ট্রাম্পের দাবি, ‘মোজতবা খামেনি মারা যাননি, গুরুতর আহত’
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি মারা যাননি, তবে সামরিক হামলায় তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন-এমন দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump।
বুধবার (২৬ আগস্ট) মার্কিন ভাষ্যকার গ্লেন বেককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, মোজতবা খামেনির শরীরের বাম পাশ, বিশেষ করে হাত ও পা, মারাত্মকভাবে আহত হয়েছে। তবে তিনি জীবিত আছেন বলেই মনে করেন ট্রাম্প।
ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন কয়েক মাস ধরে ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে জনসমক্ষে দেখা যাচ্ছে না। ফলে তাঁর শারীরিক অবস্থা ও অবস্থান নিয়ে নানা জল্পনা চলছে।
মোজতবা খামেনি মারা গেছেন কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, তিনি তা মনে করেন না। তবে যদি তিনি মারা গিয়ে থাকেন, তাহলে ইরানের কর্মকর্তারা বিষয়টি গোপন রেখে ‘বেশ ভালো অভিনয়’ করছেন।
ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানি কর্মকর্তারা এখনো বিভিন্ন সিদ্ধান্তের বিষয়ে সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে পরামর্শ করার কথা বলছেন। তবে মোজতবা খামেনির বর্তমান শারীরিক অবস্থার বিষয়ে ট্রাম্প তাঁর বক্তব্যের পক্ষে কোনো প্রকাশ্য প্রমাণ দেননি।
রয়টার্সের আগের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ফেব্রুয়ারির ২৮ তারিখের মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় মোজতবা খামেনি আহত হন। ওই হামলাতেই তাঁর বাবা ও সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন।
পরবর্তী সময়ে মোজতবা খামেনিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা করা হয়। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার পরও তিনি দীর্ঘ সময় জনসমক্ষে অনুপস্থিত থাকায় তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়। রয়টার্সের সূত্রগুলো এর আগে জানিয়েছিল, তাঁর মুখ ও পায়ে গুরুতর আঘাত লেগেছিল এবং তিনি উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণে যুক্ত থাকলেও প্রকাশ্যে আসেননি।
তেহরান অবশ্য মোজতবা খামেনির গুরুতর অসুস্থতা বা অক্ষমতার বিভিন্ন খবর প্রত্যাখ্যান করে আসছে। এর আগে ইরানি কর্মকর্তারা তাঁকে সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানিয়েছিলেন। মার্চে এক ইরানি কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছিলেন, তিনি আহত হলেও কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
ফলে বর্তমানে মোজতবা খামেনির প্রকৃত শারীরিক অবস্থা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি ও ইরানের বক্তব্যের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত নিয়েও কথা বলেন। তিনি দাবি করেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী বড় ধরনের সাফল্য অর্জন করছে এবং যুদ্ধ ‘খুব শিগগির’ শেষ হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি মার্কিন নৌবাহিনীর অভিযানের প্রশংসা করেন।
তবে মোজতবা খামেনির শারীরিক অবস্থা নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যকে আপাতত নিশ্চিত তথ্যের বদলে মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি হিসেবেই দেখা হচ্ছে, কারণ তাঁর বর্তমান অবস্থার স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো নির্ভরযোগ্য প্রকাশ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
সুত্রঃ রয়টার্স
কালের আলো/এসএ

আপনার মতামত লিখুন
Array