খুঁজুন
                               
, ,
           

মহাবিশ্বে নতুন মহাজাগতিক বস্তুর সন্ধান, বাংলাদেশি গবেষক মুস্তাফা

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৪০ অপরাহ্ণ
মহাবিশ্বে নতুন মহাজাগতিক বস্তুর সন্ধান, বাংলাদেশি গবেষক মুস্তাফা

মহাবিশ্বের অজানা রহস্য উন্মোচনে নতুন এক শ্রেণির মহাজাগতিক উৎস শনাক্ত করেছেন বাংলাদেশি গবেষক মুস্তাফা মুহিবুল্লাহ। যুক্তরাষ্ট্রের অ্যালাবামা বিশ্ববিদ্যালয় ও হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের Center for Astrophysics (CfA) | Harvard & Smithsonian-এর যৌথ গবেষণায় শনাক্ত এসব উৎসের নাম দেওয়া হয়েছে Hypersoft X-ray Sources (HSS)।

আন্তর্জাতিক গবেষণা দলের নেতৃত্বে ছিলেন কাপ্তাই উপজেলার কর্ণফুলী পেপার মিলস (কেপিএম) স্কুলের ২০০৭ ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী মুস্তাফা মুহিবুল্লাহ। তিনি রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) থেকে পড়াশোনা শেষ করে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যালাবামা বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করছেন।

গবেষণায় তাঁর পিএইচডি সুপারভাইজার ড. জিমি আরউইন এবং CfA-এর ড. রোজান ডি স্টেফানো পরামর্শক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

৬ গ্যালাক্সিতে ৮৪টি উৎস শনাক্ত

মুস্তাফা মুহিবুল্লাহ জানান, নাসার Chandra X-ray Observatory-এর দীর্ঘদিনের সংরক্ষিত তথ্য বিশ্লেষণ করে ছয়টি গ্যালাক্সিতে মোট ৮৪টি HSS উৎস শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে পৃথিবীর নিকটতম বড় গ্যালাক্সি Andromeda (M31)-তে ২১টি এবং প্রায় ২ কোটি ১০ লাখ আলোকবর্ষ দূরের Pinwheel Galaxy (M101)-তে সাতটি HSS পাওয়া গেছে।

গবেষণার ফল আরও নির্ভরযোগ্য করতে নাসার Hubble Space Telescope এবং ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা ESA-এর XMM-Newton পর্যবেক্ষণের তথ্যও ব্যবহার করেছেন গবেষকেরা।

এতদিন অদৃশ্য ছিল কেন?

গবেষকদের মতে, HSS অত্যন্ত কম শক্তির এক্স-রে বিকিরণ করে। ফলে প্রচলিত পর্যবেক্ষণ পদ্ধতিতে এসব উৎস শনাক্ত করা কঠিন। ধারণা করা হচ্ছে, এগুলো বিপুল পরিমাণে Extreme Ultraviolet (EUV) বা চরম অতিবেগুনি রশ্মি নির্গত করে।

তবে পৃথিবী থেকে EUV সরাসরি শনাক্ত করা কঠিন। কারণ মিল্কিওয়ে ছায়াপথের আন্তঃনাক্ষত্রিক হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাস EUV বিকিরণের বড় অংশ শোষণ করে নেয়। তাই গবেষকেরা সরাসরি EUV শনাক্ত না করে এর সঙ্গে সম্পর্কিত ক্ষীণ ও কম শক্তির এক্স-রে বিকিরণ বিশ্লেষণ করে HSS-এর অস্তিত্ব শনাক্ত করেছেন।

HSS আসলে কী?

গবেষকদের ধারণা, HSS কোনো একক ধরনের মহাজাগতিক বস্তু নয়। এগুলো মূলত দ্বৈত নক্ষত্রব্যবস্থা, যেখানে দুটি ঘন নক্ষত্র পরস্পরকে কেন্দ্র করে ঘোরে। এসব ব্যবস্থায় শ্বেত বামন, নিউট্রন স্টার কিংবা কৃষ্ণগহ্বর থাকতে পারে।

এই আবিষ্কারের মাধ্যমে Type Ia Supernova-এর উৎস সম্পর্কে নতুন তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বিজ্ঞানীরা জানতে চেষ্টা করছেন, টাইপ Ia সুপারনোভা বিস্ফোরণের আগে সংশ্লিষ্ট নক্ষত্রব্যবস্থা কেমন থাকে। HSS-এর বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে নতুন পথ খুলে দিতে পারে।

এ ছাড়া HSS থেকে নির্গত শক্তিশালী EUV বিকিরণ গ্যালাক্সির আন্তঃনাক্ষত্রিক হাইড্রোজেন ও হিলিয়ামকে আয়নিত করতে ভূমিকা রাখতে পারে। ফলে গ্যালাক্সির গ্যাসের আয়নীকরণ প্রক্রিয়া বোঝার ক্ষেত্রেও গবেষণাটি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

আরও অনেক HSS-এর সন্ধান মিলতে পারে

মুস্তাফা মুহিবুল্লাহর মতে, এখন পর্যন্ত শনাক্ত হওয়া ৮৪টি HSS মহাবিশ্বে থাকা মোট সংখ্যার খুব সামান্য অংশ হতে পারে। ভবিষ্যতে আরও পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে অনেক নতুন HSS শনাক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এসব উৎসের বিস্তারিত গবেষণা মহাবিশ্বের অতিবেগুনি বিকিরণের উৎস, গ্যালাক্সির আন্তঃনাক্ষত্রিক গ্যাসের আয়নীকরণ এবং ঘন মহাজাগতিক বস্তুর বিবর্তন সম্পর্কে নতুন তথ্য দিতে পারে। পাশাপাশি Type Ia Supernova নিয়ে ভবিষ্যৎ গবেষণাতেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

কাপ্তাইয়ের কেপিএম স্কুলের সাবেক শিক্ষার্থী মুস্তাফা মুহিবুল্লাহর নেতৃত্বে এই আন্তর্জাতিক গবেষণা বাংলাদেশের তরুণদের মহাকাশ ও মৌলিক বিজ্ঞান গবেষণায় আগ্রহী হওয়ার জন্য একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

কালের আলো/এসএ

ডিসেম্বরেই সংবিধান সংশোধনের রিপোর্ট সংসদে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৫১ অপরাহ্ণ
ডিসেম্বরেই সংবিধান সংশোধনের রিপোর্ট সংসদে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির চূড়ান্ত রিপোর্ট জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সংবিধান সংশোধনের বিশেষ কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমদ। এরপর আলোচনা-পর্যালোচনার ভিত্তিতে সংবিধানের ১৮তম সংশোধনী বিল সংসদে আনা হবে বলে জানান তিনি।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে কমিটির দ্বিতীয় বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সালাহউদ্দিন আহমদ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংবিধান সংশোধনের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে প্রতি সপ্তাহে একটি করে বৈঠক করা হবে। ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ আলোচনা শেষ করে রিপোর্ট প্রণয়নের কাজ চূড়ান্ত করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তিনি জানান, কমিটির চূড়ান্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনী বিল সংসদে উপস্থাপন করা হবে।

২৬ দলের মধ্যে ১৫ দলের অংশগ্রহণ

কমিটির বৈঠকে রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘জুলাই জাতীয় সনদে’ স্বাক্ষরকারী ২৬টি রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। এর মধ্যে ১৫টি দল তাদের প্রতিনিধির মাধ্যমে সরাসরি বৈঠকে অংশ নিয়েছে। এবি পার্টি লিখিত বক্তব্য দিয়েছে।

জাতীয় গণফ্রন্টের নেতারা পারিবারিক অসুস্থতার কারণে শেষ মুহূর্তে বৈঠকে অংশ নিতে না পারলেও টেলিফোনে সমর্থন জানিয়েছেন। তবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি এখনো কমিটিতে অংশ নেয়নি বলে জানান তিনি।

অর্থবছর ও দ্বিকক্ষ সংসদ নিয়ে আলোচনা

সংবিধানের কাঠামোগত পরিবর্তনের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান শাসনব্যবস্থা, নির্বাচন, বিচার, জনপ্রশাসন ও পুলিশ ব্যবস্থায় সংস্কারের বিষয়ে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।

অর্থবছর পরিবর্তনের বিষয়টিও সংবিধান সংশোধনের আলোচনায় রয়েছে বলে জানান তিনি। উন্নয়ন প্রকল্প সুচারুভাবে বাস্তবায়ন ও অপচয় রোধে জুলাই-জুনের পরিবর্তে ১ এপ্রিল থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত অর্থবছর নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটি বাস্তবায়নে সংবিধানে পরিবর্তন প্রয়োজন হবে বলেও জানান তিনি।

এ ছাড়া ১০০ সদস্য নিয়ে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদের উচ্চকক্ষ গঠনের একটি রূপরেখার কথা তুলে ধরেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তার ভাষ্য অনুযায়ী, উচ্চকক্ষের সদস্যরা সরাসরি জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হবেন না; বরং সংসদে পাওয়া আসনের আনুপাতিক হারে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্টজনদের নিয়ে উচ্চকক্ষ গঠনের বিষয়ে অনেক দল একমত হয়েছে। তবে উচ্চকক্ষের সংবিধান সংশোধনের ক্ষমতা থাকবে না।

নোট অব ডিসেন্ট’ প্রসঙ্গ

জুলাই সনদে বিভিন্ন দলের দেওয়া ‘নোট অব ডিসেন্ট’ প্রসঙ্গে কমিটির সভাপতি বলেন, যেসব বিষয়ে ভিন্নমত ছিল, সেগুলো নির্বাচনী ইশতেহারে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে জনগণের ম্যান্ডেট নেওয়া হয়েছে। জনগণের ম্যান্ডেট ও প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এসব বিষয় বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানান তিনি।

সংস্কার নিয়ে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে আগ্রহী নয়—এমন প্রচারকে অসত্য বলে মন্তব্য করেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ যেভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে, সেটি সেভাবেই বাস্তবায়ন করা হবে।

ভবিষ্যতে সংশোধনী বাতিলের শঙ্কা নেই

সংবিধানের প্রস্তাবিত সংশোধনী ভবিষ্যতে আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধান কোনো চিরস্থায়ী অপরিবর্তনীয় গ্রন্থ নয়; সমাজের প্রয়োজন অনুযায়ী এতে পরিবর্তন আনা হয়।

তিনি বলেন, কোনো রাজনৈতিক দল জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে সরকার গঠন করে এবং সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলে জনগণের চাহিদা অনুযায়ী সংবিধানের বিধান পরিবর্তন করতে পারে।

বিরোধী দলগুলো সংসদে না থাকলেও সংবিধান সংশোধনী বিল উত্থাপনের সময় তারা সংসদে অংশ নেবে বলে আশা প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

কালের আলো/এমএসআইপি 

ঘরের বাজারের গ্রাহকদের তথ্য ডার্ক ওয়েবে, বাড়তে পারে প্রতারণার ঝুঁকি

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৪৭ অপরাহ্ণ
ঘরের বাজারের গ্রাহকদের তথ্য ডার্ক ওয়েবে, বাড়তে পারে প্রতারণার ঝুঁকি

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ঘরের বাজারের প্রায় ৬ লাখ ৬ হাজার গ্রাহকের তথ্য ডার্ক ওয়েবে বিক্রির বিজ্ঞাপন ঘিরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিজ্ঞাপনে গ্রাহকের নাম, মোবাইল নম্বর, ঠিকানা, অর্ডার ও ডেলিভারি তথ্যসহ বিভিন্ন ডাটার অ্যাকসেস থাকার দাবি করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপনের সঙ্গে থাকা একটি নমুনা ফাইলে প্রায় হাজারখানেক মোবাইল নম্বর পাওয়া যায়। এর মধ্যে কয়েকটি নম্বরে যোগাযোগ করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলা হলে তাঁরা নম্বরগুলো নিজেদের বলে নিশ্চিত করেন। তাঁদের কয়েকজন ঘরের বাজারের গ্রাহক হওয়ার বিষয়টিও জানিয়েছেন।

ডার্ক ওয়েবে দেওয়া বিজ্ঞাপনে ৪ দশমিক ১৫ গিগাবাইটের SQL ডাম্পে প্রায় ৪২ লাখ ৭০ হাজার রেকর্ড থাকার দাবি করা হয়েছে। এসব রেকর্ডের মধ্যে গ্রাহকের প্রোফাইল, ডেলিভারি ঠিকানা, অর্ডার, পণ্য, লজিস্টিকস এবং অভ্যন্তরীণ ব্যবসায়িক তথ্য থাকার কথা বলা হয়েছে। তবে এসব রেকর্ডের সংখ্যা ইউনিক গ্রাহকের সংখ্যা নয়।

ডিজিটাল ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা বলেন, প্রকাশিত তথ্য সত্য হলে গ্রাহকদের লক্ষ্য করে প্রতারণার সুযোগ তৈরি হতে পারে। অর্ডারের তথ্য ব্যবহার করে প্রতারকরা ভুয়া ডেলিভারি চার্জ, রিফান্ড বা পেমেন্টের কথা বলে টাকা চাইতে পারে। ফোন নম্বর ও অন্যান্য তথ্য ব্যবহার করে OTP বা অ্যাকাউন্ট রিকভারি প্রতারণার চেষ্টাও হতে পারে।

এ ধরনের তথ্য প্রতিষ্ঠানের প্রতিযোগী বা অপরাধী চক্রের হাতে গেলে ব্যবসায়িক ও গ্রাহক-সংক্রান্ত তথ্য অপব্যবহারের ঝুঁকিও রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত পাসওয়ার্ড, পেমেন্ট কার্ড বা জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য ফাঁস হয়েছে—এমন নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু ডার্ক ওয়েবের বিজ্ঞাপন দেখে তথ্য ফাঁসের প্রকৃত উৎস নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। কোন সিস্টেমে কীভাবে প্রবেশ করা হয়েছে, কখন প্রবেশ করা হয়েছে এবং কী পরিমাণ তথ্য বের করা হয়েছে—এসব জানতে পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ফরেনসিক তদন্ত প্রয়োজন।

এদিকে ঘরের বাজারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুস সাকিব দাবি করেছেন, প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব পর্যবেক্ষণ ও যাচাইয়ে গ্রাহকের তথ্য ফাঁসের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাঁর মতে, একটি প্রতারক চক্র ঘরের বাজারের নাম ব্যবহার করে গ্রাহকদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করতে পারে।

পুলিশও বিষয়টি বিভিন্ন অনলাইন ফোরাম ও গ্রুপে দেখেছে বলে জানিয়েছে। তবে ঘরের বাজারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ না পাওয়ায় এখনো কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

ফলে ডার্ক ওয়েবে দেওয়া বিজ্ঞাপনের দাবির সত্যতা, তথ্যের উৎস এবং প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ—এই তিনটি বিষয় এখনো পূর্ণাঙ্গ তদন্তের অপেক্ষায় রয়েছে।

কালের আলো/এসএ

এআইয়ের নতুন সক্ষমতায় চীনের জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৩৫ অপরাহ্ণ
এআইয়ের নতুন সক্ষমতায় চীনের জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের দ্রুত অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে এর সম্ভাব্য নিরাপত্তাঝুঁকি নিয়ে নতুন করে উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছে চীন। বিশেষ করে মানুষের সরাসরি নজরদারি ছাড়াই কাজ করতে সক্ষম এআই ব্যবস্থা এবং সাইবার হামলায় এর সম্ভাব্য ব্যবহারকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখছে বেইজিং।

এত দিন চীনের এআই নীতিতে ভুয়া ছবি ও ভিডিও, শিশুদের নিরাপত্তা এবং ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার মতো তুলনামূলকভাবে কাছাকাছি ঝুঁকি বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। তবে শক্তিশালী এআই মডেল দিয়ে সাইবার হামলা পরিচালনার সম্ভাবনা সামনে আসায় দেশটির উদ্বেগ এখন আরও বিস্তৃত হচ্ছে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার একদল প্রোগ্রামার এআই ব্যবহার করে একটি সাইবার হামলার ‘ওয়ার্ম’ তৈরির কথা জানিয়েছে। তাদের দাবি, এটি ছড়িয়ে দেওয়া হলে চীনের জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম উইচ্যাটের বিপুলসংখ্যক অ্যাকাউন্টে হামলা চালানো সম্ভব হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষের নজরদারি ছাড়াই সাইবার হামলা চালাতে সক্ষম এআই এজেন্ট তৈরি হলে তা চীনা সরকারের অন্যতম বড় উদ্বেগের কারণ হতে পারে। চীনের সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক সুন চেংহাও মনে করেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র এআইয়ের ঝুঁকি সম্পর্কে আরও বাস্তব ধারণা তৈরি করছে। ফলে ঝুঁকি মোকাবিলায় দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তাও বাড়ছে।

তবে এআই প্রযুক্তিতে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র প্রতিযোগিতা নিরাপত্তা সহযোগিতাকে কঠিন করে তুলতে পারে। বিশেষ করে এআই মডেলের নিরাপত্তা পরীক্ষা এবং বড় ধরনের সংকটের সময় দ্রুত সতর্কবার্তা দেওয়ার মতো ব্যবস্থায় দুই দেশের সমন্বয় বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

চীন ইতিমধ্যে এআই ব্যবহারে কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। এর মধ্যে অনুমতি ছাড়া কারও চেহারা বা পরিচয় ব্যবহার করে এআই-নির্মিত ছবি তৈরির ওপর নিষেধাজ্ঞাও রয়েছে। দেশটির এআই নীতিতে মানুষের দৈনন্দিন জীবনে প্রযুক্তির বর্তমান ক্ষতির বিষয়গুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এদিকে এআইয়ের সক্ষমতা দ্রুত বাড়তে থাকায় এর সম্ভাব্য অপব্যবহার নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, শক্তিশালী এআই মডেল ব্যবহার করে জটিল পাসওয়ার্ড, নিরাপত্তা কোডসহ গুরুত্বপূর্ণ সাইবার সুরক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে ফেলার চেষ্টা হতে পারে।

এমন পরিস্থিতিতে চীন ও যুক্তরাষ্ট্র—দুই দেশই এআই নিরাপত্তাকে আরও গুরুত্ব দিচ্ছে। একই সঙ্গে প্রযুক্তির উন্নয়ন অব্যাহত রাখার পাশাপাশি এর অপব্যবহার ঠেকাতে কার্যকর নিয়ম ও নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তাও সামনে আসছে।

কালের আলো/এসএ