খুঁজুন
                               
বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে সশস্ত্র বাহিনীর পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্বের প্রশংসা

দেশের সার্বভৌমত্ব-নিরাপত্তায় অপরিহার্য সিভিল-মিলিটারি সম্পর্কে বিশেষ গুরুত্ব প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার

কালের আলো রিপোর্ট
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ৮:২২ অপরাহ্ণ
দেশের সার্বভৌমত্ব-নিরাপত্তায় অপরিহার্য সিভিল-মিলিটারি সম্পর্কে বিশেষ গুরুত্ব প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার

চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী অস্থির-অনিশ্চিত সময়। ভেঙে পড়ে সব প্রতিষ্ঠান। শুধুমাত্র স্বমহিমায় টিকেছিল দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রতীক বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী। সোশ্যাল মিডিয়ায় সশস্ত্র বাহিনীকে টার্গেট করে মিথ্যাচার-অপপ্রচারের হাট বসেছিল। কিন্তু সশস্ত্র বাহিনী পেশাদারিত্বের সঙ্গে পুরো কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছে। জনগণের আস্থা-বিশ্বাসে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ ঘটিয়েছে। শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নজির স্থাপন করেছে। একই সময়ে রুখে দেয় সিভিল-মিলিটারি সম্পর্কে ফাটল ধরানোর অপতৎপরতাও। চলতি বছরের জেলা প্রশাসক সম্মেলনে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ বিষয়ক এক গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশনে দেশপ্রেমিক সশস্ত্র বাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল এসব ভূমিকা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম।

মঙ্গলবার (০৫ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে দেশের সকল বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেছেন, ‘অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতেও দেশপ্রেমিক সামরিক বাহিনীর সদস্যরা রাজনৈতিক সমাধানের প্রতি আস্থা রেখে শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছে। তবে কিছু অসাধু ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গোষ্ঠী নিজেদের দুর্বলতা ঢাকতে সামরিক বাহিনীকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করেছে এবং সকল ব্যর্থতার দায় সামরিক বাহিনীর ওপর চাপিয়ে সিভিল-মিলিটারি সম্পর্কে ফাটল ধরাতে চেয়েছে। কিন্তু জনগণের আস্থা, সশস্ত্র বাহিনীর পেশাদারিত্ব এবং বেসামরিক প্রশাসনের একত্রিত সমন্বয়ের কারণে সেই অপচেষ্টা সফল হয়নি।’

দেশের জন্য ত্যাগ ও সেবার ব্রত প্রতিটি সামরিক সদস্যের। এটি নিছক কেবল চাকরি নয়। এটি দেশপ্রেম, শৃঙ্খলা, ত্যাগ এবং সাহসিকতার এক অনন্য জীবনধারা। সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের পেশাগত মর্যাদা এবং সামাজিক সম্মান যেকোনো দেশের জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গেও সরাসরি সম্পৃক্ত। এ প্রসঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার গভীর পর্যবেক্ষণ সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে বিশেষ অর্থবহ। এজন্যই সতর্ক করে তিনি বলেছেন, ‘বেসামরিক পরিমণ্ডলে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের যথাযথ মর্যাদা প্রদান না করলে ভবিষ্যতে দেশপ্রেমিক ও যোগ্য তরুণ-তরুণীদের সামরিক পেশায় আকৃষ্ট করা কঠিন হয়ে পড়বে। এর ফলে জনবিচ্ছিন্ন ও অকার্যকর সশস্ত্র বাহিনী তৈরির ঝুঁকি দেখা দিতে পারে, যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অশনি সংকেত।’ প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা সিভিল-মিলিটারি সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেছেন, ‘পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা ও বোঝাপড়ার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা একটি সুদৃঢ় সিভিল-মিলিটারি সম্পর্ক দেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য।’

  • বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন
  • জাতীয় নিরাপত্তা, সুশাসন ও কার্যকর প্রশাসনিক সমন্বয় অপরিহার্য
  • বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী সবসময়ই বেসামরিক প্রশাসনের সহায়তায় নিজেদের সর্বোচ্চ সেবা দিয়ে আসছে
  • বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় জাতীয় নিরাপত্তার বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ
  • সক্ষমতার মাধ্যমে সম্ভাব্য শত্রুকে আগ্রাসনের চিন্তা থেকে বিরত রাখবে
  • জাতীয় প্রতিরক্ষা কেবল সামরিক বাহিনীর দায়িত্ব নয়; বরং এটি সমগ্র জাতির সম্মিলিত দায়িত
  • মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী বাংলাদেশ গড়ে তোলাই আমাদের সম্মিলিত লক্ষ্য
  • সরকার একটি পেশাদার, দক্ষ ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত সশস্ত্র বাহিনী গঠনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ
  • ‘করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’
  • সশস্ত্র বাহিনীর সহায়তার বিষয়ে ডিসিদের সন্তোষ

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান ও বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। এছাড়া সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফ উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন
প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম নিজের বক্তব্যের শুরুতে ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রাম, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালনকালে প্রাণ উৎসর্গকারী সশস্ত্র বাহিনীর অকুতোভয় সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি সাম্প্রতিক জুলাই আন্দোলনে নিহত ছাত্র-জনতাকেও স্মরণ করেন, যাদের আত্মত্যাগ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। তিনি বলেন, জেলা প্রশাসক সম্মেলন দেশের প্রশাসনিক কার্যক্রমে সমন্বয় সাধনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ সম্মেলনের দিকনির্দেশনা মাঠপর্যায়ে কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে জনগণের সেবা আরও গতিশীল ও ফলপ্রসূ হবে। দেশের উন্নয়ন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনকল্যাণ নিশ্চিতকরণে জেলা প্রশাসকদের নিরলস পরিশ্রম ও দায়িত্ববোধ প্রশংসনীয়।

জাতীয় নিরাপত্তা, সুশাসন ও কার্যকর প্রশাসনিক সমন্বয় অপরিহার্য
একটি আধুনিক, আত্মমর্যাদাশীল ও নিরাপদ বাংলাদেশ গঠনে জাতীয় নিরাপত্তা, সুশাসন এবং কার্যকর প্রশাসনিক সমন্বয় অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেন প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনা এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ সংশ্লিষ্ট আলোচনায় ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে। বাহিনী প্রধানগণও তাদের বক্তব্যে নিজ নিজ বাহিনীর অবস্থান এবং মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়ে প্রত্যাশা তুলে ধরেছেন।’ সিভিল-মিলিটারি সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে এই সম্পর্কের গভীর শিকড় নিহিত রয়েছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, যিনি একজন সেনা কর্মকর্তা ছিলেন, তার ঘোষণার মাধ্যমেই স্বাধীন বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তীতে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা জনগণের বাহিনী হিসাবে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সক্রিয় সহযোগিতায় মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জনে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী আজও প্রকৃত অর্থেই জনমানুষের বাহিনী হিসাবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত রেখেছে, যা দেশের প্রতিটি সংকটময় মুহূর্তে তারা বারবার প্রমাণ করেছে। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি ঘূর্ণিঝড়, বন্যা ও অন্যান্য দুর্যোগে দ্রুত সহায়তা প্রদান করে সশস্ত্র বাহিনী জনগণের আস্থা ও নির্ভরতার প্রতীক হয়ে উঠেছে। মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে জনগণ ও সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে যে ঐতিহাসিক বন্ধন সৃষ্টি হয়েছিল, তা আজও অটুট রয়েছে এবং জাতীয় অগ্রযাত্রায় তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।’

বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী সবসময়ই বেসামরিক প্রশাসনের সহায়তায় নিজেদের সর্বোচ্চ সেবা দিয়ে আসছে
বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী সবসময়ই বেসামরিক প্রশাসনের সহায়তায় নিজেদের সর্বোচ্চ সেবা দিয়ে আসছে উল্লেখ করে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বলেন, ‘বিশেষ করে জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী অস্থিতিশীল সময়ে, যখন সরকারের অনেক প্রতিষ্ঠান প্রত্যাশিত দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছিল, তখন সশস্ত্র বাহিনী মাসের পর মাস দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিতে নিরলসভাবে কাজ করেছে। সুপ্রিম কোর্ট, সচিবালয়, ব্যাংক, বিমানবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় স্থাপনায় সার্বক্ষণিক উপস্থিতি বজায় রেখে তারা রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও জননিরাপত্তা সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।’

উপদেষ্টা দৃঢ়ভাবে বলেন, সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের পারস্পরিক সহযোগিতা, আস্থা ও সমন্বয়ই রাষ্ট্রকে আরও শক্তিশালী ও স্থিতিশীল করে তুলবে। অতীতের কিছু ঘটনার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি সামরিক বাহিনীর বাইরে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনকালে অপরাধে জড়ালে তার দায় প্রতিষ্ঠান হিসেবে সশস্ত্র বাহিনীর নয়। ব্যক্তি বিশেষের অপরাধের দায় ব্যক্তিকেই বহন করতে হবে। বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী রাষ্ট্র ও সংবিধানের প্রতি সর্বদা অনুগত ছিল, আছে এবং থাকবে।

বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় জাতীয় নিরাপত্তার বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ
বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় জাতীয় নিরাপত্তার বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ছাড়া জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন অব্যাহত রাখা সম্ভব নয়। আজ জাতীয় নিরাপত্তা কেবল ভৌগোলিক সীমান্ত রক্ষা বা প্রচলিত সামরিক সংঘর্ষে সীমাবদ্ধ নয়; বরং সাইবার হামলা, সন্ত্রাসবাদ, জলবায়ু পরিবর্তন, মহামারি, তথ্যযুদ্ধ, উপকূলীয় ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা, জ্বালানি অবকাঠামো এবং অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের মতো বহুমাত্রিক হুমকি এর অন্তর্ভুক্ত। তিনি বলেন, নিরাপত্তা এখন একটি সমন্বিত ও বহুমাত্রিক ধারণা, যেখানে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা এবং সাইবার সুরক্ষাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এ বাস্তবতায় কোনো একক বাহিনী বা প্রতিষ্ঠান বিচ্ছিন্ন প্রচেষ্টায় রাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে না। বেসামরিক প্রশাসনের সহযোগিতা এবং সামরিক বাহিনীর কৌশলগত সক্ষমতার সমন্বয়ই একটি কার্যকর ও টেকসই নিরাপত্তা কাঠামোর ভিত্তি।

সক্ষমতার মাধ্যমে সম্ভাব্য শত্রুকে আগ্রাসনের চিন্তা থেকে বিরত রাখবে
এ প্রেক্ষাপটে তিনি ‘হোল অব গভর্নমেন্ট অ্যাপ্রোচ’ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বলেন, ‘রাষ্ট্রের সকল প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। সিভিল প্রশাসন ও সামরিক বাহিনীর সম্মিলিত প্রয়াসই জাতীয় নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার পূর্বশর্ত। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখিত প্রতিরক্ষা সক্ষমতা অর্জনে এই কৌশলের বাস্তবায়ন অপরিহার্য। তিনি আরও বলেন, সরকার এমন একটি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যা ‘ক্রেডিবল ডিটারেন্স’ নিশ্চিত করবে; অর্থাৎ সক্ষমতার মাধ্যমে সম্ভাব্য শত্রুকে আগ্রাসনের চিন্তা থেকে বিরত রাখবে। এ লক্ষ্য অর্জনে প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রিতা পরিহার করে কর্মক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত গতি ও দক্ষতা প্রদর্শনের জন্য তিনি জেলা প্রশাসকদের প্রতি আহ্বান জানান। সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের ‘সিটিজেনস ইন ইউনিফর্ম’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা সমাজেরই অবিচ্ছেদ্য অংশ। তারা সমাজের সর্বস্তর থেকে এসে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে স্বাভাবিক জীবন ছেড়ে কঠোর প্রশিক্ষণ, ত্যাগ ও শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে সৈনিকের জীবন বেছে নেয়। সশস্ত্র বাহিনী কেবল চাকরির জায়গা নয়, এটি একটি জীবনধারা। একজন সৈনিক প্রতিদিন কঠোর প্রশিক্ষণ, প্রশাসনিক দায়িত্ব এবং দেশরক্ষার অঙ্গীকারে নিজেকে নিয়োজিত রাখে।

জাতীয় প্রতিরক্ষা কেবল সামরিক বাহিনীর দায়িত্ব নয়; বরং এটি সমগ্র জাতির সম্মিলিত দায়িত
উপদেষ্টা ‘টোটাল পিপলস’ ওয়ার’ ধারণার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ‘জাতীয় প্রতিরক্ষা কেবল সামরিক বাহিনীর দায়িত্ব নয়; বরং এটি সমগ্র জাতির সম্মিলিত দায়িত্ব। প্রকৃতপক্ষে, সামরিক ও বেসামরিক শক্তির এই সমন্বিত প্রয়াসই আমাদের প্রতিরক্ষা নীতিতে ‘টোটাল পিপলস’ ওয়ার’ ধারণার ভিত্তি, যা প্রবর্তন করেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন- জাতীয় প্রতিরক্ষা কেবল সামরিক বাহিনীর দায়িত্ব নয়; বরং এটি সমগ্র জাতির সম্মিলিত দায়িত্ব। তাঁর প্রবর্তিত স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতিও আজকের বিশ্বে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক, যেখানে কূটনীতি ও সমরনীতি পরস্পরের পরিপূরক। প্রতিরক্ষা সক্ষমতা শক্তিশালী না হলে কূটনীতিও কার্যকর থাকে না। একটি জনকল্যাণমূলক ও নিরাপদ রাষ্ট্র গঠনে বেসামরিক প্রশাসনের ভূমিকা অপরিসীম-জনগণকে সংগঠিত করা, সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা, জননিরাপত্তা বজায় রাখা এবং প্রয়োজনে সামরিক বাহিনীকে কার্যকর সহায়তা প্রদান করা অন্যতম দায়িত্ব।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী বাংলাদেশ গড়ে তোলাই আমাদের সম্মিলিত লক্ষ্য
‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সকল বিভাজন অতিক্রম করে একটি ঐক্যবদ্ধ, স্থিতিশীল ও শক্তিশালী বাংলাদেশ গড়ে তোলাই আমাদের সম্মিলিত লক্ষ্য’-বলেন প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘জনগণকে সংগঠিত করা, সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা, জননিরাপত্তা বজায় রাখা এবং প্রয়োজনে সামরিক বাহিনীকে কার্যকর সহায়তা প্রদান, এসব ক্ষেত্রে বেসামরিক প্রশাসনের ভূমিকা অপরিসীম।’

বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছরের ফ্যাসিস্ট শাসনের অবসানের পর বাংলাদেশ নতুন বাস্তবতায় প্রবেশ করেছে। জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসমূহের কার্যকারিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সরকার রাষ্ট্রকে স্বাভাবিক ধারায় ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে। রাষ্ট্র ও জনগণের মধ্যে দূরত্ব এবং সরকার, প্রশাসন, নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষের মধ্যে পারস্পরিক আস্থার অভাব আইন-শৃঙ্খলার পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তাকেও হুমকির মুখে ফেলতে পারে।

সরকার একটি পেশাদার, দক্ষ ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত সশস্ত্র বাহিনী গঠনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ
বর্তমান সরকার একটি পেশাদার, দক্ষ ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত সশস্ত্র বাহিনী গঠনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘সশস্ত্র বাহিনীকে পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে সরকার কোনো অবস্থাতেই পক্ষপাতমূলক, অনিয়ন্ত্রিত বা ব্যক্তিস্বার্থনির্ভর সিদ্ধান্তকে জাতীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে স্থান দেবে না। জাতীয় স্বার্থই হবে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান জাতীয়তাবাদী আদর্শ ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আপোষহীন নেতৃত্বের চেতনায় অনুপ্রাণিত হয়ে যোগ্য উত্তরসূরী তারেক রহমানের নির্দেশিত পথ অনুসরণে একটি ঐক্যবদ্ধ, স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার আহবান জানান।

‘করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’
প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা জেলা প্রশাসকদের প্রতি পেশাদারিত্ব, সততা ও দায়িত্ববোধের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং জনগণের কল্যাণে নীতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসকগণ গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করেন। তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ, স্থিতিশীল, নিরাপদ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুদৃঢ়, আধুনিক ও সমন্বিত জাতীয় কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। এ লক্ষ্যে সবাইকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দর্শন : ‘করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ মনে-প্রাণে ধারণ ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।’

সশস্ত্র বাহিনীর সহায়তার বিষয়ে ডিসিদের সন্তোষ
অধিবেশন শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম বলেন, ‘দীর্ঘ সময় ধরে বেসামরিক প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। তাদের সহায়তার বিষয়ে প্রত্যেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) তাদের অবস্থান থেকে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি বাহিনী প্রধান এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কেও ধন্যবাদ দিয়েছেন। সেনাবাহিনী যেভাবে সহায়তা দিয়েছে তা যুগান্তকারী। তিনি আরও বলেন, দায়বদ্ধতা থেকে সশস্ত্র বাহিনীকে জনমুখী করতে ডিসিদের যে অবস্থান থাকার কথা, সম্মেলনে সেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম বলেন, ‘আজকে জেলা প্রশাসকদের নিয়ে যে সম্মেলন ছিল সেখানে আমরা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে আমাদের বাহিনীর প্রধানদের যে চাওয়া, তাদের যে কর্মপদ্ধতি, পরিকল্পনাসহ সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ সম্পর্কে আমাদের জেলা প্রশাসকদের অবহিত করা হয়েছে। সেই সঙ্গে সরকারের দায়বদ্ধতার অবস্থান থেকে সশস্ত্র বাহিনীকে জনমুখী করার জন্য জেলা প্রশাসকদের যে অবস্থান থাকার কথা, সেই দিকনির্দেশনা আমি তাদের দিয়েছি। সেখানে আমি উল্লেখযোগ্যভাবে বলতে চাইু শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের যে দর্শন ছিল, সে বিষয় বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সেখানে আমাদের জেলা প্রশাসকদের কী ধরনের ভূমিকা থাকা উচিত, সে বিষয়ে আলোচনা করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রীর যে নির্দেশনাগুলো ছিলো- পেশাদারিত্ব ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে সেনাবাহিনীতে যাতে আমরা শক্তিশালী জনবল সম্পৃক্ত করতে পারি, এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসকদের কী ভূমিকা থাকতে পারে, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। নির্বাচনে সেনাবাহিনী, জেলা প্রশাসক এবং বেসামরিক প্রশাসনের যে ভূমিকা ও তারা যে সমন্বয়ে কাজ করেছে, সেটাকে আরও কীভাবে শক্তিশালী করা যায়, সে বিষয় আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি পারস্পরিক আস্থা আরও কীভাবে বৃদ্ধি করা যায় সে ব্যাপারে আমরা আলোচনা করেছি। সর্বোপরি প্রধানমন্ত্রীর যে দিক নির্দেশনা ছিলু বিশেষ করে সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়ন এবং সশস্ত্র বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করার যে বিষয়গুলো জেলা প্রশাসকদের জানা উচিত, সে বিষয়গুলো সম্পর্কে আমরা তাদের অবহিত করেছি।’ ডিসি সম্মেলন তিনি জানান, সামগ্রিকভাবে একটি ফলপ্রসূ আলোচনা পর্ব ছিল।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম বলেন, জেলা প্রশাসকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আমাদের বিমোহিত করেছে। আমরা আশা করিু তাদের যে সহায়তা, তারা যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, সেই প্রতিশ্রুতির পরিপ্রেক্ষিতে যে কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ ও সশস্ত্র বাহিনী সবাই আশা করে, ইনশাআল্লাহ আমরা সেই বাহিনীর দিকে পৌঁছাতে পারবো।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মাঠে থাকাকালে সেনা সদস্যরা নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা। তিনি বলেন, আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা নিজেদের জীবন বাজি রেখে এই বাহিনীতে যোগদান করেছেন। তারা ফজরের নামাজ থেকে শুরু করে রাত অব্দি, হয়তো প্রশিক্ষণ না হয় প্রশাসনিক অথবা নাইট ডিউটিতে থাকেন। এমনও সময় যায়, অনেক সেনা সদস্য রাতে ঘুমানোর সুযোগ পান না। দুইদিন পর হয়তো রাতে একটু ঘুমাতে পারেন। এরকম ভাবে প্রশিক্ষিত সেনাবাহিনী জনগণের সঙ্গে কাজ করছে এতে তারা আরও বেশি দায়িত্ব বোধের পরিচয় দিয়েছে, এবং প্রত্যেকটা জেলা প্রশাসক এ ব্যাপারে তাদের অবস্থান থেকে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে। এ জন্য বাহিনী প্রধানদেরকে এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে ধন্যবাদ দিয়েছেন। সেনাবাহিনী তাদের যেভাবে সহায়তা দিয়েছে সেটা আসলে যুগান্তকারী। তারা আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর সার্বিক কাজের ওপর প্রচণ্ড সন্তুষ্ট।

কালের আলো/এমএএএমকে

রামিসার বড় বোনের সব দায়িত্ব নিলেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ১০:৪৯ অপরাহ্ণ
রামিসার বড় বোনের সব দায়িত্ব নিলেন প্রধানমন্ত্রী

রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণ ও নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা আক্তারের বোনের সব দায়িত্ব নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাত পৌনে ১০টায় মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে মিরপুর-১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের বাসায় রামিসাদের বাসায় গিয়ে তাদের পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন। এসময় রামিসার বোনের দায়িত্ব নেয়ার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী।

গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে মিরপুরের পল্লবীর একটি ফ্ল্যাটের খাটের নিচ থেকে রামিসার মস্তকবিহীন দেহ এবং পরে বাথরুম থেকে খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

পুলিশ প্রথমে প্রধান আসামি সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আটক করে। পরে মূল অভিযুক্ত সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার বিষয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন ঘাতক সোহেল রানা।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

১৬ মাসে ধর্ষণের শিকার ৫৮০ শিশু, নিহত ৪৮৩: এইচআরএসএস

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ১০:৪০ অপরাহ্ণ
১৬ মাসে ধর্ষণের শিকার ৫৮০ শিশু, নিহত ৪৮৩: এইচআরএসএস

দেশে গত ১৬ মাসে অন্তত এক হাজার ৮৯০ জন শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ৪৮৩ জন শিশু নিহত ও এক হাজার ৪০৭ জন শিশু শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে।  এছাড়া এসব শিশুর মধ্যে ৫৮০ জন ধর্ষণ এবং ৩১৮ জন যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে।

মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক শিশু হত্যা, ধর্ষণ ও নির্যাতনের ধারাবাহিক ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা প্রকাশ করছে সংস্থাটি। পাশাপাশি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় এসব নৃশংস ঘটনায় জড়িতের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে দাবি জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে সংস্থাটি জানায়, গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ৭ বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। শরীর ছিল প্রতিবেশীর ঘরে খাটের তলায় এবং মাথাটা ছিল বাথরুমে। এমনকি অভিযুক্ত বিকৃত যৌনাচারে আসক্ত স্বামীকে বাঁচাতে সহযোগিতা করেছিলেন স্ত্রী।

গত ১৬ মে মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার বালুচর ইউনিয়নের চান্দের চর গ্রামের মদিনাপাড়ায় আছিয়া আক্তার নামে ১০ বছরে বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। নিহতের গলায় শ্বাসরোধের চিহ্ন ও ধর্ষণের প্রাথমিক আলামতের ভিত্তিতে বাড়িতে অবস্থানরত ও অভিযুক্ত রাজা মিয়াকে (৪৫)-কে আটক করেছে পুলিশ।

গত ১৪ মে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় ধর্ষণের পর লামিয়া আক্তার নামে এক চার বছরের শিশুকে হত্যা করা হয়েছে। নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর এলাকার একটি ভুট্টাক্ষেত থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। গত ৬ মে সকালে সিলেটের সদর উপজেলার জালালাবাদে ৪ বছরের শিশু ফাহিমা আক্তারকে ধর্ষণ চেষ্টার পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। এমনকি খোটের নিচে লাশ লুকিয়ে রেখে স্বজনদের সাথে খুঁজতে যান আসামী জাকির হোসেন।

এছাড়া প্রতিনিয়ত সারাদেশের বিভিন্ন স্থানে এমন ধরণের অসংখ্য শিশু হত্যা, ধর্ষণ, ধর্ষণের পর হত্যা ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। এইচআরএসএসের সংগৃহীত তথ্যানুসারে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাস থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত সারাদেশে অন্তত ১৮৯০ জন শিশু ও কিশোরী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ৪৮৩ জন শিশু নিহত ও ১৪০৭ জন শিশু শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এছাড়া এসব শিশু ও কিশোরীদের মধ্যে ৫৮০ জন ধর্ষণ এবং ৩১৮ জন যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, শিশু হত্যা, ধর্ষণ ও নির্যাতনের মতো সহিংসতা প্রতিরোধ করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ও আইনগত দায়িত্ব। কিন্তু একের পর এক শিশু ধর্ষণ, হত্যা ও নির্যাতনের ঘটনা প্রমাণ করে যে শিশু সুরক্ষায় বিদ্যমান ব্যবস্থা যথেষ্ট কার্যকর নয়। এছাড়া বিচাহীনতার সংস্কৃতি, দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া ও দুর্বল আইন প্রয়োগ শিশু নির্যাতনের মতো পাশবিক সহিংসতা বৃদ্ধি ও আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির চিত্র প্রকাশ করছে। নিষ্পাপ শিশুদের ওপর এমন পাশবিক সহিংসতা শুধু মানবাধিকার লঙ্ঘন নয়, এটি আমাদের সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয়ের বহিঃপ্রকাশ।

এইচআরএসএস অবিলম্বে এসব শিশু হত্যা ও ধর্ষণের সব ঘটনার দ্রুত, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের সনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের যথাযথ প্রয়োগ, বিনামূল্যে আইনি সহায়তা, ভুক্তভোগী পরিবারকে নিরাপত্তা ও ক্ষতিপূরণ, চিকিৎসা ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের দাবি জানায় সংস্থাটি।

বিবৃতিতে বলা হয়, শিশুদের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে হলে কেবল আইন প্রয়োগ নয়, সামাজিক প্রতিরোধ ও মানবিক মূল্যবোধের পুনর্জাগরণও জরুরি। এজন্য সব নাগরিক, সামাজিক সংগঠন, গণমাধ্যমকে শিশুদের সুরক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার পাশাপাশি অপরাধ রোধে ও দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সরকার ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানায় এইচআরএসএস।

কালের আলো/এসআর/এএএন 

রামিসার বাসায় প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ১০:১২ অপরাহ্ণ
রামিসার বাসায় প্রধানমন্ত্রী

রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণ ও নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা আক্তারের বাসায় গেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষ করে রাত পৌনে ১০টার দিকে রাজধানীর পল্লবীতে রামিসার বাসায় যান প্রধানমন্ত্রী।

সেখানে নিহত রামিসার মা-বাবা ও স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তাদের সান্ত্বনা দেন তিনি।

এরআগে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল ইসলাম হক রামিসাদের বাসায় গিয়ে সমবেদনা জানিয়েছেন। আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রামিসা হত্যার বিচার দ্রুত নিশ্চিত করার কথা জানিয়েছেন।

রামিসা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেফতার আসামির দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ হচ্ছে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্নস্থানে।

গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে মিরপুরের পল্লবীর একটি ফ্ল্যাটের খাটের নিচ থেকে রামিসার মস্তকবিহীন দেহ এবং পরে বাথরুম থেকে খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

পুলিশ প্রথমে প্রধান আসামি সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আটক করে। পরে মূল অভিযুক্ত সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার বিষয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন ঘাতক সোহেল রানা।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ