খুঁজুন
                               
মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬, ২৯ বৈশাখ, ১৪৩৩
           

স্টারমারের পদত্যাগের সময় চেয়ে ব্রিটিশ মন্ত্রিসভায় বিভক্তি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬, ১১:০২ পূর্বাহ্ণ
স্টারমারের পদত্যাগের সময় চেয়ে ব্রিটিশ মন্ত্রিসভায় বিভক্তি

প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগের সময়সূচি ঘোষণার দাবিতে উত্তাল যুক্তরাজ্য। বিশেষ করে দেশটির সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে এ নিয়ে বিভক্তি দেখা দিয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদসহ কয়েকজন মন্ত্রী স্টারমারের বিদায়ের সময়সূচি নির্ধারণের আহ্বান জানিয়েছেন।

তবে মন্ত্রিসভার ভেতরে এ নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে বলে জানা গেছে। স্টারমারের পদত্যাগের সময়সূচি ঘোষণার পক্ষে মাহমুদ সংখ্যালঘু অবস্থানে রয়েছেন।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ বা বিকল্প নেতৃত্বের সময়সূচি ঘোষণার দাবিতে ছয়জন মন্ত্রিপরিষদ সহকারীকে বদলি করেছে ডাউনিং স্ট্রিট। মঙ্গলবার (১২ মে) ভোর পর্যন্ত স্টারমারের পদত্যাগ অথবা পদত্যাগের সময়সূচি চেয়ে লেবার পার্টির ৭২ জন এমপি প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছেন।

পার্লামেন্টারি প্রাইভেট সেক্রেটারি জো মরিস বলেন, প্রধানমন্ত্রী জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস হারিয়েছেন।

আরও দুইজন সহকারী—গর্ডন ম্যাকি ও স্যালি জেমসন—স্টারমারের বিদায়ের সময়সূচি ঘোষণার দাবিতে যোগ দিয়েছেন।

এর আগে দেওয়া এক বক্তব্যে স্টারমার বলেন, তিনি সমালোচকদের ভুল প্রমাণ করবেন এবং পদত্যাগ করছেন না। তিনি স্বীকার করেন, সরকার কিছু ভুল করেছে, তবে বড় রাজনৈতিক সিদ্ধান্তগুলো সঠিক ছিল বলে দাবি করেন।

তবে দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে তার ওপর চাপ আরও বেড়েছে। অ্যান্ডি বার্মহারের সমর্থকরাও স্টারমারের পদত্যাগের সময়সূচি ঘোষণার দাবি তুলেছেন।

দলটির ডানপন্থি অংশ থেকেও দ্রুত নেতৃত্ব পরিবর্তনের দাবি উঠেছে। বিশেষ করে স্ট্রিটিং ঘনিষ্ঠদের একটি অংশ চাইছে দ্রুত নতুন নেতৃত্ব আসুক, যাতে বার্নহামের নেতৃত্বের দৌড়ে অংশ নেওয়ার সুযোগ সীমিত হয়।

সাম্প্রতিক স্থানীয় নির্বাচনের পর থেকেই স্টারমারের ওপর চাপ বাড়তে থাকে। একইসঙ্গে এর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি এবং লন্ডনসহ বিভিন্ন শহরে গ্রিন পার্টির সমর্থন বাড়াও লেবারের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এছাড়া ওয়েলসে শতবর্ষের রাজনৈতিক আধিপত্য হারিয়েছে লেবার। অন্যদিকে স্কটিশ পার্লামেন্ট নির্বাচনে ১২৯টির মধ্যে মাত্র ১৭টি আসন পেয়ে দলটি ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ ফল করেছে।

এক বিবৃতিতে জো মরিস বলেন, লেবার কাউন্সিলর ও প্রার্থীদের এমন সিদ্ধান্তের দায় নিতে হয়েছে, যেগুলো তাদের ছিল না।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সর্বোচ্চ চেষ্টার পরও ভোটাররা বিশ্বাস করেন না যে তিনি তাদের প্রত্যাশিত পরিবর্তন আনতে পারবেন।

ইস্ট ওর্থিং অ্যান্ড শোরহ্যামের এমপি টম রাটল্যান্ড বলেন, প্রধানমন্ত্রী শুধু পার্লামেন্টারি লেবার পার্টির মধ্যেই নয়, সারা দেশেই কর্তৃত্ব হারিয়েছেন এবং তা পুনরুদ্ধার করতে পারবেন না।

অন্যদিকে গিলিংহ্যাম অ্যান্ড রেইনহামের এমপি নওশাবাহ খানও বলেন, প্রধানমন্ত্রী জনগণের আস্থা হারিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, ব্যর্থতার সময় নীরব দাঁড়িয়ে থাকার জন্য আমি রাজনীতিতে আসিনি। এখনই আমাদের স্পষ্টভাবে দিক পরিবর্তন করতে হবে এবং কোনো ধরনের রাজনৈতিক খেলা চলতে দেওয়া যাবে না।

আমি নতুন নেতৃত্বের আহ্বান জানাচ্ছি, যাতে আমরা আবার জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারি এবং ব্রিটিশ জনগণ যে উন্নত ভবিষ্যতের পক্ষে ভোট দিয়েছে, তা বাস্তবায়ন করতে পারি।

সূত্র: বিবিসি নিউজ

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

‘পুশইন’ বিষয়ে বিজিবিকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬, ৫:০৯ অপরাহ্ণ
‘পুশইন’ বিষয়ে বিজিবিকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করতে হলে ভারতের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একইসঙ্গে সীমান্ত দিয়ে যেন কোনো ধরনের ‘পুশইন’ না হয়, সে বিষয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি) সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

মঙ্গলবার (১২ মে) সচিবালয়ে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, কোরবানির পশুরহাটের নিরাপত্তা ও সার্বিক প্রস্তুতি বিষয়ক সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের মাধ্যমে কূটনৈতিক চ্যানেলে আলোচনা হবে। আমাদের কনসার্ন নিরাপত্তা এবং যেন পুশইন না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকা।’

মন্ত্রী জানান, সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে সরকার নিবিড়ভাবে নজরদারি করছে। যেকোনো নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমেই নেয়া হবে।

ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, রাজধানীসহ সারা দেশের কোরবানির পশুরহাটে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘কোরবানির সব পশুর হাটেই আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে। কোরবানিকে ঘিরে চাঁদাবাজির তথ্য রয়েছে সরকারের কাছে। এগুলো বন্ধে সর্বোচ্চ কঠোর থাকবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।’

চাঁদাবাজি, অতিরিক্ত ইজারা আদায় কিংবা হয়রানির অভিযোগ জানাতে ১৬৬১৩ নম্বরে হটলাইনে ফোন দেওয়ার জন্যও দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

ঈদ উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মনিটরিংয়ের জন্য পুলিশ সদরদফতরে বিশেষ সেল গঠন করা হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘ঈদের আগে সাত দিন এবং ঈদের পর সাত দিন এই মনিটরিং সেল কার্যক্রম চালাবে।’

ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে মহাসড়ক, লঞ্চঘাট, রেলস্টেশন ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতেও বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় মোট ২৬টি কোরবানির পশুরহাট বসবে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৫টি এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ১১টি হাট থাকবে।

তিনি বলেন, এসব হাটে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি আনসার সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করবেন। সিসিটিভি নজরদারি, মোবাইল টহল ও গোয়েন্দা তৎপরতাও বাড়ানো হবে।

কালের আলো/এসআর/এএএন

রানার ফাইফারে পাকিস্তানকে উড়িয়ে মিরপুর টেস্টে বাংলাদেশের জয়

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬, ৫:০৪ অপরাহ্ণ
রানার ফাইফারে পাকিস্তানকে উড়িয়ে মিরপুর টেস্টে বাংলাদেশের জয়

পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচে মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে দুর্দান্ত এক জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। আজ শেষ দিনে জয়ের জন্য শান মাসুদদের ২৬৮ রানের লক্ষ্য দিয়েছিল টাইগাররা। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তানের শুরুটা ভালো হয়নি। তবে আব্দুল্লাহ ফজলের ব্যাটে প্রতিরোধ গড়েছিল সফরকারীরা। পাকিস্তানি এই ব্যাটার আউট হন ৬৬ রান করে। এরপর স্বাগতিক বোলারদের তোপের সামনে আর কোনো ব্যাটারই সেভাবে দাঁড়াতে পারেননি। জয়ের জন্য দিনের শেষ সেশনে লিটন দাসদের দরকার ছিল ৭ উইকেট। নাহিদ রানা, তাসকিন আহমেদ ও তাইজুল ইসলামদের তোপের মুখে এই ৭ উইকেট নিয়ে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে বাংলাদেশ। পাকিস্তান ১৬৩ রানে অলআউট হওয়ায় ১০৪ রানের জয়ে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে লিড বাংলাদেশের।

বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে ২৪০ রানে ইনিংস ঘোষণা করে ম্যাচে ২৬৭ রানের লিড নেয়। ফলে পাকিস্তানের সামনে জয়ের জন্য ২৬৮ রানের চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য দাঁড়ায়। প্রথম ওভারেই তাসকিন আহমেদের বলে ইমাম-উল-হক মাত্র ২ রান করে ফিরে যান। লাঞ্চের সময় পাকিস্তানের স্কোর ছিল ১ উইকেটে ৬ রান।

লাঞ্চের পর বাংলাদেশের বোলাররা আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন। মেহেদী হাসান মিরাজ আজান আওয়াইসকে (১৫) ফিরিয়ে দেন। এরপর নাহিদ রানা অধিনায়ক শান মাসুদকে মাত্র ২ রানে সাজঘরে পাঠান। ৬৮ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বেশ চাপে পড়ে যায় সফরকারীরা।

চাপ সামলে ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই শুরু করেন আব্দুল্লাহ ফজল ও সালমান আলী আঘা। সাধারণত নিচের দিকে ব্যাট করা সালমানকে এদিন পাঁচ নম্বরে পাঠানো হয়। দুজনেই স্পিনের বিপক্ষে দারুণ খেলে প্রতিরোধ গড়েন। আব্দুল্লাহ ফজল ফিফটি পূর্ণ করেন এবং সালমানও কার্যকরী ব্যাটিংয়ে এগিয়ে যান।

দ্বিতীয় সেশন শেষে পাকিস্তানের ৩ উইকেটে ১১৬ রানের সংগ্রহ ছিল। তবে শেষ সেশনের শুরুতে ৬ বলের মধ্যে ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে পাকিস্তান। ৩২.৫ ওভারে আউট হন ফজল। তাইজুলের বলে লেগ বিফোর উইকেটের ফাঁদে পড়ে বিদায় নিতে হয় তাকে। এরপর ৩৩ তম ওভারের চতুর্থ বলে তাসকিনের বলে সাদমানকে ক্যাচ দিয়ে আউট হন সালমান।

সালমান ফেরার পর সৌদ শাকিলকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টায় ছিলেন অভিজ্ঞ মোহাম্মদ রিজওয়ান। তবে এ দুজনের চেষ্টা সফল হয়নি। ৩১ রানের জুটি গড়ার পর নাহিদ রানার বলে কট বিহাইন্ড হয়ে সাজঘরের পথ ধরতে হয় শাকিলকে। এরপর রিজওয়ানও ফিরেন রানার বলে বোল্ড হয়ে। এ দুজনের পর পাকিস্তানের বাকি ব্যাটারদের কেউই আর টাইগার বোলারদের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত দলীয় ১৬৩ রানেই অলআউট হয় পাকিস্তান। এতে ১০৪ রানের জয়ে সিরিজে ১-০ লিড নিয়েছে টাইগাররা।

কালের আলো/এসআর/এএএন

সমাজের প্রতিটি স্তরে আমাদের আরও দায়িত্বশীল হতে হবে : ঢাবিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬, ৪:২৯ অপরাহ্ণ
সমাজের প্রতিটি স্তরে আমাদের আরও দায়িত্বশীল হতে হবে : ঢাবিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘সমাজের প্রতিটি স্তরে আমাদের আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আমরা নানা ধরনের ঘটনা দেখছি। এসব বিষয় থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে।’

মঙ্গলবার (১২ মে) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অধ্যাপক মুজাফফর আহমেদ চৌধুরী অডিটোরিয়ামে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব বলেন।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গেলেন তারেক রহমান। আজ (মঙ্গলবার) সকাল পৌনে ১১টার দিকে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে পৌঁছান।

সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের আয়োজনে ‘বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষা রূপান্তর: টেকসই উৎকর্ষতার রোডম্যাপ’ শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধন করেন তিনি।

কর্মশালায় অংশ নেওয়া শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মুজাফফর আহমেদ চৌধুরী অডিটোরিয়ামে ঢাবি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেন। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, ঢাবি সাদা দলের আহ্বায়ক ড. মোর্শেদ হাসান খান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি এবং আমাদের যে রিডিং রুমগুলো আছে, সেগুলোর সঙ্গে আমার অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে। আমি যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছিলাম, তখন এখানকার পরিবেশ, শিক্ষার্থী জীবন এবং দেশের মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠার বিষয়গুলো খুব কাছ থেকে দেখেছি।

তিনি বলেন, ‘আমি গতকালও বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে একটা কথা বলেছি, আপনারা এই দেশেই বড় হয়েছেন, দেশের মানুষের বাস্তবতা দেখেছেন। মানুষের সঙ্গে কীভাবে সম্পর্ক তৈরি করতে হয়, সেটাও জানেন। আমরা অতীতে অনেক কিছু দেখেছি, অনেক কিছু জেনেছি।’

তারেক রহমান বলেন, ‘কিছুদিন আগে বাংলাদেশে আমরা এমন অনেক ঘটনা দেখেছি, যেগুলো মানুষকে হতাশ করেছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে ‘পিপল পাওয়ার’। জনগণের শক্তিই সবচেয়ে বড় শক্তি। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও সিভিল প্রশাসনের বিভিন্ন সংস্কার হয়েছে। সেখানে ১৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে। অথচ আমাদের দেশে একই ধরনের কাজে ৯৬ হাজার কোটি টাকার ব্যয় দেখানো হয়েছে। বিষয়টি চিন্তা করে দেখুন।”

তিনি বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন সময় সংবাদমাধ্যমে দেখেছি বালিশ কেনা নিয়ে নানা আলোচনা হয়েছে। কয়েকদিন আগে দেখলাম একটি বালিশের দাম ধরা হয়েছে ৮০ হাজার টাকা। অথচ আমি নিজে যেহেতু বালিশ ব্যবহার করি, আমি জানি একটি ভালো বালিশের দাম সর্বোচ্চ ২০০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে হওয়া উচিত।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বিগত সরকারের সময় একটি হোয়াইট পেপার তৈরি করা হয়েছিল। সেখানে বলা হয়েছিল, প্রতি বছর প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে। যদি এই অর্থ দেশে থাকত, তাহলে দেশের উন্নয়নের চিত্র ভিন্ন হতে পারত। প্রতিবছর যদি ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়ে থাকে, তাহলে ১০ বছরে কত অর্থ বাইরে গেছে সেটা সহজেই অনুমান করা যায়।’

দুর্নীতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘অনেকে এখন ‘জিরো টলারেন্স’-এর কথা বলেন। কিন্তু বাংলাদেশের বাস্তবতায় মানুষ সেটি সহজে বিশ্বাস করতে পারে না। আমিও শুধু কথায় বিশ্বাস করি না। আমরা চেষ্টা করছি, কিন্তু দীর্ঘদিনের অভ্যাস একদিনে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। এটা সময়সাপেক্ষ একটি বিষয়।’

তিনি বলেন, ‘আজকে আসার সময়ও আমি দেখেছি, বিভিন্ন জায়গায় এখনও অনিয়ম রয়ে গেছে। সমাজের প্রতিটি স্তরে আমাদের আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আমরা নানা ধরনের ঘটনা দেখছি। এসব বিষয় থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে।’

সভায় উপস্থিত শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় তরুণ সমাজকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।

এর আগে, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর সর্বশেষ ঢাবি ক্যাম্পাসে এসেছিলেন তারেক রহমান। যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফেরার দুই দিন পর ইনকিলাব মঞ্চের নেতা ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করতে তিনি ক্যাম্পাসে যান।

ঢাবি সহকারী প্রক্টর শেহরীন আমিন মোনামির পদত্যাগ
উল্লেখ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী তারেক রহমান ১৯৮৫-৮৬ শিক্ষাবর্ষে প্রথমে আইন বিভাগে ভর্তি হন। পরে বিভাগ পরিবর্তন করে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে অধ্যয়ন করেন। তিনি স্যার সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই ক্যাম্পাসে অবস্থান নেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা পৃথক মিছিল নিয়ে তাকে স্বাগত জানান।

এছাড়া ঢাবি ছাত্রদল, বিভিন্ন হল শাখা এবং ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরাও এতে অংশ নেন।

কালের আলো/এসএকে