খুঁজুন
                               
বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ১৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

আরও সুদৃঢ় হবে সিভিল-মিলিটারি সম্পর্ক, পারস্পরিক সমন্বয়ে কার্যকর সহযোগিতার প্রত্যাশা

বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ১:৫৮ পূর্বাহ্ণ
আরও সুদৃঢ় হবে সিভিল-মিলিটারি সম্পর্ক, পারস্পরিক সমন্বয়ে কার্যকর সহযোগিতার প্রত্যাশা

রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে চলতি বছরের জেলা প্রশাসক সম্মেলনের তৃতীয় দিন। মঙ্গলবার (০৫ মে) সকালে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের সঙ্গে প্রথম অধিবেশন। অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম এর উপস্থিতিতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রেখেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান ও বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। এই সম্মেলনের মাধ্যমে কার্যত সামরিক-বেসামরিক সুসম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হয়েছে। সামরিক নেতৃত্ব ও সিভিল প্রশাসনের শক্তিশালী উপস্থিতি এবং পারস্পরিক সমন্বয় ভবিষ্যতে আরও কার্যকর সহযোগিতাও জোরদার করবে বলে প্রত্যাশার কথা উচ্চারিত হয়েছে।

একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপহারে জেলা প্রশাসকরা (ডিসি) প্রশংসার দাবিদার বলে উল্লেখ করেছেন সেনাপ্রধান। সামরিক-বেসামরিক প্রশাসন মিলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার ফলেই একটি গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন উপহার সম্ভব হয়েছে বলে মনে করেন নৌবাহিনী প্রধান। বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন বলেছেন, আমাদের ফোকাস ঠিক ছিল বলেই আমরা ফেব্রুয়ারি মাসে একটি সুন্দর নির্বাচন দিতে পেরেছি। এছাড়া সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফ উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। প্রথম কার্য অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।

আমাদের দেশের ইতিহাসে এত চমৎকার নির্বাচন আগে কখনো হয়নি: সেনাপ্রধান
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বিভাগীয় কমিশনার ও ডিসিরা একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপহারে প্রশংসার দাবিদার উল্লেখ করে অধিবেশনে বলেন, ‘একটি চমৎকার ইলেকশন আপনারা জাতিকে উপহার দিয়েছেন। আমরা আপনাদের পাশে ছিলাম। কিন্তু ইলেকশন করার দায়িত্ব ছিল সম্পূর্ণ আপনাদের। এন্ড ইউ ডেলিভার্ট ইট হান্ড্রেড পার্সেন্ট। ইতিহাসে এতো চমৎকার ইলেকশন আমাদের দেশে হয় নাই। তাঁর মানে আমরা যদি সামরিক-অসামরিক এক সঙ্গে কাজ করি সিভিল-মিলিটারি যে রিলেশন এটিকে যদি আমরা বিল্ট করি তাহলে আমরা যেকোন অসাধ্য সাধন করতে সক্ষম।’ ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে দেশের গণতান্ত্রিক যাত্রার উত্তরণে কঠিন চ্যালেঞ্জিং বাস্তবতার বিষয়টি স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ‘তখন ছিল একটি আশা-নিরাশার সময়। দেশের মানুষ বিভ্রান্ত। বিভিন্ন ধরনের কথা বলছে। ইলেকশন হবে না, সেই হবে না আমরা এটিকে মিথ্যা প্রমাণিত করে একটি চমৎকার ইলেকশন করে দেশ এবং জাতিকে আমরা একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নিয়ে এসেছি। এটির প্রশংসার দাবিদার আপনারা। এজন্য আমি আপনাদেরকে অভিনন্দন জানাচ্ছি।’ সেনাপ্রধান বলেন, ‘আপনারা যেকোন সময় যখন সেনাবাহিনীর সাহায্য চাইবেন পাশের যে ফরমেশন আছে তাদেরকে জানাবেন, তাদেরকে নির্দেশনা দেওয়া আছে। তাঁরা ইনস্ট্যান্টলি বের হয়ে আপনাদের সহযোগিতা করবে। অসামরিক প্রশাসনকে যে সহায়তা করা, দুর্যোগ-দুর্ঘটনায় যে সমস্যা ফেইস করবেন ফরমেশনকে জানাবেন তারা ডেপ্লয় হয়ে আপনাদের সকল রকমের সাহায্য-সহযোগিতা করবে।’

একটি সুন্দর, সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন জাতিকে উপহার দিতে পেরেছি : নৌবাহিনী প্রধান
বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের উদ্দেশ্যে বলেন, মাঠ পর্যায়ে সরকারের সব রকমের কর্মপরিকল্পনা এবং কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য আপনারা নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। আপনাদের ভূমিকা এক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অপরদিকে, সশস্ত্র বাহিনী-সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী শুধুমাত্র বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা বা সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্যই না আপদকালীন এবং শান্তিকালীন সময়ে অসামরিক প্রশাসনের পাশে এবং জনগণের পাশে সব সময় দাঁড়িয়েছে। আমি মনে করি আজকের এই মতবিনিময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমার বিশ্বাস দীর্ঘদিন পর সরকারের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ও তিন বাহিনী প্রধান একত্রিতভাবে এ ধরনের একটি আয়োজনে উপস্থিত হয়েছেন। আমার বিশ্বাস এর মাধ্যমে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যে অঙ্গীকার সেটি করতে সহজ হবে। আমরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবো ইনশাআল্লাহ।

  • বিভাগীয় কমিশনার ও ডিসিরা একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য ত্রয়োদশ নির্বাচন উপহারে প্রশংসার দাবিদার
    জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান
    সেনাপ্রধান
  • একটি সুন্দর, সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন জাতিকে উপহার দিতে পেরেছি
    এডমিরাল এম নাজমুল হাসান
    নৌবাহিনী প্রধান
  • আমরা ফেব্রুয়ারি মাসে একটি সুন্দর নির্বাচন দিতে পেরেছি
    এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন
    বিমান বাহিনী প্রধান

বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা জানেন বাংলাদেশ নৌবাহিনী ‘শান্তিতে সংগ্রামে সমুদ্রে দুর্জয়’ এই মূলমন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার মূল দায়িত্ব পালন করে। বিশাল সমুদ্রসীমার সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা রক্ষা এবং একই সঙ্গে সমুদ্রের সকল অর্থনৈতিক কার্যক্রমের নিরাপত্তা বিধান করা নৌবাহিনীর প্রধান দায়িত্ব। আমরা বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচল, মৎস্য সম্পদের সুরক্ষা, সমুদ্রপথে চোরাচালান দমন, অবৈধ অস্ত্রের চোরাচালান প্রতিহত করি। একই সঙ্গে মানব পাচার রোধেও আমাদের ও কোস্ট গার্ডের সদস্যদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে সমুদ্র এবং উপকূলীয় এলাকায়। গতকাল আপনারা দেখেছেন টেকনাফে একটি অভিযানে নৌবাহিনীর সদস্যরা প্রায় ৩০ কোটি টাকা মূল্যের আইস, ইয়াবা ও পিস্তল উদ্ধার করেছে। উপকূলীয় ও সমুদ্র এলাকায় নিয়মিতভাবে আমরা এই দায়িত্ব পালন করে থাকি। আমরা সব সময় স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা পেয়েছি।

বিগত দেড় বছরের অধিক আমরা অসামরিক প্রশাসনের সহায়তার জন্য সরকারের নির্দেশনায় নিয়োজিত রয়েছি। এই সময়ে আপনারা দেখেছেন অতীতের যেকোন সময়ের তুলনায় আমার বিশ্বাস বাংলাদেশের ইতিহাসে সুন্দর একটি সম্পর্ক সামরিক ও অসামরিক প্রশাসনের মধ্যে বিরাজমান ছিল এখনও রয়েছে। এখনও আমরা স্বল্পমাত্রায় সরকারের নির্দেশনায় আমাদের মোতায়েন বলবৎ রেখেছি। গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনারা আমরা সকলেই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছি। জনগণের প্রতি আমাদের অঙ্গীকার পালন করেছি। তারই ফলশ্রুতি একটি সুন্দর, সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন জাতিকে উপহার দিতে পেরেছি। আপনারা দেখেছেন ওই সময় গাজীপুরে আমরা তিন বাহিনী প্রধান গিয়েছিলাম একসঙ্গে। সেখানে ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার মহোদয় ও ঢাকা বিভাগের সকল জেলার প্রশাসকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া আমি ব্যক্তিগতভাবে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বরগুনা, ভোলা এই উপকূলীয় জেলাগুলোতে সফর করেছি। স্থানীয় প্রশাসন ও বিভাগীয় কমিশনার মহোদয়রা উপস্থিত ছিলেন। আমরা দেখেছি সকলে সম্মিলিতভাবে দেশের জন্য কাজ করলে যেকোন কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারি এবং আমরা সফল হতে পারি। এটি আমরা জাতির কাছে প্রমাণ করেছি।

তিনি বলেন, আমাদের শান্তিকালীন সময়ে প্রধান ফোকাস, মূল লক্ষ্য প্রশিক্ষণ। এছাড়াও সুনীল অর্থনীতিতে নৌবাহিনীর নিয়মিত ভূমিকা থাকে। মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ, জাটকা নিধন প্রতিরোধ, মা ইলিশ সংরক্ষণ, কম্বিং অপারেশনসহ বিভিন্ন সময়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মোতাবেক আমরা ও কোস্ট গার্ডের সদস্যরা নিয়মিত কাজ করি। সেই সময়ে আপনাদের প্রশাসনিক সহযোগিতার অনেক প্রয়োজন হয়। উপকূলীয় অঞ্চলে আমাদের একটি সুনিবিড় সম্পর্ক সব সময় বিরাজমান থাকে। এছাড়াও আপদকালীন ও দুর্যোগকালীন সময়ে বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস এ ধরনের পরিস্থিতি ও তৎপরবর্তী উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে নৌবাহিনীর সদস্যরা নিয়মিত মোতায়েন হয়ে থাকেন। এসকল কার্যক্রমে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে আমাদের সুনিবিড় সম্পর্কের জন্য আমি সকলকে ধন্যবাদ জানাই। আমি বিশ্বাস করি ভবিষ্যতেও দেশের প্রয়োজনে জাতির প্রয়োজনে আমাদের সুসম্পর্ক বজায় থাকবে ইনশাআল্লাহ।

দেশের জন্য, অর্থনীতির জন্য, যুদ্ধকালীন, আপদকালীন ও শান্তিকালীন সময়ে সমুদ্রের যথাযথ ও নিরাপদ ব্যবহার আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এজন্যই বাংলাদেশের জন্য একটি শক্তিশালী নৌবাহিনীর প্রয়োজনীয়তা অনেক বেশি। আমাদের উপকূলীয় অঞ্চল ইয়াবা, আইস, মাদকদ্রব্য চোরাচালানের ক্ষেত্রে নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহার হয়। এক্ষেত্রে নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের সদস্যরা শুধুমাত্র সমুদ্রে নিয়মিত টহল প্রদান করে তাই নয়, তারা উপকূলীয় অঞ্চলে বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করে। পুলিশ প্রশাসনসহ অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তা নিয়ে মাদক পাচার রোধের মাধ্যমে আমরা আমাদের যুব সমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে আপ্রাণ চেষ্টা করছি। আমার বিশ্বাস এক্ষেত্রে আপনাদের সহযোগিতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। বর্তমান সরকারের ম্যানিফেস্টো অনুযায়ী, বাংলাদেশের জন্য একটি শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী বিশেষ করে শক্তিশালী নৌবাহিনী গঠনে তাদের যে প্রতিশ্রুতি রয়েছে আমার বিশ্বাস এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য নৌবাহিনীর জন্য আধুনিক নৌযান ও আধুনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম ক্রয়ের প্রক্রিয়া পর্যায়ক্রমে গ্রহণ করবে। আমরা জানি দেশের অর্থনীতি যদি একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা বাহিনীকে সমর্থন করতে পারে তাহলে দেশের সার্বিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত হয়। আমি এই ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করবো। বাংলাদেশ নৌবাহিনী আমার একার নয় কিংবা আমরা যারা সাদা ইউনিফর্মে কর্মজীবী তাদের একার নৌবাহিনী নয়; বাংলাদেশ নৌবাহিনী বাংলাদেশের সকলের, বাংলাদেশ নৌবাহিনী আপনাদের সকলের।

আমরা ফেব্রুয়ারি মাসে একটি সুন্দর নির্বাচন দিতে পেরেছি : বিমান বাহিনী প্রধান
বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন বলেন, ‘এ ধরনের ইন্টারেকটিভ সেশনে আমার উপস্থিতি প্রথম। কিন্তু আমি যেখানেই গিয়েছি বিশেষ করে আমাদের বিমান বাহিনী ঘাঁটি যেখানে আছে সেখানে আপনাদের সঙ্গে বিভিন্নভাবে বা আপনাদের কলিগদের সঙ্গে আমার ইন্টারেকশন হয়েছে। গত দেড় বছরের উর্ধ্ব সময়ে আমরা সশস্ত্র বাহিনী আপনাদের পাশে ছিলাম অসামরিক প্রশাসনের সঙ্গে। আমাদের ফোকাস ঠিক ছিল বলেই আমরা ফেব্রুয়ারি মাসে একটি সুন্দর নির্বাচন দিতে পেরেছি। বর্তমান সরকার আসার সঙ্গে সঙ্গে ওনাদের ইলেকশন ম্যানিফেস্টোতে তাঁরা উল্লেখ করেছেন প্রতিরক্ষা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিগত দুই থেকে আড়াই মাসের মধ্যেই আমাদের মাননীয় প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার সাহায্যে এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ডাইরেক্ট ব্লেসিংয়ে আমরা অনেক দূর এগিয়ে গিয়েছি। অচিরেই আমাদের বিমান বাহিনী আধুনিকায়ন করার জন্য আমাদের যেসব বিমান, মিডিয়াম ও লং রেঞ্জ সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল সিস্টেম, অ্যাটাক হেলিকপ্টার এসব আমরা প্রক্রিয়াকরণের পরিকল্পনা করছি।’

তিনি বলেন, ‘বিমান বাহিনী প্রধান এবং এজ এন এয়ার ডিফেন্স কমান্ডার অফ বাংলাদেশ হিসেবে আমার যে দায়িত্ব বর্তায়, সেটি কিন্তু অনেক গুরুদায়িত্ব। আমাদের ফরেন পলেসি রিমেইন্স- ‘ফ্রেন্ডশিপ টু অল মেলাইজ টু নান’ (সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে বৈরিতা নয়)। আমাদের ডিফেন্সিভ ক্যাপাবিলিটিকে সবচেয়ে বেশি মূল্যায়ন দিতে হবে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন কেবল আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা নিয়ে কোনো রাষ্ট্র বা বাহিনী সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকতে পারে না, যদি না তাদের ন্যূনতম আক্রমণাত্মক ক্ষমতা থাকে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সবাইকে একটি বিষয় বুঝতে হবে- ‘নো ডিফেন্স ইজ কমপ্লিট ডিফেন্স ইফ ইউ ডোন্ট হ্যাভ মিনিমাম অফেন্সিভ ক্যাপাবিলিটি।’ এজন্য আমাদের এই ক্রেডিবিলিটি ডিটারেন্স (প্রতিরোধ ক্ষমতা) ক্রিয়েট করতে হলে সেই ক্যাপাবিলিটি থাকতে হবে যে, যদি আমাদের কোন অ্যাডভারসারি (সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ) মনে করে আমাদের সঙ্গে কোন ধরনের বৈরী আচরণ করবে তবে তাকে আঘাত করার সক্ষমতা আমাদের আছে। সেইভাবে আপাতত আমাদের বিমান বাহিনীকে গড়ে তোলার চেষ্টা করছি।’

এক প্রশ্নের বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ‘শান্তিকালীন সময়ে বিশেষ করে দুর্যোগ মোকাবিলায় বা HADR অপারেশনে আমাদের মানবিক সহায়তা বা ত্রাণ কার্যক্রমে বিমান বাহিনী সব সময় অগ্রজ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে ফাস্ট রেসপন্ডার হিসেবে আমরা আমাদের অ্যাসেসমেন্ট থেকে শুরু করে যেসব জায়গায় কমিউনিকেশন ব্রেকডাউন হয়ে যায়, সেইসব জায়গায় আমরা আমাদের হেলিকপ্টারের মাধ্যমে অতীতেও করেছি এবং যেকোন সময় আমরা সর্বদা প্রস্তুত থাকব। এসব ক্ষেত্রে আপনাদের সহযোগিতা খুবই প্রয়োজন হয় যারা আপনারা মাঠ পর্যায়ে থাকেন। দুর্যোগকে আমরা শুধু ঘুর্ণিঝড় বা বন্যা হিসেবেই দেখবো না, আমাদের সবচেয়ে বড় একটি সাইলেন্ট ডিজাস্টার অপেক্ষমান, সেটি হচ্ছে ভূমিকম্প যা আমরা কিছুদিন হয় তারপর ভুলে যাই। এই ভূমিকম্প বিশেষ করে আমাদের মেগা সিটি যেগুলো আছে সেগুলোর জন্য অত্যন্ত ভয়ানক এক পরিস্থিতি সৃষ্টি করবে। সেটির জন্য যদি আমাদের প্রাক প্রস্তুতি না থাকে তাহলে এটি আমরা হ্যান্ডেল করতে পারবো না, ইট ইজ ভেরি ডেঞ্জারাস।’

তিনি বলেন, ‘ওয়েদার স্টেশনের বিষয়ে সচিব মহোদয় অলরেডি বলেছেন আপনাদেরকে- ওয়ার্ল্ড মেট অর্গানাইজেশন (ডব্লিউএমও) এবং বাংলাদেশ মেটেওরোলজিক্যাল ডিপার্টমেন্ট (বিএমডি) ছাড়াও বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর নিজস্ব ওয়েদার ফোরকাস্টিং সিস্টেম রয়েছে, সেটি অত্যন্ত অত্যাধুনিক। আমাদের নিজস্ব দুটি র‌্যাডার আছে যেটি চট্টগ্রামে কোস্টাল সাইড দেখে এবং আরেকটি আছে যশোরে যেটি কাভার করে ঢাকা থেকে শুরু করে নর্থবেঙ্গল পর্যন্ত। আমরা এভ্রি টেন মিনিটস ইন্টারভাল র‌্যাডার এর রিয়েলটাইম পিকচার বা ইমেজ এর আপডেট পাই, প্লাস ইন্টারন্যাশনাল ওয়েদার এর মাধ্যমে আমরা নিজস্ব ফোরকাস্ট করি। যেটা বলেছেন, বর্তমানে প্রতিটি জায়গায় একটি করে ওয়েদার স্টেশনের কোন প্রয়োজন নেই, আমরা স্যাটেলাইট পিকচার ইমেজিং এবং ওয়েদার র‌্যাডারের মাধ্যমে বাংলাদেশের যেকোন ওয়েদার আমরা অ্যাসেস করতে পারি। আমরা এই ফোরকাস্টিং ওপেন সোর্সে দিয়ে দিয়েছি, এভ্রিবডি কেন সি দোস পিকচারস এবং তাদের কাজে লাগাতে পারবেন।’

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ পিএসও’র
সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান তাঁর বক্তব্যে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, সমন্বিত উদ্যোগ ও কার্যকর নেতৃত্বের মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় যৌথভাবে দেশের নিরাপত্তা, উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিতে কাজ করছে। প্রতিরক্ষা সচিব জানান, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সশস্ত্র বাহিনীর সকল কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত রেখেছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি দেশের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীর দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সুসংহত করতে তাদের অবদানকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

এমএএএমকে

সৌদিসহ মধ্যপ্রাচ্যে ঈদুল আজহা উদযাপন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৯:৪৪ পূর্বাহ্ণ
সৌদিসহ মধ্যপ্রাচ্যে ঈদুল আজহা উদযাপন

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে আজ বুধবার (২৭ মে) উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। ঈদের নামাজ, পশু কোরবানি এবং হজের আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে মুসলিম বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব পালন করছেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।

পবিত্র হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা ‘উকুফে আরাফা’ সম্পন্ন হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে শুরু হয়েছে ঈদুল আজহার আনুষ্ঠানিকতা। মঙ্গলবার জিলহজ মাসের নবম দিনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা প্রায় ১৬ লাখ হাজি সৌদি আরবের আরাফাত ময়দানে সমবেত হন।

ভোর থেকেই শুভ্র ইহরামে সজ্জিত হাজিদের ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো আরাফাত প্রান্তর।

ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী আরাফাতে অবস্থান করা হজের প্রধান রুকন।

সূর্যাস্ত পর্যন্ত হাজিরা আরাফাতের নির্ধারিত সীমানার মধ্যে অবস্থান করে নামাজ, তওবা-ইস্তিগফার, কোরআন তিলাওয়াত ও জিকির-আসকারে সময় কাটান। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় কান্না ও প্রার্থনায় মগ্ন ছিলেন তারা।

দুপুরে ঐতিহাসিক নামিরা মসজিদ থেকে হজের খুতবা দেন মসজিদুল হারামের ইমাম ও খতিব শায়খ আলি আল হুদাইফি। এবার বাংলাসহ বিশ্বের ৩৫টি ভাষায় খুতবার অনুবাদ সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

খুতবায় তিনি মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা এবং বিশ্বশান্তি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

খুতবা শেষে হাজিরা জোহর ও আসরের নামাজ একসঙ্গে আদায় করে সূর্যাস্তের পর মুজদালিফার উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে খোলা আকাশের নিচে রাতযাপন করেন তারা। একই সঙ্গে মিনায় শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের জন্য প্রয়োজনীয় কঙ্কর সংগ্রহ করেন হাজিরা।

আজ ১০ জিলহজ সকালে মিনার জামারায় বড় শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের মধ্য দিয়ে ঈদুল আজহার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। পরে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় পশু কোরবানি করেন হাজিরা। কোরবানি শেষে মাথা মুণ্ডন বা চুল ছেঁটে ইহরাম ত্যাগ করেন তারা। এরপর কাবা শরিফ তাওয়াফের মাধ্যমে হজের পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবেন।

এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ঈদকে ঘিরে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। প্রবাসী বাংলাদেশি, পাকিস্তানি ও ভারতীয় মুসলমানদের অনেকেই আগেই গরু, ছাগলসহ কোরবানির পশু কিনেছেন। পরিবার ও স্বজনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে নিয়েছেন নানা প্রস্তুতি।

ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত এই পবিত্র দিনে অনাবিল আনন্দে ভাসছে মধ্যপ্রাচ্যের আরব দেশগুলোর নারী-পুরুষ, শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষ। মুসলমানরা স্মরণ করছেন আল্লাহর নবী হযরত ইব্রাহিম (আ.) ও তাঁর পুত্র হযরত ইসমাঈল (আ.)-এর অনন্য ত্যাগের ইতিহাস। ঈদের নামাজ শেষে মুসল্লিরা পরস্পরের মধ্যে শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা বিনিময় করছেন। পাশাপাশি মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি দিচ্ছেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।

ঈদুল আজহার ইতিহাস মুসলিম মিল্লাতের পিতা হযরত ইব্রাহিম (আ.) ও তাঁর পুত্র হযরত ইসমাঈল (আ.)-এর স্মৃতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। হযরত ইব্রাহিম (আ.) স্বপ্নে মহান আল্লাহর নির্দেশ পেয়ে প্রিয় পুত্র ইসমাঈল (আ.)-কে কোরবানি করতে উদ্যত হন। মূলত এটি ছিল আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি এক কঠিন পরীক্ষা।

আল্লাহর আদেশ পালনে অবিচল থেকে তিনি পুত্রকে কোরবানি দেওয়ার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেন এবং সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। পরে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে ইসমাঈল (আ.)-এর পরিবর্তে একটি পশু কোরবানির নির্দেশ দেওয়া হয়।

সেই ঐতিহাসিক ঘটনার স্মৃতিকে ধারণ করেই ইসলামি শরিয়তে কোরবানির বিধান চালু হয়। হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর সুন্নত অনুসরণ করে প্রতি বছর সামর্থ্যবান মুসলমানরা পশু কোরবানি করে থাকেন।
হজ ব্যবস্থাপনা নির্বিঘ্ন রাখতে সৌদি সরকার নিয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তা ও পরিবহন ব্যবস্থা। তীব্র গরমে হাজিদের স্বস্তি দিতে বিভিন্ন স্থানে স্থাপন করা হয়েছে পানির ফোয়ারা ও ছায়ার ব্যবস্থা। পাশাপাশি হাজিদের যাতায়াত সহজ করতে প্রায় ২৪ হাজার বিশেষ বাস পরিচালনা করছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।

কালের আলো/এসআর/এএএন 

বৈরী আবহাওয়ায় দুই নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ

মানিকগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৮:৫৬ পূর্বাহ্ণ
বৈরী আবহাওয়ায় দুই নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ

ঈদকে সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের চাপের মধ্যেই ঝড়ো হাওয়া ও ভারী বৃষ্টির কারণে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া এবং আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটে ফেরি ও লঞ্চ চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ।

বুধবার ( ২৭ মে) সকালে বৈরী আবহাওয়া শুরু হলে নিরাপত্তার স্বার্থে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সকাল ৭টা ১০ মিনিটের দিকে পশ্চিম আকাশে মেঘ জমে প্রবল ঝড় ও ভারী বৃষ্টি শুরু হয়। এমন অবস্থায় দুর্ঘটনা রোধে দুই নৌরুটে সব ধরনের নৌযান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধের ঘোষণা দেয় বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ।

বিআইডব্লিউটিসির জিএম সালাম মিয়া জানান, ঝড় ও বৃষ্টির কারণে নিরাপত্তার স্বার্থে নৌযান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে ফেরি ও লঞ্চ চলাচল আবার চালু করা হবে।

ঘাট কর্তৃপক্ষ জানায়, বর্তমানে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ও আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটে ২৩টি ফেরি, ৩২টি লঞ্চ ও ৬৭টি স্পিডবোট চলাচল করে।

কালের আলো/এএএন/এমএস

দক্ষিণ ও পূর্ব লেবাননে রাতভর হামলা ইসরায়েলের, শিশুসহ নিহত ৩১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৮:৪৭ পূর্বাহ্ণ
দক্ষিণ ও পূর্ব লেবাননে রাতভর হামলা ইসরায়েলের, শিশুসহ নিহত ৩১

হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও জোরদারে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ঘোষণা দেওয়ার পর দক্ষিণ ও পূর্ব লেবাননে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। রাতভর চালানো হামলায় শিশুসহ অন্তত ৩১ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় এপ্রিলের মাঝামাঝি কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পর এটিকে সবচেয়ে ভয়াবহ বোমাবর্ষণের একটি রাত হিসেবে দেখা হচ্ছে। হামলার পর বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বেরিয়ে পড়েন হাজারো মানুষ।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, তারা হিজবুল্লাহর ১০০টির বেশি অবকাঠামো ও যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

গত সোমবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বলেন, হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে হামলার গতি ‘আরও বাড়ানোর’ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার বৈঠকে তিনি জানান, লেবাননে ইসরায়েলের অভিযান আরও গভীরে নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘আইডিএফ স্থলভাগে বড় শক্তি নিয়ে অভিযান চালাচ্ছে এবং কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা দখল করছে। উত্তর ইসরায়েলের জনগণকে হিজবুল্লাহর হামলা থেকে রক্ষা করতে আমরা নিরাপত্তা বলয় আরও শক্তিশালী করছি।’

যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও উভয় পক্ষই বারবার তা লঙ্ঘন করেছে। এতে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির আলোচনা অনিশ্চয়তায় পড়েছে।

ইসরায়েলি হামলা প্রতিদিনই চলছে, বিশেষ করে দক্ষিণ লেবাননে। পাল্টা জবাবে হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকায় রকেট ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয় গণমাধ্যম জানায়, বেকা উপত্যকার মাশগারা গ্রাম ও দক্ষিণ লেবাননের বুর্জ আল-শামালি এলাকায় বিমান হামলা হয়েছে। কিছু হামলা ইউনেস্কো স্বীকৃত ঐতিহাসিক বিউফোর্ট দুর্গের কাছেও আঘাত হানে। প্রায় ৯০০ বছরের পুরোনো এই দুর্গ অঞ্চলটির অন্যতম সংরক্ষিত মধ্যযুগীয় স্থাপনা।

সোমবার প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় নেতানিয়াহু বলেন, ইরান-সমর্থিত শিয়া সংগঠন হিজবুল্লাহ ফাইবার-অপটিক ড্রোনসহ বিভিন্ন হামলা চালানোয় ইসরায়েল এখন হামলার সংখ্যা ও তীব্রতা বাড়াবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আমরা তাদেরকে চূর্ণবিচূর্ণ করে দেব।’

এ ঘোষণার পর বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হিজবুল্লাহর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এলাকাটি থেকে হাজারো মানুষ পরিবার নিয়ে সরে যেতে শুরু করেন। রাস্তায় দীর্ঘ যানজট দেখা যায়।

যদিও রাতভর হামলায় রাজধানী বৈরুত সরাসরি আক্রান্ত হয়নি, তবু পুরো লেবাননজুড়ে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান একের পর এক হামলা চালায়। বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৫০টি স্থানে ডজনখানেক হামলা হয়েছে।

সোমবার দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়েহ শহরে হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। সোমবার সন্ধ্যায় দক্ষিণাঞ্চলীয় আরব সালিম শহরে নিজ বাড়িতে এক ব্যক্তি ও তার স্ত্রী নিহত হন। এ ছাড়া কাওতারিয়েত এল রেজ গ্রামেও আরও দুজন নিহত হন।

রাতভর হামলায় মাশগারার বেশ কয়েকটি বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, ধ্বংসস্তূপ থেকে ১১ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন নারী ও দুই শিশু ছিল। আরও ১৫ জন আহত হয়েছেন।

আহতদের মধ্যে ছিল সাত বছরের শিশু মোহাম্মদ। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে গভীর রাতে তাকে উদ্ধারের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। হাসপাতালে শুয়ে বিবিসিকে শিশুটি বলে, ‘ঘুম ভাঙার পর আমি নড়াচড়া করতে পারছিলাম না। চারদিকে শুধু অন্ধকার ছিল। পরে উদ্ধারকর্মীদের শব্দ শুনতে পাই।’

মোহাম্মদের মাথায় ব্যান্ডেজ বাঁধা ছিল, হাত-পায়েও আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। হামলার সময় সে ঘুমিয়ে ছিল। ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে তার বাবা ও দুই বোন নিহত হন।

বর্তমানে মাশগারা যেন প্রায় জনশূন্য। রাস্তায় খুব কম যানবাহন দেখা যাচ্ছে। জীবনযাত্রা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় পৌরসভার সদস্য আহমদ সাংবাদিকদের ধ্বংসপ্রাপ্ত এলাকা ঘুরিয়ে দেখান। চারদিকে ভাঙাচোরা ঘরবাড়ি ও দোকানপাট ছড়িয়ে রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি হিজবুল্লাহর সদস্য নই। কিন্তু গ্রামের সবাই প্রতিরোধের পক্ষে। আর ইসরায়েল কাউকেই রেহাই দিচ্ছে না।’

এ সময় যুদ্ধবিমানের শব্দ শোনা গেলে এলাকাবাসী দ্রুত সরে যান। পরে সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে কাছাকাছি এলাকায় বড় বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখা যায়।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী মাশগারার আকাশ থেকে ধারণ করা ভিডিও প্রকাশ করে জানায়, সেখানে হিজবুল্লাহর অবকাঠামোতে হামলা চালানো হয়েছে এবং ‘সন্ত্রাসীদের নির্মূল করা হয়েছে।’

তাদের দাবি, দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর ব্যবহৃত ৯০টির বেশি অস্ত্রাগার, কমান্ড সেন্টার ও নজরদারি পোস্টে হামলা চালানো হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে ইসরায়েলি বাহিনী নতুন করে বিভিন্ন এলাকা খালি করার নির্দেশ দেয়। তাদের অভিযোগ, হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করছে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর আরবি ভাষার মুখপাত্র আভিচাই আদরাই বলেন, হিজবুল্লাহর ধারাবাহিক লঙ্ঘনের কারণেই ইসরায়েলি বাহিনী পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে।

অন্যদিকে হিজবুল্লাহ জানায়, ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জবাবে তারা উত্তর ইসরায়েলের তিনটি ব্যারাক ও একটি সামরিক পোস্টে হামলা চালিয়েছে।

নেতানিয়াহু এমন সময় হামলা জোরদারের নির্দেশ দেন যখন ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, দক্ষিণ লেবাননের যুদ্ধে তাদের এক সেনা নিহত হয়েছেন। ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে এখন পর্যন্ত হিজবুল্লাহর হামলায় ২৩ জন ইসরায়েলি সেনা ও একজন বেসামরিক ঠিকাদার নিহত হয়েছেন।

অন্যদিকে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, একই সময়ে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৩ হাজার ১৮৫ জন নিহত হয়েছেন। সূত্র: বিবিসি।

কালের আলো/এসআর/এএএন