খুঁজুন
                               
, ,
           

আওয়ামী লীগের কর্মসূচিকে গুরুত্ব দিচ্ছে না সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:২১ অপরাহ্ণ
আওয়ামী লীগের কর্মসূচিকে গুরুত্ব দিচ্ছে না সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের ককটেল বিস্ফোরণ, অগ্নিসংযোগসহ সাম্প্রতিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সরকার মোটেই শঙ্কিত নয় বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ এ ধরনের কর্মকাণ্ড আরও দুই বছর আগে থেকেই করে আসছে। তাই এসব ঘটনাকে সরকার খুব বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে না।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের আদালতের একটি রায়কে কেন্দ্র করে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ২০ সেপ্টেম্বর ‘লকডাউন’ কর্মসূচি দিয়েছে বলে তারা জানতে পেরেছেন। এ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে রাতের অন্ধকারে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রত্যেক আসামিকে মোটরসাইকেলসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। হাইকোর্টের ফটকের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িতদেরও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যাত্রাবাড়ীর ঘটনায়ও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বাসে অগ্নিসংযোগের বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, রাতে বিভিন্ন স্থানে পার্ক করে রাখা এবং চালক-হেলপারবিহীন বাসকে লক্ষ্য করে কয়েকটি অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করা হচ্ছে। শনাক্ত হওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ কর্মসূচি ও দেশে ফেরার বক্তব্য প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এসব বিষয়ে সরকার শঙ্কিত নয়। ‘লকডাউন’ কর্মসূচির কথা শোনা গেলেও বাস্তবে তা কতটা দৃশ্যমান হয়েছে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও গণহত্যার অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে জাতিসংঘের প্রতিবেদনে নিহতের সংখ্যা ১ হাজার ৪০০ বলা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। সরকারের হিসাবে এ সংখ্যা ২ হাজারের বেশি বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এসব ঘটনার জন্য আওয়ামী লীগ এখনো জাতির কাছে ক্ষমা চায়নি বা ভুল স্বীকার করেনি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিরোধী দলের লং মার্চের সুযোগ আওয়ামী লীগ নিচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিরোধী দল তাদের দাবিদাওয়া নিয়ে কর্মসূচি পালন করতেই পারে। এটি গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির অংশ। সরকারের দায়িত্ব এসব কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে পালনে সহযোগিতা করা।

চট্টগ্রাম, ঢাকা ও উত্তরাঞ্চলে বিরোধী দলের লং মার্চ শান্তিপূর্ণভাবে হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

নির্বাচন প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পাঁচ বছর পর বিধি ও নিয়ম অনুযায়ী গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচন হবে। তখন জনমত কার পক্ষে যায়, তা তখনই দেখা যাবে।

প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফরের সঙ্গে দেশের সাম্প্রতিক ঘটনাবলির কোনো সম্পর্ক নেই বলেও জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে যাচ্ছেন এবং সেখানে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য দেবেন।

বিরোধী দলের লং মার্চের কর্মসূচি আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের ককটেল বিস্ফোরণ ও অন্যান্য কর্মকাণ্ড আদালতের রায়ের প্রতিক্রিয়ায় দেওয়া কর্মসূচির অংশ বলে সরকারের কাছে মনে হয়েছে।

তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট সমাধানে বিরোধী দলের দাবির বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এসব বিষয় নিয়ে সংসদে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। বিরোধী ও সরকারি দলের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করে পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। তাঁর মতে, বিষয়টি সেখানেই শেষ হওয়া উচিত ছিল।

কালের আলো/এমএসআইপি 

হাসপাতালে ভর্তি অভিনেতা রিফাত চৌধুরী

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:১১ অপরাহ্ণ
হাসপাতালে ভর্তি অভিনেতা রিফাত চৌধুরী

শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আশির দশকের কবি ও অভিনেতা রিফাত চৌধুরী। সম্প্রতি তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালের নতুন ভবনের মেডিসিন ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরে নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন রিফাত চৌধুরী। তাঁর শারীরিক দুর্বলতা, অতিরিক্ত ক্লান্তি, শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা ও নিদ্রাহীনতার মতো সমস্যা দেখা দিয়েছে। এসব কারণে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তাঁর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চলছে।

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাঁর শারীরিক অবস্থার দিকে চিকিৎসকেরা নজর রাখছেন। দ্রুত সুস্থতার জন্য চিকিৎসা অব্যাহত রয়েছে।

পাঁচ শতাধিক নাটকে অভিনয়

দীর্ঘ অভিনয়জীবনে পাঁচ শতাধিক নাটকে অভিনয় করেছেন রিফাত চৌধুরী। মঞ্চ ও টেলিভিশনে তাঁর অভিনয় দর্শকের কাছে প্রশংসিত হয়েছে। ‘হাউসফুল’, ‘এইম ইন লাইফ’, ‘পাটিগণিত’, ‘ফোর টোয়েন্টি’, ‘সিক্সটি নাইন’, ‘বনমানুষ’, ‘বাইসাইকেল’, ‘৪২০’, ‘ক্যারাম’ ও ‘মুড়ির টিন’সহ বহু জনপ্রিয় নাটকে অভিনয় করেছেন তিনি।

বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে দীর্ঘ সময় ধরে দেশের নাট্যাঙ্গনে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন এই অভিনেতা। তাঁর অভিনীত বেশ কিছু নাটক দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তাও পেয়েছে।

কবি হিসেবেও পরিচিতি

অভিনয়ের পাশাপাশি কবি হিসেবেও রিফাত চৌধুরীর রয়েছে দীর্ঘ পথচলা। ১৯৮৪ সালে ‘আলিঙ্গনের নাম’ কবিতার মাধ্যমে তাঁর কবিতার জগতে প্রবেশ।

এরপর নিয়মিতভাবে কবিতা ও সাহিত্যচর্চা চালিয়ে গেছেন তিনি। এ পর্যন্ত তাঁর ২৯টি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে বলে জানা গেছে। অভিনয় ও কবিতা—দুই ক্ষেত্রেই দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করে আসছেন রিফাত চৌধুরী।

বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এই অভিনেতা দ্রুত সুস্থ হয়ে আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরবেন—এমন প্রত্যাশা তাঁর পরিবার, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের।

কালের আলো/এসএ

উত্তর কোরিয়ার ফের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৫৮ অপরাহ্ণ
উত্তর কোরিয়ার ফের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা

এক সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া। রোববার স্থানীয় সময় বিকেল ৩টার দিকে দেশটির পূর্ব উপকূলের ওনসান এলাকা থেকে সমুদ্রের দিকে ক্ষেপণাস্ত্রটি ছোড়া হয়।

দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ জানিয়েছে, এটি স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হয়ে থাকতে পারে। জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও উৎক্ষেপণ করা বস্তুটিকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বলে ধারণা করছে। জাপানের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকের তথ্য অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্রটি জাপানের একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলের বাইরে সমুদ্রে পড়েছে।

গত ১২ সেপ্টেম্বরের পর আবারও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালানোয় উত্তর কোরিয়ার নিন্দা জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ। পিয়ংইয়ংকে এমন পরীক্ষা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে সিউল।

এর আগে উত্তর কোরিয়া আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পারমাণবিক কর্মসূচি-সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের অংশগ্রহণে সামরিক মহড়ার সমালোচনা করেছে দেশটি।

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং অভিযোগ করেছেন, এসব সামরিক মহড়াই কোরীয় উপদ্বীপে উত্তেজনা বাড়াচ্ছে। একই সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্রভান্ডার শক্তিশালী করার নীতিতে পরিবর্তন আসবে না বলেও জানিয়েছেন তিনি।

ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা ও পাল্টাপাল্টি সামরিক মহড়াকে ঘিরে কোরীয় উপদ্বীপে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ছে।

সূত্র: রয়টার্স

কালের আলো/এসএ

অপ্রতিমকে কী কারণে হত্যা, বর্ণনা দিলো পুলিশ

কুমিল্লা প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৪৫ অপরাহ্ণ
অপ্রতিমকে কী কারণে হত্যা, বর্ণনা দিলো পুলিশ

কুমিল্লায় অপ্রতিম হত্যাকাণ্ড সারাদেশ নাড়িয়ে দিয়েছে। ১৩ বছর বয়সি এই কিশোরকে কেন এভাবে নৃশংসভাবে হত্যা করা হলো, সেই রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। অপ্রতিমের হাতে থাকা আইফোনটি ছিনিয়ে নিতেই তাকে মেরে ফেলা হয় বলে জানানো হয়েছে।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়া ২টার দিকে সংবাদ সম্মেলনে এমন তথ্যই জানিয়েছেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান।

তিনি জানিয়েছেন, অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে এখন পর্যন্ত তুহিন, ফাহাদ, কামরুল এবং সিয়াম নামে চার যুবককে আটক করা হয়েছে। তারা সবাই হত্যার দায় স্বীকার করেছেন।

পুলিশ সুপার বলেন, তদন্তের অংশ হিসেবে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে প্রাথমিকভাবে আমরা নিশ্চিত হই যে, গত ১৮ সেপ্টেম্বর আনুমানিক দুপুর ২টা থেকে সোয়া ২টার মধ্যে তুহিন অপ্রতিমকে সঙ্গে নিয়ে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা নামক স্থানে চারপাশে পাহাড়ঘেরা নির্জন জঙ্গলের ভিতরে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের পর আমরা সিসিটিভি ফুটেজ দেখি এবং পর্যালোচনা করি। এতে অপ্রতিমের সঙ্গে থাকা তুহিনকে এই মৃত্যুসংবাদ প্রাপ্তির পূর্বেই আমরা হেফাজতে নিই।

তিনি আরও বলেন, একটানা জিজ্ঞাসাবাদে তুহিন আমাদের কাছে স্বীকার করে যে, অপ্রতিমের মোবাইল আইফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই পরিকল্পনা করে সে তাকে উক্ত নির্জন ঘটনাস্থলে নিয়ে যায়। তুহিন আরও জানায়, এই ঘটনায় ফাহাদ এবং ফাহাদের এক বন্ধু জড়িত ছিল। তার স্বীকারোক্তি মোতাবেক আমরা তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান পরিচালনা করি এবং ফাহাদকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করি। জিজ্ঞাসাবাদে ফাহাদ জানায়, এই হত্যাকাণ্ডের সাথে তার আরেক বন্ধু কামরুল জড়িত। ফাহাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আমরা তাকে হেফাজতে নিই।

আইফোন উদ্ধার প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার বলেন, তুহিনের দেওয়া তথ্য ও দেখানো মতে আমরা প্রথমে আইফোনটির জন্য তিন জায়গায় অভিযান পরিচালনা করি। সে মিসগাইড করেছিল, কোথাও পাওয়া যায়নি। অবশেষে তার স্বীকারোক্তি এবং তার দেখানো মতে তার বাসার ভিতরে অভিযান পরিচালনা করে তার তোশকের নিচ থেকে আইফোনটি আমরা উদ্ধার করতে সক্ষম হই।

হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, প্রাথমিকভাবে আমরা জানতে পেরেছি যে, ঘটনার দিন বিকেল ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে সানন্দা নামক স্থানে চারপাশে পাহাড়ঘেরা নির্জন বনের ভেতরে অপ্রতিমের যে আইফোনটি ছিল সেটি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে অপ্রতিম বাধা দেয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। তখন ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের শক্ত লাঠি দিয়ে অপ্রতিমের মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করে। এক পর্যায়ে অপ্রতিমের মৃত্যু নিশ্চিত হলে আইফোনটি নিয়ে পালিয়ে যায়।

তিনি বলেন, আমরা সিয়াম নামে আরেকজনকে আটক করেছি। তার বিরুদ্ধে প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই করছি। আমরা ইতোমধ্যে ঘটনার সঙ্গে জড়িত তুহিন, ফাহাদ ও কামরুলকে এই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার করেছি। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য বিষয় এবং অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত চলমান রেখেছি।

বিচার প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার বলেন, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুতই পুলিশ প্রতিবেদন বা চার্জশিট বিজ্ঞ আদালতে দাখিল করা হবে। রামিসা হত্যার মামলায় যেমন দ্রুত রায় এসেছে, এই মামলাটির জন্যও দ্রুত আমরা বিজ্ঞ আদালতের কাছে আবেদন রাখবো।

নিহত অপ্রতিম ও আসামি তুহিনের বয়স প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখানে একটি বিষয় উল্লেখ করতে চাই, তার (অপ্রতিম) বয়স ১৩, আর আসামি সাইফুল ইসলাম তুহিন, তার বয়স ১৯। সে কুমিল্লা সিটি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ফেল করে ২০২৫ সালে ড্রপআউট হয়।

পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, ‘আমরা ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটন করেছি, মূল আসামিকে গ্রেফতার করেছি এবং যে আইফোনটির কারণে হত্যাকাণ্ড, সেই আইফোনটিও আমরা আসামির দেখানো মতে তার বাসা থেকে উদ্ধার করেছি। আমরা বাকি তদন্ত কাজ শেষ করে দ্রুত বিজ্ঞ আদালতে এই মামলার পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল করব।’

এর আগে গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকা থেকে ১৩ বছর বয়সি কিশোর অপ্রতিম নিখোঁজ হয়। পরদিন (শনিবার) বেলা ১১টার পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন সামাজিক বনায়ন এলাকা থেকে তার মরদেহ করে পুলিশ।

নিহত অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান। প্রিয় সন্তানকে হারিয়ে বর্তমানে পাগলপ্রায় ওই কিশোরের মা-বাবা।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ