খুঁজুন
                               
, ,
           

ভিনির জোড়া গোল, নেইমারের প্রত্যাবর্তনের ম্যাচে নকআউটে ব্রাজিল

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ৬:০৬ পূর্বাহ্ণ
ভিনির জোড়া গোল, নেইমারের প্রত্যাবর্তনের ম্যাচে নকআউটে ব্রাজিল

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে যেন বিধ্বংসী মেজাজে দেখা গেল ব্রাজিলকে। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ভর করে প্রথমার্ধেই ২-০ ব্যবধানের লিড নিয়ে মাঠ ছেড়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। বিরতি থেকে এসে ব্যবধান আরও বাড়িয়ে ৩-০ তে করে সেলেসাওরা। আটলান্টায় অনুষ্ঠিত এই লড়াইয়ে শুরু থেকেই স্কটিশ রক্ষণভাগকে চাপের মুখে রেখে আধিপত্য বিস্তার করেছে ভিনি-কুনিয়ারা।

ম্যাচের শুরুর দিকেই স্কটল্যান্ডের রক্ষণভাগের ভুলে ভাগ্য খোলে ব্রাজিলের। অষ্টম মিনিটে তরুণ উইঙ্গার রায়ান স্কটিশ ডিফেন্ডার স্কট ম্যাকেনাকে চাপে ফেলেন। সেই চাপে পড়ে ম্যাকেনা বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারান, আর সেই সুযোগটি লুফে নেন ভিনিসিয়ুস। গোলরক্ষক অ্যাঙ্গাস গানকে নিপুণ দক্ষতায় কাটিয়ে বল জালে জড়িয়ে ব্রাজিলকে এগিয়ে দেন এই রিয়াল মাদ্রিদ তারকা।

২৫ মিনিটে ভিনিসিয়ুস আবারও জালের দেখা পেয়েছিলেন, তবে ভিএআর প্রযুক্তির সাহায্যে সেই গোলটি বাতিল করা হয়। কারণ হিসেবে দেখানো হয়, বল জালে পাঠানোর ঠিক আগে স্কটিশ ডিফেন্ডারকে ফাউল করেছিলেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। তবে তাতে দমে যাওয়ার পাত্র নন ভিনি।

বিরতির ঠিক আগে প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ব্রুনো গিমারাইসের নিখুঁত ক্রস থেকে দারুণ এক হেডে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তিনি। এবারের বিশ্বকাপে এটি ভিনির ব্যক্তিগত চতুর্থ গোল।

দ্বিতীয়ার্ধের ৬০ মিনিটে মাতেউস কুনহার গোলে স্কোরলাইন ৩-০ করে ব্রাজিল। আবারও আক্রমণ তৈরিতে বড় ভূমিকা রাখেন ব্রুনো গিমারায়েসের। তার পাস থেকে ডান পায়ে ফিনিশ করেন কুনিয়া। এদিকে কোনঠাসা স্কটল্যান্ড ক্রমেই হতাশ হয়ে পড়ে। ৫৫ মিনিটে ম্যাকলিনের পেনাল্টির আবেদনও নাকচ হয়। অন্যদিকে ব্রাজিল এখন পুরো নিয়ন্ত্রণে।

কালের আলো/এসআর/এএএন

মাতৃত্বের বিরতি শেষে এবার বাংলাদেশের নেতৃত্বে নিশি

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫৭ অপরাহ্ণ
মাতৃত্বের বিরতি শেষে এবার বাংলাদেশের নেতৃত্বে নিশি

মাতৃত্বের কারণে একসময় আন্তর্জাতিক হ্যান্ডবলে বাংলাদেশের হয়ে খেলার সুযোগ হাতছাড়া হয়েছিল ইসমেতারা নিশির। ছয় বছর পর সেই আন্তর্জাতিক মঞ্চেই ফিরছেন তিনি। তবে এবার প্রত্যাবর্তনটা কেবল একজন খেলোয়াড় হিসেবে নয়, বাংলাদেশ নারী হ্যান্ডবল দলের অধিনায়ক হিসেবে। পঞ্চগড় থেকে উঠে আসা বাংলাদেশ আনসারের এই খেলোয়াড়ের সামনে এবার ঘরের মাঠে দলকে ফাইনালে তোলার বড় চ্যালেঞ্জ।

আগামী ১৮ অক্টোবর ঢাকার পল্টনের ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী জাতীয় হ্যান্ডবল স্টেডিয়ামে শুরু হচ্ছে বেগম খালেদা জিয়া আইএইচএফ নেশনস ট্রফি। চার দলের এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ভারত, নেপাল ও মালদ্বীপ। দেশের মাটিতে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ভালো ফলের প্রত্যাশা নিয়ে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। আর দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব থাকবে নিশির কাঁধে।

২০১৯ সালে সুযোগ এসেও খেলা হয়নি

২০১৯ সালে আন্তর্জাতিক হ্যান্ডবল টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের হয়ে খেলার সুযোগ এসেছিল নিশির সামনে। কিন্তু তখন তাঁর সন্তান ছোট থাকায় জাতীয় দলে জায়গা হয়নি। মাতৃত্বের দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে আন্তর্জাতিক হ্যান্ডবল থেকে দূরে থাকতে হয়েছিল তাঁকে। ছয় বছর পর সেই অপেক্ষার অবসান। এবার জাতীয় দলের জার্সিতে ফেরার পাশাপাশি নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্বও পেয়েছেন তিনি। ফলে এবারের টুর্নামেন্ট নিশির কাছে শুধু আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ফেরার উপলক্ষ নয়, নিজের সামর্থ্য প্রমাণেরও সুযোগ। তবে ব্যক্তিগত প্রত্যাবর্তনের চেয়ে দলীয় সাফল্যকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন এই অধিনায়ক। ঘরের মাঠে সমর্থকদের সামনে ভালো খেলা উপহার দিয়ে বাংলাদেশকে ফাইনালে নিয়ে যাওয়াই তাঁর প্রধান লক্ষ্য।

তিন মাসের নিবিড় অনুশীলনে নতুন কৌশল

আসন্ন টুর্নামেন্ট সামনে রেখে প্রস্তুতিতেও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে বাংলাদেশ দল। এবারই প্রথম বিদেশি কোচের অধীনে অনুশীলনের সুযোগ পেয়েছেন বাংলাদেশের মেয়েরা। স্প্যানিশ কোচ আনা আলোনসো ফ্রাগুয়ার অধীনে টানা তিন মাসের নিবিড় অনুশীলনে আধুনিক হ্যান্ডবলের বিভিন্ন কৌশল শেখার সুযোগ হয়েছে তাঁদের। নিশির মতে, এই প্রশিক্ষণ দলের জন্য বড় প্রাপ্তি। দীর্ঘ সময় ধরে নিবিড় অনুশীলন করায় খেলোয়াড়েরা নিজেদের খেলার ধরন ও কৌশল আরও উন্নত করার সুযোগ পেয়েছেন। তিনি বলেন, “দীর্ঘ তিন মাস আমরা নিবিড় অনুশীলন করেছি। এবারই প্রথম কোনো বিদেশি কোচের অধীনে অনুশীলনের সুযোগ পেয়েছি, এর আগে এমন সুযোগ কখনো হয়নি। কোচের কাছ থেকে আমরা আধুনিক অনেক কৌশল শিখেছি। কোর্টে নিজেদের সর্বোচ্চটা দিয়ে খেলে দেশের জন্য ভালো ফল বয়ে আনাই আমাদের মূল লক্ষ্য।” প্রথমবারের মতো বিদেশি কোচের অধীনে দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে মাঠে নিজেদের সেরাটা দিতে চান খেলোয়াড়েরা। এখন অনুশীলনে শেখা কৌশল প্রতিযোগিতার ম্যাচে কতটা কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা যায়, সেটিই হবে দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

ফাইনালের পথে সবচেয়ে বড় বাধা ভারত

অধিনায়ক হিসেবে নিশির লক্ষ্য পরিষ্কার—ফাইনালে খেলা। তবে সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে ভারতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে বাংলাদেশকে। একই সঙ্গে নেপাল ও মালদ্বীপকেও কোনোভাবেই হালকাভাবে নিতে চান না তিনি। নিশির মূল্যায়নে, নেপালের রক্ষণভাগ বেশ শক্তিশালী। অন্যদিকে মালদ্বীপের খেলাতেও আগের তুলনায় উন্নতি হয়েছে। তাই প্রতিটি ম্যাচেই নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী সেরা পারফরম্যান্স তুলে ধরতে হবে বাংলাদেশকে। প্রতিপক্ষের শক্তি সম্পর্কে ধারণা থাকলেও নিজেদের দল নিয়ে আশাবাদী নিশি। তাঁর মতে, বর্তমান স্কোয়াডের বেশির ভাগ খেলোয়াড়ের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাঁদের অনেকে ২০১৯ সালের দলেও ছিলেন। অভিজ্ঞতা ও বর্তমান প্রস্তুতির সমন্বয়ে দলটি ভালো ফল করতে পারে বলে আশা করছেন তিনি। নিশি বলেন, “দলের বেশির ভাগ খেলোয়াড়েরই আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। ২০১৯ সালের দলেও অনেকেই খেলেছে। তবে তখন আমার সন্তান ছোট থাকায় আমি দলে থাকতে পারিনি। বর্তমানে দল বেশ ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। নিজেদের সেরা খেলাটা উপহার দিতে পারলে আশা করি ভারতের সঙ্গে আমরাই ফাইনাল খেলব।”

নারী হ্যান্ডবলে ভালো খেলোয়াড় তৈরির ভাবনা

নিশির ভাবনা শুধু আসন্ন প্রতিযোগিতার সাফল্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বাংলাদেশের নারী হ্যান্ডবলে ভবিষ্যতে আরও ভালো খেলোয়াড় তৈরি করতে কী ধরনের উদ্যোগ প্রয়োজন, সে বিষয়েও নিজের মত তুলে ধরেছেন তিনি। তাঁর মতে, বাংলাদেশের নারী হ্যান্ডবলের অনেক খেলোয়াড় জেলা পর্যায় থেকে উঠে আসেন। স্কুলের শিক্ষকদের কাছেই তাঁদের হ্যান্ডবলের প্রাথমিক প্রশিক্ষণ শুরু হয়। তবে শুরু থেকেই আধুনিক প্রশিক্ষণ ও উন্নত কৌশল শেখার সুযোগ পেলে খেলোয়াড়দের বিকাশ আরও দ্রুত হতে পারে।

এ কারণে দীর্ঘমেয়াদে বিদেশি কোচের অধীনে প্রশিক্ষণের সুযোগ নিশ্চিত করতে হ্যান্ডবল ফেডারেশনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন নিশি। তাঁর বিশ্বাস, খেলোয়াড়দের ভিত্তি মজবুত করার ওপর গুরুত্ব দিলে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের সাফল্যের সম্ভাবনাও বাড়বে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা সবাই মূলত জেলা পর্যায় থেকে উঠে আসি, স্কুলের শিক্ষকদের কাছেই আমাদের প্রাথমিক শেখা। শুরু থেকেই যদি দীর্ঘমেয়াদি ক্যাম্পে এমন বিদেশি কোচের অধীনে অনুশীলনের সুযোগ তৈরি করা যায়, তবে মেয়েরা গোড়াতেই আধুনিক হ্যান্ডবলের সঠিক পাঠ পাবে। শুরুটাই যদি সেরা মানের হয়, তবে মেয়েরা আরও দ্রুত উন্নতি করবে এবং ভবিষ্যতে দেশকে বড় সাফল্য এনে দিতে পারবে।”

ব্যক্তিগত প্রত্যাবর্তন থেকে দলীয় সাফল্যের স্বপ্ন

মাতৃত্বের কারণে যে আন্তর্জাতিক মঞ্চে একসময় খেলা হয়নি, সেখানেই এবার অধিনায়ক হিসেবে ফিরছেন নিশি। তাঁর এই প্রত্যাবর্তন ব্যক্তিগত জীবনের একটি নতুন অধ্যায় হলেও এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাংলাদেশের নারী হ্যান্ডবলের প্রত্যাশা। ১৮ অক্টোবর শুরু হতে যাওয়া বেগম খালেদা জিয়া আইএইচএফ নেশনস ট্রফিতে বাংলাদেশের সামনে থাকবে ভারত, নেপাল ও মালদ্বীপের চ্যালেঞ্জ। তিন মাসের নিবিড় প্রস্তুতি, অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সমন্বয় এবং অধিনায়ক নিশির নেতৃত্ব কাজে লাগিয়ে ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন দেখছে দল।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

 

দেশ গড়তে ঐক্যের বিকল্প নেই, বললেন পানিসম্পদ মন্ত্রী

লক্ষ্মীপুর সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৪৯ অপরাহ্ণ
দেশ গড়তে ঐক্যের বিকল্প নেই, বললেন পানিসম্পদ মন্ত্রী

দেশের গণতন্ত্রের ভিত্তি শক্তিশালী করা গেলে বাংলাদেশে উন্নয়ন সম্ভব হবে বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেছেন, দলমত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করতে হবে। নিয়মিত ও মৌলিক দায়িত্বগুলো যথাযথভাবে পালন করতে পারলেও উন্নয়নের পথ সুগম হবে। অন্যথায় বিভিন্ন পর্যায়ে বাধার মুখে পড়তে হবে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে লক্ষ্মীপুর শহরের একটি রেস্টুরেন্টে লক্ষ্মীপুর সমাজ উন্নয়ন পরিষদের বার্ষিক সাধারণ সভা ও শিক্ষাবৃত্তি বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ২৫ জন মেধাবী শিক্ষার্থীর হাতে শিক্ষাবৃত্তি তুলে দেওয়া হয়।

গণতন্ত্র শক্তিশালী করাই এখন মূল কাজ

পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, দেশের গণতন্ত্রের ভিত শক্তিশালী করতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে পারস্পরিক সহযোগিতা ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা জরুরি। তিনি বলেন, অন্তত নিয়মিত দায়িত্বগুলো ঠিকভাবে পালন করা সম্ভব হলেও বাংলাদেশে উন্নয়ন করা যাবে। কিন্তু রুটিন ওয়ার্ক যথাযথভাবে সম্পন্ন করতে না পারলে পদে পদে বাধার সম্মুখীন হতে হবে। এ জন্য সবাইকে সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। মন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত শক্তিশালী করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করা এ মুহূর্তে অত্যন্ত জরুরি। দেশের উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা এগিয়ে নিতে পারস্পরিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

নতুনভাবে বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান

দেশকে নতুনভাবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, বাংলাদেশকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে হবে। গত ১৭ বছরের ঘটনাপ্রবাহের বর্ণনা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সরকার গঠন করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন নির্বাচনী প্রক্রিয়া ছিল না। এখন নতুনভাবে নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই যাত্রাকে অনেক দূর এগিয়ে নিতে হবে। তিনি বলেন, সামনে এগিয়ে যেতে হলে অনেক কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করে নির্ধারিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে হবে। এ জন্য প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে দেশের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে হবে।

‘রাজনৈতিক যুদ্ধ করেছি, এখন জীবনযুদ্ধে এগোতে হবে’

দীর্ঘ রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, গত ১৭ বছর রাজনৈতিক লড়াই করতে হয়েছে। এখন জীবনযুদ্ধে এগিয়ে যাওয়ার সময় এসেছে। তিনি বলেন, যে যেখানে থাকুক না কেন, সবার দায়িত্ব হলো সর্বাত্মক সহযোগিতার মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে ঐক্য বজায় রাখা এবং সামনে এগিয়ে যাওয়া। কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করে দেশের লক্ষ্য অর্জনে ঐক্য ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। মন্ত্রী মনে করেন, গণতন্ত্রের ভিত্তি মজবুত করা, দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা এবং সম্মিলিতভাবে কাজ করার মধ্য দিয়েই দেশের উন্নয়নের পথ সুগম হতে পারে।

২৫ মেধাবী শিক্ষার্থীকে শিক্ষাবৃত্তি প্রদান

লক্ষ্মীপুর সমাজ উন্নয়ন পরিষদের বার্ষিক সাধারণ সভা ও শিক্ষাবৃত্তি বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সভাপতি মোহাম্মদ ছাইফ উদ্দিন। অনুষ্ঠানে ২৫ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে শিক্ষাবৃত্তি দেওয়া হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সহসভাপতি ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী হ্যাপি, লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা, জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি হাফিজুর রহমান, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি শাহাদাত হোসেন এবং লক্ষ্মীপুর পৌর বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম লিটনসহ অন্য অতিথিরা।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

 

মাত্র ৫ সেকেন্ড হাত ধুলেই কি দূর হয় সব জীবাণু?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৪৬ অপরাহ্ণ
মাত্র ৫ সেকেন্ড হাত ধুলেই কি দূর হয় সব জীবাণু?
সংক্রমণ প্রতিরোধের অন্যতম সহজ ও কার্যকর উপায় হলো নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়া। অথচ দৈনন্দিন ব্যস্ততায় অনেকেই এই গুরুত্বপূর্ণ কাজটি করেন তাড়াহুড়ো করে। খাওয়ার আগে, রান্না শুরুর সময় কিংবা বাইরে থেকে বাড়ি ফিরে মাত্র কয়েক সেকেন্ড পানির নিচে হাত ধুয়েই দায়িত্ব শেষ করেন অনেকে। কিন্তু এভাবে হাত ধুলে কি সত্যিই দূর হয় রোগজীবাণু?

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, কার্যকরভাবে হাত পরিষ্কার করতে শুধু পানি ব্যবহার বা কয়েক সেকেন্ড হাত ভিজিয়ে নেওয়া যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন সাবান, হাতের সব অংশ ভালোভাবে ঘষে পরিষ্কার করা এবং পর্যাপ্ত সময় ধরে ধোয়া। যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড সাবান দিয়ে হাত ঘষার পরামর্শ দেয়।

প্রতি বছর ১৫ অক্টোবর পালিত হয় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস। ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং সংক্রামক রোগের বিস্তার কমাতে হাত ধোয়ার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিই দিবসটির মূল উদ্দেশ্য।

পাঁচ সেকেন্ড হাত ধুলেই কি পরিষ্কার হয়?

দ্রুত হাত ধুলে দৃশ্যমান কিছু ময়লা দূর হতে পারে। তবে হাতের ত্বকে থাকা রোগজীবাণু কার্যকরভাবে কমানোর জন্য এত অল্প সময় যথেষ্ট নয়। বিশেষ করে আঙুলের ফাঁক, নখের আশপাশ, বুড়ো আঙুল ও হাতের পেছনের অংশ ঠিকভাবে পরিষ্কার না হলে সেখানে জীবাণু থেকে যেতে পারে।

হাত দেখতে পরিষ্কার মনে হলেও তাতে রোগ সৃষ্টিকারী অণুজীব থাকতে পারে। দূষিত হাতের মাধ্যমে এসব জীবাণু খাবার, মুখ কিংবা অন্য মানুষের শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এর ফলে ডায়রিয়া ও অন্যান্য সংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

হাত পরিষ্কারের কার্যকারিতা মূলত সাবান ব্যবহার, ঘর্ষণ এবং পর্যাপ্ত সময় ধরে ধোয়ার ওপর নির্ভর করে। সাবান ময়লা ও জীবাণু ত্বক থেকে আলগা করতে সাহায্য করে। হাত ঘষার ফলে সেগুলো দূর হওয়ার প্রক্রিয়া সহজ হয় এবং প্রবাহমান পানি দিয়ে ধুয়ে ফেললে আলগা হয়ে আসা ময়লা ও জীবাণু সরে যায়।

কতক্ষণ ধরে হাত ধোয়া উচিত?

সিডিসির নির্দেশনা অনুযায়ী, সাবান দিয়ে হাতের সব অংশ কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড ঘষে পরিষ্কার করতে হবে। অন্যদিকে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) বর্ণিত প্রচলিত হাত ধোয়ার সম্পূর্ণ প্রক্রিয়ায় হাত ভেজানো, সাবান লাগানো, ঘষে পরিষ্কার করা, পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলা এবং শুকানোসহ সাধারণত ৪০ থেকে ৬০ সেকেন্ড সময় লাগে।

সঠিকভাবে হাত ধোয়ার সময় কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে খেয়াল রাখা প্রয়োজন। প্রথমে পরিষ্কার প্রবাহমান পানিতে হাত ভিজিয়ে সাবান লাগাতে হবে। এরপর দুই হাতের তালু, হাতের পেছনের অংশ, আঙুলের ফাঁক, বুড়ো আঙুল, আঙুলের ডগা ও নখের আশপাশ ভালোভাবে ঘষতে হবে। সবশেষে পরিষ্কার পানিতে হাত ধুয়ে শুকিয়ে নিতে হবে।

অনেকেই হাতের তালু পরিষ্কার করলেও আঙুলের ফাঁক কিংবা নখের নিচের অংশে যথেষ্ট মনোযোগ দেন না। ফলে হাত ধোয়ার পরও কিছু জায়গায় ময়লা ও জীবাণু থেকে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই হাতের প্রতিটি অংশ পরিষ্কার করা জরুরি।

গরম পানি নাকি ঠান্ডা পানি—কোনটি বেশি কার্যকর?

হাত ধোয়ার ক্ষেত্রে পানির তাপমাত্রার চেয়ে সাবান ব্যবহার এবং ভালোভাবে হাত ঘষে পরিষ্কার করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার সময় গরম ও ঠান্ডা পানি জীবাণু দূর করার ক্ষেত্রে প্রায় একই রকম কার্যকর হতে পারে।

তাই হাত পরিষ্কার করার জন্য অতিরিক্ত গরম পানি ব্যবহারের প্রয়োজন নেই। বরং বেশি গরম পানি ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমিয়ে শুষ্কতা ও অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। নিজের জন্য আরামদায়ক তাপমাত্রার পানি ব্যবহার করলেই চলে।

দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য সাধারণ সাবানই যথেষ্ট। প্রতিবার হাত ধোয়ার সময় অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল সাবান ব্যবহার করা জরুরি নয়। তবে হাত দৃশ্যত নোংরা বা তৈলাক্ত হলে সাবান ও প্রবাহমান পানি দিয়ে ভালোভাবে পরিষ্কার করা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

হাত শুকানোও কেন গুরুত্বপূর্ণ?

অনেকে সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার পর হাত শুকানোর বিষয়টিকে তেমন গুরুত্ব দেন না। কিন্তু হাত ধোয়ার প্রক্রিয়ায় এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ।

ভেজা হাতে জীবাণু এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সহজে ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই হাত ধোয়ার পর পরিষ্কার তোয়ালে অথবা পেপার টাওয়েল দিয়ে ভালোভাবে শুকিয়ে নেওয়া উচিত।

বাড়িতে হাত মোছার তোয়ালে ব্যবহার করলে সেটি নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। একই তোয়ালে দীর্ঘদিন ভেজা অবস্থায় পড়ে থাকলে তাতে ময়লা ও জীবাণু জমতে পারে। তাই তোয়ালে নোংরা হয়ে গেলে বদলে ফেলুন এবং ব্যবহারের পর শুকানোর ব্যবস্থা রাখুন।

কখন হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করবেন?

সাবান ও পরিষ্কার প্রবাহমান পানি পাওয়া না গেলে বিকল্প হিসেবে কমপক্ষে ৬০ শতাংশ অ্যালকোহলযুক্ত হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করা যেতে পারে। দুই হাতের তালু, হাতের পেছনের অংশ, আঙুলের ফাঁক, বুড়ো আঙুল ও আঙুলের ডগায় স্যানিটাইজার ভালোভাবে লাগাতে হবে। এরপর হাত শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত ঘষতে হবে।

তবে স্যানিটাইজার সব পরিস্থিতিতে সাবান ও পানির বিকল্প নয়। হাত দৃশ্যত নোংরা বা তৈলাক্ত থাকলে এটি কম কার্যকর হতে পারে। আবার নোরোভাইরাসের মতো কিছু জীবাণুর বিরুদ্ধে সাবান ও পানি দিয়ে হাত ধোয়া বেশি উপযোগী।

বিশেষ করে টয়লেট ব্যবহারের পর এবং খাবার খাওয়ার আগে সাবান ও পানি দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। শিশুদের ডায়াপার পরিবর্তন করার পর, ময়লা আবর্জনা স্পর্শ করার পর এবং কাশি, হাঁচি বা নাক পরিষ্কার করার পরও হাত ভালোভাবে ধুতে হবে।

কোন কোন সময়ে হাত ধোয়া সবচেয়ে জরুরি?

দৈনন্দিন জীবনে কিছু নির্দিষ্ট সময়ে হাত ধোয়ার বিষয়ে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। যেমন—

  • খাবার তৈরি করার আগে, খাবার খাওয়ার আগে এবং অন্যকে খাবার পরিবেশনের আগে।
  • টয়লেট ব্যবহারের পর।
  • শিশুর ডায়াপার পরিবর্তন করার পর।
  • কাশি, হাঁচি বা নাক ঝাড়ার পর।
  • আবর্জনা, ময়লা কিংবা দূষিত বস্তু স্পর্শ করার পর।
  • অসুস্থ ব্যক্তির পরিচর্যা করার আগে ও পরে।
  • বাইরে থেকে বাড়িতে ফেরার পর, বিশেষ করে হাত ময়লা হলে।

এসব সময়ে হাত পরিষ্কার রাখলে জীবাণু ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।

সচেতনতাই পারে সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে

হাত ধোয়া ছোট একটি দৈনন্দিন কাজ হলেও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাড়াহুড়ো করে কয়েক সেকেন্ড হাত ধোয়ার পরিবর্তে সঠিক নিয়ম মেনে সাবান দিয়ে অন্তত ২০ সেকেন্ড হাত ঘষে পরিষ্কার করার অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন।

একই সঙ্গে হাতের সব অংশ পরিষ্কার করা এবং ধোয়ার পর ভালোভাবে শুকিয়ে নেওয়াও জরুরি। পরিবারের শিশুদের ছোটবেলা থেকেই এই অভ্যাস শেখানো গেলে ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার পাশাপাশি সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

মনে রাখতে হবে, শুধু হাত ভিজিয়ে নেওয়া আর কার্যকরভাবে হাত ধোয়া এক বিষয় নয়। সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করলেই এই সহজ অভ্যাস থেকে সর্বোচ্চ স্বাস্থ্যগত সুফল পাওয়া সম্ভব।

কালের আলো/জেএন/এসএ