খুঁজুন
                               
, ,
           

নৌবহরে যুক্ত হলো এলসিটি-১০১, সুষ্ঠু নির্বাচনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত নৌবাহিনী 

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ৭:৩৯ অপরাহ্ণ
নৌবহরে যুক্ত হলো এলসিটি-১০১, সুষ্ঠু নির্বাচনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত নৌবাহিনী 

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:

এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে দেশের ভবিষ্যৎ। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন করতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পাশাপাশি গুরুদায়িত্ব রয়েছে দেশপ্রেমী সশস্ত্র বাহিনীরও। ভোটে ম্যাজেষ্ট্রেসি ক্ষমতা নিয়ে মাঠে থাকবে তাঁরা। বড় এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে নিজের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান। নির্বাচন নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই জানিয়ে নির্ধারিত সময়েই অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুরে খুলনা শিপইয়ার্ডে নির্মিত এলসিটি-১০১ এর লঞ্চিং অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, ‘একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করার জন্য সব ধরনের চ্যালেঞ্জ আমরা মোকবিলা করবো। সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিটি সদস্য আন্তরিকতার সঙ্গে তাদের দায়িত্ব পালন করবে।’ নৌবাহিনী প্রধান জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে দেশের ১৯টি উপকূলীয় জেলায় নৌ বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। নির্বাচন কেন্দ্র করে নিরাপত্তা জোরদার ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এই মোতায়েন কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও মনে করেন তিনি।

নৌবাহিনী প্রধান বলেন, সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নির্বাচন উপলক্ষে নৌবাহিনী সদস্যরা উপকূলীয় এলাকাগুলোতে দায়িত্ব পালন করবেন। বিশেষ করে খুলনা, চট্টগ্রাম ও দেশের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় জেলাগুলোতে নৌবাহিনীর সদস্যদের সক্রিয় উপস্থিতি থাকবে।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে গণতান্ত্রিক রূপান্তরের জন্য একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সুষ্ঠু এই নির্বাচনের মাধ্যমেই কেবল বাংলাদেশ তার ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পারবে। তবে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে অবৈধ ও লুট হওয়া আগ্নেয়াস্ত্র নিরাপত্তার জন্য দীর্ঘস্থায়ী হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। এসব লুট হওয়া আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারে জোরালো অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুরে খুলনা শিপইয়ার্ডে নির্মিত এলসিটি-১০১ এর লঞ্চিং অনুষ্ঠানে এ বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হয় নৌবাহিনী প্রধানের কাছে। এ সময় নৌবাহিনী প্রধান দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, ‘অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য লুণ্ঠিত ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সশস্ত্র বাহিনী যথাযথ ভূমিকা পালন করবে।’

বর্তমানে সশস্ত্র বাহিনীর মূল কর্মকাণ্ড নির্বাচনকেন্দ্রিক জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচনকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে অবৈধ অস্ত্রের বিষয়টি চিহ্নিত করা হয়েছে। তিনি জানান, নির্বাচনী প্রচার শুরুর আগেই অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নৌবাহিনীর পূর্ণ ফোর্স মোতায়েন সম্পন্ন হবে এবং তখন থেকেই বিশেষ অভিযান শুরু হবে।

নিজস্ব প্রযুক্তিতে নির্মিত এলসিটি-১০১ যুক্ত নৌবহরে 

নৌবাহিনীর আধুনিকায়ন এবং নৌবহরের ত্রিমাত্রিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড ৩টি ল্যান্ডিং ক্রাফট ট্যাংক (এলসিটি) নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করে। এরই ধারাবাহিকতায় খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেডে নির্মিত ল্যান্ডিং ক্রাফট ট্যাংক (এলসিটি)-১০১ এর লঞ্চিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। এদিন খুলনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান প্রধান অতিথি হিসেবে এলসিটির উদ্বোধন করেন। উপকূলীয় ও এফিবিয়াস অপারেশনের পাশাপাশি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও মানবিক সহায়তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এলসিটি–১০১।

এটি একযোগে ৬টি ট্যাংক অথবা ১২টি এপিসি কিংবা ১৮টি সামরিক যান বহনে সক্ষম। উপকূলীয় ও দ্বীপাঞ্চলে সেনাবাহিনীর ট্যাংক, আর্টিলারি কামান, এপিসি ও অন্যান্য ভারী সরঞ্জাম দ্রুত ও নিরাপদে স্থানান্তরে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে অনুষ্ঠানে জানান নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান।

রূপসা নদীর তীরে অবস্থিত খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড একটি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত জাহাজ নির্মাণ প্রতিষ্ঠান। এটি নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়ে যুদ্ধজাহাজ ও বাণিজ্যিক জাহাজ নির্মাণে উল্লেখযোগ্য সক্ষমতা অর্জন করেছে। আইএসও নির্দেশনা অনুসরণ, আন্তর্জাতিক ক্লাসিফিকেশন সোসাইটির তত্ত্বাবধান, আধুনিক অবকাঠামো ও দক্ষ জনবলের মাধ্যমে খুলনা শিপইয়ার্ড এখন দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পে একটি আস্থার নাম। নিজস্ব সক্ষমতায় এলসিটি নির্মাণের এই সাফল্য বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অপারেশনাল শক্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের জাহাজ নির্মাণ শিল্পের প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের এক সুস্পষ্ট প্রমাণ বলেও মন্তব্য করেন এডমিরাল এম নাজমুল হাসান।

সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে নিহম গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে 

দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে নেভি ইনস্টিটিউট অব হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট (নিহম) গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) খুলনায় নেভি ইনস্টিটিউট অব হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট (নিহম)-এর উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন।

জানা যায়, খুলনা শহর থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দক্ষিণে খান জাহান আলী সেতুর (রূপসা সেতু) সন্নিকটে লবণচরা এলাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রশিক্ষণ ঘাঁটি ‘স্কুল অব লজিস্টিক্স অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট’ প্রাঙ্গণে মনোরম পরিবেশে গড়ে উঠেছে আধুনিক মানের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নিহম। এটি নৌ কল্যাণ ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত একটি পেশাদার প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান যা অভিজ্ঞ ও অধুনিক প্রশিক্ষণ সুবিধার মাধ্যমে ন্যাশনাল স্কিল ডেভেলপমেন্ট অথোরিটি (এনএসডিএ) এর নীতিমালা ও মানদন্ড অনুসরণ পরিচালিত হবে।

নিহম এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান বলেন, ‘হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট খাতে নারী ও পুরুষ প্রশিক্ষণার্থীদের দক্ষ মানবসম্পদ ও কর্মসংস্থানের উপযোগী হিসেবে তৈরি করা এবং একই সঙ্গে প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলা, কর্মদক্ষতা, নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধ গড়ে তোলাই নিহম এর মূল লক্ষ্য। উন্নতমানের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পেশাদার জনশক্তি গড়ে তোলার পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে নিহম গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতিষ্ঠানটিতে প্রাথমিকভাবে এনএসডিএ অনুমোদিত বেকারি ও পেস্ট্রি প্রোডাকশন, ফুড অ্যান্ড বেভারেজ প্রোডাকশন এবং ফুড অ্যান্ড বেভারেজ সার্ভিস ইত্যাদি বিষয়ে আধুনিক ও মানসম্মত তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। প্রশিক্ষণের উন্নত মান নিশ্চিত করতে দক্ষ প্রশিক্ষক ও শেফের পাশাপাশি আধুনিক অবকাঠামো, উন্নত ক্লাসরুম, সুসজ্জিত কিচেন, আবাসন ব্যবস্থাসহ প্রয়োজনীয় সকল সুবিধা বিদ্যমান রয়েছে। এছাড়াও, নারী ও পুরুষ প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য শতভাগ আবাসন সুবিধাসহ পৃথক একটি স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত নিহম বর্তমানে এনএসডিএ অনুমোদিত তিনটি কোর্স নিয়ে কার্যক্রম শুরু করলেও ভবিষ্যতে কোর্স সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। নৌবাহিনীর শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বের সমন্বয়ে হসপিটালিটি ও ম্যানেজমেন্ট খাতে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন দক্ষ জনবল তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

কালের আলো/এমএএএমকে

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আইওএমের চিফ অব মিশনের সাক্ষাৎ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ৬:৫৯ অপরাহ্ণ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আইওএমের চিফ অব মিশনের সাক্ষাৎ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার বাংলাদেশে নবনিযুক্ত চিফ অব মিশন ড. লরা টম-বন্ড সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তার অফিসকক্ষে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে আইওএমের সঙ্গে দুই দশকের দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্ব জোরদার, জাতীয় মানবপাচার বিরোধী প্রচেষ্টা শক্তিশালীকরণ, সাইবার প্রযুক্তিনির্ভর মানবপাচার রোধ, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, ইত্যাদি বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

আইওএম মিশন প্রধান জানান, সংস্থাটির ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল (ডিডিজি) উগোচি ড্যানিয়েল আগামী ১ থেকে ৫ আগস্ট ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত বাংলাদেশ সফর করবেন। তিনি উগোচি ড্যানিয়েলের বাংলাদেশ সফর উপলক্ষ্যে আগামী ০৪ আগস্ট ইউএন হাউজ বাংলাদেশে আয়োজিত বিশেষ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্য মন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানান।

মন্ত্রী নবনিযুক্ত চিফ অব মিশনকে বাংলাদেশে স্বাগত জানান এবং মানবপাচার প্রতিরোধ, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা আধুনিকীকরণ, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বিকাশ ও নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিতকরণে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সার্বিক দিকনির্দেশনা ও পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং আইওএম-এর যৌথ উদ্যোগে প্রণীত ‘সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা’ (ইন্টিগ্রেটেড বর্ডার ম্যানেজম্যান্ট) কৌশলের জাতীয় বৈধকরণ কাজ প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানোয় সন্তোষ প্রকাশ করা হয়। একইসঙ্গে বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনীর বিশেষ শাখাসহ অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদানে আইওএম-এর অঙ্গীকার পুনর্নিশ্চিত করা হয়।

তাছাড়া বৈঠকে বাংলাদেশে মানবপাচার প্রতিরোধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মূল ভূমিকা এবং আইওএমের কারিগরি সহায়তা নিয়ে আলোচনা হয়। আইওএমের পক্ষ থেকে নীতি সহায়তা, বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ, গবেষণা, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক তহবিল সংগ্রহের প্রতিশ্রুতি পুনরায় ব্যক্ত করা হয়।

উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার বাংলাদেশ মিশনের প্রধান হিসেবে নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পর ড. লরা টম-বন্ডেএর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এটিই প্রথম দ্বিপাক্ষিক বৈঠক।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান, আইওএম’র ন্যাশনাল কনসালটেন্ট (গভর্মেন্ট) ড. এস এম মোরশেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসএকে

ইলিয়াস আলী গুম-হত্যায় সম্পৃক্ততা: বিমান বাহিনীর হেফাজতে উইং কমান্ডার সাইফুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ৬:৪১ অপরাহ্ণ
ইলিয়াস আলী গুম-হত্যায় সম্পৃক্ততা: বিমান বাহিনীর হেফাজতে উইং কমান্ডার সাইফুর রহমান

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সাবেক সাংসদ এম ইলিয়াস আলীকে অপহরণ (গুম) ও হত্যার ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর উইং কমান্ডার মো. সাইফুর রহমানকে বিমান বাহিনীর যথাযথ কর্তৃপক্ষের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) এক ফেসবুক পোস্টে এ তথ্য জানান প্রবাসী সাংবাদিক জুলকারনাইন খান সায়ের।

পোস্টে জুলকারনাইন সায়ের লিখেছেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সাবেক সংসদ সদস্য এম ইলিয়াস আলীকে বলপূর্বক অপহরণ (গুম) ও হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর উইং কমান্ডার মো. সাইফুর রহমানকে বিমান বাহিনীর যথাযথ কর্তৃপক্ষের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

গত ২১ জুন ২০২৬ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শতাধিক গুম-খুনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ওয়ারেন্ট অফিসার ইমরুল কায়েসের জবানবন্দিতে বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর গুম ও খুনের ঘটনায় এই বিমান বাহিনীর কর্মকর্তার জড়িত থাকার বিষয়টি উঠে আসে।

উইং কমান্ডার মো. সাইফুর রহমান (তৎকালীন স্কোয়াড্রন লিডার) সে সময় র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) ইন্টেলিজেন্স উইংয়ে কর্মরত ছিলেন। তিনি সেনাবাহিনীর সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদের মেয়ের জামাতা।

বিমান বাহিনী কর্তৃপক্ষের বরাতে তার আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলা হয়েছে, দেশের প্রচলিত আইনে তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

রাজশাহীতে পদ্মায় নৌকাডুবিতে সন্ধান মেলেনি বাবা-ছেলের

রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ৬:৪০ অপরাহ্ণ
রাজশাহীতে পদ্মায় নৌকাডুবিতে সন্ধান মেলেনি বাবা-ছেলের

রাজশাহীর পদ্মা নদীতে ইঞ্জিনচালিত একটি নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ছয়জন যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও বাবা ও ছেলের সন্ধান মেলেনি। তারা  নিখোঁজ রয়েছেন। মঙ্গলবার বেলা ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে নগরের বড়কুঠি এলাকায় পদ্মা নদীর মাঝামাঝি স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিখোঁজ দু’জন হলেন- আফছার আলী (৬০) ও তার ছেলে জিয়ারুল হক (৪০)। তাদের বাড়ি রাজশাহীর কাটাখালী থানার শ্যামপুর বালুরঘাট এলাকায়। এই নৌকায় জিয়ারুলের মা জাহেরা বেগমও (৫৫) ছিলেন। নৌকা ডুবে গেলে তিনি ভেসে যাচ্ছিলেন। তখন নৌকা নিয়ে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করেন। একইভাবে আরও পাঁচজনকে উদ্ধার করে তীরে নেওয়া হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের জানান, রাজশাহীর চর মাজারদিয়া এলাকা থেকে ঝাউগাছ কেটে নৌকায় নিয়ে আসছিলেন ৮ জন যাত্রী। নৌকাটি মাঝনদীতে পৌঁছালে অতিরিক্ত ঢেউয়ের কবলে পড়ে। একপর্যায়ে নৌকাটি পানিতে তলিয়ে যায়।

নৌকাটি ডুবতে দেখে পদ্মা গার্ডেন এলাকায় নদীর তীরে অপেক্ষমান অন্যান্য নৌকার মাঝি এবং স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা দ্রুত উদ্ধারে এগিয়ে আসেন। তাদের তাৎক্ষণিক সহায়তায় পানিতে হাবুডুবু খেতে থাকা ৮ যাত্রীর মধ্যে ৬ জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তবে মুহূর্তের মধ্যেই নদীর স্রোতে তলিয়ে যান আফছার আলী ও তার ছেলে জিয়ারুল।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। বিকেল ৪টায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নিখোঁজ বাবা-ছেলে এবং নৌকার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের সদস্যরা পদ্মা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেখেছেন।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের রাজশাহী সদর স্টেশনের উপ-পরিচালক মনজিল হক বলেন, নিখোঁজ দু’জনকে উদ্ধারে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমাদের ছয়জন ডুবুরি আছেন। দু’জন দু’জন করে তারা পানির নিচে গিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছেন। পাশাপাশি নৌকা নিয়েও নদীতে চোখ রাখা হচ্ছে। দু’জনকে উদ্ধার করতে সন্ধ্যা পর্যন্ত তাদের অভিযান চলবে বলেও তিনি জানান।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি