খুঁজুন
                               
, ,
           

আবারও ঢাকা মাতাতে আসছেন ‘বিলিয়নেরা’খ্যাত ওটিলিয়া

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ১:৫৫ অপরাহ্ণ
আবারও ঢাকা মাতাতে আসছেন ‘বিলিয়নেরা’খ্যাত ওটিলিয়া

‘বিলিয়নেরা’ গানের তালে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি শ্রোতাকে মাতানো রোমানিয়ান পপতারকা ওটিলিয়া ব্রুমা আবারও ঢাকায় আসছেন। আন্তর্জাতিক এই তারকার ঢাকায় ফেরার খবরে সংগীতপ্রেমীদের মধ্যে এরই মধ্যে শুরু হয়েছে উচ্ছ্বাস।

জানা গেছে, আগামী ২৭ নভেম্বর ঢাকায় বিশেষ একটি সংগীত আয়োজনে সরাসরি মঞ্চে পারফর্ম করবেন ওটিলিয়া। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করছে ইমেকার্স বাংলাদেশ। ঢাকায় আসার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেই নিশ্চিত করেছেন এই রোমানিয়ান গায়িকা।

এর আগে ২০২২ সালের জুলাইয়ে প্রথমবার বাংলাদেশে এসেছিলেন ওটিলিয়া। সে সময় রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) নকিয়া জি২১-এর উদ্বোধনী আয়োজনে মঞ্চ মাতান তিনি।

সেদিন তাঁর জনপ্রিয় গানগুলোর সঙ্গে নাচে-গানে মেতে উঠেছিলেন উপস্থিত দর্শকরা। বিশেষ করে ‘বিলিয়নেরা’ পরিবেশনের সময় দর্শকদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো।

চার বছর পর আবারও ঢাকার মঞ্চে ফেরার খবরে তাই ওটিলিয়ার বাংলাদেশি ভক্তদের মধ্যে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

রোমানিয়ার সুসেভায় জন্ম নেওয়া ওটিলিয়া ছোটবেলা থেকেই সংগীতের সঙ্গে যুক্ত। তবে ২০১৪ সালে প্রকাশিত ‘বিলিয়নেরা’ গানটি তাঁর ক্যারিয়ারে বড় পরিবর্তন এনে দেয়।

গানটির আকর্ষণীয় সুর, নাচের ছন্দ এবং ওটিলিয়ার কণ্ঠ খুব দ্রুত আন্তর্জাতিক শ্রোতাদের নজর কাড়ে। ইউরোপের গণ্ডি পেরিয়ে গানটি বিভিন্ন দেশের সংগীতপ্রেমীদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

এরপর ‘বিলিয়নেরা’র সাফল্যকে কাজে লাগিয়ে ওটিলিয়া একের পর এক গান প্রকাশ করেন। তাঁর বেশ কিছু গান আন্তর্জাতিক শ্রোতাদের কাছেও জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

২৭ নভেম্বরের আয়োজনকে ঘিরে ইতিমধ্যেই কৌতূহল তৈরি হয়েছে—ওটিলিয়া এবার ঢাকার দর্শকদের জন্য কী ধরনের পরিবেশনা নিয়ে আসছেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

তবে একটি বিষয় নিশ্চিত-‘বিলিয়নেরা’র সেই পরিচিত বিটে আবারও ঢাকার দর্শকদের নাচানোর সুযোগ পাচ্ছেন ওটিলিয়া।

২০২২ সালের স্মরণীয় পারফরম্যান্সের পর এবার তাঁর প্রত্যাবর্তন কতটা জমজমাট হয়, সেই অপেক্ষাতেই রয়েছেন দেশের সংগীতপ্রেমীরা।

কালের আলো/এসএ

বিমানবন্দরে হুমকি-মারধরের মামলা, আখতারুজ্জামান রিমান্ডে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫৪ অপরাহ্ণ
বিমানবন্দরে হুমকি-মারধরের মামলা, আখতারুজ্জামান রিমান্ডে

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালককে হুমকি ও নিরাপত্তা সুপারভাইজারকে মারধরের অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার জামায়াত নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান রঞ্জনকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিতে চায় পুলিশ।

শনিবার তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান তালুকদার। তিনি বলেন, আখতারুজ্জামানকে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং তার পাঁচ দিনের রিমান্ড চাওয়া হবে।

এর আগে শুক্রবার ভোরে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) নিরাপত্তা কর্মকর্তা শাহরিয়ার আলম সজিব বাদী হয়ে বিমানবন্দর থানায় মামলাটি করেন। ওই দিন সন্ধ্যায় ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট এলাকার বাসা থেকে ডিবি পুলিশের একটি দল আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে বিমানবন্দর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকালে মদিনা থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে আসা ওমরাহ যাত্রীদের লাগেজ ও জমজমের পানি সরবরাহে বিলম্ব নিয়ে বিমানবন্দরে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এ সময় বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদের সঙ্গে আখতারুজ্জামানের বাগ্‌বিতণ্ডা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়, আখতারুজ্জামান নির্বাহী পরিচালককে হুমকি ও অশালীন ভাষায় কথা বলেন। পরে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা সুপারভাইজার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিনকে ভিডিও ধারণ না করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নিষেধ করতে গেলে আখতারুজ্জামান তাকে গালিগালাজ ও শারীরিকভাবে আঘাত করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। গ্রেপ্তারের আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক ভিডিও বার্তায় আখতারুজ্জামান বলেন, ডিবি পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাচ্ছে। তিনি জনগণ ও প্রবাসীদের জন্য কাজ করে যাওয়ার কথা জানান।

কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আখতারুজ্জামান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন। এর আগে ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের জুনের নির্বাচনে কটিয়াদী আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

ভোটের পর এবার জবাবদিহির পালা, দ্রুত সিদ্ধান্ত ও কার্যকর উন্নয়নের তাগিদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:১৩ অপরাহ্ণ
ভোটের পর এবার জবাবদিহির পালা, দ্রুত সিদ্ধান্ত ও কার্যকর উন্নয়নের তাগিদ

ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর এবার কাজের পালা। পাঁচ বছর পর আবার সেই জনগণের কাছেই ফিরতে হবে জনপ্রতিনিধিদের। তাই প্রতিশ্রুতির চেয়ে বাস্তব কাজ, বক্তব্যের চেয়ে দৃশ্যমান সেবা এবং ক্ষমতার চেয়ে জবাবদিহিকেই সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হিসেবে তুলে ধরেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। তিনি বলেছেন, ‘জনপ্রতিনিধিরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। পাঁচ বছর পর আবার তাদের জনগণের কাছে পরীক্ষায় অবতীর্ণ হতে হবে।’

শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের সমবায় ভবনের মাল্টিপারপাস হলরুমে স্থানীয় সরকার বিভাগ আয়োজিত ‘সৌর বিদ্যুৎ, ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও উন্নয়ন কর্মসূচি পর্যালোচনা সভায়’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

  • সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে বিকল্প জ্বালানি ব্যবস্থার প্রস্তাব
  • প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধির লক্ষ্য এক—জনগণের সেবা
  • দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহারে গুরুত্ব

উন্নয়নের হিসাব দিতে হবে জনগণকেই

ড. আবদুল মঈন খান বলেন, জনগণের সেবা নিশ্চিত করা এবং নিজেদের কর্মকাণ্ডের জন্য জনগণের কাছে জবাবদিহি করা নির্বাচিত সরকারের দায়িত্ব। এ বক্তব্যে সরকারের কাজের মূল্যায়নের মাপকাঠিও স্পষ্ট করেছেন তিনি। প্রকল্প গ্রহণ বা অর্থ বরাদ্দ নয়, বরং সেই প্রকল্পের সুফল মানুষের জীবনে কতটা পৌঁছাল—শেষ পর্যন্ত তারই হিসাব দিতে হবে জনপ্রতিনিধিদের। মন্ত্রী প্রশাসনের কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের একই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে দ্রুত উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে হবে।

‘সীমিত সম্পদ, সর্বোচ্চ ব্যবহার’

স্থানীয় পর্যায়ে উন্নয়নের বড় চ্যালেঞ্জ সম্পদের সীমাবদ্ধতা। এ বাস্তবতায় নতুন প্রকল্পের পাশাপাশি বিদ্যমান অবকাঠামো ও সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন মন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে সমন্বয়ের বিষয়টিও সামনে এসেছে। কারণ নীতি ও প্রকল্প কেন্দ্র থেকে নির্ধারিত হলেও এর বাস্তব ফলাফল নির্ভর করে মাঠ প্রশাসনের দক্ষতা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সক্রিয়তার ওপর।

বিদ্যুৎ সংকটে সৌর প্যানেল

বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সৌরবিদ্যুৎকে গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হিসেবে দেখছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী। ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা পরিষদ ভবনের ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপনের পাশাপাশি গ্রামীণ বাড়ির ছাদেও সৌর প্যানেল স্থাপনে উৎসাহ দেওয়ার কথা বলেন তিনি। দিনের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যাটারিতে সংরক্ষণ করে রাতে ব্যবহার করার প্রস্তাবও দেন ড. আবদুল মঈন খান। তাঁর মতে, এতে জাতীয় গ্রিডের ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব।অর্থাৎ স্থানীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সংরক্ষণের একটি বিকেন্দ্রীভূত ব্যবস্থা গড়ে তোলার সম্ভাবনাই সামনে আনলেন তিনি।

‘সততা ও দক্ষতাই অগ্রাধিকার’

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মোঃ আব্দুল বারী সরকারি সেবা ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সততা, স্বচ্ছতা ও দক্ষতার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, পদায়ন ও পদোন্নতিতে সততা ও কর্মদক্ষতাকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিজ কর্মস্থলকে নিজের এলাকা মনে করে আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি। এর মাধ্যমে মাঠ প্রশাসনে দায়িত্বশীলতা ও কর্মদক্ষতাকে আরও জোরালো করার বার্তা দেওয়া হয়েছে।

চার বছরে ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ড

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, সরকারের জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নে উপজেলা প্রশাসনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। আগামী চার বছরে ধাপে ধাপে সব পরিবার ও কৃষকের কাছে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। সার ডিলারদের তালিকা যাচাই শেষে দ্রুত লাইসেন্স দেওয়ার কথাও জানান তিনি।

অবকাঠামো খাতে গ্রামীণ ছোট সড়কে ইটের বদলে সিসি ও ইউনি ব্লক ব্যবহারের পরামর্শ দেন মীর শাহে আলম। হাটবাজার ও বন্দর এলাকার সড়কে ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং সড়কের পাশে পুকুর খননের ক্ষেত্রে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার ওপরও জোর দেন তিনি।

স্থানীয় নির্বাচন সামনে, ইউএনওদেরও বার্তা

ইজিবাইক নিবন্ধনের জন্য আইন ও বিধিমালার কাজ চলছে বলে জানান মীর শাহে আলম। পাশাপাশি বর্জ্য থেকে জৈবসার ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা যাচাই এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা আয়োজনের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদ্‌যাপনে প্রশাসন, পূজা কমিটি ও সামাজিক নিরাপত্তা কমিটিকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী।

এর পাশাপাশি আগামী জানুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে ইউএনওদের আন্তরিক হওয়ার নির্দেশনাও দেন তিনি। মাদক নিয়ন্ত্রণ ও দুর্নীতি হ্রাসে সক্রিয় ভূমিকার পাশাপাশি প্রতি বছর ইউএনও সম্মেলন আয়োজনের প্রস্তাব দেন মীর শাহে আলম।

বার্তা স্পষ্ট, এখন বাস্তবায়নের পালা

সভায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ কামরুজ্জামান চৌধুরী, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মোঃ শহীদুল হাসান, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব ড. রফিকুল ই মোহামেদ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক এবং বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মিজ মিরানা মাহরুখ উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া সব সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলার উপপরিচালক (স্থানীয় সরকার), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং পৌরসভার প্রশাসকরাও সভায় অংশ নেন।

সভায় দেওয়া বক্তব্যের সারকথা এক জায়গায় এসে মিলে যায়—জনগণের ভোটে ক্ষমতায় আসা সরকারের কাছে এখন দৃশ্যমান কাজের প্রত্যাশা। আর সেই কাজের গতি, মান ও ফলাফলই আগামী দিনের জবাবদিহির ভিত্তি তৈরি করবে। নির্বাচনের মাঠে ভোটারদের রায় পাওয়া গেছে; এবার মাঠ প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সামনে সেই রায়ের প্রতিফলন ঘটানোর পালা।

কালের আলো /এমএএএমকে

কেন নির্যাতনের সম্পর্ক থেকেও বের হওয়া কঠিন?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:১২ অপরাহ্ণ
কেন নির্যাতনের সম্পর্ক থেকেও বের হওয়া কঠিন?

সম্প্রতি একটি পারফর্মিং আর্টের কয়েক সেকেন্ডের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, এক ব্যক্তি তার সঙ্গীকে কখনো উত্তেজিতভাবে ঝাঁকিয়ে কথা বলছেন, আবার কিছুক্ষণ পরই তাকে কাছে টেনে আদর করছেন। আচরণের এমন আকস্মিক পরিবর্তন অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

মনোবিজ্ঞানের আলোচনায় নির্যাতন ও অতিরিক্ত স্নেহের এমন পুনরাবৃত্ত চক্র কখনো কখনো ‘ট্রমা বন্ডিং’-এর সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। এটি এমন এক ধরনের জটিল আবেগীয় সংযুক্তি, যেখানে নির্যাতনের শিকার ব্যক্তি ক্ষতিকর সম্পর্কটি থেকে বেরিয়ে আসতে চাইলেও মানসিকভাবে সেই সম্পর্কের সঙ্গে গভীরভাবে আটকে থাকতে পারেন।

তবে কোনো সম্পর্কে ঝগড়া, মতবিরোধ বা আচরণের পরিবর্তন দেখা গেলেই সেটিকে ‘ট্রমা বন্ডিং’ বলা যায় না। এখানে নির্যাতন, ভয়, নিয়ন্ত্রণ এবং পরবর্তী সময়ে ইতিবাচক আচরণের পুনরাবৃত্ত চক্র গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

‘ট্রমা বন্ডিং’ কী?

‘ট্রমা বন্ডিং’ বলতে সাধারণত এমন আবেগীয় সংযুক্তিকে বোঝানো হয়, যা নির্যাতন, ভয়, অপমান বা নিয়ন্ত্রণের মতো নেতিবাচক অভিজ্ঞতার মধ্যেও তৈরি হতে পারে। একটি পর্যায়ে কষ্ট বা নির্যাতন এবং অন্য পর্যায়ে ভালোবাসা, ক্ষমা চাওয়া কিংবা অতিরিক্ত যত্ন—এভাবে আচরণের বারবার পরিবর্তন ভুক্তভোগীর মধ্যে শক্তিশালী আবেগীয় নির্ভরতা তৈরি করতে পারে।

এই ধারণাকে জনপ্রিয়ভাবে ব্যাখ্যা করেছেন মার্কিন মনোবিজ্ঞানী প্যাট্রিক কার্নেস। তার ব্যাখ্যায়, নির্যাতন ও ইতিবাচক আচরণের পুনরাবৃত্ত চক্র একটি সম্পর্ককে ভুক্তভোগীর কাছে একইসঙ্গে কষ্টদায়ক এবং আবেগগতভাবে আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে।

যেসব লক্ষণ দেখা যেতে পারে

ট্রমা বন্ডিংয়ের ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তি সম্পর্কটি ক্ষতিকর বুঝতে পারলেও সেখান থেকে বের হতে না-ও পারেন। বারবার নির্যাতনের পরও সঙ্গীকে ক্ষমা করে দেওয়া কিংবা নির্যাতনের ঘটনাকে ছোট করে দেখা বা অস্বীকার করার প্রবণতা দেখা দিতে পারে।

পরিবার ও বন্ধুদের সতর্কতাকেও কেউ কেউ গুরুত্ব দিতে চান না। আবার নির্যাতনের পর সঙ্গীর সামান্য ভালো আচরণ, ক্ষমা চাওয়া বা যত্নেও সম্পর্কটি আবার ভালো হয়ে যাবে—এমন আশাবাদ তৈরি হতে পারে।

এ ছাড়া সম্পর্কের নেতিবাচক দিক অন্যদের কাছ থেকে গোপন করা এবং ধীরে ধীরে পরিবার, বন্ধু ও সামাজিক পরিসর থেকে দূরে সরে যাওয়ার মতো আচরণও দেখা যেতে পারে।

কেন সম্পর্ক থেকে বের হওয়া কঠিন?

ক্ষতিকর সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার বিষয়টি শুধু আবেগের ওপর নির্ভর করে না। এর সঙ্গে আত্মবিশ্বাস, নিরাপত্তা, সামাজিক পরিস্থিতি, সন্তান, আর্থিক নির্ভরতা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার মতো বিষয়ও জড়িত থাকতে পারে।

দীর্ঘদিন একসঙ্গে থাকার ফলে নির্যাতনকারী ব্যক্তির সঙ্গেই গভীর আবেগীয় নির্ভরতা তৈরি হতে পারে। ফলে সম্পর্ক শেষ করার চিন্তা করলে একাকিত্ব, ভয় কিংবা অসহায়ত্বের অনুভূতি দেখা দিতে পারে।

এর সঙ্গে যুক্ত হতে পারে—‘এবার হয়তো বদলে যাবে’—এই আশা। নির্যাতনের পর সঙ্গী হঠাৎ ক্ষমা চাইলে, যত্ন নিলে বা ভালো আচরণ করলে ভুক্তভোগীর মনে পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। সেই আশাই তাকে আবার সম্পর্কটির মধ্যে ফিরিয়ে নিতে পারে।

আত্মবিশ্বাসে আঘাতও বড় কারণ

দীর্ঘদিনের অপমান, নিয়ন্ত্রণ বা মানসিক নির্যাতন একজন মানুষের আত্মমর্যাদাকে দুর্বল করে দিতে পারে। একপর্যায়ে কেউ কেউ মনে করতে পারেন, তিনি এর চেয়ে ভালো কোনো সম্পর্ক পাওয়ার যোগ্য নন। ফলে ক্ষতিকর সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার আত্মবিশ্বাসও কমে যেতে পারে।

অন্যদিকে সম্পর্ক শেষ করার পর কোথায় যাবেন, কীভাবে জীবন চালাবেন, সন্তানদের কী হবে কিংবা নির্যাতনকারী আরও ক্ষতি করতে পারেন কি না—এসব প্রশ্নও সিদ্ধান্ত নেওয়ার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিশেষ করে আর্থিকভাবে নির্ভরশীল ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

নির্যাতনের পর ভালো আচরণ কেন বিভ্রান্ত করে?

নির্যাতনের পর হঠাৎ ভালোবাসা, ক্ষমা চাওয়া কিংবা অতিরিক্ত যত্ন ভুক্তভোগীর মধ্যে সাময়িক স্বস্তি তৈরি করতে পারে। এরপর আবার নির্যাতন ফিরে এলে সম্পর্কটি তীব্র আবেগীয় ওঠানামার মধ্যে পড়ে।

এই চক্রের কারণে একজন মানুষ একই ব্যক্তির কাছ থেকেই একদিকে ভয় বা কষ্ট এবং অন্যদিকে ভালোবাসা ও নিরাপত্তার অনুভূতি পেতে পারেন। ফলে সম্পর্কটি ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

বেরিয়ে আসার ক্ষেত্রে নিরাপত্তাই আগে

নির্যাতনমূলক সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার ক্ষেত্রে হঠাৎ কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেয়ে নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বস্ত পরিবার, বন্ধু কিংবা মানসিক স্বাস্থ্য পেশাজীবীর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলা সহায়ক হতে পারে। একা পরিস্থিতি সামলানোর পরিবর্তে নিরাপদ একটি সহায়তার নেটওয়ার্ক তৈরি করা জরুরি।

পরিস্থিতি নিরাপদ হলে নির্যাতনকারী ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ সীমিত বা বন্ধ করার কথা বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে যোগাযোগ বন্ধ করলে যদি ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে, তাহলে আগে নিরাপত্তা পরিকল্পনা করা প্রয়োজন।

কী ধরনের আচরণ বা নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে, তা তারিখসহ সংরক্ষণ করাও প্রয়োজনের সময় কাজে আসতে পারে। এতে নিজের অভিজ্ঞতাগুলো পরিষ্কারভাবে বোঝার পাশাপাশি প্রয়োজনে সহায়তা চাইতেও সুবিধা হতে পারে।

পেশাদার সহায়তা নেওয়া জরুরি হতে পারে

দীর্ঘদিনের নির্যাতনে আত্মবিশ্বাস ও মানসিক সুস্থতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই নিজের প্রয়োজন, নিরাপত্তা ও আত্মমর্যাদাকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। প্রয়োজনে মানসিক স্বাস্থ্য পেশাজীবীর সহায়তা নেওয়া যেতে পারে।

সম্পর্কে শারীরিক নির্যাতন, হুমকি বা তাৎক্ষণিক নিরাপত্তাঝুঁকি থাকলে স্থানীয় সহায়তা ও জরুরি সেবার সঙ্গে যোগাযোগ করা গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের পরিস্থিতিতে সম্পর্ক ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিরাপদভাবে বের হওয়ার পরিকল্পনা করাই অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।

সম্পর্ক শেষ হওয়া মানেই ব্যর্থতা নয়

একটি সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা সবসময় সাফল্যের পরিচয় নয়। কোনো সম্পর্ক যদি একজন মানুষের নিরাপত্তা, আত্মমর্যাদা ও মানসিক সুস্থতার জন্য ক্ষতিকর হয়ে ওঠে, তাহলে সেখান থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নতুনভাবে জীবন শুরু করার সুযোগ তৈরি করতে পারে।

এক্ষেত্রে পরিবার ও কাছের মানুষদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিকে দোষারোপ করা বা ‘কেন সম্পর্ক ছাড়ছেন না’—এমন প্রশ্ন করার পরিবর্তে তার কথা শোনা, পরিস্থিতিকে গুরুত্ব দেওয়া এবং নিরাপদভাবে সহায়তা করার চেষ্টা করা বেশি কার্যকর।

ট্রমা বন্ডিং ভাঙার ক্ষেত্রে প্রথম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে নিজের অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়া এবং সম্পর্কের ক্ষতিকর দিকটি স্বীকার করা। আর কেউ যদি তাৎক্ষণিক বিপদের মধ্যে থাকেন, তাহলে সম্পর্ক ছাড়ার আগে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

কালের আলো/এসএ