খুঁজুন
                               
, ,
           

সৈন্যসামন্ত ক্রমশ হারিয়ে ফেলছেন বিসিবি প্রধান

ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:০৮ পূর্বাহ্ণ
সৈন্যসামন্ত ক্রমশ হারিয়ে ফেলছেন বিসিবি প্রধান

প্রবাসজীবনে বাংলাদেশের ক্রিকেট থেকে অনেকটাই দূরে ছিলেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল। আইসিসি’র চাকরি নিয়ে চীন, থাইল্যান্ড এসব দেশে ক্রিকেটের বিস্তারের প্রচেষ্টা করেছেন, বাংলাদেশে কোচিংয়ের দায়িত্ব পেলে বিনে পয়সায় কাজ করার কথাও বলতেন। সেই আমিনুল কোচিং নয়, পেয়ে গেলেন বাংলাদেশের ক্রিকেট প্রশাসনের সর্বোচ্চ পদ, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি হয়ে গেলেন। প্রথমে ফারুক আহমেদকে সরিয়ে, এরপর নির্বাচনের মাধ্যমে। যে নির্বাচন অনেক প্রশ্নবিদ্ধ, প্রতিপক্ষের উপস্থিতিবিহীন। অস্ট্রেলিয়ায় পরিবারের সঙ্গে মাসখানেক সময় কাটিয়ে দেশে ফিরেছেন বুলবুল, উড়িয়ে দিয়েছেন না ফেরার গুঞ্জন। তবে দেশে ফিরলেও আশেপাশে সৈন্যসামন্ত ক্রমশ হারিয়ে ফেলছেন বিসিবি’র প্রধান। বিসিবি পরিচালক ফায়াজুর রহমান মিতু পদত্যাগ করেছেন ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে। তাকে নিয়ে ২৫ সদস্যের বিসিবি পরিচালনা পর্ষদ থেকে পদত্যাগ করা পরিচালকের সংখ্যাটা বেড়ে হয়েছে ৪।

সবার আগে পদত্যাগ করেছিলেন ইশতিয়াক সাদেক। এরপর আমজাদ হোসেন। এরপর জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ কর্তৃক মনোনীত ইয়াসির মোহাম্মদ ফয়সাল। সবশেষ ফায়াজুর রহমান। তার পদত্যাগ পত্রটা এলো এমন সময় যখন বিসিবি ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ মাঠে গড়ানোর জন্য খেলোয়াড় প্রতিনিধি, ক্লাব সংগঠকদের সঙ্গে বসার একটা তারিখ নির্ধারণ করেছে। ফাইয়াজুর রহমান ছিলেন বিসিবি’র শৃংখলা কমিটির প্রধান ও ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিস এর ভাইস প্রেসিডেন্ট। বিসিবি’র পরিচালনা পর্ষদ থেকে সরে যাওয়া প্রসঙ্গে ফাইয়াজ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘আমি ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছি। এর চেয়ে বেশি কিছু বলতে চাইছি না।’

ইশতিয়াক সাদেক তার বাবা সাবেক হকি খেলোয়াড় আব্দুস সাদেক এর অসুস্থতার প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন পদত্যাগের কারণ হিসেবে। তবে ভেতরের খবর মূলত আমিনুল ইসলামের সঙ্গে দ্বন্দই তার সরে যাওয়ার প্রধান কারণ। ইশতিয়াক টি-স্পোর্টসের প্রধান নির্বাহী যা বাংলাদেশের একমাত্র ২৪ ঘন্টার খেলার চ্যানেল। বিপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি রংপুর রাইডার্স এরও তিনি প্রধান নির্বাহী। স্বার্থের সংঘাত মূলক অবস্থান নিয়ে বিসিবি প্রধানের সঙ্গে বিরোধের কারণেই তার সরে যাওয়া, এমনটাই অনেকের ধারণা। আমজাদ পদত্যাগ করেছেন তাকে না জানিয়েই বুলবুলের এনএসসি’র তদন্ত কমিটি গঠন সংক্রান্ত সংবাদ বিজ্ঞপ্তি গণমাধ্যমকে পাঠানোকে কেন্দ্র করে। ইয়াসির মোহাম্মদ ফয়সাল নির্বাচনের মাধ্যমে আসেননি, তিনি বিসিবিতে এনএসসির প্রতিনিধি।

শোনা যায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুইয়ার প্রত্যক্ষ আশীর্বাদেই তার এই পদপ্রাপ্তি। ফয়সালের বাবা মো আবুল কালাম কুমিল্লা-৯ আসন থেকে বিএনপির হয়ে জয়ী হয়ে সাংসদ হয়েছেন। উত্তরা ক্রিকেট ক্লাবের প্রতিনিধি ফায়াজুর রহমান ৪০ ভোট পেয়ে ক্লাব প্রতিনিধিদের ক্যাটাগরি-২ থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন। ৬ মাসেরও কম সময়ে ৪ জন পরিচালককে হারাল বুলবুলের নেতৃত্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ।

কালের আলো/এম/এএইচ

শীতলপাটি থেকে স্যান্ডেল, চার শিক্ষার্থীর নতুন উদ্যোগ

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:০৫ অপরাহ্ণ
শীতলপাটি থেকে স্যান্ডেল, চার শিক্ষার্থীর নতুন উদ্যোগ

শীতলপাটি মানেই যেন গ্রামবাংলার চেনা ঐতিহ্য। একসময় গরমের দিনে ঘরে ঘরে ছিল এর ব্যবহার। সময়ের সঙ্গে আধুনিক পণ্যের ভিড়ে শীতলপাটির কদর কমেছে, কমেছে এর সঙ্গে যুক্ত কারিগরদের আয়ও। তবে পুরোনো এই ঐতিহ্যকেই নতুন রূপ দিয়ে কাজে লাগানোর ভাবনা থেকে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থী।

তাঁদের উদ্যোগের নাম ‘বুনন বাজার’। শীতলপাটিকে শুধু মাদুর হিসেবে না দেখে তা দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে নিত্যব্যবহার্য পণ্য। এরই অংশ হিসেবে এবার শীতলপাটি দিয়ে তৈরি হচ্ছে স্যান্ডেল।

দলের সদস্য অপূর্ব কৃষ্ণ দে ব্যাংকিং ও ইনস্যুরেন্স বিভাগের শিক্ষার্থী। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের আবির দে, মো. আশিক মিয়া ও চৌধুরী খুবাইব বিন করিম।

ছোটবেলার পরিচয় থেকেই নতুন ভাবনা

টাঙ্গাইলের গ্রামের বাড়িতে ছোটবেলা থেকেই মূর্তা বা বেতিগাছের সঙ্গে পরিচিত অপূর্ব কৃষ্ণ দের। এই গাছের কাঁচামাল দিয়ে শীতলপাটি তৈরির প্রক্রিয়া এবং এর সঙ্গে যুক্ত কারিগরদের কাজও তিনি কাছ থেকে দেখেছেন।

সময়ের সঙ্গে শীতলপাটির ব্যবহার কমে যাওয়ায় কারিগরদের আয়েও প্রভাব পড়েছে। তখনই অপূর্বের মনে প্রশ্ন জাগে—শীতলপাটিকে যদি শুধু মাদুর হিসেবে ব্যবহার না করে আধুনিক ও নিত্যব্যবহার্য কোনো পণ্য তৈরিতে কাজে লাগানো যায়, তাহলে কেমন হয়?

সেই ভাবনা থেকেই শুরু ‘বুনন বাজার’-এর যাত্রা।

ক্লাসের আইডিয়া থেকে বাস্তব উদ্যোগ

শুরুতে এটি ছিল নিছক একটি ব্যবসায়িক ধারণা। পরে বিভিন্ন পিচিং ও প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে গিয়ে ধারণাটিকে ধীরে ধীরে বাস্তব ব্যবসার রূপ দিতে থাকেন চার শিক্ষার্থী।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এন্টারপ্রেনিউরশিপ ডেভেলপমেন্ট কোর্সও তাঁদের উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করেছে। কোর্সের ব্যবহারিক অংশে তাঁরা ‘বুনন বাজার’ নিয়ে কাজ করেন। সেখানে ক্রেতার চাহিদা, বাজারের সম্ভাবনা, প্রতিযোগিতা, ব্যবসায়িক মডেল, বিপণন, পরিচালনা, আর্থিক সম্ভাব্যতা ও ঝুঁকিসহ বিভিন্ন বিষয় বিশ্লেষণ করেন।

চৌধুরী খুবাইব বিন করিম বলেন, তাঁদের একাডেমিক যাত্রা শুধু একটি ধারণা তৈরিতে সাহায্য করেনি; বরং সেই ধারণাকে কীভাবে বাস্তবায়ন করে একটি ব্যবসায় রূপ দেওয়া যায়, সেই পথও তৈরি করেছে।

পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা থেকে পাওয়া পরামর্শ ও মতামত কাজে লাগিয়ে উদ্যোগটিকে আরও পরিণত করেন তাঁরা। দ্য আর্থ সোসাইটি ও নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের সহায়তায় গ্রিন ভয়েস মাস্টার বুটক্যাম্প থেকে এক লাখ টাকা তহবিল পাওয়ার পর শুরু হয় পণ্য তৈরির কাজ।

শীতলপাটি দিয়ে স্যান্ডেল, সহজ ছিল না পথ

শীতলপাটি থেকে স্যান্ডেল তৈরি করার কাজটি মোটেও সহজ ছিল না। শুরুতে বুনন, আকার, কাটিং, স্ট্র্যাপের অবস্থান এবং সোলের সঙ্গে পাটি যুক্ত করার পদ্ধতি নিয়ে একাধিক পরীক্ষা চালাতে হয়েছে।

শুধু সাধারণ শীতলপাটি কেটে স্যান্ডেল তৈরি করেননি তাঁরা। বরং স্যান্ডেল তৈরির উপযোগী বিশেষ ধরনের পাটি তৈরি করে সেটি ব্যবহার করেছেন।

খুবাইব বিন করিম জানান, শীতলপাটির সঠিক পরিমাপ, শেপ, ডিজাইন ও সাইজিং ঠিক করতেই সবচেয়ে বেশি সময় ও দক্ষতা প্রয়োজন হয়েছে। পাটির নিজস্ব বুনন ও টেক্সচার অক্ষুণ্ন রেখে সেটিকে পায়ের আকৃতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াই ছিল বড় চ্যালেঞ্জ।

প্রথম তৈরি স্যান্ডেলটিই চূড়ান্ত হয়নি। ব্যবহারিক পরীক্ষা ও ক্রেতাদের মতামতের ভিত্তিতে কয়েক ধাপে পরিবর্তন এনে বর্তমান নকশায় পৌঁছেছেন তাঁরা।

বর্তমানে ৬৫০ টাকা দামে শীতলপাটির স্যান্ডেল বিক্রি করছে ‘বুনন বাজার’।

প্রতিযোগিতায়ও সাফল্য

পণ্য তৈরির পাশাপাশি বাজার যাচাইয়ের কাজও করছেন উদ্যোক্তারা। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের হাল্ট প্রাইজ প্রতিযোগিতায় ‘বুনন বাজার’ প্রথম রানারআপ হয়েছে।

এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এন্টারপ্রেনিউরশিপ ডেভেলপমেন্ট ক্লাব আয়োজিত একটি প্রতিযোগিতায় সেরা আটে জায়গা করে নিয়েছেন তাঁরা। সেখানে আকিজ রিসোর্সেসের পৃষ্ঠপোষকতায় চার উদ্যোক্তাই ইন্টার্নশিপের সুযোগ পেয়েছেন।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ারেও প্রদর্শিত হয়েছে তাঁদের উদ্যোগ, যেখানে প্রশংসা পেয়েছে ‘বুনন বাজার’।

এই যাত্রায় অর্থায়নের পাশাপাশি আর্থ সোসাইটির মেন্টরশিপ ও ব্যবসায়িক দিকনির্দেশনাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে জানান উদ্যোক্তারা।

স্যান্ডেলের পর আরও পণ্য

এখন তাঁদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো পণ্যের মান বজায় রেখে উৎপাদন খরচ কমানো এবং আরও বেশি ক্রেতার কাছে পৌঁছানো।

তবে পরিকল্পনা শুধু স্যান্ডেলেই সীমাবদ্ধ রাখতে চান না তাঁরা। শীতলপাটি দিয়ে ভবিষ্যতে ব্যাগ, ঘর সাজানোর উপকরণসহ আরও নানা ধরনের পণ্য তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।

এর পাশাপাশি আরও মানুষকে যুক্ত করে প্রশিক্ষিত কারিগরদের একটি দল এবং ক্লাস্টারভিত্তিক উৎপাদনব্যবস্থা গড়ে তুলতে চান চার তরুণ উদ্যোক্তা।

খুবাইব বিন করিমের কথায়, তাঁদের স্বপ্ন শুধু ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ করা নয়; বরং নতুনভাবে সেই ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখা।

শীতলপাটির মতো গ্রামীণ ঐতিহ্যকে আধুনিক জীবনযাপনের সঙ্গে যুক্ত করার এই উদ্যোগ তাই একদিকে যেমন নতুন পণ্যের সম্ভাবনা তৈরি করছে, অন্যদিকে ঐতিহ্যবাহী কারিগরি জ্ঞানকেও নতুন বাজারের সঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি করছে।

কালের আলো/এসএ

পৈতৃক জমি একার নামে নয়, খতিয়ানে উঠবে সব ওয়ারিশ

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৫৯ অপরাহ্ণ
পৈতৃক জমি একার নামে নয়, খতিয়ানে উঠবে সব ওয়ারিশ

বাবা বা কোনো জমির মালিকের মৃত্যুর পর উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া জমি একজন ওয়ারিশের নামে এককভাবে নামজারি করার সুযোগ থাকছে না। একাধিক উত্তরাধিকারী থাকলে সবাইকে একই খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত করে যৌথ নামজারি করতে হবে। কেউ নিজের অংশ আলাদা করে পৃথক খতিয়ান করতে চাইলে নিবন্ধিত বণ্টননামা করতে হবে।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের ফেব্রুয়ারি ২০২৫-এর প্রজ্ঞাপনে আনা এই পরিবর্তন এখন কার্যকর হয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় উত্তরাধিকার সম্পত্তির সরকারি রেকর্ডে প্রত্যেক ওয়ারিশের নাম ও প্রাপ্য হিস্যা উল্লেখ করার বাধ্যবাধকতা থাকছে। ফলে অন্য উত্তরাধিকারীকে বাদ দিয়ে গোপনে জমি নিজের নামে নেওয়ার সুযোগ আগের তুলনায় কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বণ্টননামা ছাড়াই যৌথ নামজারি
নতুন নিয়মের গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, বণ্টননামা না থাকার কারণে যৌথ নামজারির আবেদন বাতিল করা যাবে না। ওয়ারিশ সনদসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকলে সব উত্তরাধিকারীর নামে একই খতিয়ানে নামজারি করতে হবে। তবে উত্তরাধিকারীরা নিজেদের মধ্যে জমি ভাগ করে পৃথক মালিকানা প্রতিষ্ঠা করতে চাইলে নিবন্ধিত বণ্টননামা বাধ্যতামূলক। অর্থাৎ এখন ওয়ারিশি জমির ক্ষেত্রে দুটি ব্যবস্থা স্পষ্ট—যৌথ মালিকানা হলে যৌথ নামজারি, আর ভাগ করা মালিকানা হলে নিবন্ধিত বণ্টননামার ভিত্তিতে পৃথক নামজারি।আগে অনেক ক্ষেত্রে বণ্টননামা না থাকার কারণ দেখিয়ে যৌথ নামজারির আবেদনও প্রত্যাখ্যান করা হতো। নতুন নির্দেশনায় সেই জটিলতা দূর করার চেষ্টা করা হয়েছে।

নারী ও দুর্বল ওয়ারিশদের অধিকার সুরক্ষার সুযোগ
ওয়ারিশি জমি নিয়ে বিরোধ ভূমি-সংক্রান্ত মামলার অন্যতম কারণ। কোনো কোনো ক্ষেত্রে একজন ওয়ারিশ অন্যদের অজ্ঞাতে জমি নিজের নামে নামজারি করে নেন। পরে বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে শুরু হয় পারিবারিক বিরোধ, যা শেষ পর্যন্ত আদালত পর্যন্ত গড়াতে পারে।

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী ইশরাত হাসানের মতে, সব ওয়ারিশকে একই খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত করার নিয়মে অন্যদের বাদ দেওয়ার সুযোগ কমবে। একই সঙ্গে বণ্টননামা না থাকার কারণে যৌথ নামজারি আটকে দেওয়ার প্রবণতাও বন্ধ হওয়ার কথা।বিশেষ করে নারী ও অপেক্ষাকৃত দুর্বল অবস্থানে থাকা ওয়ারিশদের জন্য এর গুরুত্ব রয়েছে। সরকারি রেকর্ডেই তাদের নাম ও হিস্যা থাকলে সম্পত্তির অধিকার গোপন বা অস্বীকার করা তুলনামূলক কঠিন হবে।

বাস্তবায়নেই বড় পরীক্ষা
অনলাইনে নামজারির আবেদন করা যায় এবং সাধারণত ২৮ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে তা নিষ্পত্তির লক্ষ্য রয়েছে। তবে জমি নিয়ে বিরোধ, অসম্পূর্ণ কাগজপত্র বা তথ্য যাচাইয়ের জটিলতায় সময় বাড়তে পারে। উত্তরাধিকারসূত্রে নামজারির ক্ষেত্রে সাধারণত ওয়ারিশ সনদ, মৃত্যুসনদ, আগের খতিয়ান, দাগের তথ্য, জাতীয় পরিচয়পত্র এবং সংশ্লিষ্ট দলিল প্রয়োজন হয়। পরিবারের কোনো সদস্য বিদেশে থাকলে বা প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহে সমস্যা হলে যৌথ নামজারি জটিল হতে পারে।

পৃথক খতিয়ানের জন্য নিবন্ধিত বণ্টননামা বাধ্যতামূলক হওয়ায় সময় ও খরচও বাড়বে। ফলে নতুন বিধানের পাশাপাশি ভূমি অফিসের জনবল, যাচাই সক্ষমতা ও ডিজিটাল সেবা জোরদার করাও জরুরি। শেষ পর্যন্ত নতুন ব্যবস্থার সাফল্য নির্ভর করবে একটি বিষয়েই—প্রত্যেক প্রকৃত ওয়ারিশের নাম ও হিস্যা সরকারি রেকর্ডে কতটা নির্ভুলভাবে উঠে আসে। কারণ খতিয়ানে একটি নাম বাদ পড়া কখনো কখনো একটি পরিবারের দীর্ঘস্থায়ী বিরোধের সূত্রপাত ঘটাতে পারে।

কালের আলো/এম/এএইচ

ম্যাকলমোর ইস্যুতে অবশেষে মুখ খুললেন এড শিরান

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৫৮ অপরাহ্ণ
ম্যাকলমোর ইস্যুতে অবশেষে মুখ খুললেন এড শিরান

ম্যাকলমোরকে নিজের চলমান ‘লুপ ট্যুর’ থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় তুমুল বিতর্কের মধ্যে অবশেষে মুখ খুলেছেন ব্রিটিশ সংগীতশিল্পী এড শিরান। যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় শনিবারের কনসার্টে মঞ্চে উঠে এ বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন তিনি। শিরান জানান, কখনোই নিজেকে ‘অ্যাকটিভিস্ট মিউজিশিয়ান’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাননি। তবে বর্তমান মানবিক সংকট তাঁকে নীরব থাকার সুযোগ দিচ্ছে না।

ফিলাডেলফিয়ার কনসার্টে দর্শকদের উদ্দেশে শিরান বলেন, তিনি তাঁর ক্যারিয়ারে রাজনৈতিক ভাষ্যকারের ভূমিকা নিতে চাননি। তাঁর কাছে গান ও কনসার্ট হওয়া উচিত ঐক্যের জায়গা। কিন্তু গাজায় চলমান পরিস্থিতিকে তিনি মানবিক সংকট হিসেবে দেখছেন এবং এ বিষয়ে নিজের অনুভূতি আর গোপন রাখতে পারছেন না।

বিতর্কের সূত্রপাত সেপ্টেম্বরের শুরুতে। গাজায় ফিলিস্তিনিদের প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন জানিয়ে একটি মঞ্চ পরিবেশনায় ম্যাকলমোর সেখানকার পরিস্থিতিকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভকারীদের প্রতি সংহতি জানান। এর পরই এড শিরানের ‘লুপ ট্যুর’ থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

তবে শিরান স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ম্যাকলমোরকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত তাঁর নয়। সফরের আয়োজক মেসিনা ট্যুরিং গ্রুপই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানান তিনি। আয়োজকদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি ভেন্যু ম্যাকলমোরকে নিয়ে অনুষ্ঠান আয়োজন করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। এর মধ্যে ম্যাসাচুসেটসের গিলেট স্টেডিয়ামও ছিল।

গিলেট স্টেডিয়ামের মালিক ও নিউ ইংল্যান্ড প্যাট্রিয়টসের কর্ণধার রবার্ট ক্র্যাফটও ম্যাকলমোরের পারফরম্যান্স বাতিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি ম্যাকলমোরের বক্তব্যকে ‘হেট স্পিচ’ হিসেবে আখ্যা দেন এবং অভিযোগ করেন, তাঁর বক্তব্যে হামাসের কর্মকাণ্ডের বিষয়টি উপেক্ষা করা হয়েছে।

ম্যাকলমোরের পক্ষে শিল্পীদের সরে দাঁড়ানো

ম্যাকলমোরকে সফর থেকে বাদ দেওয়ার পর এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে কয়েকজন শিল্পীও ‘লুপ ট্যুর’ থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আইরিশ গায়ক-গীতিকার অ্যারন রো এবং ড্যানিশ সংগীতশিল্পী লুকাস গ্রাহাম ও তাঁর ব্যান্ডের সদস্যরা।

তাঁদের বক্তব্য, ম্যাকলমোরকে সফর থেকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনা শিল্পীদের স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

এদিকে শনিবারের কনসার্টে শিরান স্বীকার করেন, সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে তাঁকে কঠিন কিছু সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। এ নিয়ে ভুল হয়ে থাকলে তার জন্য দুঃখও প্রকাশ করেন তিনি।

ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন নিয়ে শিরানের বক্তব্য

ফিলাডেলফিয়ার মঞ্চে শিরান ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন প্রসঙ্গেও নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে ইসরায়েলে চালানো হামলাকে তিনি ‘ভয়াবহ’ বলে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে গাজায় চলমান পরিস্থিতিকে ‘বিপর্যয়কর, অযৌক্তিক ও অসমানুপাতিক’ বলে মন্তব্য করেন।

শিরানের ভাষায়, ইসরায়েলে ৭ অক্টোবরের হামলা ভয়াবহ ছিল এবং ইহুদি জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের যন্ত্রণাকে আরও গভীর করেছে।

গাজার পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, সেখানে ধ্বংসযজ্ঞের মাত্রা, বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি এবং বিশেষ করে শিশুদের মৃত্যু তাঁকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে। পশ্চিম তীরে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, সেটিও উপেক্ষা করা যায় না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তবে একই সঙ্গে এ বিষয়ে তাঁর জ্ঞান সীমিত বলেও স্বীকার করেছেন শিরান। তিনি জানান, কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের উপকারে আসা যায়, তা বোঝার চেষ্টা করছেন এবং এ বিষয়ে তিনি শুনছেন ও শিখছেন।

‘আমি জানতাম না সফর চলবে কি না’

ম্যাকলমোরকে বাদ দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্কের প্রভাব যে তাঁর ওপরও পড়েছে, সেটি কনসার্টে স্বীকার করেন শিরান।

দর্শকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, একপর্যায়ে তিনি নিশ্চিত ছিলেন না ‘লুপ ট্যুর’ আদৌ চলবে কি না। এমনকি শিল্পী হিসেবে আবার মঞ্চে ফিরতে চান কি না, তা নিয়েও সংশয়ে ছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত ভক্তদের প্রতি দায়বদ্ধতার কথা মাথায় রেখে তিনি মঞ্চে ফিরেছেন।

শিরান আরও বলেন, তাঁর কনসার্ট এমন একটি জায়গা হওয়া উচিত, যেখানে সবাই স্বাগত এবং ভিন্নমতের মানুষও পাশাপাশি দাঁড়াতে পারেন।

কনসার্টের বাইরে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভ

শিরানের বক্তব্যের মধ্যেই ফিলাডেলফিয়ার কনসার্টের বাইরে বিক্ষোভও হয়েছে। কয়েকজন বিক্ষোভকারী ফিলিস্তিনের পতাকা নিয়ে অবস্থান নেন। তাঁদের একজন বিবিসিকে বলেন, ফিলিস্তিনি জনগণের সংগ্রামের প্রতি সমর্থন জানাতেই তাঁরা সেখানে এসেছেন।

তাঁদের মতে, ম্যাকলমোরের মতো শিল্পীদের নিজস্ব মঞ্চ ব্যবহার করে ফিলিস্তিনিদের কথা বলার সুযোগ থাকা উচিত।

অন্যদিকে কনসার্টে আসা কয়েকজন দর্শক জানান, তাঁরা সংগীত উপভোগের পাশাপাশি শিল্পীদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকেও গুরুত্ব দেন।

বিতর্কের মধ্যেই এড শিরানের ‘লুপ ট্যুর’-এর বাকি আয়োজন উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকায় চলবে। তবে বিতর্কের প্রভাব টিকিট বিক্রিতেও পড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফিলাডেলফিয়ার কনসার্টের কিছু টিকিটের দাম ৩২ ডলার পর্যন্ত নেমে আসে। কিছু দর্শক টিকিটের অর্থ ফেরত পাওয়ার কথাও জানিয়েছেন। যদিও টিকিটমাস্টার ও মেসিনা ট্যুরিং গ্রুপ এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো নিশ্চয়তা দেয়নি।

সূত্র: বিবিসি

কালের আলো/এসএ