খুঁজুন
                               
, ,
           

যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতা সত্ত্বেও জাতিসংঘে জলবায়ু প্রস্তাব পাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ১০:৩৮ পূর্বাহ্ণ
যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতা সত্ত্বেও জাতিসংঘে জলবায়ু প্রস্তাব পাস

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় রাষ্ট্রগুলোর আইনি দায় স্বীকার করে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব পাস হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) সাম্প্রতিক পরামর্শমূলক মতামতের প্রতি সমর্থন জানিয়ে আনা এ প্রস্তাব ১৪১-৮ ভোটে গৃহীত হয়। তবে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ঐতিহাসিক কার্বন নিঃসরণকারী দেশ যুক্তরাষ্ট্র এর বিরোধিতা করেছে।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র ভানুয়াতুর উত্থাপিত প্রস্তাবে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় রাষ্ট্রগুলোর সুস্পষ্ট আইনি দায়িত্ব রয়েছে। আইসিজে তাদের ২০২৫ সালের জুলাইয়ে দেওয়া পরামর্শমূলক মতামতে, জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানো এবং বৈশ্বিক উষ্ণতা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দেয়।

যদিও আইসিজের এই মতামত আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক নয়, তবুও এটি ইতোমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন জলবায়ু মামলায় গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। অনেক বিচারকও রায়ে এ মতামতের উল্লেখ করছেন।

তবে বিষয়টি কূটনৈতিক অঙ্গনে বেশ বিতর্ক তৈরি করেছে। গত বছর ব্রাজিলের বেলেমে অনুষ্ঠিত ইউএনএফসিসিসি জলবায়ু আলোচনায় বিষয়টি খুব বেশি গুরুত্ব পায়নি। সৌদি আরব চূড়ান্ত নথিতে এটি অন্তর্ভুক্ত করাকে “লাল রেখা” বলেও উল্লেখ করেছিল।

বুধবারের ভোটাভুটিতে যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব, রাশিয়া, ইসরাইল, ইরান, ইয়েমেন, লাইবেরিয়া ও বেলারুশ প্রস্তাবটির বিপক্ষে ভোট দেয়। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যসহ ১৪১টি দেশ পক্ষে অবস্থান নেয়। ভারত, তুরস্ক, কাতার ও নাইজেরিয়াসহ কয়েকটি দেশ ভোটদানে বিরত ছিল।

ভোটের পর জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, সাধারণ পরিষদের এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক আইন, জলবায়ু ন্যায়বিচার এবং জলবায়ু সংকট থেকে মানুষকে রক্ষায় রাষ্ট্রগুলোর দায়িত্বের শক্তিশালী স্বীকৃতি।

এদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন প্যারিস জলবায়ু চুক্তিসহ একাধিক পরিবেশবিষয়ক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি জীবাশ্ম জ্বালানি উৎপাদন বাড়ানোর নীতি অনুসরণ করছে।

জাতিসংঘে মার্কিন উপরাষ্ট্রদূত ট্যামি ব্রুস বলেন, প্রস্তাবটিতে জীবাশ্ম জ্বালানি নিয়ে “অনুপযুক্ত রাজনৈতিক দাবি” রয়েছে। তিনি দাবি করেন, এ বিষয়ে মহাসচিবকে নতুন প্রতিবেদন দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা ওয়াশিংটন দেখছে না।

এর আগে ফেব্রুয়ারিতে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছিল, প্রস্তাবটি ঠেকাতে ট্রাম্প প্রশাসন কূটনৈতিকভাবে বিভিন্ন দেশের ওপর চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করছিল।

ভোটের আগে জাতিসংঘে ভানুয়াতুর রাষ্ট্রদূত ওদো তেভি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি এখন আর ভবিষ্যতের আশঙ্কা নয়, এটি বাস্তবতা। খরা, ফসলহানি ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে বহু দ্বীপ ও উপকূলীয় অঞ্চল ইতোমধ্যে হুমকির মুখে পড়েছে।

ভানুয়াতুর জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী রালফ রেগেনভানু বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে আইনের শাসনের প্রতি প্রতিশ্রুতি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে এবং জলবায়ু সংকটও এর বাইরে নয়।

জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় ঝুঁকিতে রয়েছে প্রশান্ত মহাসাগরীয় ছোট দ্বীপরাষ্ট্রগুলো। তুভালুর গড় উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ২ মিটার। বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, ২১০০ সালের মধ্যে দেশটির অধিকাংশ এলাকা জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যেতে পারে। নিরাপদ ভবিষ্যতের আশায় দেশটির এক-তৃতীয়াংশের বেশি মানুষ ইতোমধ্যে অস্ট্রেলিয়ার বিশেষ জলবায়ু অভিবাসন ভিসার জন্য আবেদন করেছেন।

অন্যদিকে, নাউরু সরকার জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবিলা এবং ভবিষ্যতে জনগণকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার তহবিল গঠনে ধনী বিদেশিদের কাছে পাসপোর্ট বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে। নাউরুর নাগরিকত্ব কিনে অনেক বিদেশি বিভিন্ন দেশে ভিসামুক্ত ভ্রমণের সুযোগ পাচ্ছেন।

২০১৫ সালের প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি প্রাক-শিল্প যুগের তুলনায় ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। “ওয়ান পয়েন্ট ফাইভ টু স্টে অ্যালাইভ” স্লোগানটি সেখান থেকেই জনপ্রিয় হয়। তবে বিজ্ঞানীরা এখন সতর্ক করছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সীমা অতিক্রম করার ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে।

সূত্র:দ্য গার্ডিয়ান
কালের আলো/এএএন

ডিএমপির কোতোয়ালি থানার নতুন ওসি রবিউল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ৭:১৩ অপরাহ্ণ
ডিএমপির কোতোয়ালি থানার নতুন ওসি রবিউল

ঢাকা মহানগর (ডিএমপি) পুলিশের কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (০৬ জুলাই) ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

কোতোয়ালি থানার ওসি শাহ্ মো. ফয়সাল আহমেদকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা-রমনা বিভাগে বদলি করা হয়েছে।

আর গোয়েন্দা-রমনা বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক কে এম রবিউল ইসলামকে কোতোয়ালি থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশিক্ষণ-প্রযুক্তিগত সহায়তা দেবে যুক্তরাজ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ৭:০২ অপরাহ্ণ
দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশিক্ষণ-প্রযুক্তিগত সহায়তা দেবে যুক্তরাজ্য

দুর্যোগ মোকাবিলায় দেশের সক্ষমতা আরও বাড়াতে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে। এর আওতায় দুর্যোগ প্রস্তুতি ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত সহায়তা, জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজন হলে আর্থিক সহায়তাও পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে সরকার।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সচিবালয়ে এ সমঝোতা স্মারকে সই করেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাইদুর রহমান খান। যুক্তরাজ্যের পক্ষে সই করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত দেশটির হাইকমিশনার সারাহ কুক।

সমঝোতা স্মারক সইয়ের পর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশের মতো দুর্যোগপ্রবণ দেশের জন্য এই সমঝোতা স্মারক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি কোনো একটি নির্দিষ্ট দুর্যোগকে কেন্দ্র করে নয়; ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, বজ্রপাত, ভূমিকম্পসহ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার আওতাধীন যে কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে সহযোগিতার সুযোগ তৈরি করবে।

তিনি বলেন, এই সহযোগিতার আওতায় বাংলাদেশ প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত ও কারিগরি সহায়তা, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং প্রয়োজন হলে আর্থিক সহায়তাও পেতে পারে। বাংলাদেশের দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা এরই মধ্যে অনেক বেড়েছে, তবে নতুন এই অংশীদারত্ব সেই সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করবে।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগঝুঁকিপূর্ণ দেশ। বছরের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধরনের দুর্যোগের মুখোমুখি হতে হয়। তাই দুর্যোগ-পরবর্তী প্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি আগাম প্রস্তুতি জোরদার করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সমঝোতা ভবিষ্যতে সেই প্রস্তুতিকে আরও কার্যকর করবে।

এর আগে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেন, সমঝোতা স্মারকটি যে কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে সহায়তা করার জন্য একটি কার্যকর সহযোগিতা কাঠামো তৈরি করবে। এর মাধ্যমে প্রযুক্তিগত সহায়তা, প্রয়োজনীয় জনবল সহযোগিতা, প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত তথ্য বিনিময় এবং জ্ঞান স্থানান্তরের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করবে।

তিনি বলেন, দুর্যোগের জন্য অপেক্ষা করে পরে ব্যবস্থা নিলে চলবে না। আগেই প্রস্তুত থাকতে হবে। এ কারণেই দুর্যোগ প্রস্তুতি সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারগুলোর একটি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চান, সঠিক প্রযুক্তিগত সহায়তা, দক্ষ জনবল এবং সমন্বিত প্রস্তুতির মাধ্যমে বাংলাদেশ যেন যে কোনো দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকে।

হুমায়ুন কবির জানান, এই সমঝোতা স্মারক শুধু ভূমিকম্প বা অগ্নিকাণ্ডের মতো নির্দিষ্ট দুর্যোগে সীমাবদ্ধ নয়। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার আওতায় পড়া যে কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে সহযোগিতার সুযোগ থাকবে। প্রয়োজন দেখা দিলে আর্থিক সহায়তা চাওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে। তবে মূল গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে প্রযুক্তিগত সহায়তা, জ্ঞান স্থানান্তর, যৌথ প্রশিক্ষণ এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর।

তিনি আরও বলেন, এই সমঝোতার মাধ্যমে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় বাড়বে। ফলে ভবিষ্যতে দুর্যোগ মোকাবিলায় আরও কার্যকর ও সমন্বিত প্রস্তুতি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের দীর্ঘদিনের সহযোগিতার ধারাবাহিকতায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। ২০১০ সাল থেকে দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করছে।

তিনি জানান, এ পর্যন্ত যুক্তরাজ্য বাংলাদেশে দুর্যোগ প্রস্তুতি জোরদারে প্রায় ৬ কোটি পাউন্ড সহায়তা দিয়েছে। নতুন এই সমঝোতা দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস, মানবিক সহায়তা, সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং জ্ঞান বিনিময়ের ক্ষেত্রে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার একটি কাঠামো তৈরি করবে।

সারাহ কুক বলেন, এই অংশীদারত্ব অতীতের সফল সহযোগিতার ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করবে। দুর্যোগ প্রস্তুতি ও ঝুঁকি হ্রাসে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ভবিষ্যতেও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে যুক্তরাজ্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চূড়ান্ত আলোচনা নিয়ে কঠোর বার্তা দিল ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ৬:৫৪ অপরাহ্ণ
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চূড়ান্ত আলোচনা নিয়ে কঠোর বার্তা দিল ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সামরিক হুমকি ও চাপ প্রয়োগ অব্যাহত থাকলে তাদের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তির কোনো আলোচনা শুরু হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে ইরান।

মঙ্গলবার (০৭ জুলাই) সামাজিক মাধ্যম এক্সে এক পোস্টে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, হুমকি বা চাপের পরিবেশে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তির আলোচনা কোনোভাবেই শুরু করবে না তেহরান।

তিনি লিখেছেন, ‘সমঝোতা স্মারকের ১৩ নম্বর অনুচ্ছেদ সম্পূর্ণ পরিষ্কার এবং দ্ব্যর্থহীন: ইরানের বিরুদ্ধে হুমকি যতদিন অব্যাহত থাকবে, ততদিন চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য আলোচনা শুরু হবে না। আপনার স্বাক্ষরের প্রতি অটল থাকুন।’

মূলত, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সর্বশেষ বক্তব্যে আবারও ইরানকে হুমকি দেন, যার জবাবে এই সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেন ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

সোমবার এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে হুমকি দিয়ে বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র হয় ইরানের সঙ্গে আলোচনায় চুক্তিতে পৌঁছাবে, অথবা ‘কাজ শেষ’ (আবারো হামলা) করে দেবে’।

মার্কিন বাহিনী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামো ধ্বংস করতে সক্ষম দাবি করে তিনি আরও বলেন, ‘কাজটা শেষ করা কঠিন হবে না। তবে আমি একটা সমঝোতায় আসতে চাই, কারণ আমি ৯১ মিলিয়ন মানুষকে কষ্ট দিতে চাই না… কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মধ্যেই আমরা তাদের বিদ্যুৎ ও শক্তি উৎপাদন কেন্দ্রগুলো অচল করে দিতে পারি। প্রতিটি কেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাবে এবং তারা তা জানে।’

ট্রাম্পের এই ধরনের হুমকি এবং আলোচনার টেবিলে বসার আহ্বানের দ্বিমুখী নীতিকে তীব্র নিন্দা জানান আরাঘচি।

নিজের পোস্টে ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষ বিদায়ে বিপুল সমাগমের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘লাখ লাখ গর্বিত ইরানি সর্বোচ্চ নেতা এবং তার কীর্তিকে সম্মান জানাতে ঐক্য ও সংহতির সঙ্গে একত্রিত হয়েছে। তারা কিংবা আমাদের সাহসী সশস্ত্র বাহিনী— কেউই কোনো হুমকিকে ভয় পায় না।’

সূত্র: আলজাজিরা, বিবিসি

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ