খুঁজুন
                               
, ,
           

উদ্ধারকাজের মাঝেই নতুন বিপদ, নেপালে ফের বানের শঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ২:৪৭ অপরাহ্ণ
উদ্ধারকাজের মাঝেই নতুন বিপদ, নেপালে ফের বানের শঙ্কা

মাত্র দুই দিন আগে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় বিপর্যস্ত হয়েছে নেপালের বিভিন্ন এলাকা। এখনও চলছে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম। এর মধ্যেই তিব্বতের দিকে একটি ব্যারিয়ার হ্রদ উপচে পড়ায় দেশটিতে ফের আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

শুক্রবার সীমান্তের ওপারে একটি জলাধারের বাঁধ ভেঙে পানি বেরিয়ে আসার খবর পাওয়ার পর নেপালের রসুয়া এলাকায় উদ্ধারকাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। একই সঙ্গে ত্রিশূলী নদীতে পানির চাপ বাড়ার আশঙ্কায় চিতওয়ান ও ধাদিং এলাকায় হড়পা বানের সতর্কতা জারি করেছে প্রশাসন।

রসুয়া জেলার প্রশাসক নরেন্দ্র পারিয়ার জানান, সীমান্তের ওপারে পানি বেরিয়ে আসার খবর পাওয়ার পর নদীতে পানির প্রবাহ বাড়তে শুরু করেছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় নদীর কাছাকাছি বসবাসকারী মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

চীনের জলসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ছোছেন খোলা ও পুরেপু সাংপো নদীর সংযোগস্থলের কাছে একটি বড় ব্যারিয়ার হ্রদ তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে সেখানে প্রায় ২০ লাখ ঘনমিটার পানি জমেছিল। পরে পানি উপচে পড়তে শুরু করলে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়।

পরিস্থিতির কারণে রসুয়া জেলায় প্রায় ৯০ মিনিটের জন্য হেলিকপ্টারসহ উদ্ধার অভিযানও স্থগিত রাখা হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালানো হয়। উদ্ধারকারী দল, নিরাপত্তাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে নেপাল পুলিশ।

এদিকে ত্রিশূলী নদীতে আকস্মিকভাবে বিপুল পরিমাণ পানি নেমে আসার আশঙ্কায় চিতওয়ান ও ধাদিংয়েও সতর্কতা জারি করা হয়েছে। নদীসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ দূরত্বে থাকতে এবং প্রয়োজনে উঁচু এলাকায় আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে।

এর মধ্যেই ভয়াবহ বন্যায় নেপালে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৭২ জনে দাঁড়িয়েছে। নেপাল ও তিব্বত মিলিয়ে প্রায় দেড় হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। নেপাল সরকারের হিসাবে ৫১৭ জন বিদেশি নাগরিকও এখনও নিখোঁজ।

বিপর্যস্ত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণকাজে ১৩ হাজারের বেশি নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে নেপাল পুলিশের ৭ হাজার ২৫০, সেনাবাহিনীর ৪ হাজার ২০০ এবং আর্মড পুলিশ ফোর্সের ১ হাজার ৮৪৫ সদস্য রয়েছেন। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে ১৫টি হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে।

সরকারি হিসাবে এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৫২৩ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে ১ হাজার ১৯৬ জনকে।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত রসুয়া, নুয়াকোট ও ধাদিং জেলার জন্য আর্থিক সহায়তাও ঘোষণা করেছে নেপাল সরকার। রসুয়া ও নুয়াকোটকে এক কোটি করে এবং ধাদিং জেলাকে ৫০ লাখ নেপালি রুপি সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

ভয়াবহ বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার আগেই নতুন করে বানের আশঙ্কায় নেপালের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। উদ্ধার ও ত্রাণকাজের পাশাপাশি নদী তীরবর্তী এলাকায় সতর্কতা জোরদার করেছে প্রশাসন।

কালের আলো/এমএসআইপি

মুষ্টির শক্তিতে শ্রেষ্ঠত্ব, চ্যাম্পিয়ন ২৪ পদাতিক

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৩৮ অপরাহ্ণ
মুষ্টির শক্তিতে শ্রেষ্ঠত্ব, চ্যাম্পিয়ন ২৪ পদাতিক

বক্সিং—একদিকে আত্মরক্ষার কৌশল, অন্যদিকে শারীরিক সক্ষমতা, মানসিক দৃঢ়তা ও কৌশলগত বুদ্ধিমত্তার কঠিন পরীক্ষা। বিশ্বের বহু দেশে এই খেলা পেশাদার ক্রীড়ার অন্যতম আকর্ষণ হলেও বাংলাদেশে এখনো বক্সিংয়ের বিস্তার তুলনামূলক সীমিত। তবে সেই বাস্তবতায় ধীরে ধীরে পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। আর এই পরিবর্তনের অগ্রভাগে রয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

সেনাবাহিনীর নিয়মিত মুষ্টিযুদ্ধ প্রতিযোগিতা শুধু একটি ক্রীড়া আয়োজন নয়; বরং সম্ভাবনাময় বক্সারদের খুঁজে বের করা, আন্তর্জাতিক পর্যায়ের জন্য প্রস্তুত করা এবং বক্সিংকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠছে। এবারের প্রতিযোগিতায় ২৪ পদাতিক ডিভিশনের চ্যাম্পিয়ন হওয়া সেই ধারাবাহিকতারই নতুন সংযোজন।

যশোর সেনানিবাসে ৫৫ পদাতিক ডিভিশন সদর দপ্তরের আয়োজনে সপ্তাহব্যাপী অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ সেনাবাহিনী মুষ্টিযুদ্ধ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় সেনাবাহিনীর বিভিন্ন অঞ্চলের মোট ১৪টি দল। গত ২২ আগস্ট শুরু হওয়া প্রতিযোগিতার পর্দা নামে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে।

  • সেনাবাহিনীর মুষ্টিযুদ্ধে ১৪ দলের প্রতিদ্বন্দ্বিতা
  • সেনাবাহিনীর বক্সিং প্রতিযোগিতায় নতুন প্রতিভার উত্থান
  • পেশাদার অঙ্গনে বাংলাদেশের স্বপ্ন

প্রতিযোগিতার ফাইনাল ফলাফলে ২৪ পদাতিক ডিভিশন চ্যাম্পিয়ন এবং ৬৬ পদাতিক ডিভিশন রানারআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে। অর্থাৎ রিংয়ের লড়াইয়ে শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট উঠেছে ২৪ পদাতিক ডিভিশনের মাথায়। সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ (সিজিএস) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মাইনুর রহমান। তিনি বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

শুধু শিরোপা নয়, নজর নতুন প্রতিভায়
এবারের প্রতিযোগিতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল ব্যক্তিগত সাফল্য। ১৯ পদাতিক ডিভিশনের ল্যান্স কর্পোরাল মো. হোসেন আলী নির্বাচিত হয়েছেন শ্রেষ্ঠ খেলোয়াড়। অন্যদিকে ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের এনসি(ই) শান্ত সাহেব অর্জন করেছেন শ্রেষ্ঠ নবীন খেলোয়াড়ের স্বীকৃতি। এই স্বীকৃতিগুলো দেখিয়ে দেয়, প্রতিযোগিতার লক্ষ্য কেবল দলীয় চ্যাম্পিয়ন নির্ধারণে সীমাবদ্ধ নয়। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত দক্ষতা, সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের জন্য উপযুক্ত বক্সারদেরও সামনে নিয়ে আসা হচ্ছে। বক্সিংয়ে একজন খেলোয়াড়ের সাফল্য শুধু শক্তিশালী ঘুষির ওপর নির্ভর করে না।

প্রয়োজন গতি, ফুটওয়ার্ক, প্রতিপক্ষের কৌশল বুঝে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা, শারীরিক সহনশীলতা এবং চাপের মধ্যে স্থির থাকার মানসিক শক্তি। ফলে সেনাবাহিনীর মতো শৃঙ্খলাবদ্ধ পরিবেশে নিয়মিত প্রশিক্ষণ একজন বক্সারকে প্রতিযোগিতামূলক পর্যায়ে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা তৈরি করতে পারে।

পেশাদার বক্সিংয়ের সম্ভাবনার দরজা
বাংলাদেশে বক্সিংয়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো ধারাবাহিক প্রতিযোগিতা ও পেশাদার ক্যারিয়ারের সুযোগের সীমাবদ্ধতা। প্রতিভা থাকলেও অনেক তরুণের কাছে বক্সিংকে দীর্ঘমেয়াদি পেশা হিসেবে নেওয়ার পথ এখনো স্পষ্ট নয়। এই জায়গাতেই সেনাবাহিনীর আয়োজনগুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

নিয়মিত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে খেলোয়াড়রা প্রতিযোগিতামূলক অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি নিজেদের দক্ষতার ঘাটতি চিহ্নিত করার সুযোগ পাচ্ছেন। একই সঙ্গে জাতীয় পর্যায়ে সম্ভাবনাময় বক্সার বাছাই এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরির সুযোগও তৈরি হচ্ছে।

বাংলাদেশ যদি বক্সিংকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও শক্ত অবস্থানে নিতে চায়, তাহলে শুধু প্রতিভাবান খেলোয়াড় থাকলেই হবে না; প্রয়োজন নিয়মিত প্রতিযোগিতা, আধুনিক প্রশিক্ষণ, দক্ষ কোচিং, স্পোর্টস সায়েন্স, পুষ্টি ব্যবস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক মানের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের ধারাবাহিকতা। সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতাগুলো সেই বৃহত্তর কাঠামো তৈরির একটি কার্যকর ধাপ হতে পারে।

রিং থেকে আন্তর্জাতিক মঞ্চ—চ্যালেঞ্জও কম নয়
তবে সেনাবাহিনীর এই উদ্যোগকে আন্তর্জাতিক সাফল্যে রূপ দিতে হলে পরবর্তী ধাপটি আরও গুরুত্বপূর্ণ। দেশের সেরা বক্সারদের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার উপযোগী করে তুলতে নিয়মিত বিদেশি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ, আন্তর্জাতিক মানের প্রতিপক্ষের সঙ্গে লড়াই এবং আধুনিক প্রশিক্ষণ পদ্ধতির সঙ্গে তাদের পরিচিত করা জরুরি। কারণ জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠত্ব আর আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পদক জয়—দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন পরীক্ষা। আন্তর্জাতিক রিংয়ে প্রতিপক্ষের গতি, কৌশল ও অভিজ্ঞতা মোকাবিলায় প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি।

সেই অর্থে ২৪ পদাতিক ডিভিশনের এবারের চ্যাম্পিয়ন হওয়া শুধু একটি ট্রফি জয়ের ঘটনা নয়। এটি সেনাবাহিনীর বক্সিং চর্চার ধারাবাহিকতা, প্রতিযোগিতার গভীরতা এবং নতুন প্রতিভা তৈরির সম্ভাবনারও একটি প্রতিচ্ছবি।

১৪ দলের লড়াই, সামনে আরও বড় স্বপ্ন
৫৫ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও যশোরের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মো. হাফিজুর রহমানসহ সেনাসদর ও যশোর এরিয়ার ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। ১৪টি দলের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতা শেষ হয়েছে, কিন্তু বক্সিংয়ে সেনাবাহিনীর পথচলা এখানেই শেষ নয়।

বরং প্রতিটি প্রতিযোগিতা যদি নতুন বক্সার তৈরি করে, তাদের আন্তর্জাতিক মঞ্চে পাঠানোর সুযোগ তৈরি করে এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণের আওতায় আনা যায়, তাহলে বাংলাদেশের বক্সিংয়ে নতুন অধ্যায়ের সূচনা সম্ভব। রিংয়ে ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জয় তাই এক দিনের সাফল্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি হতে পারে আরও বড় একটি স্বপ্নের সূচনা—যেখানে সেনাবাহিনীর রিং থেকে উঠে আসা বক্সাররা একদিন আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়ে ফিরবেন, এমন প্রত্যাশাই এখন তৈরি হচ্ছে।

এমএএএমকে

কৃত্রিম লেকের পানি নামছে সাধারণভাবে

কৃত্রিম লেকের পানি কমায় নেপালে বন্যার নতুন শঙ্কা কেটেছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৩৬ অপরাহ্ণ
কৃত্রিম লেকের পানি কমায় নেপালে বন্যার নতুন শঙ্কা কেটেছে

গত বুধবারের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর নেপালে নতুন করে আরেকটি বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। নদীর উজানে কৃত্রিমভাবে তৈরি হওয়া একটি লেকে বিপুল পরিমাণ পানি জমে যাওয়ায় এ শঙ্কা দেখা দেয়। তবে লেকটির পানি ধীরে ধীরে স্বাভাবিকভাবে নেমে যাওয়ায় নতুন করে আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি অনেকটাই কমে এসেছে। এর ফলে নেপাল ও চীনের তিব্বত অঞ্চলে আবারও উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে।

চীনের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ছোচেন খোলা ও পুরেপু সাংপো নদীর মোহনার কাছে কৃত্রিম লেকটি তৈরি হয়। নদী দুটির উৎপত্তি তিব্বতে এবং নেপালে প্রবেশের আগে এগুলো একত্রিত হয়ে ভোটেকোশি নদী নামে প্রবাহিত হয়েছে। ভোটেকোশি নদী ত্রিশূলি নদীর অন্যতম প্রধান ঊর্ধ্ব শাখা।

গত বুধবার ভোটেকোশি নদীতে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। এতে নদীর আশপাশের বিস্তীর্ণ নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। পানির সঙ্গে কাদা ও ধ্বংসাবশেষ প্রবেশ করে বিভিন্ন এলাকায়। নদীর তীরবর্তী বহু অবকাঠামোও বন্যার স্রোতে ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে যায়।

তবে উজানে তৈরি হওয়া কৃত্রিম লেকটির পানি এখন ধীরে ধীরে নিচের দিকে নেমে যাচ্ছে। ফলে একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ পানি নেমে গিয়ে নতুন করে আকস্মিক বন্যা সৃষ্টির আশঙ্কা কমেছে।

চীন ও নেপালের কর্মকর্তারা শুক্রবার (২৮ আগস্ট) জানিয়েছেন, লেকটির পানি স্বাভাবিকভাবে কমছে। চীনের আনেং গ্রুপের থার্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যুরোর কর্মকর্তা ঝো ঝিডং জানান, শুক্রবার সকাল থেকে লেকটির পানির স্তর কমতে শুরু করে।

তিনি বলেন, আগের দিনের তুলনায় শুক্রবার লেকটির পানির গভীরতা প্রায় ১০ মিটার কমেছে। এতে নতুন করে আকস্মিক বন্যার ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে।

এদিকে ভয়াবহ বন্যায় নেপালে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে তিব্বতে হতাহতের সঠিক সংখ্যা এখনো প্রকাশ করেনি চীন।

নতুন করে বন্যার আশঙ্কা কমে যাওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে আরও জোর দিচ্ছে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

পরিবেশ ও জ্বালানি খাতে বাংলাদেশকে ১২ মিলিয়ন ইউরো অনুদান জার্মানির

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ২:৫৪ অপরাহ্ণ
পরিবেশ ও জ্বালানি খাতে বাংলাদেশকে ১২ মিলিয়ন ইউরো অনুদান জার্মানির

ম্যানগ্রোভ ও সামুদ্রিক সম্পদ সুরক্ষা এবং জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধির দুটি প্রকল্পে বাংলাদেশকে মোট ১২ মিলিয়ন ইউরো অনুদান দেবে জার্মানি। এ লক্ষ্যে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাজধানীর অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে (ইআরডি) বাংলাদেশ ও জার্মানির মধ্যে দুটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।

বাংলাদেশের পক্ষে ইআরডির অতিরিক্ত সচিব ও ইউরোপ উইংয়ের প্রধান ড. রোকসানা তারান্নুম এবং জার্মান সরকারের পক্ষে জিআইজেডের কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্ক গোমবার্ট নিজ নিজ পক্ষে এমওইউতে স্বাক্ষর করেন।

‘বেটার প্রটেকশন অব ম্যানগ্রোভস, সোয়াম্প ফরেস্টস অ্যান্ড মেরিন এরিয়াস (কানেক্ট)’ প্রকল্পে ৫ মিলিয়ন ইউরো অনুদান দেবে জার্মানি। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৭১ কোটি ৫২ লাখ টাকা। মৎস্য অধিদপ্তর ও বন অধিদপ্তর যৌথভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।

এই প্রকল্পের আওতায় উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণে সামুদ্রিক ও উপকূলীয় সম্পদের সুরক্ষা, পুনরুদ্ধার এবং টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

অন্যদিকে ‘এনার্জি এফিশিয়েন্সি ফর সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট (ইই৪ডেভ)’ প্রকল্পে ৭ মিলিয়ন ইউরো বা প্রায় ১০০ কোটি ১২ লাখ টাকা অনুদান দেবে জার্মানি। স্রেডা ও বিএসটিআই যৌথভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।

সরকারি-বেসরকারি অংশীজনের অংশগ্রহণে শিল্পকারখানা ও আবাসিক ভবনে জ্বালানি ব্যবহারের দক্ষতা বাড়ানো এবং জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুতের ব্যবহার কমানো হবে এই প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য।

উল্লেখ্য, ১৯৭২ সাল থেকে জার্মানি বাংলাদেশের অন্যতম উন্নয়ন সহযোগী। এ পর্যন্ত দেশটি বাংলাদেশকে প্রায় ৪ বিলিয়ন ইউরোর আর্থিক ও কারিগরি সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বর্তমানে জিআইজেডের ১০৯ দশমিক ৬২ মিলিয়ন ইউরো অনুদানে বাংলাদেশে ১৯টি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি