খুঁজুন
                               
, ,
           

বাবরের একার লড়াইও বাঁচাতে পারল না পাকিস্তানকে

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ১২:০৮ অপরাহ্ণ
বাবরের একার লড়াইও বাঁচাতে পারল না পাকিস্তানকে

ত্রিনিদাদের ব্রায়ান লারা ক্রিকেট একাডেমি স্টেডিয়ামে রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের প্রত্যাশা থাকলেও চতুর্থ দিনের শেষ সেশনে ব্যাটিং ধস নামিয়ে বড় হতাশার জন্ম দিয়েছে পাকিস্তান। ২১১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র ১২০ রানে অলআউট হয়ে ৯০ রানের ব্যবধানে হেরেছে সফরকারীরা। এই জয়ে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

চতুর্থ দিনের উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য কিছুটা কঠিন হয়ে উঠলেও ২১১ রানের লক্ষ্য মোটেও অসম্ভব ছিল না। তবে ক্যারিবিয়ান পেসারদের দারুণ নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে শুরু থেকেই দিশেহারা হয়ে পড়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ। মাত্র ৭১ রানেই ৯ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে কার্যত ছিটকে যায় তারা।

শেষ উইকেটে বাবর আজম ও মোহাম্মদ আব্বাস ৪৯ রানের লড়াকু জুটি গড়ে পাকিস্তানকে কোনোভাবে তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছে দেন। কিন্তু ততক্ষণে পরাজয় নিশ্চিত হয়ে গেছে। ৪০.২ ওভারে মাত্র ১২০ রানে গুটিয়ে যায় পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংস।

পুরো ইনিংসে পাকিস্তানের হয়ে একমাত্র প্রতিরোধ গড়েন সাবেক অধিনায়ক বাবর আজম। তিন নম্বরে নেমে ধৈর্য ও দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে অপরাজিত ৫৮ রান করেন তিনি। তবে অন্য প্রান্ত থেকে কোনো সমর্থন পাননি।

দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৩ রান আসে ১১ নম্বরে ব্যাট করতে নামা পেসার মোহাম্মদ আব্বাসের ব্যাট থেকে। উইকেটরক্ষক মোহাম্মদ রিজওয়ান করেন মাত্র ১১ রান। প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করা অধিনায়ক শান মাসুদ ভাঙা আঙুল নিয়েই ব্যাট করতে নামলেও করতে পারেন মাত্র ৩ রান।

পাকিস্তানের ব্যাটিং ধসের নায়ক জেডন সিলস। দুর্দান্ত লাইন-লেংথে বোলিং করে মাত্র ২০ রানে ৫ উইকেট তুলে নেন তিনি। জাস্টিন গ্রিভস নেন ২ উইকেট, অভিজ্ঞ কেমার রোচও শিকার করেন ২টি উইকেট।

আগের দিন পাকিস্তানের প্রথম ইনিংসে টানা পাঁচ ওভার মেডেন দিয়ে প্রতিটি ওভারেই উইকেট নিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন গ্রিভস। চতুর্থ দিনও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে নিজের প্রথম দুই ওভারেই দুটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন।

এই ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো টেস্ট ইতিহাসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সব ২০টি উইকেটই নিয়েছেন তাদের পেসাররা।

দিনের শুরুতে অষ্টম উইকেটে ৩৩ রানের জুটি নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কেমার রোচ ও শামার জোসেফ আরও কিছু মূল্যবান রান যোগ করে দলকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যান।

উইকেটরক্ষক মোহাম্মদ রিজওয়ান একটি সহজ ক্যাচ ফেললেও ৩৮ রান করা শামার জোসেফকে শেষ পর্যন্ত ফিরিয়ে দেন পাকিস্তানের বোলাররা। শেষ দুটি উইকেটে আরও ২৭ রান যোগ করে ১৮১ রানে অলআউট হয় স্বাগতিকরা।

পাকিস্তানের হয়ে দুর্দান্ত বোলিং করেন মোহাম্মদ আব্বাস। তিনি মাত্র ২২ রানে ৫ উইকেট শিকার করেন। এছাড়া মির হামজা আলী ২টি এবং শাহজাদ নেন ২টি উইকেট।

বিশেষ একটি রেকর্ডও গড়েছে পাকিস্তানের পেস আক্রমণ। ১৯৯৫ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হারারে টেস্টের পর এই প্রথম কোনো টেস্টে প্রতিপক্ষের সব ২০টি উইকেটই নেন পাকিস্তানের পেসাররা। তবে বোলারদের সেই সাফল্যকে কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন ব্যাটাররা।

এই পরাজয়ের ফলে টানা চতুর্থ টেস্টে হারল পাকিস্তান। সর্বশেষ ১৭টি টেস্টের মধ্যে তারা হেরেছে ১৩টিতে। বিদেশের মাটিতে এটি তাদের টানা অষ্টম টেস্ট হার, যা পাকিস্তানের টেস্ট ইতিহাসে নতুন নেতিবাচক রেকর্ড।

ঘরের বাইরে পাকিস্তান সর্বশেষ টেস্ট জিতেছিল ২০২৩ সালের জুলাইয়ে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। এরপর থেকে বিদেশের মাটিতে জয় অধরাই রয়ে গেছে তাদের।

দুই ম্যাচের সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট আগামী রোববার পোর্ট অব স্পেনে অনুষ্ঠিত হবে। সিরিজে সমতা ফেরাতে হলে সেই ম্যাচে জয়ের বিকল্প থাকবে না বাবর আজমদের সামনে।

এই ম্যাচে আরেকটি বিরল রেকর্ডও গড়া হয়েছে। টেস্ট ইতিহাসে মাত্র পঞ্চমবারের মতো এক ম্যাচে দুই দলের পেসাররা মিলেই নিয়েছেন ৪০টি উইকেট। ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে এমন ঘটনা এই প্রথম।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য জয়টি আরও বিশেষ। সর্বশেষ ১১ টেস্টে এটি তাদের মাত্র দ্বিতীয় জয়। তাছাড়া কিংবদন্তি স্যার গারফিল্ড সোবার্সের জন্মদিনে পাওয়া এই জয় তাঁকে উৎসর্গ করেছেন অধিনায়ক রোস্টন চেজ।

ম্যাচ শেষে চেজ বলেন, “এই টেস্ট জিততে পেরে আমরা খুবই আনন্দিত। কয়েক দিন আগে প্রয়াত কিংবদন্তি স্যার গারফিল্ড সোবার্সের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আমরা এই জয় তাঁকে উৎসর্গ করছি। ম্যাচের আগেই আমরা এ বিষয়ে কথা বলেছিলাম। আশা করি, ওপর থেকে তিনি আমাদের এই জয় দেখে হাসছেন। পাশাপাশি ত্রিনিদাদের দর্শকদেরও ধন্যবাদ জানাই, যারা মাঠে এসে আমাদের দারুণ সমর্থন দিয়েছেন।”

সংক্ষিপ্ত স্কোর

ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ৩১১ ও ১৮১
পাকিস্তান: ২৮২ ও ১২০

ফল: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৯০ রানে জয়ী।

ম্যাচসেরা: জাস্টিন গ্রিভস (ওয়েস্ট ইন্ডিজ)

সিরিজ: দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

কালের আলো/এসএ

আবারও ঢাকা মাতাতে আসছেন ‘বিলিয়নেরা’খ্যাত ওটিলিয়া

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ১:৫৫ অপরাহ্ণ
আবারও ঢাকা মাতাতে আসছেন ‘বিলিয়নেরা’খ্যাত ওটিলিয়া

‘বিলিয়নেরা’ গানের তালে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি শ্রোতাকে মাতানো রোমানিয়ান পপতারকা ওটিলিয়া ব্রুমা আবারও ঢাকায় আসছেন। আন্তর্জাতিক এই তারকার ঢাকায় ফেরার খবরে সংগীতপ্রেমীদের মধ্যে এরই মধ্যে শুরু হয়েছে উচ্ছ্বাস।

জানা গেছে, আগামী ২৭ নভেম্বর ঢাকায় বিশেষ একটি সংগীত আয়োজনে সরাসরি মঞ্চে পারফর্ম করবেন ওটিলিয়া। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করছে ইমেকার্স বাংলাদেশ। ঢাকায় আসার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেই নিশ্চিত করেছেন এই রোমানিয়ান গায়িকা।

এর আগে ২০২২ সালের জুলাইয়ে প্রথমবার বাংলাদেশে এসেছিলেন ওটিলিয়া। সে সময় রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) নকিয়া জি২১-এর উদ্বোধনী আয়োজনে মঞ্চ মাতান তিনি।

সেদিন তাঁর জনপ্রিয় গানগুলোর সঙ্গে নাচে-গানে মেতে উঠেছিলেন উপস্থিত দর্শকরা। বিশেষ করে ‘বিলিয়নেরা’ পরিবেশনের সময় দর্শকদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো।

চার বছর পর আবারও ঢাকার মঞ্চে ফেরার খবরে তাই ওটিলিয়ার বাংলাদেশি ভক্তদের মধ্যে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

রোমানিয়ার সুসেভায় জন্ম নেওয়া ওটিলিয়া ছোটবেলা থেকেই সংগীতের সঙ্গে যুক্ত। তবে ২০১৪ সালে প্রকাশিত ‘বিলিয়নেরা’ গানটি তাঁর ক্যারিয়ারে বড় পরিবর্তন এনে দেয়।

গানটির আকর্ষণীয় সুর, নাচের ছন্দ এবং ওটিলিয়ার কণ্ঠ খুব দ্রুত আন্তর্জাতিক শ্রোতাদের নজর কাড়ে। ইউরোপের গণ্ডি পেরিয়ে গানটি বিভিন্ন দেশের সংগীতপ্রেমীদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

এরপর ‘বিলিয়নেরা’র সাফল্যকে কাজে লাগিয়ে ওটিলিয়া একের পর এক গান প্রকাশ করেন। তাঁর বেশ কিছু গান আন্তর্জাতিক শ্রোতাদের কাছেও জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

২৭ নভেম্বরের আয়োজনকে ঘিরে ইতিমধ্যেই কৌতূহল তৈরি হয়েছে—ওটিলিয়া এবার ঢাকার দর্শকদের জন্য কী ধরনের পরিবেশনা নিয়ে আসছেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

তবে একটি বিষয় নিশ্চিত-‘বিলিয়নেরা’র সেই পরিচিত বিটে আবারও ঢাকার দর্শকদের নাচানোর সুযোগ পাচ্ছেন ওটিলিয়া।

২০২২ সালের স্মরণীয় পারফরম্যান্সের পর এবার তাঁর প্রত্যাবর্তন কতটা জমজমাট হয়, সেই অপেক্ষাতেই রয়েছেন দেশের সংগীতপ্রেমীরা।

কালের আলো/এসএ

‘ভুল থেকে শিখব, নেতিবাচকতা পেছনে ফেলব’-অস্ট্রেলিয়া সফর শেষে নাফিস ইকবাল

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ১:৩৫ অপরাহ্ণ
‘ভুল থেকে শিখব, নেতিবাচকতা পেছনে ফেলব’-অস্ট্রেলিয়া সফর শেষে নাফিস ইকবাল

অস্ট্রেলিয়া সফর শেষ করে দেশে ফেরার আগে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের টিম ম্যানেজার ও সাবেক ক্রিকেটার নাফিস ইকবাল খান। পুরো সিরিজের অভিজ্ঞতা, দলের পারফরম্যান্স এবং প্রবাসী বাংলাদেশি সমর্থকদের ভালোবাসার কথা তুলে ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দিয়েছেন তিনি।

দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে প্রথম ম্যাচে দারুণ জয় পেলেও দ্বিতীয় টেস্টে প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স করতে পারেনি বাংলাদেশ। সিরিজ শেষের সেই আক্ষেপের কথাও নিজের পোস্টে তুলে ধরেছেন নাফিস।

নাফিস ইকবাল লিখেছেন, সিরিজটি আরও ভালোভাবে শেষ করতে পারলে ভালো লাগত। অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে যেভাবে বাংলাদেশ প্রথম টেস্ট শুরু করেছিল, সেই তুলনায় দ্বিতীয় ম্যাচে আরও ভালো করার সুযোগ ছিল বলে মনে করেন তিনি।

তবে প্রথম টেস্টে দলের অসাধারণ পারফরম্যান্সের কৃতিত্বও স্মরণ করেছেন নাফিস। বিশ্বের অন্যতম সেরা দলের বিপক্ষে সেই জয়কে তিনি দলের জন্য বিশেষ অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

সফরের ফলাফল থেকে ইতিবাচক শিক্ষা নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে চান নাফিস। তাঁর মতে, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পাওয়া সাফল্য বাংলাদেশ দলকে বড় মঞ্চে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আত্মবিশ্বাস দিয়েছে।

তিনি বলেন, এই সফর থেকে দল ইতিবাচক বিষয়গুলোই নিতে চায়। নিজেদের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে নেতিবাচক বিষয়গুলো পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেছেন তিনি।

নাফিসের ভাষায়, ‘আমরা নিজেদের ভুল থেকে শিখব, নেতিবাচক বিষয়গুলো পেছনে ফেলে কেবল ইতিবাচকতা নিয়েই সামনের পথচলা বজায় রাখব।’

অস্ট্রেলিয়া সফরে ডারউইন ও ম্যাকাইয়ে মাঠে এসে বাংলাদেশ দলকে সমর্থন করা প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন নাফিস।

তিনি জানান, বিদেশের মাটিতে সমর্থকদের উপস্থিতি ও উৎসাহ দলের জন্য ছিল বিশেষ অনুপ্রেরণার। সমর্থকদের সঙ্গে কাটানো মুহূর্তগুলোও দল উপভোগ করেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সিরিজের শুরুতে পাওয়া বড় জয় যেমন আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে, তেমনি শেষ ম্যাচের ভুলগুলো থেকেও শিক্ষা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এখন সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে পরবর্তী সিরিজগুলোতে আরও শক্তিশালীভাবে ফেরার প্রত্যাশাই বাংলাদেশ দলের।

কালের আলো/এসএ

বেতন পাওয়ার পরই টাকা শেষ? মাসের শুরুতে করা এই ৭ ভুল বন্ধ করুন

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ১২:০৯ অপরাহ্ণ
বেতন পাওয়ার পরই টাকা শেষ? মাসের শুরুতে করা এই ৭ ভুল বন্ধ করুন

বেতন পাওয়ার দিনটিই যেন মাসের সবচেয়ে আনন্দের দিন। কিন্তু মাস শেষ হওয়ার আগেই যদি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের ব্যালান্স কমতে শুরু করে, তাহলে সমস্যা শুধু আয় কম হওয়ার নয়—খরচের ধরন ও টাকা ব্যবস্থাপনার ভুলও বড় কারণ হতে পারে।

আর্থিক বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, মাসের শুরুতেই আয় ও খরচের একটি বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা করা এবং প্রতিদিনের খরচের হিসাব রাখা জরুরি। কারণ ছোট ছোট অনিয়ন্ত্রিত খরচও মাস শেষে বড় অঙ্কে পরিণত হতে পারে।

তাই বেতন হাতে পাওয়ার পর এই ৭টি ভুল এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন।

১. বেতন পেয়েই বড় কেনাকাটা

বেতন ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে নতুন পোশাক, গ্যাজেট, রেস্টুরেন্টে খাওয়া বা অনলাইনে শপিং—এগুলোতে বেশি খরচ করে ফেললে মাসের বাকি সময়টা চাপের হয়ে উঠতে পারে।

বেতন পাওয়ার দিনই পুরো টাকা ‘খরচযোগ্য’ মনে না করে আগে মাসের প্রয়োজনীয় খরচগুলো আলাদা করে রাখুন।

২. বাজেট না করেই খরচ শুরু

‘দেখা যাবে’ ভেবে মাস শুরু করলে কোথায় কত টাকা যাচ্ছে, তা বোঝা কঠিন হয়ে যায়।

মাসের শুরুতেই বাসা ভাড়া, বাজার, বিল, যাতায়াত, ঋণের কিস্তি, সঞ্চয় ও অন্যান্য খরচ লিখে একটি বাজেট তৈরি করুন। মাসের প্রতিদিনের খরচও নোট করলে কোথায় বেশি টাকা চলে যাচ্ছে তা সহজে ধরা পড়ে।

৩. ছোট খরচকে গুরুত্ব না দেওয়া

এক কাপ কফি, রাইড শেয়ার, অনলাইন ফুড অর্ডার, অপ্রয়োজনীয় সাবস্ক্রিপশন কিংবা প্রতিদিনের ছোটখাটো কেনাকাটা—একেকবারে অল্প মনে হলেও মাস শেষে এগুলো বড় অঙ্ক হতে পারে।

তাই ‘মাত্র ১০০-২০০ টাকা’ ভেবে কোনো খরচকে একেবারে হিসাবের বাইরে রাখবেন না।

৪. বেতন থেকে সঞ্চয় না করে যা থাকে তা জমাবেন ভাবা

অনেকেই ভাবেন, মাস শেষে টাকা থাকলে সঞ্চয় করবেন। বাস্তবে মাস শেষ হওয়ার আগেই সেই টাকা খরচ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

বরং বেতন পাওয়ার পরই সামর্থ্য অনুযায়ী একটি নির্দিষ্ট অংশ আলাদা করে রাখুন। স্বয়ংক্রিয়ভাবে সঞ্চয়ী হিসাবে টাকা স্থানান্তরের ব্যবস্থাও করা যায়।

৫. ‘নিজেকে একটু ট্রিট’ দিতে গিয়ে বাজেট ভেঙে ফেলা

বেতন পেয়েছেন—তাই বন্ধুদের সঙ্গে দামি রেস্টুরেন্টে খাওয়া, ঘুরতে যাওয়া বা শপিং করতেই পারেন। কিন্তু এর জন্য আগে থেকে নির্দিষ্ট বাজেট না থাকলে আনন্দের সেই খরচই পরে আর্থিক চাপ তৈরি করতে পারে।

বিনোদনের জন্য আলাদা বাজেট রাখুন, কিন্তু সেই সীমা অতিক্রম না করার চেষ্টা করুন।

৬. মাসের বড় খরচগুলো আগে থেকে না ভাবা

মাসের শুরুতে শুধু নিয়মিত খরচ হিসাব করলেই হবে না। চিকিৎসা, বাড়ির মেরামত, শিক্ষার খরচ, উপহার, ভ্রমণ বা বার্ষিক কোনো বিলের মতো অনিয়মিত খরচও মাথায় রাখতে হবে।

কয়েক মাসের খরচের হিসাব দেখলে এ ধরনের কম ঘনঘন আসা খরচও বাজেটে রাখা সহজ হয়।

৭. জরুরি সঞ্চয় না রাখা

হঠাৎ অসুস্থতা, চাকরিতে সমস্যা, বাড়ির জরুরি মেরামত কিংবা অন্য কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত খরচ—যেকোনো সময় আসতে পারে। জরুরি সঞ্চয় না থাকলে তখন ধার বা ক্রেডিটের ওপর নির্ভর করতে হতে পারে।

তাই নিয়মিত আয়ের পাশাপাশি জরুরি তহবিল তৈরির অভ্যাস করা গুরুত্বপূর্ণ। সামান্য পরিমাণ দিয়েও শুরু করা যায়।

মাসের শুরুতেই করুন এই ছোট্ট পরিকল্পনা

বেতন হাতে পাওয়ার পর প্রথমেই—

প্রয়োজনীয় খরচ → সঞ্চয় → জরুরি তহবিল → ঋণ/কিস্তি → দৈনন্দিন খরচ → বিনোদন

এভাবে অগ্রাধিকার ঠিক করে নিন।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কত টাকা আয় করছেন তার পাশাপাশি কত টাকা কোথায় খরচ করছেন—সেটিও জানা। নিয়মিত খরচের হিসাব রাখা ও বাস্তবসম্মত বাজেট তৈরি করলে মাসের শেষের আর্থিক চাপ অনেকটাই কমানো সম্ভব।

বেতন পাওয়ার পর টাকা শেষ হয়ে যাওয়ার সমস্যা তাই শুধু ‘কম আয়’-এর বিষয় নয়; অনেক সময় ভুল অভ্যাস বদলালেও আর্থিক পরিস্থিতিতে বড় পার্থক্য আনা সম্ভব।

কালের আলো/এসএ