খুঁজুন
                               
, ,
           

সংসদীয় গণতন্ত্রে নতুন সূর্যোদয়, নির্বাসন থেকে রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমান

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:১৫ অপরাহ্ণ
সংসদীয় গণতন্ত্রে নতুন সূর্যোদয়, নির্বাসন থেকে রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমান

মো.শামসুল আলম খান, কালের আলো:

দলীয় রাজনীতির ভেতরের প্রথম পাঠ নিয়েছিলেন তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মমতাময়ী মা বেগম খালেদা জিয়ার কাছ থেকেই। ১৯৮৮ সালে বগুড়ার গাবতলী থেকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদ নিয়ে আনুষ্ঠানিক রাজনীতিতে প্রবেশ করেছিলেন। কৈশোরে পিতৃহত্যা, যৌবনে কারাবাস, সেখান থেকে দীর্ঘ নির্বাসন অত:পর দেশে ফেরা, মাকে হারানোর শোক বুকে চাপা দিয়ে দলকে নেতৃত্বে দিয়ে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয়। এরপর দেশের হাল ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে। নির্বাসন থেকে রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমান আজ দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী। ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে তাঁর অবস্থান। মায়ের পথ অনুসরণ করে, কিন্তু নিজের অভিজ্ঞতার আলোয় গড়া এক ভিন্ন অধ্যায়ের সূচনা করলেন তিনি। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের এক নতুন সূর্যোদয় ঘটেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

তারেক রহমানের যাত্রা কেবল ব্যক্তিগত উত্থান-পতনের গল্প নয়। এটি বাংলাদেশের রাজনীতিরই প্রতিচ্ছবি-যেখানে শোক শক্তিতে রূপ নেয়, নির্বাসন প্রত্যাবর্তনের স্বপ্ন জাগায়, আর ইতিহাস কখনও সরলরেখায় এগোয় না। নির্বাসন থেকে রাষ্ট্রক্ষমতার দোরগোড়ায়-এই পথচলা প্রমাণ করে, রাজনৈতিক জীবনে শেষ শব্দ বলে কিছু নেই। কখনও কখনও দীর্ঘতম রাতের পরই ভোর সবচেয়ে উজ্জ্বল হয়। দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে যে কোনো সিদ্ধান্ত বা পরিবর্তন সরাসরি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সাম্প্রতিক অধ্যায় নতুন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। ১৭ বছর নির্বাসিত জীবন পার করে দেশে ফেরার মাত্র ১ মাস ২৫ দিন পরই দলের চেয়ারপারসন তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী পদে অভিষিক্ত হয়েছেন, যা রাজনৈতিক মহলের চোখে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার নতুন সূচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

স্বৈরশাসনবিরোধী আন্দোলনে মায়ের সঙ্গে রাজপথে সক্রিয় হন তারেক রহমান। ১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থানের পর গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে বিএনপির পুনরুত্থানের সময় তিনি সংগঠনের তৃণমূলে কাজ করেন। ২০০১ সালের নির্বাচনের আগে স্থানীয় সমস্যা ও সুশাসন নিয়ে গবেষণার জন্য ঢাকায় একটি রাজনৈতিক অফিস স্থাপন করেন; যা পরে ‘হাওয়া ভবন’ নামে পরিচিত হয়। বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকার গঠনের পর আনুষ্ঠানিক পদে না থাকলেও তিনি হয়ে ওঠেন দলের সবচেয়ে প্রভাবশালী সংগঠক। ২০০২ সালে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব পদে উন্নীত হন। সমর্থকেরা বলেন, তিনি ছিলেন আধুনিক সাংগঠনিক রাজনীতির স্থপতি; সমালোচকেরা বলেন, ‘ক্ষমতার অদৃশ্য কেন্দ্র’। এই দ্বৈত ভাবমূর্তিই তার রাজনৈতিক জীবনের প্রাথমিক পরিচয় তৈরি করে।

২০০৭ সালে জরুরি অবস্থার সময় দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার হন তারেক রহমান। একাধিক মামলায় অভিযুক্ত হয়ে কারাবন্দি হন। বিএনপি অভিযোগ করে, রিমান্ডে নির্যাতনে তার শারীরিক অবস্থা ভেঙে পড়ে। ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে জামিনে মুক্তি পেয়ে স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমাকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান, যা পরিণত হয় প্রায় ১৭ বছরের নির্বাসনে। এ সময়ে দেশে বিএনপি পড়ে ইতিহাসের অন্যতম দুঃসময়ে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের কাছে পরাজয়, আন্দোলনে দমন-পীড়ন, খালেদা জিয়ার কারাবাস; সব মিলিয়ে দলটি কার্যত নেতৃত্বহীন হয়ে পড়ে। সেই শূন্যতা পূরণ করেন লন্ডনে অবস্থানরত তারেক রহমানই। ভিডিও কনফারেন্সে বৈঠক, নির্দেশনা ও বক্তব্য দিয়ে তিনি দূর থেকেই দল পরিচালনা করেন। ২০১৮ সালে খালেদা জিয়া কারাবন্দি হলে তিনি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হন। নির্বাসনেই থেকে বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামো ধরে রাখেন; যা পরে তার প্রত্যাবর্তনের রাজনৈতিক ভিত্তি তৈরি করে।

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে দীর্ঘদিনের ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন এবং নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়। মামলার সাজা বাতিল ও আইনি বাধা দূর হলে দেশে ফেরার পথ খুলে যায় তারেক রহমানের। ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর ঢাকায় ফেরেন তিনি লাখো কর্মী-সমর্থকের অভ্যর্থনায়। সেদিন রাজধানীতে লাখ লাখ মানুষের উপস্থিতি যেন জানিয়ে দেয়-নির্বাসনের অধ্যায় শেষ, শুরু নতুন পথচলা। কিন্তু নির্মম নিয়তি আবারও আঘাত হানে। দেশে ফেরার মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় মারা যান খালেদা জিয়া। একদিকে মায়ের শোক, অন্যদিকে দলের পূর্ণ দায়িত্ব-দুইয়ের ভার কাঁধে নিয়ে তিনি সামনে এগিয়ে যান। শোক ও দায়িত্ব একসঙ্গে কাঁধে নিয়ে ৯ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির চেয়ারম্যান হন তিনি।

নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পর বিএনপির সাংগঠনিক ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত সিলেট থেকে তারেক রহমান জাতীয় সংসদ নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন। পরে তিনি বিভিন্ন বিভাগ ও জেলায় জনসভায় অংশ নেন। নির্বাচনের দুই দিন আগে রাজধানীতে ১৪টি পথসভায় অংশ নিয়ে সরাসরি ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। প্রচারপর্বে তিনি ধর্ম, দল ও মত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং স্থানীয় সমস্যা ও প্রত্যাশা শোনেন। দলীয় নেতারা দাবি করেন, এই সরাসরি যোগাযোগ ভোটারদের মধ্যে আস্থা সৃষ্টি করে এবং নির্বাচনে বিএনপির পক্ষে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ২৯৭ আসনের মধ্যে ২১২টি আসনে জয় পায়, যা দলটির জন্য নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করে। এই প্রথম তারেক রহমানের নেতৃত্বে জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেয় দলটি। তিনি ঢাকা ও বগুড়ার দুটি আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের প্রধান হিসেবে তিনিই প্রধানমন্ত্রী পদে বসছেন।

 

নির্বাচনের ফলাফলের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন ও গেজেট প্রকাশের পর মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নেন। সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ান প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান এবং মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হয়। এ অনুষ্ঠানে শপথ বাক্য পাঠ করান দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন। সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন সরকারের শপথ আয়োজন এই প্রথম। এর মধ্য দিয়ে নতুন সরকারের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। এক পরিবারের তিন সদস্য রাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায়ে দায়িত্ব নেওয়ার ঘটনাটি রাজনৈতিক অঙ্গনে বিশেষভাবে আলোচিত হচ্ছে। আগামী পাঁচ বছরের জন্য তিনি দেশের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবেন। তার নেতৃত্বে সংসদ সদস্য এবং মন্ত্রিপরিষদ সদস্যরা সরকারের কার্যক্রম পরিচালনা করবেন জুলাই যোদ্ধাদের হাতে গড়ে উঠা নতুন বাংলাদেশকে। দীর্ঘ রাজনৈতিক টানাপোড়েন, প্রবাসে নেতৃত্ব, সাংগঠনিক পুনর্গঠন এবং নির্বাচনী বিজয়; সব মিলিয়ে তারেক রহমারের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন দেশের নজর থাকবে নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়ন এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় তার নেতৃত্ব কতটা কার্যকর হয়, তার দিকে।

নির্বাচন জয়ের পর প্রথম বক্তব্যে তারেক রহমান জানান, দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাই হবে সরকারের মূল লক্ষ্য। প্রতিশোধের রাজনীতি নয়; ন্যায়পরায়ণতা ও জবাবদিহিতার রাষ্ট্র গড়ার আহ্বান জানান তিনি। তার ভাষায়, ‘আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা না গেলে আমাদের সব চেষ্টা ব্যর্থ হবে। সরকারি-বিরোধী সব নাগরিকের জন্য আইন সমান। নির্বাচনকালীন বিরোধ যেন প্রতিহিংসায় না রূপ নেয়, এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।’

নির্বাচনের আগে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম রয়টার্সকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান বলেন, ‘প্রতিশোধ দিয়ে ভালো কিছু আসে না। এখন দেশের জন্য প্রয়োজন শান্তি ও স্থিতিশীলতা।’ তিনি ভিন্নমত ও ভিন্ন দলের সহযোগিতা কামনা করে বলেন, ‘গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ের মতোই এবার দুর্নীতি দমন ও জবাবদিহিমূলক শাসন প্রতিষ্ঠায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।’ দেশে ফেরার পর বাসের ভেতর থেকে সড়কজুড়ে ভিড় করা জনতার উদ্দেশে তারেক রহমানের হাত নাড়ার দৃশ্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও জায়গা করে নেয় ।

নির্বাসন থেকে রাষ্ট্রক্ষমতায় তারেক রহমানের এই যাত্রা প্রমাণ করে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে শেষ বলে কিছু নেই। কখনও কখনও দীর্ঘতম রাতের পরই সবচেয়ে উজ্জ্বল ভোর আসে। তিনিই এখন বাংলাদেশের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী। যার শপথ হয়ে গেলো ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬। ইতিহাসে অবিস্মরণীয় একদিন।

কালের আলো/এমএসএকে

 

কাবার নগরী মক্কায় অবরোধ, হামলা ও সংঘাতের ইতিহাস

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:১৭ পূর্বাহ্ণ
কাবার নগরী মক্কায় অবরোধ, হামলা ও সংঘাতের ইতিহাস

১৯৫৪ সালে পবিত্র কাবা তাওয়াফের একটি দৃশ্য, ছবি : সংগৃহীত

মুসলমানদের পবিত্রতম নগরী মক্কা। কাবাঘর ও মসজিদুল হারামকে ঘিরে গড়ে ওঠা এই শহর শুধু ধর্মীয় বিশ্বাসের কেন্দ্র নয়, ইতিহাসের নানা বাঁকে রাজনৈতিক সংঘাত ও সামরিক সহিংসতারও সাক্ষী। সর্বশেষ সেই দীর্ঘ ইতিহাসে যুক্ত হয়েছে সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুতিদের সংঘাত। সৌদি আরবের দাবি, হুতিদের পাঠানো একটি ড্রোন মক্কার দিকে এগোচ্ছিল। মঙ্গলবার মক্কার দক্ষিণে সেটি শনাক্ত করে ধ্বংস করা হয় এবং পবিত্র নগরীর আকাশসীমায় ঢোকার আগেই ড্রোনটি ভূপাতিত করা হয়েছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছে হুতিরা। ফলে নতুন এই ঘটনাটি একদিকে সৌদি নিরাপত্তাব্যবস্থার সামনে চ্যালেঞ্জ, অন্যদিকে মক্কাকে ঘিরে অতীতের সংঘাতের স্মৃতিও সামনে এনেছে।

  • ৬৮৩-এর অবরোধ থেকে ১৯৭৯-এর মসজিদুল হারাম দখল
  • ২০১৭-এর ক্ষেপণাস্ত্র দাবি পেরিয়ে এবার ড্রোনের অভিযোগ
  • হুতিদের ড্রোন ধ্বংসের দাবি সৌদির, অস্বীকার হুতিদের 

অবরোধে ক্ষতিগ্রস্ত কাবা
মক্কায় রাজনৈতিক সংঘাতের ইতিহাস বহু পুরোনো। দ্বিতীয় ফিতনার সময় ৬৮৩ সালে উমাইয়া বাহিনী মক্কা অবরোধ করে। সংঘাতের মধ্যে কাবাঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে ৬৯২ সালেও আল-হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফের বাহিনী মক্কা অবরোধ করে এবং কাবাকে ঘিরে লড়াই হয়। সৌদিপিডিয়ার তথ্যেও ওই সময় কাবার ক্ষয়ক্ষতির উল্লেখ রয়েছে। এর প্রায় আড়াই শতাব্দী পর ৯২৯/৯৩০ সালে কারমাতিদের হামলা মক্কার ইতিহাসে আরও ভয়াবহ অধ্যায় তৈরি করে। আবু তাহিরের নেতৃত্বে হামলাকারীরা হাজিদের ওপর আক্রমণ চালায় এবং কাবা থেকে হাজরে আসওয়াদ নিয়ে যায়। পাথরটি দীর্ঘ সময় তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকার পর মক্কায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

মসজিদুল হারামে বন্দুকধারীদের দখল
আধুনিক ইতিহাসে সবচেয়ে নাটকীয় ঘটনা ১৯৭৯ সালের মসজিদুল হারাম অবরোধ। ২০ নভেম্বর জুহাইমান আল-ওতাইবির নেতৃত্বে সশস্ত্র একটি দল মসজিদে ঢুকে মুসল্লিদের জিম্মি করে। তারা মোহাম্মদ আল-কাহতানিকে প্রতীক্ষিত মাহদি হিসেবে ঘোষণা করে সৌদি রাজপরিবারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের ডাক দেয়। প্রায় দুই সপ্তাহের লড়াইয়ের পর সৌদি বাহিনী মসজিদের নিয়ন্ত্রণ নেয়।

হাজিদের মিছিল থেকে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ
১৯৮৭ সালে ইরানি হাজিদের রাজনৈতিক বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে মক্কায় ভয়াবহ সংঘর্ষ হয়। সৌদি সরকারি হিসাবে নিহত হন ৪০২ জন—২৭৫ ইরানি, ৮৫ সৌদি এবং ৪২ জন অন্যান্য দেশের নাগরিক। আহত হন ৬৪৯ জন। তবে সংঘর্ষের কারণ ও নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে সৌদি আর ইরানি বর্ণনায় তীব্র পার্থক্য ছিল।

বোমা হামলা ও ক্ষেপণাস্ত্রের ছায়া
১৯৮৯ সালে মসজিদুল হারামের কাছে বোমা বিস্ফোরণে একজন হাজি নিহত ও ১৬ জন আহত হন। পরে সৌদি কর্তৃপক্ষ ১৬ কুয়েতি নাগরিককে এ ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে। অভিযোগে ইরানের সংশ্লিষ্টতার কথাও ওঠে, যা তেহরান অস্বীকার করে।

২০১৭ সালে আবার মক্কার দিকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার অভিযোগ তোলে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। সৌদির দাবি ছিল, ক্ষেপণাস্ত্রটি মক্কার কাছে পৌঁছানোর আগেই ভূপাতিত করা হয়। হুতিরা অবশ্য মক্কাকে লক্ষ্য করার অভিযোগ অস্বীকার করে এবং অন্য লক্ষ্যবস্তুর কথা জানিয়েছিল।

পুরোনো ইতিহাসে নতুন অধ্যায়
মক্কার ইতিহাসে সংঘাতের ধরন বদলেছে—কখনো সেনাবাহিনীর অবরোধ, কখনো সশস্ত্র দখল, কখনো বিক্ষোভ ও বোমা হামলা, আবার কখনো দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের হুমকি। সর্বশেষ ড্রোনের অভিযোগ সেই ধারাবাহিকতায় প্রযুক্তিনির্ভর নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তবে এবারের ঘটনাতেও মূল প্রশ্ন একই—পবিত্র নগরীর নিরাপত্তা কতটা সংঘাতের বাইরে রাখা সম্ভব।

সৌদি আরব যেখানে মক্কার আকাশসীমাকে কঠোর নিরাপত্তা-সীমা হিসেবে দেখছে, হুতিরা সেখানে সৌদি অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রত্যাখ্যান করছে। ফলে ঘটনাটির সামরিক তাৎপর্যের পাশাপাশি এর রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও নজরে রাখার বিষয় হয়ে উঠেছে।

তথ্যসূত্র: সৌদি পিডিয়া, ওয়াশিংটন পোস্ট, ইউপিআই, আরব নিউজ, উইকিজিরো

কালের আলো/এম/এএইচ

কভার্ড ভ্যানের সিলিন্ডার বিস্ফোরণ, আশুলিয়ায় নিহত ৭

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ
কভার্ড ভ্যানের সিলিন্ডার বিস্ফোরণ, আশুলিয়ায় নিহত ৭

সাভারের আশুলিয়ায় একটি তৈরি পোশাক কারখানায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডে সাতজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার প্রীতি গ্রুপের এফএনএস কারখানায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা কারখানার ভেতরে তল্লাশি শুরু করেন। একপর্যায়ে একটি কাবার ভেতর থেকে পাঁচজনের ঝলসানো মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এর আগে বিস্ফোরণের তীব্রতায় একটি সিলিন্ডার ছিটকে পাশের একটি কাপড়ের দোকানে গিয়ে পড়ে। এতে জয়নাব বেগম নামে এক নারী ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুলাল নামে আরও এক আহত ব্যক্তির মৃত্যু হয়। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ায় সাতজনে।

ফায়ার সার্ভিস ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কারখানার ভেতরে আরও কেউ আটকা পড়েছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।

ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা, একটি কভার্ড ভ্যানের ভেতরে থাকা সিএনজি সিলিন্ডার বিস্ফোরণের পর আগুনের সূত্রপাত হয়। তবে বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত শেষে জানা যাবে।

কালের আলো/এমএসআইপি 

ডিজেল-কেরোসিন-অকটেন-পেট্রোলের দাম বাড়ল ২০ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:২৪ অপরাহ্ণ
ডিজেল-কেরোসিন-অকটেন-পেট্রোলের দাম বাড়ল ২০ টাকা

দেশে চার ধরনের প্রধান জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা করে বাড়িয়েছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ডিজেল প্রতি লিটার ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা এবং পেট্রোল ১৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. এনামুল হক স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে নতুন দাম নির্ধারণের তথ্য জানানো হয়।

নতুন দামে ডিজেলের মূল্য ১১৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ টাকা থেকে ১৫৫ টাকা, অকটেন ১৪৫ টাকা থেকে ১৬৫ টাকা এবং পেট্রোল ১৪০ টাকা থেকে ১৬০ টাকা হয়েছে।

এর আগে সেপ্টেম্বর মাসে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত ছিল। সর্বশেষ বড় ধরনের মূল্য সমন্বয় করা হয়েছিল এপ্রিলে। তখন ডিজেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা এবং অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের দাম যথাক্রমে ২০, ১৯ ও ১৮ টাকা বাড়ানো হয়েছিল।

২০২৪ সাল থেকে স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতির আওতায় দেশে খুচরা জ্বালানি তেলের দাম পর্যালোচনা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম, আমদানি ব্যয়, কর ও শুল্ক, বিনিময় হারসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে নিয়মিত এ দাম সমন্বয় করা হয়।

কালের আলো/এমএসআইপি