খুঁজুন
                               
রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ৭ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

কৃষকের টেকসই উন্নয়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে সরকার: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ১০:০২ অপরাহ্ণ
কৃষকের টেকসই উন্নয়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে সরকার: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, সরকার কৃষিখাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কৃষকবান্ধব নীতি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি সরকার কৃষকের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে এ খাতের টেকসই অগ্রগতি নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

সোমবার (২৫ মে) দুপুরে কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলা প্রাঙ্গণে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর আয়োজিত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ‘কুমিল্লা অঞ্চলে টেকসই কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্প’ এবং বাংলাদেশ সাসটেইনেবল রিকভারি, ইমার্জেন্সি প্রিপিয়ার্ডনেস অ্যান্ড রেসপন্স (বি-স্ট্রং) প্রকল্পের আওতায় কৃষক গ্রুপের মাঝে ধান কাটার যন্ত্র (রিপার), ভুট্টা মাড়াই যন্ত্র, এলএলপি, ক্যানভাস পাইপ ও হ্যান্ড স্প্রেয়ার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, কৃষকদের আর্থিক সুরক্ষা, উৎপাদন ব্যয় হ্রাস, কৃষি যান্ত্রিকীকরণের সম্প্রসারণ, সেচ সুবিধা বৃদ্ধি এবং কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকার ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।

তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতিকে টেকসই ও শক্তিশালী করতে হলে কৃষকের অর্থনৈতিক ভিত্তি মজবুত করতে হবে। কৃষক সমৃদ্ধ হলে দেশের অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার দুই মাসের মধ্যে ১০ হাজার টাকা কৃষি ঋণ মওকুফ, কৃষক নিবন্ধন ও কার্ড কার্যক্রম সম্প্রসারণ, মা-বোনদের সামাজিক ও আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ফ্যামিলি কার্ড চালু করেছে।

মন্ত্রী বলেন, অতীতে বিএনপি সরকার দেশের কৃষি উন্নয়নে খাল খনন ও সেচ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। সেই ধারাবাহিকতায় সরকার বাস্তবসম্মত খাল পুনঃখনন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে, যাতে বর্ষার পানি দ্রুত নিষ্কাশন এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করা যায়। এর মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং জলাবদ্ধতা কমবে।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, কৃষি যান্ত্রিকীকরণ এখন সময়ের দাবি। শ্রমিক সংকট ও উৎপাদন ব্যয় কমাতে সরকার ধান কাটা, মাড়াই ও অন্যান্য কৃষি কার্যক্রমে আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারে সহায়তা দিচ্ছে। ইউনিয়নভিত্তিক কৃষক সমিতি ও সংগঠনের মাধ্যমে কৃষিযন্ত্র সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে এর সম্প্রসারণ করা হবে।

মন্ত্রী মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের আরো সক্রিয় ভূমিকা রাখার নির্দেশনা দিয়ে বলেন, কৃষকের সমস্যা সমাধানে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়মিত যোগাযোগ ও পরামর্শসেবা জোরদার করতে হবে।

অনুষ্ঠানে কুমিল্লা অঞ্চলে টেকসই কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পের পরিচালক মোহাম্মদ রাশেদ হাসনাত, বি-স্ট্রং প্রকল্পের পরিচালক সাবিনা ইয়াসমিন, জেলা প্রশিক্ষণ অফিসার মোহাম্মদ রেজাউল করিম ভূঁইয়া, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফাতেমা তুজ জোহরা, উপজেলা কৃষি অফিসার মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন, আদর্শ সদর উপজেলা বিএনপি সভাপতি রেজাউল কাইয়ুম, সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম রায়হান, মো. নিজাম উদ্দিন কায়সারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও কৃষক-কৃষাণিরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে মন্ত্রী সোমবার (২৫ মে) সকালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন। এ সময় মন্ত্রী বলেন, আমরা চাই না এক ইঞ্চি জমিও অনাবাদি থাকুক। প্রতিটি ইঞ্চি জমি ও জলাশয়কে উৎপাদনের আওতায় এনে দেশের খাদ্য উৎপাদন আরো বাড়ানো হবে। কৃষি ও মৎস্য উৎপাদনে প্রতিটি সম্পদকে কাজে লাগানো হবে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, কৃষিজমি, জলাশয় বা অন্য কোনো উৎপাদনক্ষম সম্পদ হোক সবকিছুকেই উৎপাদনের আওতায় আনা হবে। তিনি বলেন, কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জনগণের পুষ্টিচাহিদা পূরণ করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সরকার দেশীয় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন উন্মুক্ত জলাশয়ে ব্যাপক পরিসরে মাছের পোনা অবমুক্ত কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশীয় মাছের উৎপাদন বাড়াতে কাজ করে যাচ্ছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জিয়া হায়দার চৌধুরী, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মো. আবুল বাসার ভূঁঞা, আদর্শ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফাতেমা তুজ জোহরাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

কালের আলো/এসআর/এএএন

ঢাকার বাস টার্মিনাল স্থানান্তরে ভোগান্তি ও ঝুঁকি বাড়বে: আইপিডি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ৬:০৬ অপরাহ্ণ
ঢাকার বাস টার্মিনাল স্থানান্তরে ভোগান্তি ও ঝুঁকি বাড়বে: আইপিডি

যানজট নিরসনে ঢাকার চার আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল—সায়েদাবাদ, মহাখালী, গাবতলী ও ফুলবাড়িয়া—শহরের বাইরে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাবকে অবাস্তব ও অকার্যকর বলে মনে করছে ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি)।

প্রতিষ্ঠানটির মতে, বিদ্যমান পরিবহন ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় না করে শুধু টার্মিনাল স্থানান্তর করলে যানজট কমার পরিবর্তে যাত্রীদের ভোগান্তি, যাতায়াত ব্যয় এবং নিরাপত্তাঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।

রোববার (২১ জুন) আইপিডির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব বিষয় জানানো হয়।

আইপিডি জানায়, পর্যাপ্ত গণপরিবহন সংযোগ, ফিডার সার্ভিস ও লাস্ট মাইল কানেক্টিভিটি নিশ্চিত না করে কেবল টার্মিনালগুলো শহরের প্রান্তে কাঁচপুর, হেমায়েতপুর, টঙ্গী ও কেরানীগঞ্জে সরিয়ে নেওয়া হলে তা ঢাকার পরিবহন সংকট আরও জটিল করবে। এতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ঢাকায় আসা সাধারণ যাত্রী, বিশেষ করে স্বল্প আয়ের মানুষ, নারী, শিশু ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়বেন।

প্রতিষ্ঠানটি বলছে, দুই কোটির বেশি মানুষের এই মহানগরীর যাতায়াত ব্যবস্থাকে টেকসই করতে হলে ঢাকার বর্ধিত নগর এলাকায় নতুন বাস ডিপো ও টার্মিনাল নির্মাণের প্রয়োজন রয়েছে। তবে বিদ্যমান চারটি আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নগর পরিকল্পনা ও বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাই এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার পরামর্শ দিয়েছে আইপিডি।

সম্প্রতি সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ঢাকার যানজট কমাতে ফুলবাড়িয়া-গুলিস্তান বাস টার্মিনাল কেরানীগঞ্জে, মহাখালী টার্মিনাল অস্থায়ীভাবে পূর্বাচলে এবং পরবর্তীতে টঙ্গীর কাছে, গাবতলী টার্মিনাল হেমায়েতপুরে এবং সায়েদাবাদ-যাত্রাবাড়ী টার্মিনাল কাঁচপুরে স্থানান্তর করা হবে।

আইপিডির মতে, ঢাকার যানজটের মূল কারণ হিসেবে বাস টার্মিনালগুলোকে দায়ী না করে পরিবহন খাতের সামগ্রিক অব্যবস্থাপনা, অবৈধ পার্কিং, সড়কে যাত্রী ওঠানামা, চাঁদাবাজি ও বিশৃঙ্খলার বিষয়গুলো আগে সমাধান করা প্রয়োজন। টার্মিনাল এলাকার এসব সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা গেলে আশপাশের সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

আইপিডি জানায়, প্রস্তাবিত চারটি টার্মিনালই মূল শহর থেকে প্রায় ১৫ থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এসব এলাকা থেকে ঢাকার কেন্দ্রে আসার জন্য পর্যাপ্ত মানসম্মত ও সাশ্রয়ী গণপরিবহন ব্যবস্থা এখনো নেই। বিশেষ করে রাতের সময়ে এসব এলাকায় নিরাপত্তা ঝুঁকি রয়েছে। ফলে দূরপাল্লার যাত্রীদের বাড়তি খরচ ও ভোগান্তির মুখে পড়তে হবে।

আইপিডির পর্যবেক্ষণে বলা হয়, দূরের টার্মিনালে নামার পর যাত্রীরা যদি মেট্রোরেল, বিআরটি বা উন্নতমানের লোকাল বাসের মাধ্যমে সহজে গন্তব্যে পৌঁছাতে না পারেন, তাহলে পুরো পরিবহন ব্যবস্থায় নতুন সংকট তৈরি হবে। পাশাপাশি সিএনজি, অ্যাপভিত্তিক যানবাহন কিংবা ছোট যানবাহনের ওপর নির্ভরতা বাড়বে, যা শহরের প্রবেশমুখে যানজট আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

প্রতিষ্ঠানটি আরও জানায়, ঢাকার অভ্যন্তরীণ গণপরিবহন ব্যবস্থা এখনো লাখ লাখ অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ নেওয়ার মতো প্রস্তুত নয়। দূরপাল্লার যাত্রীদের চাপ বাড়লে মেট্রোরেল ও বাস ব্যবস্থায় অতিরিক্ত চাপ তৈরি হবে এবং নগরের ভেতরে বিশৃঙ্খলা আরও বাড়তে পারে।

আইপিডি উল্লেখ করে, ঢাকার বর্তমান অনেক এলাকাই একসময় শহরের প্রান্তে ছিল। গাবতলী, সায়েদাবাদ ও গুলিস্তানও একসময় নগরের বাইরে বা প্রান্তিক এলাকায় ছিল। পরিকল্পনাহীন নগর সম্প্রসারণের কারণে এসব এলাকা এখন কেন্দ্রীয় অংশে পরিণত হয়েছে। তাই শুধু টার্মিনাল সরিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না, বরং সমন্বিত নগর ও পরিবহন পরিকল্পনা প্রয়োজন।

আইপিডি জানায়, বিশ্বের বিভিন্ন বড় শহরে মূল শহরের ভেতরেই আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল রয়েছে। এসব টার্মিনাল শহরের মানুষের যাতায়াত সহজ করে এবং ছোট যানবাহনের চাপ কমাতে ভূমিকা রাখে। তাই বিদ্যমান চারটি বাস টার্মিনাল সরিয়ে না নিয়ে এগুলোর ব্যবস্থাপনা উন্নত করার দিকে নজর দেওয়া উচিত।

ঢাকার বাস টার্মিনাল ও পরিবহন ব্যবস্থাপনা নিয়ে আইপিডির ৮ দফা সুপারিশ হলো—

১. ঢাকার চার বাস টার্মিনাল সরানোর সিদ্ধান্ত বাতিল করা।
২. বিদ্যমান টার্মিনালের আশপাশের অব্যবস্থাপনা দূর করে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা।
৩. প্রস্তাবিত এলাকায় বাস ডিপো নির্মাণ করে বর্তমান টার্মিনালের ওপর চাপ কমানো।
৪. দূরপাল্লার যাত্রীদের জন্য মানসম্মত ফিডার সার্ভিস চালু করা।
৫. বাস রুট রেশনালাইজেশন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন করা।
৬. টার্মিনালকেন্দ্রিক রুট পারমিট, চাঁদাবাজি ও রাজনৈতিক প্রভাব বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া।
৭. যাত্রীদের যাতায়াত পথে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
৮. সমন্বিত টার্মিনাল ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে মাল্টিমোডাল হাব তৈরি করা।

কালের আলো/এসআর/এএএন

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে দুই জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২২০

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ৬:০২ অপরাহ্ণ
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে দুই জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২২০

গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে, একই সময়ে ২২০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

রোববার (২১ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মধ্যে বরিশাল বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৫৪ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১৪ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৪৪ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ২৯ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ২০ জন, খুলনা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৫২ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) এক জন, সিলেট বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) চার জন রয়েছেন।

২৪ ঘণ্টায় ১৫৫ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।

চলতি বছরে এ যাবত মোট চার হাজার ৫৬৮ জন রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। চলতি বছরের ২১ জুন পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন চার হাজার ৯০০ জন।

এর মধ্যে ৬২ দশমিক সাত শতাংশ পুরুষ এবং ৩৬ দশমিক তিন শতাংশ নারী রয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট নয় জনের মৃত্যু হয়েছে।

২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে এক লাখ দুই হাজার ৮৬১ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট ৪১৩ জনের মৃত্যু হয়।

২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে এক লাখ এক হাজার ২১৪ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট ৫৭৫ জনের মৃত্যু হয়।

২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট এক হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয়, পাশাপাশি ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন মোট তিন লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন।

কালের আলো/এসআর/এএএন

ভারত ও বাংলাদেশজুড়ে ছিল জিয়াউলের কিলিং নেটওয়ার্ক : চিফ প্রসিকিউটর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ৪:৪২ অপরাহ্ণ
ভারত ও বাংলাদেশজুড়ে ছিল জিয়াউলের কিলিং নেটওয়ার্ক : চিফ প্রসিকিউটর

ভারত ও বাংলাদেশজুড়ে মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের কিলিং নেটওয়ার্ক ছিল বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।

রোববার (২১ জুন) দুপুরে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আওয়ামী লীগের শাসনামলে শতাধিক গুম ও খুনের ঘটনায় হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জিয়াউলের বিরুদ্ধে আজ গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য দিয়েছেন একজন সেনা কর্মকর্তা। তার জবানবন্দি এখনও চলমান রয়েছে। তিনি ট্রাইব্যুনালের সামনে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর বর্ণনা তুলে ধরেছেন। এর মধ্যে একটি ছিল জিয়াউলের জাফলং অপারেশন। অর্থাৎ র‍্যাবের টিএফআই সেল থেকে দুজন আসামিকে নিয়ে জিয়াউলের নেতৃত্বে জাফলংয়ে গিয়েছিলেন সাক্ষীসহ আরও কয়েকজন সেনা কর্মকর্তা। জাফলংয়ে যাওয়ার পর আরও দুজন আসামিকে নিয়ে আসেন ভারত থেকে আসা সাদা পোশাকের কিছু লোকজন। এরপর এসব আসামিদের বিনিময়ের মাধ্যমে হস্তান্তর করা হয়।

সাক্ষীর বিবরণ দিয়ে আমিনুল ইসলাম বলেন, ভারত থেকে আনা দুজনকে রাস্তায় মাথায় গুলি চালিয়ে হত্যা করেন জিয়াউল আহসান। এভাবেই তিনি হত্যাকাণ্ড চালিয়েছেন। ভারতের লোকজনকে জিয়াউল আহসানের অনুসারীরাই হয়তো নিয়ে আসতেন। তারা কোনো দলের বা কোনো বাহিনীর হতে পারে। অর্থাৎ জিয়াউলের এই কিলিং নেটওয়ার্ক ভারত ও বাংলাদেশজুড়ে ছিল। তবে ভারত থেকে সাদা পোশাকে আসা লোকজন যে দুজন ব্যক্তিকে হস্তান্তর করেছিলেন, তারা কি ভারতের নাকি বাংলাদেশের নাগরিক তা যাচাই-বাছাই করা সম্ভব হয়নি।

চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, বিডিআরের বিভিন্ন সদস্যদকে ধরে এনে দুটো পদ্ধতিতে হত্যা করেছেন জিয়াউল আহসান। এর মধ্যে কাউকে ইনজেকশন পুশ করে, আবার কাউকে মাথায় গুলি ঠেকিয়ে হত্যার পর নদীতে ফেলে দিতেন। এই দুই প্রক্রিয়ায় প্রায় ১০ থেকে ১২ জন বিডিআর সদস্যকে তিনি হত্যা করেছেন বলে জানিয়েছেন সাক্ষী।

কালের আলো/এসএকে