খুঁজুন
                               
বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

চারদিনের ডিসি সম্মেলনে একগুচ্ছ নির্দেশনা

মাঠ প্রশাসনকে আরও গতিশীল, স্বচ্ছ ও জনমুখী করতে বিশেষ গুরুত্ব

কালের আলো রিপোর্ট
প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ১১:০০ অপরাহ্ণ
মাঠ প্রশাসনকে আরও গতিশীল, স্বচ্ছ ও জনমুখী করতে বিশেষ গুরুত্ব

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে বিএনপি সরকার গঠনের পর প্রথম ডিসি সম্মেলনে মাঠ প্রশাসনের কার্যকারিতা বৃদ্ধি, উন্নয়ন প্রকল্পের দ্রুত বাস্তবায়ন, আইনশৃঙ্খলা জোরদার এবং প্রযুক্তিনির্ভর টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মাঠ প্রশাসনকে আরও গতিশীল, স্বচ্ছ, জনমুখী ও জবাবদিহিমূলক করার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। এসেছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা। শুধু তাই নয়, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বাজার মনিটরিং এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অবৈধ মজুতদারি রোধে ডিসিদের বিশেষ নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়। গত রোববার (০৩ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে চার দিনব্যাপী ডিসি সম্মেলনের উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণকে দেওয়া সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসকদের তৎপর হওয়ার তাগিদ দিয়েছিলেন।

আশা প্রকাশ করে বলেছিলেন ‘আপনারা আপনাদের মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে জনগণের কাছে দেওয়া সরকারের প্রতিটি প্রতিশ্রুতি দক্ষতার সঙ্গে বাস্তবায়নে ইনশাআল্লাহ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন।’ মাঠ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাফ সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন আমরা কম্প্রোমাইজ করতে চাই না দুর্নীতির সঙ্গে। সুশাসনের জন্য প্রয়োজন দক্ষ ব্যবস্থাপনা, যোগ্য নেতৃত্ব এবং অবশ্যই জবাবদিহিতা। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার-যোগ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। বুধবার (০৬ মে) বিকেলে সমাপনী অধিবেশনের মাধ্যমে শেষ হয় ডিসি সম্মেলন। এই সম্মেলনের আয়োজন করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। সমাপনী অধিবেশন শেষে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে সভা করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার। এরপর সেখানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ডিসি এবং বিভাগীয় কমিশনাররা নৈশভোজে অংশ নেন। শেষ দিনে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এবং বিভাগের সঙ্গে ডিসিদের নয়টি কার্য অধিবেশন ছিল।

বুধবার (৬ মে) রাতে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ‘ত্রৈমৈত্রী’ সম্মেলনে বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের বার্ষিক সম্মিলন অনুষ্ঠানে লিখিত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, ‘প্রশাসনকে জনমুখী করে গড়ে তুলতে হবে। সেই কাজটি আপনাদের ভূমিকার ওপরই অনেকখানি নির্ভর করে।’ তিনি বলেন, সরকার এমন একটি জনমুখী প্রশাসন চায়, যেখানে সরকারি দপ্তরে সাধারণ মানুষ সম্মানের সাথে দ্রুত, স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্তভাবে সেবা পাবে। এ বিষয়টি আপনাদেরকেই নিশ্চিত করতে হবে। আইন অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু মানবিকতা আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ।

  • মোট ৩৪টি অধিবেশনে ৪৯৮টি প্রস্তাব উপস্থাপন ও বিস্তারিত আলোচনা
  • উন্নয়ন প্রকল্পের দ্রুত বাস্তবায়ন, আইনশৃঙ্খলা জোরদার এবং প্রযুক্তিনির্ভর টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতে জোর
  • মাঠ প্রশাসনকে সরকারের মুখপাত্র হিসেবে কাজ করতে হবে
  • জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে
  • দুর্নীতি, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে কোনও ধরনের আপস না করার কঠোর বার্তা
  • ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়ন, ক্যাশলেস লেনদেন চালু এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সম্প্রসারণের নির্দেশ

জানা যায়, এবারের ডিসি সম্মেলনে দেশের ৬৪ জেলার ডিসি এবং ৮ বিভাগীয় কমিশনার মাঠ প্রশাসনের বিভিন্ন সমস্যা ও উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে মোট ৩৪টি অধিবেশনে ৪৯৮টি প্রস্তাব উপস্থাপন ও বিস্তারিত আলোচনা করেন। সরকারের নীতিনির্ধারকরা নানা বিষয়ে তাদেরকে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের গতি ত্বরান্বিত করা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, গায়েবি মামলা প্রত্যাহার এবং তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে মাঠ প্রশাসনকে আরও কার্যকর, জনবান্ধব ও জবাবদিহিমূলক করার একগুচ্ছ বার্তা নিয়ে নিজ নিজ জেলায় ফিরছেন জেলা প্রশাসকরা।

গত ৩ মে থেকে শুরু হয়ে ৬ মে শেষ হওয়া এই সম্মেলনে দু’দফায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাক্ষাৎ পেয়েছেন জেলা প্রশাসকরা। প্রথম দিন উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনা পেয়েছেন ডিসিরা। শেষ দিন সন্ধ্যায় মুক্ত আলোচনায় এবং বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভায়ও প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা পেয়েছেন তারা। সরকারের পক্ষ থেকে ডিসিদের বলা হয়, মাঠ প্রশাসনকে সরকারের মুখপাত্র হিসেবে কাজ করতে হবে এবং জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি দুর্নীতি, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে কোনও ধরনের আপস না করার কঠোর বার্তাও দেওয়া হয়।

চলতি বছরের ডিসি সম্মেলনে অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়ন, ক্যাশলেস লেনদেন চালু এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সম্প্রসারণের বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে উন্নয়ন প্রকল্পের কার্যকারিতা মূল্যায়ন ও রাজস্ব আদায় বাড়াতে মাঠ প্রশাসনের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করা হয়। কৃষি ও মৎস্য খাতে চিংড়ি উৎপাদন বৃদ্ধি, মা ইলিশ সংরক্ষণ এবং আলুর বহুমুখী ব্যবহার ও রপ্তানি বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়। এছাড়া শিল্প ও বাণিজ্য প্রসারে বন্ধ কারখানা চালু করা, নতুন শিল্পনীতি প্রণয়ন এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। সম্মেলনের তৃতীয় দিনে যোগাযোগ, প্রযুক্তি এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। যোগাযোগ খাতের উন্নয়নে মহাসড়কে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, যানবাহনের লোড নিয়ন্ত্রণ এবং চালকদের উন্নত প্রশিক্ষণের পাশাপাশি নতুন সেতু নির্মাণ ও রেলপথ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। এছাড়া নৌপথে নিরাপত্তা জোরদার এবং আসন্ন ঈদে যানজট নিরসনে মাঠ প্রশাসনকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পানি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় নদী-খাল পুনঃখনন, নদীভাঙন রোধ এবং বজ্রপাত থেকে কৃষকদের রক্ষায় বিশেষ শেল্টার নির্মাণের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

বুধবার (৬ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ডিসি সম্মেলনের একটি অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের ছন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন জানান, মিস-ইনফরমেশন ও ডিস-ইনফরমেশন মোকাবিলায় জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘যে সমস্ত কাজ খুব জরুরি, যেগুলোতে হাত দেওয়া যেতে পারে, যেমন মিস-ইনফরমেশন এবং ডিস-ইনফরমেশনকে কমব্যাট (মোকাবিলা) করা, ফেস করা যতটা সম্ভব গণমাধ্যমের সঙ্গে সংযোগ রেখে এটা নিয়মশৃঙ্খলার মধ্যে আনা, সেগুলোর দিকে আমরা মনোযোগ দেব।’

সম্মেলন সম্পর্কে রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, ‘ডিসিরা মাঠ পর্যায়ে সরকারের মুখপাত্র হিসেবে কাজ করেন। সরকারের যেকোনও কর্মসূচি বাস্তবায়নে আমরা সব নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণের চেষ্টা করবো।’ সংশ্লিষ্টরা জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেও কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে লাইসেন্সধারী প্রায় ১০ হাজার আগ্নেয়াস্ত্র এখনও জমা না দেওয়ায় সেগুলো দ্রুত উদ্ধার ও লাইসেন্স বাতিলের উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়। ভূমি ব্যবস্থাপনায় সেবার মান উন্নয়ন এবং হয়রানি বন্ধে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপরও জোর দেওয়া হয়। পাশাপাশি বিলাসী প্রকল্প ও অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমিয়ে জনকল্যাণমূলক উন্নয়ন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য খাতে ডিসিদের সামনে ৪৪টি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে উপজেলা পর্যায়ে অ্যাম্বুলেন্স ও অ্যান্টিভেনম নিশ্চিত করা এবং স্বাস্থ্যসেবা নির্বিঘ্ন করতে কঠোর মনিটরিংয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়। বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে বন্ধ কারখানা পুনরায় চালু, অর্থনৈতিক অঞ্চল সম্প্রসারণ এবং বেসরকারি খাতে হস্তান্তরের বিষয়েও নির্দেশনা আসে। সম্মেলন সম্পর্কে জানতে চাইলে পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ বলেন, সম্মেলন শেষে সরকারের দেওয়া নির্দেশনা নিয়ে আমরা জেলায় ফিরছি। এগুলো জনগণের জন্য কল্যাণকর উদ্যোগ হবে বলে আশা করি।

কালের আলো/আরআই/এমকে

রামিসার বড় বোনের সব দায়িত্ব নিলেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ১০:৪৯ অপরাহ্ণ
রামিসার বড় বোনের সব দায়িত্ব নিলেন প্রধানমন্ত্রী

রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণ ও নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা আক্তারের বোনের সব দায়িত্ব নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাত পৌনে ১০টায় মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে মিরপুর-১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের বাসায় রামিসাদের বাসায় গিয়ে তাদের পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন। এসময় রামিসার বোনের দায়িত্ব নেয়ার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী।

গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে মিরপুরের পল্লবীর একটি ফ্ল্যাটের খাটের নিচ থেকে রামিসার মস্তকবিহীন দেহ এবং পরে বাথরুম থেকে খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

পুলিশ প্রথমে প্রধান আসামি সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আটক করে। পরে মূল অভিযুক্ত সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার বিষয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন ঘাতক সোহেল রানা।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

১৬ মাসে ধর্ষণের শিকার ৫৮০ শিশু, নিহত ৪৮৩: এইচআরএসএস

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ১০:৪০ অপরাহ্ণ
১৬ মাসে ধর্ষণের শিকার ৫৮০ শিশু, নিহত ৪৮৩: এইচআরএসএস

দেশে গত ১৬ মাসে অন্তত এক হাজার ৮৯০ জন শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ৪৮৩ জন শিশু নিহত ও এক হাজার ৪০৭ জন শিশু শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে।  এছাড়া এসব শিশুর মধ্যে ৫৮০ জন ধর্ষণ এবং ৩১৮ জন যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে।

মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক শিশু হত্যা, ধর্ষণ ও নির্যাতনের ধারাবাহিক ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা প্রকাশ করছে সংস্থাটি। পাশাপাশি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় এসব নৃশংস ঘটনায় জড়িতের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে দাবি জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে সংস্থাটি জানায়, গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ৭ বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। শরীর ছিল প্রতিবেশীর ঘরে খাটের তলায় এবং মাথাটা ছিল বাথরুমে। এমনকি অভিযুক্ত বিকৃত যৌনাচারে আসক্ত স্বামীকে বাঁচাতে সহযোগিতা করেছিলেন স্ত্রী।

গত ১৬ মে মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার বালুচর ইউনিয়নের চান্দের চর গ্রামের মদিনাপাড়ায় আছিয়া আক্তার নামে ১০ বছরে বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। নিহতের গলায় শ্বাসরোধের চিহ্ন ও ধর্ষণের প্রাথমিক আলামতের ভিত্তিতে বাড়িতে অবস্থানরত ও অভিযুক্ত রাজা মিয়াকে (৪৫)-কে আটক করেছে পুলিশ।

গত ১৪ মে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় ধর্ষণের পর লামিয়া আক্তার নামে এক চার বছরের শিশুকে হত্যা করা হয়েছে। নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর এলাকার একটি ভুট্টাক্ষেত থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। গত ৬ মে সকালে সিলেটের সদর উপজেলার জালালাবাদে ৪ বছরের শিশু ফাহিমা আক্তারকে ধর্ষণ চেষ্টার পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। এমনকি খোটের নিচে লাশ লুকিয়ে রেখে স্বজনদের সাথে খুঁজতে যান আসামী জাকির হোসেন।

এছাড়া প্রতিনিয়ত সারাদেশের বিভিন্ন স্থানে এমন ধরণের অসংখ্য শিশু হত্যা, ধর্ষণ, ধর্ষণের পর হত্যা ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। এইচআরএসএসের সংগৃহীত তথ্যানুসারে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাস থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত সারাদেশে অন্তত ১৮৯০ জন শিশু ও কিশোরী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ৪৮৩ জন শিশু নিহত ও ১৪০৭ জন শিশু শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এছাড়া এসব শিশু ও কিশোরীদের মধ্যে ৫৮০ জন ধর্ষণ এবং ৩১৮ জন যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, শিশু হত্যা, ধর্ষণ ও নির্যাতনের মতো সহিংসতা প্রতিরোধ করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ও আইনগত দায়িত্ব। কিন্তু একের পর এক শিশু ধর্ষণ, হত্যা ও নির্যাতনের ঘটনা প্রমাণ করে যে শিশু সুরক্ষায় বিদ্যমান ব্যবস্থা যথেষ্ট কার্যকর নয়। এছাড়া বিচাহীনতার সংস্কৃতি, দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া ও দুর্বল আইন প্রয়োগ শিশু নির্যাতনের মতো পাশবিক সহিংসতা বৃদ্ধি ও আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির চিত্র প্রকাশ করছে। নিষ্পাপ শিশুদের ওপর এমন পাশবিক সহিংসতা শুধু মানবাধিকার লঙ্ঘন নয়, এটি আমাদের সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয়ের বহিঃপ্রকাশ।

এইচআরএসএস অবিলম্বে এসব শিশু হত্যা ও ধর্ষণের সব ঘটনার দ্রুত, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের সনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের যথাযথ প্রয়োগ, বিনামূল্যে আইনি সহায়তা, ভুক্তভোগী পরিবারকে নিরাপত্তা ও ক্ষতিপূরণ, চিকিৎসা ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের দাবি জানায় সংস্থাটি।

বিবৃতিতে বলা হয়, শিশুদের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে হলে কেবল আইন প্রয়োগ নয়, সামাজিক প্রতিরোধ ও মানবিক মূল্যবোধের পুনর্জাগরণও জরুরি। এজন্য সব নাগরিক, সামাজিক সংগঠন, গণমাধ্যমকে শিশুদের সুরক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার পাশাপাশি অপরাধ রোধে ও দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সরকার ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানায় এইচআরএসএস।

কালের আলো/এসআর/এএএন 

রামিসার বাসায় প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ১০:১২ অপরাহ্ণ
রামিসার বাসায় প্রধানমন্ত্রী

রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণ ও নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা আক্তারের বাসায় গেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষ করে রাত পৌনে ১০টার দিকে রাজধানীর পল্লবীতে রামিসার বাসায় যান প্রধানমন্ত্রী।

সেখানে নিহত রামিসার মা-বাবা ও স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তাদের সান্ত্বনা দেন তিনি।

এরআগে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল ইসলাম হক রামিসাদের বাসায় গিয়ে সমবেদনা জানিয়েছেন। আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রামিসা হত্যার বিচার দ্রুত নিশ্চিত করার কথা জানিয়েছেন।

রামিসা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেফতার আসামির দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ হচ্ছে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্নস্থানে।

গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে মিরপুরের পল্লবীর একটি ফ্ল্যাটের খাটের নিচ থেকে রামিসার মস্তকবিহীন দেহ এবং পরে বাথরুম থেকে খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

পুলিশ প্রথমে প্রধান আসামি সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আটক করে। পরে মূল অভিযুক্ত সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার বিষয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন ঘাতক সোহেল রানা।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ