খুঁজুন
                               
বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ১৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

চারদিনের ডিসি সম্মেলনে একগুচ্ছ নির্দেশনা

মাঠ প্রশাসনকে আরও গতিশীল, স্বচ্ছ ও জনমুখী করতে বিশেষ গুরুত্ব

কালের আলো রিপোর্ট
প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ১১:০০ অপরাহ্ণ
মাঠ প্রশাসনকে আরও গতিশীল, স্বচ্ছ ও জনমুখী করতে বিশেষ গুরুত্ব

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে বিএনপি সরকার গঠনের পর প্রথম ডিসি সম্মেলনে মাঠ প্রশাসনের কার্যকারিতা বৃদ্ধি, উন্নয়ন প্রকল্পের দ্রুত বাস্তবায়ন, আইনশৃঙ্খলা জোরদার এবং প্রযুক্তিনির্ভর টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মাঠ প্রশাসনকে আরও গতিশীল, স্বচ্ছ, জনমুখী ও জবাবদিহিমূলক করার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। এসেছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা। শুধু তাই নয়, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বাজার মনিটরিং এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অবৈধ মজুতদারি রোধে ডিসিদের বিশেষ নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়। গত রোববার (০৩ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে চার দিনব্যাপী ডিসি সম্মেলনের উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণকে দেওয়া সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসকদের তৎপর হওয়ার তাগিদ দিয়েছিলেন।

আশা প্রকাশ করে বলেছিলেন ‘আপনারা আপনাদের মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে জনগণের কাছে দেওয়া সরকারের প্রতিটি প্রতিশ্রুতি দক্ষতার সঙ্গে বাস্তবায়নে ইনশাআল্লাহ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন।’ মাঠ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাফ সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন আমরা কম্প্রোমাইজ করতে চাই না দুর্নীতির সঙ্গে। সুশাসনের জন্য প্রয়োজন দক্ষ ব্যবস্থাপনা, যোগ্য নেতৃত্ব এবং অবশ্যই জবাবদিহিতা। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার-যোগ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। বুধবার (০৬ মে) বিকেলে সমাপনী অধিবেশনের মাধ্যমে শেষ হয় ডিসি সম্মেলন। এই সম্মেলনের আয়োজন করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। সমাপনী অধিবেশন শেষে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে সভা করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার। এরপর সেখানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ডিসি এবং বিভাগীয় কমিশনাররা নৈশভোজে অংশ নেন। শেষ দিনে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এবং বিভাগের সঙ্গে ডিসিদের নয়টি কার্য অধিবেশন ছিল।

বুধবার (৬ মে) রাতে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ‘ত্রৈমৈত্রী’ সম্মেলনে বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের বার্ষিক সম্মিলন অনুষ্ঠানে লিখিত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, ‘প্রশাসনকে জনমুখী করে গড়ে তুলতে হবে। সেই কাজটি আপনাদের ভূমিকার ওপরই অনেকখানি নির্ভর করে।’ তিনি বলেন, সরকার এমন একটি জনমুখী প্রশাসন চায়, যেখানে সরকারি দপ্তরে সাধারণ মানুষ সম্মানের সাথে দ্রুত, স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্তভাবে সেবা পাবে। এ বিষয়টি আপনাদেরকেই নিশ্চিত করতে হবে। আইন অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু মানবিকতা আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ।

  • মোট ৩৪টি অধিবেশনে ৪৯৮টি প্রস্তাব উপস্থাপন ও বিস্তারিত আলোচনা
  • উন্নয়ন প্রকল্পের দ্রুত বাস্তবায়ন, আইনশৃঙ্খলা জোরদার এবং প্রযুক্তিনির্ভর টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতে জোর
  • মাঠ প্রশাসনকে সরকারের মুখপাত্র হিসেবে কাজ করতে হবে
  • জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে
  • দুর্নীতি, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে কোনও ধরনের আপস না করার কঠোর বার্তা
  • ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়ন, ক্যাশলেস লেনদেন চালু এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সম্প্রসারণের নির্দেশ

জানা যায়, এবারের ডিসি সম্মেলনে দেশের ৬৪ জেলার ডিসি এবং ৮ বিভাগীয় কমিশনার মাঠ প্রশাসনের বিভিন্ন সমস্যা ও উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে মোট ৩৪টি অধিবেশনে ৪৯৮টি প্রস্তাব উপস্থাপন ও বিস্তারিত আলোচনা করেন। সরকারের নীতিনির্ধারকরা নানা বিষয়ে তাদেরকে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের গতি ত্বরান্বিত করা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, গায়েবি মামলা প্রত্যাহার এবং তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে মাঠ প্রশাসনকে আরও কার্যকর, জনবান্ধব ও জবাবদিহিমূলক করার একগুচ্ছ বার্তা নিয়ে নিজ নিজ জেলায় ফিরছেন জেলা প্রশাসকরা।

গত ৩ মে থেকে শুরু হয়ে ৬ মে শেষ হওয়া এই সম্মেলনে দু’দফায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাক্ষাৎ পেয়েছেন জেলা প্রশাসকরা। প্রথম দিন উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনা পেয়েছেন ডিসিরা। শেষ দিন সন্ধ্যায় মুক্ত আলোচনায় এবং বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভায়ও প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা পেয়েছেন তারা। সরকারের পক্ষ থেকে ডিসিদের বলা হয়, মাঠ প্রশাসনকে সরকারের মুখপাত্র হিসেবে কাজ করতে হবে এবং জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি দুর্নীতি, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে কোনও ধরনের আপস না করার কঠোর বার্তাও দেওয়া হয়।

চলতি বছরের ডিসি সম্মেলনে অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়ন, ক্যাশলেস লেনদেন চালু এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সম্প্রসারণের বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে উন্নয়ন প্রকল্পের কার্যকারিতা মূল্যায়ন ও রাজস্ব আদায় বাড়াতে মাঠ প্রশাসনের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করা হয়। কৃষি ও মৎস্য খাতে চিংড়ি উৎপাদন বৃদ্ধি, মা ইলিশ সংরক্ষণ এবং আলুর বহুমুখী ব্যবহার ও রপ্তানি বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়। এছাড়া শিল্প ও বাণিজ্য প্রসারে বন্ধ কারখানা চালু করা, নতুন শিল্পনীতি প্রণয়ন এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। সম্মেলনের তৃতীয় দিনে যোগাযোগ, প্রযুক্তি এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। যোগাযোগ খাতের উন্নয়নে মহাসড়কে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, যানবাহনের লোড নিয়ন্ত্রণ এবং চালকদের উন্নত প্রশিক্ষণের পাশাপাশি নতুন সেতু নির্মাণ ও রেলপথ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। এছাড়া নৌপথে নিরাপত্তা জোরদার এবং আসন্ন ঈদে যানজট নিরসনে মাঠ প্রশাসনকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পানি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় নদী-খাল পুনঃখনন, নদীভাঙন রোধ এবং বজ্রপাত থেকে কৃষকদের রক্ষায় বিশেষ শেল্টার নির্মাণের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

বুধবার (৬ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ডিসি সম্মেলনের একটি অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের ছন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন জানান, মিস-ইনফরমেশন ও ডিস-ইনফরমেশন মোকাবিলায় জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘যে সমস্ত কাজ খুব জরুরি, যেগুলোতে হাত দেওয়া যেতে পারে, যেমন মিস-ইনফরমেশন এবং ডিস-ইনফরমেশনকে কমব্যাট (মোকাবিলা) করা, ফেস করা যতটা সম্ভব গণমাধ্যমের সঙ্গে সংযোগ রেখে এটা নিয়মশৃঙ্খলার মধ্যে আনা, সেগুলোর দিকে আমরা মনোযোগ দেব।’

সম্মেলন সম্পর্কে রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, ‘ডিসিরা মাঠ পর্যায়ে সরকারের মুখপাত্র হিসেবে কাজ করেন। সরকারের যেকোনও কর্মসূচি বাস্তবায়নে আমরা সব নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণের চেষ্টা করবো।’ সংশ্লিষ্টরা জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেও কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে লাইসেন্সধারী প্রায় ১০ হাজার আগ্নেয়াস্ত্র এখনও জমা না দেওয়ায় সেগুলো দ্রুত উদ্ধার ও লাইসেন্স বাতিলের উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়। ভূমি ব্যবস্থাপনায় সেবার মান উন্নয়ন এবং হয়রানি বন্ধে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপরও জোর দেওয়া হয়। পাশাপাশি বিলাসী প্রকল্প ও অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমিয়ে জনকল্যাণমূলক উন্নয়ন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য খাতে ডিসিদের সামনে ৪৪টি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে উপজেলা পর্যায়ে অ্যাম্বুলেন্স ও অ্যান্টিভেনম নিশ্চিত করা এবং স্বাস্থ্যসেবা নির্বিঘ্ন করতে কঠোর মনিটরিংয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়। বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে বন্ধ কারখানা পুনরায় চালু, অর্থনৈতিক অঞ্চল সম্প্রসারণ এবং বেসরকারি খাতে হস্তান্তরের বিষয়েও নির্দেশনা আসে। সম্মেলন সম্পর্কে জানতে চাইলে পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ বলেন, সম্মেলন শেষে সরকারের দেওয়া নির্দেশনা নিয়ে আমরা জেলায় ফিরছি। এগুলো জনগণের জন্য কল্যাণকর উদ্যোগ হবে বলে আশা করি।

কালের আলো/আরআই/এমকে

সৌদিসহ মধ্যপ্রাচ্যে ঈদুল আজহা উদযাপন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৯:৪৪ পূর্বাহ্ণ
সৌদিসহ মধ্যপ্রাচ্যে ঈদুল আজহা উদযাপন

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে আজ বুধবার (২৭ মে) উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। ঈদের নামাজ, পশু কোরবানি এবং হজের আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে মুসলিম বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব পালন করছেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।

পবিত্র হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা ‘উকুফে আরাফা’ সম্পন্ন হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে শুরু হয়েছে ঈদুল আজহার আনুষ্ঠানিকতা। মঙ্গলবার জিলহজ মাসের নবম দিনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা প্রায় ১৬ লাখ হাজি সৌদি আরবের আরাফাত ময়দানে সমবেত হন।

ভোর থেকেই শুভ্র ইহরামে সজ্জিত হাজিদের ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো আরাফাত প্রান্তর।

ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী আরাফাতে অবস্থান করা হজের প্রধান রুকন।

সূর্যাস্ত পর্যন্ত হাজিরা আরাফাতের নির্ধারিত সীমানার মধ্যে অবস্থান করে নামাজ, তওবা-ইস্তিগফার, কোরআন তিলাওয়াত ও জিকির-আসকারে সময় কাটান। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় কান্না ও প্রার্থনায় মগ্ন ছিলেন তারা।

দুপুরে ঐতিহাসিক নামিরা মসজিদ থেকে হজের খুতবা দেন মসজিদুল হারামের ইমাম ও খতিব শায়খ আলি আল হুদাইফি। এবার বাংলাসহ বিশ্বের ৩৫টি ভাষায় খুতবার অনুবাদ সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

খুতবায় তিনি মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা এবং বিশ্বশান্তি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

খুতবা শেষে হাজিরা জোহর ও আসরের নামাজ একসঙ্গে আদায় করে সূর্যাস্তের পর মুজদালিফার উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে খোলা আকাশের নিচে রাতযাপন করেন তারা। একই সঙ্গে মিনায় শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের জন্য প্রয়োজনীয় কঙ্কর সংগ্রহ করেন হাজিরা।

আজ ১০ জিলহজ সকালে মিনার জামারায় বড় শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের মধ্য দিয়ে ঈদুল আজহার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। পরে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় পশু কোরবানি করেন হাজিরা। কোরবানি শেষে মাথা মুণ্ডন বা চুল ছেঁটে ইহরাম ত্যাগ করেন তারা। এরপর কাবা শরিফ তাওয়াফের মাধ্যমে হজের পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবেন।

এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ঈদকে ঘিরে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। প্রবাসী বাংলাদেশি, পাকিস্তানি ও ভারতীয় মুসলমানদের অনেকেই আগেই গরু, ছাগলসহ কোরবানির পশু কিনেছেন। পরিবার ও স্বজনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে নিয়েছেন নানা প্রস্তুতি।

ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত এই পবিত্র দিনে অনাবিল আনন্দে ভাসছে মধ্যপ্রাচ্যের আরব দেশগুলোর নারী-পুরুষ, শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষ। মুসলমানরা স্মরণ করছেন আল্লাহর নবী হযরত ইব্রাহিম (আ.) ও তাঁর পুত্র হযরত ইসমাঈল (আ.)-এর অনন্য ত্যাগের ইতিহাস। ঈদের নামাজ শেষে মুসল্লিরা পরস্পরের মধ্যে শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা বিনিময় করছেন। পাশাপাশি মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি দিচ্ছেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।

ঈদুল আজহার ইতিহাস মুসলিম মিল্লাতের পিতা হযরত ইব্রাহিম (আ.) ও তাঁর পুত্র হযরত ইসমাঈল (আ.)-এর স্মৃতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। হযরত ইব্রাহিম (আ.) স্বপ্নে মহান আল্লাহর নির্দেশ পেয়ে প্রিয় পুত্র ইসমাঈল (আ.)-কে কোরবানি করতে উদ্যত হন। মূলত এটি ছিল আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি এক কঠিন পরীক্ষা।

আল্লাহর আদেশ পালনে অবিচল থেকে তিনি পুত্রকে কোরবানি দেওয়ার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেন এবং সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। পরে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে ইসমাঈল (আ.)-এর পরিবর্তে একটি পশু কোরবানির নির্দেশ দেওয়া হয়।

সেই ঐতিহাসিক ঘটনার স্মৃতিকে ধারণ করেই ইসলামি শরিয়তে কোরবানির বিধান চালু হয়। হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর সুন্নত অনুসরণ করে প্রতি বছর সামর্থ্যবান মুসলমানরা পশু কোরবানি করে থাকেন।
হজ ব্যবস্থাপনা নির্বিঘ্ন রাখতে সৌদি সরকার নিয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তা ও পরিবহন ব্যবস্থা। তীব্র গরমে হাজিদের স্বস্তি দিতে বিভিন্ন স্থানে স্থাপন করা হয়েছে পানির ফোয়ারা ও ছায়ার ব্যবস্থা। পাশাপাশি হাজিদের যাতায়াত সহজ করতে প্রায় ২৪ হাজার বিশেষ বাস পরিচালনা করছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।

কালের আলো/এসআর/এএএন 

বৈরী আবহাওয়ায় দুই নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ

মানিকগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৮:৫৬ পূর্বাহ্ণ
বৈরী আবহাওয়ায় দুই নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ

ঈদকে সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের চাপের মধ্যেই ঝড়ো হাওয়া ও ভারী বৃষ্টির কারণে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া এবং আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটে ফেরি ও লঞ্চ চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ।

বুধবার ( ২৭ মে) সকালে বৈরী আবহাওয়া শুরু হলে নিরাপত্তার স্বার্থে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সকাল ৭টা ১০ মিনিটের দিকে পশ্চিম আকাশে মেঘ জমে প্রবল ঝড় ও ভারী বৃষ্টি শুরু হয়। এমন অবস্থায় দুর্ঘটনা রোধে দুই নৌরুটে সব ধরনের নৌযান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধের ঘোষণা দেয় বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ।

বিআইডব্লিউটিসির জিএম সালাম মিয়া জানান, ঝড় ও বৃষ্টির কারণে নিরাপত্তার স্বার্থে নৌযান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে ফেরি ও লঞ্চ চলাচল আবার চালু করা হবে।

ঘাট কর্তৃপক্ষ জানায়, বর্তমানে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ও আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটে ২৩টি ফেরি, ৩২টি লঞ্চ ও ৬৭টি স্পিডবোট চলাচল করে।

কালের আলো/এএএন/এমএস

দক্ষিণ ও পূর্ব লেবাননে রাতভর হামলা ইসরায়েলের, শিশুসহ নিহত ৩১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৮:৪৭ পূর্বাহ্ণ
দক্ষিণ ও পূর্ব লেবাননে রাতভর হামলা ইসরায়েলের, শিশুসহ নিহত ৩১

হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও জোরদারে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ঘোষণা দেওয়ার পর দক্ষিণ ও পূর্ব লেবাননে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। রাতভর চালানো হামলায় শিশুসহ অন্তত ৩১ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় এপ্রিলের মাঝামাঝি কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পর এটিকে সবচেয়ে ভয়াবহ বোমাবর্ষণের একটি রাত হিসেবে দেখা হচ্ছে। হামলার পর বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বেরিয়ে পড়েন হাজারো মানুষ।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, তারা হিজবুল্লাহর ১০০টির বেশি অবকাঠামো ও যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

গত সোমবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বলেন, হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে হামলার গতি ‘আরও বাড়ানোর’ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার বৈঠকে তিনি জানান, লেবাননে ইসরায়েলের অভিযান আরও গভীরে নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘আইডিএফ স্থলভাগে বড় শক্তি নিয়ে অভিযান চালাচ্ছে এবং কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা দখল করছে। উত্তর ইসরায়েলের জনগণকে হিজবুল্লাহর হামলা থেকে রক্ষা করতে আমরা নিরাপত্তা বলয় আরও শক্তিশালী করছি।’

যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও উভয় পক্ষই বারবার তা লঙ্ঘন করেছে। এতে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির আলোচনা অনিশ্চয়তায় পড়েছে।

ইসরায়েলি হামলা প্রতিদিনই চলছে, বিশেষ করে দক্ষিণ লেবাননে। পাল্টা জবাবে হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকায় রকেট ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয় গণমাধ্যম জানায়, বেকা উপত্যকার মাশগারা গ্রাম ও দক্ষিণ লেবাননের বুর্জ আল-শামালি এলাকায় বিমান হামলা হয়েছে। কিছু হামলা ইউনেস্কো স্বীকৃত ঐতিহাসিক বিউফোর্ট দুর্গের কাছেও আঘাত হানে। প্রায় ৯০০ বছরের পুরোনো এই দুর্গ অঞ্চলটির অন্যতম সংরক্ষিত মধ্যযুগীয় স্থাপনা।

সোমবার প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় নেতানিয়াহু বলেন, ইরান-সমর্থিত শিয়া সংগঠন হিজবুল্লাহ ফাইবার-অপটিক ড্রোনসহ বিভিন্ন হামলা চালানোয় ইসরায়েল এখন হামলার সংখ্যা ও তীব্রতা বাড়াবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আমরা তাদেরকে চূর্ণবিচূর্ণ করে দেব।’

এ ঘোষণার পর বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হিজবুল্লাহর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এলাকাটি থেকে হাজারো মানুষ পরিবার নিয়ে সরে যেতে শুরু করেন। রাস্তায় দীর্ঘ যানজট দেখা যায়।

যদিও রাতভর হামলায় রাজধানী বৈরুত সরাসরি আক্রান্ত হয়নি, তবু পুরো লেবাননজুড়ে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান একের পর এক হামলা চালায়। বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৫০টি স্থানে ডজনখানেক হামলা হয়েছে।

সোমবার দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়েহ শহরে হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। সোমবার সন্ধ্যায় দক্ষিণাঞ্চলীয় আরব সালিম শহরে নিজ বাড়িতে এক ব্যক্তি ও তার স্ত্রী নিহত হন। এ ছাড়া কাওতারিয়েত এল রেজ গ্রামেও আরও দুজন নিহত হন।

রাতভর হামলায় মাশগারার বেশ কয়েকটি বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, ধ্বংসস্তূপ থেকে ১১ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন নারী ও দুই শিশু ছিল। আরও ১৫ জন আহত হয়েছেন।

আহতদের মধ্যে ছিল সাত বছরের শিশু মোহাম্মদ। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে গভীর রাতে তাকে উদ্ধারের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। হাসপাতালে শুয়ে বিবিসিকে শিশুটি বলে, ‘ঘুম ভাঙার পর আমি নড়াচড়া করতে পারছিলাম না। চারদিকে শুধু অন্ধকার ছিল। পরে উদ্ধারকর্মীদের শব্দ শুনতে পাই।’

মোহাম্মদের মাথায় ব্যান্ডেজ বাঁধা ছিল, হাত-পায়েও আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। হামলার সময় সে ঘুমিয়ে ছিল। ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে তার বাবা ও দুই বোন নিহত হন।

বর্তমানে মাশগারা যেন প্রায় জনশূন্য। রাস্তায় খুব কম যানবাহন দেখা যাচ্ছে। জীবনযাত্রা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় পৌরসভার সদস্য আহমদ সাংবাদিকদের ধ্বংসপ্রাপ্ত এলাকা ঘুরিয়ে দেখান। চারদিকে ভাঙাচোরা ঘরবাড়ি ও দোকানপাট ছড়িয়ে রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি হিজবুল্লাহর সদস্য নই। কিন্তু গ্রামের সবাই প্রতিরোধের পক্ষে। আর ইসরায়েল কাউকেই রেহাই দিচ্ছে না।’

এ সময় যুদ্ধবিমানের শব্দ শোনা গেলে এলাকাবাসী দ্রুত সরে যান। পরে সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে কাছাকাছি এলাকায় বড় বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখা যায়।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী মাশগারার আকাশ থেকে ধারণ করা ভিডিও প্রকাশ করে জানায়, সেখানে হিজবুল্লাহর অবকাঠামোতে হামলা চালানো হয়েছে এবং ‘সন্ত্রাসীদের নির্মূল করা হয়েছে।’

তাদের দাবি, দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর ব্যবহৃত ৯০টির বেশি অস্ত্রাগার, কমান্ড সেন্টার ও নজরদারি পোস্টে হামলা চালানো হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে ইসরায়েলি বাহিনী নতুন করে বিভিন্ন এলাকা খালি করার নির্দেশ দেয়। তাদের অভিযোগ, হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করছে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর আরবি ভাষার মুখপাত্র আভিচাই আদরাই বলেন, হিজবুল্লাহর ধারাবাহিক লঙ্ঘনের কারণেই ইসরায়েলি বাহিনী পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে।

অন্যদিকে হিজবুল্লাহ জানায়, ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জবাবে তারা উত্তর ইসরায়েলের তিনটি ব্যারাক ও একটি সামরিক পোস্টে হামলা চালিয়েছে।

নেতানিয়াহু এমন সময় হামলা জোরদারের নির্দেশ দেন যখন ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, দক্ষিণ লেবাননের যুদ্ধে তাদের এক সেনা নিহত হয়েছেন। ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে এখন পর্যন্ত হিজবুল্লাহর হামলায় ২৩ জন ইসরায়েলি সেনা ও একজন বেসামরিক ঠিকাদার নিহত হয়েছেন।

অন্যদিকে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, একই সময়ে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৩ হাজার ১৮৫ জন নিহত হয়েছেন। সূত্র: বিবিসি।

কালের আলো/এসআর/এএএন