খুঁজুন
                               
, ,
           

শর্করা নিয়ন্ত্রণে খাবারে রাখুন যেসব পুষ্টি উপাদান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ১১:১৬ পূর্বাহ্ণ
শর্করা নিয়ন্ত্রণে খাবারে রাখুন যেসব পুষ্টি উপাদান

রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে শুধু ওষুধের ওপর নির্ভর না করে খাবারের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। সুষম খাদ্যাভ্যাস শরীরে গ্লুকোজের ব্যবহার, ইনসুলিনের কার্যকারিতা এবং খাবারের পর রক্তে শর্করা বৃদ্ধির গতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত প্রোটিন, ফাইবার, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ও ম্যাগনেসিয়াম রাখা উপকারী হতে পারে। ডিম, মাছ, মুরগি ও পনিরের মতো প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার কার্বোহাইড্রেটের সঙ্গে খেলে খাবারের পর গ্লুকোজ দ্রুত বাড়ার প্রবণতা কিছুটা কমাতে পারে।

এ ছাড়া দ্রবণীয় ফাইবার হজম ও গ্লুকোজ শোষণের গতি ধীর করতে সহায়তা করে। বেরি, কিউই, অ্যাভোকাডো, পালং শাক ও লাউয়ের মতো খাবার থেকে ফাইবার পাওয়া যায়।

তৈলাক্ত মাছ ও আখরোটে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সরাসরি রক্তে শর্করা কমায় না। তবে এটি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে বিপাকীয় স্বাস্থ্যে ভূমিকা রাখতে পারে।

গ্লুকোজ বিপাকের বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় ম্যাগনেসিয়ামেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। শাকসবজি, বাদাম, বীজ ও মাছ ম্যাগনেসিয়ামের ভালো খাদ্য উৎস। তবে শুধু রক্তে শর্করা বেশি থাকার কারণে নিজে থেকে ম্যাগনেসিয়াম বা অন্য কোনো সাপ্লিমেন্ট শুরু করা উচিত নয়।

অন্যদিকে, আয়রনের ঘাটতি থাকলে HbA1c পরীক্ষার ফল কিছু ক্ষেত্রে প্রকৃত অবস্থার তুলনায় বেশি দেখা যেতে পারে। তবে HbA1c কমানোর উদ্দেশ্যে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া আয়রন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা ঠিক নয়, কারণ অতিরিক্ত আয়রনও শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

সব মিলিয়ে, রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে কোনো একটি ‘জাদুকরী’ পুষ্টি উপাদানের ওপর নির্ভর না করে প্রোটিন, ফাইবার, স্বাস্থ্যকর চর্বি ও প্রয়োজনীয় খনিজসমৃদ্ধ সুষম খাবার খাওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ডায়াবেটিস থাকলে খাদ্যাভ্যাস বা সাপ্লিমেন্টে বড় পরিবর্তনের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

কালের আলো/এমএসআইপি

আইডিএলসি ফাইন্যান্সে ডেটা সায়েন্টিস্ট নিয়োগ

চাকরি ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৩৩ অপরাহ্ণ
আইডিএলসি ফাইন্যান্সে ডেটা সায়েন্টিস্ট নিয়োগ

IDLC Finance PLC তাদের ক্রেডিট-এসএমই বিভাগে ‘ডেটা সায়েন্টিস্ট (ক্রেডিট-এসএমই)’ পদে নিয়োগ দিচ্ছে।

চাকরির তথ্য

  • পদ: ডেটা সায়েন্টিস্ট (ক্রেডিট-এসএমই)
  • পদমর্যাদা: অফিসার গ্রেড-২ থেকে সিনিয়র অফিসার
  • কর্মস্থল: ঢাকা, গুলশান
  • চাকরির ধরন: ফুলটাইম
  • বয়স: ন্যূনতম ২২ বছর
  • বেতন: প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুযায়ী, আলোচনা সাপেক্ষে
  • অভিজ্ঞতা: সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে কমপক্ষে ১ বছর; ফ্রেশাররাও আবেদন করতে পারবেন
  • আবেদনের শেষ তারিখ: ৫ অক্টোবর ২০২৬

শিক্ষাগত যোগ্যতা

পরিসংখ্যান, ডেটা সায়েন্স, এমআইএস বা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকতে হবে।

যেসব দক্ষতা প্রয়োজন

  • R, Shiny ও SQL-এ কাজের অভিজ্ঞতা
  • মেশিন লার্নিং মডেল সম্পর্কে ধারণা
  • পরিসংখ্যানগত নীতি ও পদ্ধতি সম্পর্কে ভালো জ্ঞান
  • ডেটা অ্যানালিটিকস ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা
  • জটিল বিশ্লেষণ সহজভাবে উপস্থাপনের সক্ষমতা

প্রধান দায়িত্ব

ক্রেডিট-এসএমই বিভাগের ঋণ আবেদন ও ঋণের পারফরম্যান্স ডেটা বিশ্লেষণ, প্রবণতা শনাক্তকরণ, রিপোর্ট ও সুপারিশ তৈরি, ড্যাশবোর্ড তৈরি এবং ক্রেডিট স্কোরিং মডেল তৈরি ও মূল্যায়ন করা।

আবেদন করতে: বিস্তারিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ও আবেদন

শেষ সময়: ৫ অক্টোবর ২০২৬।

কালের আলো/এসএ

ইউআইইউতে ডিজিটাল নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিনির্ভর সহিংসতা নিয়ে কর্মশালা

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:২৮ অপরাহ্ণ
ইউআইইউতে ডিজিটাল নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিনির্ভর সহিংসতা নিয়ে কর্মশালা

অনলাইনে ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা, সাইবার হয়রানি ও প্রযুক্তিনির্ভর লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সচেতনতা বাড়াতে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে (ইউআইইউ) কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার অনুষ্ঠিত ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিনির্ভর লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতাবিষয়ক সচেতনতামূলক কর্মশালা’ শীর্ষক আয়োজনে শিক্ষার্থীদের অনলাইন নিরাপত্তা সম্পর্কে বাস্তবভিত্তিক ধারণা দেওয়া হয়। প্রযুক্তির অপব্যবহারের মাধ্যমে সংঘটিত বিভিন্ন ধরনের লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা নিয়েও আলোচনা করা হয়।

কাশফুল ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় কর্মশালাটির আয়োজন করে ইউআইইউর ডিরেক্টরেট অব ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং অ্যান্ড স্টুডেন্ট অ্যাফেয়ার্স (ডিসিসিএসএ)।

কর্মশালায় বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। তবে একই সঙ্গে বাড়ছে ভুয়া অ্যাকাউন্ট, অনলাইন প্রতারণা, ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার, অ্যাকাউন্ট চুরি, সাইবার নিপীড়ন ও হয়রানির ঝুঁকি। এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় ব্যক্তিগত তথ্য ও অনলাইন পরিচয় সুরক্ষিত রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

আলোচনায় ভুয়া প্রোফাইল ও প্রতারণা শনাক্তের উপায়, ব্যক্তিগত তথ্য ও গোপনীয়তা রক্ষার কৌশল এবং অ্যাকাউন্ট হ্যাক হলে তাৎক্ষণিক করণীয় সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের ধারণা দেওয়া হয়।

আয়োজকেরা জানান, শুধু প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষ হওয়াই যথেষ্ট নয়; নিরাপদ ও দায়িত্বশীল অনলাইন আচরণ গড়ে তোলাও জরুরি। শিক্ষার্থীদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং অনলাইন ঝুঁকি মোকাবিলায় বাস্তবসম্মত প্রস্তুতি তৈরিই কর্মশালাটির মূল লক্ষ্য।

কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির মানবসম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের (এইচআরডিআই) সহকারী পরিচালক আমীর হামজা, কাশফুল ফাউন্ডেশনের কর্মসূচি ও যোগাযোগ বিভাগের পরিচালক তনিমা তাবাসসুম, ইউআইইউর ডিসিসিএসএর পরিচালক নাহিদ হাসান খান, ইউআইইউএলডাব্লিউএফের সভাপতি লুৎফুল খবীর ও সাধারণ সম্পাদক মিরাজুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্টরা।

কালের আলো/এসএ

সন্তান প্রতিপালনে ইসলামের শিক্ষা

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:২৪ অপরাহ্ণ
সন্তান প্রতিপালনে ইসলামের শিক্ষা

সন্তান প্রতিপালনে অতিরিক্ত কঠোরতা যেমন ক্ষতিকর, তেমনি অতিরিক্ত প্রশ্রয়ও শিশুর স্বাভাবিক বিকাশে বাধা তৈরি করতে পারে। ইসলাম সন্তান লালন-পালনে ভালোবাসা, শাসন, ধৈর্য ও নৈতিক শিক্ষার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।

কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘আপনি আপনার রবের পথে আহ্বান করুন প্রজ্ঞা এবং উত্তম উপদেশের মাধ্যমে।’ (সুরা নাহল, আয়াত: ১২৫) পরিবারে সন্তানের ক্ষেত্রেও প্রজ্ঞা ও কোমলতার এই নীতি গুরুত্বপূর্ণ।

আল্লাহ আরও বলেন, ‘আল্লাহর দয়াতেই আপনি তাদের প্রতি কোমল হৃদয় হয়েছেন; যদি আপনি রূঢ়ভাষী ও কঠিন মনের হতেন, তবে তারা সবাই আপনার চারপাশ থেকে দূরে সরে যেত।’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৫৯)

তবে সন্তানকে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে ছেড়ে দেওয়াও ইসলামের শিক্ষা নয়। কোরআনে পরিবারকে নৈতিকভাবে সুরক্ষিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, ‘তোমরা নিজেদের এবং তোমাদের পরিবারবর্গকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করো।’ (সুরা তাহরিম, আয়াত: ৬)

নবীজির আচরণে ছিল স্নেহ ও কোমলতা

রাসুলুল্লাহ (সা.) শিশুদের প্রতি গভীর ভালোবাসা প্রদর্শন করতেন। তিনি তাঁর দৌহিত্র হাসান (রা.)-কে ভালোবাসতেন এবং তাঁর জন্য দোয়া করতেন। শিশুদের আদর না করা প্রসঙ্গে তিনি দয়া ও মমতার গুরুত্বও তুলে ধরেছেন।

হাদিসে এসেছে, ‘যেকোনো বিষয়ের সঙ্গে যখন কোমলতা যুক্ত হয়, তখন তা সেই বিষয়কে সুন্দর ও পূর্ণাঙ্গ করে তোলে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৫৯৪)

হজরত আনাস (রা.)-এর বর্ণনা অনুযায়ী, পরিবার ও শিশুদের প্রতি নবীজি (সা.)-এর মতো অধিক দয়ালু মানুষ তিনি দেখেননি।

বয়স অনুযায়ী শিক্ষা দেওয়ার গুরুত্ব

সন্তানকে কোনো ভালো কাজে অভ্যস্ত করতে ধৈর্য ও ধারাবাহিকতার প্রয়োজন। নামাজের বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) সন্তানদের সাত বছর বয়স থেকে নির্দেশ দিতে এবং ধীরে ধীরে অভ্যাস করানোর কথা বলেছেন। এতে বোঝা যায়, গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষা একদিনে চাপিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে ছোটবেলা থেকেই ধীরে ধীরে গড়ে তোলা উচিত।

শারীরিক শাসনে সতর্কতা

সন্তানকে শাসনের ক্ষেত্রে রাগ বা প্রতিশোধের মনোভাব ইসলাম সমর্থন করে না। শাসনের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত সংশোধন। শিশুর মুখ বা সংবেদনশীল অঙ্গে আঘাত করা এবং এমনভাবে শাসন করা যাতে শরীরে ক্ষত বা দাগ সৃষ্টি হয়—এসব বিষয়ে ইসলামি শিক্ষায় কঠোর সতর্কতা রয়েছে।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নিজের আচরণও ছিল কোমলতার উদাহরণ। হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেছেন, নবীজি (সা.) নিজের হাতে কোনো নারী বা সেবককে আঘাত করেননি।

গালমন্দ ও বদদোয়া নয়

শুধু শারীরিক আঘাত নয়, কটু কথা, অপমান, গালমন্দ কিংবা সন্তানের প্রতি বদদোয়াও শিশুর মনে গভীর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। রাসুলুল্লাহ (সা.) মুমিনকে কটুভাষী, অভিশাপকারী ও অশ্লীলভাষী হতে নিষেধ করেছেন।

সন্তানদের ওপর বদদোয়া করতেও নিষেধ করেছেন তিনি। তাই ভুল করলে অপমান না করে বোঝানো, সংশোধনের সুযোগ দেওয়া এবং ভালো আচরণের মাধ্যমে দিকনির্দেশনা দেওয়াই ইসলামের শিক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

সন্তান মা-বাবার জন্য একটি আমানত। তাকে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে শুধু কঠোর শাসন বা সীমাহীন প্রশ্রয় নয়—ভালোবাসা, ধৈর্য, নৈতিক শিক্ষা, সঠিক দিকনির্দেশনা এবং মা-বাবার নিজেদের উত্তম আচরণই গুরুত্বপূর্ণ।

কালের আলো/এসএ