খুঁজুন
                               
, ,
           

প্রতিশ্রুতি রেখেছেন কুকুরেয়া, বাহুতে স্পেন কোচ দে লা ফুয়েন্তের ট্যাটু

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ১২:৫৮ অপরাহ্ণ
প্রতিশ্রুতি রেখেছেন কুকুরেয়া, বাহুতে স্পেন কোচ দে লা ফুয়েন্তের ট্যাটু

বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দে এখনো ভাসছে স্পেন। দীর্ঘ ১৬ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে জাতীয় দলের জার্সিতে দ্বিতীয় বিশ্বকাপ তারকা যোগ করেছে লা রোজারা। ঐতিহাসিক এই সাফল্য উদযাপনে খেলোয়াড়দের আনন্দ-উচ্ছ্বাস যেমন অব্যাহত রয়েছে, তেমনি শুরু হয়েছে বিশ্বকাপের আগে দেওয়া ব্যক্তিগত প্রতিশ্রুতি পূরণের পালাও।

স্পেনের ডিফেন্ডার মার্ক কুকুরেয়া সেই প্রতিশ্রুতি রাখার ক্ষেত্রে সবার আগে এগিয়ে এলেন। বিশ্বকাপ শুরুর আগে তিনি বলেছিলেন, স্পেন শিরোপা জিততে পারলে নিজের শরীরে জাতীয় দলের প্রধান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের ট্যাটু করাবেন। বিশ্বকাপ জয়ের পর সেই কথাই বাস্তবে রূপ দিয়েছেন এই কাতালান ফুটবলার।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের নতুন ট্যাটুর ছবি প্রকাশ করেন কুকুরেয়া। ছবিতে দেখা যায়, তাঁর বাহুতে বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে দাঁড়িয়ে থাকা স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের প্রতিকৃতি আঁকা হয়েছে।

ছবির ক্যাপশনে কুকুরেয়া লিখেছেন, “প্রতিশ্রুতি রেখেছি।”

বিশ্বকাপ জয়ের স্মৃতিকে আজীবন ধরে রাখতেই এই ট্যাটু করিয়েছেন তিনি। আগেই জানিয়েছিলেন, ট্যাটুটি আকারে খুব বড় হবে না, তবে এমনভাবে করা হবে যাতে সহজেই সবার নজরে আসে। জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বকাপ জয়ের স্মারক হিসেবে এটি তাঁর জীবনের অন্যতম মূল্যবান স্মৃতি হয়ে থাকবে।

কুকুরেয়ার এই বিশেষ ট্যাটুটি করেছেন বিশ্বখ্যাত ট্যাটু শিল্পী গাঙ্গা। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ট্যাটু শিল্পের অন্যতম পরিচিত নাম তিনি।

গাঙ্গার গ্রাহকের তালিকায় রয়েছেন বাস্কেটবল কিংবদন্তি লেব্রন জেমস, টেনিস তারকা কার্লোস আলকারাজ, মডেল জর্জিনা রদ্রিগেজসহ বিশ্বের অনেক খ্যাতিমান ক্রীড়াবিদ ও তারকা। ফলে কুকুরেয়ার ট্যাটুটিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ট্যাটুর ছবি প্রকাশের পর কুকুরেয়াকে অভিনন্দন জানিয়েছেন তাঁর সতীর্থরাও।

স্পেনের মিডফিল্ডার মিকেল মেরিনো মন্তব্য করেন, “ঐতিহাসিক।”

অন্যদিকে টেনিস তারকা কার্লোস আলকারাজ লিখেছেন, “দারুণ!”

ভক্তরাও কুকুরেয়ার প্রতিশ্রুতি রক্ষার প্রশংসা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা মন্তব্য করছেন।

বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে শিরোপা জয়ের পর সংবাদ সম্মেলনে কুকুরেয়ার ট্যাটুর প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তেকে।

হাস্যরসের সুরে তিনি বলেছিলেন, প্রথমে তাঁর মনে হয়েছিল কুকুরেয়ারা হয়তো একটু বেশিই আবেগপ্রবণ হয়ে এমন প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে তিনি জানতেন, তাঁর খেলোয়াড়রা কথা দিলে তা রাখবেন।

দে লা ফুয়েন্তে বলেন,

“ওরা ভুল করেছে। তবে ওরা খুবই দায়িত্বশীল মানুষ, তাই কথা রাখবেই। আমি ওদের জিজ্ঞেসও করেছিলাম, ‘তোমরা ভুল করছ না তো?’ ওরা করেছে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত এটা উপভোগই করবে।”

কোচের সেই বিশ্বাসই সত্যি প্রমাণ করলেন কুকুরেয়া।

বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর বর্তমানে পরিবারের সঙ্গে ছুটি কাটাচ্ছেন কুকুরেয়া। বিশ্রাম শেষে তিনি যোগ দেবেন রিয়াল মাদ্রিদে, যেখানে নতুন মৌসুমে শুরু হবে তাঁর নতুন অধ্যায়।

প্রাক্-মৌসুম অনুশীলনে শিগগিরই দলের সঙ্গে যোগ দিয়ে নতুন কোচ জোসে মরিনিওর অধীনে প্রস্তুতি শুরু করবেন তিনি।

বিশ্বকাপের আগেই ক্লাব ফুটবলেও দারুণ সময় কাটিয়েছেন কুকুরেয়া। সাবেক চেলসি ডিফেন্ডার হিসেবে প্রিমিয়ার লিগে নিজের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দিয়ে নজর কাড়েন তিনি। রক্ষণে যেমন ছিলেন নির্ভরতার প্রতীক, তেমনি বাঁ প্রান্ত দিয়ে আক্রমণেও রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান। পুরো মৌসুমে তাঁর তৈরি করা সুযোগ থেকে সতীর্থরা করেছেন পাঁচটি গোল।

তবে সবকিছুকে ছাপিয়ে গেছে বিশ্বকাপে তাঁর অসাধারণ পারফরম্যান্স। পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে রক্ষণে দৃঢ়তা, আক্রমণে গতি এবং দলের প্রতি নিবেদন তাঁকে স্পেনের শিরোপা জয়ের অন্যতম নায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

বিশ্বকাপের সেই দুর্দান্ত পারফরম্যান্সই শেষ পর্যন্ত তাঁর ক্যারিয়ারে বড় পরিবর্তন এনে দেয়। নতুন মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে মাঠে নামতে যাচ্ছেন কুকুরেয়া। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে এখন তাঁর সামনে অপেক্ষা করছে নতুন এক চ্যালেঞ্জ, আর সেই যাত্রার স্মারক হয়ে আজীবন তাঁর সঙ্গে থাকবে কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের ট্যাটুটি।

কালের আলো/এসএ

পর্যায়ক্রমে সব মহাসড়কে ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ চালুর ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

নারায়ণগঞ্জ প্রতিবেদক:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ২:৪৪ অপরাহ্ণ
পর্যায়ক্রমে সব মহাসড়কে ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ চালুর ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

মহাসড়কে নিরাপত্তা ও ট্রাফিক শৃঙ্খলা নিশ্চিতকরণ, দুর্ঘটনা হ্রাস এবং ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত, কার্যকর ও স্বচ্ছ প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে আধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তিনির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের মেঘনাঘাটে অবস্থিত হাইওয়ে পুলিশের ‘কমান্ড, কন্ট্রোল অ্যান্ড মনিটরিং সেন্টার’-এ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই যুগান্তকারী প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার শুভ উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, হাইওয়ে পুলিশ মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার উদ্দেশ্যে আজকে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে, যার মাধ্যমে সামগ্রিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। তিনি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বাস্তবায়িত এই ব্যবস্থার সাফল্য ও অভিজ্ঞতা মূল্যায়ন করে পর্যায়ক্রমে দেশের সকল মহাসড়কে এই স্বয়ংক্রিয় এআই প্রযুক্তি চালু করার ঘোষণা দেন।

মহাসড়কে যেকোনো ধরনের অবৈধ চাঁদাবাজি বন্ধের বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি প্রদান করে মন্ত্রী বলেন, মহাসড়কে চাঁদাবাজির প্রবণতা—তা মালিক পক্ষ, শ্রমিক ফেডারেশন কিংবা পুলিশের যে কারো পক্ষ থেকেই হোক না কেন—সবকিছুই এই সিসিটিভি ও এআই ক্যামেরায় রেকর্ড হিসেবে জমা থাকবে। ফলে এই অপরাধমূলক প্রবণতা অনেকাংশে হ্রাস পাবে এবং সাধারণ জনগণের সার্বিক সহযোগিতায় মহাসড়ককে সম্পূর্ণরূপে চাঁদাবাজিমুক্ত করা সম্ভব হবে।

মহাসড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলার ও নন-মোটরাইজড যানবাহন চলাচল প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মহাসড়কে অননুমোদিত ও লাইসেন্সহীন কোনো থ্রি-হুইলার বা নন-মোটরাইজড যান চলতে দেওয়া হবে না এবং এগুলোর বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে পুলিশ তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবে। তবে পার্শ্ববর্তী স্থানীয় ফিডার রোড ব্যবহার এবং সিএনজি ফিলিং স্টেশন থেকে জ্বালানি নেওয়ার মতো অত্যাবশ্যকীয় বিষয়টি শৃঙ্খলার সাথে সমন্বয় করার জন্য তিনি হাইওয়ে পুলিশ প্রধানকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।

হাইওয়ে পুলিশের প্রধান ও এডিশনাল আইজি ফারুক আহমেদ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি ও সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান এবং বাংলাদেশ পুলিশের ইনস্পেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।

অনুষ্ঠানে এই আধুনিক ও যুগোপযোগী উদ্যোগকে সফল করতে হাইওয়ে পুলিশ, বাংলাদেশ পুলিশ, পরিবহন মালিক-শ্রমিক ফেডারেশন এবং সাধারণ জনগণকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়া এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টির ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়।

উল্লেখ্য, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ওপর গৃহীত একটি সুনির্দিষ্ট প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে মহাসড়কের ৪৯০টি পিলারে স্বয়ংক্রিয় এআই ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এই সর্বাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে মহাসড়কে নির্ধারিত গতিসীমা অতিক্রম বা ওভারস্পিড, বিপজ্জনক ওভারটেকিং, ট্রাফিক সাইন-সিগন্যাল অমান্য করা, উল্টোপথে যানবাহন চালানো এবং অবৈধ পার্কিংসহ যেকোনো ধরনের ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন এআই ক্যামেরায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে রেকর্ড ও শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

প্রযুক্তিভিত্তিক এই প্রক্রিয়ায় আইন লঙ্ঘনকারী যানবাহন শনাক্ত হওয়ার সাথে সাথে তার তথ্য সরাসরি বিআরটিএ’র ডেটাবেজে চলে যাবে এবং স্বয়ংক্রিয় সংকেতের মাধ্যমে যানবাহনের নিবন্ধিত মালিকের মোবাইল নম্বরে এসএমএস পাঠিয়ে মামলার বিবরণ নিশ্চিত করা হবে। প্রাপ্ত সংবাদের পর যানবাহনের মালিকগণ তাঁদের সুবিধা অনুযায়ী যেকোনো মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (MFS)-এর মাধ্যমে ঘরে বসেই জরিমানার অর্থ পরিশোধ করতে পারবেন। এভাবে বারবার আইন লঙ্ঘন করার অপরাধ ঘটলে বিআরটিএ-র বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন বাতিলের মতো কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কালের আলো/এম/এএইচ

১৭ বছরের অসুস্থতার পর মারা গেলেন মিশরীয় অভিনেতা

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ২:৩৬ অপরাহ্ণ
১৭ বছরের অসুস্থতার পর মারা গেলেন মিশরীয় অভিনেতা

দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে স্নায়ুতন্ত্রের জটিল রোগ মাল্টিপল স্ক্লেরোসিসের (এমএস) সঙ্গে লড়াইয়ের পর মারা গেলেন মিশরের অভিনেতা আমর মোহাম্মদ আলী। সোমবার (১৭ আগস্ট) চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৫০ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়।

অভিনেতার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন মিশরের অভিনেতা সিন্ডিকেটের প্রধান আশরাফ জাকি।

১৯৮০-এর দশকে শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয়ে পা রাখেন আমর মোহাম্মদ আলী। জনপ্রিয় টেলিভিশন ধারাবাহিক ‘আরাবেস্ক’-এ ‘শাকশাক’ চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের কাছে পরিচিতি পান তিনি। তাঁর অভিনয় তখন ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছিল।

২০০৬ সালে প্রচারিত টেলিভিশন ধারাবাহিক ‘হাদায়েক আল শায়তান’-এ অভিনয়ের পর আর পর্দায় দেখা যায়নি তাঁকে। এর পেছনে বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায় তাঁর দীর্ঘদিনের অসুস্থতা।

মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস এমন একটি রোগ, যাতে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুল করে স্নায়ুর প্রতিরক্ষামূলক আবরণে আক্রমণ করে। এর ফলে ধীরে ধীরে চলাফেরা, ভারসাম্য ও দৃষ্টিশক্তিসহ শরীরের বিভিন্ন স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে।

আমর মোহাম্মদ আলীর ক্ষেত্রেও রোগটি ক্রমেই গুরুতর আকার ধারণ করে। অসুস্থতার কারণে একসময় অভিনয়জগৎ থেকে পুরোপুরি দূরে সরে যেতে বাধ্য হন তিনি।

তাঁর ভাই আহমেদ জানিয়েছেন, মৃত্যুর আগের কয়েক দিনে অভিনেতার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। একপর্যায়ে তিনি নিজে দাঁড়াতে পারতেন না। এমনকি কথা বলা ও খাওয়াদাওয়াও বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।

দীর্ঘদিন পর্দার বাইরে থাকার পর সুস্থ হয়ে আবার অভিনয়ে ফেরার ইচ্ছা ছিল আমর মোহাম্মদ আলীর। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দীর্ঘ ১৭ বছরের অসুস্থতার কাছে হার মানলেন তিনি।

শিশুশিল্পী থেকে জনপ্রিয় টেলিভিশন অভিনেতা হয়ে ওঠা আমর মোহাম্মদ আলীর অভিনয়জীবন দীর্ঘ না হলেও ‘আরাবেস্ক’-এর ‘শাকশাক’ চরিত্রের মাধ্যমে মিশরের দর্শকদের মনে তিনি আলাদা জায়গা করে নিয়েছিলেন।

কালের আলো/এসএ

উপজেলাতেই মিলবে উন্নত চোখের চিকিৎসা, থাকবে অপারেশন থিয়েটার: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ২:২৪ অপরাহ্ণ
উপজেলাতেই মিলবে উন্নত চোখের চিকিৎসা, থাকবে অপারেশন থিয়েটার: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

দেশের প্রতিটি উপজেলায় নির্মাণাধীন ১৫১ শয্যার পূর্ণাঙ্গ হাসপাতালে চোখের চিকিৎসার জন্য আলাদা আউটডোর, ইনডোর ও অপারেশন থিয়েটার সুবিধা চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।

একইসঙ্গে দেশে প্রায় ১০ লাখ চোখের ছানি অপারেশন, কয়েক কোটি চশমা বিতরণ এবং ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি চিকিৎসার লক্ষ্য নিয়ে একটি সমন্বিত ‘ন্যাশনাল আই কেয়ার প্ল্যান’ চূড়ান্ত করছে সরকার।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের রূপসী বাংলা গ্র্যান্ড বলরুমে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ‘হু স্পেকস ২০৩০ ইনিশিয়েটিভ’ -এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব তথ্য জানান।

এই উদ্যোগের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ‘হু স্পেকস ২০৩০ ইনিশিয়েটিভ’।

আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য ও চক্ষু বিশেষজ্ঞ ড. মুহিত বলেন, সরকার স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত আধুনিক চক্ষু সেবা পৌঁছে দিতে বদ্ধপরিকর। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে ১৫১ শয্যার পূর্ণাঙ্গ হাসপাতালে রূপান্তরের কাজ চলছে। প্রায় ৫০০টি উপজেলায় চোখের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা রাখা হবে, যাতে তৃণমূলের মানুষকে আর চিকিৎসার জন্য জেলা শহর বা রাজধানীতে ছুটতে না হয়।

তৃণমূলের প্রাথমিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি জানান, সরকারের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় থাকা এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মীর প্রশিক্ষণে ‘প্রাইমারি আই কেয়ার’ বা প্রাথমিক চক্ষু সেবা একটি আবশ্যক অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত থাকবে। পাশাপাশি জেলা হাসপাতালগুলোর অবকাঠামো সমন্বয় করে খুব দ্রুত অন্তত অর্ধেক জেলায় নিয়মিত ছানি অপারেশন ও রিফ্রাকশন সেবা জোরদার করা হবে।

জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়ানোর কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এনআইওএইচ-এর আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণে একটি বড় প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে, যা শিগগিরই বাস্তবায়িত হবে। একইসঙ্গে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের এনজিওগুলোর অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বৈশ্বিক পর্যায়ে বাংলাদেশের চক্ষু সেবার সাফল্য তুলে ধরার পরিকল্পনাও রয়েছে।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী আন্তর্জাতিক চক্ষু বিশেষজ্ঞ ড. এম এ মুহিত জানান, বিগত ছয় মাসে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় চক্ষু সেবার উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় সংস্থাগুলোর সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় চালিয়ে যাচ্ছে। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের তৎপরতায় বাংলাদেশ একটি গ্লোবাল সামিট আয়োজনের বড় প্রতিশ্রুতিও অর্জন করেছে। সরকারের লক্ষ্য আগামী ৩ থেকে ৪ বছরের মধ্যে দেশের চক্ষু চিকিৎসা খাতে একটি যুগান্তকারী ইতিবাচক পরিবর্তন নিশ্চিত করা।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক অধ্যাপক ডা. এ.এস.এম.এম. কাদির, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আঞ্চলিক উপদেষ্টা ডা. তাশি তবগে এবং বাংলাদেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি ডা. আহমেদ জামশেদ মোহাম্মদসহ দেশি-বিদেশি প্রতিনিধিরা।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ