পরীবাগ ফুটওভার ব্রিজ যেন জীবন্ত ‘মরণ ফাঁদ’
রাজধানীর পরীবাগ ফুটওভার ব্রিজ। ব্যস্ততম সড়কের বুকে সংস্কারের অভাবে লোহার জং ধরা এক কাঠামো। এখন জীবন্ত এক ‘মরণ ফাঁদে’ পরিণত হয়েছে। যে ব্রিজটি হওয়ার কথা ছিল স্বস্তির প্রতীক, সেটি যেন নিঃশব্দে কোনো বড় দুর্ঘটনার অপেক্ষায় প্রহর গুনছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, অনেক জায়গায় তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। নিচ দিয়ে শোঁ শোঁ শব্দে বয়ে যাওয়া দ্রুতগামী বাস-ট্রাক দেখা যায় ওই গর্তের ফাঁক দিয়ে। অসাবধানতায় একটি পা পিছলে গেলেই বড় ধরনের অঙ্গহানি কিংবা নিশ্চিত মৃত্যু। বিশেষ করে রাতের অন্ধকারে বা বৃষ্টির দিনে এই ফাঁদগুলো চেনা দায় হয়ে পড়ে।
পরীবাগের বাসিন্দা ও নিয়মিত এই ব্রিজ ব্যবহারকারী রফিকুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘রাস্তা পারাপারের প্রধান মাধ্যম এই ব্রিজটি। দীর্ঘদিন ধরে এর বেহাল দশা। অনেক মানুষই জানেন না যে, ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ। কেউ কেউ তো না জেনেই উঠে পড়ে ব্রিজে। এই ব্রিজ দিয়ে পার হওয়া মানে জীবন হাতে নিয়ে চলা। যেকোনো সময় যে কেউ নিচে পড়ে প্রাণ হারাতে পারে। অথচ, বাধ্য হয়েই এই ঝুঁকিপূর্ণ পথ ব্যবহার করছে অনেকে।’
সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েন বয়স্ক মানুষ, নারী ও শিশুরা। ব্রিজটি ব্যবহার করতে না পারায় ব্যস্ত রাস্তাটি পায়ে হেঁটে পারাপার হতে হচ্ছে তাদের। আবার অনেকেই না জেনে ব্রিজটিতে উঠে পড়ছেন বিপদে। আবার কেউ কেউ মাঝ পথে গিয়ে অবস্থা বেগতিক দেখে নেমে পড়ছেন। লোহার পাতের ধারালো অংশগুলো জেগে আছে বর্শার মতো।
অন্ধকার নামার সঙ্গে সঙ্গে এই ব্রিজটি যেন এক অনিরাপদ জোনে পরিণত হয়। ব্রিজটির এই বেহাল দশায় অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে এখানে বেড়েছে ছিনতাইকারী ও মাদকসেবীদের উৎপাত। সাধারণ পথচারীদের জন্য এই ব্রিজ এখন এক অবর্ণনীয় ভোগান্তির নাম। ফলে সাধারণ মানুষের জন্য যেন আরও ক্ষতিকর রূপ ধারণ করছে। এছাড়া, কেউ ব্রিজটি পাড় হতে গিয়ে ঘটতে পারে প্রাণহানি।

জানতে চাইলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘এটিসহ আরও সাতটি ফুটওভার ব্রিজ মেরামতের কাজ হাতে নিয়েছি। ওয়ার্ক অর্ডার হয়ে গেছে। এর মধ্যে সবার আগে পরীবাগের ফুটওভার ব্রিজের অগ্রাধিকার আগে দিতে বলেছি।’
কালের আলো/এম/এএইচ


আপনার মতামত লিখুন
Array