খুঁজুন
                               
, ,
           

হরমুজ প্রণালী চালুর আলোচনা, কমেছে তেলের দাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ৩:২৭ অপরাহ্ণ
হরমুজ প্রণালী চালুর আলোচনা, কমেছে তেলের দাম

হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রায় ২ শতাংশ কমেছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ পরিচালনা নিয়ে ইরান ও প্রতিবেশী ওমানের মধ্যে আলোচনা আবারও শুরু হয়েছে—তেহরানের এমন ঘোষণার পর বুধবার (২৬ আগস্ট) জ্বালানি তেলের বাজারে দরপতন দেখা যায়।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্সের দাম ব্যারেলপ্রতি ১.৭৮ ডলার বা ২ শতাংশ কমে ৮৬.৮০ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুড ফিউচার্সের দাম ১.৪৯ ডলার বা ১.৮ শতাংশ কমে ৮০.৮৭ ডলারে দাঁড়ায়।

এর আগে মঙ্গলবারও উভয় বেঞ্চমার্কের তেলের দাম ৩ শতাংশের বেশি কমেছিল। ফলে টানা দুই দিনের দরপতনে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম নিয়ে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

ফুজিটমি সিকিউরিটিজের বিশ্লেষক মিতসুরু মুরাইশির মতে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ে পরিস্থিতি এখনো তেলের বাজারের অন্যতম প্রধান নিয়ামক। ইরান ও ওমানের মধ্যে আলোচনা এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আশাবাদ তৈরি হয়েছে এবং তেলের বিক্রির চাপ বেড়েছে।

তবে ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো পুরোপুরি কাটেনি। এ কারণে তেলের দাম একটানা বড় ধরনের পতনের বদলে একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে ওঠানামা করতে পারে বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ইরানের ওপর মার্কিন অর্থনৈতিক চাপ বাড়তে থাকার মধ্যেই হরমুজ প্রণালী পরিচালনার বিষয়ে ওমানের সঙ্গে আলোচনা পুনরায় শুরু করেছে তেহরান। ফলে বাজারে ধারণা তৈরি হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে হয়তো একটি সমঝোতার পথ তৈরি হতে পারে।

হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। যুদ্ধ শুরুর আগে এই নৌপথ দিয়ে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হতো।

ইরান ও ওমান গত কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রণালীর পরিচালনা ও জাহাজ চলাচল নিয়ে দফায় দফায় আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। মঙ্গলবার দুই দেশ জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীর মধ্য দিয়ে একটি ‘যৌথ অস্থায়ী নেভিগেশনাল করিডোর’ চালুর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে ওই করিডোর মাইনমুক্ত করার বিষয়েও তারা সম্মত হয়েছে।

এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে হরমুজ প্রণালীর মধ্য দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে কিছুটা স্বাভাবিকতা ফিরতে পারে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগও কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি কূটনৈতিক মিশনে আবারও কর্মী পাঠাতে শুরু করেছে। সংঘাতের আশঙ্কায় আগে যেসব মিশন থেকে কর্মী সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল বা কর্মীসংখ্যা কমানো হয়েছিল, সেগুলোতে ধীরে ধীরে জনবল ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

এই পদক্ষেপকে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে স্বল্প মেয়াদে ইরানের সঙ্গে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার ঝুঁকি কমে আসার একটি সম্ভাব্য ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে কয়েকটি দূতাবাস শুরুতে পূর্ণ সক্ষমতায় নয়, সীমিত কর্মী নিয়ে কার্যক্রম চালাতে পারে।

অন্যদিকে, গত সোমবার ইরানের অর্থনৈতিক কার্যক্রমের ওপর চাপ বাড়াতে নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে ওয়াশিংটন। তেহরানের সঙ্গে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া দেশ ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জরিমানা আরোপ করা হবে না বলে জানিয়েছে মার্কিন প্রশাসন।

হরমুজ প্রণালী নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়লেও নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এখনো রয়েছে। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস জানিয়েছে, মঙ্গলবার ওমানের আশ শিশার এলাকা থেকে প্রায় ৯ নটিক্যাল মাইল বা ১৭ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অজ্ঞাত একটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে একটি তেলবাহী ট্যাংকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে অচল হয়ে পড়ে।

ঘটনাটি হরমুজ ও এর আশপাশের জলপথে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে। ফলে ইরান ও ওমানের আলোচনার পাশাপাশি সামুদ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিও তেলের বাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বাজার থেকেও তেলের দাম কমার পক্ষে কিছুটা চাপ এসেছে। বাজারসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের (এপিআই) তথ্য অনুযায়ী, ২১ আগস্ট শেষ হওয়া সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুত প্রায় ৪২ লাখ ব্যারেল বেড়েছে।

মজুত বৃদ্ধির অর্থ হলো বাজারে সরবরাহের চাপ তুলনামূলকভাবে বাড়তে পারে। এর সঙ্গে হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালুর সম্ভাবনা যুক্ত হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তেলের সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে আশাবাদ তৈরি হয়েছে।

সব মিলিয়ে হরমুজ প্রণালী নিয়ে ইরান-ওমানের আলোচনা, যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক তৎপরতা এবং মার্কিন তেল মজুত বৃদ্ধির খবর—এই তিনটি বিষয় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে স্বস্তি তৈরি করেছে। তবে নৌপথের নিরাপত্তা ও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত হওয়ায় তেলের দামে বড় ধরনের স্থিতিশীলতা আসতে আরও সময় লাগতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স

কালের আলো/এসএ

বাংলাদেশে তৈরি হচ্ছে ১৩ মিলিয়ন ডলারের এআই হাব, দক্ষ জনবল তৈরিতে গুরুত্ব

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৩১ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশে তৈরি হচ্ছে ১৩ মিলিয়ন ডলারের এআই হাব, দক্ষ জনবল তৈরিতে গুরুত্ব

বাংলাদেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের উন্নয়ন ও দক্ষ প্রযুক্তিবিদ তৈরিতে ১৩ মিলিয়ন ডলারের একটি এআই হাব প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার সহায়তায় ঢাকায় এই হাব গড়ে তোলা হবে।

বাংলাদেশ ও কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (কোয়িকা) এর মধ্যে এ বিষয়ে ১৩ মিলিয়ন ডলারের অনুদান চুক্তি হয়েছে। প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য এআই ও আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষ জনবল তৈরি, গবেষণা জোরদার এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানো।

প্রযুক্তি খাতের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিপুলসংখ্যক কর্মী থাকলেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডেটা অ্যানালিটিকস ও উন্নত প্রযুক্তিতে বিশেষায়িত দক্ষতার ঘাটতি রয়েছে। নতুন এআই হাব এই ঘাটতি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে অনলাইন ফ্রিল্যান্সিংয়ের সঙ্গে প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার মানুষ যুক্ত এবং এই খাত থেকে উল্লেখযোগ্য বৈদেশিক আয় আসে। তবে এআইনির্ভর অর্থনীতিতে আরও এগোতে বিশেষায়িত দক্ষ পেশাজীবী তৈরি করা জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু এআই প্রযুক্তি ব্যবহার নয়, স্থানীয় পর্যায়ে এআই গবেষণা, উদ্ভাবন ও নতুন প্রযুক্তি তৈরি করার সক্ষমতা বাড়াতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়, প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি সংস্থার মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

এদিকে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও প্রযুক্তিভিত্তিক কার্যক্রম বাড়ছে। পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) ক্লাবের উদ্যোগে আইটি কার্নিভাল শুরু হয়েছে।

প্রযুক্তিবিদদের ধারণা, এআই ও ডিজিটাল প্রযুক্তিতে দক্ষতা বাড়ানো গেলে বাংলাদেশের তরুণদের জন্য দেশে ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তি খাত দেশের অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবৃদ্ধির খাত হিসেবে আরও শক্তিশালী হতে পারে।

কালের আলো/এসএ

উপায়ে চাকরির সুযোগ, নিয়োগ অ্যাকাউন্ট ম্যানেজার

চাকরি ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ৬:২০ অপরাহ্ণ
উপায়ে চাকরির সুযোগ, নিয়োগ অ্যাকাউন্ট ম্যানেজার

ইউসিবি ফিনটেক কোম্পানি লিমিটেডের ডিজিটাল আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান ‘উপায়’ জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি ‘কি অ্যাকাউন্ট ম্যানেজার’ পদে একজন যোগ্য প্রার্থী নিয়োগ দেবে। আগ্রহী প্রার্থীরা আগামী ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।

নিয়োগের বিস্তারিত

প্রতিষ্ঠান: ইউসিবি ফিনটেক কোম্পানি লিমিটেড (উপায়)
পদ: কি অ্যাকাউন্ট ম্যানেজার
চাকরির ধরন: ফুলটাইম, অফিসভিত্তিক
কর্মস্থল: সিলেট
বেতন: মাসিক ৩০ হাজার টাকা

শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা

প্রার্থীকে ফিন্যান্স, মার্কেটিং অথবা বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিষয়ে বিবিএ ডিগ্রিধারী হতে হবে। পাশাপাশি ব্যাংক বা ফিনটেক স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানে ৩ থেকে ৫ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

সিলেটের করপোরেট ও ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকতে হবে। এ ছাড়া করপোরেট সেলস, চ্যানেল পার্টনারশিপ ও ডিজিটাল পেমেন্ট সলিউশন নিয়ে কাজের দক্ষতা প্রয়োজন। নির্ধারিত এলাকায় মাঠপর্যায়ে ভ্রমণ করার মানসিকতাও থাকতে হবে।

যেসব দায়িত্ব পালন করতে হবে

নির্ধারিত এলাকায় করপোরেট চ্যানেল পার্টনার খুঁজে বের করা, তাঁদের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি ও সক্রিয় রাখা হবে এই পদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। পাশাপাশি করপোরেট কালেকশন ও ডিজিটাল পেমেন্ট সেবার প্রসারে কাজ করতে হবে।

নির্ধারিত মাসিক, ত্রৈমাসিক ও বার্ষিক বিক্রয় লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, নতুন পার্টনারদের কেওয়াইসি যাচাই ও চুক্তি বাস্তবায়ন নিশ্চিত করাও দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে। পার্টনারদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ টিমের সঙ্গে সমন্বয় করেও কাজ করতে হবে।

যেভাবে আবেদন

আগ্রহী প্রার্থীদের অনলাইনে আবেদন করতে হবে। আবেদন ও নিয়োগসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে সংশ্লিষ্ট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে।

আবেদনের শেষ তারিখ: ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬।

কালের আলো/এসএ

সেপ্টেম্বরের মধ্যে হতে পারে স্থানীয় নির্বাচনের তফসিল: সিইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ৬:০৮ অপরাহ্ণ
সেপ্টেম্বরের মধ্যে হতে পারে স্থানীয় নির্বাচনের তফসিল: সিইসি

আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। তবে দুর্গাপূজা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা, আইনগত সময়সীমাসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে নির্বাচনের সময় নির্ধারণ করা হবে বলে জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) নির্বাচন ভবনে নিজ দফতরে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন সিইসি।

নাসির উদ্দিন বলেন, ‘নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি নিতে সচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে তফসিল ঘোষণা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নির্বাচন কমিশন মাঠে নামতে পারে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমন্বয়ের জন্যও সংশ্লিষ্ট কমিশনারকে কাজ শুরু করতে বলা হয়েছে।’

তফসিলের সময় নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘আমার মনে হয়, আমরা সেপ্টেম্বরের মধ্যে একটা তফসিল দিতে পারব। তবে নির্বাচন আয়োজনের সময় নির্ধারণে দুর্গাপূজা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা, আইনগত সময়সীমাসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করতে হচ্ছে। এটা নিশ্চিত যে আমাদের এই বছরের মধ্যে শুরু করতে হবে। আইনি বিষয় আছে এখানে। এই বছরের মধ্যে শুরু করতে হবে।’

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ভোট ডিসেম্বরের দিকে নেওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়ে সিইসি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা দ্রুত শেষ করা সম্ভব হলে নভেম্বরের শেষ দিকে নির্বাচন শুরু করার বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।

নাসির উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের সময়ের স্লট খুবই শর্ট। এরপর রমজান চলে আসবে। রমজানের পরে ঈদুল আজহা, তারপর বর্ষাকাল—নানাবিধ জটিলতা আছে। সবকিছু মিলিয়েই আমাদের নির্বাচন করতে হবে।’

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছেড়ে দেওয়া আসনে উপনির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট একটি আসনের উপনির্বাচনও ৯০ দিনের মধ্যে শেষ করতে হবে। তাই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সঙ্গে যাতে সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সেটিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।

উপকূলীয় ও দুর্গম এলাকার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, আইনগতভাবে যেসব নির্বাচন আগে করার প্রয়োজন, সেগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। আগের ধাপের নির্বাচনগুলোর মধ্যে ২০২১ সালের ১০ জুন প্রথম ধাপে অনুষ্ঠিত ৩৭১টি ইউনিয়ন পরিষদও অগ্রাধিকারের তালিকায় থাকবে।

নাসির উদ্দিন আরও বলেন, ‘যেসব এলাকায় নির্বাচন আগে দেওয়ার আইনি বাধ্যবাধকতা আছে, সেগুলো আমাদের প্রথমে বিবেচনায় নিতে হবে। আর হিলি রিজিয়ন বা দুর্গম অঞ্চল যেখানে আছে, সেখানে যদি নির্বাচন পড়ে, সেগুলো শুকনো মৌসুমে করার চেষ্টা থাকবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা জাতীয় নির্বাচন যেভাবে করেছি, তার চেয়ে ভালো বই খারাপ নয়—ওই স্ট্যান্ডার্ডে আমরা কাজ করতে চাই। প্রফেশনালি, ইন্ডিপেন্ডেন্টলি এবং নিউট্রালি যাতে কাজ করতে পারি এবং আমাদের প্রত্যেকটা পদক্ষেপ যাতে ক্রেডিবল হয়, সেভাবেই কাজ করতে চাই।’

সিইসি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনসহ আগামী নির্বাচনগুলোতে কমিশনের প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি নেই এবং নির্বাচন কমিশন তার নিরপেক্ষতা ও স্বাধীনতা বজায় রেখে দায়িত্ব পালনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ