খুঁজুন
                               
, ,
           

নতুনবাজার থেকে রামপুরা সড়কে তীব্র যানজট

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ১০:৪৩ পূর্বাহ্ণ
নতুনবাজার থেকে রামপুরা সড়কে তীব্র যানজট

সকালের ব্যস্ত সময়ে নতুনবাজার-রামপুরা সড়কে যানবাহনের দীর্ঘ সারি।

রাজধানীর মেরাদিয়া এলাকায় দুটি ট্রাক বিকল হয়ে পড়ায় নতুনবাজার থেকে রামপুরা পর্যন্ত সড়কে ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসের সকালে এমন যানজটের কারণে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। এর সঙ্গে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি যুক্ত হওয়ায় দুর্ভোগ আরও চরম আকার ধারণ করেছে।

নতুনবাজার মোড়ও ছাড়িয়ে গেছে সকালের যানজট।

জানা গেছে, ভোরে মেরাদিয়া এলাকায় সড়কে দুটি ট্রাক বিকল হয়ে পড়ে। এতে মুহূর্তের মধ্যেই সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট। এর প্রভাব পড়ে নতুনবাজার, বাড্ডা হয়ে রামপুরা পর্যন্ত সড়কে। ওই পথে শত শত বাস, ব্যক্তিগত গাড়ি, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল আটকে আছে।

দীর্ঘ সময় একই জায়গায় আটকে থাকায় অনেক যাত্রী বাস থেকে নেমে হেঁটে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হন। কেউ অফিসে, কেউ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে, আবার কেউ জরুরি কাজে যেতে গিয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন। যানজটের কারণে নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন কিনা সেই অনিশ্চয়তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনেকেই।


বাড্ডা লিংক রোড দিয়ে চলাচল করা গাড়িগুলোকে নতুনবাজার থেকে গুলশান-২ সড়ক ব্যবহার করে চলতে দেখা গেছে।

এর মধ্যে সকাল থেকে থেমে থেমে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হওয়ায় দুর্ভোগ আরও বেড়ে গেছে। ছাতা ছাড়াই অনেককে বৃষ্টির মধ্যে হেঁটে যেতে দেখা যায়। বিশেষ করে নারী, শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং অসুস্থ যাত্রীদের ভোগান্তি ছিল সবচেয়ে বেশি। দীর্ঘ সময় বাসের ভেতরে আটকে থেকে অনেকেই অতিষ্ঠ হয়ে পড়েন।

তবে রামপুরা থেকে কুড়িল বিশ্বরোড পর্যন্ত সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

যানজটে নতুনবাজার-রামপুরা রোড স্থবির হলেও সড়কের অন্য অংশে যান চলাচল স্বাভাবিক আছে।

নতুনবাজার থেকে রামপুরা পর্যন্ত অংশে গাড়ি না চলায় বাড্ডা লিংক রোড ব্যবহারকারী আলিফ, বৈশাখীসহ বেশ কয়েকটি গণপরিবহন নতুনবাজার হয়ে গুলশান-২ নম্বর সড়ক ব্যবহার করছে। এতে বিকল্প সড়কেও যানবাহনের চাপ বেড়েছে।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বিকল দুটি ট্রাকের মধ্যে একটি ট্রাক সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। কিছু সময়ের মধ্যে যান চলাচল স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সকাল সাড়ে নয়টায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নতুনবাজার থেকে রামপুরা পর্যন্ত সড়কে এখনো তীব্র যানজট রয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশ ট্রাফিকের রামপুরা জোনের এসি আসাদুজ্জামান  বলেন, ‘ভোর চারটার দিকে বৃষ্টি হওয়ায় সড়কে হাঁটু পানি জমে ছিল। তখন দুটি ট্রাক রাস্তায় বিকল হয়ে যায়। সেই দুটির একটি সরানো হয়েছে। আরেকটি সরানোর কাজ চলছে। ট্রাক দুটি নষ্ট হওয়ার কারণে রাস্তা বন্ধ আছে। ফলে এই যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।’

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

৬৯তম গ্র্যামিতে গান না পাঠানোর ঘোষণা বিটিএসের

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ১১:০৯ পূর্বাহ্ণ
৬৯তম গ্র্যামিতে গান না পাঠানোর ঘোষণা বিটিএসের

বিশ্বখ্যাত কে-পপ ব্যান্ড বিটিএস (BTS) আসন্ন ৬৯তম গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসে বিবেচনার জন্য নিজেদের কোনো গান জমা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইনস্টাগ্রামে এক যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে ব্যান্ডের সাত সদস্য—আর এম, জিন, সুগা, জে-হোপ, জিমিন, ভি ও জাংকুক আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য প্রকাশ করেন।

বিবৃতিতে বিটিএস জানিয়েছে, “এ বছর গ্র্যামির জন্য গান জমা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা আশা করি, অঞ্চল বা ভাষার সীমার বাইরে গিয়ে সংগীতকে তার নিজস্ব শৈল্পিক মূল্যে শোনা ও গ্রহণ করা হবে।”

দীর্ঘদিন ধরে গ্র্যামি জয়ের জন্য প্রচেষ্টা চালানো এই জনপ্রিয় ব্যান্ডের এমন আকস্মিক সিদ্ধান্তে বিশ্বজুড়ে তাদের ভক্তরা বিস্ময় ও হতাশা প্রকাশ করেছেন।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি রেকর্ডিং একাডেমি ২০২৭ সালের গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডস থেকে ‘বেস্ট এশিয়ান পপ মিউজিক পারফরম্যান্স’ নামে একটি নতুন বিভাগ চালুর ঘোষণা দেয়। নতুন এই ক্যাটাগরিতে কে-পপ, জে-পপ, সি-পপসহ এশীয় পপসংগীতের শৈল্পিক উৎকর্ষকে স্বীকৃতি দেওয়া হবে, যেখানে মনোনয়নের শর্ত হিসেবে গানে অন্তত একটি এশীয় ভাষার অর্থবহ ব্যবহার থাকতে হবে।

রেকর্ডিং একাডেমির এই সিদ্ধান্ত নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার সংগীতাঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। একাংশের মতে এটি এশীয় পপসংগীতের বৈশ্বিক প্রভাবের বড় স্বীকৃতি। তবে অনেকেই মনে করছেন, মূলধারার ক্যাটাগরি থেকে এশীয় শিল্পীদের আলাদা রাখতেই এমন পৃথক বিভাগ গঠন করা হয়েছে।

এর আগেও একাধিকবার গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসে মনোনয়ন পেলেও শেষ পর্যন্ত পুরস্কৃত হওয়া হয়নি বিটিএসের। সামরিক প্রশিক্ষণ শেষে গত মার্চে মুক্তি পাওয়া তাদের ‘আরিরাং’ অ্যালবামটি বিশ্বজুড়ে দারুণ সাড়া ফেলেছিল। ফলে ভক্তরা আশা করেছিলেন এবার হয়তো ব্যান্ডটি কাঙ্ক্ষিত গ্র্যামি ট্রফি নিজেদের করে নিতে পারবে। তবে বিটিএসের এই সিদ্ধান্ত সে আশায় সাময়িক ছেদ টানল।

কালের আলো/এসএ 

হাত নেই, মুখ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী থেকে নিয়োগপত্র নিলেন আয়শা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ১১:০৯ পূর্বাহ্ণ
হাত নেই, মুখ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী থেকে নিয়োগপত্র নিলেন আয়শা

প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে মুখ দিয়ে নিয়োগপত্র নিচ্ছেন আয়শা

আয়শা আক্তার নামে একজন নারী নতুন চাকরি পেয়েছেন। কিন্তু এই নারী অন্য দশজন মানুষের মতো নয়। কারণ তার হাত নেই। এ নারীকে তাই নিয়োগপত্র দেওয়া হলো ভিন্ন আয়োজনে। খোদ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে নিয়োগপত্র দিয়েছেন।

কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস হাত না থাকায় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে দেওয়া নিয়োগপত্র আয়শা আক্তারকে নিতে হয়েছে মুখ দিয়ে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকালে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়শা আক্তারসহ দুজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে চাকরির নিয়োগপত্র দেওয়া হয়। সচিবালয়ের মন্ত্রীপরিষদ বিভাগে দুজনকেই নিয়োগপত্র দেন প্রধানমন্ত্রী।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

গ্যাস সংকটে উৎপাদন সক্ষমতা কমেছে পোশাক কারখানায়

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ১১:০৭ পূর্বাহ্ণ
গ্যাস সংকটে উৎপাদন সক্ষমতা কমেছে পোশাক কারখানায়

কক্সবাজারের মহেশখালীতে ভাসমান দুই এলএনজি টার্মিনালের একটিতে অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে কারখানাগুলোতে গ্যাসের সরবরাহ ৪০ শতাংশের নিচে নামার কথা বলছেন কারখানার উদ্যোক্তারা। এতে উৎপাদন সক্ষমতাও ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশে নেমে যাওয়ার কথা বলছেন তারা। বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেন, অর্থনীতির ‘লাইফলাইন’ কারখানায় এখন সংকট দেখা দিয়েছে। এই খাতকে আগে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

তার কথায়, ‘গ্যাসনির্ভর কোনো দেশেই এরকম বিপর্যয় হয় না। থাইল্যান্ড, ইংল্যান্ড, ভিয়েতনামসহ আর কোনো দেশেতো গ্যাস সরবরাহে সমস্যা হয় না। আমরাওতো টাকা দিয়ে গ্যাস কিনি, আমাদের গ্যাস পেতে এত সমস্যা কেন হবে। আমাদের একেক সময়ে একেকটি হচ্ছে। কিন্তু সবশেষে আমরা ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। এখন তো কারখানাকে সচল রেখে অন্যান্য খাতে বিদ্যুৎ দেওয়া উচিত ছিল।’

গ্যাস সংকটে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের (বেপজা) অধীনে অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে খুব একটা সমস্যা না হলেও ইপিজেডের বাইরে থাকা কারখানাগুলো বেশি সমস্যায় পড়ার কথা বলছেন ডেনিম এক্সপার্ট লিমিটেডের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল। চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় কর্ণফুলী ইপিজেড এলাকায় কারখানা থাকায় আগের মতই গ্যাস সরবরাহ থাকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘ইপিজেডের বাইরে থাকা কারখানা বিশেষ করে গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে যাদের কারখানা আছে, তারাই সমস্যায় পড়ছে সবচেয়ে বেশি।’

এভিটেক্স অ্যাপারেলসের গাজীপুরের ভবানীপুর কারখানায় গ্যাসের সরবরাহ কমে ৪০ শতাংশের নিচে নামার তথ্য দিয়েছেন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার উল আলম চৌধুরী পারভেজ। তিনি বলেন, ‘গ্যাস সংকট তো আগে থেকেই ছিল। চাহিদার মত তো পাওয়া যায়নি। এখন তা আরো বেড়েছে। উৎপাদন সক্ষমতা ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশে নেমেছে। তাই কারখানায় ওভারটাইম করাতে হচ্ছে প্রতিদিনই, এভাবে তো খরচ বাড়ছে।’

বিটিএমএ রাসেলের দাবি, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বস্ত্র খাত। নারায়ণগঞ্জের কারখানাগুলোর কোনো কোনোটি চাহিদার বিপরীতে ৩৫ শতাংশ গ্যাস পাচ্ছে পাইপলাইনে। কয়েকটির সক্ষমতা ৪০ শতাংশে নেমেছে। আমরাতো পোশাক কারখানায় সরবরাহ দেই। তাদের চাহিদা মেটানো যাচ্ছে না। ওভারটাইম বিল দিতে হচ্ছে কর্মীদের। যে কাজ ৮ ঘণ্টায় হত, এখন তা ১২ থেকে ১৬ ঘণ্টা লাগছে করতে।’

তৈরি পোশাক খাত বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের মেরুদণ্ড। এর আগে বছরজুড়ে গ্যাসসহ নানা সংকটের মধ্যে গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে খাতটি ১ দশমিক ৬৪ শতাংশ ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি দেখেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম মাসেই নতুন করে গ্যাস সংকট দেখা দেওয়ায় সক্ষমতা অনুযায়ী উৎপাদন চালিয়ে যাওয়া নিয়ে শঙ্কার কথা বলছেন কারখানা মালিকরা। বিদ্যুতের পর সবচেয়ে বেশি গ্যাস ব্যবহার হয় শিল্পকারখানায়।

বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশনের (পেট্রোবাংলা) তথ্য অনুযায়ী, দৈনিক গ্যাস চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট। গত কয়েক বছর থেকে দিনে সরবরাহ করা হচ্ছে গড়ে ২৭০ কোটি ঘনফুট। অগ্নিদুর্ঘটনায় এলএনজির একটি টার্মিনাল বন্ধ হওয়ায় গ্যাস সরবরাহ কমে ২১৫ কোটি ঘনফুটের নিচে নেমে এসেছে।

কালের আলো/এম/এএইচ