খুঁজুন
                               
, ,
           

প্রধানমন্ত্রী হয়েও জনতার কাতারে তারেক রহমান

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৫:১৬ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রী হয়েও জনতার কাতারে তারেক রহমান

কালের আলো রিপোর্ট:

দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবনের ইতি টেনে দেশে ফিরেই রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের চিরায়ত সব রেওয়াজ ভাঙতে শুরু করেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। কখনও ইমামকে চেয়ার এগিয়ে দিয়েছেন নিজেই। জনসভায় বক্তব্যের মধ্যেই মঞ্চে ডেকে সাধারণ নাগরিকের মতামত জেনেছেন। তাদের সঙ্গে কথোপকথনের চমক এনেছিলেন। এলাকার সমস্যার কথা শুনেছেন, সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, প্রশ্ন করেছেন আবার উত্তরও দিয়েছেন। তিনি প্রমাণ করেছেন নেতা কেবল নিজেই কথা বলেন না সাধারণ মানুষের কথাও তিনি শোনেন। কেউ কেউ সম্ভবত মনেই করেছিলেন এসব ভোট টানার কৌশল। কিন্তু চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠনের পরও একের পর এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছেন দেশের ১১তম এই প্রধানমন্ত্রী। ভোটে বিএনপির কাছে পরাজিত জামায়াত, এনসিপি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শীর্ষ নেতাদের বাসায় গিয়ে রাজনীতিতে শিষ্টাচার ও সৌজন্যের এক ব্যতিক্রমী নজির স্থাপন করেছেন।

বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) নতুন সরকারের প্রথম সকালেই সরকারপ্রধান ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যকার দূরত্ব কমাতে ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলার নতুন রীতি চালু করেন। প্রধানমন্ত্রী কিংবা কোনও ভিভিআইপি মুভমেন্টে বরাবর রাস্তাঘাট বন্ধ করে দুপাশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর প্রহরায় গাড়ি ছুটতে দেখার সংস্কৃতি বন্ধ করলেন। সরকারি বিলাসবহুল গাড়ির পরিবর্তে নিজের গাড়িতেই সাধারণ মানুষের মতোই চলাচল করছেন। ট্রাফিক সিগন্যালে লাল বাতি জ্বললেই থেমে যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর। কোন কোন জায়গায় দীর্ঘ সময় সিগন্যালে বসে থাকছেন। কোন তড়িঘড়ি নেই। অতীতে প্রথা মোতাবেক প্রধানমন্ত্রীর বহরে ১৩ থেকে ১৪টি গাড়ি থাকতো। এখন সেটি মাত্র চারটিতে নামিয়ে আনা হয়েছে। পরিবর্তন এসেছে নিরাপত্তা প্রটোকলেও। রাজধানীতে প্রধানমন্ত্রীর যাত্রাপথে সড়কের দু’পাশে পোশাকধারী পুলিশের দাঁড়িয়ে থাকার দৃশ্য দেখা যাচ্ছে না। নেতিবাচক এই সংস্কৃতি বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন তারেক রহমান। বৃহস্পতিবারের (১৯ ফেব্রুয়ারি) চিত্রও ছিল অভিন্ন। তারেক রহমান নিজের চালক এবং নিজস্ব অর্থে কেনা জ্বালানি ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ১২ ফেব্রুয়ারির গণরায়ের পর দেশের রাজনীতিতে ইতিবাচক ও গুণগত পরিবর্তন আনতে আগে নিজে জনবান্ধব সব দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন। সরকারপ্রধানের এই মানসিকতা অন্য সবার জন্যই বড় বার্তা বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

প্রশাসনে গতিশীলতা আনতে আগামীকাল শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) অফিস করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারি ছুটির দিনেও তিনি দাপ্তরিক কাজ চালিয়ে যাবেন। প্রশাসনে কর্মচাঞ্চল্য বাড়াতে সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও তিনি কাজ করার এই নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছে দায়িত্বশীল সূত্র। এর আগে দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই নতুন প্রধানমন্ত্রী সংসদ সদস্যদের (এমপি) জন্য শুল্কমুক্ত গাড়ি ও প্লট বরাদ্দ না নেওয়ার ব্যাপারে কঠোর সিদ্ধান্তের কথা জানান। একই সঙ্গে মন্ত্রীদের সরকারি কাজে বা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে বাহুল্য খরচ না করার কড়া নির্দেশনা দিয়েছেন। তার এসব পদক্ষেপ সাধারণ মানুষকে আশান্বিত করেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশংসিত হচ্ছে। সাধারণ পথচারীরাও এখন বলছেন, ‘দীর্ঘ দিন পর মনের মতো একজন প্রধানমন্ত্রী পেয়েছে বাংলাদেশ।’ অন্য একজন বললেন, ‘প্রধানমন্ত্রী জনতার কাতারেই রয়েছেন। এটি ভালো দিক। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ছিল এমনই।’ রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, রাষ্ট্রীয় খরচে লাগাম টানা এবং জনদুর্ভোগ কমাতে প্রধানমন্ত্রীর এসব উদ্যোগ প্রশাসন ও রাজনীতিতে নতুন ধারার সূচনা করবে।

বৃহস্পতিবারের (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর গুলশান অ্যাভিনিউয়ের বাসা থেকে রওনা হয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজ গাড়িতে সচিবালয়ে যান। সকাল ৮টা ৩৪ মিনিটে যাত্রা শুরু করে চারটি ট্রাফিক সিগন্যালে লালবাতি জ্বলে উঠলে গাড়ি নিয়ম মেনে থামে। সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে তিনি বাংলাদেশ সচিবালয়ে পৌঁছান। পুরো পথে সময় লাগে ৪১ মিনিট। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, সরকারপ্রধান সাধারণ নিয়মেই সড়কপথ ব্যবহার করেছেন। পথে সিগন্যালে গাড়ি থামলে পথচারীরা করতালি দিয়ে তাকে স্বাগত জানান। প্রধানমন্ত্রী গাড়ি থেকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছার জবাব দেন। কেউ কেউ কাছ থেকে সেলফিও তোলেন।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব ও বিশিষ্ট সাংবাদিক আতিকুর রহমানের বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট তারেক রহমান তাঁর ও সাধারণ মানুষের মধ্যে কোন অদৃশ্য দেয়াল তৈরি করতে চান না। প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকলের বাড়াবাড়ির লাগাম টেনে তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে আত্মিক সম্পর্ক গড়ে তুলছেন। সাধারণ মানুষ তাঁর এই স্টাইলকে পছন্দ করেছেন। জনতার নেতা হিসেবে জনগণের কাছাকাছি থাকছেন। এটি নতুন ধারার রাজনীতির বহি:প্রকাশ। তিনি বিভিন্ন সময় বলেছিলেন-শান্তি, ঐক্য, সহনশীলতা ও জবাবদিহিমূলক রাজনীতির ওপর ভিত্তি করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠন করাই তার ‘প্ল্যান’। তিনি তাঁর কথা রেখেছেন।

কালের আলো/এম/এএইচ

শহীদ জিয়া ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে নতুন চার স্থায়ী কমিটি সদস্যের শ্রদ্ধা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ১:২৯ অপরাহ্ণ
শহীদ জিয়া ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে নতুন চার স্থায়ী কমিটি সদস্যের শ্রদ্ধা

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) জাতীয় স্থায়ী কমিটির নতুন চার সদস্য শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জাতীয় সংসদ ভবনসংলগ্ন সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান তারা। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

এ সময় জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, মো. আমান উল্লাহ আমান, ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার ও মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া বিএনপির বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

উদ্বোধনেই শেষ নয়, বাড়বে পিংক বাসের রুট ও সংখ্যা: সড়কমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ১:০৫ অপরাহ্ণ
উদ্বোধনেই শেষ নয়, বাড়বে পিংক বাসের রুট ও সংখ্যা: সড়কমন্ত্রী

নারীদের জন্য চালু হওয়া বিআরটিসির ‘পিংক বাস’ সেবা শুধু উদ্বোধনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। পর্যায়ক্রমে এ সেবার রুট ও বাসের সংখ্যা বাড়িয়ে দেশের আরও বিভাগে সম্প্রসারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বিআরটিসি ঢাকা ট্রাক ডিপো প্রাঙ্গণে ‘মহিলা বাস সার্ভিস পরিচালনা’ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী জানান, নারীদের জন্য নারী পরিচালিত ও নারীবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যেই ঢাকাসহ তিন শহরে ১৩টি রুটে ১৪টি বিশেষ বাস চালু করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকায় ১০টি রুটে ১০টি, চট্টগ্রামে দুটি রুটে দুটি এবং বগুড়ায় দুটি রুটে দুটি বাস চলাচল করবে।

শেখ রবিউল আলম বলেন, নারী যাত্রীর নিরাপত্তা শুধু বাসের ভেতরেই নয়; বাসে ওঠার আগে অপেক্ষার সময় এবং গন্তব্যে নামার পরও নিশ্চিত করতে হবে। নতুন এই সেবায় নারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ যাতায়াতের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। পরিবার, অর্থনীতি ও রাষ্ট্র গঠনে তাদের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। তাই কর্মক্ষেত্র, শিক্ষা ও দৈনন্দিন যাতায়াতে নারীদের জন্য নিরাপদ গণপরিবহন নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

বিআরটিসির বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে লোকসানে নেই, বরং ব্রেক-ইভেন অবস্থায় রয়েছে। তবে মানসম্মত ও আধুনিক সেবা নিশ্চিত করতে আরও উন্নতির প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে রুট পুনর্বিন্যাস ও রুট পারমিট যৌক্তিকীকরণের কাজ চলছে।

তিনি আরও জানান, সরকার সরাসরি ক্রয় প্রক্রিয়ায় ২০০টি বৈদ্যুতিক বাস সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে ১০০টি বাস নারীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। দ্রুত এসব বাস সড়কে নামানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

নারী চালকদের প্রশংসা করে শেখ রবিউল আলম বলেন, নারীরা কোনো ক্ষেত্রেই পুরুষের চেয়ে পিছিয়ে নেই। যুদ্ধবিমান থেকে গণপরিবহন—সব ক্ষেত্রেই তারা দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছেন। নারী চালকদের মাধ্যমে পরিচালিত পিংক বাস সেবা নারীর ক্ষমতায়নেরও একটি প্রতীক।

মন্ত্রী বলেন, আজ যে মানের সেবা চালু হলো, দুই মাস পর সেটির মান আরও উন্নত করতে হবে। যাত্রীবান্ধব, নিরাপদ ও সম্মানজনক পরিবেশ নিশ্চিত করাই হবে এ উদ্যোগের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ ও সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক। সভাপতিত্ব করেন বিআরটিসির চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লা।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

‘প্রেমের সূচক’ নিয়ে আলোচনায় এনজেল নূর

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩৯ অপরাহ্ণ
‘প্রেমের সূচক’ নিয়ে আলোচনায় এনজেল নূর

‘এটি শুধু কোনো গান নয়, যেন একলা কোনো বৃষ্টির বিকেলে গাড়ির কাচে জমে থাকা জলবিন্দুর মতো নীরব অনুভূতির প্রকাশ।’ এনজেল নূরের নতুন গান ‘প্রেমের সূচক’ শুনে ইউটিউবে এমনই মন্তব্য করেছেন শ্রোতা শেখ সাদমান। আরেক শ্রোতা আথিনা চাকমার কাছে নূরের কণ্ঠ মনে হয়েছে ভোরের শিশিরে ভেজা ফুলের পাপড়ির মতো কোমল ও স্নিগ্ধ।

গত ২৭ জুলাই নিজের ইউটিউব চ্যানেলে ‘প্রেমের সূচক’ প্রকাশ করেন এনজেল নূর। দুই সপ্তাহের মধ্যে গানটি ৩০ হাজারের বেশি ভিউ পেয়েছে। গানটির কথা ও সুরও করেছেন তিনি নিজেই।

‘প্রেমের সূচক’ লেখার সময় নিজেকে একটি অতিথি পাখির সঙ্গে তুলনা করেছেন এনজেল। এক দেশ থেকে অন্য দেশে গিয়ে যেমন একটি অতিথি পাখি সাময়িকভাবে ঘর বাঁধে, কারও প্রেমে পড়ে, আবার আবহাওয়া বদলালে তাকে চলে যেতে হয়—গানটিতেও তেমনই অনিশ্চয়তা, বিচ্ছেদ ও ভালোবাসার আবহ তৈরি করেছেন তিনি।

পাখিটি জানে, একদিন তাকে চলে যেতে হবে। তাই প্রিয় পাখিকে বারবার তার প্রশ্ন, ‘এখনই যাবে কি চলে?’

গানটির ‘সূচক’ শব্দটির মধ্যেও একাধিক অর্থ খুঁজে নেওয়ার সুযোগ রেখেছেন এনজেল। এটি যেমন শুরু বোঝায়, তেমনি কোনো কিছুর পরিমাপক বা ইন্ডিকেটরও। তাঁর কাছে প্রিয় মানুষটির প্রতি থাকা ভালোবাসাই সেই প্রেমের অস্তিত্বের সূচক।

এর আগে ‘যদি আবার’ ও ‘তীল’ গান দিয়ে পরিচিতি পেয়েছেন এনজেল নূর। তবে কোনো একটি গান জনপ্রিয় হলেই তার আদলে পরের গান তৈরি করতে চান না তিনি। তাঁর কাছে প্রতিটি গান আলাদা গল্প।

এনজেল বলেন, তাঁর লেখা ৫৮টি গান রয়েছে এবং প্রতিটি গানে রয়েছে আলাদা গল্প। তাই নিজেকে তিনি সব সময় একজন ‘স্টোরি টেলার’ হিসেবেই পরিচয় দিতে চান।

তাঁর ভাষায়, তাঁর গানকে প্রচলিত কোনো একটি ঘরানায় সহজে ফেলা যায় না। এগুলো পুরোপুরি ক্ল্যাসিক্যাল নয়, আবার পুরোপুরি আধুনিকও নয়। রবীন্দ্রসংগীতের সঙ্গেও এগুলোর সরাসরি মিল নেই। তবে প্রতিটি গানের নিজস্ব একটি স্বর ও গল্প রয়েছে।

সুর তৈরির ক্ষেত্রেও তাঁর নিজস্ব পদ্ধতি রয়েছে। তাঁর ফোনে জমা আছে ৪১২টি সুর। নির্দিষ্ট কোনো স্টুডিও বা নির্ধারিত সময়ে বসে এসব সুর তৈরি করেননি তিনি। দৈনন্দিন জীবনের নানা মুহূর্তে হঠাৎ কোনো সুর মাথায় এলে তা ফোনে রেকর্ড করে রেখেছেন।

কখনো বাইক চালানোর সময়, কখনো রান্না করতে গিয়ে, এমনকি কারও সঙ্গে কথা বলার মধ্যেও মাথায় আসা সুর ধরে রেখেছেন তিনি।

বাণিজ্যিকভাবে জনপ্রিয় হওয়ার সুযোগ থাকলেও প্রচলিত ‘হিট’ গানের ফর্মুলায় নিজেকে বাঁধতে চান না এনজেল। তাঁর কাছে অনেক সময় বাণিজ্যিক গানের চাহিদা এমন হয়, যেখানে দ্রুত বিনোদন দেওয়ার মতো বিট ও উপাদানকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।

তাঁর মতে, শ্রোতার তাৎক্ষণিক চাহিদা মেটাতে গিয়ে যদি সব গান একই ধরনের ফর্মুলায় তৈরি হয়, তাহলে শিল্প বা গল্প বলার জায়গাটি ধীরে ধীরে হারিয়ে যাবে।

ইউটিউবে মার্কেটিং, পিআর বা বুস্টিংয়ের মাধ্যমে অল্প সময়ের জন্য ট্রেন্ডিংয়ে আসাও তাঁর লক্ষ্য নয়। তাঁর মতে, এমন অনেক গান রয়েছে, যেগুলো প্রকাশের কয়েক দিন পরই শ্রোতাদের মনোযোগ থেকে হারিয়ে যায়।

এনজেল বরং চান, তাঁর গান ধীরে ধীরে মানুষের কাছে পৌঁছাক এবং ১০ বছর পরও মানুষ সেগুলো শুনুক। তাঁর কাছে দ্রুত জনপ্রিয়তার চেয়ে দীর্ঘস্থায়ী শ্রোতা-সম্পর্ক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

সংগীতের পাশাপাশি অভিনয় নিয়েও ব্যস্ততা রয়েছে এনজেল নূরের। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের তিনটি করে গান নিয়ে একটি অ্যালবাম করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। পাশাপাশি ১২টি মৌলিক গান নিয়ে আরেকটি অ্যালবাম তৈরির কাজও চলছে।

অভিনয়েও নতুন কাজের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। সেপ্টেম্বরের শেষ অথবা অক্টোবরে একটি সিনেমার শুটিং শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে ডালিম কুমার চরিত্রে অভিনয় করবেন এনজেল।

দ্রুত জনপ্রিয়তার স্রোতে না ভেসে নিজের মতো করে গল্প বলে যাওয়াই যেন তাঁর মূল লক্ষ্য। আর সেই গল্প বলার মাধ্যম হিসেবে এনজেলের কাছে গানই সবচেয়ে শক্তিশালী ভাষা।

কালের আলো/এসএ