খুঁজুন
                               
রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

‘কোনো থ্রেট অনুভব করছি না, তাই বিশেষ নিরাপত্তার প্রয়োজন নেই’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১:১৪ অপরাহ্ণ
‘কোনো থ্রেট অনুভব করছি না, তাই বিশেষ নিরাপত্তার প্রয়োজন নেই’

পুলিশের এলিট ফোর্স র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) মহাপরিচালক অতিরিক্ত আইজিপি মো. আহসান হাবীব পলাশ বলেছেন, সবকিছু স্বাভাবিক। আমরা এখন পর্যন্ত অস্বাভাবিক কিছু দেখছি না। স্বাভাবিকতাই সবার প্রত্যাশিত। তবুও নিরাপত্তা নিশ্চিতে নিজস্ব কার্যক্রম ও ব্যবস্থা রয়েছে।

ঈদুল আজহার নিরাপত্তা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত কোনো থ্রেট (হুমকি) বোধ করছি না। তাই বিশেষ নিরাপত্তার প্রয়োজন তো নাই।’

মঙ্গলবার (২৬ মে) দেশের জাতীয় এবং অন্যান্য ঈদগাহে ঈদুল আজহার নামাজের নিরাপত্তা এবং দেশবাসীর নির্বিঘ্নে ঈদ উৎসব উদযাপনে র‌্যাবের নেওয়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন তিনি।

ঢাকাসহ সারাদেশে সারাদেশে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি জানতে চাইলে ঢাকার সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে জাতীয় ঈদগাহ মাঠে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব মহাপরিচালক বলেন, আমি তো নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো থ্রেট দেখছি না। আল্লাহর রহমতে আমরা কোনো রকমের থ্রেট বোধ করছি না। তাই এতো নিরাপত্তার তো প্রয়োজন নাই।

তিনি বলেন, ঈদকেন্দ্রিক বা ঈদের নামাজে এতো নিরাপত্তা তো দরকার নাই। সব তো স্বাভাবিক। তাছাড়া সারা দেশের সব জায়গায় সব জামাতে নিরাপত্তা তো দেওয়াও সম্ভব না। আমরা আমাদের র‍্যাবসহ পুলিশের যারা বিভিন্ন কাজ করছেন তাদের সীমিত সামর্থ্য অনুযায়ী সব জায়গায় চেষ্টা করছি। আমরা মনে করি যে নিরাপদ অবস্থায় আমরা বাস করছি। যেসব জায়গায় বা যদি মনে হয় আমাদের এখানে জনসমাগম বেশি সেখানে আমাদের ব্যবস্থা থাকবে।

আমরা আশা করি আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করবো যাতে নিরাপদে আমাদের ঈদের জামাতগুলো শেষ করতে পারি। আমি মনে করি এবার কোনো সমস্যায় পড়বো না।

এবার ঈদ নিরাপত্তায় ব্যতিক্রম কী উদ্যোগ নিয়েছে র‍্যাব? জানতে চাইলে মহাপরিচালক বলেন, সবসময় যেমন শুনে আসছেন স্বাভাবিক তেমনই। এখনো স্বাভাবিক অবস্থা আছে। এ স্বাভাবিকতা আমাদের সবার কাছে প্রত্যাশিত। আমরা চাই এ স্বাভাবিকতাটুকু থাকুক।

তিনি বলেন, আমি মনে করি না কোনো থ্রেট আছে। সুতরাং এরপরেও আর কোনো বিশেষ ব্যবস্থার দরকার আছে বলে মনে করছি না।

ফাঁকা ঢাকার নিরাপত্তা সম্পর্কে তিনি বলেন, ঈদে ঘরমুখো মানুষ সব গ্রামের বাড়িতে চলে যাওয়ার কারণে শহরের জনসংখ্যা কমে যায়। কিছু সিঁধেল চুরির ঘটনা বেড়ে যায়। এজন্য আমাদের অন্যান্যবারের চেয়েও এবার আমাদের বেশি পেট্রোল টিমগুলো কাজ করবে দিনে এবং রাতে এবং গোয়েন্দা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। সর্বোপরি যদি কোনো ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা থাকে সেক্ষেত্রে আমাদের যে আমাদের কন্ট্রোলস ৯৯৯-এ যোগাযোগ করেও মানুষ সহযোগিতা নিতে পারে। আমরা যেকোনো সময় এসব ক্ষেত্রে রেসপন্স করতে প্রস্তুত।

নিরাপত্তা ব্রিফিংয়ে র‍্যাব ডিজি বলেন, ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে অন্যান্য আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে র‍্যাবও ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। তাদের নিজস্ব দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় রোবাস্ট পেট্রোলিং পরিচালনা করছে। এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ এবং গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টহল টিমগুলো কাজ করছে।

প্রধান প্রধান ঈদের জামাতের নিরাপত্তা রক্ষায় বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মোবাইল চেকপোস্ট স্থাপনের মাধ্যমে তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

দেশব্যাপী বিভিন্ন জায়গায় অন্যান্য অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে চেকপোস্ট স্থাপন করে তল্লাশির মাধ্যমে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

বিভিন্ন কালোবাজারি অসাধু ব্যবসায়ীরা অবৈধ মজুতদারি, দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি, খাদ্যে ভেজালসহ নকল দ্রব্য সামগ্রী বাজারজাত করে বাজার পরিস্থিতি যাতে অস্থিতিশীল করতে না পারে সেজন্য র‍্যাবের গোয়েন্দা নজরদারি ও অনলাইন মনিটরিং কার্যক্রম সার্বক্ষণিকভাবে অব্যাহত রয়েছে।

ঈদকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরে জনসমাগম তুলনামূলক কমে যাওয়ায় চুরি, ডাকাতি এবং ছিনতাইয়ের মতো অপরাধ বৃদ্ধি পাওয়ার ঝুঁকি থাকে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাত্রিকালীন নিরাপত্তা চৌকি সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। পাশাপাশি সব মেট্রোপলিটন শহর, জেলা শহর এবং উপজেলা পর্যায়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে রাত্রিকালীন টহল ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

কোরবানির পশুরহাটে ক্রেতাদের ভোগান্তি হতে বিভিন্ন নজরদারি র‌্যাবের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। জাল টাকা প্রতিরোধ এবং শনাক্তে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখাসহ জাল টাকা প্রস্তুতকারীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

দেশের মানুষ নির্বিঘ্নে এবং আনন্দঘন পরিবেশে আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন যাতে করতে পারে সেই লক্ষ্যে ঘরমুখো মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে র‍্যাব সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। সাধারণ জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাস টার্মিনাল, রেল স্টেশন, লঞ্চ টার্মিনাল এবং ফেরিঘাটসহ গুরুত্বপূর্ণ জনসমাগম স্থলে র‌্যাবের সার্বক্ষণিক নজরদারি এবং তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

কোরবানির পশুবাহী যানবাহন যেন জোরপূর্বক কেউ কোনো নির্দিষ্ট হাটে নিয়ে যেতে না পারে, বাধ্য করতে না পারে সে বিষয়ে বিশেষ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঈদ এবং নিয়ে যেন কেউ কোনো গুজব বা বিভ্রান্তিকর পোস্ট করতে না পারে সে ব্যাপারে র‌্যাবের গোয়েন্দা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম অব্যাহত থাকছে।

সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে যেকোনো ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম এবং অপরাধমূলক কার্যক্রম দমনে র‌্যাব সবসময়ের মতো তাদের নিয়মিত পেট্রোল গোয়েন্দা নজরদারি এবং আভিধানিক কার্যক্রমের মাধ্যমে এই পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সর্বাত্মক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে এবং চালিয়ে যাবে বলেও জানান র‍্যাব মহাপরিচালক।

এসময় র‍্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনের আগে র‍্যাব মহাপরিচালক জাতীয় ঈদগাহ ঘুরে ঘুরে দেখেন। খুঁটিনাটি বিষয়ে খোঁজখবর নেন।

কালের আলো/এসএকে

অন্ধকার গলি থেকে গণমাধ্যমকে মুক্ত আকাশে বের করেছেন শহীদ জিয়া: তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৬:৩১ অপরাহ্ণ
অন্ধকার গলি থেকে গণমাধ্যমকে মুক্ত আকাশে বের করেছেন শহীদ জিয়া: তথ্যমন্ত্রী

Oplus_131072

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ১৯৭৫ সালে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী এবং ১৬ জুনের সংবাদপত্র বাতিলের কালো আইনের মধ্য দিয়ে দেশের গণমাধ্যম যে অন্ধকার গলিতে ঢুকে পড়েছিল, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্ম না হলে সেখান থেকে গণমাধ্যমকে আবার মুক্ত আকাশে বের করা সম্ভব হতো কিনা-ইতিহাসে সেই প্রশ্ন রয়েছে।

রোববার (১৪ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ‘গণমাধ্যম ও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বিশেষ বক্তা হিসেবে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের গণমাধ্যমকে যুগ যুগ ধরে শহীদ জিয়াউর রহমানকে সসম্মানে স্মরণ করতে হবে, কারণ তিনি স্বাধীন গণমাধ্যমের প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে কাজ করেছেন।

জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজের সভাপতিত্বে এবং ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ূব ভূঁইয়ার সঞ্চালনায় স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপি মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শহীদ জিয়ার ঐতিহাসিক নেতৃত্বের কথা স্মরণ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাত দুইটার সময় কারো নির্দেশ বা প্ররোচনা ছাড়াই ৩৬ বছর বয়সের একজন বাঙালি মেজর একটি প্রতিষ্ঠিত সামরিক শক্তি সম্পন্ন রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। কেবল নিজের সততা, মূল্যবোধ, চেতনা ও দেশপ্রেমের ওপর ভর করে তিনি ক্যান্টনমেন্ট ও দেশবাসীর সামনে সংকটকালীন সময়ের সমাধানের পুরুষ হিসেবে হাজির হয়েছিলেন।

তিনি বলেন, যারা ইতিহাস সম্পর্কে অবগত তারা জানেন, ২৫ মার্চের সেই রাতে তিনি যুদ্ধ ঘোষণা না করলে জাতি দিকনির্দেশনাহীন থাকতো। একইভাবে ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতা যদি তাকে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করে নিয়ে না আসতো, তবে দেশে শান্তির ছায়া নেমে আসতো না।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, জিয়াউর রহমান একজন সামরিক কর্মকর্তা হওয়া সত্ত্বেও তার মনোজগৎ ও দৃষ্টিভঙ্গি প্রমাণ করেছে তিনি একজন মহান রাষ্ট্রনায়ক ছিলেন।

তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তার ওপর হওয়া অসম্মানজনক আচরণকে তিনি যেভাবে রাষ্ট্রনায়কের মতো হজম করেছেন এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর ভর করে দেশের সকল ভিন্ন মতের জন্য সমালোচনা করার রাস্তা তৈরি করে দিয়েছেন, তা নজিরবিহীন।

মন্ত্রী আরও বলেন, শহীদ জিয়া বঞ্চিত রাজনৈতিক দলগুলোকে রাজনীতির মাঠে এনে গঠনমূলক তর্ক-বিতর্কের সুযোগ করে দিয়েছিলেন। তিনি চতুর্থ সংশোধনীর সমস্ত বেড়াজাল ভেঙে দিয়ে কবর দেওয়া পার্লামেন্টকে নতুন জীবন দিয়েছিলেন। ভিন্ন মতকে সম্মান করা এবং বহুমাত্রিক চিন্তার মধ্য দিয়ে উন্নয়নের গতি নির্ধারণ করাই ছিল তার রাষ্ট্রনায়কোচিত বৈশিষ্ট্য।

গণমাধ্যম সম্পর্কে শহীদ জিয়ার দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর কোনো নেতাই জননন্দিত রাষ্ট্রনায়ক হতে পারেন না, যদি না তিনি গণমাধ্যমের প্রতি সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি চর্চা করেন। শহীদ জিয়া শুধু গণমাধ্যমকে অবকাঠামোগত বা আর্থিক সুবিধাই দেননি, বরং গণমাধ্যম যাতে রাষ্ট্র ও সমাজের পরিচ্ছন্ন আয়না হিসেবে কাজ করতে পারে-সেই স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছিলেন। তার সেই অবদানের কারণেই আজ সমাজ ও রাষ্ট্র জনগণের কাছে সার্বক্ষণিকভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি শহীদুল ইসলাম।

কালের আলো/এসএকে

গাজায় ধ্বংসস্তূপের নিচে চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় হাজারো ফিলিস্তিনি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৬:০১ অপরাহ্ণ
গাজায় ধ্বংসস্তূপের নিচে চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় হাজারো ফিলিস্তিনি

গাজার বিশাল ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা হাজার হাজার ফিলিস্তিনির মরদেহ চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দিন দিন বাড়ছে। উদ্ধারকাজের ধীরগতি এবং দীর্ঘ সময় পার হয়ে যাওয়ার কারণে এই মরদেহগুলো হয়তো আর কখনোই শনাক্ত করা সম্ভব হবে না।

আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির (আইসিআরসি) বরাতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

জেরুজালেমে আইসিআরসি-এর মুখপাত্র প্যাট গ্রিফিথস বলেন, কোনও সন্দেহ নেই যে এই মরদেহগুলো শীঘ্রই শনাক্ত করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।

ধ্বংসস্তূপের নিচে মরদেহ যত বেশি সময় থাকবে, তা তত দ্রুত পচনের উন্নত স্তরে পৌঁছাবে, এমনকি তা কেবল কঙ্কালে পরিণত হতে পারে। ফলে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা পরিচয় নিশ্চিত করার মতো পারিপার্শ্বিক প্রমাণাদি হারাবেন।

গত অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ফিলিস্তিনিরা গাজার আনুমানিক ৬ কোটি ১০ লাখ টন ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ শুরু করেছে।

গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে, এই ধ্বংসস্তূপের নিচে কমপক্ষে ১০ হাজার মানুষের মরদেহ চাপা পড়ে আছে। কিছু বিশেষজ্ঞের ধারণা, এই সংখ্যা ১৪ হাজার পর্যন্ত হতে পারে।

উদ্ধারকারী দলগুলো বেলচা, কোদাল, হাতগাড়ি এবং খালি হাতেই এই বিশাল ধ্বংসস্তূপ সরানোর চেষ্টা করছে। উদ্ধারকাজ দ্রুত করতে বুলডোজার ও অন্যান্য ভারী যন্ত্রপাতি গাজায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার জন্য ইসরায়েলের কাছে বারবার অনুরোধ করা হলেও কোনও সাড়া মেলেনি।

গার্ডিয়ানের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানান, লাশ উদ্ধারের যন্ত্রপাতি গাজায় আনার কোনও অনুমোদন দেওয়া হয়নি।

গাজার ফরেনসি মেডিসিন ডিরেক্টর ড. আহমেদ দাহির এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতা শেয়ার করে বলেন, আমরা দেখেছি মাত্র দুই সপ্তাহ আগে নিখোঁজ হওয়া একজন ব্যক্তির দেহ পুরোপুরি

কঙ্কালে পরিণত হয়েছে এবং বন্যপ্রাণী তা খুবলে খেয়েছে। সাধারণ অবস্থায় পরিবেশগত কারণে এই পর্যায়ে পৌঁছাতে ছয় মাস থেকে এক বছর সময় লাগার কথা।

পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে গাজার অবশিষ্ট হাসপাতালগুলোতে ডিএনএ পরীক্ষার যন্ত্রপাতির অভাব। ইসরায়েল গাজায় ডিএনএ পরীক্ষার কোনও সামগ্রী প্রবেশ করতে দিচ্ছে না।

এছাড়া, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর বুলডোজারগুলো বিভিন্ন এলাকায় মাটি ও ধ্বংসস্তূপ ওলটপালট করায় মরদেহগুলো তাদের মূল স্থান থেকে স্থানান্তরিত হয়ে যাচ্ছে, যা উদ্ধারকাজকে আরও কঠিন করে তুলেছে।

লাশ শনাক্ত করতে না পারা কেবল মৃতদের মর্যাদার বিষয় নয়, এটি জীবিতদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও মারাত্মক ক্ষতিকর। মনোবিজ্ঞানীরা একে বলছেন অ্যাম্বিগুয়াস লস বা অমিমাংসিত শোক, যা গাজার মানুষের মধ্যে তীব্র বিষণ্নতা, ট্রমা ও মানসিক বিভ্রান্তি তৈরি করছে।

৭ অক্টোবর ২০২৩-এ নিখোঁজ হওয়া ৪-০ বছর বয়সী সামেহ-এর ভাই সায়েদ আল-ইয়াজজি বলেন, দুই বছর ধরে আমরা জানি না সে বেঁচে আছে নাকি মারা গেছে। তার স্ত্রী বারবার মানসিক ভারসাম্য হারাচ্ছেন। কোনও খবর না পেয়ে আমাদের পরিবার ধ্বংস হয়ে গেছে।

ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহগুলো সংরক্ষণের জন্য দেইর আল-বালাহ এলাকায় একটি বিশেষ কবরস্থান তৈরি করা হয়েছে। সেখানে প্রতিটি কবরের একটি নম্বর দেওয়া হচ্ছে এবং নথিপত্র রাখা হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে কোনোদিন ডিএনএ বা অন্য উপায়ে স্বজনরা তাদের প্রিয়জনকে খুঁজে পান।

গাজার কবরস্থান বিভাগের পরিচালক জিয়াদ ওবেদ বলেন, এই কবরস্থানে অজ্ঞাত মরদেহের সংখ্যা এখন ৬৫০ ছাড়িয়ে গেছে। যুদ্ধের বয়স এখন প্রায় তিন বছর হতে চলল, আর কিছু লাশ এখানে দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে দাফন করা রয়েছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কড়া হুঁশিয়ারী বিমানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৫:৫৪ অপরাহ্ণ
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কড়া হুঁশিয়ারী বিমানমন্ত্রীর

Oplus_131072

জনগণের টাকায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা চলে বলে মন্তব্য করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা। সেই সঙ্গে জনগণ তদের প্রাপ্য সেবা না পেলে মেনে নেওয়া হবে না বলে জানান তিনি।

রোববার (১৪ জুন) দুপুরে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

আফরোজা খানম রিতা বলেন, অনেক কষ্ট ও দীর্ঘ সংগ্রামের পর বিএনপি আজ মানুষের ভালোবাসা ও সমর্থনে ক্ষমতায় এসেছে। আমি জানি এখানে অনেকেই ভিন্ন মতাদর্শের হতে পারেন। কিন্তু আপনারা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী। যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক, আপনারা রাষ্ট্রের কর্মচারী হিসেবে সেই সরকারের নীতিমালা বাস্তবায়নে কাজ করবেন।

তিনি বলেন, বিগত সরকার কী করেছে বা আপনাদের কী সুবিধা দিয়েছে, তা বিবেচনা করে যদি বর্তমান সরকারের কাজ বাধাগ্রস্ত করেন, তাহলে জনগণ তা মেনে নেবে না। জনগণ যখন ক্ষুব্ধ হয়ে আপনার অফিস ঘেরাও করবে, তখন পরিস্থিতি সামাল দেবেন কীভাবে? তাই আপনারা নিজেদের মর্যাদা ও সম্মানের জায়গায় থেকে দেশের জন্য কাজ করুন। আমরা চাই যে কোনো মূল্যে জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে।

বিমানমন্ত্রী বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। মাদকসেবীদের পেছনে সময় নষ্ট না করে মাদক ব্যবসায়ীকে আগে ধরেন। মাদক ব্যাবসায়ীরা সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। কিশোরদের খেলাধুলায় উৎসাহ দিতে হবে, যেন মাদক ছেড়ে তারা খেলাধুলায় মেতে থাকে। প্রধানমন্ত্রী খেলাধুলার প্রতি জোর দিয়েছেন।

এ সময় জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারোয়ার আলম, জেলা সিভিল সার্জন ডা. আইভি ফেরদৌসীসহ জেলার সকল দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসএকে