খুঁজুন
                               
সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

বিনা অপরাধে কোনো সাংবাদিক কারাগারে থাকবে না: তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৩ মে, ২০২৬, ৬:০১ অপরাহ্ণ
বিনা অপরাধে কোনো সাংবাদিক কারাগারে থাকবে না: তথ্যমন্ত্রী

বিনা অপরাধে কোনো সাংবাদিক কারাগারে থাকবে না বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

রোববার (৩ মে) রাজধানীর তথ্য ভবন মিলনায়তনে ‘বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, দেশে স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম কাঠামো তৈরির লক্ষ্যে একটি শক্তিশালী ‘গণমাধ্যম কমিশন’ গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করবে সরকার। আর একটি পূর্ণাঙ্গ কমিশন গঠনের আগে গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞ ও অংশীজনদের সমন্বয়ে একটি ‘পরামর্শক কমিটি’ গঠন করা হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘গণমাধ্যম একটি বিশাল ও জটিল ইকোসিস্টেম। তাই সরকার একা কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে চায় না। আমরা একজন সর্বজনগ্রাহ্য গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞকে সামনে রেখে সব পক্ষের প্রতিনিধি নিয়ে একটি পরামর্শক কমিটি গঠন করব। এই কমিটির সুচিন্তিত মতামতের ভিত্তিতেই একটি স্থায়ী গণমাধ্যম কমিশন গঠন করা হবে। যার মাধ্যমে গণমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতা ও সুরক্ষা নিশ্চিত হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।’

‘অবাধ তথ্য’ ও ‘অপতথ্য’ রোধের চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘তথ্যের অবাধ সরবরাহ এখন আর সমস্যা নয়, বরং তথ্যের সঙ্গে নিজের রঙের মাধুরী মিশিয়ে বা অপতথ্য ছড়িয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও অ্যালগরিদমের এই যুগে অপতথ্য রোধে আমাদের বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। আমাদের লক্ষ্য অবাধ তথ্য প্রবাহ নিশ্চিত করা, তবে সেই তথ্য অবশ্যই দায়িত্বশীল ও ‘ক্লিন ইনফরমেশন’ হতে হবে।’

সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা ও আইনি সুরক্ষা বিষয়ে জহির উদ্দিন স্বপন দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে বলেন, ‘বিনা অপরাধে কোনো সাংবাদিক কারাগারে থাকবে না। নীতিগতভাবে সব সাংবাদিককে আইনের আওতায় পেশাগত নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেবে সরকার। মানহানি মামলাসহ অন্যান্য আইনি জটিলতাগুলো প্রেস কাউন্সিলের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনায় আনা হবে।’

সভায় আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি এ কে এম আব্দুল হাকিম। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রেস কাউন্সিলকে আরও কার্যকর করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ছাড়া গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। তবে স্বাধীনতার সঙ্গে জবাবদিহিরও প্রয়োজন রয়েছে। অধিকারের সঙ্গে কর্তব্য ও দায়বদ্ধতা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। অনেক ক্ষেত্রে এখতিয়ার ও সীমাবদ্ধতার তোয়াক্কা না করলে সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।

সাংবাদিকদের জন্য উচ্চমানের নীতি-নৈতিকতা ও পেশাগত শৃঙ্খলা বজায় রাখা অপরিহার্য বলেও মনে করেন তিনি।

আলোচনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) সভাপতি ও মানবজমিন সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী; বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল মালিকদের সংগঠন অ্যাটকো’র মহাসচিব ও একুশে টেলিভিশনের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম; সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও বণিক বার্তার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ; জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ; বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী এবং ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের প্রধান বার্তা সম্পাদক মোস্তফা আকমল।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. এস এম শামীম রেজা। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. শাহ আলম।

পিআইবি’র মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ; বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কামাল উদ্দিন মজুমদার (সবুজ) এবং সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল বাছির (বাছির জামাল)।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে তথ্য মন্ত্রণালয়, তথ্য অধিদপ্তর এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, এবারের দিবসের বাংলাদেশের প্রতিপাদ্য হচ্ছে, ‘জবাবদিহির সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার প্রধান সহযাত্রী স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম’।

সূত্র: বাসস

কালের আলো/এসএকে

দেশের ১০ অঞ্চলে ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়ার শঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৮:৫৬ পূর্বাহ্ণ
দেশের ১০ অঞ্চলে ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়ার শঙ্কা

দেশের অন্তত ১০টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

সোমবার (২৫ মে) ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরসমূহের জন্য দেওয়া আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, দিনাজপুর, বগুড়া, পাবনা, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

একই সঙ্গে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।

এ অবস্থায় এসব এলাকার নদীবন্দরসমূহকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

অন্যদিকে গতকাল রাতে আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে প্রকাশিত সারাদেশের সম্ভাব্য পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আজ সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায়, রাজশাহী, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা-ঝোড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

সেইসঙ্গে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে।

এছাড় ঢাকা, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, লক্ষ্মীপুর ও পটুয়াখালী জেলাসহ খুলনা বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে।

তবে সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ট্রাক উল্টে নিহত ১৫

টাংগাইল প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৮:২৬ পূর্বাহ্ণ
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ট্রাক উল্টে নিহত ১৫

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কালিহাতিতে রডবোঝাই একটি ট্রাক উল্টে ১৫ জন নিহত হয়েছেন। নিহতরা সবাই ট্রাকে চেপে ঈদযাত্রায় উত্তরবঙ্গের দিকে যাচ্ছিলেন। 

সোমবার (২৫ মে) ভোর ৪টার দিকে মহাসড়কের সরাতৈল দক্ষিণপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। ঘটনাস্থলে উদ্ধার কাজ করছে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস।

কালিহাতি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের ইনচার্জ আতাউর রহমান ঘটনাস্থল থেকে ঢাকা পোস্টকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, ভোর ৪টার দিকে রডসহ যাত্রীবোঝাই করে একটি ট্রাক উত্তরবঙ্গের দিকে যাচ্ছিল। পথে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের সরাতৈল দক্ষিণপাড়া এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে খাদে পড়ে উল্টে যায় ট্রাকটি। এতে ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে ১৫ জন নিহত ও ৬ জন আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

কুড়িগ্রামে রেকর্ড বৃষ্টিপাতে ফসলহানি : ঈদ আনন্দ নেই কৃষক পরিবারে

কুড়িগ্রাম প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৬:৪৩ পূর্বাহ্ণ
কুড়িগ্রামে রেকর্ড বৃষ্টিপাতে ফসলহানি : ঈদ আনন্দ নেই কৃষক পরিবারে

আগাম ও রেকর্ড বৃষ্টিপাতের কারণে ব্যাপক ফসলহানির মুখে পড়েছেন কুড়িগ্রাম জেলার কৃষকরা। বৈরী আবহাওয়ার কারণে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি এবং ফসলের ন্যায্য মূল্য না থাকায় জেলার শত শত কৃষক পরিবার এবার ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হওয়ার শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে।

দেশের উত্তরাঞ্চলের অন্যতম কৃষিপ্রধান জেলা কুড়িগ্রাম। আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে চলতি বছর আগাম ও অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতে জেলায় বোরো ধান, পাট, ভুট্টা ও সবজিসহ বিভিন্ন ফসলের খেত নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে। কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার চাঁন্দামারী গ্রামের প্রায় শতাধিক কৃষকের শত শত একর বোরো ধান তলিয়ে গেছে।

বাধ্য হয়ে এসব জমি থেকে কোমর পানিতে নেমে আধা পাকা ধান কেটে নিচ্ছেন তারা। মাঠের পাকা বোরো ধানসহ নানা ফসল পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় এবং হাতে নগদ টাকা না থাকায়, আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে চরম দুশ্চিন্তা ও অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছেন হাজার হাজার কৃষক।

অতিবৃষ্টির কারণে জেলার বিস্তীর্ণ বোরো ফসলের জমি, আলু, সবজি ও ভুট্টার খেত সম্পূর্ণ তলিয়ে গেছে। ফলে আয়ের প্রধান উৎস নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এই অঞ্চলের কৃষকরা ঈদ আনন্দের বদলে পড়েছেন তীব্র আর্থিক সংকটে। হাতে নগদ অর্থ না থাকায় পরিবারের জন্য নতুন পোশাক বা ঈদের প্রয়োজনীয় সওদা করাও তাদের জন্য অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

উলিপুর উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের কৃষক নওশাদ আলী বলেন, “ফসল হারিয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছি। এবার কোরবানি দেওয়া তো দূরের কথা, সাধারণ বাজার করাই কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

আরেক কৃষক আমিনুল ইসলাম বলেন, তলিয়ে যাওয়া ফসল কাটতে শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে, তার ওপর শ্রমিকের মজুরিও বেশি। তাই বাধ্য হয়ে আমরা নিজেরাই ধান কাটছি। ঋণ করে আবাদ করেছিলাম, কিন্তু অতিবৃষ্টির কারণে ধান ভালো হয়নি।

বাজারেও এখন ধানের দাম কম, তাই চরম বিপাকে পড়েছি। ভেবেছিলাম আবাদ ভালো হলে কিছু ধান বিক্রি করে কোরবানি দেব, কিন্তু তা আর হলো না। ছেলে-মেয়ের জন্য ঈদের নতুন কাপড়ও এখনো কিনতে পারিনি।

চিলমারী উপজেলার থানাহাট ইউনিয়নের বালাবাড়ী হাট এলাকার আমেনা বেগম বলেন, বৃষ্টির কারণে ধান শুকাতে পারছি না। আশা ছিল ধান বিক্রি করে জামা-কাপড় কিনব, এখন দেখছি আর কেনা হবে না।

রাজারহাট আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার বলেন, চলতি মাসের ১৩ মে এক দিনেই ১৮৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়, যা গত এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। এ ছাড়া গত এপ্রিল মাসে ১৭৬ মিলিমিটার এবং ২১ মে পর্যন্ত ৬১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

যাত্রাপুর হাটের ইজারাদার আব্দুর রহিম বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে জেলার স্থায়ী-অস্থায়ী পশুর হাটগুলোতে দেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকে ক্রেতা ও পাইকাররা আসতে পারছেন না। ফলে বেচাকেনা অনেক কমে গেছে।

সাধারণত প্রতিটি কোরবানির হাটে গড়ে ৭০০ থেকে ৮০০-এর বেশি পশু বিক্রি হতো। কিন্তু এবার দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে হাটে গড়ে ১০০ থেকে ১৫০টি পশু বিক্রি হচ্ছে। এই বৈরী পরিবেশ স্থানীয় পশুর হাটসহ সামগ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামারবাড়ি কুড়িগ্রামের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে জেলার অনেক কৃষক এবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ধান, ভুট্টাসহ কাটা ফসল ঘরের শুকনো স্থানে ছড়িয়ে কিংবা উঁচু স্থানে রেখে বাতাস ও রোদে শুকানোর পরামর্শ দিচ্ছে কৃষি বিভাগ।

২০ মে পর্যন্ত কুড়িগ্রাম সদর এবং রৌমারী উপজেলায় ৫১ হেক্টর জমির বোরো ধান, পাট ও শাক-সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে ৪০০ জন কৃষকের প্রায় ৩৩ লাখ ৬২ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি