খুঁজুন
                               
, ,
           

সরিষা ইলিশ: বাঙালির রসনার চিরন্তন স্বাদ,ঘরেই বানাবেন যেভাবে

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ২:৩৪ অপরাহ্ণ
সরিষা ইলিশ: বাঙালির রসনার চিরন্তন স্বাদ,ঘরেই বানাবেন যেভাবে

বর্ষা এলেই বাঙালির খাবারের তালিকায় ইলিশের কদর বেড়ে যায়। আর ইলিশের সঙ্গে সরিষার ঝাঁঝালো স্বাদের মেলবন্ধন হলে জমে ওঠে একেবারে ঐতিহ্যবাহী বাঙালি আয়োজন। ভাতের সঙ্গে সরিষা ইলিশ এমন একটি পদ, যা অল্প উপকরণেই তৈরি করা যায় এবং স্বাদেও এনে দেয় ভিন্নতা।

যা যা লাগবে

  • ইলিশ মাছ ৫–৬ টুকরা
  • সরিষার বাটা ৩ টেবিল চামচ
  • কাঁচা মরিচ ৫–৬টি
  • হলুদ গুঁড়া ১ চা চামচ
  • লবণ স্বাদমতো
  • সরিষার তেল ৪ টেবিল চামচ
  • মরিচ গুঁড়া আধা চা চামচ
  • পানি পরিমাণমতো

যেভাবে রান্না করবেন

প্রথমে ইলিশের টুকরোগুলো ভালোভাবে ধুয়ে লবণ ও সামান্য হলুদ মেখে কয়েক মিনিট রেখে দিন। এরপর একটি বাটিতে সরিষার বাটা, হলুদ, মরিচ গুঁড়া, লবণ ও সামান্য পানি দিয়ে মসৃণ মিশ্রণ তৈরি করুন।

কড়াইয়ে সরিষার তেল গরম করে মাছের টুকরোগুলো হালকা করে ভেজে তুলে রাখুন। একই কড়াইয়ে সরিষার মিশ্রণ দিয়ে অল্প আঁচে কিছুক্ষণ রান্না করুন। এরপর সামান্য পানি দিয়ে ফুটে উঠলে ভাজা ইলিশগুলো দিয়ে দিন।

কড়াই ঢেকে ৮–১০ মিনিট অল্প আঁচে রান্না করুন। শেষে কাঁচা মরিচ ও আরও এক চামচ সরিষার তেল ছড়িয়ে নামিয়ে নিন।

স্বাদ বাড়ানোর টিপস

সরিষার বাটা বেশি সময় রান্না করলে এর ঝাঁঝ ও স্বাদ কিছুটা কমে যেতে পারে। তাই মাঝারি বা অল্প আঁচে রান্না করাই ভালো। আর রান্নার শেষে সামান্য কাঁচা সরিষার তেল দিলে সরিষা ইলিশের পরিচিত ঘ্রাণ ও স্বাদ আরও বাড়ে।

গরম ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করুন সরিষা ইলিশ। ব্যস্ত দিনের খাবারের তালিকায়ও এই ঐতিহ্যবাহী পদ এনে দিতে পারে উৎসবের আমেজ।

কালের আলো/এসএ

কেন বাড়ছে ‘বর্ধিত আত্মহত্যার’ ঘটনা

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৫৪ অপরাহ্ণ
কেন বাড়ছে ‘বর্ধিত আত্মহত্যার’ ঘটনা

সন্তানকে নিয়ে মায়ের আত্মহত্যা কিংবা ঋণ ও আর্থিক সংকটে পরিবারের সদস্যদের হত্যার পর বাবার আত্মহত্যার মতো ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে দেশের সংবাদমাধ্যমে একাধিকবার এসেছে। ক্রিমিনোলজি ও মনোরোগবিদ্যার আলোচনায় এ ধরনের ঘটনাকে ‘বর্ধিত আত্মহত্যা’ বা ‘এক্সটেনডেড সুইসাইড’ বলা হয়।

এ ধরনের ঘটনায় একজন ব্যক্তি আত্মহত্যার আগে তাঁর ওপর নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদেরও হত্যা করেন। ফলে একই ঘটনায় আত্মহত্যা ও পারিবারিক হত্যার দুটি দিকই যুক্ত থাকে।

বাংলাদেশে এ ধরনের ঘটনা নিয়ে গবেষণা এখনো তুলনামূলকভাবে সীমিত। তবে সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় দেশের সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ঘটনাগুলোর ভিত্তিতে পরিস্থিতির একটি চিত্র পাওয়া গেছে।

গবেষণায় ২৬ ঘটনায় ৬৯ জনের মৃত্যু

২০১৪ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে করা একটি গবেষণায় ২৬টি ‘ফিলিসাইড-এক্সটেনডেড সুইসাইড’ ঘটনা শনাক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ এসব ঘটনায় প্রথমে নিজের সন্তানকে হত্যা এবং পরে নিজে আত্মহত্যা বা আত্মহত্যার চেষ্টা করার ঘটনা ছিল।

গবেষণায় শনাক্ত ২৬টি ঘটনায় মোট ৬৯ জনের মৃত্যু হয়। তাঁদের মধ্যে ৪৫ জনই ছিল শিশু। গবেষণায় দেখা যায়, অধিকাংশ ঘটনায় সন্তান হত্যার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নিজেও আত্মহত্যা করেছিলেন।

এসব ঘটনার পেছনে পারিবারিক কলহ, আর্থিক সংকট এবং দারিদ্র্যজনিত চাপকে বেশ কিছু ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

‘বর্ধিত আত্মহত্যা’ কী

‘এক্সটেনডেড সুইসাইড’ বলতে এমন পরিস্থিতিকে বোঝানো হয়, যেখানে একজন ব্যক্তি আত্মহত্যার আগে নিজের ওপর নির্ভরশীল বা ঘনিষ্ঠ স্বজনকে হত্যা করেন। এর মধ্যে সন্তান, জীবনসঙ্গী কিংবা বয়স্ক বাবা-মায়ের মতো পরিবারের সদস্য থাকতে পারেন।

মনোরোগবিদ্যার দৃষ্টিতে এ ধরনের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির চিন্তাভাবনায় গুরুতর সংকট তৈরি হতে পারে। তিনি নিজের জীবন ও কাছের মানুষের জীবনকে আলাদা করে না দেখে একই ভাগ্যের অংশ হিসেবে ভাবতে পারেন।

কখনো তীব্র হতাশা, বিষণ্নতা, মানসিক বিপর্যয় বা বাস্তবতা সম্পর্কে বিকৃত ধারণা একজন ব্যক্তির সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে। তবে প্রতিটি ঘটনার কারণ এক নয় এবং কোনো একটি মানসিক অবস্থাকে এসব ঘটনার একমাত্র কারণ হিসেবে দেখাও যথাযথ নয়।

আর্থিক ও পারিবারিক সংকটের ভূমিকা

গবেষণায় পাওয়া ঘটনাগুলোতে আর্থিক সংকট ও পারিবারিক কলহের মতো বিষয় সামনে এসেছে। ঋণ, দারিদ্র্য, সম্পর্কের টানাপোড়েন কিংবা দীর্ঘদিনের সামাজিক ও পারিবারিক চাপ কোনো কোনো ব্যক্তির মানসিক সংকটকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে।

কখনো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এমন একটি পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেন, যখন ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁর চিন্তা অত্যন্ত নেতিবাচক হয়ে ওঠে। নিজের অনুপস্থিতিতে পরিবারের সদস্যরা আরও কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হবে—এমন ভুল বা বিকৃত ধারণাও তৈরি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের আলোচনায় এ ধরনের চিন্তাকে ‘পরহিতৈষী’ বা পরিবারের ভালোর জন্য নেওয়া সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হলেও বাস্তবে এটি একটি গুরুতর মানসিক সংকটের অংশ হতে পারে।

কোন লক্ষণগুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে

পরিবারের কারও আচরণে হঠাৎ বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা দিলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া প্রয়োজন। অতিরিক্ত হতাশা, নিজেকে সবার কাছ থেকে গুটিয়ে নেওয়া, ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম নেতিবাচক কথা বলা কিংবা বেঁচে থাকার ইচ্ছা নেই—এমন বক্তব্যকে অবহেলা করা উচিত নয়।

কেউ যদি একই সঙ্গে নিজের এবং পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম হতাশা প্রকাশ করেন, তাহলে তাঁকে একা না রেখে দ্রুত পরিবার, কাছের মানুষ ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর সহায়তা নেওয়া জরুরি।

মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করা জরুরি

বিষণ্নতা, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ বা অন্য কোনো মানসিক সমস্যাকে লুকিয়ে রাখার পরিবর্তে চিকিৎসা নেওয়ার পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন। মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সামাজিক stigma কমানো এবং প্রয়োজনের সময়ে পেশাদার সহায়তা পাওয়ার সুযোগ বাড়ানোও গুরুত্বপূর্ণ।

একই সঙ্গে আর্থিক বা সামাজিক সংকটে থাকা মানুষকে একা না ফেলে পরিবার, সমাজ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সহায়তার আওতায় আনা প্রয়োজন। ঋণ, দারিদ্র্য, পারিবারিক সহিংসতা বা সম্পর্কের দীর্ঘস্থায়ী সংকটের মতো বিষয়গুলোও সময়মতো শনাক্ত করে সহায়তার ব্যবস্থা করা দরকার।

সংবাদমাধ্যমেরও দায়িত্ব রয়েছে

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের ঘটনা সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রেও সতর্কতা প্রয়োজন। আত্মহত্যা বা পারিবারিক হত্যার ঘটনাকে চমকপ্রদ, রোমাঞ্চকর কিংবা অতিরঞ্জিতভাবে উপস্থাপন না করে এর পেছনের ঝুঁকিগুলো সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা জরুরি।

একই সঙ্গে আত্মহত্যার ঝুঁকিতে থাকা মানুষ কোথায় সহায়তা পাবেন, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা কীভাবে নেওয়া যায় এবং সংকটের সময়ে পরিবার কী করতে পারে—এসব তথ্য তুলে ধরা গুরুত্বপূর্ণ।

কারণ একটি ঘটনার খবর প্রকাশের উদ্দেশ্য শুধু ঘটনা জানানো নয়; একই ধরনের ঝুঁকিতে থাকা অন্য মানুষদের কাছে সহায়তার পথও তুলে ধরা।

সূত্র: ফিলিসাইড-এক্সটেনডেড সুইসাইড ইন বাংলাদেশ: এ রেট্রোস্পেকটিভ অ্যানালাইসিস অব মিডিয়া-রিপোর্টেড কেইসেস

কালের আলো/এসএ

টোকিও চলচ্চিত্র উৎসবের মূল প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩৪ অপরাহ্ণ
টোকিও চলচ্চিত্র উৎসবের মূল প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের জন্য বড় এক সুখবর এসেছে জাপান থেকে। টোকিও আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের (TIFF) ৩৯তম আসরের মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে জায়গা করে নিয়েছে নির্মাতা রুবাইয়াত হোসেনের চলচ্চিত্র ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’। প্রায় চার দশকের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো বাংলাদেশি চলচ্চিত্র উৎসবটির মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে নির্বাচিত হলো।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) টোকিওর স্পাইরাল হলে উৎসবের পূর্ণাঙ্গ আয়োজন ও প্রতিযোগিতা বিভাগের চলচ্চিত্রগুলোর তালিকা প্রকাশ করা হয়। সেখানেই বাংলাদেশের ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’-এর নাম ঘোষণা করা হয়।

রুবাইয়াত হোসেনের চতুর্থ পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র

‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ রুবাইয়াত হোসেনের চতুর্থ পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। বাংলাদেশ, ফ্রান্স, পর্তুগাল, নরওয়ে ও জার্মানির যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত ছবিটির গল্প ঢাকার এক হবু কনেকে ঘিরে।

বিয়ের প্রস্তুতি, সৌন্দর্যচর্চা, পারিবারিক প্রত্যাশা ও সামাজিক নিয়মের মধ্যে এক নারীর শরীর ও মনের অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতাকে চলচ্চিত্রটিতে তুলে ধরা হয়েছে। বাস্তবতার সঙ্গে স্বপ্ন, ভয়, স্মৃতি ও অলৌকিকতার মিশেলে নারীর শরীর, ইচ্ছা, সৌন্দর্যবোধ এবং বিয়েকে ঘিরে সমাজে প্রচলিত নানা জটিল ও বৈষম্যমূলক রীতিকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করানো হয়েছে।

এর আগে ভেনিস ও টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবেও প্রদর্শিত হয়েছে সিনেমাটি। ফলে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র অঙ্গনে আগেই আলোচনায় এসেছিল রুবাইয়াত হোসেনের এই নির্মাণ।

১ হাজার ৮৯২ সিনেমা থেকে নির্বাচিত ১৫টি

এবার টোকিও আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে নির্বাচিত হয়েছে মোট ১৫টি চলচ্চিত্র। এসব চলচ্চিত্র ৩১টি দেশ ও অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব করছে।

উৎসবের প্রোগ্রামিং ডিরেক্টর ইচিয়ামা শোজো জানান, ১১২টি দেশ ও অঞ্চল থেকে জমা পড়া ১ হাজার ৮৯২টি চলচ্চিত্রের মধ্য থেকে প্রতিযোগিতা বিভাগের সিনেমাগুলো বাছাই করা হয়েছে।

এই বিভাগে রোমান্স, রাজনীতি, ভৌতিকতা, প্রকৃতি এবং সামাজিক সংঘাতসহ বিভিন্ন বিষয় ও ঘরানার চলচ্চিত্র স্থান পেয়েছে। বাংলাদেশের ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’-এর পাশাপাশি আর্জেন্টিনা, রোমানিয়া, ইতালি, সিঙ্গাপুর, পর্তুগাল, ইরান, সার্বিয়া, ইন্দোনেশিয়া, চীন ও উত্তর মেসিডোনিয়ার চলচ্চিত্রও রয়েছে।

২৬ অক্টোবর শুরু, চলবে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত

টোকিও আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ৩৯তম আসর শুরু হবে আগামী ২৬ অক্টোবর। চলবে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত। ১০ দিনের এই আয়োজনে টোকিওর হিবিয়া, ইউরাকুচো, মারুনোউচি ও গিনজা এলাকা ঘিরে বসবে চলচ্চিত্রের বড় এই আয়োজন।

এবার উৎসবে ২০০টির বেশি চলচ্চিত্র ও সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠান থাকছে। মোট ২০৪টি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে, যা গত বছরের ১৮৪টি চলচ্চিত্রের তুলনায় বেশি।

এবারের উৎসবের থিম ‘সংযোগ—চলচ্চিত্র আমাদের বাইরের বিশ্বের সঙ্গে যুক্ত করে’। উৎসবের উদ্বোধনী রেড কার্পেট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে হিবিয়া-নাকাদোরি অ্যাভিনিউতে।

উদ্বোধনী ও সমাপনী সিনেমাতেও বৈচিত্র্য

এবারের উৎসবের উদ্বোধনী চলচ্চিত্র হিসেবে থাকছে তাকাহিসা জেজের ‘সুকিয়াকি’। সিনেমাটিতে বিলবোর্ড চার্টজয়ী একটি ঐতিহাসিক গানের পেছনের গল্প তুলে ধরা হয়েছে।

সমাপনী চলচ্চিত্র হিসেবে প্রদর্শিত হবে ইয়োন সাং-হোর কোরিয়ান জম্বি থ্রিলার ‘কলোনি’। আর সেন্টারপিস হিসেবে থাকছে ইয়ামাজাকি তাকাশির ‘গডজিলা মাইনাস জিরো’।

এবার উৎসবে নতুন পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব হিসামাৎসু তাকেও। জাপানি ও এশীয় নির্মাতাদের আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরা এবং নারী নির্মাতাদের বৈশ্বিক যাত্রাকে আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।

বাংলাদেশের জন্য ঐতিহাসিক উপস্থিতি

টোকিও আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের প্রায় চার দশকের ইতিহাসে মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের কোনো চলচ্চিত্রের অংশগ্রহণ দেশের চলচ্চিত্রাঙ্গনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’-এর এই নির্বাচনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক দর্শকদের সামনে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র নির্মাণের একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বিশেষ করে নারীর শরীর, ব্যক্তিস্বাধীনতা, সামাজিক প্রত্যাশা ও বিয়েকে ঘিরে প্রচলিত রীতিনীতির মতো বিষয়কে কেন্দ্র করে নির্মিত চলচ্চিত্রটির আন্তর্জাতিক উৎসবযাত্রা বাংলাদেশের স্বাধীনধারার সিনেমার জন্যও নতুন আগ্রহ তৈরি করেছে।

এবারের টোকিও উৎসবে মূল প্রতিযোগিতার পাশাপাশি ‘এশিয়ান ফিউচার’, অ্যানিমেশন, ‘নিপ্পন সিনেমা নাউ’, ‘গালা সিলেকশন’, ‘ক্রসকাট এশিয়া প্লাস’, ‘উইমেনস এমপাওয়ারমেন্ট’, ‘ইউথ’, ‘ওয়ার্ল্ড ফোকাস’ ও ‘জাপানিজ ক্লাসিকস’সহ বিভিন্ন বিভাগ থাকছে।

চলচ্চিত্র প্রদর্শনের পাশাপাশি থাকছে মাস্টারক্লাস, আলোচনা, পুরস্কার ও চলচ্চিত্রবিষয়ক নানা আয়োজন। ২৮ থেকে ৩০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে চলচ্চিত্র ও অডিওভিজ্যুয়াল কনটেন্টের বাজার টিফকম।

সব মিলিয়ে এবারের টোকিও আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলাদেশের ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’-এর উপস্থিতি দেশের চলচ্চিত্রের আন্তর্জাতিক যাত্রায় একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হয়ে উঠেছে।

কালের আলো/এসএ

ইসরায়েলগামী বিমানে হামলাকারী ‘ইসলামপন্থী উগ্র মতাদর্শে দীক্ষিত’ দাবি নেতানিয়াহুর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ১:২৩ অপরাহ্ণ
ইসরায়েলগামী বিমানে হামলাকারী ‘ইসলামপন্থী উগ্র মতাদর্শে দীক্ষিত’ দাবি নেতানিয়াহুর

ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি উড়োজাহাজের পাইলটকে ছুরিকাঘাত করে বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করা সহকারী পাইলট ‘ইসলামপন্থী উগ্র মতাদর্শে দীক্ষিত’ ছিলেন বলে দাবি করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফক্স নিউজকে নেতানিয়াহু বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ওই ব্যক্তি উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করেছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি বলেও জানান তিনি।

১৭ হাজার ফুট নিচে নেমে যায় বিমান

গত বুধবার ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ ফ্লাইটটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে ইসরায়েলের তেল আবিবের উদ্দেশে উড্ডয়ন করে। উড্ডয়নের প্রায় দুই ঘণ্টা পর উড়োজাহাজটি হঠাৎ ১৭ হাজার ফুটের বেশি নিচে নেমে যায়।

এ সময় ককপিটে থাকা প্রধান পাইলটকে সহকারী পাইলট ছুরিকাঘাত করেন। পরে যাত্রী ও ক্রুরা হামলাকারীকে কাবু করে বেঁধে ফেলেন এবং উড়োজাহাজের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত বিমানটি সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে জরুরি অবতরণ করে।

‘আমাকে মেরে ফেলো’ বলছিলেন হামলাকারী

নেতানিয়াহুর দাবি, হামলাকারী ওমানের নাগরিক এবং তিনি বিমানটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করেছিলেন।

তিনি আরও বলেন, যাত্রী ও ক্রুরা তাঁকে কাবু করে বেঁধে ফেলার পর ওই ব্যক্তি উড়োজাহাজের কর্মীদের উদ্দেশে ‘আমাকে মেরে ফেলো, আমাকে মেরে ফেলো’ বলে চিৎকার করছিলেন। নেতানিয়াহুর মতে, এটি থেকে তাঁর আত্মঘাতী হওয়ার ইচ্ছার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

তবে হামলার উদ্দেশ্য নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে যাওয়ার বিষয়ে সতর্ক থাকার কথাও জানিয়েছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী।

সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের যোগসাজশ খতিয়ে দেখছে তদন্তকারীরা

সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা সন্ত্রাসী উদ্দেশ্যের যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে।

উড়োজাহাজটি সৌদি আরবের তাবুকে জরুরি অবতরণ করার পর দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, চিকিৎসকেরা ছাড়পত্র দেওয়ার পর প্রধান পাইলট ও সহকারী পাইলট—দুজনকেই বৃহস্পতিবার সকালে সংযুক্ত আরব আমিরাতে পাঠানো হয়েছে।

উড়োজাহাজটি আরব আমিরাতে নিবন্ধিত হওয়ায় দেশটির কর্মকর্তারা তদন্তের এখতিয়ার নিজেদের বলে জানিয়েছেন।

ইরানের সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত, তবে সরাসরি দায় নয়

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্মকর্তারা ঘটনার সঙ্গে ইরানের সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তবে তাঁরা সরাসরি ইরানকে দায়ী করেননি।

ট্রাম্প বলেছেন, ঘটনায় ইরানের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হলে দেশটির বিরুদ্ধে ‘অত্যন্ত কঠোর’ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইরানের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে জানতে চাইলে নেতানিয়াহুও এর আগে বলেছিলেন, এ বিষয়ে মন্তব্য করার সময় এখনো আসেনি।

ওমানের নাগরিক কীভাবে ইসরায়েলগামী বিমানের পাইলট?

ওমানের নাগরিক কীভাবে ইসরায়েলগামী বিমানের পাইলট হিসেবে কাজ করছিলেন—এ প্রশ্নেরও জবাব দিয়েছেন নেতানিয়াহু।

তিনি বলেন, ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই—এমন দেশের পাইলটদের সাধারণত ইসরায়েলে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয় না। তাঁর ভাষায়, এ ক্ষেত্রে কোনো ‘ফাঁকফোকর’ ছিল। ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা আর না ঘটে, সে জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং এ কাজে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার সহযোগিতা করছে।

১৭৪ যাত্রীর জীবন বাঁচিয়ে প্রশংসিত পাইলট

হামলার পর রক্তাক্ত অবস্থায়ও উড়োজাহাজটি নিরাপদে অবতরণ করিয়ে ১৭৪ যাত্রীর জীবন রক্ষা করায় প্রধান পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিথ মছার ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছেন।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর প্রশংসা করেছেন এবং তাঁকে ‘নায়ক’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

বৃহস্পতিবার সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত দীপক মিত্তাল হাসপাতালে গিয়ে স্মিথ মছারের সঙ্গে দেখা করেন। পরে ভারতীয় মিশন জানায়, তিনি ভালো আছেন এবং দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠছেন।

এদিকে ইসরায়েলের পৃথক তদন্তেও প্রাথমিকভাবে উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত করার উদ্দেশ্যে হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের নেতৃত্বে পরিচালিত তদন্তে তেল আবিবে পৌঁছানোর পর যাত্রীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলে বিবিসি আরবিকে জানিয়েছেন দেশটির এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা।

কালের আলো/এসএ