খুঁজুন
                               
সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

প্রতিদিন গড়ে ১৩ কোটি ডলার রেমিট্যান্স আসছে দেশে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ৫:৩৬ অপরাহ্ণ
প্রতিদিন গড়ে ১৩ কোটি ডলার রেমিট্যান্স আসছে দেশে

চলতি মে মাসের প্রথম ২০ দিনে দেশে ২৬২ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। বাংলাদেশি মুদ্রায় (প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসাবে) এর পরিমাণ প্রায় ৩১ হাজার ৯৮৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা। অর্থাৎ, এ সময়ে গড়ে প্রতিদিন দেশে এসেছে ১৩ কোটি ডলারের বেশি রেমিট্যান্স।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্যে এ তথ্য জানা যায়। এছাড়া, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে প্রায় ৩৮ দশমিক ৩ শতাংশ। ২০২৫ সালের মে মাসের প্রথম ২০ দিনে দেশে এসেছিল ১৮৯ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, শুধু ২০ মে একদিনেই দেশে এসেছে ১৩ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স।

এদিকে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে ২০ মে পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩ হাজার ১৯৫ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৬৪৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার। সে হিসেবে চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত রেমিট্যান্স প্রবাহে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ২০ দশমিক ৯ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে প্রবাসী আয়। গত এপ্রিল মাসে দেশে আসে ৩ দশমিক ২২ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স। আর মার্চ মাসে আসে রেকর্ড ৩ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার, যা দেশের ইতিহাসে এক মাসে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়।

এর আগে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছিল গত বছরের মার্চে, ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ডলার। এছাড়া ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে দেশে আসে ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ডলার, যা তৃতীয় সর্বোচ্চ। আর চলতি বছরের জানুয়ারিতে আসে ৩১৭ কোটি ডলার, যা চতুর্থ সর্বোচ্চ প্রবাসী আয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

কালের আলো/এসআর/এএএন

সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের দেওয়া হয়েছে ২১৩ কোটি টাকা : সংসদে সেতুমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ৮:২৬ অপরাহ্ণ
সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের দেওয়া হয়েছে ২১৩ কোটি টাকা : সংসদে সেতুমন্ত্রী

গত তিন বছরের বেশি সময়ে দেশের সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহত ও তাদের পরিবারকে মোট ২১৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দিয়েছে সরকার। ২০২৩ সাল থেকে শুরু করে চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত সময়ে মোট ৫ হাজার ৮৪ জন সড়ক দুর্ঘটনার শিকার ব্যক্তি ও নিহতদের পরিবারকে এই অনুদান দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১৫ জুন) জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ অধিবেশনের দ্বিতীয় সেশনের সপ্তম কার্যদিবসে এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এই তথ্য জানান। সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এই লিখিত বক্তব্য পেশ করেন।

সংসদে দেওয়া মন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, সরকারি এই আর্থিক সহায়তার আওতায় সবচেয়ে বেশি উপকৃত হয়েছে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো মানুষের পরিবারগুলো। মোট ৩ হাজার ৮৮১ জন নিহত ব্যক্তির পরিবারকে এই অনুদান দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ৮২৯ জন এবং গুরুতর আহত আরও ৩৭৪ জন ব্যক্তি সরকারের এই কল্যাণ তহবিল থেকে আর্থিক সুবিধা পেয়েছেন।

কালের আলো/এসএকে

‘পাথর মেরে’ নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানোর ডাক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ৮:১৭ অপরাহ্ণ
‘পাথর মেরে’ নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানোর ডাক

Oplus_131072

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ‘লাঠি ও পাথর মেরে’ ক্ষমতা থেকে সরানোর ডাক দিয়েছে সাবেক ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী এহুদ বারাক।

তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, নেতানিয়াহু আসন্ন সাধারণ নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করতে পারেন। আর এমনটি হলে তাকে ‘লাঠি ও পাথর’ মেরে ক্ষমতা থেকে বিতাড়ন করতে হবে বলে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন তিনি। তার এই মন্তব্য ঘিরে ইসরায়েলের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। খবর বার্তাসংস্থা আনাদোলু।

রোববার (১৪ জুন) ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম কান-কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন। ১৯৯৯ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা বারাক বলেন, ‘আমার আশঙ্কা, নেতানিয়াহু নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করতে পারেন এবং তিনি খুব সহজেই তা করতে পারবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘যদি তিনি এমন চেষ্টা করেন, তাহলে তাকে লাঠি ও পাথর দিয়ে মেরে সরিয়ে দেয়া ছাড়া আমাদের আর কোনও উপায় থাকবে না।’

৭৬ বছর বয়সী নেতানিয়াহু ২০২২ সালের ডিসেম্বরের শেষ দিক থেকে বর্তমান সরকার পরিচালনা করছেন। তার নেতৃত্বাধীন জোটকে ১৯৪৮ সালে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর সবচেয়ে কট্টরপন্থি সরকারগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটের মেয়াদ চলতি বছরের অক্টোবরে শেষ হবে। সেই অনুযায়ী দেশটিতে আগামী নির্বাচন সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরে হওয়ার কথা রয়েছে।

বারাকের দাবি, নেতানিয়াহু লেবাননে সামরিক অভিযান চালিয়ে এমন পরিস্থিতি তৈরি করতে পারেন, যাতে হিজবুল্লাহ ও ইরান পাল্টা হামলা চালায় এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়। তিনি বলেন, ‘নেতানিয়াহু অন্তহীন যুদ্ধ চান। কারণ তিনি বোঝেন, যুদ্ধ শেষ হলে তার বিচার প্রক্রিয়া আরও দ্রুত এগোবে।’

এহুদ বারাক আরও অভিযোগ করেন, ‘যেভাবে তিনি (নেতানিয়াহু) হামাসের সঙ্গে কিছু বন্দি বিনিময় চুক্তি বাধাগ্রস্ত করেছেন, একইভাবে লেবানন ইস্যুতেও অগ্রগতির সম্ভাবনা আটকে দিয়েছেন।’

প্রসঙ্গত, নেতানিয়াহু ইসরায়েলে দুর্নীতির মামলায় বিচারের মুখোমুখি রয়েছেন। এহুদ বারাক যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গড়ে ওঠা সমঝোতারও সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘এক কথায়— খারাপ। দুই কথায়— (এই চুক্তি) খুবই খারাপ।’

তার মতে, ‘নেতানিয়াহুর ঔদ্ধত্য ও দূরদর্শিতার অভাবের মূল্য এখন ইসরায়েলকে দিতে হচ্ছে’। বারাকের দাবি, ‘ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের কোনও লক্ষ্যই অর্জিত হয়নি।’

এদিকে এহুদ বারাকের এই মন্তব্যের পরপরই নেতানিয়াহুর মিত্রদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। লিকুদ পার্টির আইনপ্রণেতা এবং নেসেটের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান বোয়াজ বিসমুথ বারাকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্তের দাবি জানান।

এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সহিংসতাকে বৈধতা দেয়ার চেষ্টা করেছেন বারাক’। বিসমুথ আরও বলেন, ‘তাকে একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠানো উচিত। আর যদি মানসিকভাবে সুস্থ প্রমাণিত হন, তাহলে তার বিরুদ্ধে অবিলম্বে ফৌজদারি তদন্ত শুরু করা উচিত।’

কালের আলো/এসএকে

সরকারিভাবে নতুন পাটকল স্থাপন নয়, সব যাবে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায়: পাটমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ৭:৫২ অপরাহ্ণ
সরকারিভাবে নতুন পাটকল স্থাপন নয়, সব যাবে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায়: পাটমন্ত্রী

Oplus_131072

দেশে সরকারি উদ্যোগে নতুন কোনো পাটকল স্থাপনের পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, এ খাতে সরকারি নীতি সহায়তা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।

সোমবার (১৫ জুন) জাতীয় সংসদে জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান মন্ত্রী। এদিন বিকেল ৩টায় শুরু হওয়া সংসদের অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম।

পাটমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) আওতাধীন ২৫টি মিলের মধ্যে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৯টি মিল চালু আছে। সরকারঘোষিত ৩১ দফার আলোকে বাকি মিলগুলোও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ডিসেম্বরের মধ্যে চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করছি।

সংসদ সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল লিখিত প্রশ্নে জানতে চান, সোনালি আঁশ পাট শিল্পের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে পাটের উৎপাদন বৃদ্ধি ও বন্ধ পাটকল চালুসহ নতুন পাটকল স্থাপনের কোনো পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের আছে কিনা?

জবাবে মন্ত্রী বলেন, সোনালি আঁশ পাটশিল্পের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার জন্য পাটের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার ‘উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর পাট ও পাটবীজ উৎপাদন এবং সম্প্রসারণ’ শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পটি আগামী ৩০ জুন শেষ হবে। পরবর্তীতে একই ধরনের কার্যক্রম নিয়ে নতুন প্রকল্প রাজস্ব বাজেটের আওতায় বাস্তবায়নের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।

বিজেএমসির আওতাধীন ২৫টি মিলের মধ্যে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৯টি মিল চালু আছে। ২০২০ সালের ১ জুলাইয়ের সরকারি সিদ্ধান্তে বিজেএমসি’র আওতাধীন ২৫টি মিলের উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয় এবং ২০টি মিলবে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ইজারা ভিত্তিতে পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে এরই মধ্যে ১৪টি মিলের ইজারা সম্পাদন করা হয়েছে, যার মধ্যে ৯টি মিল চালু করা হয়েছে।

অবশিষ্ট ৬টি মিল ইজারা দেওয়ার কার্যক্রম চলছে, যার মধ্যে ৩টি মিলের বিপরীতে চূড়ান্ত প্রস্তাব আহ্বান করা হয়েছে, একটি মিলের বিপরীতে দাখিল করা এক্সপ্রেশন অব ইন্টারেস্ট (আগ্রহপত্র) প্রস্তাব মূল্যায়নের কাজ চলছে, ১টি মিলের জন্য আগ্রহপত্র আহ্বান করা হয়েছে এবং ১টি মিলের ইজারা কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। আর বাকি মিলগুলোও সরকার ঘোষিত ৩১ দফার আলোকে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা করা যায়।

মন্ত্রী বলেন, ইজারা বহির্ভূত ৫টি মিলের মধ্যে সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত হওয়ায় ৩টি মিল এবং মামলাজনিত কারণে ২টি মিল লিজের বাইরে রাখা হয়েছিল। এই অবস্থায় সরকারিভাবে দেশে নতুন কোনও পাটকল স্থাপনের পরিকল্পনা নেই বরং সরকারি নীতি সহায়তা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে এই সেক্টরে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করাই সরকারের লক্ষ্য।

কালের আলো/এসএকে