খুঁজুন
                               
, ,
           

আকাশে বিমান বাহিনীর গর্ব আর বীরত্বের গর্জন, এয়ার অ্যান্ড স্পেস ফোর্সে রূপান্তরের বার্তা বিমান বাহিনী প্রধানের

কালের আলো রিপোর্ট
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ১১:০৮ অপরাহ্ণ
আকাশে বিমান বাহিনীর গর্ব আর বীরত্বের গর্জন, এয়ার অ্যান্ড স্পেস ফোর্সে রূপান্তরের বার্তা বিমান বাহিনী প্রধানের

তখন আকাশে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর গর্ব আর বীরত্বের গর্জন। ধেয়ে আসছে একের পর এক আকাশযান। আকর্ষণীয় অ্যারোবেটিক ডিসপ্লে, বিমান বাহিনীর চৌকস প্যারাট্রুপারদের হেলিকপ্টার থেকে দৃষ্টিনন্দন প্যারা জাম্পিং বা নান্দনিক ফ্লাইপাস্টের মধ্যে দিয়ে যেন বাহিনীটির কৌশলগত দক্ষতা ও আধুনিকতার পরিচয়ের জানান দেওয়া হলো আরও একবার। ৮৮তম বাফা কোর্স, ডিরেক্ট এন্ট্রি-২০২৬এ এবং এসপিএসএসসি-২০২৬এ কোর্স এর চির আরাধ্য কমিশন প্রাপ্তির উজ্জ্বলতম এমনই একদিন ছিল বৃহস্পতিবার (২১ মে)। বাদ্যের তালে তালে আর পায়ের ছন্দে বিমান বাহিনীতে সদ্য কমিশনপ্রাপ্ত ক্যাডেটদের দৃপ্ত পদচারণায় মুখর যশোরে বিমান বাহিনী একাডেমির প্যারেড গ্রাউন্ড। প্রাণোচ্ছল উপস্থিতিতে মেধাবী ক্যাডেটদের চোখের তারায় তখন খেলা করছে দেশমাতৃকার সেবার অমিত সম্ভাবনার স্বপ্ন।

বাংলার আকাশ সুরক্ষায় জীবনবাজি রাখার শপথ নিলেন ৫জন মহিলা অফিসার ক্যাডেটসহ মোট ৪১ জন অফিসার ক্যাডেট। যুক্ত হলেন বিমান বাহিনীতে। নবীন কর্মকর্তাদের সেই স্বপ্নকে যেন আরও স্বার্থক ও মহিমান্বিত করলেন বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজে (গ্রীষ্মকালীন) প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি প্রথমেই কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করেন। গ্র্যাজুয়েটিং অফিসারদের মাঝে পদক এবং ফ্লাইং ব্যাজও বিতরণ করেন।

বিমান বাহিনী প্রধান স্মরণ করিয়ে দিলেন ভবিষ্যত যুদ্ধক্ষেত্র হবে প্রযুক্তিনির্ভর, বহুমাত্রিক এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল। জানিয়ে দিলেন সময়ের প্রয়োজনেই আমাদের বিমান বাহিনীকে এক সময় ‘এয়ার অ্যান্ড স্পেস ফোর্স’এ রূপান্তরিত হতে হবে। আনন্দ বার্তায় তিনি বলেছেন, ‘বর্তমান সরকার বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’ এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন নবীন কর্মকর্তাদের প্রতিটি পদক্ষেপে বিমান বাহিনীর তিনটি মূলমন্ত্র-শৃঙ্খলা, সততা এবং এক্সিলেন্সি ইন অল উই ডু’ ধারণের উপদেশ দিলেন।

  • বর্তমান সরকার বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ
  • আজকের প্যারেড কঠোর প্রশিক্ষণ, শৃঙ্খলা ও নিখুঁত সমন্বয়ের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত
  • শুরুতেই মুক্তিযুদ্ধকালীন কিলো ফ্লাইটের বীরত্বগাঁথাকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ
  • যে জাতি নিজ হাতে নিজের শক্তি গড়ে তুলতে পারে তাকে কেউ থামাতে পারে না
  • ভবিষ্যতের নেতৃত্ব তৈরিতে বিমান বাহিনী একাডেমির ভূমিকা সক্ষমতার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ
  • প্রতিটি পদক্ষেপে ধারণ করতে হবে বিমান বাহিনীর তিনটি মূলমন্ত্র

আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, অফিসার ক্যাডেট তাহসিন আহম্মেদ কোরাইশী ৮৮তম বাফা কোর্সের প্রশিক্ষণে সার্বিক কৃতিত্বের জন্য ‘সোর্ড অব অনার’ লাভ করেন। এছাড়াও অফিসার ক্যাডেট আদনান হক উড্ডয়ন প্রশিক্ষণে সেরা কৃতিত্বের জন্য ‘বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান ট্রফি’ ও অফিসার ক্যাডেট মোহাম্মদ আনান চৌধুরী জেনারেল সার্ভিস প্রশিক্ষণে কৃতিত্বের জন্য ‘কমান্ড্যান্টস্ ট্রফি’ লাভ করেন। এছাড়াও ৮৮তম বাফা কোর্সে (গ্রাউন্ড ব্রাঞ্চ) সেরা কৃতিত্বের জন্য অফিসার ক্যাডেট মোহাম্মদ আনান চৌধুরী ‘বিমান বাহিনী প্রধানের ট্রফি’ লাভ করেন। এই গ্রীষ্মকালীন টার্মে বীর উত্তম সুলতান মাহমুদ স্কোয়াড্রন চ্যাম্পিয়ন বিবেচিত হয়ে একাডেমি পতাকা লাভ করে।

আজকের প্যারেড কঠোর প্রশিক্ষণ, শৃঙ্খলা ও নিখুঁত সমন্বয়ের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত
আজকের এই রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি উপস্থিত হতে পেরে বিমান বাহিনী প্রধান বলেন, ‘আমি অত্যন্ত আনন্দিত। আজকের প্যারেড কঠোর প্রশিক্ষণ, শৃঙ্খলা ও নিখুঁত সমন্বয়ের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, যা বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বেরই প্রতিফলন বলেও মনে করেন। তিনি বলেন, ‘কঠোর ও কষ্টসাধ্য প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করে আজকের এই মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজের মধ্যে দিয়ে যেসব অফিসার ক্যাডেট কমিশন লাভ করতে যাচ্ছে তাদের সবাইকে জানাই আমার আন্তরিক অভিনন্দন ও মোবারকবাদ।’

শুরুতেই মুক্তিযুদ্ধকালীন কিলো ফ্লাইটের বীরত্বগাঁথাকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ
শুরুতেই মুক্তিযুদ্ধকালীন কিলো ফ্লাইটের বীরত্বগাঁথাকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। তিনি বলেন, ‘সীমিত সম্পদ ও নানাবিধ প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তারা যে দায়িত্ববোধ, অদম্য সাহস ও দেশপ্রেমের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন তা আজও আমাদের অনুপ্রেরণার উৎস। তাদের ত্যাগ আমাদেরকে শেখায় দেশমাতৃকার প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা থাকলে যেকোন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব। আজকের এই প্রযুক্তিনির্ভর বিমান বাহিনী সেই বীর বিমান সেনাদের ত্যাগের ওপরই দাঁড়িয়ে আছে।’

মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় জন্ম নেওয়া বিমান বাহিনী আজ একটি আধুনিক, পেশাদার ও দক্ষ বাহিনীতে পরিণত হয়েছে মন্তব্য করে বিমান বাহিনী প্রধান বলেন, ‘তবে আমাদের মনে রাখতে হবে আধুনিক বিশ্বে নিরাপত্তা পরিবেশ দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। প্রযুক্তি যেমন এগোচ্ছে তেমনি হুমকির ধরনও জটিল হয়ে উঠছে। ভবিষ্যত যুদ্ধক্ষেত্র হবে প্রযুক্তিনির্ভর, বহুমাত্রিক এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার যুদ্ধ, মানুষবিহীন আকাশযান, আধুনিক যোগাযোগ ও কমান্ড ব্যবস্থাপনা এবং স্পেইস বেইজড অপারেশন সামরিক কৌশলকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করেছে। তাই ভবিষ্যত যুদ্ধের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য আমাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ অর্জনের পথে দ্রুত এগিয়ে যেতে হবে। তাছাড়াও সময়ের প্রয়োজনেই আমাদের বিমান বাহিনীকে এক সময় এয়ার এন্ড স্পেইস ফোর্সে রূপান্তরিত হতে হবে। এই বাস্তবতায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর আধুনিকায়ন কেবল নতুন প্ল্যাটফর্ম সংগ্রহের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় বরং প্রয়োজন ভিত্তিক সক্ষমতা, উন্নয়ন, সর্বোচ্চ অপারেশনাল রেডিনেস, প্রযুক্তিগত আত্মনির্ভরতা, উদ্ভাবনী সক্ষমতা এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের সমন্বিত প্রচেষ্টা।

যে জাতি নিজ হাতে নিজের শক্তি গড়ে তুলতে পারে তাকে কেউ থামাতে পারে না
বিমান বাহিনী প্রধান বলেন, ‘আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে জাতি নিজ হাতে নিজের শক্তি গড়ে তুলতে পারে তাকে কেউ থামাতে পারে না। এই মূলমন্ত্রে উজ্জীবিত বাংলাদেশ বিমান বাহিনী তাঁর দক্ষ জনবল ও নিজস্ব প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের মাটিতে প্রশিক্ষণ বিমান তৈরি এবং পরবর্তী বিভিন্ন ধরণের ইউএভি তৈরির সক্ষমতা অর্জন করেছে। ভবিষ্যতে আরও উন্নত প্রযুক্তির বিমান ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরি আমাদের লক্ষ্য। পাশাপাশি নতুন ঘাঁটি স্থাপন, আধুনিক অবকাঠামো উন্নয়ন, গবেষণা উন্নয়ন সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিকমানের ট্রেনিং ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আমরা একটি ফিউচার রেডি (ভবিষ্যমুখী) বিমান বাহিনী গড়ে তুলছি। বর্তমান নিরাপত্তা ও অপারেশনাল বাস্তবতাকে সামনে রেখে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী তাঁর প্রশিক্ষণ দর্শন ও অবকাঠামোকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করে গড়ে তুলছে। বাংলাদেশ বিমান বাহিনী একাডেমি, রিক্রুটস ট্রেনিং স্কুল, এয়ারমেন্ড ট্রেনিং ইন্সটিটিউট এবং অন্যান্য প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি আমরা একটি সমন্বিত প্রশিক্ষণ কাঠামো গড়ে তুলছি। যাতে বিমান বাহিনীর সকল প্রশিক্ষণ কার্যক্রম একটি অভিন্ন লক্ষ্য ও দর্শনের অধীনে পরিচালিত হয়। এই প্রেক্ষাপটে ট্রেনিং এন্ড ডকট্রিন কমান্ড (ট্র্যাডক) প্রতিষ্ঠা বিমান বাহিনীর প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।’

বর্তমান সরকার বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ
বাংলাদেশের আকাশসীমা রক্ষা বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর পবিত্র দায়িত্ব উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের এয়ার ডিফেন্স কমান্ডার হিসেবে আমি মনে করি একটি ক্রেডিবল এয়ার ডিফেন্স ক্যাপাবিলিটি শুধুমাত্র সামরিক শক্তির প্রতীক নয়। এটি জাতীয় সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও জনগণের নিরাপত্তার অন্যতম ভিত্তি। এই প্রসঙ্গে আমি আনন্দের সঙ্গে উল্লেখ করছি যে, বর্তমান সরকার বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সর্বাধুনিক মাল্টিরোল কম্ব্যাট এয়ারক্রাফট, অ্যাটাক হেলিকপ্টার, এয়ার ডিফেন্স র‌্যাডার, ভূমিভিত্তিক আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বা শর্ট রেঞ্জ মিডিয়াম-রেঞ্জ সারফেস টু এয়ার মিসাইল, এন্ট্রি ড্রোন ব্যবস্থা, আনম্যান্ড এয়ার ভেহিকেল এবং নেটওয়ার্ক-সেন্ট্রিক ওয়ারফেয়ার সক্ষমতা সংযোজনের মাধ্যমে আমাদের অপারেশনাল সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধির কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকারের তড়িৎ সহযোগিতা আমাদের এই অগ্রযাত্রাকে আরও গতিশীল করছে। আমাদের লক্ষ্য একটি আধুনিক, প্রযুক্তি নির্ভর ও অ্যাজাইল (ক্ষিপ্র) বিমান বাহিনী গড়ে তোলা। আকাশসীমা রক্ষার পাশাপাশি বাংলাদেশ বিমান বাহিনী মানবিক সহায়তা, উদ্ধার অভিযান ও দুর্যোগ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে’-যোগ করেন বিমান বাহিনী প্রধান।

অংশগ্রহণমূলক ও উদাহরণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন সম্পন্নে পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন
বিমান বাহিনী প্রধান আরও বলেন, ‘বিদেশে আটকে পড়া নাগরিকদের উদ্ধার ও জাতিসংঘে শান্তিরক্ষা মিশনে বিমান বাহিনীর প্রশংসনীয় ভূমিকা দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে। বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা প্রদানেও বিমান বাহিনীর সদস্যরা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে। দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আমাদের সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরসমূহে সেবা, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা পুন:প্রতিষ্ঠায় প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখেছে। তাছাড়াও গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, অংশগ্রহণমূলক ও উদাহরণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীও অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছে।’

ভবিষ্যতের নেতৃত্ব তৈরিতে বিমান বাহিনী একাডেমির ভূমিকা সক্ষমতার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বহুমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য যে ইস্পাত কঠিন মানসিকতা ও পেশাদারিত্বের প্রয়োজন তাঁর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয় এই একাডেমি থেকে- এই মন্তব্য করে বিমান বাহিনী প্রধান বলেন, ‘বাংলাদেশ বিমান বাহিনী একাডেমি তরুণ ক্যাডেটদের সামরিক শিক্ষার পাশাপাশি তাদের চরিত্র, দক্ষতা ও দেশপ্রেমের সমন্বয়ে একেকজন অকুতোভয় আকাশ যোদ্ধা হিসেবে গড়ে তুলে। বিশ্বমানের উড্ডয়ন প্রশিক্ষণ ছাড়াও কঠোর সামরিক, একাডেমিক এবং নেতৃত্ব বিকাশের প্রশিক্ষণের সমন্বয়ে প্রণীত এখানকার পাঠ্যক্রম প্রতিটি গ্র্যাজুয়েট অফিসারকে আগামীর যেকোন পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত করে। ভবিষ্যতের নেতৃত্ব তৈরিতে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী একাডেমির এই ভূমিকা আমাদের সক্ষমতার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ।’

প্রতিটি পদক্ষেপে ধারণ করতে হবে বিমান বাহিনীর তিনটি মূলমন্ত্র
নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন বলেন, ‘আজ থেকে শুরু হলো তোমাদের পেশাগত জীবনের মূল যাত্রা। মনে রাখবে, এই যাত্রা মসৃণ নয়। তোমাদের প্রতিটি পদক্ষেপে ধারণ করতে হবে বিমান বাহিনীর তিনটি মূলমন্ত্র- শৃঙ্খলা, সততা এবং এক্সিলেন্সি ইন অল উই ডু। আজ তোমরা যে শপথ গ্রহণ করলে তা তোমাদের প্রতিটি সিদ্ধান্ত, দায়িত্ব ও কাজকে পরিচালিত করবে। পথ যতো কঠিনই হোক না কেন নৈতিক সাহস যেন সর্বদা তোমাদের পথপ্রদর্শক হয়। মনে রাখবে তোমাদের দায়িত্ব কেবল আকাশ রক্ষা করা নয় বরং জনগণের বিশ্বাস রক্ষা করা। তোমাদের চালচলনে সেই দৃঢ়তা, সংযম এবং মর্যাদা থাকতে হবে। যা বিমান বাহিনীর একজন ভবিষ্যত নেতার কাছে কাম্য।’ তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ও সমগ্র জাতির প্রত্যাশা তোমরা নিজেদের দক্ষ, দূরদর্শী ও দায়িত্বশীল এবং দেশপ্রেমিক কর্মকর্তা হিসেবে গড়ে তুলবে এবং সর্বদা ব্যক্তি স্বার্থের উর্ধ্বে বিমান বাহিনী তথা দেশের স্বার্থকে স্থান দেবে।

কালের আলো/এমএএএমকে

পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব হলেন ড. ফাহমিদা খানম

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ২:০২ পূর্বাহ্ণ
পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব হলেন ড. ফাহমিদা খানম

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানমকে মন্ত্রণালয়টির ভারপ্রাপ্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছে সরকার।

একইসঙ্গে বর্তমান সচিব মোহা. রায়হান কাওছারকে ওই পদ থেকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

সোমবার(৬ জুলাই)  এ সংক্রান্ত পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

ড. ফাহমিদা খানম বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (প্রশাসন) ক্যাডারের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। কর্মজীবনে তিনি পরিবেশ, বন, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন এবং প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা–সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সফলভাবে পালন করেছেন।

এর আগে তিনি জাতীয় পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন ইনস্টিটিউটের (ন্যাকসিআই) নির্বাহী পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্বে ছিলেন তিনি।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি 

বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ১:৫৬ পূর্বাহ্ণ
বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা

অব্যাহত ভারী বৃষ্টিপাত এবং সম্ভাব্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কায় আগামী ১০ জুলাই পর্যন্ত বান্দরবান জেলার সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন। একই সময়ের জন্য জেলার সব ঝরনা, পাহাড়ি ট্রেইল, নদীপথ, দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পর্যটক, ট্যুর অপারেটর এবং সাধারণ মানুষের প্রবেশ ও ভ্রমণও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

সোমবার (৬ জুলাই) রাত ১০টার দিকে জেলা প্রশাসনের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, টানা ভারী বর্ষণের কারণে জেলার বিভিন্ন এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বিদ্যমান আবহাওয়া পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য দুর্ঘটনার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পর্যটক ও সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগামী ১০ জুলাই (শুক্রবার) পর্যন্ত জেলার সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এ সময় জেলার সব পর্যটনকেন্দ্রের পাশাপাশি ঝরনা, পাহাড়ি ট্রেইল, নদীপথ, দুর্গম এলাকা ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে পর্যটক, ট্যুর অপারেটর এবং সর্বসাধারণের ভ্রমণ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে।

জেলা প্রশাসন সংশ্লিষ্ট সবাইকে এ নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

বরগুনায় বিদ্যুৎকেন্দ্রে আগুন বন্ধ থাকতে পারে বিদ্যুৎ সরবরাহ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ১:৪৪ পূর্বাহ্ণ
বরগুনায় বিদ্যুৎকেন্দ্রে আগুন বন্ধ থাকতে পারে বিদ্যুৎ সরবরাহ

সোমবার (৬ জুলাই) রাত সাড়ে ১০ টার দিকে বরগুনা সদর উপজেলার ২ নম্বর গৌরীচন্না ইউনিয়নের খেজুরতালা নামক এলকার গ্রিড সবস্টেশনে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বরগুনা জোনাল অফিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গৌরীচন্না ইউনিয়নের খেজুরতলা এলাকার গ্রিড সাবস্টেশনটির মাধ্যমে বরগুনা সদর উপজেলায় পল্লী বিদ্যুত সঞ্চালন ও বিতরণের নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

রাতে হঠাৎ করে ওই সাবস্টেশনটির ভেতরে একটি বিকট শব্দ হয়। এর পরপরই স্টেশনটির ৬ নম্বর ফিডারে আগুন লেগে যায়। আগুনের স্থায়িত্ব মাত্র ১ থেকে ২ মিনিট হলেও স্টেশনের ভিতরে থাকা অন্য ফিডার, বিভিন্ন তারের সংযোগ পুড়ে যাওয়াসহ কিছু যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে এ ঘটনায় বড় কোনো দুর্ঘটনা না ঘটলেও বরগুনা সদর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের ৬৭ হাজার গ্রাহক এখন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছেন।

এ বিষয়ে পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বরগুনা জোনাল অফিসের ডিজিএম মোহাম্মদ নাজমুল হাসান বলেন, রাতে অফিসেই ছিলাম। হঠাৎ করে বিকট একটা শব্দ হয়ে বিদ্যুৎ বন্ধ হয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থলে এসে দেখি ১১ কেভি এসিআর বিস্ফোরণ হয়ে বিদ্যুৎ সঞ্চালন বন্ধ হয়ে গেছে। এ ছাড়াও অনেক তার ও যন্ত্রাংশ পুড়ে গেছে।

আমরা কাজ শুরু করেছি এবং সকল যন্ত্রাংশ পরীক্ষা করছি। তবে যে যন্ত্রাংশটি পুড়েগেছে তা পটুয়াখালী থেকে নিয়ে আসতে হবে। আমাদের চেষ্টা  অব্যাহত রয়েছে। রাতের মধ্যে বিদ্যুৎ সঞ্চালন চালু করতে না পারলেও আগামীকাল সকালের মধ্যে চালু করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।

কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অভ্যান্তরীন ত্রুটির কারণে এ ঘটনা ঘটতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বোঝা যাচ্ছে না কেনো এ ঘটনা ঘটেছে৷

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি