খুঁজুন
                               
মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

‘কোনো থ্রেট অনুভব করছি না, তাই বিশেষ নিরাপত্তার প্রয়োজন নেই’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১:১৪ অপরাহ্ণ
‘কোনো থ্রেট অনুভব করছি না, তাই বিশেষ নিরাপত্তার প্রয়োজন নেই’

পুলিশের এলিট ফোর্স র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) মহাপরিচালক অতিরিক্ত আইজিপি মো. আহসান হাবীব পলাশ বলেছেন, সবকিছু স্বাভাবিক। আমরা এখন পর্যন্ত অস্বাভাবিক কিছু দেখছি না। স্বাভাবিকতাই সবার প্রত্যাশিত। তবুও নিরাপত্তা নিশ্চিতে নিজস্ব কার্যক্রম ও ব্যবস্থা রয়েছে।

ঈদুল আজহার নিরাপত্তা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত কোনো থ্রেট (হুমকি) বোধ করছি না। তাই বিশেষ নিরাপত্তার প্রয়োজন তো নাই।’

মঙ্গলবার (২৬ মে) দেশের জাতীয় এবং অন্যান্য ঈদগাহে ঈদুল আজহার নামাজের নিরাপত্তা এবং দেশবাসীর নির্বিঘ্নে ঈদ উৎসব উদযাপনে র‌্যাবের নেওয়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন তিনি।

ঢাকাসহ সারাদেশে সারাদেশে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি জানতে চাইলে ঢাকার সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে জাতীয় ঈদগাহ মাঠে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব মহাপরিচালক বলেন, আমি তো নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো থ্রেট দেখছি না। আল্লাহর রহমতে আমরা কোনো রকমের থ্রেট বোধ করছি না। তাই এতো নিরাপত্তার তো প্রয়োজন নাই।

তিনি বলেন, ঈদকেন্দ্রিক বা ঈদের নামাজে এতো নিরাপত্তা তো দরকার নাই। সব তো স্বাভাবিক। তাছাড়া সারা দেশের সব জায়গায় সব জামাতে নিরাপত্তা তো দেওয়াও সম্ভব না। আমরা আমাদের র‍্যাবসহ পুলিশের যারা বিভিন্ন কাজ করছেন তাদের সীমিত সামর্থ্য অনুযায়ী সব জায়গায় চেষ্টা করছি। আমরা মনে করি যে নিরাপদ অবস্থায় আমরা বাস করছি। যেসব জায়গায় বা যদি মনে হয় আমাদের এখানে জনসমাগম বেশি সেখানে আমাদের ব্যবস্থা থাকবে।

আমরা আশা করি আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করবো যাতে নিরাপদে আমাদের ঈদের জামাতগুলো শেষ করতে পারি। আমি মনে করি এবার কোনো সমস্যায় পড়বো না।

এবার ঈদ নিরাপত্তায় ব্যতিক্রম কী উদ্যোগ নিয়েছে র‍্যাব? জানতে চাইলে মহাপরিচালক বলেন, সবসময় যেমন শুনে আসছেন স্বাভাবিক তেমনই। এখনো স্বাভাবিক অবস্থা আছে। এ স্বাভাবিকতা আমাদের সবার কাছে প্রত্যাশিত। আমরা চাই এ স্বাভাবিকতাটুকু থাকুক।

তিনি বলেন, আমি মনে করি না কোনো থ্রেট আছে। সুতরাং এরপরেও আর কোনো বিশেষ ব্যবস্থার দরকার আছে বলে মনে করছি না।

ফাঁকা ঢাকার নিরাপত্তা সম্পর্কে তিনি বলেন, ঈদে ঘরমুখো মানুষ সব গ্রামের বাড়িতে চলে যাওয়ার কারণে শহরের জনসংখ্যা কমে যায়। কিছু সিঁধেল চুরির ঘটনা বেড়ে যায়। এজন্য আমাদের অন্যান্যবারের চেয়েও এবার আমাদের বেশি পেট্রোল টিমগুলো কাজ করবে দিনে এবং রাতে এবং গোয়েন্দা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। সর্বোপরি যদি কোনো ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা থাকে সেক্ষেত্রে আমাদের যে আমাদের কন্ট্রোলস ৯৯৯-এ যোগাযোগ করেও মানুষ সহযোগিতা নিতে পারে। আমরা যেকোনো সময় এসব ক্ষেত্রে রেসপন্স করতে প্রস্তুত।

নিরাপত্তা ব্রিফিংয়ে র‍্যাব ডিজি বলেন, ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে অন্যান্য আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে র‍্যাবও ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। তাদের নিজস্ব দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় রোবাস্ট পেট্রোলিং পরিচালনা করছে। এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ এবং গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টহল টিমগুলো কাজ করছে।

প্রধান প্রধান ঈদের জামাতের নিরাপত্তা রক্ষায় বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মোবাইল চেকপোস্ট স্থাপনের মাধ্যমে তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

দেশব্যাপী বিভিন্ন জায়গায় অন্যান্য অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে চেকপোস্ট স্থাপন করে তল্লাশির মাধ্যমে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

বিভিন্ন কালোবাজারি অসাধু ব্যবসায়ীরা অবৈধ মজুতদারি, দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি, খাদ্যে ভেজালসহ নকল দ্রব্য সামগ্রী বাজারজাত করে বাজার পরিস্থিতি যাতে অস্থিতিশীল করতে না পারে সেজন্য র‍্যাবের গোয়েন্দা নজরদারি ও অনলাইন মনিটরিং কার্যক্রম সার্বক্ষণিকভাবে অব্যাহত রয়েছে।

ঈদকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরে জনসমাগম তুলনামূলক কমে যাওয়ায় চুরি, ডাকাতি এবং ছিনতাইয়ের মতো অপরাধ বৃদ্ধি পাওয়ার ঝুঁকি থাকে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাত্রিকালীন নিরাপত্তা চৌকি সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। পাশাপাশি সব মেট্রোপলিটন শহর, জেলা শহর এবং উপজেলা পর্যায়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে রাত্রিকালীন টহল ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

কোরবানির পশুরহাটে ক্রেতাদের ভোগান্তি হতে বিভিন্ন নজরদারি র‌্যাবের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। জাল টাকা প্রতিরোধ এবং শনাক্তে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখাসহ জাল টাকা প্রস্তুতকারীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

দেশের মানুষ নির্বিঘ্নে এবং আনন্দঘন পরিবেশে আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন যাতে করতে পারে সেই লক্ষ্যে ঘরমুখো মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে র‍্যাব সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। সাধারণ জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাস টার্মিনাল, রেল স্টেশন, লঞ্চ টার্মিনাল এবং ফেরিঘাটসহ গুরুত্বপূর্ণ জনসমাগম স্থলে র‌্যাবের সার্বক্ষণিক নজরদারি এবং তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

কোরবানির পশুবাহী যানবাহন যেন জোরপূর্বক কেউ কোনো নির্দিষ্ট হাটে নিয়ে যেতে না পারে, বাধ্য করতে না পারে সে বিষয়ে বিশেষ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঈদ এবং নিয়ে যেন কেউ কোনো গুজব বা বিভ্রান্তিকর পোস্ট করতে না পারে সে ব্যাপারে র‌্যাবের গোয়েন্দা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম অব্যাহত থাকছে।

সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে যেকোনো ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম এবং অপরাধমূলক কার্যক্রম দমনে র‌্যাব সবসময়ের মতো তাদের নিয়মিত পেট্রোল গোয়েন্দা নজরদারি এবং আভিধানিক কার্যক্রমের মাধ্যমে এই পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সর্বাত্মক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে এবং চালিয়ে যাবে বলেও জানান র‍্যাব মহাপরিচালক।

এসময় র‍্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনের আগে র‍্যাব মহাপরিচালক জাতীয় ঈদগাহ ঘুরে ঘুরে দেখেন। খুঁটিনাটি বিষয়ে খোঁজখবর নেন।

কালের আলো/এসএকে

গণমাধ্যমকর্মীদের ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানালেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ২:০৬ অপরাহ্ণ
গণমাধ্যমকর্মীদের ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানালেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশের সকল গণমাধ্যমকর্মী, সম্পাদক ও সংবাদপত্র শিল্পের সাথে জড়িত সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।

এক শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি বলেন, জাতির প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে গণমাধ্যমকর্মীরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে থেকে সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার প্রতিটি ধাপে তাদের অবদান জাতি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান যুগে প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের ফলে তথ্যপ্রবাহ যেমন সহজ হয়েছে, তেমনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ভুয়া ভিডিও, বিকৃত ছবি ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ধরনের অপতৎপরতা রোধে গণমাধ্যমকর্মীদের দায়িত্বশীলতা, পেশাদারিত্ব ও সত্য যাচাইয়ের গুরুত্ব আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি।

বার্তায় তিনি বাংলাদেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্ব, আপসহীন নেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার সংগ্রাম এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তার কথা উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, তাদের অবদান দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং বহুদলীয় গণতন্ত্রকে সুসংহত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

তথ্যপ্রতিমন্ত্রী বলেন, ঈদুল আজহা ত্যাগ, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধের শিক্ষা দেয়। এই পবিত্র উৎসবের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে আমরা যদি সত্য, ন্যায় ও মানবিকতার পথে অবিচল থাকতে পারি, তবে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও সহনশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

তিনি দেশের সকল গণমাধ্যমকর্মী ও তাদের পরিবারবর্গের সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন এবং পবিত্র ঈদুল আজহার আনন্দ সবার জীবনে বয়ে আসুক-এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

বেরোবিতে ঈদে শিবিরের ‘মেজবান’ আয়োজন

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ২:০৬ অপরাহ্ণ
বেরোবিতে ঈদে শিবিরের ‘মেজবান’ আয়োজন

ঈদুল আজহা উপলক্ষে ক্যাম্পাসের আবাসিক হল ও মেসে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিশেষ খাবার ‘মেজবান’ ও ঈদ শুভেচ্ছার আয়োজন করবে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) শাখা ইসলামী ছাত্রশিবির। ঈদের দিন দুপুর ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে এ মেজবানি ভোজের আয়োজন করা হবে।

আয়োজকরা জানান, উৎসবে সাম্য ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিতে ক্যাম্পাসে অবস্থানরত অন্যান্য ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের জন্যও পৃথক মধ্যাহ্নভোজের ব্যবস্থা রাখা হবে।

বেরোবি শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি রাকিব মুরাদ বলেন, প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ত্যাগ, তাকওয়া ও আত্মশুদ্ধির মহান শিক্ষা নিয়ে ঈদুল আজহা সমাগত। আমরা লক্ষ্য করেছি পড়াশোনা ও বিভিন্ন একাডেমিক ব্যস্ততার কারণে অনেক শিক্ষার্থী পরিবার-পরিজন ছেড়ে ক্যাম্পাসে ঈদ উদযাপন করতে বাধ্য হন। তাদের ঘরের অভাব ও একাকিত্ব দূর করতেই ‘মেজবান-ই-ঈদ’ এর আয়োজন।

তিনি আরও বলেন, ভ্রাতৃত্ব, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির এ আয়োজনে ক্যাম্পাসে অবস্থানরত সব শিক্ষার্থীকে আন্তরিকভাবে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।

ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের জন্য আলাদা ব্যবস্থাপনা রয়েছে। আসুন ঈদের আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে দিয়ে ভালোবাসা, সম্প্রীতি ও তাকওয়ার বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করি।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি 

আরাফার ময়দানে লাখো হাজি, পবিত্র হজ আজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১:৪৫ অপরাহ্ণ
আরাফার ময়দানে লাখো হাজি, পবিত্র হজ আজ

লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক ধ্বনিতে মুখরিত এখন সৌদি আরবের আরাফার ময়দান। হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও পবিত্র এই দিনে বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আসা প্রায় ১৫ লাখেরও বেশি ধর্মপ্রাণ মুসলমান আজ মঙ্গলবার ধবধবে সাদা ইহরাম বেঁধে সমবেত হয়েছেন ঐতিহাসিক এই প্রান্তরে। এটি বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম ধর্মীয় জনসমাগম, যেখানে একই লক্ষ্যে শামিল হয়েছেন নানা জাতি ও বর্ণের মানুষ।

সৌদি কর্তৃপক্ষের কঠোর নিরাপত্তা ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনায় হাজিরা শান্তিপূর্ণভাবে আরাফার ময়দানে পৌঁছান। ভিড় সামলাতে এবং হাজিদের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে আগে থেকেই বড় ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছিল দেশটির সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

ভোর থেকেই হাজিদের কাফেলা জাবালে রহমত বা দয়ার পাহাড়ের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। সেখানে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে মহান আল্লাহর দরবারে ক্ষমা ও রহমত কামনায় দুই হাত তুলে কান্নায় ভেঙে পড়েন সমবেত মুসলমানরা। এক আধ্যাত্মিক ও ভাবগম্ভীর পরিবেশ সৃষ্টি হয় পুরো এলাকা জুড়ে।

ইসলামি ইতিহাস অনুযায়ী, জাবালে রহমত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ স্থান। আজ থেকে ১৪০০ বছরেরও বেশি আগে বিদায় হজের সময় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এখানেই তার ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন। বর্তমানে এটি হজের সবচেয়ে পরিচিত নিদর্শন এবং আরাফাত দিবসের মূল কেন্দ্রবিন্দু। ইসলামি শরিয়ত মোতাবেক, ৯ জিলহজ আরাফার ময়দানে অবস্থান করা হজের প্রধান রোকন, এখানে অবস্থান ছাড়া হজ পূর্ণাঙ্গ হয় না।

মক্কার মসজিদুল হারাম থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই আরাফাত ময়দান বছরের বাকি সময় জনশূন্য থাকলেও হজের দিন কয়েক ঘণ্টার জন্য মুখরিত হয়ে উঠে। পাহাড়বেষ্টিত এই এলাকাটি তখন হয়ে ওঠে মুসলিম বিশ্বের কেন্দ্রবিন্দু।

সৌদি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হাজিদের সেবায় পুরো আরাফাত এলাকায় হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং জরুরি সেবা ইউনিটগুলো পুরোদমে চালু রয়েছে। মাউন্ট আরাফাত হাসপাতালসহ ক্লিনিক ও অ্যাম্বুলেন্স স্টেশনগুলোকে উচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে যাতে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করা যায়।

পাশাপাশি সিভিল ডিফেন্সের বিশেষ উদ্ধারকারী দলগুলো পাহাড়ের দুর্গম ও উঁচু স্থানে মোতায়েন রয়েছে। যেকোনো ধরনের দুর্ঘটনা বা স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় তারা আধুনিক সরঞ্জাম নিয়ে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে।

এদিকে পৌরসভা ও গৃহায়ন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ বছরের হজ মৌসুম উপলক্ষ্যে পবিত্র স্থানগুলোতে আলোকসজ্জার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। হাজিদের যাতায়াতের পথগুলো সুগম করতে প্রায় ৫ হাজার টাওয়ার ও পোল-এ ২০ হাজারেরও বেশি আধুনিক লাইট লাগানো হয়েছে। মক্কা ও এর আশপাশের এলাকায় প্রায় ২ লাখ লাইটিং ইউনিটের রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়েছে যাতে রাতভর সেবা অব্যাহত থাকে।

বিশাল এই কর্মযজ্ঞ ও জনসমুদ্রের পরেও সূর্যাস্তের পরপরই যখন হাজিরা মুজদালিফার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন, তখন চিরচেনা রূপে ফিরবে আরাফাত। জনশূন্য এই প্রান্তর আবারও নিরব হয়ে যাবে পরবর্তী হজের আগ পর্যন্ত।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি