েট অফিসারকে আগামীর যেকোন পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত করে। ভবিষ্যতের নেতৃত্ব তৈরিতে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী একাডেমির এই ভূমিকা আমাদের সক্ষমতার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ।’

তোমাদের দায়িত্ব কেবল আকাশ রক্ষা করা নয় বরং জনগণের বিশ্বাস রক্ষা করা
নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বিমান বাহিনী প্রধান বলেন, ‘আজ থেকে শুরু হলো তোমাদের পেশাগত জীবনের মূল যাত্রা। মনে রাখবে, এই যাত্রা মসৃণ নয়। তোমাদের প্রতিটি পদক্ষেপে ধারণ করতে হবে বিমান বাহিনীর তিনটি মূলমন্ত্র- শৃঙ্খলা, সততা এবং এক্সিলেন্সি ইন অল উই ডু। আজ যে ইউনিফর্ম তোমরা পরিধারণ করেছো তা কেবল একটি পোশাক নয়, সম্মান দায়িত্ব ও দেশের প্রতি আমৃত্যু অঙ্গীকারের প্রতীক। এগুলো কেবল নীতিকথা নয় বরং তোমাদের পেশাগত জীবনের চালিকাশক্তি। আজ তোমরা যে শপথ গ্রহণ করলে তা কেবল একটি অনুষ্ঠান নয় এটি একটি পবিত্র অঙ্গীকার যা তোমাদের প্রতিটি সিদ্ধান্ত দায়িত্ব ও কাজকে পরিচালিত করবে। পথ যতো কঠিনই হোক না কেন নৈতিক সাহস যেন সর্বদা তোমাদের পথপ্রদর্শক হয়। মনে রাখবে তোমাদের দায়িত্ব কেবল আকাশ রক্ষা করা নয় বরং জনগণের বিশ্বাস রক্ষা করা। এই ইউনিফর্ম কেবল একটি পোশাক নয় এটি একটি শপথ, তোমাদের চালচলণে সেই দৃঢ়তা, সংযম এবং মর্যাদা থাকতে হবে। যা বিমান বাহিনীর একজন ভবিষ্যত নেতার কাছে সকলের কাম্য।’

বিমান বাহিনীকে এক সময় এয়ার এন্ড স্পেইস ফোর্সে রূপান্তরিত হতে হবে
আজ থেকে তোমরা বিমান বাহিনীর গৌরবময় পরিবারের সদস্য হলে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এখানে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আনুগত্য এবং পেশাদারিত্বই মূল শক্তি। সহকর্মীদের সম্মান করবে এবং জ্যেষ্ঠদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবে। সর্বদা ব্যক্তিস্বার্থের উর্ধ্বে বিমান বাহিনীর স্বার্থকে স্থান দিবে। যুদ্ধ ক্ষেত্রে বা শান্তিকালীন সময়ে একক প্রচেষ্টার চেয়ে দলগত প্রচেষ্টাই সাফল্যের চাবিকাঠি। সর্বদা মনে রাখবে ‘টিম ওয়ার্কস মেকস দ্য মিশন পসিবল’। ফোর্সেস গোল ২০৩০ এর রূপরেখা অনুযায়ী বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর আধুনিকায়ন দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। সর্বাধুনিক যুদ্ধ বিমান, অ্যাটাক হেলিকপ্টার, অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা র‌্যাডার, নেটওয়ার্ক সেন্ট্রিক ওয়ারফেজের সক্ষমতা এবং মহাকাশ গবেষণা এসবই আমাদের ভবিষ্যত আধুনিক বিমান বাহিনীর ভিত্তি। তোমরা হচ্ছো সেই ভবিষ্যতের কর্ণধার যারা এই আধুনিক সরঞ্জাম ও প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করবে।

ভবিষ্যতের যুদ্ধ ক্ষেত্র হবে প্রযুক্তি নির্ভর, বহুমাত্রিক ও দ্রুত পরিবর্তনশীল জানিয়ে বিমান বাহিনী প্রধান আরও বলেন, ‘এআই মানে আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স, সাইবার ওয়ারফেয়ার, আনম্যান্ড এয়ার ভেহিকেল এন্ড স্পেইসবেজড অপারেশন সামরিক কৌশলকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করেছে। তাই তোমাদের প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার মানসিকতাকে থাকতে হবে। সময়ের প্রয়োজনেই আমাদের বিমান বাহিনীকে এক সময় এয়ার এন্ড স্পেইস ফোর্সে রূপান্তরিত হতে হবে। তাই সেই লক্ষ্য অর্জনে সর্বদা প্রস্তুত এবং প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থেকো। ভবিষ্যত যুদ্ধক্ষেত্রে প্রস্তুতির পাশাপাশি জাতীয় যেকোন দুর্যোগ, ত্রাণ কার্যক্রম, উদ্ধার অভিযান কিংবা দেশের যেকোন প্রয়োজনে তোমাদেরকে সর্বদা জনগণের পাশে দাঁড়াতে হবে।

কালের আলো/এমএএএমকে

বিজিবির অভিযানে জুন মাসে ৩০৭ কোটি টাকার চোরাই পণ্য জব্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ১:৫২ অপরাহ্ণ
বিজিবির অভিযানে জুন মাসে ৩০৭ কোটি টাকার চোরাই পণ্য জব্দ

গত জুন মাসজুড়ে দেশের সীমান্ত এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে সর্বমোট ৩০৭ কোটি ৬৫ লাখ ১১ হাজার টাকা মূল্যের চোরাচালান ও পণ্যসামগ্রী জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফুল ইসলামী এতথ্য নিশ্চিত করেন।

জব্দকৃত চোরাচালান দ্রব্যের মধ্যে রয়েছে- ৫ কেজি ৫৯২ গ্রাম স্বর্ণ, ১ হাজার ৮১৫টি শাড়ি, ৩ হাজার ২৫২টি থ্রিপিস/শার্টপিস/চাদর/কম্বল, ৯ হাজার ৫৫১টি তৈরি পোশাক, ১ লাখ ৮৯ হাজার ১৮টি কসমেটিক্স সামগ্রী, ১৭ লাখ ৫৪ হাজার ৫৪৩ পিস আতশবাজি, ৭ হাজার ৪৬৪ ঘনফুট কাঠ, ৭ হাজার ৩১৬ কেজি চা পাতা, ৪ হাজার ২৭০ কেজি সুপারি, ১ লাখ ১ হাজার ৭৭৬ কেজি কয়লা, ১ লাখ ৭৪ হাজার ৮৯৮ প্যাকেট বিড়ি ও সিগারেট, ৪৯৭টি মোবাইল, ১ হাজার ৮৬৫পিস মোবাইলের ডিসপ্লে, ৪১ হাজার ১৬২ পিস মোবাইলের যন্ত্রাংশ, ১৫ হাজার ৫৬ পিস ইলেকট্রিক সামগ্রী, ২২ হাজার ৬১২টি চশমা, ৫২ হাজার ৭৩৬ কেজি জিরা, ৪ হাজার ২৮৫ কেজি রসুন, ১৮ হাজার ৭৯৮ কেজি চিনি, ১০ হাজার ২২৪ কেজি সার, ১১ লাখ ৪১ হাজার ১৬৯ পিস চিংড়ি মাছের পোনা, ৩ হাজার ২৮২ লিটার ভোজ্যতেল/ডিজেল/অকটেন/পেট্রোল/মবিল, ২ হাজার ২৭৬ প্যাকেট কীটনাশক, ৫ লাখ ৯১ হাজার ৪১৯ পিস বিভিন্ন প্রকার ওষুধ, ৬৯৪ কেজি বিভিন্ন প্রকার বীজ, ১ হাজার ২৩৯ পিস যানবাহন যন্ত্রাংশ, ১১টি ট্রাক/কাভার্ড ভ্যান, ৫টি পিকআপ ভ্যান, ৩টি প্রাইভেটকার/বাস, ৩টি ট্রাক্টর, ২০টি ট্রলি/মাইক্রোবাস, ৬৮টি সিএনজি/ইজিবাইক/ অটোরিকশা, ৩৫টি মোটরসাইকেল ও ৫৩টি বাইসাইকেল/ভ্যান।

উদ্ধারকৃত অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে- ৮টি দেশি/বিদেশি পিস্তল, ১টি রাইফেল, ১৬টি ম্যাগাজিন, ৬৩০ রাউন্ড গোলাবারুদ, ২টি মাইন, ৬টি গ্রেনেড ও ৬টি অন্যান্য অস্ত্র।

এ ছাড়া গত মাসে বিজিবি কর্তৃক বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে। জব্দকৃত মাদক ও নেশাজাতীয় দ্রব্যের মধ্যে রয়েছে- ৩৭ লাখ ৭৯ হাজার ৩৫২ পিস ইয়াবা, ১৮ কেজি ১৫০ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথ আইস, ৬০৭ গ্রাম হেরোইন, ১ হাজার ৪২২ বোতল ফেনসিডিল, ৬ হাজার ৮৩৮ বোতল বিদেশি মদ, ৩৯৫ লিটার বাংলা মদ, ৩ হাজার ২৬৮ ক্যান বিয়ার, ১ হাজার ৭১০ কেজি ৪৭০ গ্রাম গাঁজা, ১ লাখ ৮৪ হাজার ৬৩৩টি নেশাজাতীয় ট্যাবলেট/ইনজেকশন, ২৪ হাজার ২০১ বোতল বিভিন্ন প্রকার সিরাপ ও ৮২ হাজার ৭১৫ পিস বিভিন্ন প্রকার ওষুধ/ট্যাবলেট।

সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ইয়াবাসহ বিভিন্ন প্রকার মাদক পাচার ও অন্যান্য চোরাচালানে জড়িত থাকার অভিযোগে ২১২ জন চোরাচালানি এবং অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের দায়ে ৪৭ জন বাংলাদেশি নাগরিক, একজন ভারতীয় নাগরিক ও ২৮৪ জন মিয়ানমার নাগরিককে আটকের পর তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

কালের আলো/এম/এএইচ

স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু অক্টোবরে, রোডম্যাপ করছে ইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ১:৩৩ অপরাহ্ণ
স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু অক্টোবরে, রোডম্যাপ করছে ইসি

আগামী অক্টোবর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এ জন্য রোডম্যাপ তৈরি করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী বছরের অক্টোবরের মধ্যেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পুরো প্রক্রিয়া শেষ হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে এরইমধ্যে রোডম্যাপ তৈরি করছে নির্বাচন কমিশন।

অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত জুনে অতিরিক্ত বিদ্যুৎবিল আসার ব্যাপারে জনগণের অভিযোগ বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অনিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা ঠেকাতে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, দেশে খাদ্য চাষ এবং সংরক্ষণ পর্যায়ে খাদ্যপণ্যে অনেক রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। দেশের খাদ্য ব্যবসায়ীদের ডাটা সংগ্রহ করে একটি তথ্য ভান্ডার করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের সচেতন করার পাশাপাশি, অনিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা ঠেকাতে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সাভারে এনসিপির জনসভায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় তদন্ত হবে জানিয়ে জাহেদ উর রহমান বলেন, এর সঙ্গে জড়িতদের আটক করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে কটূক্তির বিষয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, জুলাই নিয়ে কটূক্তি করা, মন্তব্য করা অত্যন্ত মর্মান্তিক। তবে আইনি কাঠামো অনুযায়ী এটি অপরাধের পর্যায়ে পড়ে না। এসব মন্তব্য ক্রিমিনাল অফেন্স হিসেবে গণ্য করা হবে কিনা সেই আলোচনা চলতে পারে।

কালের আলো/এসআর/এএএন

উপকূলে ঝড়ের শঙ্কা কাটেনি, সমুদ্রবন্দরে তিন নম্বর সংকেত বহাল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ১:০৮ অপরাহ্ণ
উপকূলে ঝড়ের শঙ্কা কাটেনি, সমুদ্রবন্দরে তিন নম্বর সংকেত বহাল

স্থল নিম্নচাপটি ধীরে ধীরে দুর্বল হওয়ার আভাস থাকলেও উপকূলে ঝড়ের আশঙ্কা কাটেনি। তাই সব সমুদ্রবন্দরে বহাল তিন নম্বর সংকেত।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) এমন পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

আবহাওয়াবিদ খো. হাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, উড়িষ্যা ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ ঝাড়খণ্ড এলাকায় অবস্থানরত মৌসুমি স্থল নিম্নচাপটি উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর ও দুর্বল হয়ে বর্তমানে সুস্পষ্ট লঘুচাপ আকারে পূর্ব মধ্য প্রদেশ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে।

এটি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ক্রমান্বয়ে দুর্বল হতে পারে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় বায়ু চাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে।

সমুদ্রবন্দরসমূহ, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ওপর দিয়ে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

এই অবস্থায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরসমূহকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

এতে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

কালের আলো/এসআর/এএএন