খুঁজুন
                               
শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ৮ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

১৬ মাসে ধর্ষণের শিকার ৫৮০ শিশু, নিহত ৪৮৩: এইচআরএসএস

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ১০:৪০ অপরাহ্ণ
১৬ মাসে ধর্ষণের শিকার ৫৮০ শিশু, নিহত ৪৮৩: এইচআরএসএস

দেশে গত ১৬ মাসে অন্তত এক হাজার ৮৯০ জন শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ৪৮৩ জন শিশু নিহত ও এক হাজার ৪০৭ জন শিশু শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে।  এছাড়া এসব শিশুর মধ্যে ৫৮০ জন ধর্ষণ এবং ৩১৮ জন যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে।

মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক শিশু হত্যা, ধর্ষণ ও নির্যাতনের ধারাবাহিক ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা প্রকাশ করছে সংস্থাটি। পাশাপাশি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় এসব নৃশংস ঘটনায় জড়িতের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে দাবি জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে সংস্থাটি জানায়, গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ৭ বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। শরীর ছিল প্রতিবেশীর ঘরে খাটের তলায় এবং মাথাটা ছিল বাথরুমে। এমনকি অভিযুক্ত বিকৃত যৌনাচারে আসক্ত স্বামীকে বাঁচাতে সহযোগিতা করেছিলেন স্ত্রী।

গত ১৬ মে মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার বালুচর ইউনিয়নের চান্দের চর গ্রামের মদিনাপাড়ায় আছিয়া আক্তার নামে ১০ বছরে বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। নিহতের গলায় শ্বাসরোধের চিহ্ন ও ধর্ষণের প্রাথমিক আলামতের ভিত্তিতে বাড়িতে অবস্থানরত ও অভিযুক্ত রাজা মিয়াকে (৪৫)-কে আটক করেছে পুলিশ।

গত ১৪ মে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় ধর্ষণের পর লামিয়া আক্তার নামে এক চার বছরের শিশুকে হত্যা করা হয়েছে। নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর এলাকার একটি ভুট্টাক্ষেত থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। গত ৬ মে সকালে সিলেটের সদর উপজেলার জালালাবাদে ৪ বছরের শিশু ফাহিমা আক্তারকে ধর্ষণ চেষ্টার পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। এমনকি খোটের নিচে লাশ লুকিয়ে রেখে স্বজনদের সাথে খুঁজতে যান আসামী জাকির হোসেন।

এছাড়া প্রতিনিয়ত সারাদেশের বিভিন্ন স্থানে এমন ধরণের অসংখ্য শিশু হত্যা, ধর্ষণ, ধর্ষণের পর হত্যা ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। এইচআরএসএসের সংগৃহীত তথ্যানুসারে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাস থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত সারাদেশে অন্তত ১৮৯০ জন শিশু ও কিশোরী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ৪৮৩ জন শিশু নিহত ও ১৪০৭ জন শিশু শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এছাড়া এসব শিশু ও কিশোরীদের মধ্যে ৫৮০ জন ধর্ষণ এবং ৩১৮ জন যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, শিশু হত্যা, ধর্ষণ ও নির্যাতনের মতো সহিংসতা প্রতিরোধ করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ও আইনগত দায়িত্ব। কিন্তু একের পর এক শিশু ধর্ষণ, হত্যা ও নির্যাতনের ঘটনা প্রমাণ করে যে শিশু সুরক্ষায় বিদ্যমান ব্যবস্থা যথেষ্ট কার্যকর নয়। এছাড়া বিচাহীনতার সংস্কৃতি, দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া ও দুর্বল আইন প্রয়োগ শিশু নির্যাতনের মতো পাশবিক সহিংসতা বৃদ্ধি ও আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির চিত্র প্রকাশ করছে। নিষ্পাপ শিশুদের ওপর এমন পাশবিক সহিংসতা শুধু মানবাধিকার লঙ্ঘন নয়, এটি আমাদের সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয়ের বহিঃপ্রকাশ।

এইচআরএসএস অবিলম্বে এসব শিশু হত্যা ও ধর্ষণের সব ঘটনার দ্রুত, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের সনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের যথাযথ প্রয়োগ, বিনামূল্যে আইনি সহায়তা, ভুক্তভোগী পরিবারকে নিরাপত্তা ও ক্ষতিপূরণ, চিকিৎসা ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের দাবি জানায় সংস্থাটি।

বিবৃতিতে বলা হয়, শিশুদের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে হলে কেবল আইন প্রয়োগ নয়, সামাজিক প্রতিরোধ ও মানবিক মূল্যবোধের পুনর্জাগরণও জরুরি। এজন্য সব নাগরিক, সামাজিক সংগঠন, গণমাধ্যমকে শিশুদের সুরক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার পাশাপাশি অপরাধ রোধে ও দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সরকার ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানায় এইচআরএসএস।

কালের আলো/এসআর/এএএন 

আকাশে বিমান বাহিনীর গর্ব আর বীরত্বের গর্জন, এয়ার অ্যান্ড স্পেস ফোর্সে রূপান্তরের বার্তা বিমান বাহিনী প্রধানের

কালের আলো রিপোর্ট
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ১১:০৮ অপরাহ্ণ
আকাশে বিমান বাহিনীর গর্ব আর বীরত্বের গর্জন, এয়ার অ্যান্ড স্পেস ফোর্সে রূপান্তরের বার্তা বিমান বাহিনী প্রধানের

তখন আকাশে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর গর্ব আর বীরত্বের গর্জন। ধেয়ে আসছে একের পর এক আকাশযান। আকর্ষণীয় অ্যারোবেটিক ডিসপ্লে, বিমান বাহিনীর চৌকস প্যারাট্রুপারদের হেলিকপ্টার থেকে দৃষ্টিনন্দন প্যারা জাম্পিং বা নান্দনিক ফ্লাইপাস্টের মধ্যে দিয়ে যেন বাহিনীটির কৌশলগত দক্ষতা ও আধুনিকতার পরিচয়ের জানান দেওয়া হলো আরও একবার। ৮৮তম বাফা কোর্স, ডিরেক্ট এন্ট্রি-২০২৬এ এবং এসপিএসএসসি-২০২৬এ কোর্স এর চির আরাধ্য কমিশন প্রাপ্তির উজ্জ্বলতম এমনই একদিন ছিল বৃহস্পতিবার (২১ মে)। বাদ্যের তালে তালে আর পায়ের ছন্দে বিমান বাহিনীতে সদ্য কমিশনপ্রাপ্ত ক্যাডেটদের দৃপ্ত পদচারণায় মুখর যশোরে বিমান বাহিনী একাডেমির প্যারেড গ্রাউন্ড। প্রাণোচ্ছল উপস্থিতিতে মেধাবী ক্যাডেটদের চোখের তারায় তখন খেলা করছে দেশমাতৃকার সেবার অমিত সম্ভাবনার স্বপ্ন।

বাংলার আকাশ সুরক্ষায় জীবনবাজি রাখার শপথ নিলেন ৫জন মহিলা অফিসার ক্যাডেটসহ মোট ৪১ জন অফিসার ক্যাডেট। যুক্ত হলেন বিমান বাহিনীতে। নবীন কর্মকর্তাদের সেই স্বপ্নকে যেন আরও স্বার্থক ও মহিমান্বিত করলেন বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজে (গ্রীষ্মকালীন) প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি প্রথমেই কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করেন। গ্র্যাজুয়েটিং অফিসারদের মাঝে পদক এবং ফ্লাইং ব্যাজও বিতরণ করেন।

বিমান বাহিনী প্রধান স্মরণ করিয়ে দিলেন ভবিষ্যত যুদ্ধক্ষেত্র হবে প্রযুক্তিনির্ভর, বহুমাত্রিক এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল। জানিয়ে দিলেন সময়ের প্রয়োজনেই আমাদের বিমান বাহিনীকে এক সময় ‘এয়ার অ্যান্ড স্পেস ফোর্স’এ রূপান্তরিত হতে হবে। আনন্দ বার্তায় তিনি বলেছেন, ‘বর্তমান সরকার বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’ এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন নবীন কর্মকর্তাদের প্রতিটি পদক্ষেপে বিমান বাহিনীর তিনটি মূলমন্ত্র-শৃঙ্খলা, সততা এবং এক্সিলেন্সি ইন অল উই ডু’ ধারণের উপদেশ দিলেন।

  • বর্তমান সরকার বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ
  • আজকের প্যারেড কঠোর প্রশিক্ষণ, শৃঙ্খলা ও নিখুঁত সমন্বয়ের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত
  • শুরুতেই মুক্তিযুদ্ধকালীন কিলো ফ্লাইটের বীরত্বগাঁথাকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ
  • যে জাতি নিজ হাতে নিজের শক্তি গড়ে তুলতে পারে তাকে কেউ থামাতে পারে না
  • ভবিষ্যতের নেতৃত্ব তৈরিতে বিমান বাহিনী একাডেমির ভূমিকা সক্ষমতার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ
  • প্রতিটি পদক্ষেপে ধারণ করতে হবে বিমান বাহিনীর তিনটি মূলমন্ত্র

আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, অফিসার ক্যাডেট তাহসিন আহম্মেদ কোরাইশী ৮৮তম বাফা কোর্সের প্রশিক্ষণে সার্বিক কৃতিত্বের জন্য ‘সোর্ড অব অনার’ লাভ করেন। এছাড়াও অফিসার ক্যাডেট আদনান হক উড্ডয়ন প্রশিক্ষণে সেরা কৃতিত্বের জন্য ‘বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান ট্রফি’ ও অফিসার ক্যাডেট মোহাম্মদ আনান চৌধুরী জেনারেল সার্ভিস প্রশিক্ষণে কৃতিত্বের জন্য ‘কমান্ড্যান্টস্ ট্রফি’ লাভ করেন। এছাড়াও ৮৮তম বাফা কোর্সে (গ্রাউন্ড ব্রাঞ্চ) সেরা কৃতিত্বের জন্য অফিসার ক্যাডেট মোহাম্মদ আনান চৌধুরী ‘বিমান বাহিনী প্রধানের ট্রফি’ লাভ করেন। এই গ্রীষ্মকালীন টার্মে বীর উত্তম সুলতান মাহমুদ স্কোয়াড্রন চ্যাম্পিয়ন বিবেচিত হয়ে একাডেমি পতাকা লাভ করে।

আজকের প্যারেড কঠোর প্রশিক্ষণ, শৃঙ্খলা ও নিখুঁত সমন্বয়ের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত
আজকের এই রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি উপস্থিত হতে পেরে বিমান বাহিনী প্রধান বলেন, ‘আমি অত্যন্ত আনন্দিত। আজকের প্যারেড কঠোর প্রশিক্ষণ, শৃঙ্খলা ও নিখুঁত সমন্বয়ের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, যা বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বেরই প্রতিফলন বলেও মনে করেন। তিনি বলেন, ‘কঠোর ও কষ্টসাধ্য প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করে আজকের এই মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজের মধ্যে দিয়ে যেসব অফিসার ক্যাডেট কমিশন লাভ করতে যাচ্ছে তাদের সবাইকে জানাই আমার আন্তরিক অভিনন্দন ও মোবারকবাদ।’

শুরুতেই মুক্তিযুদ্ধকালীন কিলো ফ্লাইটের বীরত্বগাঁথাকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ
শুরুতেই মুক্তিযুদ্ধকালীন কিলো ফ্লাইটের বীরত্বগাঁথাকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। তিনি বলেন, ‘সীমিত সম্পদ ও নানাবিধ প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তারা যে দায়িত্ববোধ, অদম্য সাহস ও দেশপ্রেমের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন তা আজও আমাদের অনুপ্রেরণার উৎস। তাদের ত্যাগ আমাদেরকে শেখায় দেশমাতৃকার প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা থাকলে যেকোন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব। আজকের এই প্রযুক্তিনির্ভর বিমান বাহিনী সেই বীর বিমান সেনাদের ত্যাগের ওপরই দাঁড়িয়ে আছে।’

মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় জন্ম নেওয়া বিমান বাহিনী আজ একটি আধুনিক, পেশাদার ও দক্ষ বাহিনীতে পরিণত হয়েছে মন্তব্য করে বিমান বাহিনী প্রধান বলেন, ‘তবে আমাদের মনে রাখতে হবে আধুনিক বিশ্বে নিরাপত্তা পরিবেশ দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। প্রযুক্তি যেমন এগোচ্ছে তেমনি হুমকির ধরনও জটিল হয়ে উঠছে। ভবিষ্যত যুদ্ধক্ষেত্র হবে প্রযুক্তিনির্ভর, বহুমাত্রিক এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার যুদ্ধ, মানুষবিহীন আকাশযান, আধুনিক যোগাযোগ ও কমান্ড ব্যবস্থাপনা এবং স্পেইস বেইজড অপারেশন সামরিক কৌশলকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করেছে। তাই ভবিষ্যত যুদ্ধের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য আমাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ অর্জনের পথে দ্রুত এগিয়ে যেতে হবে। তাছাড়াও সময়ের প্রয়োজনেই আমাদের বিমান বাহিনীকে এক সময় এয়ার এন্ড স্পেইস ফোর্সে রূপান্তরিত হতে হবে। এই বাস্তবতায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর আধুনিকায়ন কেবল নতুন প্ল্যাটফর্ম সংগ্রহের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় বরং প্রয়োজন ভিত্তিক সক্ষমতা, উন্নয়ন, সর্বোচ্চ অপারেশনাল রেডিনেস, প্রযুক্তিগত আত্মনির্ভরতা, উদ্ভাবনী সক্ষমতা এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের সমন্বিত প্রচেষ্টা।

যে জাতি নিজ হাতে নিজের শক্তি গড়ে তুলতে পারে তাকে কেউ থামাতে পারে না
বিমান বাহিনী প্রধান বলেন, ‘আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে জাতি নিজ হাতে নিজের শক্তি গড়ে তুলতে পারে তাকে কেউ থামাতে পারে না। এই মূলমন্ত্রে উজ্জীবিত বাংলাদেশ বিমান বাহিনী তাঁর দক্ষ জনবল ও নিজস্ব প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের মাটিতে প্রশিক্ষণ বিমান তৈরি এবং পরবর্তী বিভিন্ন ধরণের ইউএভি তৈরির সক্ষমতা অর্জন করেছে। ভবিষ্যতে আরও উন্নত প্রযুক্তির বিমান ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরি আমাদের লক্ষ্য। পাশাপাশি নতুন ঘাঁটি স্থাপন, আধুনিক অবকাঠামো উন্নয়ন, গবেষণা উন্নয়ন সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিকমানের ট্রেনিং ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আমরা একটি ফিউচার রেডি (ভবিষ্যমুখী) বিমান বাহিনী গড়ে তুলছি। বর্তমান নিরাপত্তা ও অপারেশনাল বাস্তবতাকে সামনে রেখে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী তাঁর প্রশিক্ষণ দর্শন ও অবকাঠামোকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করে গড়ে তুলছে। বাংলাদেশ বিমান বাহিনী একাডেমি, রিক্রুটস ট্রেনিং স্কুল, এয়ারমেন্ড ট্রেনিং ইন্সটিটিউট এবং অন্যান্য প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি আমরা একটি সমন্বিত প্রশিক্ষণ কাঠামো গড়ে তুলছি। যাতে বিমান বাহিনীর সকল প্রশিক্ষণ কার্যক্রম একটি অভিন্ন লক্ষ্য ও দর্শনের অধীনে পরিচালিত হয়। এই প্রেক্ষাপটে ট্রেনিং এন্ড ডকট্রিন কমান্ড (ট্র্যাডক) প্রতিষ্ঠা বিমান বাহিনীর প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।’

বর্তমান সরকার বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ
বাংলাদেশের আকাশসীমা রক্ষা বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর পবিত্র দায়িত্ব উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের এয়ার ডিফেন্স কমান্ডার হিসেবে আমি মনে করি একটি ক্রেডিবল এয়ার ডিফেন্স ক্যাপাবিলিটি শুধুমাত্র সামরিক শক্তির প্রতীক নয়। এটি জাতীয় সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও জনগণের নিরাপত্তার অন্যতম ভিত্তি। এই প্রসঙ্গে আমি আনন্দের সঙ্গে উল্লেখ করছি যে, বর্তমান সরকার বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সর্বাধুনিক মাল্টিরোল কম্ব্যাট এয়ারক্রাফট, অ্যাটাক হেলিকপ্টার, এয়ার ডিফেন্স র‌্যাডার, ভূমিভিত্তিক আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বা শর্ট রেঞ্জ মিডিয়াম-রেঞ্জ সারফেস টু এয়ার মিসাইল, এন্ট্রি ড্রোন ব্যবস্থা, আনম্যান্ড এয়ার ভেহিকেল এবং নেটওয়ার্ক-সেন্ট্রিক ওয়ারফেয়ার সক্ষমতা সংযোজনের মাধ্যমে আমাদের অপারেশনাল সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধির কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকারের তড়িৎ সহযোগিতা আমাদের এই অগ্রযাত্রাকে আরও গতিশীল করছে। আমাদের লক্ষ্য একটি আধুনিক, প্রযুক্তি নির্ভর ও অ্যাজাইল (ক্ষিপ্র) বিমান বাহিনী গড়ে তোলা। আকাশসীমা রক্ষার পাশাপাশি বাংলাদেশ বিমান বাহিনী মানবিক সহায়তা, উদ্ধার অভিযান ও দুর্যোগ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে’-যোগ করেন বিমান বাহিনী প্রধান।

অংশগ্রহণমূলক ও উদাহরণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন সম্পন্নে পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন
বিমান বাহিনী প্রধান আরও বলেন, ‘বিদেশে আটকে পড়া নাগরিকদের উদ্ধার ও জাতিসংঘে শান্তিরক্ষা মিশনে বিমান বাহিনীর প্রশংসনীয় ভূমিকা দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে। বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা প্রদানেও বিমান বাহিনীর সদস্যরা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে। দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আমাদের সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরসমূহে সেবা, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা পুন:প্রতিষ্ঠায় প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখেছে। তাছাড়াও গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, অংশগ্রহণমূলক ও উদাহরণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীও অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছে।’

ভবিষ্যতের নেতৃত্ব তৈরিতে বিমান বাহিনী একাডেমির ভূমিকা সক্ষমতার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বহুমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য যে ইস্পাত কঠিন মানসিকতা ও পেশাদারিত্বের প্রয়োজন তাঁর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয় এই একাডেমি থেকে- এই মন্তব্য করে বিমান বাহিনী প্রধান বলেন, ‘বাংলাদেশ বিমান বাহিনী একাডেমি তরুণ ক্যাডেটদের সামরিক শিক্ষার পাশাপাশি তাদের চরিত্র, দক্ষতা ও দেশপ্রেমের সমন্বয়ে একেকজন অকুতোভয় আকাশ যোদ্ধা হিসেবে গড়ে তুলে। বিশ্বমানের উড্ডয়ন প্রশিক্ষণ ছাড়াও কঠোর সামরিক, একাডেমিক এবং নেতৃত্ব বিকাশের প্রশিক্ষণের সমন্বয়ে প্রণীত এখানকার পাঠ্যক্রম প্রতিটি গ্র্যাজুয়েট অফিসারকে আগামীর যেকোন পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত করে। ভবিষ্যতের নেতৃত্ব তৈরিতে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী একাডেমির এই ভূমিকা আমাদের সক্ষমতার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ।’

প্রতিটি পদক্ষেপে ধারণ করতে হবে বিমান বাহিনীর তিনটি মূলমন্ত্র
নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন বলেন, ‘আজ থেকে শুরু হলো তোমাদের পেশাগত জীবনের মূল যাত্রা। মনে রাখবে, এই যাত্রা মসৃণ নয়। তোমাদের প্রতিটি পদক্ষেপে ধারণ করতে হবে বিমান বাহিনীর তিনটি মূলমন্ত্র- শৃঙ্খলা, সততা এবং এক্সিলেন্সি ইন অল উই ডু। আজ তোমরা যে শপথ গ্রহণ করলে তা তোমাদের প্রতিটি সিদ্ধান্ত, দায়িত্ব ও কাজকে পরিচালিত করবে। পথ যতো কঠিনই হোক না কেন নৈতিক সাহস যেন সর্বদা তোমাদের পথপ্রদর্শক হয়। মনে রাখবে তোমাদের দায়িত্ব কেবল আকাশ রক্ষা করা নয় বরং জনগণের বিশ্বাস রক্ষা করা। তোমাদের চালচলনে সেই দৃঢ়তা, সংযম এবং মর্যাদা থাকতে হবে। যা বিমান বাহিনীর একজন ভবিষ্যত নেতার কাছে কাম্য।’ তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ও সমগ্র জাতির প্রত্যাশা তোমরা নিজেদের দক্ষ, দূরদর্শী ও দায়িত্বশীল এবং দেশপ্রেমিক কর্মকর্তা হিসেবে গড়ে তুলবে এবং সর্বদা ব্যক্তি স্বার্থের উর্ধ্বে বিমান বাহিনী তথা দেশের স্বার্থকে স্থান দেবে।

কালের আলো/এমএএএমকে

রামিসার বড় বোনের সব দায়িত্ব নিলেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ১০:৪৯ অপরাহ্ণ
রামিসার বড় বোনের সব দায়িত্ব নিলেন প্রধানমন্ত্রী

রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণ ও নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা আক্তারের বোনের সব দায়িত্ব নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাত পৌনে ১০টায় মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে মিরপুর-১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের বাসায় রামিসাদের বাসায় গিয়ে তাদের পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন। এসময় রামিসার বোনের দায়িত্ব নেয়ার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী।

গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে মিরপুরের পল্লবীর একটি ফ্ল্যাটের খাটের নিচ থেকে রামিসার মস্তকবিহীন দেহ এবং পরে বাথরুম থেকে খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

পুলিশ প্রথমে প্রধান আসামি সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আটক করে। পরে মূল অভিযুক্ত সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার বিষয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন ঘাতক সোহেল রানা।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

রামিসার বাসায় প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ১০:১২ অপরাহ্ণ
রামিসার বাসায় প্রধানমন্ত্রী

রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণ ও নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা আক্তারের বাসায় গেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষ করে রাত পৌনে ১০টার দিকে রাজধানীর পল্লবীতে রামিসার বাসায় যান প্রধানমন্ত্রী।

সেখানে নিহত রামিসার মা-বাবা ও স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তাদের সান্ত্বনা দেন তিনি।

এরআগে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল ইসলাম হক রামিসাদের বাসায় গিয়ে সমবেদনা জানিয়েছেন। আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রামিসা হত্যার বিচার দ্রুত নিশ্চিত করার কথা জানিয়েছেন।

রামিসা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেফতার আসামির দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ হচ্ছে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্নস্থানে।

গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে মিরপুরের পল্লবীর একটি ফ্ল্যাটের খাটের নিচ থেকে রামিসার মস্তকবিহীন দেহ এবং পরে বাথরুম থেকে খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

পুলিশ প্রথমে প্রধান আসামি সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আটক করে। পরে মূল অভিযুক্ত সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার বিষয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন ঘাতক সোহেল রানা।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ