খুঁজুন
                               
, ,
           

নতুন ভূমিধসের শঙ্কা, জিরং স্থলবন্দরে চীনের উদ্ধার অভিযান স্থগিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ২:১৪ অপরাহ্ণ
নতুন ভূমিধসের শঙ্কা, জিরং স্থলবন্দরে চীনের উদ্ধার অভিযান স্থগিত

নেপাল সীমান্তসংলগ্ন জিরং স্থলবন্দরের কাছে উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে চীন। গত বুধবারের ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের পর ওই এলাকায় নতুন করে ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।

চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভির শুক্রবারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসের কারণে পার্বত্য এলাকায় একটি কৃত্রিম হ্রদের সৃষ্টি হয়েছে। গত ৪৮ ঘণ্টায় হ্রদটির পানির স্তর ক্রমাগত বাড়ছে। ফলে যেকোনো সময় হ্রদটি ভেঙে গিয়ে প্রবল পানির স্রোত, কাদা ও পাথরের ধস নামতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পরিস্থিতি এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে যে উদ্ধারকারী দলগুলোর পক্ষে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত জিরং স্থলবন্দরের দিকে এগিয়ে যাওয়া আপাতত সম্ভব হচ্ছে না। সিসিটিভির সঙ্গে থাকা এক প্রতিবেদক জানান, সামনের সারির দল থেকে জরুরি নির্দেশনা পাওয়ার পর সব উদ্ধারকারীকে জিরং বন্দরের দিকে আর না এগোতে বলা হয়েছে।

সিসিটিভি জানিয়েছে, উদ্ধারকারী দলের বেশির ভাগ সদস্য বর্তমানে জিরং শহরের লাওজিয়াং গ্রামের প্রবেশমুখে অবস্থান করছেন। গ্রামটি চীন-নেপাল সীমান্ত থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার দূরে।

এর আগে বুধবারের ভয়াবহ পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসে নেপাল ও চীন সীমান্তবর্তী পার্বত্য এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। দুর্যোগের পর থেকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চলছে। তবে নতুন করে ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় উদ্ধার তৎপরতাও এখন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

কালের আলো/এসএ

পরিবেশ ও জ্বালানি খাতে বাংলাদেশকে ১২ মিলিয়ন ইউরো অনুদান জার্মানির

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ২:৫৪ অপরাহ্ণ
পরিবেশ ও জ্বালানি খাতে বাংলাদেশকে ১২ মিলিয়ন ইউরো অনুদান জার্মানির

ম্যানগ্রোভ ও সামুদ্রিক সম্পদ সুরক্ষা এবং জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধির দুটি প্রকল্পে বাংলাদেশকে মোট ১২ মিলিয়ন ইউরো অনুদান দেবে জার্মানি। এ লক্ষ্যে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাজধানীর অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে (ইআরডি) বাংলাদেশ ও জার্মানির মধ্যে দুটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।

বাংলাদেশের পক্ষে ইআরডির অতিরিক্ত সচিব ও ইউরোপ উইংয়ের প্রধান ড. রোকসানা তারান্নুম এবং জার্মান সরকারের পক্ষে জিআইজেডের কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্ক গোমবার্ট নিজ নিজ পক্ষে এমওইউতে স্বাক্ষর করেন।

‘বেটার প্রটেকশন অব ম্যানগ্রোভস, সোয়াম্প ফরেস্টস অ্যান্ড মেরিন এরিয়াস (কানেক্ট)’ প্রকল্পে ৫ মিলিয়ন ইউরো অনুদান দেবে জার্মানি। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৭১ কোটি ৫২ লাখ টাকা। মৎস্য অধিদপ্তর ও বন অধিদপ্তর যৌথভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।

এই প্রকল্পের আওতায় উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণে সামুদ্রিক ও উপকূলীয় সম্পদের সুরক্ষা, পুনরুদ্ধার এবং টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

অন্যদিকে ‘এনার্জি এফিশিয়েন্সি ফর সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট (ইই৪ডেভ)’ প্রকল্পে ৭ মিলিয়ন ইউরো বা প্রায় ১০০ কোটি ১২ লাখ টাকা অনুদান দেবে জার্মানি। স্রেডা ও বিএসটিআই যৌথভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।

সরকারি-বেসরকারি অংশীজনের অংশগ্রহণে শিল্পকারখানা ও আবাসিক ভবনে জ্বালানি ব্যবহারের দক্ষতা বাড়ানো এবং জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুতের ব্যবহার কমানো হবে এই প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য।

উল্লেখ্য, ১৯৭২ সাল থেকে জার্মানি বাংলাদেশের অন্যতম উন্নয়ন সহযোগী। এ পর্যন্ত দেশটি বাংলাদেশকে প্রায় ৪ বিলিয়ন ইউরোর আর্থিক ও কারিগরি সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বর্তমানে জিআইজেডের ১০৯ দশমিক ৬২ মিলিয়ন ইউরো অনুদানে বাংলাদেশে ১৯টি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

উদ্ধারকাজের মাঝেই নতুন বিপদ, নেপালে ফের বানের শঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ২:৪৭ অপরাহ্ণ
উদ্ধারকাজের মাঝেই নতুন বিপদ, নেপালে ফের বানের শঙ্কা

মাত্র দুই দিন আগে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় বিপর্যস্ত হয়েছে নেপালের বিভিন্ন এলাকা। এখনও চলছে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম। এর মধ্যেই তিব্বতের দিকে একটি ব্যারিয়ার হ্রদ উপচে পড়ায় দেশটিতে ফের আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

শুক্রবার সীমান্তের ওপারে একটি জলাধারের বাঁধ ভেঙে পানি বেরিয়ে আসার খবর পাওয়ার পর নেপালের রসুয়া এলাকায় উদ্ধারকাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। একই সঙ্গে ত্রিশূলী নদীতে পানির চাপ বাড়ার আশঙ্কায় চিতওয়ান ও ধাদিং এলাকায় হড়পা বানের সতর্কতা জারি করেছে প্রশাসন।

রসুয়া জেলার প্রশাসক নরেন্দ্র পারিয়ার জানান, সীমান্তের ওপারে পানি বেরিয়ে আসার খবর পাওয়ার পর নদীতে পানির প্রবাহ বাড়তে শুরু করেছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় নদীর কাছাকাছি বসবাসকারী মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

চীনের জলসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ছোছেন খোলা ও পুরেপু সাংপো নদীর সংযোগস্থলের কাছে একটি বড় ব্যারিয়ার হ্রদ তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে সেখানে প্রায় ২০ লাখ ঘনমিটার পানি জমেছিল। পরে পানি উপচে পড়তে শুরু করলে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়।

পরিস্থিতির কারণে রসুয়া জেলায় প্রায় ৯০ মিনিটের জন্য হেলিকপ্টারসহ উদ্ধার অভিযানও স্থগিত রাখা হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালানো হয়। উদ্ধারকারী দল, নিরাপত্তাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে নেপাল পুলিশ।

এদিকে ত্রিশূলী নদীতে আকস্মিকভাবে বিপুল পরিমাণ পানি নেমে আসার আশঙ্কায় চিতওয়ান ও ধাদিংয়েও সতর্কতা জারি করা হয়েছে। নদীসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ দূরত্বে থাকতে এবং প্রয়োজনে উঁচু এলাকায় আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে।

এর মধ্যেই ভয়াবহ বন্যায় নেপালে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৭২ জনে দাঁড়িয়েছে। নেপাল ও তিব্বত মিলিয়ে প্রায় দেড় হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। নেপাল সরকারের হিসাবে ৫১৭ জন বিদেশি নাগরিকও এখনও নিখোঁজ।

বিপর্যস্ত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণকাজে ১৩ হাজারের বেশি নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে নেপাল পুলিশের ৭ হাজার ২৫০, সেনাবাহিনীর ৪ হাজার ২০০ এবং আর্মড পুলিশ ফোর্সের ১ হাজার ৮৪৫ সদস্য রয়েছেন। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে ১৫টি হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে।

সরকারি হিসাবে এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৫২৩ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে ১ হাজার ১৯৬ জনকে।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত রসুয়া, নুয়াকোট ও ধাদিং জেলার জন্য আর্থিক সহায়তাও ঘোষণা করেছে নেপাল সরকার। রসুয়া ও নুয়াকোটকে এক কোটি করে এবং ধাদিং জেলাকে ৫০ লাখ নেপালি রুপি সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

ভয়াবহ বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার আগেই নতুন করে বানের আশঙ্কায় নেপালের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। উদ্ধার ও ত্রাণকাজের পাশাপাশি নদী তীরবর্তী এলাকায় সতর্কতা জোরদার করেছে প্রশাসন।

কালের আলো/এমএসআইপি

গণহত্যার দায়ে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ম্লাদিচের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ২:০২ অপরাহ্ণ
গণহত্যার দায়ে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ম্লাদিচের মৃত্যু

গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক সার্বীয় জেনারেল রাতকো ম্লাদিচ মারা গেছেন। নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগের একটি কারাগারে বন্দী অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার সার্বিয়ার রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আরটিএস এ তথ্য জানিয়েছে।

১৯৯৫ সালের স্রেব্রেনিৎসা গণহত্যায় ভূমিকার জন্য ‘বসনিয়ার কসাই’ নামে পরিচিত ছিলেন ম্লাদিচ। সাম্প্রতিক মাসগুলোয় তিনি কয়েকবার স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতির কারণে তাঁকে মুক্তি দেওয়ার আবেদন জানিয়েছিল তাঁর পরিবার ও সার্বিয়ার সরকারি কর্মকর্তারা। তবে সেই আবেদন প্রত্যাখ্যান করে দ্য হেগের সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনাল।

স্রেব্রেনিৎসা গণহত্যার ঘটনায় গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড ভোগ করছিলেন ম্লাদিচ।

১৯৯২ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত চলা বসনিয়া যুদ্ধ ছিল সাবেক যুগোস্লাভিয়ায় সমাজতন্ত্রের পতনের পর ছড়িয়ে পড়া রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অন্যতম ভয়াবহ অধ্যায়। ওই যুদ্ধে প্রায় ১ লাখ মানুষ নিহত এবং ২২ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হন।

যুদ্ধের সবচেয়ে নৃশংস অধ্যায়গুলোর একটি ছিল স্রেব্রেনিৎসা গণহত্যা। জাতিসংঘের সুরক্ষিত এলাকা হিসেবে ঘোষিত স্রেব্রেনিৎসায় আশ্রয় নেওয়া বসনিয়ার মুসলিম পুরুষ ও কিশোরদের মধ্যে প্রায় ৮ হাজার মানুষকে ম্লাদিচের নেতৃত্বাধীন সার্ব বাহিনী হত্যা করে।

তখনকার ভিডিও ফুটেজে ম্লাদিচকে নারী ও শিশুদের সরিয়ে নেওয়ার আগে শিশুদের হাতে মিষ্টি তুলে দিতে দেখা যায়। এরপর পুরুষ ও কিশোরদের একটি বনে নিয়ে হত্যা করা হয়।

হত্যার পর মরদেহগুলো গণকবরে ফেলে দেওয়া হয়। পরে হত্যাকাণ্ডের প্রমাণ গোপন করতে অনেক গণকবর থেকে মরদেহ তুলে অন্য জায়গায় পুনরায় দাফন করা হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে আসে।

স্রেব্রেনিৎসা থেকে পালিয়ে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিরা সার্ব বাহিনীর হাতে হত্যা, নির্যাতন ও ধর্ষণের ভয়াবহ বিবরণ দিয়েছেন।

১৯৯৫ সালের নভেম্বরে সাবেক যুগোস্লাভিয়ার জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ম্লাদিচের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে। সামরিক পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হলেও তিনি দীর্ঘ ১৬ বছর গ্রেপ্তার এড়িয়ে ছিলেন।

শুরুর দিকে সার্বিয়ার সামরিক বাহিনীর সহায়তায় অনেকটা প্রকাশ্যেই জীবনযাপন করেছেন ম্লাদিচ। দেশটির একটি অংশ তাঁকে এখনো নায়ক হিসেবে দেখে।

তবে ২০০০ সালে স্লোবোদান মিলোসেভিচ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তাঁর ওপর চাপ বাড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত ২০১১ সালের মে মাসে সার্বিয়ায় গ্রেপ্তার হন ম্লাদিচ। পরে তাঁকে দ্য হেগে নেওয়া হয়।

বিচারের পুরো প্রক্রিয়ায় ম্লাদিচ গণহত্যা ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ অস্বীকার করে গেছেন। আদালতে একাধিকবার ক্ষুব্ধ বক্তব্যও দেন তিনি। বিচারকদের উদ্দেশে আদালতকে ‘পশ্চিমা শক্তির সন্তান’ বলে আখ্যা দেওয়ার পাশাপাশি নিজেকে ‘ন্যাটো জোটের লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে তুলে ধরেছিলেন।

২০১৭ সালে তাঁকে গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ২০২১ সালে আপিলেও সেই সাজা বহাল থাকে।

মুসলিম ও বসনীয়দের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা থেকে বিতাড়িত করে তথাকথিত ‘বৃহত্তর সার্বিয়া’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ব্যাপক জাতিগত নিধন অভিযান পরিচালনার জন্যও তাঁকে দায়ী করা হয়।

তৎকালীন ট্রাইব্যুনাল ম্লাদিচের আমলে সংঘটিত অপরাধকে ‘মানবজাতির জানা সবচেয়ে জঘন্য অপরাধগুলোর মধ্যে অন্যতম’ বলে অভিহিত করেছিল। সাবেক জাতিসংঘ মানবাধিকারপ্রধান জেইদ রা’দ আল-হুসেইন তাঁকে ‘অশুভর প্রতিমূর্তি’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।

জীবনের শেষ দিকে ম্লাদিচের আইনজীবীরা মানবিক কারণে তাঁর মুক্তির আবেদন করেন। তাঁদের যুক্তি ছিল, তিনি গুরুতর ও নিরাময়-অযোগ্য শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন এবং এমন অবস্থায় তাঁকে কারাগারে রাখা অমানবিক শাস্তির পর্যায়ে পড়ে।

তবে সেই আবেদন গ্রহণ করা হয়নি। শেষ পর্যন্ত দ্য হেগের কারাগারেই মৃত্যু হলো সাবেক এই সার্বীয় সামরিক প্রধানের।

ম্লাদিচের বয়স নিয়েও দীর্ঘদিন বিতর্ক ছিল। তিনি দাবি করতেন, তাঁর জন্ম ১৯৪৩ সালের মার্চে। তবে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের নথিতে তাঁর জন্মসন ১৯৪২ সাল উল্লেখ করা হয়েছে।

কালের আলো/এসএ