খুঁজুন
                               
রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

সরকারকে ২০ হাজার কোটি টাকা ছাপিয়ে দেওয়ার তথ্য সঠিক নয়: গভর্নর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:০২ অপরাহ্ণ
সরকারকে ২০ হাজার কোটি টাকা ছাপিয়ে দেওয়ার তথ্য সঠিক নয়: গভর্নর

সরকারকে ২০ হাজার কোটি টাকা ছাপিয়ে দেওয়ার যে খবর সম্প্রতি বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচারিত হচ্ছে, তা সঠিক নয় বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। তিনি বলেন, বাস্তবতার সঙ্গে এর কোনো মিল নেই।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) সচিবালয়ে প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের সম্পাদক ও প্রধান নির্বাহীদের সঙ্গে অর্থ মন্ত্রণালয় আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সভায় সভাপতিত্ব করেন।

গভর্নর বলেন, দেশের ব্যাংকিং খাত বর্তমানে একটি জটিল পরিস্থিতির মধ্যদিয়ে যাচ্ছে। উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ঋণখেলাপির আওতায় থাকলেও এর একটি বড় অংশের বিপরীতে কোনো দৃশ্যমান সম্পদ বা যথাযথ কাগজপত্র নেই।

ফলে এসব ঋণকে প্রচলিত অর্থে খেলাপি বলা কঠিন, অনেক ক্ষেত্রেই এগুলো সরাসরি অর্থ আত্মসাৎ বা চুরি হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। এই পরিস্থিতিতে সম্পদ পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া ধীরগতির কারণ বেনামি লেনদেন ও গোপন সম্পদ শনাক্ত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ বলে উল্লেখ করেন মোস্তাকুর রহমান।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে খেলাপিঋণের বিপরীতে সাধারণত সম্পদ থাকে এবং বিশেষ ব্যবস্থাপনা কোম্পানির মাধ্যমে তা আংশিক উদ্ধার করা হয়। কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে আদায়যোগ্য প্রকৃত সম্পদের পরিমাণ নির্ধারণই একটি বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. আশিকুর রহমান বলেন, মার্চেই বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সরকার প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। এটা হাইপাওয়ার মানি, ছাপানো টাকা। অর্থাৎ এটার প্রভাবে মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে।

এর ভিত্তিতে গণমাধ্যমে প্রচারিত সংবাদ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে গভর্নর বলেন, এসব তথ্য দেশের অর্থনৈতিক ভাবমূর্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ২০ হাজার কোটি টাকা ছাপিয়ে সরকারকে দেওয়ার তথ্য কোনোভাবেই সত্য না। এর আসলে কোনো অস্তিত্ব নেই।

তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘ওয়েজ অ্যান্ড মিনস’ নামে একটি হিসাব রয়েছে, যার মাধ্যমে স্বল্পমেয়াদি আর্থিক প্রয়োজন মেটানো হয়। এটি একটি স্বাভাবিক ও নিয়মিত প্রক্রিয়া, যা বিশ্বের অন্যান্য দেশেও প্রচলিত।

গভর্নর বলেন, এই হিসাবের একটি নির্দিষ্ট সীমা রয়েছে, প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা। এর বাইরে অস্থায়ীভাবে অর্থের প্রয়োজন হলে তা ওভারড্রাফটের মতো ব্যবস্থায় সমন্বয় করা হয়।

তিনি বলেন, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের সময় এই হিসাবের স্থিতি ছিল ১৭ হাজার ৫৯০ কোটি টাকা, যা সময়ের সঙ্গে ওঠানামা করে বর্তমানে ১১ হাজার ১০৩ কোটিতে নেমে এসেছে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, এটি কোনোভাবেই নতুন করে টাকা ছাপানোর বিষয় নয়, বরং এটি সরকারের আয়-ব্যয়ের স্বাভাবিক নগদ ব্যবস্থাপনার অংশ। আজ টাকা নেওয়া হচ্ছে, কাল রাজস্ব আসলে তা সমন্বয় হয়ে যাচ্ছে-এটাই নিয়মিত প্রক্রিয়া।

গভর্নর সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের বিভ্রান্তিকর সংবাদ দেশের ক্রেডিট রেটিংয়ের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। রেটিং কমে গেলে সরকারের ঋণ গ্রহণের খরচ যেমন বাড়ে, তেমনি বেসরকারি খাতের বিদেশি ঋণ গ্রহণও ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে। তাই দায়িত্বশীল সংবাদ প্রচারে গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

এর আগে অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অর্থনীতি বিটের সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনা সভায় গভর্নর একীভূত করা পাঁচ ইসলামী ব্যাংকের কার্যক্রমে প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এসব ব্যাংক এখনো সমন্বিত কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যারের আওতায় আসেনি। ফলে এক শাখা থেকে অন্য ব্যাংকের তথ্য বা সেবা পাওয়া যাচ্ছে না, যা কার্যক্রমে বড় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে। এই সিবিএস (কোর ব্যাংকিং সিস্টেম) একীভূত করতে সময় লাগবে।

গভর্নর জানান, বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনা করছে। যার মধ্যে পুনঃমূলধনীকরণ, বেসরকারীকরণ বা একীভূতকরণের মতো সিদ্ধান্তও থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনই চূড়ান্ত কিছু সিদ্ধান্ত হয়নি।

স্টার্ট-আপ খাতের উন্নয়নে ‘স্টার্ট-আপ বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট’ নামে একটি উদ্যোগের কথা জানান গভর্নর। তিনি বলেন, প্রায় ৬০০ কোটি টাকার তহবিল নিয়ে আগামী মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে এটি চালু হতে পারে। পাশাপাশি বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য গ্র্যান্ট দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।

ক্যাশলেস অর্থনীতি গড়ে তুলতে ‘বাংলা কিউআর’ ব্যবহারে জোর দিয়ে তিনি বলেন, ৩০ জুনের পর আর কোনো বিকল্প কিউআর কোডের এক্সটেনশন দেওয়া হবে না। সবাইকে বাংলা কিউআর ব্যবহার করতে হবে। এতে লেনদেনের আন্তঃকার্যক্ষমতা নিশ্চিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

জঙ্গল সলিমপুরকে অপরাধীদের আস্তানা হতে দেওয়া হবে না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ১২:২৮ অপরাহ্ণ
জঙ্গল সলিমপুরকে অপরাধীদের আস্তানা হতে দেওয়া হবে না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরকে আর কোনোভাবেই অপরাধীদের আস্তানা হতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, ‘এখানকার অবৈধ দখলদারদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তবে জঙ্গল সলিমপুরের স্থানীয় প্রকৃত অধিবাসীদের কাউকেই উচ্ছেদ করা হবে না। তাদের কীভাবে পুনর্বাসন করা যায়, সরকার সেই ব্যবস্থা করবে।’

রোববার (৩১ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নিয়ে জঙ্গল সলিমপুরের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘দায়িত্ব গ্রহণের পর বর্তমান সরকার গত এক মাসে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। জঙ্গল সলিমপুর নিয়ে সরকারের মহাপরিকল্পনা রয়েছে। এখানকার ঝুলে থাকা কেন্দ্রীয় কারাগার স্থানান্তরের বিষয়টি শিগগিরই সমাধান করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সারাদেশের অপরাধচিত্র তুলে ধরে মন্ত্রী আরও বলেন, ‘শুধু সলিমপুর নয়, সারা দেশে চাঁদাবাজি, মাদক ও সন্ত্রাসীদের রুখে দিতে একযোগে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হবে। কেউ যদি জঙ্গল সলিমপুরের সাধারণ মানুষকে উচ্ছেদের ভয় দেখায় কিংবা চাঁদা দাবি করে, তবে সরাসরি নাম উল্লেখ করে জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ দিন। অপরাধী যত প্রভাবশালীই হোক, ছাড় দেওয়া হবে না।’

পরিদর্শনের সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন ভূমিপ্রতিমন্ত্রী মীর মো. হেলাল উদ্দিন, চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী,পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির, র‍্যাব-৭ এর অধিনায়ক, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। জঙ্গল সলিমপুর পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী চট্টগ্রামের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষ পর্যালোচনা সভায় অংশ নিতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের উদ্দেশ্যে রওনা হন।

উল্লেখ্য, গত ১৯ জানুয়ারি এই এলাকায় অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে গিয়ে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন র‍্যাবের উপ-সহকারী পরিচালক মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া। সেই ঘটনার পর গত ৯ মার্চ সেনাবাহিনী, র‍্যাব ও পুলিশের একটি যৌথ অভিযানে পুরো এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেয় প্রশাসন এবং আলীনগরে একটি অস্থায়ী যৌথ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়।

সর্বশেষ গত ২৪ মে দিবাগত গভীর রাতে শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াসিনের নেতৃত্বে কয়েকশ সশস্ত্র অপরাধী ভারী বুলডোজার নিয়ে সেই যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে হামলা চালায়। সন্ত্রাসীরা ক্যাম্পের দেয়াল গুঁড়িয়ে দেয় এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পথ রুদ্ধ করতে ভেতরের সড়ক কেটে বড় বড় গর্ত করে রাখে। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী ব্যাপক গুলিবিনিময়ের পর হামলাকারীরা পাহাড়ের গভীরে পালিয়ে যায়। এই হামলার ঘটনায় গত ২৬ মে সীতাকুণ্ড থানায় ৪৩ জনের নাম উল্লেখসহ প্রায় ৩০০ অজ্ঞাতপরিচয় সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে মামলা হয়।

কালের আলো/এসএকে

জঙ্গল সলিমপুরকে অপরাধীদের আস্তানা হতে দেওয়া হবে না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

চট্টগ্রাম প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ১২:২৭ অপরাহ্ণ
জঙ্গল সলিমপুরকে অপরাধীদের আস্তানা হতে দেওয়া হবে না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরকে আর কোনোভাবেই অপরাধীদের আস্তানা হতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, ‘এখানকার অবৈধ দখলদারদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তবে জঙ্গল সলিমপুরের স্থানীয় প্রকৃত অধিবাসীদের কাউকেই উচ্ছেদ করা হবে না। তাদের কীভাবে পুনর্বাসন করা যায়, সরকার সেই ব্যবস্থা করবে।’ 

রোববার (৩১ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নিয়ে জঙ্গল সলিমপুরের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘দায়িত্ব গ্রহণের পর বর্তমান সরকার গত এক মাসে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। জঙ্গল সলিমপুর নিয়ে সরকারের মহাপরিকল্পনা রয়েছে। এখানকার ঝুলে থাকা কেন্দ্রীয় কারাগার স্থানান্তরের বিষয়টি শিগগিরই সমাধান করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সারাদেশের অপরাধচিত্র তুলে ধরে মন্ত্রী আরও বলেন, ‘শুধু সলিমপুর নয়, সারা দেশে চাঁদাবাজি, মাদক ও সন্ত্রাসীদের রুখে দিতে একযোগে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হবে। কেউ যদি জঙ্গল সলিমপুরের সাধারণ মানুষকে উচ্ছেদের ভয় দেখায় কিংবা চাঁদা দাবি করে, তবে সরাসরি নাম উল্লেখ করে জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ দিন। অপরাধী যত প্রভাবশালীই হোক, ছাড় দেওয়া হবে না।’

পরিদর্শনের সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন ভূমিপ্রতিমন্ত্রী মীর মো. হেলাল উদ্দিন, চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী,পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির, র‍্যাব-৭ এর অধিনায়ক, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। জঙ্গল সলিমপুর পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী চট্টগ্রামের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষ পর্যালোচনা সভায় অংশ নিতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের উদ্দেশ্যে রওনা হন।

উল্লেখ্য, গত ১৯ জানুয়ারি এই এলাকায় অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে গিয়ে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন র‍্যাবের উপ-সহকারী পরিচালক মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া। সেই ঘটনার পর গত ৯ মার্চ সেনাবাহিনী, র‍্যাব ও পুলিশের একটি যৌথ অভিযানে পুরো এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেয় প্রশাসন এবং আলীনগরে একটি অস্থায়ী যৌথ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়।

সর্বশেষ গত ২৪ মে দিবাগত গভীর রাতে শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াসিনের নেতৃত্বে কয়েকশ সশস্ত্র অপরাধী ভারী বুলডোজার নিয়ে সেই যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে হামলা চালায়। সন্ত্রাসীরা ক্যাম্পের দেয়াল গুঁড়িয়ে দেয় এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পথ রুদ্ধ করতে ভেতরের সড়ক কেটে বড় বড় গর্ত করে রাখে। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী ব্যাপক গুলিবিনিময়ের পর হামলাকারীরা পাহাড়ের গভীরে পালিয়ে যায়। এই হামলার ঘটনায় গত ২৬ মে সীতাকুণ্ড থানায় ৪৩ জনের নাম উল্লেখসহ প্রায় ৩০০ অজ্ঞাতপরিচয় সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে মামলা হয়।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

হজ শেষে দেশে ফিরেছেন ৬ হাজার ১৭৫ বাংলাদেশি হাজি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ১১:৫৬ পূর্বাহ্ণ
হজ শেষে দেশে ফিরেছেন ৬ হাজার ১৭৫ বাংলাদেশি হাজি

পবিত্র হজ পালন শেষে বাংলাদেশি হাজিদের দেশে ফেরা শুরু হয়েছে। রোববার (৩০ মে) রাত ৩টা পর্যন্ত ১৫টি ফিরতি ফ্লাইটে মোট ৬ হাজার ১৭৫ জন হাজি বাংলাদেশে পৌঁছেছেন। একই সময়ে সৌদি আরবে বাংলাদেশি হাজিদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ পোর্টালে আইটি হেল্প ডেস্ক প্রকাশিত দৈনিক বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

হজ বুলেটিন অনুযায়ী, দেশে ফেরা ৬ হাজার ১৭৫ হাজির মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪১৬ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৫ হাজার ৭৫৯ জন রয়েছেন। আর ফিরতি যাত্রী পরিবহনে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ১ হাজার ১৮৪ জন, সৌদি এয়ারলাইন্স ১ হাজার ৬৯১ জন এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স ৩ হাজার ৩০০ জন হাজি পরিবহন করেছে।

এ পর্যন্ত মোট ১৫টি ফিরতি ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ৩টি, সৌদি এয়ারলাইন্স ৪টি এবং ফ্লাইনাস ৮টি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে।

অন্যদিকে সৌদি আরবে এখন পর্যন্ত ৩৭ জন বাংলাদেশি হাজির মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ২৪ জন পুরুষ ও ১৩ জন নারী। মারা যাওয়াদের মধ্যে মক্কায় ২৭ জন এবং মদিনায় ১০ জন মারা গেছেন। এছাড়া সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থানীয় হাসপাতালে মোট ১৭৬ জন হাজি চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন। বর্তমানে ২৬ জন হাজি বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

বুলেটিনে আরও বলা হয়, শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টায় মক্কায় বাংলাদেশ মিশনের কনফারেন্স কক্ষে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদের সভাপতিত্বে হজ প্রশাসনিক দলের নিয়মিত সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালনকারী হাজিদের নির্বিঘ্নে দেশে ফেরা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় করণীয়, আবাসন ও চিকিৎসাসেবার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হয়। এতে প্রশাসনিক দলের সদস্য, চিকিৎসক ও আইটি দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, এ বছর বাংলাদেশ থেকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন হজযাত্রীর কোটা নির্ধারণ করা হয়। হজযাত্রীদের সৌদি আরবগামী প্রথম ফ্লাইট ছিল ১৮ এপ্রিল এবং শেষ ফ্লাইট ২১ মে। অন্যদিকে ফিরতি ফ্লাইট কার্যক্রম শুরু হয়েছে ৩০ মে থেকে, যা চলবে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত।

কালের আলো/এসএকে