খুঁজুন
                               
সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

এলডিসি উত্তরণে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা চাইলেন বাণিজ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:২০ অপরাহ্ণ
এলডিসি উত্তরণে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা চাইলেন বাণিজ্যমন্ত্রী

এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) থেকে উত্তরণের প্রক্রিয়াকে মসৃণ করতে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা কামনা করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। একই সঙ্গে তিনি রফতানি বহুমুখীকরণ, বাজার প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগ প্রবাহ জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাজধানীর শেরাটন হোটেলে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচ্যাম) আয়োজিত ‘যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব জোরদারকরণ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান বাণিজ্য অংশীদার। তবে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়লেও রফতানি এখনো মূলত তৈরি পোশাক খাতনির্ভর, যা দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকিপূর্ণ। এ কারণে ওষুধ শিল্প, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, কৃষিপণ্য, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং এবং আইসিটি খাতে রফতানি বৈচিত্র্য বাড়াতে সরকার কাজ করছে।’

তিনি আরও জানান, তরুণ ও দক্ষ জনশক্তির কারণে আইসিটি খাতে বাংলাদেশ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে এবং এই খাতে যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হতে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল রূপান্তর এবং সেবা খাত— বিশেষ করে ফিনটেক, ই-কমার্স ও ডিজিটাল সেবায় দুই দেশের সহযোগিতার বড় সুযোগ রয়েছে।’

এলডিসি উত্তরণ প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘উন্নত বাজারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য বাংলাদেশ উত্তরণের সময়সীমা তিন বছর বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে এবং ২০২৯ সালের নভেম্বরকে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।’

বিনিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জ্বালানি খাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ ইতিবাচক হলেও সামগ্রিক সম্ভাবনার তুলনায় তা এখনো কম। সাম্প্রতিক সময়ে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগে ওঠানামা বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরও জোরদারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে।’

অনুষ্ঠানে অ্যামচ্যাম সভাপতি সৈয়দ এরশাদ আহমেদ স্বাগত বক্তব্য দেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন। বক্তারা বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ট্রাক উল্টে নিহত ১৫

টাংগাইল প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৮:২৬ পূর্বাহ্ণ
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ট্রাক উল্টে নিহত ১৫

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কালিহাতিতে রডবোঝাই একটি ট্রাক উল্টে ১৫ জন নিহত হয়েছেন। নিহতরা সবাই ট্রাকে চেপে ঈদযাত্রায় উত্তরবঙ্গের দিকে যাচ্ছিলেন। 

সোমবার (২৫ মে) ভোর ৪টার দিকে মহাসড়কের সরাতৈল দক্ষিণপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। ঘটনাস্থলে উদ্ধার কাজ করছে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস।

কালিহাতি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের ইনচার্জ আতাউর রহমান ঘটনাস্থল থেকে ঢাকা পোস্টকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, ভোর ৪টার দিকে রডসহ যাত্রীবোঝাই করে একটি ট্রাক উত্তরবঙ্গের দিকে যাচ্ছিল। পথে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের সরাতৈল দক্ষিণপাড়া এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে খাদে পড়ে উল্টে যায় ট্রাকটি। এতে ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে ১৫ জন নিহত ও ৬ জন আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

কুড়িগ্রামে রেকর্ড বৃষ্টিপাতে ফসলহানি : ঈদ আনন্দ নেই কৃষক পরিবারে

কুড়িগ্রাম প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৬:৪৩ পূর্বাহ্ণ
কুড়িগ্রামে রেকর্ড বৃষ্টিপাতে ফসলহানি : ঈদ আনন্দ নেই কৃষক পরিবারে

আগাম ও রেকর্ড বৃষ্টিপাতের কারণে ব্যাপক ফসলহানির মুখে পড়েছেন কুড়িগ্রাম জেলার কৃষকরা। বৈরী আবহাওয়ার কারণে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি এবং ফসলের ন্যায্য মূল্য না থাকায় জেলার শত শত কৃষক পরিবার এবার ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হওয়ার শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে।

দেশের উত্তরাঞ্চলের অন্যতম কৃষিপ্রধান জেলা কুড়িগ্রাম। আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে চলতি বছর আগাম ও অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতে জেলায় বোরো ধান, পাট, ভুট্টা ও সবজিসহ বিভিন্ন ফসলের খেত নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে। কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার চাঁন্দামারী গ্রামের প্রায় শতাধিক কৃষকের শত শত একর বোরো ধান তলিয়ে গেছে।

বাধ্য হয়ে এসব জমি থেকে কোমর পানিতে নেমে আধা পাকা ধান কেটে নিচ্ছেন তারা। মাঠের পাকা বোরো ধানসহ নানা ফসল পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় এবং হাতে নগদ টাকা না থাকায়, আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে চরম দুশ্চিন্তা ও অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছেন হাজার হাজার কৃষক।

অতিবৃষ্টির কারণে জেলার বিস্তীর্ণ বোরো ফসলের জমি, আলু, সবজি ও ভুট্টার খেত সম্পূর্ণ তলিয়ে গেছে। ফলে আয়ের প্রধান উৎস নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এই অঞ্চলের কৃষকরা ঈদ আনন্দের বদলে পড়েছেন তীব্র আর্থিক সংকটে। হাতে নগদ অর্থ না থাকায় পরিবারের জন্য নতুন পোশাক বা ঈদের প্রয়োজনীয় সওদা করাও তাদের জন্য অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

উলিপুর উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের কৃষক নওশাদ আলী বলেন, “ফসল হারিয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছি। এবার কোরবানি দেওয়া তো দূরের কথা, সাধারণ বাজার করাই কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

আরেক কৃষক আমিনুল ইসলাম বলেন, তলিয়ে যাওয়া ফসল কাটতে শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে, তার ওপর শ্রমিকের মজুরিও বেশি। তাই বাধ্য হয়ে আমরা নিজেরাই ধান কাটছি। ঋণ করে আবাদ করেছিলাম, কিন্তু অতিবৃষ্টির কারণে ধান ভালো হয়নি।

বাজারেও এখন ধানের দাম কম, তাই চরম বিপাকে পড়েছি। ভেবেছিলাম আবাদ ভালো হলে কিছু ধান বিক্রি করে কোরবানি দেব, কিন্তু তা আর হলো না। ছেলে-মেয়ের জন্য ঈদের নতুন কাপড়ও এখনো কিনতে পারিনি।

চিলমারী উপজেলার থানাহাট ইউনিয়নের বালাবাড়ী হাট এলাকার আমেনা বেগম বলেন, বৃষ্টির কারণে ধান শুকাতে পারছি না। আশা ছিল ধান বিক্রি করে জামা-কাপড় কিনব, এখন দেখছি আর কেনা হবে না।

রাজারহাট আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার বলেন, চলতি মাসের ১৩ মে এক দিনেই ১৮৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়, যা গত এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। এ ছাড়া গত এপ্রিল মাসে ১৭৬ মিলিমিটার এবং ২১ মে পর্যন্ত ৬১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

যাত্রাপুর হাটের ইজারাদার আব্দুর রহিম বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে জেলার স্থায়ী-অস্থায়ী পশুর হাটগুলোতে দেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকে ক্রেতা ও পাইকাররা আসতে পারছেন না। ফলে বেচাকেনা অনেক কমে গেছে।

সাধারণত প্রতিটি কোরবানির হাটে গড়ে ৭০০ থেকে ৮০০-এর বেশি পশু বিক্রি হতো। কিন্তু এবার দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে হাটে গড়ে ১০০ থেকে ১৫০টি পশু বিক্রি হচ্ছে। এই বৈরী পরিবেশ স্থানীয় পশুর হাটসহ সামগ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামারবাড়ি কুড়িগ্রামের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে জেলার অনেক কৃষক এবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ধান, ভুট্টাসহ কাটা ফসল ঘরের শুকনো স্থানে ছড়িয়ে কিংবা উঁচু স্থানে রেখে বাতাস ও রোদে শুকানোর পরামর্শ দিচ্ছে কৃষি বিভাগ।

২০ মে পর্যন্ত কুড়িগ্রাম সদর এবং রৌমারী উপজেলায় ৫১ হেক্টর জমির বোরো ধান, পাট ও শাক-সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে ৪০০ জন কৃষকের প্রায় ৩৩ লাখ ৬২ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

জঙ্গল সলিমপুরে র‍্যাব ক্যাম্পে সন্ত্রাসী হামলা, চলছে অভিযান

চট্টগ্রাম প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৬:০৩ পূর্বাহ্ণ
জঙ্গল সলিমপুরে র‍্যাব ক্যাম্পে সন্ত্রাসী হামলা, চলছে অভিযান

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) ক্যাম্পে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা একযোগে হামলা চালিয়েছে। র‍্যাব সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে পাল্টা গুলি চালান। রাত ৩টা পর্যন্ত উভয়পক্ষের মধ্যে গুলি বিনিময় অব্যাহত থাকে।

রোববার (২৪ মে) দিবাগত রাত ১টার দিকে হঠাৎ গুলিবর্ষণ শুরু করে হামলাকারীরা। বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। একই সঙ্গে সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে।

র‍্যাবের দাবি, রোববার দিবাগত রাত ১টার দিকে হঠাৎ জঙ্গল সলিমপুরে অবস্থিত তাদের ক্যাম্পে আক্রমণ করে সন্ত্রাসীরা। বিপরীতে তারাও পাল্টা গুলি চালায়। রাত ৩টা পর্যন্ত উভয়পক্ষের মধ্যে গুলিবিনিময় হয়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পুরো জঙ্গল সলিমপুরে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

চট্টগ্রাম র‍্যাবের কমান্ডার হাফিজুর রহমান ঢাকা পোস্টকে বলেন, সন্ত্রাসীদের একটি পক্ষ আমাদের ক্যাম্পে আক্রমণ করেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। আমরা অভিযান শুরু করছি। আমরা সেখানে কোনো সন্ত্রাসী পক্ষকে ছাড় দেব না।

এর আগে গত ১৯ জানুয়ারি জঙ্গল সলিমপুরে অভিযানে গিয়ে সন্ত্রাসীদের হামলায় চট্টগ্রাম র‍্যাবের উপসহকারী পরিচালক-ডিএডি (নায়েব সুবেদার) মোতালেব হোসেন ভুঁইয়া নিহত হন। এরপর ৯ মার্চ জঙ্গল সলিমপুরে অপরাধীদের আস্তানা নির্মূল এবং প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে। এতে সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি ও এপিবিএনের প্রায় ৪ হাজার সদস্য অংশ নেন।

দীর্ঘ সময় ধরে ‘সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল’ হিসেবে পরিচিত এই পাহাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং অনেককেই গ্রেপ্তার করা হয় । অভিযানের সময় অপরাধীদের পালিয়ে যাওয়া রুখতে জঙ্গল সলিমপুরের প্রতিটি প্রবেশ ও বাহিরের পথ সিল করে দেওয়া হয় এবং গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে স্থায়ী তল্লাশিচৌকি বসানো হয়। এরপর জঙ্গল সলিমপুর ও আলীনগর এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারে পুলিশ এবং র‍্যাবের দুটি স্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করে করা হয়।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি