খুঁজুন
                               
রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

আকাশে বিমান বাহিনীর গর্ব আর বীরত্বের গর্জন, এয়ার অ্যান্ড স্পেস ফোর্সে রূপান্তরের বার্তা বিমান বাহিনী প্রধানের

কালের আলো রিপোর্ট
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ১১:০৮ অপরাহ্ণ
আকাশে বিমান বাহিনীর গর্ব আর বীরত্বের গর্জন, এয়ার অ্যান্ড স্পেস ফোর্সে রূপান্তরের বার্তা বিমান বাহিনী প্রধানের

তখন আকাশে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর গর্ব আর বীরত্বের গর্জন। ধেয়ে আসছে একের পর এক আকাশযান। আকর্ষণীয় অ্যারোবেটিক ডিসপ্লে, বিমান বাহিনীর চৌকস প্যারাট্রুপারদের হেলিকপ্টার থেকে দৃষ্টিনন্দন প্যারা জাম্পিং বা নান্দনিক ফ্লাইপাস্টের মধ্যে দিয়ে যেন বাহিনীটির কৌশলগত দক্ষতা ও আধুনিকতার পরিচয়ের জানান দেওয়া হলো আরও একবার। ৮৮তম বাফা কোর্স, ডিরেক্ট এন্ট্রি-২০২৬এ এবং এসপিএসএসসি-২০২৬এ কোর্স এর চির আরাধ্য কমিশন প্রাপ্তির উজ্জ্বলতম এমনই একদিন ছিল বৃহস্পতিবার (২১ মে)। বাদ্যের তালে তালে আর পায়ের ছন্দে বিমান বাহিনীতে সদ্য কমিশনপ্রাপ্ত ক্যাডেটদের দৃপ্ত পদচারণায় মুখর যশোরে বিমান বাহিনী একাডেমির প্যারেড গ্রাউন্ড। প্রাণোচ্ছল উপস্থিতিতে মেধাবী ক্যাডেটদের চোখের তারায় তখন খেলা করছে দেশমাতৃকার সেবার অমিত সম্ভাবনার স্বপ্ন।

বাংলার আকাশ সুরক্ষায় জীবনবাজি রাখার শপথ নিলেন ৫জন মহিলা অফিসার ক্যাডেটসহ মোট ৪১ জন অফিসার ক্যাডেট। যুক্ত হলেন বিমান বাহিনীতে। নবীন কর্মকর্তাদের সেই স্বপ্নকে যেন আরও স্বার্থক ও মহিমান্বিত করলেন বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজে (গ্রীষ্মকালীন) প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি প্রথমেই কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করেন। গ্র্যাজুয়েটিং অফিসারদের মাঝে পদক এবং ফ্লাইং ব্যাজও বিতরণ করেন।

বিমান বাহিনী প্রধান স্মরণ করিয়ে দিলেন ভবিষ্যত যুদ্ধক্ষেত্র হবে প্রযুক্তিনির্ভর, বহুমাত্রিক এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল। জানিয়ে দিলেন সময়ের প্রয়োজনেই আমাদের বিমান বাহিনীকে এক সময় ‘এয়ার অ্যান্ড স্পেস ফোর্স’এ রূপান্তরিত হতে হবে। আনন্দ বার্তায় তিনি বলেছেন, ‘বর্তমান সরকার বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’ এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন নবীন কর্মকর্তাদের প্রতিটি পদক্ষেপে বিমান বাহিনীর তিনটি মূলমন্ত্র-শৃঙ্খলা, সততা এবং এক্সিলেন্সি ইন অল উই ডু’ ধারণের উপদেশ দিলেন।

  • বর্তমান সরকার বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ
  • আজকের প্যারেড কঠোর প্রশিক্ষণ, শৃঙ্খলা ও নিখুঁত সমন্বয়ের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত
  • শুরুতেই মুক্তিযুদ্ধকালীন কিলো ফ্লাইটের বীরত্বগাঁথাকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ
  • যে জাতি নিজ হাতে নিজের শক্তি গড়ে তুলতে পারে তাকে কেউ থামাতে পারে না
  • ভবিষ্যতের নেতৃত্ব তৈরিতে বিমান বাহিনী একাডেমির ভূমিকা সক্ষমতার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ
  • প্রতিটি পদক্ষেপে ধারণ করতে হবে বিমান বাহিনীর তিনটি মূলমন্ত্র

আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, অফিসার ক্যাডেট তাহসিন আহম্মেদ কোরাইশী ৮৮তম বাফা কোর্সের প্রশিক্ষণে সার্বিক কৃতিত্বের জন্য ‘সোর্ড অব অনার’ লাভ করেন। এছাড়াও অফিসার ক্যাডেট আদনান হক উড্ডয়ন প্রশিক্ষণে সেরা কৃতিত্বের জন্য ‘বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান ট্রফি’ ও অফিসার ক্যাডেট মোহাম্মদ আনান চৌধুরী জেনারেল সার্ভিস প্রশিক্ষণে কৃতিত্বের জন্য ‘কমান্ড্যান্টস্ ট্রফি’ লাভ করেন। এছাড়াও ৮৮তম বাফা কোর্সে (গ্রাউন্ড ব্রাঞ্চ) সেরা কৃতিত্বের জন্য অফিসার ক্যাডেট মোহাম্মদ আনান চৌধুরী ‘বিমান বাহিনী প্রধানের ট্রফি’ লাভ করেন। এই গ্রীষ্মকালীন টার্মে বীর উত্তম সুলতান মাহমুদ স্কোয়াড্রন চ্যাম্পিয়ন বিবেচিত হয়ে একাডেমি পতাকা লাভ করে।

আজকের প্যারেড কঠোর প্রশিক্ষণ, শৃঙ্খলা ও নিখুঁত সমন্বয়ের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত
আজকের এই রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি উপস্থিত হতে পেরে বিমান বাহিনী প্রধান বলেন, ‘আমি অত্যন্ত আনন্দিত। আজকের প্যারেড কঠোর প্রশিক্ষণ, শৃঙ্খলা ও নিখুঁত সমন্বয়ের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, যা বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বেরই প্রতিফলন বলেও মনে করেন। তিনি বলেন, ‘কঠোর ও কষ্টসাধ্য প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করে আজকের এই মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজের মধ্যে দিয়ে যেসব অফিসার ক্যাডেট কমিশন লাভ করতে যাচ্ছে তাদের সবাইকে জানাই আমার আন্তরিক অভিনন্দন ও মোবারকবাদ।’

শুরুতেই মুক্তিযুদ্ধকালীন কিলো ফ্লাইটের বীরত্বগাঁথাকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ
শুরুতেই মুক্তিযুদ্ধকালীন কিলো ফ্লাইটের বীরত্বগাঁথাকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। তিনি বলেন, ‘সীমিত সম্পদ ও নানাবিধ প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তারা যে দায়িত্ববোধ, অদম্য সাহস ও দেশপ্রেমের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন তা আজও আমাদের অনুপ্রেরণার উৎস। তাদের ত্যাগ আমাদেরকে শেখায় দেশমাতৃকার প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা থাকলে যেকোন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব। আজকের এই প্রযুক্তিনির্ভর বিমান বাহিনী সেই বীর বিমান সেনাদের ত্যাগের ওপরই দাঁড়িয়ে আছে।’

মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় জন্ম নেওয়া বিমান বাহিনী আজ একটি আধুনিক, পেশাদার ও দক্ষ বাহিনীতে পরিণত হয়েছে মন্তব্য করে বিমান বাহিনী প্রধান বলেন, ‘তবে আমাদের মনে রাখতে হবে আধুনিক বিশ্বে নিরাপত্তা পরিবেশ দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। প্রযুক্তি যেমন এগোচ্ছে তেমনি হুমকির ধরনও জটিল হয়ে উঠছে। ভবিষ্যত যুদ্ধক্ষেত্র হবে প্রযুক্তিনির্ভর, বহুমাত্রিক এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার যুদ্ধ, মানুষবিহীন আকাশযান, আধুনিক যোগাযোগ ও কমান্ড ব্যবস্থাপনা এবং স্পেইস বেইজড অপারেশন সামরিক কৌশলকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করেছে। তাই ভবিষ্যত যুদ্ধের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য আমাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ অর্জনের পথে দ্রুত এগিয়ে যেতে হবে। তাছাড়াও সময়ের প্রয়োজনেই আমাদের বিমান বাহিনীকে এক সময় এয়ার এন্ড স্পেইস ফোর্সে রূপান্তরিত হতে হবে। এই বাস্তবতায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর আধুনিকায়ন কেবল নতুন প্ল্যাটফর্ম সংগ্রহের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় বরং প্রয়োজন ভিত্তিক সক্ষমতা, উন্নয়ন, সর্বোচ্চ অপারেশনাল রেডিনেস, প্রযুক্তিগত আত্মনির্ভরতা, উদ্ভাবনী সক্ষমতা এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের সমন্বিত প্রচেষ্টা।

যে জাতি নিজ হাতে নিজের শক্তি গড়ে তুলতে পারে তাকে কেউ থামাতে পারে না
বিমান বাহিনী প্রধান বলেন, ‘আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে জাতি নিজ হাতে নিজের শক্তি গড়ে তুলতে পারে তাকে কেউ থামাতে পারে না। এই মূলমন্ত্রে উজ্জীবিত বাংলাদেশ বিমান বাহিনী তাঁর দক্ষ জনবল ও নিজস্ব প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের মাটিতে প্রশিক্ষণ বিমান তৈরি এবং পরবর্তী বিভিন্ন ধরণের ইউএভি তৈরির সক্ষমতা অর্জন করেছে। ভবিষ্যতে আরও উন্নত প্রযুক্তির বিমান ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরি আমাদের লক্ষ্য। পাশাপাশি নতুন ঘাঁটি স্থাপন, আধুনিক অবকাঠামো উন্নয়ন, গবেষণা উন্নয়ন সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিকমানের ট্রেনিং ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আমরা একটি ফিউচার রেডি (ভবিষ্যমুখী) বিমান বাহিনী গড়ে তুলছি। বর্তমান নিরাপত্তা ও অপারেশনাল বাস্তবতাকে সামনে রেখে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী তাঁর প্রশিক্ষণ দর্শন ও অবকাঠামোকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করে গড়ে তুলছে। বাংলাদেশ বিমান বাহিনী একাডেমি, রিক্রুটস ট্রেনিং স্কুল, এয়ারমেন্ড ট্রেনিং ইন্সটিটিউট এবং অন্যান্য প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি আমরা একটি সমন্বিত প্রশিক্ষণ কাঠামো গড়ে তুলছি। যাতে বিমান বাহিনীর সকল প্রশিক্ষণ কার্যক্রম একটি অভিন্ন লক্ষ্য ও দর্শনের অধীনে পরিচালিত হয়। এই প্রেক্ষাপটে ট্রেনিং এন্ড ডকট্রিন কমান্ড (ট্র্যাডক) প্রতিষ্ঠা বিমান বাহিনীর প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।’

বর্তমান সরকার বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ
বাংলাদেশের আকাশসীমা রক্ষা বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর পবিত্র দায়িত্ব উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের এয়ার ডিফেন্স কমান্ডার হিসেবে আমি মনে করি একটি ক্রেডিবল এয়ার ডিফেন্স ক্যাপাবিলিটি শুধুমাত্র সামরিক শক্তির প্রতীক নয়। এটি জাতীয় সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও জনগণের নিরাপত্তার অন্যতম ভিত্তি। এই প্রসঙ্গে আমি আনন্দের সঙ্গে উল্লেখ করছি যে, বর্তমান সরকার বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সর্বাধুনিক মাল্টিরোল কম্ব্যাট এয়ারক্রাফট, অ্যাটাক হেলিকপ্টার, এয়ার ডিফেন্স র‌্যাডার, ভূমিভিত্তিক আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বা শর্ট রেঞ্জ মিডিয়াম-রেঞ্জ সারফেস টু এয়ার মিসাইল, এন্ট্রি ড্রোন ব্যবস্থা, আনম্যান্ড এয়ার ভেহিকেল এবং নেটওয়ার্ক-সেন্ট্রিক ওয়ারফেয়ার সক্ষমতা সংযোজনের মাধ্যমে আমাদের অপারেশনাল সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধির কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকারের তড়িৎ সহযোগিতা আমাদের এই অগ্রযাত্রাকে আরও গতিশীল করছে। আমাদের লক্ষ্য একটি আধুনিক, প্রযুক্তি নির্ভর ও অ্যাজাইল (ক্ষিপ্র) বিমান বাহিনী গড়ে তোলা। আকাশসীমা রক্ষার পাশাপাশি বাংলাদেশ বিমান বাহিনী মানবিক সহায়তা, উদ্ধার অভিযান ও দুর্যোগ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে’-যোগ করেন বিমান বাহিনী প্রধান।

অংশগ্রহণমূলক ও উদাহরণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন সম্পন্নে পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন
বিমান বাহিনী প্রধান আরও বলেন, ‘বিদেশে আটকে পড়া নাগরিকদের উদ্ধার ও জাতিসংঘে শান্তিরক্ষা মিশনে বিমান বাহিনীর প্রশংসনীয় ভূমিকা দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে। বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা প্রদানেও বিমান বাহিনীর সদস্যরা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে। দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আমাদের সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরসমূহে সেবা, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা পুন:প্রতিষ্ঠায় প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখেছে। তাছাড়াও গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, অংশগ্রহণমূলক ও উদাহরণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীও অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছে।’

ভবিষ্যতের নেতৃত্ব তৈরিতে বিমান বাহিনী একাডেমির ভূমিকা সক্ষমতার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বহুমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য যে ইস্পাত কঠিন মানসিকতা ও পেশাদারিত্বের প্রয়োজন তাঁর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয় এই একাডেমি থেকে- এই মন্তব্য করে বিমান বাহিনী প্রধান বলেন, ‘বাংলাদেশ বিমান বাহিনী একাডেমি তরুণ ক্যাডেটদের সামরিক শিক্ষার পাশাপাশি তাদের চরিত্র, দক্ষতা ও দেশপ্রেমের সমন্বয়ে একেকজন অকুতোভয় আকাশ যোদ্ধা হিসেবে গড়ে তুলে। বিশ্বমানের উড্ডয়ন প্রশিক্ষণ ছাড়াও কঠোর সামরিক, একাডেমিক এবং নেতৃত্ব বিকাশের প্রশিক্ষণের সমন্বয়ে প্রণীত এখানকার পাঠ্যক্রম প্রতিটি গ্র্যাজুয়েট অফিসারকে আগামীর যেকোন পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত করে। ভবিষ্যতের নেতৃত্ব তৈরিতে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী একাডেমির এই ভূমিকা আমাদের সক্ষমতার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ।’

প্রতিটি পদক্ষেপে ধারণ করতে হবে বিমান বাহিনীর তিনটি মূলমন্ত্র
নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন বলেন, ‘আজ থেকে শুরু হলো তোমাদের পেশাগত জীবনের মূল যাত্রা। মনে রাখবে, এই যাত্রা মসৃণ নয়। তোমাদের প্রতিটি পদক্ষেপে ধারণ করতে হবে বিমান বাহিনীর তিনটি মূলমন্ত্র- শৃঙ্খলা, সততা এবং এক্সিলেন্সি ইন অল উই ডু। আজ তোমরা যে শপথ গ্রহণ করলে তা তোমাদের প্রতিটি সিদ্ধান্ত, দায়িত্ব ও কাজকে পরিচালিত করবে। পথ যতো কঠিনই হোক না কেন নৈতিক সাহস যেন সর্বদা তোমাদের পথপ্রদর্শক হয়। মনে রাখবে তোমাদের দায়িত্ব কেবল আকাশ রক্ষা করা নয় বরং জনগণের বিশ্বাস রক্ষা করা। তোমাদের চালচলনে সেই দৃঢ়তা, সংযম এবং মর্যাদা থাকতে হবে। যা বিমান বাহিনীর একজন ভবিষ্যত নেতার কাছে কাম্য।’ তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ও সমগ্র জাতির প্রত্যাশা তোমরা নিজেদের দক্ষ, দূরদর্শী ও দায়িত্বশীল এবং দেশপ্রেমিক কর্মকর্তা হিসেবে গড়ে তুলবে এবং সর্বদা ব্যক্তি স্বার্থের উর্ধ্বে বিমান বাহিনী তথা দেশের স্বার্থকে স্থান দেবে।

কালের আলো/এমএএএমকে

সরকার সমাজের অবহেলিত জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে : ডা.জাহিদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ২:০৩ পূর্বাহ্ণ
সরকার সমাজের অবহেলিত জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে : ডা.জাহিদ

সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, বর্তমান সরকার সমাজের অবহেলিত জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। নারী নির্যাতন ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া এডুকেশন স্কিল, কেয়ারগিভার ও ভাষাশিক্ষা প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

শনিবার (৬ জুন) রাজধানীর ইস্কাটনে পুলিশ কনভেনশন হলে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে রক্তের নিরাপদ সংরক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে। বিশেষ করে থ্যালাসেমিয়া, ডেঙ্গু, দুর্ঘটনা ও জরুরি অস্ত্রোপচারে রক্তের প্রয়োজন মেটাতে এই রেফ্রিজারেটর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি আরও বলেন, রক্ত একটি জীবনদায়ী উপাদান। এর সংরক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থা যত শক্তিশালী হবে, তত বেশি মানুষের জীবন বাঁচানো সম্ভব। বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। ‌‘এজন্য জুনের পর অ্যাডভোকেসি কার্যক্রম প্রথমে ঢাকাতে শুরু করতে চাই। এরপর সারাদেশে এই কার্যক্রম শুরু হবে।’

তিনি সরকারের পাশাপাশি প্রচার-প্রচারণায় জনগণকে সচেতন করতে সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, সরকার স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে বেসরকারি সংগঠন ও স্বেচ্ছাসেবীদের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করছে। রোটারি ক্লাব অব গুলশান অ্যাভিনিউয়ের এই মানবিক উদ্যোগকে আমি স্বাগত জানাই। এ ধরনের কর্মকাণ্ড দেশের সামাজিক দায়বদ্ধতাকে আরও এগিয়ে নেবে। আমরা কাজ করতে চাই, দেশ গড়তে চাই এবং পৃথিবীর মানচিত্রে আমাদের দেশকে সম্মানের সাথে তুলে ধরতে চাই।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, সমাজে যত অন্যায় আছে তা দূর করতে সর্বস্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত (ইনভলভ) করতে চাই। তিনি বলেন, সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সমাজ থেকে মাদকাসক্তি দূর করতে, জুয়াখেলা নিয়ন্ত্রণে, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে এবং রামিসার মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা যাতে আর না ঘটে—সেসব বিষয়ে জনগণকে সচেতন করে তুলতে হবে।

সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হুসাইন ফকির ও স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক নাজমুল হোসাইন। এছাড়া পিডিজি ড. ইশতিয়াক এ. জামান, রোটারি ক্লাব অব গুলশান অ্যাভিনিউয়ের প্রোগ্রাম চেয়ারম্যান ও ক্লাব ডিরেক্টর রোটারিয়ান মো. সালাহ উদ্দিন এবং রোটারি ক্লাব অব গুলশান অ্যাভিনিউয়ের সভাপতি রোটারিয়ান ডাক্তার লুবনা শারমিন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।

কালের আলো/এসআর/এএএন

৩০ বছর পর ধলা আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শনে সমাজকল্যাণমন্ত্রী, উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি

মোঃ শামসুল আলম খান, কালের আলো:
প্রকাশিত: শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ৯:৪২ অপরাহ্ণ
৩০ বছর পর ধলা আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শনে সমাজকল্যাণমন্ত্রী, উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার ধলায় অবস্থিত সরকারি ভবঘুরে ও পুনর্বাসন আশ্রয়কেন্দ্র দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত ও সেবামূলক সংকটসহ নানা অভিযোগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে আশ্রয়কেন্দ্রটি পরিদর্শন করেছেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডাঃ এজেডএম জাহিদ হোসেন। দীর্ঘ তিন দশক পর কোনো মন্ত্রী সরেজমিনে পরিদর্শন করায় প্রশংসায় ভাসছেন বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শুক্রবার (৫ জুন) সমাজকল্যাণমন্ত্রী আশ্রয়কেন্দ্রটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন এবং সেখানে অবস্থানরত শিশু-কিশোর ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। পরিদর্শনকালে তিনি কেন্দ্রের বিভিন্ন সমস্যা, সীমাবদ্ধতা ও জরুরি চাহিদা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ত্রিশালের ধলায় অবস্থিত এই সরকারি পুনর্বাসন কেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরে পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ অবকাঠামো নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা, পানির লাইন এবং বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবস্থার মতো মৌলিক সেবাগুলো অনেক ক্ষেত্রেই পুরোনো ও অকার্যকর হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি আবাসন ও প্রশাসনিক ভবনের অবস্থাও জরাজীর্ণ হওয়ায় দৈনন্দিন কার্যক্রমে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিচ্ছে।

আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা একাধিক নিবাসী জানান, দীর্ঘ সময় পর কোনো মন্ত্রীর আগমন করায় আমরা ব্যাপক খুশি। দীর্ঘদিন ধরে আমরা অনেক সমস্যার মধ্যে আছি।”

পরিদর্শন শেষে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডাঃ এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে আমরা আজকে এই অবহেলিত আশ্রয় কেন্দ্রটিতে পরিদর্শনে এসেছি। আশ্রয় কেন্দ্রটির বিদ্যমান সমস্যা দ্রুত সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক রাজু আহমেদ, ত্রিশাল উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক এনামুল হক ভূইয়া, আশ্রয়কেন্দ্রের কর্মকর্তাসহ প্রমুখ।

কালের আলো/এম/এএইচ

অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আরএমপি কমিশনারের মতবিনিময়

রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ৯:৩২ অপরাহ্ণ
অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আরএমপি কমিশনারের মতবিনিময়

রাজশাহী মহানগরীর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, মাদক ও ছিনতাই নিয়ন্ত্রণ এবং অপরাধ দমনে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে মতবিনিময় সভা করেছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি)।

শনিবার বেলা ১২টায় আরএমপি সদর দপ্তরের কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির।

সভায় মহানগরীর সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার, অপরাধ প্রতিরোধ এবং কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম আরও কার্যকর করার বিষয়ে আলোচনা হয়। এ সময় অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের দীর্ঘ কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা বর্তমান পুলিশিং কার্যক্রমে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তারা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, মাদক ও ছিনতাই নিয়ন্ত্রণ এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রমে তাদের সম্পৃক্ত করারও আহ্বান জানান।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন আরএমপি’র উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর), উপ-পুলিশ কমিশনার (ফোর্স), বিশেষ পুলিশ সুপার (সিটিএসবি), আরএমপি’র মুখপাত্র ও উপ-পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড সিটিটিসি), অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর) এবং রাজশাহীর অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তারা।

সভা শেষে ভবিষ্যতে সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন অংশগ্রহণকারীরা।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি