খুঁজুন
                               
বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

আকাশে বিমান বাহিনীর গর্ব আর বীরত্বের গর্জন, এয়ার অ্যান্ড স্পেস ফোর্সে রূপান্তরের বার্তা বিমান বাহিনী প্রধানের

কালের আলো রিপোর্ট
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ১১:০৮ অপরাহ্ণ
আকাশে বিমান বাহিনীর গর্ব আর বীরত্বের গর্জন, এয়ার অ্যান্ড স্পেস ফোর্সে রূপান্তরের বার্তা বিমান বাহিনী প্রধানের

তখন আকাশে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর গর্ব আর বীরত্বের গর্জন। ধেয়ে আসছে একের পর এক আকাশযান। আকর্ষণীয় অ্যারোবেটিক ডিসপ্লে, বিমান বাহিনীর চৌকস প্যারাট্রুপারদের হেলিকপ্টার থেকে দৃষ্টিনন্দন প্যারা জাম্পিং বা নান্দনিক ফ্লাইপাস্টের মধ্যে দিয়ে যেন বাহিনীটির কৌশলগত দক্ষতা ও আধুনিকতার পরিচয়ের জানান দেওয়া হলো আরও একবার। ৮৮তম বাফা কোর্স, ডিরেক্ট এন্ট্রি-২০২৬এ এবং এসপিএসএসসি-২০২৬এ কোর্স এর চির আরাধ্য কমিশন প্রাপ্তির উজ্জ্বলতম এমনই একদিন ছিল বৃহস্পতিবার (২১ মে)। বাদ্যের তালে তালে আর পায়ের ছন্দে বিমান বাহিনীতে সদ্য কমিশনপ্রাপ্ত ক্যাডেটদের দৃপ্ত পদচারণায় মুখর যশোরে বিমান বাহিনী একাডেমির প্যারেড গ্রাউন্ড। প্রাণোচ্ছল উপস্থিতিতে মেধাবী ক্যাডেটদের চোখের তারায় তখন খেলা করছে দেশমাতৃকার সেবার অমিত সম্ভাবনার স্বপ্ন।

বাংলার আকাশ সুরক্ষায় জীবনবাজি রাখার শপথ নিলেন ৫জন মহিলা অফিসার ক্যাডেটসহ মোট ৪১ জন অফিসার ক্যাডেট। যুক্ত হলেন বিমান বাহিনীতে। নবীন কর্মকর্তাদের সেই স্বপ্নকে যেন আরও স্বার্থক ও মহিমান্বিত করলেন বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজে (গ্রীষ্মকালীন) প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি প্রথমেই কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করেন। গ্র্যাজুয়েটিং অফিসারদের মাঝে পদক এবং ফ্লাইং ব্যাজও বিতরণ করেন।

বিমান বাহিনী প্রধান স্মরণ করিয়ে দিলেন ভবিষ্যত যুদ্ধক্ষেত্র হবে প্রযুক্তিনির্ভর, বহুমাত্রিক এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল। জানিয়ে দিলেন সময়ের প্রয়োজনেই আমাদের বিমান বাহিনীকে এক সময় ‘এয়ার অ্যান্ড স্পেস ফোর্স’এ রূপান্তরিত হতে হবে। আনন্দ বার্তায় তিনি বলেছেন, ‘বর্তমান সরকার বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’ এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন নবীন কর্মকর্তাদের প্রতিটি পদক্ষেপে বিমান বাহিনীর তিনটি মূলমন্ত্র-শৃঙ্খলা, সততা এবং এক্সিলেন্সি ইন অল উই ডু’ ধারণের উপদেশ দিলেন।

  • বর্তমান সরকার বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ
  • আজকের প্যারেড কঠোর প্রশিক্ষণ, শৃঙ্খলা ও নিখুঁত সমন্বয়ের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত
  • শুরুতেই মুক্তিযুদ্ধকালীন কিলো ফ্লাইটের বীরত্বগাঁথাকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ
  • যে জাতি নিজ হাতে নিজের শক্তি গড়ে তুলতে পারে তাকে কেউ থামাতে পারে না
  • ভবিষ্যতের নেতৃত্ব তৈরিতে বিমান বাহিনী একাডেমির ভূমিকা সক্ষমতার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ
  • প্রতিটি পদক্ষেপে ধারণ করতে হবে বিমান বাহিনীর তিনটি মূলমন্ত্র

আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, অফিসার ক্যাডেট তাহসিন আহম্মেদ কোরাইশী ৮৮তম বাফা কোর্সের প্রশিক্ষণে সার্বিক কৃতিত্বের জন্য ‘সোর্ড অব অনার’ লাভ করেন। এছাড়াও অফিসার ক্যাডেট আদনান হক উড্ডয়ন প্রশিক্ষণে সেরা কৃতিত্বের জন্য ‘বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান ট্রফি’ ও অফিসার ক্যাডেট মোহাম্মদ আনান চৌধুরী জেনারেল সার্ভিস প্রশিক্ষণে কৃতিত্বের জন্য ‘কমান্ড্যান্টস্ ট্রফি’ লাভ করেন। এছাড়াও ৮৮তম বাফা কোর্সে (গ্রাউন্ড ব্রাঞ্চ) সেরা কৃতিত্বের জন্য অফিসার ক্যাডেট মোহাম্মদ আনান চৌধুরী ‘বিমান বাহিনী প্রধানের ট্রফি’ লাভ করেন। এই গ্রীষ্মকালীন টার্মে বীর উত্তম সুলতান মাহমুদ স্কোয়াড্রন চ্যাম্পিয়ন বিবেচিত হয়ে একাডেমি পতাকা লাভ করে।

আজকের প্যারেড কঠোর প্রশিক্ষণ, শৃঙ্খলা ও নিখুঁত সমন্বয়ের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত
আজকের এই রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি উপস্থিত হতে পেরে বিমান বাহিনী প্রধান বলেন, ‘আমি অত্যন্ত আনন্দিত। আজকের প্যারেড কঠোর প্রশিক্ষণ, শৃঙ্খলা ও নিখুঁত সমন্বয়ের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, যা বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বেরই প্রতিফলন বলেও মনে করেন। তিনি বলেন, ‘কঠোর ও কষ্টসাধ্য প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করে আজকের এই মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজের মধ্যে দিয়ে যেসব অফিসার ক্যাডেট কমিশন লাভ করতে যাচ্ছে তাদের সবাইকে জানাই আমার আন্তরিক অভিনন্দন ও মোবারকবাদ।’

শুরুতেই মুক্তিযুদ্ধকালীন কিলো ফ্লাইটের বীরত্বগাঁথাকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ
শুরুতেই মুক্তিযুদ্ধকালীন কিলো ফ্লাইটের বীরত্বগাঁথাকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। তিনি বলেন, ‘সীমিত সম্পদ ও নানাবিধ প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তারা যে দায়িত্ববোধ, অদম্য সাহস ও দেশপ্রেমের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন তা আজও আমাদের অনুপ্রেরণার উৎস। তাদের ত্যাগ আমাদেরকে শেখায় দেশমাতৃকার প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা থাকলে যেকোন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব। আজকের এই প্রযুক্তিনির্ভর বিমান বাহিনী সেই বীর বিমান সেনাদের ত্যাগের ওপরই দাঁড়িয়ে আছে।’

মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় জন্ম নেওয়া বিমান বাহিনী আজ একটি আধুনিক, পেশাদার ও দক্ষ বাহিনীতে পরিণত হয়েছে মন্তব্য করে বিমান বাহিনী প্রধান বলেন, ‘তবে আমাদের মনে রাখতে হবে আধুনিক বিশ্বে নিরাপত্তা পরিবেশ দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। প্রযুক্তি যেমন এগোচ্ছে তেমনি হুমকির ধরনও জটিল হয়ে উঠছে। ভবিষ্যত যুদ্ধক্ষেত্র হবে প্রযুক্তিনির্ভর, বহুমাত্রিক এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার যুদ্ধ, মানুষবিহীন আকাশযান, আধুনিক যোগাযোগ ও কমান্ড ব্যবস্থাপনা এবং স্পেইস বেইজড অপারেশন সামরিক কৌশলকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করেছে। তাই ভবিষ্যত যুদ্ধের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য আমাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ অর্জনের পথে দ্রুত এগিয়ে যেতে হবে। তাছাড়াও সময়ের প্রয়োজনেই আমাদের বিমান বাহিনীকে এক সময় এয়ার এন্ড স্পেইস ফোর্সে রূপান্তরিত হতে হবে। এই বাস্তবতায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর আধুনিকায়ন কেবল নতুন প্ল্যাটফর্ম সংগ্রহের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় বরং প্রয়োজন ভিত্তিক সক্ষমতা, উন্নয়ন, সর্বোচ্চ অপারেশনাল রেডিনেস, প্রযুক্তিগত আত্মনির্ভরতা, উদ্ভাবনী সক্ষমতা এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের সমন্বিত প্রচেষ্টা।

যে জাতি নিজ হাতে নিজের শক্তি গড়ে তুলতে পারে তাকে কেউ থামাতে পারে না
বিমান বাহিনী প্রধান বলেন, ‘আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে জাতি নিজ হাতে নিজের শক্তি গড়ে তুলতে পারে তাকে কেউ থামাতে পারে না। এই মূলমন্ত্রে উজ্জীবিত বাংলাদেশ বিমান বাহিনী তাঁর দক্ষ জনবল ও নিজস্ব প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের মাটিতে প্রশিক্ষণ বিমান তৈরি এবং পরবর্তী বিভিন্ন ধরণের ইউএভি তৈরির সক্ষমতা অর্জন করেছে। ভবিষ্যতে আরও উন্নত প্রযুক্তির বিমান ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরি আমাদের লক্ষ্য। পাশাপাশি নতুন ঘাঁটি স্থাপন, আধুনিক অবকাঠামো উন্নয়ন, গবেষণা উন্নয়ন সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিকমানের ট্রেনিং ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আমরা একটি ফিউচার রেডি (ভবিষ্যমুখী) বিমান বাহিনী গড়ে তুলছি। বর্তমান নিরাপত্তা ও অপারেশনাল বাস্তবতাকে সামনে রেখে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী তাঁর প্রশিক্ষণ দর্শন ও অবকাঠামোকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করে গড়ে তুলছে। বাংলাদেশ বিমান বাহিনী একাডেমি, রিক্রুটস ট্রেনিং স্কুল, এয়ারমেন্ড ট্রেনিং ইন্সটিটিউট এবং অন্যান্য প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি আমরা একটি সমন্বিত প্রশিক্ষণ কাঠামো গড়ে তুলছি। যাতে বিমান বাহিনীর সকল প্রশিক্ষণ কার্যক্রম একটি অভিন্ন লক্ষ্য ও দর্শনের অধীনে পরিচালিত হয়। এই প্রেক্ষাপটে ট্রেনিং এন্ড ডকট্রিন কমান্ড (ট্র্যাডক) প্রতিষ্ঠা বিমান বাহিনীর প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।’

বর্তমান সরকার বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ
বাংলাদেশের আকাশসীমা রক্ষা বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর পবিত্র দায়িত্ব উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের এয়ার ডিফেন্স কমান্ডার হিসেবে আমি মনে করি একটি ক্রেডিবল এয়ার ডিফেন্স ক্যাপাবিলিটি শুধুমাত্র সামরিক শক্তির প্রতীক নয়। এটি জাতীয় সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও জনগণের নিরাপত্তার অন্যতম ভিত্তি। এই প্রসঙ্গে আমি আনন্দের সঙ্গে উল্লেখ করছি যে, বর্তমান সরকার বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সর্বাধুনিক মাল্টিরোল কম্ব্যাট এয়ারক্রাফট, অ্যাটাক হেলিকপ্টার, এয়ার ডিফেন্স র‌্যাডার, ভূমিভিত্তিক আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বা শর্ট রেঞ্জ মিডিয়াম-রেঞ্জ সারফেস টু এয়ার মিসাইল, এন্ট্রি ড্রোন ব্যবস্থা, আনম্যান্ড এয়ার ভেহিকেল এবং নেটওয়ার্ক-সেন্ট্রিক ওয়ারফেয়ার সক্ষমতা সংযোজনের মাধ্যমে আমাদের অপারেশনাল সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধির কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকারের তড়িৎ সহযোগিতা আমাদের এই অগ্রযাত্রাকে আরও গতিশীল করছে। আমাদের লক্ষ্য একটি আধুনিক, প্রযুক্তি নির্ভর ও অ্যাজাইল (ক্ষিপ্র) বিমান বাহিনী গড়ে তোলা। আকাশসীমা রক্ষার পাশাপাশি বাংলাদেশ বিমান বাহিনী মানবিক সহায়তা, উদ্ধার অভিযান ও দুর্যোগ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে’-যোগ করেন বিমান বাহিনী প্রধান।

অংশগ্রহণমূলক ও উদাহরণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন সম্পন্নে পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন
বিমান বাহিনী প্রধান আরও বলেন, ‘বিদেশে আটকে পড়া নাগরিকদের উদ্ধার ও জাতিসংঘে শান্তিরক্ষা মিশনে বিমান বাহিনীর প্রশংসনীয় ভূমিকা দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে। বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা প্রদানেও বিমান বাহিনীর সদস্যরা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে। দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আমাদের সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরসমূহে সেবা, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা পুন:প্রতিষ্ঠায় প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখেছে। তাছাড়াও গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, অংশগ্রহণমূলক ও উদাহরণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীও অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছে।’

ভবিষ্যতের নেতৃত্ব তৈরিতে বিমান বাহিনী একাডেমির ভূমিকা সক্ষমতার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বহুমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য যে ইস্পাত কঠিন মানসিকতা ও পেশাদারিত্বের প্রয়োজন তাঁর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয় এই একাডেমি থেকে- এই মন্তব্য করে বিমান বাহিনী প্রধান বলেন, ‘বাংলাদেশ বিমান বাহিনী একাডেমি তরুণ ক্যাডেটদের সামরিক শিক্ষার পাশাপাশি তাদের চরিত্র, দক্ষতা ও দেশপ্রেমের সমন্বয়ে একেকজন অকুতোভয় আকাশ যোদ্ধা হিসেবে গড়ে তুলে। বিশ্বমানের উড্ডয়ন প্রশিক্ষণ ছাড়াও কঠোর সামরিক, একাডেমিক এবং নেতৃত্ব বিকাশের প্রশিক্ষণের সমন্বয়ে প্রণীত এখানকার পাঠ্যক্রম প্রতিটি গ্র্যাজুয়েট অফিসারকে আগামীর যেকোন পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত করে। ভবিষ্যতের নেতৃত্ব তৈরিতে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী একাডেমির এই ভূমিকা আমাদের সক্ষমতার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ।’

প্রতিটি পদক্ষেপে ধারণ করতে হবে বিমান বাহিনীর তিনটি মূলমন্ত্র
নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন বলেন, ‘আজ থেকে শুরু হলো তোমাদের পেশাগত জীবনের মূল যাত্রা। মনে রাখবে, এই যাত্রা মসৃণ নয়। তোমাদের প্রতিটি পদক্ষেপে ধারণ করতে হবে বিমান বাহিনীর তিনটি মূলমন্ত্র- শৃঙ্খলা, সততা এবং এক্সিলেন্সি ইন অল উই ডু। আজ তোমরা যে শপথ গ্রহণ করলে তা তোমাদের প্রতিটি সিদ্ধান্ত, দায়িত্ব ও কাজকে পরিচালিত করবে। পথ যতো কঠিনই হোক না কেন নৈতিক সাহস যেন সর্বদা তোমাদের পথপ্রদর্শক হয়। মনে রাখবে তোমাদের দায়িত্ব কেবল আকাশ রক্ষা করা নয় বরং জনগণের বিশ্বাস রক্ষা করা। তোমাদের চালচলনে সেই দৃঢ়তা, সংযম এবং মর্যাদা থাকতে হবে। যা বিমান বাহিনীর একজন ভবিষ্যত নেতার কাছে কাম্য।’ তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ও সমগ্র জাতির প্রত্যাশা তোমরা নিজেদের দক্ষ, দূরদর্শী ও দায়িত্বশীল এবং দেশপ্রেমিক কর্মকর্তা হিসেবে গড়ে তুলবে এবং সর্বদা ব্যক্তি স্বার্থের উর্ধ্বে বিমান বাহিনী তথা দেশের স্বার্থকে স্থান দেবে।

কালের আলো/এমএএএমকে

ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির স্বপ্ন নিয়ে দুই দশক পর বিএনপির বাজেট

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ২:১৬ পূর্বাহ্ণ
ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির স্বপ্ন নিয়ে দুই দশক পর বিএনপির বাজেট

প্রায় দুই দশক পর জাতীয় সংসদে বাজেট পেশ করতে যাচ্ছে বিএনপি সরকার। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকালে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জাতীয় বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। প্রস্তাবিত বাজেটের সম্ভাব্য আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা।

এর আগে ২০০৬ সালের ৪ জুন ক্ষমতার শেষ বছরে ২০০৬-২০০৭ অর্থবছরের জন্য ৭০ হাজার কোটি টাকার বাজেট পেশ করেন তৎকালীন অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান। বিশ বছরে বাজেটের আকারে ব্যবধান প্রায় ৯ গুণ।

গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিজয়ের পর ১১ জুন বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের এটি প্রথম বাজেট।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, ‘অর্থনৈতিক গণতান্ত্রিকীকরণ ও বিকেন্দ্রীকরণ: ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির পথে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এবারের বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।

দুই দশক পর বিএনপি সরকারে নেতৃত্বে এবারের বাজেট নিয়ে সাধারণ মানুষের রয়েছে ‘আকাশচুম্বী’ প্রত্যাশা। বিশেষ করে উচ্চ মূল্যস্ফীতি থেকে রেহাই পেতে চাইবেন তারা। তাছাড়া বাজারে চাপ সহনীয় পর্যায়ে থাকার দাবিও আছে।

সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমের কাছে অর্থনীতিবিদ মাসরুর রিয়াজ বলেন, “বাংলাদেশের অর্থনীতিটা গত কয়েক বছর ধারাবাহিকভাবে একটি চ্যালেঞ্জ বা একটি সংকটময় পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে।

এর মধ্যে মূল্যস্ফীতি ‘সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য’ জানিয়ে তিনি বলেন, “এখন আমরা ১২ (মূল্যস্ফীতি সূচক) বলি, ৯ বলি, সাড়ে ৮ বলি— সবই কিন্তু উচ্চ মূল্যস্ফীতি। এই মূল্যস্ফীতিতে মানুষের কষ্ট হচ্ছে। এর থেকে রেহাই পাওয়া যায় কিনা— সেটাই দেখার বিষয়।”

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

 

প্রধানমন্ত্রীর সফর শেষে তুলে নেওয়া হলো সেই সড়কের ইট 

বগুড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ২:০১ পূর্বাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রীর সফর শেষে তুলে নেওয়া হলো সেই সড়কের ইট 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফর ঘিরে নির্মাণ করা সড়ক থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে ইট

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ী সফরের সময় একটি আধা কিলোমিটার কাঁচা রাস্তায় ইট-বালু ফেলে রাতারাতি নির্মাণ করেছিল স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি)। এ রাস্তা দিয়েই প্রধানমন্ত্রী তার পৈতৃক ভিটায় পৌঁছান। প্রধানমন্ত্রীর সফর শেষে সেই সড়কের ইট তুলে নেওয়া হয়েছে। এখন বৃষ্টিতে এ সড়কে চলাচল করতে গিয়ে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন এলাকার বাসিন্দারা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গাবতলী উপজেলার নশিপুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে চৌকির খাল হয়ে প্রধানমন্ত্রীর পৈতৃক বাড়ি পর্যন্ত ৫০০ মিটার এ কাঁচা সড়ক পাকাকরণের জন্য গত অর্থবছর এলজিইডি থেকে ৮৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কার্যাদেশ পাওয়ার পরও ঠিকাদার সঠিক সময়ে কাজ শুরু করেননি। এ কারণে প্রধানমন্ত্রী সফরের সময় এ কাঁচা সড়কে অস্থায়ীভাবে ইট বিছানো হয়। আনুষঙ্গিক কিছু কাজসহ এতে ব্যয় দেখানো হয়েছে প্রায় ১০ লাখ টাকা। প্রধানমন্ত্রী ফিরে যাওয়ার সপ্তাহখানেকের মধ্যে সড়কের ৫০০ মিটার অংশে বিছানো ইট পুরোটায় তুলে নেওয়া হয়।

এ বিষয়ে এলজিইডির বগুড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাসুদুজ্জামান বলেন, ‘নিয়মনীতি মেনেই অস্থায়ীভাবে সড়কে ইট বিছানো হয়েছিল। ওই সড়ক পাকা করতে ৮৪ লাখ টাকা আগেই বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এ কারণে সেখানে অস্থায়ীভাবে বিছানো ইট ঠিকাদারকে তুলে নিতে বলা হয়েছে। কারণ অস্থায়ীভাবে সোলিং করার জন্য ইট ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। ইট কিনতে গেলে ব্যয় অনেক বেড়ে যেতো।’

এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, বাগবাড়ি-সোনাহাটা সড়ক থেকে জিয়াবাড়ি পর্যন্ত সংযোগ সড়কটি কার্পেটিং করার জন্য গত অর্থবছরে এলজিইডি থেকে ৮৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। দরপত্র আহ্বানের পর গত বছরের আগস্ট মাসে মেসার্স হক ট্রেডার্স নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়।

কার্যাদেশ অনুযায়ী, এ বছরের আগস্টের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা রয়েছে। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি এখন পর্যন্ত সড়ক পাকাকরণের কাজ শুরুই করেনি। এর মধ্যে গত ২০ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বগুড়া সফরে আসেন। এদিন তিনি বাগবাড়ী শহীদ জিয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন, চৌকিরদহ খাল খননকাজের উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী পৈতৃক ভিটা জিয়াবাড়ি পরিদর্শন করেন।

প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে ৫০০ মিটার এই কাঁচা রাস্তায় রাতারাতি ইট বিছানোর তোড়জোড় শুরু করে এলজিইডি। শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আতিকুর রহমানকে এ কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগমুহূর্তে তড়িঘড়ি করে ইট বিছানোর কাজ শেষ হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা মিনহাজুল ইসলাম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর আগমনে কাঁচা সড়কে ইট বসায় এলাকাবাসী খুশি হয়েছিলেন। দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হয়েছিল। এখন সড়কের ইট তুলে নেওয়ায় এ রাস্তা দিয়ে চলাচল দায় হয়ে পড়েছে। চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।’

এ বিষয়ে মাদলা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আতিকুর রহমান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে এলজিইডি থেকে ওই কাঁচা সড়কে অস্থায়ীভাবে ইট সোলিং করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। সেই অনুযায়ী, ভাটা থেকে ইট নিয়ে গিয়ে শ্রমিক দিয়ে সড়কে ইট বিছিয়ে দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর সফর শেষে সড়কের ইট তুলে ভাটায় নিয়ে এসেছেন। এলজিইডি থেকে শুধু পরিবহন ও শ্রমিক খরচ দেওয়া হয়েছে। তবে সেই কাজের জন্য ঠিক কত টাকা দেওয়া হয়েছিল, সেটা এই মুহূর্তে মনে নেই।’

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

শেষ’ বিশ্বকাপে কি হচ্ছে মেসি-রোনালদো দ্বৈরথ?

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ১:৫০ পূর্বাহ্ণ
শেষ’ বিশ্বকাপে কি হচ্ছে মেসি-রোনালদো দ্বৈরথ?

রেকর্ড ষষ্ঠ বিশ্বকাপে খেলতে যাচ্ছেন লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। বয়স বিবেচনায় সম্ভবত এটাই তাদের শেষ বিশ্বকাপ, মানে ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে বর্তমান প্রজন্মের দুই সেরা তারকার মুখোমুখি হওয়ার শেষ সুযোগ।

২০২৬ বিশ্বকাপে নিজ নিজ দেশের হয়ে মেসি-রোনালদোর মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ আছে। কিন্তু দুই তারকার দ্বৈরথ কখন হতে পারে?

মেসির আর্জেন্টিনা আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া ও জর্ডান ‘জে’ গ্রুপে খেলবে। তারা যদি গ্রুপটির শীর্ষে থাকে, তাহলে স্পেন, উরুগুয়ে, কেপ ভার্দে ও সৌদি আরবকে নিয়ে গড়া ‘এইচ’ গ্রুপের দ্বিতীয় দলের মুখোমুখি হবে শেষ ৩২ এ।

রোনালদোর পর্তুগাল ‘কে’ গ্রুপে খেলবে ডিআর কঙ্গো, উজবেকিস্তান ও কলম্বিয়ার বিপক্ষে। আর্জেন্টিনার মতো তারাও গ্রুপের শীর্ষে থাকবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। তারা যদি গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয় তাহলে ব্র্যাকেট অনুযায়ী তারা ডি, ই, আই, জে কিংবা এল গ্রুপের তৃতীয় দলের মুখোমুখি হবে ৪ জুলাই।

তিনটি পথে মেসি ও রোনালদো মুখোমুখি হতে পারেন। গ্রুপের শীর্ষে থাকতে হবে এবং শেষ ৩২ ও শেষ ষোলোর ম্যাচ জিততে হবে। তাহলে কোয়ার্টার ফাইনালে হবে আর্জেন্টিনা বনাম পর্তুগাল ম্যাচ।

ব্র্যাকেটের গঠন অনুযায়ী এই পথেই তাদের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এই সময়ে কাগজেকলমে আর্জেন্টিনার সামনে শেষ ৩২-এ কঠিন প্রতিপক্ষ হতে পারে উরুগুয়ে। আর কোয়ার্টার ফাইনালে আগে তেমন বড় কোনো দলের মুখোমুখি হতে হবে না পর্তুগালকে।

তবে নিজ নিজ গ্রুপে দুই দলই রানার্সআপ হলে আরও নাটকীয় ব্যাপার হবে। এক্ষেত্রে শেষ ষোলোতেই দেখা হতে পারে তাদের। অবশ্য তাতে শেষ ষোলোতে দুই দলকেই কঠিন প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে হবে। আর্জেন্টিনার সামনে পড়তে পারে স্পেন, পর্তুগালের প্রতিপক্ষ হতে পারে ক্রোয়েশিয়া।

মেসি-রোনালদোর মহাকাব্যিক ফাইনাল হওয়ার সম্ভাবনাও আছে। সেক্ষেত্রে এক দলকে হতে হবে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন, আরেক দল রানার্সআপ। তারপর দুই দলই সব বাধা আর চ্যালেঞ্জ উতরে যেতে পারলে শিরোপা নির্ধারণী মঞ্চে মুখোমুখি দাঁড়াবেন সময়ের অন্যতম সেরা দুই তারকা।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি