খুঁজুন
                               
রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

সৈন্যসামন্ত ক্রমশ হারিয়ে ফেলছেন বিসিবি প্রধান

ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:০৮ পূর্বাহ্ণ
সৈন্যসামন্ত ক্রমশ হারিয়ে ফেলছেন বিসিবি প্রধান

প্রবাসজীবনে বাংলাদেশের ক্রিকেট থেকে অনেকটাই দূরে ছিলেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল। আইসিসি’র চাকরি নিয়ে চীন, থাইল্যান্ড এসব দেশে ক্রিকেটের বিস্তারের প্রচেষ্টা করেছেন, বাংলাদেশে কোচিংয়ের দায়িত্ব পেলে বিনে পয়সায় কাজ করার কথাও বলতেন। সেই আমিনুল কোচিং নয়, পেয়ে গেলেন বাংলাদেশের ক্রিকেট প্রশাসনের সর্বোচ্চ পদ, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি হয়ে গেলেন। প্রথমে ফারুক আহমেদকে সরিয়ে, এরপর নির্বাচনের মাধ্যমে। যে নির্বাচন অনেক প্রশ্নবিদ্ধ, প্রতিপক্ষের উপস্থিতিবিহীন। অস্ট্রেলিয়ায় পরিবারের সঙ্গে মাসখানেক সময় কাটিয়ে দেশে ফিরেছেন বুলবুল, উড়িয়ে দিয়েছেন না ফেরার গুঞ্জন। তবে দেশে ফিরলেও আশেপাশে সৈন্যসামন্ত ক্রমশ হারিয়ে ফেলছেন বিসিবি’র প্রধান। বিসিবি পরিচালক ফায়াজুর রহমান মিতু পদত্যাগ করেছেন ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে। তাকে নিয়ে ২৫ সদস্যের বিসিবি পরিচালনা পর্ষদ থেকে পদত্যাগ করা পরিচালকের সংখ্যাটা বেড়ে হয়েছে ৪।

সবার আগে পদত্যাগ করেছিলেন ইশতিয়াক সাদেক। এরপর আমজাদ হোসেন। এরপর জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ কর্তৃক মনোনীত ইয়াসির মোহাম্মদ ফয়সাল। সবশেষ ফায়াজুর রহমান। তার পদত্যাগ পত্রটা এলো এমন সময় যখন বিসিবি ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ মাঠে গড়ানোর জন্য খেলোয়াড় প্রতিনিধি, ক্লাব সংগঠকদের সঙ্গে বসার একটা তারিখ নির্ধারণ করেছে। ফাইয়াজুর রহমান ছিলেন বিসিবি’র শৃংখলা কমিটির প্রধান ও ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিস এর ভাইস প্রেসিডেন্ট। বিসিবি’র পরিচালনা পর্ষদ থেকে সরে যাওয়া প্রসঙ্গে ফাইয়াজ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘আমি ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছি। এর চেয়ে বেশি কিছু বলতে চাইছি না।’

ইশতিয়াক সাদেক তার বাবা সাবেক হকি খেলোয়াড় আব্দুস সাদেক এর অসুস্থতার প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন পদত্যাগের কারণ হিসেবে। তবে ভেতরের খবর মূলত আমিনুল ইসলামের সঙ্গে দ্বন্দই তার সরে যাওয়ার প্রধান কারণ। ইশতিয়াক টি-স্পোর্টসের প্রধান নির্বাহী যা বাংলাদেশের একমাত্র ২৪ ঘন্টার খেলার চ্যানেল। বিপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি রংপুর রাইডার্স এরও তিনি প্রধান নির্বাহী। স্বার্থের সংঘাত মূলক অবস্থান নিয়ে বিসিবি প্রধানের সঙ্গে বিরোধের কারণেই তার সরে যাওয়া, এমনটাই অনেকের ধারণা। আমজাদ পদত্যাগ করেছেন তাকে না জানিয়েই বুলবুলের এনএসসি’র তদন্ত কমিটি গঠন সংক্রান্ত সংবাদ বিজ্ঞপ্তি গণমাধ্যমকে পাঠানোকে কেন্দ্র করে। ইয়াসির মোহাম্মদ ফয়সাল নির্বাচনের মাধ্যমে আসেননি, তিনি বিসিবিতে এনএসসির প্রতিনিধি।

শোনা যায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুইয়ার প্রত্যক্ষ আশীর্বাদেই তার এই পদপ্রাপ্তি। ফয়সালের বাবা মো আবুল কালাম কুমিল্লা-৯ আসন থেকে বিএনপির হয়ে জয়ী হয়ে সাংসদ হয়েছেন। উত্তরা ক্রিকেট ক্লাবের প্রতিনিধি ফায়াজুর রহমান ৪০ ভোট পেয়ে ক্লাব প্রতিনিধিদের ক্যাটাগরি-২ থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন। ৬ মাসেরও কম সময়ে ৪ জন পরিচালককে হারাল বুলবুলের নেতৃত্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ।

কালের আলো/এম/এএইচ

সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় যা জানালো আদ্-দ্বীন হাসপাতাল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ২:২০ পূর্বাহ্ণ
সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় যা জানালো আদ্-দ্বীন হাসপাতাল

রাজধানীর মগবাজারে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগের ঘটনায় নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে ব্যাখ্যা দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

একই সঙ্গে ৩০ মে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য দুঃখও প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

শনিবার (৩০ মে) আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশনের পরিচালক (এইচআর অ্যান্ড কোম্পানি অ্যাফেয়ার্স) তারিকুল ইসলাম মুকুল স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।

এতে বলা হয়, গত ২৭ মে হাসপাতালে ছয় নবজাতকের দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, পুলিশ, র‌্যাবসহ বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা হাসপাতাল পরিদর্শন করেন।

পাশাপাশি সরকার এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। এর ফলে কয়েকদিন ধরে হাসপাতালজুড়ে বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের আসা-যাওয়া এবং বিপুলসংখ্যক সাংবাদিকের উপস্থিতি ছিল।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, এ পরিস্থিতিতে চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য সেবাকর্মীরা মানসিক চাপের মধ্যে দায়িত্ব পালন করছিলেন। একই সঙ্গে হাসপাতালে ভর্তি রোগী ও সেবা নিতে আসা ব্যক্তিদেরও নানা ধরনের অসুবিধার মুখোমুখি হতে

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শনিবার স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে চলে যাওয়ার পর বিপুলসংখ্যক সাংবাদিক হাসপাতালে প্রবেশের চেষ্টা করেন। তখন চিকিৎসাধীন রোগীদের স্বার্থে সাংবাদিকদের হাসপাতালে প্রবেশ থেকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করা হয়।

হাসপাতালের ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময় কর্মীদের সঙ্গে সাংবাদিকদের কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে একজন সাংবাদিক পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ‘ঝাড়ুদার’ বলে সম্বোধন করেন। এতে তারা নিজেদের অপমানিত বোধ করে উত্তেজিত হয়ে পড়েন এবং সাংবাদিকদের হাসপাতাল ত্যাগের অনুরোধ জানান। পরে হাসপাতালের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কর্মীদের শান্ত করার উদ্যোগ নেন।

বিজ্ঞপ্তিতে আদ্-দ্বীন হাসপাতাল জানায়, প্রতিষ্ঠানটি সবসময় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক বজায় রেখে কাজ করে। এরপরও ৩০ মে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য তারা আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছে।

কর্মীদের অনিচ্ছাকৃত আচরণে কোনো গণমাধ্যমকর্মী কষ্ট পেয়ে থাকলে তারা বিষয়টি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন বলে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

আদ্-দ্বীন হাসপাতালে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, আহত কয়েকজন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ১২:০৬ পূর্বাহ্ণ
আদ্-দ্বীন হাসপাতালে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, আহত কয়েকজন

রাজধানীর আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে কয়েকজন সাংবাদিক আহত হয়েছেন।

শনিবার (৩০ মে) সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে।

সম্প্রতি হাসপাতালটিতে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় পরিদর্শনে আসেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। পরিদর্শনের সময় তিনি হাসপাতালের একটি ভবনে অবৈধ বিস্কুট কারখানা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

পরে এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে চাইলে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্টাফ নার্সদের সাংবাদিকদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়ান।

একপর্যায়ে তারা সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হন এবং লাঠিসোঁটা নিয়ে ধাওয়া করেন। এতে কয়েকজন সাংবাদিক আহত হয়েছেন। হামলার শিকার হওয়াদের মধ্যে টাইমস অফ বাংলাদেশ স্টাফ রির্পোটার কাজী জাহিদ, দীপ্ত টিভির ক্যামেরাপারসন আহত, বৈশাখী টিভির ক্যামেরা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

ঘটনাস্থলে দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

আবারও মনুষ্যত্ববোধ ও সহমর্মিতার দৃষ্টান্ত তথ‍্য প্রতিমন্ত্রীর 

বিশেষ সংবাদদাতা/ময়মনসিংহ প্রতিবেদক, কালের আলো:
প্রকাশিত: শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬, ১১:৪৮ অপরাহ্ণ
আবারও মনুষ্যত্ববোধ ও সহমর্মিতার দৃষ্টান্ত তথ‍্য প্রতিমন্ত্রীর 

তিনি সরকারের প্রতিমন্ত্রী। কিন্তু তাঁর রাজনৈতিক জীবন ছকে বাঁধা নয় মোটেও। সবার উর্ধ্বে দায়িত্ব ও মানবিকতাকে স্থান দিয়ে মন্ত্রীত্বের পুরাতন সব রীতি ভেঙে দিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। সব সময় নিজ নির্বাচনী এলাকার ‘মাটির মানুষ’ হিসেবে মানুষের কাছাকাছি তিনি। ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল) আসনের এই সংসদ সদস্য এলাকার সাধারণ মানুষের শেষ বিদায়ে অংশগ্রহণের পাশাপাশি নিজের কাঁধেই তিনি লাশ বহন করেছেন। দাফন কাজে নিজের সক্রিয় উপস্থিতির পাশাপাশি কবরে শায়িত করতে নেমে গেছেন। প্রকৃত মনুষ্যত্ববোধের পরিচয় দিচ্ছেন।

চলতি বছরের ২৭ মার্চ থেকে ২৯ মে। দেখতে দেখতে কেটে গেছে দু’মাস। এ সময়ে নিজ কাঁধে খাটিয়া বহন করে দুটি মরদেহ দাফন কাজে অংশ নিয়ে অনন্য মানবিক নজির স্থাপন করেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। প্রথমটি উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নে ২৭ মার্চ। অন্যটি গত ২৯ মে নান্দাইল উপজেলার মোয়াজ্জেমপুর এলাকায়। প্রটোকলের চিরায়ত প্রথা ভেঙেছেন।

শুক্রবার (২৯ মে) নান্দাইল উপজেলার মোয়াজ্জেমপুর এলাকায় মরহুম আব্দুল হামিদের জানাজায় অংশ নেন প্রতিমন্ত্রী। জানাজা শেষে মরহুমের মরদেহ কবরস্থানে নেওয়ার সময় তিনি নিজ কাঁধে খাটিয়া তুলে নেন এবং অন্যদের সঙ্গে মরদেহ বহন করেন। কোনো দ্বিধা বা সংকোচ না করে নিজেই কবরে নেমে পড়েন। মরদেহ খাটিয়া থেকে নামিয়ে কবরে শায়িত করার কাজে সরাসরি শরিক হন। এ সময় প্রতিমন্ত্রী শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।

মৃতের স্বজনদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও প্রতিমন্ত্রীর এই মানবিকতা ও উদারতা অপার বিস্ময়ে উপভোগ করলেন। মুহুর্তেই সেই ছবি ছড়িয়ে পড়লো সোশ্যাল হ্যাণ্ডেলে। নেটিজেনরা সরকারের একজন প্রতিমন্ত্রীর এমন অনন্য মানবিকবোধ নিয়ে মেতে উঠলেন প্রশংসায়। কেউ কেউ বলছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মতোই তার এই প্রতিমন্ত্রীও অতি সাধারণ। যোগ্য ব্যক্তিই ক্যাবিনেটে স্থান পেয়েছে।’

সরকারের একজন প্রতিমন্ত্রীকে এভাবে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে দাফন কাজে অংশ নিতে দেখে সবাই অভিভূত। অতীতে কোন মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রীকে এভাবে দেখেনি মানুষ। জনতার নেতা হিসেবে সাধারণ মানুষের প্রতি তার এই শ্রদ্ধা-ভালোবাসা নান্দাইলবাসীর কাছে এক বিমুগ্ধ বিস্ময়।

স্থানীয়রা বলছেন, এখনও অনেক রাজনীতিকের ভেতরে দয়া-মায়া, ভালোবাসা ও সহমর্মিতা আছে। মনুষ্যত্ববোধ যে টিকে আছে তার বড় এক উদাহরণ প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। রাজনৈতিক নেতৃত্বের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনে এই মানবিকবোধ নতুন প্রজন্মের কাছে অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।

কালের আলো/এমএএএমকে