খুঁজুন
                               
, ,
           

কাপাসিয়ায় একই পরিবারের ৫ জনকে গলা কেটে হত্যা

গাজীপুর প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ১১:৩৪ পূর্বাহ্ণ
কাপাসিয়ায় একই পরিবারের ৫ জনকে গলা কেটে হত্যা

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার রাউৎকোনা গ্রামে এক প্রবাসীর বাড়িতে একই পরিবারের পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। নিহতদের মধ্যে ভাড়াটিয়া ফোরকান মিয়ার স্ত্রী, তিন সন্তান ও তার এক শ্যালক রয়েছেন। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ফোরকান মিয়া পলাতক রয়েছেন।

শনিবার (৯ মে) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর আলম।

ওসি জানান, স্থানীয়রা সকালে বাড়ির ভেতরে রক্তাক্ত মরদেহগুলো দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহগুলো উদ্ধার করে।

নিহতরা হলেন— ফোরকান মিয়ার স্ত্রী শারমিন, তার তিন কন্যা সন্তান মিম, মারিয়া, ফারিয়া এবং শ্যালক রসুল মিয়া। নিহতদের বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলায়। তারা কাপাসিয়ায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কাতার প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়িতে ভাড়ায় বসবাস করতেন ফোরকান ও তার পরিবার। শুক্রবার রাতে তাদের স্বাভাবিক চলাফেরা দেখতে পান প্রতিবেশীরা। শনিবার সকালে প্রতিবেশীরা বাড়িতে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে ভেতরে গিয়ে রক্তাক্ত মরদেহগুলো পড়ে থাকতে দেখেন। এ সময় ঘরের আসবাবপত্র এলোমেলো অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে স্থানীয়রা থানা পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পরিদর্শন করেছেন।

কাপাসিয়া-কালীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান জানান, কাপাসিয়ায় একই পরিবারের পাঁচজনকে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বাড়ির গৃহকর্তা ফোরকান মিয়াই এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। ঘটনার পর থেকেই ফোরকান পলাতক রয়েছেন।

গাজীপুর পুলিশ সুপার মো. শরীফ উদ্দীন বলেন, ফোরকান মিয়ার স্ত্রী, তার তিন সন্তান ও শ্যালকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু হয়েছে। মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

এদিকে, এই ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দায়ীদের শাস্তি দাবি করছেন নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

বান্দরবানে পাহাড় ধসে একই পরিবারের ৩ জনসহ নিহত ৫

বান্দরবান প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ৯:০৮ পূর্বাহ্ণ
বান্দরবানে পাহাড় ধসে একই পরিবারের ৩ জনসহ নিহত ৫

টানা ভারী বর্ষণের মধ্যে বান্দরবানের লামা উপজেলায় পৃথক দুটি পাহাড় ধসের ঘটনায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের তিনজন রয়েছেন। অপর ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন এক দম্পতি।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ভোরে উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নের মিশনপাড়া (পাগলির ঝিরি) এলাকায় এ দুটি দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- আজিজনগর এলাকার বাসিন্দা মো. ইউনুস, তার স্ত্রী রানু আক্তার এবং তাদের পাঁচ বছর বয়সী ছেলে মো. সোলেমান। অন্য ঘটনায় নিহত হয়েছেন মো. জুয়েল ও তার স্ত্রী কুলছুমা আক্তার।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোরে পাহাড় ধসের পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করে।

বান্দরবানের পুলিশ সুপার মো. ওহাবুল ইসলাম খন্দকার জানান, একই এলাকায় পৃথক দুটি পাহাড় ধসের ঘটনায় শিশুসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

এদিকে টানা বর্ষণে লামাসহ বান্দরবানের বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় ধসের ঝুঁকি আরও বেড়েছে। নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এবং সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হলেও অনেকেই এখনও সেখানে যেতে অনাগ্রহী। এছাড়া অব্যাহত বৃষ্টির কারণে জেলার বিভিন্ন উপজেলার সড়ক যোগাযোগ, বিদ্যুৎ সরবরাহ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

ভারী বৃষ্টিতে কক্সবাজারে পাহাড়ধসে নিহত বেড়ে ১৯

কক্সবাজার প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬, ১১:০৯ অপরাহ্ণ
ভারী বৃষ্টিতে কক্সবাজারে পাহাড়ধসে নিহত বেড়ে ১৯

টানা কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে কক্সবাজারে একের পর এক পাহাড়ধস ও বাড়ির দেয়াল ধসের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় এ পর্যন্ত ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১৪ জন রোহিঙ্গা এবং পাঁচজন স্থানীয় বাসিন্দা।

পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারী মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে জেলা প্রশাসন।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাফিস ইনতেসার নাফি জানান, টানা মুষলধারে ও থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে জেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বেড়েছে। কক্সবাজার শহরের কলাতলীর হাজীপাড়াসহ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম চলছে। অনেকেই প্রথমে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে অনাগ্রহ দেখালেও তাদের বুঝিয়ে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, জেলার অন্যান্য উপজেলাতেও পাহাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে যেতে প্রশাসন ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে। সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলার সব আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে মানুষকে সরিয়ে নিতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তা, ফায়ার সার্ভিসের সদস্য এবং স্বেচ্ছাসেবকরা মাঠে কাজ করছেন।

তিনি জানান, স্থানীয় ও রোহিঙ্গা মিলিয়ে অন্তত ১৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তিনি সবাইকে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থান না করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত উদ্ধার ও সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনায় ফায়ার সার্ভিস প্রস্তুত রয়েছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

রাজশাহীতে কেক খাওয়ানোর প্রলোভনে সাত বছরের শিশুকে ধর্ষণ

রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬, ১০:৫৭ অপরাহ্ণ
রাজশাহীতে কেক খাওয়ানোর প্রলোভনে সাত বছরের শিশুকে ধর্ষণ

রাজশাহীর চারঘাটে কেক খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে প্রথম শ্রেণীতে পড়ুয়া এক শিশু শিক্ষার্থীকে (৭) জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক প্রতিবেশী যুবকের বিরুদ্ধে। বুধবার (৮ জুলাই) বেলা আড়াইটার দিকে চারঘাট স্লুইসগেট সংলগ্ন হঠাৎপাড়া এলাকায় এই নৃশংস ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত যুবকের নাম শ্রী দেব (২১)। সে ওই এলাকার শ্রী জয়ের ছেলে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত দেব পলাতক রয়েছে।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ভিকটিম শিশুটি চারঘাট মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণীর শিক্ষার্থী। বুধবার  দুপুরে তার মা তাকে গোসল করানোর জন্য খোঁজাখুঁজি করছিলেন। একপর্যায়ে তিনি প্রতিবেশী দেবের বাড়ির বারান্দায় শিশুটিকে রক্তাক্ত অবস্থায় ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে দেখেন।

কান্নার কারণ জিজ্ঞাসা করলে শিশুটি তার মাকে জানায়, বাড়িতে কেউ না থাকার সুবাদে দেব তাকে কেক খাওয়ানোর কথা বলে ঘরের ভেতর ডেকে নিয়ে যায়। এরপর ঘরের দরজা বন্ধ করে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। শিশুটির মায়ের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্ত দেব কৌশলে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়।

ঘটনার পর পরই স্বজন ও প্রতিবেশীরা আহত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে চারঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে রেফার্ড করেন। বর্তমানে শিশুটি রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এই বিষয়ে চারঘাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মালেক বলেন, ঘটনাটি জানার পর পরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত কার্যক্রম চলমান আছে।

এ ঘটনায় চারঘাট বাজার ও আশপাশের এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় এলাকাবাসী এই জঘন্য অপরাধের বিচার দাবি করে দেবের বাড়িতে তালা লাগিয়ে দিয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি