খুঁজুন
                               
, ,
           

বাবরের একার লড়াইও বাঁচাতে পারল না পাকিস্তানকে

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ১২:০৮ অপরাহ্ণ
বাবরের একার লড়াইও বাঁচাতে পারল না পাকিস্তানকে

ত্রিনিদাদের ব্রায়ান লারা ক্রিকেট একাডেমি স্টেডিয়ামে রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের প্রত্যাশা থাকলেও চতুর্থ দিনের শেষ সেশনে ব্যাটিং ধস নামিয়ে বড় হতাশার জন্ম দিয়েছে পাকিস্তান। ২১১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র ১২০ রানে অলআউট হয়ে ৯০ রানের ব্যবধানে হেরেছে সফরকারীরা। এই জয়ে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

চতুর্থ দিনের উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য কিছুটা কঠিন হয়ে উঠলেও ২১১ রানের লক্ষ্য মোটেও অসম্ভব ছিল না। তবে ক্যারিবিয়ান পেসারদের দারুণ নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে শুরু থেকেই দিশেহারা হয়ে পড়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ। মাত্র ৭১ রানেই ৯ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে কার্যত ছিটকে যায় তারা।

শেষ উইকেটে বাবর আজম ও মোহাম্মদ আব্বাস ৪৯ রানের লড়াকু জুটি গড়ে পাকিস্তানকে কোনোভাবে তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছে দেন। কিন্তু ততক্ষণে পরাজয় নিশ্চিত হয়ে গেছে। ৪০.২ ওভারে মাত্র ১২০ রানে গুটিয়ে যায় পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংস।

পুরো ইনিংসে পাকিস্তানের হয়ে একমাত্র প্রতিরোধ গড়েন সাবেক অধিনায়ক বাবর আজম। তিন নম্বরে নেমে ধৈর্য ও দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে অপরাজিত ৫৮ রান করেন তিনি। তবে অন্য প্রান্ত থেকে কোনো সমর্থন পাননি।

দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৩ রান আসে ১১ নম্বরে ব্যাট করতে নামা পেসার মোহাম্মদ আব্বাসের ব্যাট থেকে। উইকেটরক্ষক মোহাম্মদ রিজওয়ান করেন মাত্র ১১ রান। প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করা অধিনায়ক শান মাসুদ ভাঙা আঙুল নিয়েই ব্যাট করতে নামলেও করতে পারেন মাত্র ৩ রান।

পাকিস্তানের ব্যাটিং ধসের নায়ক জেডন সিলস। দুর্দান্ত লাইন-লেংথে বোলিং করে মাত্র ২০ রানে ৫ উইকেট তুলে নেন তিনি। জাস্টিন গ্রিভস নেন ২ উইকেট, অভিজ্ঞ কেমার রোচও শিকার করেন ২টি উইকেট।

আগের দিন পাকিস্তানের প্রথম ইনিংসে টানা পাঁচ ওভার মেডেন দিয়ে প্রতিটি ওভারেই উইকেট নিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন গ্রিভস। চতুর্থ দিনও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে নিজের প্রথম দুই ওভারেই দুটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন।

এই ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো টেস্ট ইতিহাসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সব ২০টি উইকেটই নিয়েছেন তাদের পেসাররা।

দিনের শুরুতে অষ্টম উইকেটে ৩৩ রানের জুটি নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কেমার রোচ ও শামার জোসেফ আরও কিছু মূল্যবান রান যোগ করে দলকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যান।

উইকেটরক্ষক মোহাম্মদ রিজওয়ান একটি সহজ ক্যাচ ফেললেও ৩৮ রান করা শামার জোসেফকে শেষ পর্যন্ত ফিরিয়ে দেন পাকিস্তানের বোলাররা। শেষ দুটি উইকেটে আরও ২৭ রান যোগ করে ১৮১ রানে অলআউট হয় স্বাগতিকরা।

পাকিস্তানের হয়ে দুর্দান্ত বোলিং করেন মোহাম্মদ আব্বাস। তিনি মাত্র ২২ রানে ৫ উইকেট শিকার করেন। এছাড়া মির হামজা আলী ২টি এবং শাহজাদ নেন ২টি উইকেট।

বিশেষ একটি রেকর্ডও গড়েছে পাকিস্তানের পেস আক্রমণ। ১৯৯৫ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হারারে টেস্টের পর এই প্রথম কোনো টেস্টে প্রতিপক্ষের সব ২০টি উইকেটই নেন পাকিস্তানের পেসাররা। তবে বোলারদের সেই সাফল্যকে কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন ব্যাটাররা।

এই পরাজয়ের ফলে টানা চতুর্থ টেস্টে হারল পাকিস্তান। সর্বশেষ ১৭টি টেস্টের মধ্যে তারা হেরেছে ১৩টিতে। বিদেশের মাটিতে এটি তাদের টানা অষ্টম টেস্ট হার, যা পাকিস্তানের টেস্ট ইতিহাসে নতুন নেতিবাচক রেকর্ড।

ঘরের বাইরে পাকিস্তান সর্বশেষ টেস্ট জিতেছিল ২০২৩ সালের জুলাইয়ে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। এরপর থেকে বিদেশের মাটিতে জয় অধরাই রয়ে গেছে তাদের।

দুই ম্যাচের সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট আগামী রোববার পোর্ট অব স্পেনে অনুষ্ঠিত হবে। সিরিজে সমতা ফেরাতে হলে সেই ম্যাচে জয়ের বিকল্প থাকবে না বাবর আজমদের সামনে।

এই ম্যাচে আরেকটি বিরল রেকর্ডও গড়া হয়েছে। টেস্ট ইতিহাসে মাত্র পঞ্চমবারের মতো এক ম্যাচে দুই দলের পেসাররা মিলেই নিয়েছেন ৪০টি উইকেট। ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে এমন ঘটনা এই প্রথম।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য জয়টি আরও বিশেষ। সর্বশেষ ১১ টেস্টে এটি তাদের মাত্র দ্বিতীয় জয়। তাছাড়া কিংবদন্তি স্যার গারফিল্ড সোবার্সের জন্মদিনে পাওয়া এই জয় তাঁকে উৎসর্গ করেছেন অধিনায়ক রোস্টন চেজ।

ম্যাচ শেষে চেজ বলেন, “এই টেস্ট জিততে পেরে আমরা খুবই আনন্দিত। কয়েক দিন আগে প্রয়াত কিংবদন্তি স্যার গারফিল্ড সোবার্সের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আমরা এই জয় তাঁকে উৎসর্গ করছি। ম্যাচের আগেই আমরা এ বিষয়ে কথা বলেছিলাম। আশা করি, ওপর থেকে তিনি আমাদের এই জয় দেখে হাসছেন। পাশাপাশি ত্রিনিদাদের দর্শকদেরও ধন্যবাদ জানাই, যারা মাঠে এসে আমাদের দারুণ সমর্থন দিয়েছেন।”

সংক্ষিপ্ত স্কোর

ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ৩১১ ও ১৮১
পাকিস্তান: ২৮২ ও ১২০

ফল: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৯০ রানে জয়ী।

ম্যাচসেরা: জাস্টিন গ্রিভস (ওয়েস্ট ইন্ডিজ)

সিরিজ: দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

কালের আলো/এসএ

সিআইডির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিলেন মোশাররফ হোছাইন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ১২:৫৯ অপরাহ্ণ
সিআইডির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিলেন মোশাররফ হোছাইন

বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রধান হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (অ্যাডিশনাল আইজিপি) ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোছাইন।

বুধবার(জুলাই) ঢাকার সিআইডি সদর দপ্তরে তিনি দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিআইডি মুখপাত্র অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার আবু তালেব।

এ সময় সিআইডির ডিআইজি, অতিরিক্ত ডিআইজি, পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে নবনিযুক্ত সিআইডির প্রধানকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

এর আগে, গত ২৮ জুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে সিআইডির প্রধান হিসেবে পদায়ন করা হয়। দায়িত্ব গ্রহণের আগে তিনি প্রেষণে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এনএসআইয়ে কর্মরত অবস্থায় তিনি অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতি লাভ করেন।

ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোছাইন ১৯৯৫ সালে ১৫তম বিসিএসের মাধ্যমে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেন। প্রায় তিন দশকের কর্মজীবনে তিনি পুলিশ একাডেমি, সিআইডি, ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি), চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি), র‍্যাব, পুলিশ সদর দপ্তর এবং বিভিন্ন রেঞ্জ ও জেলা পুলিশে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।

তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি এবং যুক্তরাজ্যের সিটি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে বার অ্যাট ল সম্পন্ন করেছেন। এ ছাড়া মালয়েশিয়া, পাকিস্তান ও তুরস্কে ফরেনসিক, তদন্ত এবং আধুনিক পুলিশিং-সংক্রান্ত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ ও সম্মেলনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে পেশাগত দক্ষতা অর্জন করেছেন।

কালের আলো/এসএকে

প্রতিশ্রুতি রেখেছেন কুকুরেয়া, বাহুতে স্পেন কোচ দে লা ফুয়েন্তের ট্যাটু

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ১২:৫৮ অপরাহ্ণ
প্রতিশ্রুতি রেখেছেন কুকুরেয়া, বাহুতে স্পেন কোচ দে লা ফুয়েন্তের ট্যাটু

বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দে এখনো ভাসছে স্পেন। দীর্ঘ ১৬ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে জাতীয় দলের জার্সিতে দ্বিতীয় বিশ্বকাপ তারকা যোগ করেছে লা রোজারা। ঐতিহাসিক এই সাফল্য উদযাপনে খেলোয়াড়দের আনন্দ-উচ্ছ্বাস যেমন অব্যাহত রয়েছে, তেমনি শুরু হয়েছে বিশ্বকাপের আগে দেওয়া ব্যক্তিগত প্রতিশ্রুতি পূরণের পালাও।

স্পেনের ডিফেন্ডার মার্ক কুকুরেয়া সেই প্রতিশ্রুতি রাখার ক্ষেত্রে সবার আগে এগিয়ে এলেন। বিশ্বকাপ শুরুর আগে তিনি বলেছিলেন, স্পেন শিরোপা জিততে পারলে নিজের শরীরে জাতীয় দলের প্রধান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের ট্যাটু করাবেন। বিশ্বকাপ জয়ের পর সেই কথাই বাস্তবে রূপ দিয়েছেন এই কাতালান ফুটবলার।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের নতুন ট্যাটুর ছবি প্রকাশ করেন কুকুরেয়া। ছবিতে দেখা যায়, তাঁর বাহুতে বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে দাঁড়িয়ে থাকা স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের প্রতিকৃতি আঁকা হয়েছে।

ছবির ক্যাপশনে কুকুরেয়া লিখেছেন, “প্রতিশ্রুতি রেখেছি।”

বিশ্বকাপ জয়ের স্মৃতিকে আজীবন ধরে রাখতেই এই ট্যাটু করিয়েছেন তিনি। আগেই জানিয়েছিলেন, ট্যাটুটি আকারে খুব বড় হবে না, তবে এমনভাবে করা হবে যাতে সহজেই সবার নজরে আসে। জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বকাপ জয়ের স্মারক হিসেবে এটি তাঁর জীবনের অন্যতম মূল্যবান স্মৃতি হয়ে থাকবে।

কুকুরেয়ার এই বিশেষ ট্যাটুটি করেছেন বিশ্বখ্যাত ট্যাটু শিল্পী গাঙ্গা। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ট্যাটু শিল্পের অন্যতম পরিচিত নাম তিনি।

গাঙ্গার গ্রাহকের তালিকায় রয়েছেন বাস্কেটবল কিংবদন্তি লেব্রন জেমস, টেনিস তারকা কার্লোস আলকারাজ, মডেল জর্জিনা রদ্রিগেজসহ বিশ্বের অনেক খ্যাতিমান ক্রীড়াবিদ ও তারকা। ফলে কুকুরেয়ার ট্যাটুটিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ট্যাটুর ছবি প্রকাশের পর কুকুরেয়াকে অভিনন্দন জানিয়েছেন তাঁর সতীর্থরাও।

স্পেনের মিডফিল্ডার মিকেল মেরিনো মন্তব্য করেন, “ঐতিহাসিক।”

অন্যদিকে টেনিস তারকা কার্লোস আলকারাজ লিখেছেন, “দারুণ!”

ভক্তরাও কুকুরেয়ার প্রতিশ্রুতি রক্ষার প্রশংসা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা মন্তব্য করছেন।

বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে শিরোপা জয়ের পর সংবাদ সম্মেলনে কুকুরেয়ার ট্যাটুর প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তেকে।

হাস্যরসের সুরে তিনি বলেছিলেন, প্রথমে তাঁর মনে হয়েছিল কুকুরেয়ারা হয়তো একটু বেশিই আবেগপ্রবণ হয়ে এমন প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে তিনি জানতেন, তাঁর খেলোয়াড়রা কথা দিলে তা রাখবেন।

দে লা ফুয়েন্তে বলেন,

“ওরা ভুল করেছে। তবে ওরা খুবই দায়িত্বশীল মানুষ, তাই কথা রাখবেই। আমি ওদের জিজ্ঞেসও করেছিলাম, ‘তোমরা ভুল করছ না তো?’ ওরা করেছে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত এটা উপভোগই করবে।”

কোচের সেই বিশ্বাসই সত্যি প্রমাণ করলেন কুকুরেয়া।

বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর বর্তমানে পরিবারের সঙ্গে ছুটি কাটাচ্ছেন কুকুরেয়া। বিশ্রাম শেষে তিনি যোগ দেবেন রিয়াল মাদ্রিদে, যেখানে নতুন মৌসুমে শুরু হবে তাঁর নতুন অধ্যায়।

প্রাক্-মৌসুম অনুশীলনে শিগগিরই দলের সঙ্গে যোগ দিয়ে নতুন কোচ জোসে মরিনিওর অধীনে প্রস্তুতি শুরু করবেন তিনি।

বিশ্বকাপের আগেই ক্লাব ফুটবলেও দারুণ সময় কাটিয়েছেন কুকুরেয়া। সাবেক চেলসি ডিফেন্ডার হিসেবে প্রিমিয়ার লিগে নিজের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দিয়ে নজর কাড়েন তিনি। রক্ষণে যেমন ছিলেন নির্ভরতার প্রতীক, তেমনি বাঁ প্রান্ত দিয়ে আক্রমণেও রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান। পুরো মৌসুমে তাঁর তৈরি করা সুযোগ থেকে সতীর্থরা করেছেন পাঁচটি গোল।

তবে সবকিছুকে ছাপিয়ে গেছে বিশ্বকাপে তাঁর অসাধারণ পারফরম্যান্স। পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে রক্ষণে দৃঢ়তা, আক্রমণে গতি এবং দলের প্রতি নিবেদন তাঁকে স্পেনের শিরোপা জয়ের অন্যতম নায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

বিশ্বকাপের সেই দুর্দান্ত পারফরম্যান্সই শেষ পর্যন্ত তাঁর ক্যারিয়ারে বড় পরিবর্তন এনে দেয়। নতুন মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে মাঠে নামতে যাচ্ছেন কুকুরেয়া। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে এখন তাঁর সামনে অপেক্ষা করছে নতুন এক চ্যালেঞ্জ, আর সেই যাত্রার স্মারক হয়ে আজীবন তাঁর সঙ্গে থাকবে কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের ট্যাটুটি।

কালের আলো/এসএ

‘তেলেগু ইন্ডাস্ট্রি এক পরিবারের মতো, বলিউডে অনিরাপত্তা বেশি’—রাকুল প্রীত সিং

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ১২:৫০ অপরাহ্ণ
‘তেলেগু ইন্ডাস্ট্রি এক পরিবারের মতো, বলিউডে অনিরাপত্তা বেশি’—রাকুল প্রীত সিং

বলিউড অভিনেত্রী রাকুল প্রীত সিং আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। পরিচালক নীতেশ তিওয়ারির বহুল প্রতীক্ষিত চলচ্চিত্র ‘রামায়ণ’-এ গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্রে অভিনয়ের ঘোষণা আসার পর থেকেই তাঁকে ঘিরে দর্শকদের আগ্রহ বেড়েছে। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে ছবিটি নিয়ে নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করার পাশাপাশি তেলেগু ও হিন্দি চলচ্চিত্রশিল্পের কাজের পরিবেশ নিয়ে খোলামেলা মন্তব্য করেছেন এই অভিনেত্রী।

রাকুলের মতে, তেলেগু চলচ্চিত্রশিল্পে শিল্পীদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, আন্তরিকতা এবং ঐক্যের যে সংস্কৃতি রয়েছে, তা বলিউডে তুলনামূলকভাবে অনেক কম দেখা যায়। তাঁর ভাষায়, প্রতিযোগিতা দুই ইন্ডাস্ট্রিতেই আছে, তবে তেলেগু চলচ্চিত্রশিল্পে সেই প্রতিযোগিতা কখনোই সহকর্মীদের প্রতি সমর্থন বা সৌহার্দ্যকে বাধাগ্রস্ত করে না।

নিজের ক্যারিয়ারের শুরুর অভিজ্ঞতা তুলে ধরে রাকুল বলেন, তাঁর অভিনয়ের আসল প্রশিক্ষণ হয়েছে তেলেগু চলচ্চিত্রশিল্পে। সেখানে কাজ করতে গিয়ে তিনি এমন একটি পরিবেশ দেখেছেন, যেখানে সবাই একে অপরের সাফল্যকে উদযাপন করেন।

তিনি বলেন, “আমার কাজের প্রশিক্ষণ তেলেগু চলচ্চিত্রশিল্পে হয়েছে। সেই ইন্ডাস্ট্রি খুবই ঐক্যবদ্ধ। সেখানে প্রতিযোগিতা অবশ্যই আছে, কিন্তু মানুষ একে অপরের ছবিকেও সমর্থন করে। আমরা একে অপরের ছবির স্ক্রিনিং ও প্রিমিয়ারে যেতাম, সিনেমা নিয়ে আলোচনা করতাম এবং সাফল্যের অনুষ্ঠানেও অংশ নিতাম। সেখানে কে যাচ্ছে, তাই আমাকেও যেতে হবে—এমন মানসিকতা ছিল না। বরং সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে একে অপরকে সাহায্য করতে প্রস্তুত থাকত।”

অভিনেত্রীর মতে, এই পারস্পরিক সহযোগিতার সংস্কৃতিই তেলেগু চলচ্চিত্রশিল্পকে আরও শক্তিশালী করেছে।

তবে মুম্বাইয়ে এসে তিনি ভিন্ন এক বাস্তবতার মুখোমুখি হন। রাকুলের দাবি, বলিউডে অনেকের মধ্যেই এক ধরনের অনিরাপত্তাবোধ কাজ করে, যার কারণে অন্যের সাফল্যকে প্রকাশ্যে সমর্থন করার প্রবণতা তুলনামূলকভাবে কম।

তিনি বলেন, “মুম্বাইয়ে এসে আমার মনে হয়েছিল সবাই এত প্রতিযোগিতাপূর্ণ কেন? আমার মনে হয়, বলিউডেও যদি আমরা তেলেগু চলচ্চিত্রশিল্পের মতো মানসিকতা গড়ে তুলতে পারি, তাহলে পুরো ইন্ডাস্ট্রি আরও শক্তিশালী হবে। কিন্তু অনিরাপত্তাবোধ মানুষকে সেটা করতে দেয় না। এটি এমন একটি বিষয়, যার ওপর প্রত্যেকেরই কাজ করা উচিত।”

রাকুলের এই মন্তব্য ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন, আবার কেউ কেউ বলছেন, প্রতিটি ইন্ডাস্ট্রির কাজের ধরন ও সংস্কৃতি ভিন্ন হওয়াই স্বাভাবিক।

সম্প্রতি দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ‘রামায়ণ’-এর ট্রেলার উন্মোচন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাকুল প্রীত সিং। অনুষ্ঠানের কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করে তিনি লেখেন,

“এমন একটি প্রকল্পের অংশ হতে পারা সত্যিই গর্বের। এটি জীবনের চেয়েও বড়, সিনেমার চেয়েও বড়। এটি আমাদের ইতিহাস, আমাদের ঐতিহ্য, আমাদের ‘রামায়ণ’। আমরা বিশ্বের সামনে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করছি। এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। দর্শকেরা কবে আমাদের সঙ্গে এই জগতে প্রবেশ করবেন, সেই অপেক্ষায় আছি।”

রাকুল এই ছবিতে রাবণের বোন শূর্পণখা চরিত্রে অভিনয় করছেন। পৌরাণিক কাহিনির অন্যতম জটিল ও শক্তিশালী এই চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পেয়ে তিনি বিশেষভাবে উচ্ছ্বসিত।

নীতেশ তিওয়ারি পরিচালিত ‘রামায়ণ’ ভারতীয় সিনেমার অন্যতম বড় বাজেটের প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ছবিটি দুই পর্বে মুক্তি পাবে।

প্রথম পর্ব মুক্তির পরিকল্পনা রয়েছে ২০২৬ সালের দীপাবলিতে, আর দ্বিতীয় পর্ব আসবে ২০২৭ সালের দীপাবলিতে।

সবশেষে রাকুলকে দেখা গেছে ‘পতি পত্নী অউর ও ২’ ছবিতে। মুদাসসর আজিজ পরিচালিত এই কমেডি চলচ্চিত্রে তাঁর সহশিল্পী ছিলেন আয়ুষ্মান খুরানা, ওয়ামিকা গাব্বি এবং সারা আলী খান।

তবে এখন তাঁর পুরো মনোযোগ ‘রামায়ণ’ ঘিরেই। বিশাল বাজেট, তারকাবহুল অভিনয়শিল্পী এবং মহাকাব্যিক উপস্থাপনার কারণে ছবিটি ইতোমধ্যেই ভারতীয় সিনেমার সবচেয়ে প্রতীক্ষিত প্রকল্পগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে। আর সেই ছবির অংশ হতে পেরে নিজেকে গর্বিত বলেই জানিয়েছেন রাকুল প্রীত সিং।

কালের আলো/এসএ