খুঁজুন
                               
মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬, ৫ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

ইন্টারনেট সস্তা না হলে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয় : বিটিআরসি চেয়ারম্যান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ১:৩৮ অপরাহ্ণ
ইন্টারনেট সস্তা না হলে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয় : বিটিআরসি চেয়ারম্যান

ইন্টারনেটের উচ্চমূল্য দেশের ডিজিটাল রূপান্তর ও সামগ্রিক উন্নয়নের অন্যতম বড় বাধা বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারী।

তিনি বলেছেন, ইন্টারনেট সেবা সবার নাগালের মধ্যে না আনতে পারলে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই এর দাম জলের মতো সস্তা করে দিতে হবে।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘ব্রডব্যান্ড এক্সপো ২০২৬’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

বিটিআরসি চেয়ারম্যান বলেন, গত তিন দশকে দেশের টেলিকম খাতের বড় পরিবর্তন হয়েছে। শুরুতে মানুষের প্রধান চাহিদা ছিল শুধু যোগাযোগ স্থাপন বা ভয়েস কানেক্টিভিটি। মোবাইল প্রযুক্তির বিস্তারের মাধ্যমে সেই চাহিদা পূরণ হয়। পরবর্তীতে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের ধারণা সামনে আসায় দেশের প্রায় সব মানুষ কোনো না কোনোভাবে যোগাযোগের আওতায় এসেছে। তবে একসময় ইন্টারনেটকে কেবল একটি সংযোগ সেবা হিসেবে দেখা হলেও এখন তা সম্পূর্ণ ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে। বর্তমানে ডেটা ‘নতুন জ্বালানি’ হিসেবে কাজ করছে। কারণ, এই ডেটা-নির্ভর প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করেই বিশ্বজুড়ে ডিজিটাল সেবার বিশাল এক ইকোসিস্টেম গড়ে উঠেছে।

এমদাদ উল বারী বলেন, শুধু সংযোগ প্রদান যথেষ্ট নয় সেই সংযোগ হতে হবে উচ্চগতির, নির্ভরযোগ্য এবং সাশ্রয়ী। ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, ব্যাংকিংসহ সব খাতেই এখন মানসম্মত ইন্টারনেট অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে সিস্টেম পরিচালনার ক্ষেত্রে ফিক্সড ব্রডব্যান্ডের কোনো বিকল্প নেই।

ইন্টারনেটের দাম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে ইন্টারনেটের মূল্য আরও কমিয়ে আনতে হবে। ইন্টারনেটের দাম জলের দামের মতো হতে হবে। যদিও আইএসপিরা দীর্ঘদিন ধরে মূল্য স্থিতিশীল রেখেছে, তবু কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের জন্য এটি আরও সাশ্রয়ী করা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, টেলিকম খাত একটি ‘এনাবলিং সেক্টর’। যা অন্যান্য সব খাতের উন্নয়নে ভূমিকা রাখে। তাই এই খাতে বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টিভঙ্গিও আলাদা হওয়া উচিত। গ্রাহকের কাছ থেকে শুধু লাভ আদায়ের পরিবর্তে এমন সেবা দিতে হবে, যা মানুষের জীবনমান ও আয়ের সুযোগ বাড়ায়।

গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, শুধু বিনোদন নয়, কৃষি, বাজারব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার মতো প্রয়োজনীয় সেবাগুলো ডিজিটাল মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়ার দিকে গুরুত্ব দিতে হবে। এতে গ্রামীণ অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে। দেশে ব্রডব্যান্ড বিস্তারে আইএসপিরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে এবং এই খাতে ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও এই খাত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।

লাইসেন্সিং নীতিমালা সংস্কারের বিষয়েও তিনি আভাস দেন। বলেন, নতুন নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে এবং এটি বাস্তবায়িত হলে বাজার আরও প্রতিযোগিতামূলক ও গতিশীল হবে। একই সঙ্গে অবকাঠামো ভাগাভাগি (ইনফ্রাস্ট্রাকচার শেয়ারিং) বাড়ানোর দিকেও জোর দেওয়া হচ্ছে।

দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের একজন শিক্ষার্থীও যদি উচ্চগতির ইন্টারনেট ব্যবহার করে প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবন করতে পারে, তবে সেটিই হবে প্রকৃত ডিজিটাল বাংলাদেশের প্রতিফলন। এজন্য সরকার, খাতসংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তা ও নীতিনির্ধারকদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান এ. আসাদ, ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব আবদুন নাসের খান এবং আইএসপিএবির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল করিম ভূঁইয়া।

কালের আলো/এসএকে

সরকার মহাকাশ প্রযুক্তিকে বিলাসিতা হিসেবে নেয়নি: আইসিটি মন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬, ১০:২১ অপরাহ্ণ
সরকার মহাকাশ প্রযুক্তিকে বিলাসিতা হিসেবে নেয়নি: আইসিটি মন্ত্রী

বাংলাদেশের মহাকাশ, স্যাটেলাইট ও ড্রোন প্রযুক্তির উন্নয়নে সরকার বহুমাত্রিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের (আইসিটি) মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।

তিনি বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়নের এই যুগে স্যাটেলাইট, ড্রোন ও স্পেস টেকনোলজি শুধু বিলাসিতা নয়, বরং জাতীয় উন্নয়ন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, কৃষি, মৎস্য, যোগাযোগ ও নিরাপত্তা খাতে অপরিহার্য অবকাঠামো হিসেবে কাজ করছে।

সোমবার (১৮ মে) রাজধানীতে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) ভবনে অনুষ্ঠিত ‘স্যাটেলাইট, ড্রোনস অ্যান্ড ফিউচার স্পেস টেকনোলজি ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, স্যাটেলাইট প্রযুক্তির মাধ্যমে দুর্যোগ পূর্বাভাস, নদীভাঙন পর্যবেক্ষণ, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, উপকূলীয় নিরাপত্তা এবং গভীর সমুদ্রে অবস্থানরত জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। সরকার ইতোমধ্যে সাইক্লোন ও বৈরী আবহাওয়ার পূর্বাভাস দ্রুত জেলেদের কাছে পৌঁছে দিতে কার্যক্রম হাতে নিয়েছে।

ড্রোন প্রযুক্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ড্রোন এখন শুধু ফটোগ্রাফি বা বিনোদনের যন্ত্র নয়; এটি সীমান্ত নিরাপত্তা, কৃষি ব্যবস্থাপনা, জরিপ কার্যক্রম ও দুর্যোগ মোকাবিলায় কার্যকর প্রযুক্তিগত প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

মন্ত্রী জানান, সরকার ভবিষ্যতে লো আর্থ অরবিট ভিত্তিক নতুন স্যাটেলাইট স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে, যাতে আরও স্পষ্ট ও কার্যকর তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা যায়। একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও প্রযুক্তি খাত সংশ্লিষ্টদের সমন্বয়ে স্পেস ডাটা ও অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহারে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে কি নোট স্পিকার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড(বিএসসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. ইমাদুর রহমান।

এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেমিনারের আয়োজক ও সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বাংলাদেশের মহাকাশ প্রযুক্তির সম্ভাবনা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণ এবং প্রযুক্তি উদ্ভাবনে তরুণ প্রকৌশলীদের সম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

নাফ নদী থেকে ৪ জেলেকে ধরে নিয়ে গেলো আরাকান আর্মি

কক্সবাজার ( টেকনাফ) প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬, ৯:৫৫ অপরাহ্ণ
নাফ নদী থেকে ৪ জেলেকে ধরে নিয়ে গেলো আরাকান আর্মি

কক্সবাজারের টেকনাফের নাফ নদী থেকে ২টি ইঞ্জিনচালিত নৌকাসহ ৪ বাংলাদেশি জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে আরাকান আর্মি। সোমবার (১৮ মে) দুপুরের দিকে টেকনাফ সদর ইউনিয়ন সংলগ্ন নাফনদী এলাকা থেকে তাদের ধরে নিয়ে যায়।

জেলেরা হলেন- টেকনাফ পৌরসভা জালিয়া বাসিন্দা মো. মনির আহমেদ (৪৫), মো. ইয়াছিন (১৮), আব্দুল মালেক প্রকাশ শফা (৫০) ও জামাল হোসেন (৪০)।

জেলে করিম উল্লাহ জানান, সোমবার দুপুরের দিকে টেকনাফ সদর ইউনিয়ন সংলগ্ন নাফ নদীতে জেলেরা মাছ ধরছিলেন। এসময় সশস্ত্র আরাকান আর্মির সদস্যরা দুটি নৌকাসহ ৪ জন বাংলাদেশি জেলেকে ধাওয়া করে নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

টেকনাফ উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. ওবায়দুল হক বলেন, আরাকান আর্মির হাতে ৪ জেলে আটকের খবর শুনেছি। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো জেলের পরিবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।

কালের আলো/এসআইপি

২৪ ঘণ্টায় হাম রোগে মৃত্যু ৫, হাসপাতালে ভর্তি ৮৯

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬, ৯:৪২ অপরাহ্ণ
২৪ ঘণ্টায় হাম রোগে মৃত্যু ৫, হাসপাতালে ভর্তি ৮৯

গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে হাম সন্দেহে আরও পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার (১৮ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা এক হাজার ৪০৫ জন এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ১৮ মে পর্যন্ত সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা ৫৪ হাজার ৯১১ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ৮৯ জন, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৮ মে পর্যন্ত নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা সাত হাজার ৮৫৬ জন।

১৫ মার্চ থেকে ১৮ মে পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪২ হাজার ৮৬৮ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৩৮ হাজার ৯৮০ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে আরও পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৫ মার্চ থেকে ১৮ মে পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে মোট ৩৮৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি এবং ১৫ মার্চ থেকে ১৮ মে পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ৭৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।

কালের আলো/এমএইচ/এএএন