খুঁজুন
                               
, ,
           

বাংলাদেশে ৫জি কতদূর, সাধারণ মানুষ কবে পাবেন পুরো সুবিধা?

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬, ৮:১৩ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশে ৫জি কতদূর, সাধারণ মানুষ কবে পাবেন পুরো সুবিধা?

দেশে ৫জি যুগ শুরু হয়েছে, কিন্তু এখনো সবার হাতে পৌঁছেনি এই প্রযুক্তির পূর্ণ সুবিধা। সীমিত পরিসরে ৫জি চালু হলেও দেশজুড়ে নিরবচ্ছিন্ন কভারেজ পেতে আরও সময় লাগবে। অবকাঠামো, স্পেকট্রাম, ৫জি-সমর্থিত ডিভাইস এবং ব্যবহারকারীর চাহিদা—সবকিছুর ওপরই নির্ভর করছে এর বিস্তার।

বাংলাদেশে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে বাণিজ্যিকভাবে ৫জি সেবা চালু হয়। প্রথম দিকে সীমিত কিছু এলাকায় সেবা দেওয়া হলেও ২০২৬ সালের জুন নাগাদ দেশের ৪৪০টির বেশি স্থানে সীমিত পরিসরে ৫জি সেবা সম্প্রসারিত হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বিএসএস)। তবে দেশব্যাপী পূর্ণাঙ্গ ৫জি চালুর জন্য এখনো বেশ কিছু প্রস্তুতি প্রয়োজন।

৫জি চালুর অন্যতম বড় বিষয় হলো পর্যাপ্ত স্পেকট্রাম ও নেটওয়ার্ক অবকাঠামো। বিশেষ করে কম-ব্যান্ডের স্পেকট্রাম বিস্তৃত এলাকায় ৫জি কভারেজ দিতে গুরুত্বপূর্ণ। ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের স্পেকট্রাম নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে; এটি পাওয়া গেলে গ্রামাঞ্চলসহ বড় এলাকায় তুলনামূলক কার্যকরভাবে ৫জি বিস্তারের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

অন্যদিকে অপারেটরদের জন্য ৫জি নেটওয়ার্ক তৈরিতে বড় বিনিয়োগ প্রয়োজন। এর পাশাপাশি দেশে ৫জি-সমর্থিত স্মার্টফোনের ব্যবহারও এখনো সীমিত। ফলে শুধু নেটওয়ার্ক তৈরি করলেই হবে না, ব্যবহারকারীদের হাতেও থাকতে হবে ৫জি ডিভাইস।

এখন পর্যন্ত ৫জি সেবা মূলত নির্দিষ্ট এলাকা ও সীমিত পরিসরে পাওয়া যাচ্ছে। ফলে রাজধানী বা বড় শহরের কিছু এলাকায় ৫জি ব্যবহার করার সুযোগ থাকলেও দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের ব্যবহারকারীদের জন্য ৪জি এখনো প্রধান মোবাইল নেটওয়ার্ক।

এ কারণে ৫জি চালু হয়েছে মানেই দেশের সব মোবাইল ব্যবহারকারী এখনই ৫জি গতির ইন্টারনেট পাবেন—এমনটি নয়।

৫জির সবচেয়ে আলোচিত সুবিধা হলো দ্রুতগতির ইন্টারনেট এবং কম লেটেন্সি। ফলে বড় ফাইল দ্রুত ডাউনলোড, উন্নত মানের ভিডিও স্ট্রিমিং, অনলাইন গেমিং এবং ভিডিও কনফারেন্সে আরও ভালো অভিজ্ঞতা পাওয়া যেতে পারে।

তবে এর বড় প্রভাব শুধু মোবাইল ইন্টারনেটেই সীমাবদ্ধ নয়। স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, কৃষি, শিল্পকারখানা ও স্মার্ট সিটির মতো ক্ষেত্রেও ৫জি প্রযুক্তি ব্যবহার করা যেতে পারে। পূর্ণাঙ্গ ৫জি বিস্তারের জন্য এসব খাতের প্রস্তুতিকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

দেশব্যাপী ৫জি কভারেজ নির্ভর করছে স্পেকট্রাম বরাদ্দ, নেটওয়ার্ক অবকাঠামো, অপারেটরদের বিনিয়োগ এবং ৫জি ডিভাইসের সহজলভ্যতার ওপর।

অর্থাৎ, বাংলাদেশে ৫জি শুরু হয়ে গেলেও ‘সবার হাতে ৫জি’ পৌঁছাতে আরও কয়েক ধাপ পার হতে হবে। আপাতত সীমিত এলাকায় সেবা সম্প্রসারণ চলছে; পর্যায়ক্রমে অবকাঠামো ও স্পেকট্রাম সুবিধা বাড়লে ৫জি আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসবে তখনই, যখন শুধু বড় শহর নয়—দেশের প্রত্যন্ত এলাকাতেও ৫জি নেটওয়ার্ক সহজলভ্য হবে এবং সাধারণ মানুষের হাতে সাশ্রয়ী ৫জি ফোন থাকবে।

কালের আলো/এসএ

ঢাকার দুই স্টেডিয়াম পরিদর্শন ব্রাজিলের প্রতিনিধি দলের

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৪৭ অপরাহ্ণ
ঢাকার দুই স্টেডিয়াম পরিদর্শন ব্রাজিলের প্রতিনিধি দলের

ব্রাজিলের জাতীয় দল কিংবা অন্যান্য আন্তর্জাতিক দলের ম্যাচ আয়োজনের সম্ভাব্যতা যাচাই করতে ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়াম পরিদর্শন করেছে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (সিবিএফ) একটি পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধিদল। রবিবার (২৩ আগস্ট) ঢাকায় পৌঁছে প্রতিনিধিদলটি স্টেডিয়ামটির অবকাঠামো পর্যালোচনা করে।

ব্রাজিল পুরুষ জাতীয় দলের জেনারেল সুপারভাইজার সার্জিও ডিমাস দে অলিভেইরার নেতৃত্বে এই প্রতিনিধিদলটি স্টেডিয়ামে প্রায় ৪৫ মিনিট অবস্থান করে। পরিদর্শনের সময় তাঁরা মাঠের পিচ, ড্রেসিংরুম, গ্যালারি এবং ড্রেনেজ ও পানি সেচ ব্যবস্থা ঘুরে দেখেন। মূলতঃ ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক ম্যাচের জন্য স্টেডিয়ামটিকে নিরপেক্ষ ভেন্যু হিসেবে ব্যবহার করা যায় কি না, তা যাচাই করা ছিল এই সফরের মূল উদ্দেশ্য।

বাফুফের নির্বাহী কমিটির সদস্য ইকবাল হোসেন জানান, প্রতিনিধিদলটি ভেন্যু নিয়ে আগ্রহ দেখালেও এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তিনি বলেন, তারা আমাদের জানিয়েছে, ভবিষ্যতে তারা আমাদের এই স্টেডিয়াম নিরপেক্ষ ভেন্যু হিসেবে ব্যবহার করতে পারে কিংবা বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচ খেলতে পারে। আমরা তাদের জানিয়েছি যে মাঠের সংস্কার কাজ চলছে এবং তা পুরোপুরি শেষ হতে আরও অন্তত দুই সপ্তাহ সময় লাগবে।

উল্লেখ্য, আগামী ৩ অক্টোবর কলকাতার সল্টলেক স্টেডিয়ামে ভারতের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ব্রাজিল দল। সেই ম্যাচ উপলক্ষে কলকাতায় ভেন্যু পরিদর্শন শেষে প্রতিনিধিদলটি সরাসরি ঢাকায় আসে। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের আগে ব্রাজিল দল ঢাকায় অনুশীলন করবে কি না, এমন প্রশ্নে বাফুফে জানিয়েছে, এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি। একই সাথে বাংলাদেশের বিপক্ষে ফ্রেন্ডলি ম্যাচ খেলা নিয়ে কথা উঠলেও এখনই কোনো কিছু নিশ্চিত হয়নি বলে জানা গেছে।

জাতীয় স্টেডিয়াম পরিদর্শনের পর বিকেলে তারা পরিদর্শন করেন বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনা, সেখানকার অনুশীলন মাঠ ও গোল্ডস জিম।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

জনপ্রতিনিধিত্বে নারীর অংশগ্রহণ মাত্র ২ দশমিক ৩ শতাংশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৩৮ অপরাহ্ণ
জনপ্রতিনিধিত্বে নারীর অংশগ্রহণ মাত্র ২ দশমিক ৩ শতাংশ

নারী ভোটার সংখ্যা প্রায় ৪৯ শতাংশ হলেও জনপ্রতিনিধিত্বে নারীর অংশগ্রহণ মাত্র ২ দশমিক ৩ শতাংশ। এই বৈষম্য দূর করতে রাজনৈতিক দল থেকে শুরু করে নির্বাচন ব্যবস্থাপনার প্রতিটি ধাপে নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে।

একই সঙ্গে রাজনীতিকে খারাপ বিষয় হিসেবে না দেখে ভালো মানুষের রাজনীতিতে প্রবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

রোববার (২৩ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে ইউএন উইমেন ও নির্বাচন কমিশন যৌথভাবে আয়োজিত ‘ন্যাশনাল মাল্টি স্টেকহোল্ডার কনসালটেশন অন দ্য ডেভেলপমেন্ট অব আ জেন্ডার ইক্যুয়ালিটি স্ট্র্যাটেজি ফর দ্য বাংলাদেশ ইলেকশন কমিশন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, দুঃখের বিষয় হচ্ছে, নারী ভোটারের সংখ্যা ৪৯ দশমিক ২৭ শতাংশ হলেও নারী প্রতিনিধিত্বের সংখ্যা মাত্র ২ দশমিক ৩ শতাংশ। ভোটারের সংখ্যাগত দিক থেকে নারীরা শক্তিশালী হলেও প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে তা নেই বললেই চলে। এটি আমাদের বাস্তবতা।

নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, মূল সমস্যাটা হচ্ছে আমরা সামাজিক জীব হিসেবে রাজনীতির বাইরে থাকতে পারছি না, আবার রাজনীতিকে ইতিবাচকভাবেও দেখছি না।

ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি জানান, তার নিজের সন্তান, বোন, মেয়ে বা নারী আত্মীয়স্বজন কাউকেই রাজনীতিতে যেতে উৎসাহিত করেন না। শুধু নারী নয়, সামগ্রিকভাবেই পরিবার থেকে ছেলে-মেয়েদের রাজনীতিতে যাওয়ার জন্য উৎসাহিত করা হয় না।

রাজনীতির পরিবেশ, আর্থসামাজিক অবস্থা, সংস্কৃতি ও মানসিকতাই এর অন্যতম কারণ বলে মনে করেন এই নির্বাচন কমিশনার। তিনি বলেন, নির্বাচনী চক্রের প্রথম গ্রুপ হচ্ছে সাধারণ জনগণ। ১৮ কোটি মানুষের দেশে নির্বাচনী প্রচারণায় ১৮ বছরের নিচের কিশোররাও বড় ধরনের প্রভাব সৃষ্টি করে। কিন্তু সেই কিশোর যখন বাড়িতে আসে, তার মা তাকে বলে রাজনীতির ধারে কাছেও যেও না। নারী হোক বা পুরুষ, পরিবার থেকেই রাজনীতিকে দূরে রাখার প্রবণতা রয়েছে।

নারীর রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে রাজনৈতিক দলের ভেতরে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, ইনপুট থেকেই আউটপুট আসে। রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে নারী যদি সংখ্যায় বেশি থাকেন, তাহলে নারী প্রার্থীও বেশি আসবেন। এটাই স্বাভাবিক। পরিস্থিতিগত কারণে রাজনৈতিক দলে যদি ৫০ শতাংশ নারী কর্মী থাকতেন, তাহলে রাজনৈতিক দলগুলোও ৫০ শতাংশ মনোনয়ন নারীদের না দিয়ে পারত না।

তিনি আরও বলেন, নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে পারিবারিক ও সামাজিক মানসিকতা ধীরে ধীরে পরিবর্তন হচ্ছে।

নিজের চাকরি জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, ১৯৮৮ সালে চাকরিতে যোগ দেওয়ার সময় একজনও নারী ডেপুটি কমিশনার বা রিটার্নিং অফিসার ছিলেন না। এখন ১৮ থেকে ১৯ জন নারী রিটার্নিং অফিসার দায়িত্ব পালন করছেন। সহকারী রিটার্নিং অফিসারের ক্ষেত্রেও প্রায় এক-তৃতীয়াংশের বেশি নারী কর্মকর্তা রয়েছেন। বাংলাদেশে নির্বাচনে এত সংখ্যক নারী কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন, এটা একসময় কল্পনাও করা যেত না।

নির্বাচন কমিশন একা অংশগ্রহণমূলক, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন করতে পারে না বলেও মন্তব্য করে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ও মাঠপর্যায়ে যারা কাজ করছেন, তাদের অধিকাংশই আগের নির্বাচনগুলোতেও দায়িত্ব পালন করেছেন। শুধু কমিশনাররা পরিবর্তিত হয়েছেন। আগের কমিশনে যারা ছিলেন, তারা অযোগ্য ছিলেন এমন নয়। তাদেরও যথেষ্ট যোগ্যতা ছিল। কিন্তু শুধু নির্বাচন কমিশনার, রিটার্নিং কর্মকর্তা বা প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের পরিবর্তন করে একটি নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য করা সম্ভব নয়।

তার মতে, অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্য যদি সবার হয় এবং সবার ইচ্ছা ও সংকল্পকে এক বিন্দুতে আনা সম্ভব হয়, তাহলেই সেই ব্যবস্থা টেকসই হবে।

নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়াতে দুটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান আনোয়ারুল ইসলাম। প্রথমত, রাজনীতি খারাপ নয় এবং রাজনীতিতে ভালো মানুষের প্রবেশ জরুরি এই বার্তা ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, রাজনৈতিক দলের ভেতরে নারীর অধিকার ও মনোনয়ন নিশ্চিত করতে হবে। নারীরা রাজনৈতিক দলে যত বেশি সংখ্যায় যুক্ত হবেন, তাদের কণ্ঠ তত বেশি শক্তিশালী হবে। তাদের নেতৃত্বও তত মজবুত হবে এবং রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব প্রতিষ্ঠিত হবে।

নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বৈষম্য দূর করার বিষয়েও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান নির্বাচন কমিশনার। তিনি বলেন, বৈষম্যবিরোধী ও কোটা সংস্কার আন্দোলনের ফল হিসেবে অনেকের অবস্থান তৈরি হয়েছে। তাই আবার যেন বৈষম্যের দিকে ফিরে যাওয়া না হয়। বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারী কর্মকর্তারা ভালো করছেন। নারী কর্মকর্তাদের সংগঠিত নেটওয়ার্ককে আরও শক্তিশালী করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। কেন্দ্রীয়ভাবে থাকা ওমেন নেটওয়ার্ক নারী কর্মকর্তাদের একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক। তারা দলবদ্ধভাবে সচিবের কাছে গিয়ে কোনো দাবি জানালে সেটি উপেক্ষা করা কঠিন। ঐক্য ও চাপ সৃষ্টিকারী শক্তিশালী গ্রুপ থাকলে কাজ হতেই হবে।

নারী কর্মকর্তাদের নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, দেশে মোট ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এর প্রায় অর্ধেক কেন্দ্রে নারী প্রিজাইডিং অফিসার দায়িত্ব পালন করলে সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ২১ হাজার। ২১ হাজার নারী প্রিজাইডিং অফিসার পাওয়া সম্ভব না হলেও এর অর্ধেক করার চেষ্টা করতে হবে। ভোটকেন্দ্রগুলোকে নারী বান্ধব করতে হবে। প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসারের দায়িত্ব পালনে নারীদের উৎসাহিত করতে হবে।

শুধু কথায় নয়, বাস্তবে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, কথার সঙ্গে কাজের ফারাক থাকলে বাস্তবে এর প্রতিফলন হবে না। ৩৪ বছর ধরে চাকরি জীবনে নারীর অধিকার নিয়ে কথা শুনে আসছেন। টার্মিনোলজি হয়তো একেক সময় একেক রকম হয়েছে, কিন্তু মূল কথা একই। এখন বাস্তবে নারীর অংশগ্রহণ ও সমতা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনী চক্রের প্রতিটি পর্যায়ে নারীর অর্ধেক অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করতে হবে। জনগণ, ভোটার, রাজনৈতিক দল, মনোনয়ন প্রক্রিয়া, নির্বাচন ব্যবস্থাপনা, নির্বাচন পর্যবেক্ষক এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে পর্যায়ক্রমে নারীর সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে নারীর অধিকার সংরক্ষণ সম্ভব হবে।

নারীদের উদ্দেশে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে তাদের উত্থাপিত দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দিয়ে আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে কীভাবে এসব বিষয় আমলে নেওয়া যায়, সে বিষয়ে প্রচেষ্টা থাকবে।

অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনের যুগ্ম সচিব আব্দুল হালিম, উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে সুখবর দিলেন প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ৯:১৪ অপরাহ্ণ
প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে সুখবর দিলেন প্রতিমন্ত্রী

দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে সুখবর দিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি জানিয়েছেন, প্রধান শিক্ষক নিয়োগের মামলা শেষ হয়েছে এবং বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সঙ্গে কাজ চলছে। খুব বেশি দেরি না করে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ কার্যকর করা হবে।

রোববার (২৩ আগস্ট) বিকেলে বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে প্রাথমিক শিক্ষার রূপান্তর ও কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আয়োজিত দিনব্যাপী কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

ববি হাজ্জাজ বলেন, বরিশালের অনেক স্কুলে প্রধান শিক্ষক নেই। কয়েক হাজার স্কুলের এমন তথ্য দেখেছি।

তবে এটি শুধু বরিশালের বিষয় নয়, সারাদেশের চিত্রও এমন। মূল বিষয় হলো, বিগত কয়েক বছর ধরে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি মামলাধীন ছিল।

এ কারণে গত কয়েক বছরে ৩২ হাজারের বেশি প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হয়নি।

তিনি বলেন, এখন মামলা শেষ হয়েছে এবং পিএসসির সঙ্গে আমরা কাজ করছি, যাতে যত দ্রুত সম্ভব প্রধান শিক্ষক নিয়োগ কার্যকর করা যায়। খুব বেশি দেরি করতে হবে না।

প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি বিদ্যালয়ে শিক্ষার মান নিশ্চিত হচ্ছে কি না, সেটিই তার অন্যতম প্রধান চিন্তার বিষয়। বিগত সময়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অনেক জায়গায় মানসম্মত শিক্ষা দিতে ব্যর্থতা ছিল। এখন প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে কাজ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্ধারিত দুটি লক্ষ্য বাস্তবায়ন করাই প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মূল লক্ষ্য। এর একটি হলো-পাঠদানের বয়সী কোনো শিশু বা শিক্ষার্থী যেন শ্রেণিকক্ষের বাইরে না থাকে। দ্বিতীয়টি হলো-প্রতিটি শিক্ষার্থী যেন শ্রেণিকক্ষে সঠিকভাবে শিক্ষা লাভ করে। এই দুটি লক্ষ্য বাস্তবায়ন করা গেলে বাংলাদেশের শিক্ষা কোনোভাবেই বিশ্বমান থেকে পিছিয়ে থাকবে না।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আসতে উৎসাহিত করতে বেশ কিছু প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ১৫১টি উপজেলায় স্কুল ফিডিং কার্যক্রম পাইলট প্রকল্প হিসেবে চলছে। আশা করা হচ্ছে, ২০২৭ সালের শুরু থেকে দেশব্যাপী সব স্কুলে এ কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হবে।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেক স্কুলের অবকাঠামোগত অবস্থা ভালো নয়। এসব সমস্যা সমাধানে বেশ কিছু উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।

কর্মশালায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগের উপপরিচালক মিজ নিলুফার ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) মিরাজুল ইসলাম উকিল, এনডিসি এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (প্রশাসন-১) মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন সরকার।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ