খুঁজুন
                               
রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ৭ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

ঈদের আনন্দ কেড়ে নিল আগুন, খোলা আকাশের নিচে শত পরিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ২:৩২ অপরাহ্ণ
ঈদের আনন্দ কেড়ে নিল আগুন, খোলা আকাশের নিচে শত পরিবার

চারদিকে পোড়া গন্ধ। ধ্বংসস্তূপের ভেতরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা টিন, কাঠ, কাপড় আর ভাঙাচোরা ঘরের সামগ্রী। কেউ পোড়া ঘরের ভেতর থেকে খুঁজছেন বেঁচে থাকা কোনো জিনিস, কেউ আবার পোড়া টিন কুড়িয়ে ভাঙারির দোকানে বিক্রি করছেন। আর একদিন পরই ঈদুল আজহা। যখন সারা দেশে ঈদের প্রস্তুতি, তখন রাজধানীর কালশীর বাউনিয়াবাঁধ বস্তির শত শত মানুষের মাথার ওপর নেই কোনো ছাদ।

সোমবার (২৫ মে) সন্ধ্যায় রাজধানীর পল্লবীর কালশী এলাকার বাউনিয়াবাঁধ বস্তিতে ভয়াবহ আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১৫টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

মঙ্গলবার (২৬ মে) সকালে স্থানীয়রা জানান, বস্তির অন্তত ১০০ থেকে ১৫০টি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পোড়া ঘরের ভেতর থেকে মূল্যবান কিছু খুঁজে পাওয়ার আশায় ঘুরছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। বিভিন্ন সংগঠনকে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে খাবার বিতরণ করতেও দেখা গেছে।

সুনামগঞ্জের বাসিন্দা বকুলা বেগম প্রায় সাত বছর ধরে পরিবার নিয়ে এই বস্তিতে থাকেন। আগুনে তার দুটি ঘর পুড়ে গেছে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘দুইটা রুমে ৯ জন মানুষ থাকতাম। পুলিশের অভিযানের পর ভাবছিলাম ঈদের পরে এই জায়গা ছাড়মু। আমরা গরিব মানুষ, ঈদের সময় বাসায় বাসায় গিয়ে মাংস টুকাই। ওই মাংস দিয়া দুই দিন ভালোভাবে খাই। এবার তো সব শেষ। মাংস আইনা রান্না করমু কই? মাথার ওপর কোনো ছাদ নেই। এবারের ঈদ আমাগো আসমানের নিচে।’

আগুন লাগার মুহূর্তের বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘বিধবা ভাতার টাকা আনছিলাম, খরচও করতে পারি নাই। হঠাৎ আগুন লাগছে। পরনের একটা কাপড় পরে ঘরের সবাই বাইর হইছি।’

আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত মো. নবাব জানান, তার ১৫টি ঘর ও একটি মুদি দোকান পুড়ে গেছে। তিনি বলেন, এই শহরে ২০ বছর ধইরা যা কামাইছি, সব এক আগুনে শেষ। দোকানে কয়েক লাখ টাকার মাল ছিল, সব পুড়ে গেছে। কতো কষ্ট কইরা ঘর তুলছিলাম, আজ কিছুই নাই।

ঈদের কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, প্রতি বছর কোরবানি দেই। কয়েকজন মিলে আজ গরু আনার কথা ছিল। কিন্তু এখন থাকার জায়গাই নাই। ঈদের দিন রাস্তায় ঘুমাইতে হইবো। আমাদের এবারের ঈদ নেই।

কিশোরগঞ্জের বাসিন্দা শাহীন আলম স্ত্রী-সন্তান নিয়ে পাঁচ বছর ধরে এই বস্তিতে ভাড়া থাকেন। ভাঙারির দোকানে কাজ করে সংসার চালানো শাহীন সমিতি থেকে কিস্তিতে টাকা তুলে ঈদের পর একটি রিকশা কেনার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু আগুনে ঘরের মালামালের সঙ্গে তার ৪২ হাজার টাকাও পুড়ে গেছে।

তিনি বলেন, ‘ভাবছিলাম ঈদের পরে একটা রিকশা কিনমু, আর ভাঙারির দোকানে কাজ করমু না। এই জন্য কিস্তি থেকে টাকা তুলছিলাম। কিন্তু আগুনে সব শেষ। সামনে ঈদ, বউ-পোলা লইয়া কোথায় দাঁড়ামু জানি না। মানুষ ঈদ পালন করবো আর আমরা কোথায় থাকমু এই চিন্তায় ঘুমাইতে হইবো।’

এদিকে মঙ্গলবার সকাল থেকেই বস্তির বাসিন্দারা পোড়া ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ শুরু করেছেন। কেউ পোড়া টিন, কেউ ঘরের ভাঙা সরঞ্জাম বের করছেন। পরে সেগুলো ভাঙারির দোকানে বিক্রি করা হচ্ছে। এসব সংগ্রহ করতে বিভিন্ন ভ্যান, অটোরিকশা ও মিনি ট্রাককে বস্তিতে ঢুকতে দেখা যায়।

মোহাম্মদ সবুজ নামের এক বাসিন্দা জানান, আগুনে তার ১১টি ঘর পুড়ে গেছে। ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নিতে পোড়া টিন বিক্রি করছেন তিনি। ‘যা পাই, তা দিয়াই আবার শুরু করতে হইবো’, বলেন তিনি।

মোতালেব নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘আমার একটা ভাঙারির দোকান, গোডাউন আর তিনটা ঘর পুড়ে গেছে। আগুন লাগার পর এক কাপড়ে পরিবার নিয়ে বাইর হইছি। আগুনের তাপে কেউ বস্তিতে থাকতে পারে নাই। ফায়ার সার্ভিসের লোকজন সবাইরে বের হয়ে যেতে বলছিল।’

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা জাতীয় অর্থনীতির প্রধান চ্যালেঞ্জ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ৪:১৬ অপরাহ্ণ
অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা জাতীয় অর্থনীতির প্রধান চ্যালেঞ্জ

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, বর্তমানে রাজস্ব আহরণ, ঋণ ব্যবস্থাপনা ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা জাতীয় অর্থনীতির প্রধান চ্যালেঞ্জ।

রোববার (২১ জুন) জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের শপথ কক্ষে বাজেট হেল্পডেস্ক-২০২৬ এর অধীনে বাজেট বিষয়ক ডিব্রিফিং সেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মণি।

হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বাজেট ডিব্রিফিং সেশনের আয়োজন সংসদীয় গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ। জাতীয় বাজেট ও সামগ্রিক আর্থিক ব্যবস্থাপনার বিষয়ে সংসদ সদস্যদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে এই ধরনের সেশন কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।

তিনি বলেন, সংসদ সদস্যদের তথ্য ও উপাত্ত নির্ভর বাজেট বিশ্লেষণে বাজেট হেল্পডেস্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সরকারের আর্থিক নীতি ও কৌশল সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও গভীর ধারণা পেতে সংসদ-সদস্যগণ সংসদ লাইব্রেরিতে পড়াশোনা করে নিজেকে সমৃদ্ধ করতে পারেন।

তিনি আরো বলেন, বাজেট নিয়ে সংসদ-সদস্যদের আগ্রহ এবং সংসদীয় উদ্যোগে নিজেকে ব্যাপৃত করতে পারলে জাতি উপকৃত হবে। জনগণ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে এই সংসদ নিয়ে। তাদের ভবিষ্যৎ চলার রূপরেখা এখান থেকে নির্ধারিত হবে।

স্পিকার বলেন, সংসদীয় প্রতিষ্ঠান শক্তিশালীকরণে ইইউর এ ধরনের প্রোগ্রাম সংসদ-সদস্যদের কার্যকর অংশগ্রহণ ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে জনপ্রত্যাশা পূরণে সহযোগিতা করে যাচ্ছে। তিনি এসময় বাজেট ডিব্রিফিং সেশনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, স্বাধীনতা উত্তর সময়ে সংসদ নিয়ে অনেক বেশি জনপ্রত্যাশা ছিল। জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী সংসদ একটি ব্যতিক্রমী সংসদ। প্রতিটি নির্বাচনী এলাকার জনগণ এই সংসদ পর্যবেক্ষণ করছেন। তিনি বলেন, অর্থনীতি, সমাজনীতি ও রাষ্ট্রনীতির আধার এই সংসদ। তথ্যভিত্তিক সংসদ প্রতিষ্ঠায় বাজেট ডিব্রিফিং সেশন কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বলেন, সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম ও সুশৃঙ্খল ব্যবহারের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার একটি যুগোপযোগী ও বাস্তবমুখী বাজেট উপস্থাপন করেছে। স্বাধীনতার পর এমন ভালো বাজেট কখনো হয়নি।

তিনি বলেন, বাজেট হেল্পডেস্ক সংসদ সদস্যদের প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা দেয়। এক সময় বাজেট-সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করতে সংসদ সদস্যদের অনেক কষ্ট করতে হতো। ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই প্রশংসনীয় উদ্যোগের ফলে এখন সহজেই প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত পাওয়া যাচ্ছে এবং বাজেটকে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিরোধী দলের নেতা, মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, হুইপসহ আজকের সেশনের আমন্ত্রিত সংসদ-সদস্য এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।

কালের আলো/এসএকে

বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে : বাণিজ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ৪:০৫ অপরাহ্ণ
বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে : বাণিজ্যমন্ত্রী

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার লাইসেন্সিং ও অনুমোদন প্রক্রিয়া আরও সহজ, দ্রুত ও সমন্বিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে। বিনিয়োগকারীদের যাতে এক দপ্তর থেকে আরেক দপ্তরে ঘুরতে না হয়, সেজন্য একটি কেন্দ্রীয় অনলাইনভিত্তিক ‘ওয়ান-স্টপ উইন্ডো’ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে।

রোববার (২১ জুন) সকালে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে জাপান-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (জেবিসিসিআই) এক প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন জেবিসিসিআই সভাপতি তারেক রাফি ভূঁইয়া। এ সময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান উপস্থিত ছিলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, কোনো ভৌত স্থাপনা বা শিল্পকারখানা স্থাপনের অনুমোদন প্রক্রিয়া বাস্তব অবকাঠামোগত কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ায় তা ১৫ দিনের মধ্যে সম্পূর্ণভাবে শেষ করা সব ক্ষেত্রে সম্ভব নয়। কারণ এ ধরনের স্থাপনায় নিরাপত্তা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, অগ্নিনিরাপত্তা, পরিবেশগত বিষয়সহ বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ স্থাপনা পরিদর্শন করে চূড়ান্ত অনুমোদন দেবে।

তবে বিনিয়োগ কার্যক্রম যাতে বিলম্বিত না হয়, সেজন্য সরকার অস্থায়ী বা প্রভিশনাল লাইসেন্স দেওয়ার ব্যবস্থা করবে বলে জানান তিনি। এর ফলে বিনিয়োগকারীরা দ্রুত প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু করতে পারবেন।

তিনি আরও বলেন, আমরা এরইমধ্যে অনুমোদন প্রক্রিয়ার সময় কমিয়ে আনার একটি রূপরেখা নির্ধারণ করেছি। এখন খাতভিত্তিক লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ চলছে। কারণ একেক খাতের জন্য একেক ধরনের অনুমোদন ও নথিপত্র প্রয়োজন হয়। বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের অনুমোদন প্রক্রিয়া যেমন টেক্সটাইল কারখানা স্থাপনের প্রক্রিয়া থেকে ভিন্ন।

কারখানা পরিদর্শন ব্যবস্থাকে আরও সমন্বিত করার উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর পরিদর্শন কার্যক্রম সমন্বয় করা হবে। বিডা পরিদর্শনের তারিখ নির্ধারণ করবে, সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে একত্র করবে এবং একটি সমন্বিত ব্যবস্থার অধীনে একবারেই পরিদর্শন সম্পন্ন করা হবে। এতে বিনিয়োগকারীদের বারবার বিভিন্ন সংস্থার কাছে যেতে হবে না।

বাণিজ্যমন্ত্রী বৈদ্যুতিক যানবাহন বা ইভি প্রসঙ্গেও সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ জ্বালানিনির্ভরতা কমিয়ে আরও টেকসই পরিবহন ব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হতে চায়। সাম্প্রতিক জ্বালানি সংকট দেখিয়ে দিয়েছে, ডিজেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা অর্থনৈতিকভাবে ব্যয়বহুল এবং সংকটকালে সরবরাহ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

তিনি বলেন, দেশের যানবাহন ব্যবস্থাকে ধীরে ধীরে বৈদ্যুতিক ও হাইব্রিড প্রযুক্তির দিকে নিতে সরকার আগ্রহী। মন্ত্রিসভায় এ বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে। তবে বাংলাদেশ এখনো পুরোপুরি বৈদ্যুতিক যানবাহনের জন্য প্রস্তুত নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাস্তবতা বিবেচনায় সরকার আপাতত প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির আমদানি ও ব্যবহারে বেশি গুরুত্ব দেবে।

জেবিসিসিআই প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, শিল্প স্থাপন, লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং টেকসই প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী জাপানকে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন সহযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, জাপানি বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশে আরও সহজ, স্বচ্ছ ও কার্যকর ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি বলেন, আমরা এমন একটি বিনিয়োগ পরিবেশ তৈরি করতে চাই, যেখানে বিনিয়োগকারী অনলাইনে এক প্ল্যাটফর্মে ক্লিক করেই প্রয়োজনীয় সেবা পাবেন। আমাদের লক্ষ্য হলো সময়, ব্যয় ও জটিলতা কমিয়ে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি করা।

সভায় বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির প্রশংসা করে জেবিসিসিআই নেতারা বলেন, এ চুক্তির মাধ্যমে দুদেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা আরও জোরদার হবে।

কালের আলো/এসএকে

সিলেটের ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ৩:৪৯ অপরাহ্ণ
সিলেটের ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার

সিলেটের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

রোববার (২১ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব জেতী প্রু স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে তাকে প্রত্যাহার করা হয়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে উপসচিব হিসেবে সংযুক্ত করা হয়েছে সারওয়ার আলমকে।

২৭তম বিসিএসের প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা সারওয়ার আলম র‍্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে বেশ আলোচিত ছিলেন।

সিনিয়র সহকারী সচিব পদে থাকাকালীন র‍্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে তিন শতাধিক ভেজালবিরোধী অভিযান চালিয়ে ব্যাপক প্রশংসিত ছিলেন তিনি। ভেজাল, অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন এ কর্মকর্তা।

হঠাৎ ২০২০ সালের ৯ নভেম্বর তাকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব হিসেবে বদলি করা হয়। তিনবার বঞ্চিত হওয়ার পর ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট উপসচিব পদে পদোন্নতি পান তিনি।

এর আগে, মো. সারওয়ার আলম বঞ্চিত হয়ে নিজের ক্ষোভ জানিয়ে ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন। স্ট্যাটাস দেওয়ার বিষয়টিকে অসদাচরণ হিসেবে গণ্য করে আওয়ামী লীগ সরকার তাকে লঘুদণ্ড হিসেবে ‘তিরস্কার’র শাস্তি দেয়। ২০২২ সালের মে মাসে তাকে শাস্তি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

কালের আলো/এসএকে