খুঁজুন
                               
বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৩ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

দক্ষিণ ও পূর্ব লেবাননে রাতভর হামলা ইসরায়েলের, শিশুসহ নিহত ৩১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৮:৪৭ পূর্বাহ্ণ
দক্ষিণ ও পূর্ব লেবাননে রাতভর হামলা ইসরায়েলের, শিশুসহ নিহত ৩১

হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও জোরদারে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ঘোষণা দেওয়ার পর দক্ষিণ ও পূর্ব লেবাননে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। রাতভর চালানো হামলায় শিশুসহ অন্তত ৩১ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় এপ্রিলের মাঝামাঝি কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পর এটিকে সবচেয়ে ভয়াবহ বোমাবর্ষণের একটি রাত হিসেবে দেখা হচ্ছে। হামলার পর বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বেরিয়ে পড়েন হাজারো মানুষ।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, তারা হিজবুল্লাহর ১০০টির বেশি অবকাঠামো ও যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

গত সোমবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বলেন, হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে হামলার গতি ‘আরও বাড়ানোর’ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার বৈঠকে তিনি জানান, লেবাননে ইসরায়েলের অভিযান আরও গভীরে নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘আইডিএফ স্থলভাগে বড় শক্তি নিয়ে অভিযান চালাচ্ছে এবং কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা দখল করছে। উত্তর ইসরায়েলের জনগণকে হিজবুল্লাহর হামলা থেকে রক্ষা করতে আমরা নিরাপত্তা বলয় আরও শক্তিশালী করছি।’

যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও উভয় পক্ষই বারবার তা লঙ্ঘন করেছে। এতে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির আলোচনা অনিশ্চয়তায় পড়েছে।

ইসরায়েলি হামলা প্রতিদিনই চলছে, বিশেষ করে দক্ষিণ লেবাননে। পাল্টা জবাবে হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকায় রকেট ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয় গণমাধ্যম জানায়, বেকা উপত্যকার মাশগারা গ্রাম ও দক্ষিণ লেবাননের বুর্জ আল-শামালি এলাকায় বিমান হামলা হয়েছে। কিছু হামলা ইউনেস্কো স্বীকৃত ঐতিহাসিক বিউফোর্ট দুর্গের কাছেও আঘাত হানে। প্রায় ৯০০ বছরের পুরোনো এই দুর্গ অঞ্চলটির অন্যতম সংরক্ষিত মধ্যযুগীয় স্থাপনা।

সোমবার প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় নেতানিয়াহু বলেন, ইরান-সমর্থিত শিয়া সংগঠন হিজবুল্লাহ ফাইবার-অপটিক ড্রোনসহ বিভিন্ন হামলা চালানোয় ইসরায়েল এখন হামলার সংখ্যা ও তীব্রতা বাড়াবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আমরা তাদেরকে চূর্ণবিচূর্ণ করে দেব।’

এ ঘোষণার পর বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হিজবুল্লাহর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এলাকাটি থেকে হাজারো মানুষ পরিবার নিয়ে সরে যেতে শুরু করেন। রাস্তায় দীর্ঘ যানজট দেখা যায়।

যদিও রাতভর হামলায় রাজধানী বৈরুত সরাসরি আক্রান্ত হয়নি, তবু পুরো লেবাননজুড়ে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান একের পর এক হামলা চালায়। বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৫০টি স্থানে ডজনখানেক হামলা হয়েছে।

সোমবার দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়েহ শহরে হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। সোমবার সন্ধ্যায় দক্ষিণাঞ্চলীয় আরব সালিম শহরে নিজ বাড়িতে এক ব্যক্তি ও তার স্ত্রী নিহত হন। এ ছাড়া কাওতারিয়েত এল রেজ গ্রামেও আরও দুজন নিহত হন।

রাতভর হামলায় মাশগারার বেশ কয়েকটি বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, ধ্বংসস্তূপ থেকে ১১ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন নারী ও দুই শিশু ছিল। আরও ১৫ জন আহত হয়েছেন।

আহতদের মধ্যে ছিল সাত বছরের শিশু মোহাম্মদ। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে গভীর রাতে তাকে উদ্ধারের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। হাসপাতালে শুয়ে বিবিসিকে শিশুটি বলে, ‘ঘুম ভাঙার পর আমি নড়াচড়া করতে পারছিলাম না। চারদিকে শুধু অন্ধকার ছিল। পরে উদ্ধারকর্মীদের শব্দ শুনতে পাই।’

মোহাম্মদের মাথায় ব্যান্ডেজ বাঁধা ছিল, হাত-পায়েও আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। হামলার সময় সে ঘুমিয়ে ছিল। ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে তার বাবা ও দুই বোন নিহত হন।

বর্তমানে মাশগারা যেন প্রায় জনশূন্য। রাস্তায় খুব কম যানবাহন দেখা যাচ্ছে। জীবনযাত্রা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় পৌরসভার সদস্য আহমদ সাংবাদিকদের ধ্বংসপ্রাপ্ত এলাকা ঘুরিয়ে দেখান। চারদিকে ভাঙাচোরা ঘরবাড়ি ও দোকানপাট ছড়িয়ে রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি হিজবুল্লাহর সদস্য নই। কিন্তু গ্রামের সবাই প্রতিরোধের পক্ষে। আর ইসরায়েল কাউকেই রেহাই দিচ্ছে না।’

এ সময় যুদ্ধবিমানের শব্দ শোনা গেলে এলাকাবাসী দ্রুত সরে যান। পরে সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে কাছাকাছি এলাকায় বড় বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখা যায়।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী মাশগারার আকাশ থেকে ধারণ করা ভিডিও প্রকাশ করে জানায়, সেখানে হিজবুল্লাহর অবকাঠামোতে হামলা চালানো হয়েছে এবং ‘সন্ত্রাসীদের নির্মূল করা হয়েছে।’

তাদের দাবি, দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর ব্যবহৃত ৯০টির বেশি অস্ত্রাগার, কমান্ড সেন্টার ও নজরদারি পোস্টে হামলা চালানো হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে ইসরায়েলি বাহিনী নতুন করে বিভিন্ন এলাকা খালি করার নির্দেশ দেয়। তাদের অভিযোগ, হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করছে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর আরবি ভাষার মুখপাত্র আভিচাই আদরাই বলেন, হিজবুল্লাহর ধারাবাহিক লঙ্ঘনের কারণেই ইসরায়েলি বাহিনী পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে।

অন্যদিকে হিজবুল্লাহ জানায়, ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জবাবে তারা উত্তর ইসরায়েলের তিনটি ব্যারাক ও একটি সামরিক পোস্টে হামলা চালিয়েছে।

নেতানিয়াহু এমন সময় হামলা জোরদারের নির্দেশ দেন যখন ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, দক্ষিণ লেবাননের যুদ্ধে তাদের এক সেনা নিহত হয়েছেন। ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে এখন পর্যন্ত হিজবুল্লাহর হামলায় ২৩ জন ইসরায়েলি সেনা ও একজন বেসামরিক ঠিকাদার নিহত হয়েছেন।

অন্যদিকে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, একই সময়ে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৩ হাজার ১৮৫ জন নিহত হয়েছেন। সূত্র: বিবিসি।

কালের আলো/এসআর/এএএন 

সিলেট বিমানবন্দরে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ১০:৪১ পূর্বাহ্ণ
সিলেট বিমানবন্দরে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো মৌলভীবাজার সফরের উদ্দেশ্যে সিলেটে পৌঁছেছেন তারেক রহমান।

বুধবার (১৭ জুন) সকালে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রওনা হয়ে তিনি সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।

প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে বিমানবন্দর ও আশপাশের এলাকায় নেওয়া হয় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি প্রশাসনের বিভিন্ন সংস্থার সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে দেখা যায়।

সিলেটে পৌঁছেই সড়কপথে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন প্রধানমন্ত্রী। সফরসূচি অনুযায়ী, দুপুর ১টায় শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এবং দুপুর আড়াইটায় মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন তিনি।

এছাড়া বিকেলে শ্রীমঙ্গলের দুসাই রিসোর্টে আয়োজিত একটি রাজনৈতিক সভায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। কর্মসূচি শেষে বিকেল পৌনে ৬টায় সিলেটের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে রাত সাড়ে ৮টায় বিমানযোগে ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে সিলেট ও মৌলভীবাজারজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দর ও সড়কপথের বিভিন্নস্থানে অবস্থান নিয়েছেন জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীরা।

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর গত ২ মে প্রথমবার সিলেট সফর করেছিলেন তারেক রহমান। তবে এবারের সফরে সিলেট জেলায় তার কোনো আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি রাখা হয়নি। পুরো সফরসূচিই রয়েছে মৌলভীবাজারকে ঘিরে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

মেসির হ্যাটট্রিকে বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার উড়ন্ত সূচনা

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৯:০২ পূর্বাহ্ণ
মেসির হ্যাটট্রিকে বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার উড়ন্ত সূচনা

কাতার বিশ্বকাপে দলকে শিরোপা জেতানো লিওনেল মেসি ২০২৬ বিশ্বকাপেও জ্বলে ওঠলেন আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচেই। আলজেরিয়ার বিপক্ষে এ ম্যাচে হ্যাটট্রিকের দেখা পেয়েছেন তিনি। প্রথমার্ধে এক গোল করা এই কিংবদন্তি দ্বিতীয়ার্ধে করেছেন আরও ২টি। তিন গোল করে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি গোলের মালিক বনে যাওয়া মেসি গড়েছেন আরও বেশ কয়েকটি রেকর্ড। মেসির অসাধারণ সব রেকর্ডের ম্যাচে আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের এবারের আসরে উড়ন্ত সূচনা করেছেন লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ১৬টি গোল করে এতদিন শীর্ষে ছিলেন জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসা। তবে আজ আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে সেই রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন মেসি। বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের মালিক এখন যৌথভাবে মেসি ও ক্লোসা। এই রেকর্ড গড়ার পথে মেসি ছাড়িয়ে গেছেন ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনালদো নাজারিওকেও।

আর্জেন্টিনা ও লিওনেল মেসির জন্য স্বপ্নের মতো শুরু হতে পারত ম্যাচটি। খেলার মাত্র পাঁচ মিনিটেই বল জালে পাঠান মেসি। গ্যালারিতে উল্লাস শুরু হয়ে যায়। তবে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের সেই উল্লাস স্থায়ী হয়নি। কেননা সহকারী রেফারির পতাকা উঠলে সেই উদ্‌যাপন থেমে যায়। অফসাইডের জন্য মেসির সেই গোল বাতিল হয়।

তবে অফসাইডের ফাঁদে গোল বাতিল হয়ে ম্যাচের শুরুটা স্বপ্নের মত না হলেও শেষটা নিজের রঙেই রাঙিয়েছেন মেসি। আর্জেন্টিনার গোল বাতিলের পর জালের দেখা পেয়েছিল আলজেরিয়াও। তবে তাদের সেই গোলটিও অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। এদিকে শুরুতেই দু গোল বাতিল হওয়ার পর প্রথমে লিড পায় আর্জেন্টিনাই।

মিডফিল্ড থেকে রদ্রিগো দি পল বল বাড়িয়ে দেন মেসির কাছে। বল পেয়ে তিনি পরিচিত ভঙ্গিতে এগিয়ে যান এবং প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে নেন জোরালো শট। আলজেরিয়ার গোলরক্ষক লুকা জিদান দুই হাত লাগাতে পারলেও সেই দুর্দান্ত শট ঠেকাতে পারেননি। বল জালে জড়িয়ে গেলে এগিয়ে যায় বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।

নিজের ২০০তম ম্যাচ খেলতে নেমেই মেসি স্বভাবসুলভ পায়ের জাদু দেখালেন। এদিকে মেসির গোলে লিড নেওয়ার পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় আর্জেন্টিনা। বিরতির আগ পর্যন্ত বেশ কয়েকবার চেষ্টা করলেও আর গোলের দেখা পায়নি লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। ম্যাচের ৪২ মিনিটে থিয়াগো আলমাদার নেওয়া শট ক্রসবারের উপর দিয়ে যায়।

এদিকে গোল হজম করে আলজেরিয়াও ম্যাচে ফিরতে মরিয়ে হয়ে লড়েছে। তবে তাদের কোনো প্রচেষ্টাই সফল হয়নি। ইতিরিক্ত সময়ের শেষদিকে আলজেরিয়ার প্রচেষ্টা ঠেকিয়ে দেন মার্তিনেজ। শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা বিরতিতে যায় ১-০ গোলের লিড নিয়ে।

বিরতির পর আর্জেন্টিনা খেলা শুরু করে একাদশে এক পরিবর্তন নিয়ে। গঞ্জালো মান্তিয়েলের জায়গায় মাঠে নামেন নাহুয়েল মলিনা। ম্যাচের ৫১ মিনিটে গোল করার প্রচেষ্টা নিয়েছিলেন মেসি। তবে ডি বক্সের বাইরে থেকে তাঁর নেওয়া শটটি ক্রসবারের উপর দিয়ে যায়। এরপর ৫৫ মিনিটে লাওতারো মার্তিনেজের শট দারুণভাবে ঠেকিয়ে দিলেন আলজেরিয়ার গোলরক্ষক লুকা জিদান। তবে গোলের জন্য আর্জেন্টিনার অপেক্ষা বেশি হয়নি।

৫৫ মিনিটে দলে আরও দুই পরিবর্তন আনেন স্কালোনি। লাওতারো মার্তিনেজের বদলে মাঠে নামেন হুলিয়ান আলভারেজ। একই সময়ে থিয়াগো আলমাদার বদলে মাঠে নামেন নিকোলাস গঞ্জালেস। আর ৬০ মিনিটের মাথায় গোলের দেখা পান মেসি। এবার গোলপোস্টের খুব কাছ থেকে জালের ঠিকানা খুঁজে নেন তিনি। অ্যালেক্সিস ম্যাক আলিস্টারের বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া শট নিয়ন্ত্রণে নিতে ব্যর্থ হন আলজেরিয়ার গোলরক্ষক। ফিরতি শটে গোল করে বল জালে জড়ান মেসি।

এটি বিশ্বকাপে মেসির ১৫তম গোল। এই গোলে মেসি ছুঁয়ে ফেললেন ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনালদো নাজারিওকে (১৫)। এরপর তাঁর সামনে ছিলেন শুধুই ক্লোসা। পরবর্তীতে ম্যাচের ৭৬ মিনিটেই নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন মেসি। বিশ্বকাপে নিজের প্রথম হ্যাটট্রিকেই ক্লোসাকেও ছুঁয়ে ফেলেন জীবন্ত এই কিংবদন্তি। হ্যাটট্রিকের পরপর ৮০ মিনিটে মাঠ ছাড়েন মেসি। মাঠ ছাড়ার সময় মেসিকে দেয়া হলো ‘স্ট্যান্ডিং অভেশন।’

মেসিময় এই ম্যাচের বাকি সময়টা প্রতিরোধ গড়েই কাটাতে হয়েছে আলজেরিয়াকে। আলবিসেলেস্তেরা এরপর আরও কয়েকবার আক্রমণে গেলেও তা সফল হয়নি। শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় মেসির হ্যাটট্রিকে ৩-০ গোলের জয়ে বিশ্বকাপে উড়ন্ত সূচনা করে আর্জেন্টিনা।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

আমি না থাকলে ইসরায়েলের অস্তিত্ব থাকত না: ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৮:৫৪ পূর্বাহ্ণ
আমি না থাকলে ইসরায়েলের অস্তিত্ব থাকত না: ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তার সমর্থন ছাড়া ইসরায়েলের অস্তিত্ব টিকে থাকত না। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে মতপার্থক্য বাড়তে থাকার মধ্যেই তিনি এ মন্তব্য করেছেন।

জি–৭ সম্মেলনের ফাঁকে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির উপস্থিতিতে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া ইসরায়েলের অস্তিত্ব থাকত না। আমি না থাকলেও ইসরায়েল টিকে থাকত না। কারণ আমি যা করেছি, তা করার সাহস বা ইচ্ছা অন্য কোনো প্রেসিডেন্টের ছিল না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি জড়িত না হলে ইসরায়েল অনেক আগেই ধ্বংস হয়ে যেত।’

সম্প্রতি লেবাননে ইসরায়েলের হামলা এবং ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। তার মতে, বৈরুতে ইসরাইলের সামরিক অভিযান মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

ট্রাম্প জানান, নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার সম্পর্ক এখনো ভালো। তবে লেবানন ইস্যুতে তিনি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে আরও সংযমী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

ট্রাম্প বলেন, ‘বিবির (নেতানিয়াহু) সঙ্গে আমার সম্পর্ক চমৎকার। কিন্তু এখন লেবাননের বিষয়ে তাকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।’

লেবাননের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ‘একসময় লেবানন ছিল একটি মহান দেশ। সেখানে অসংখ্য অধ্যাপক, চিকিৎসক ও আইনজীবী ছিলেন। অনেক মেধাবী মানুষ লেবাননে বাস করতেন। কিন্তু এখন দেশটির অবস্থা খুবই খারাপ।’

মার্কিন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য একটি চুক্তির আগে বৈরুতে ইসরায়েলের হামলায় ট্রাম্প অসন্তুষ্ট হয়েছেন। অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, হামলার বিষয়টি জানতে পেরে তিনি বিস্মিত হন। কারণ এর আগে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো একে অপরকে আক্রমণ না করার বিষয়ে সম্মত হয়েছিল।

ট্রাম্প বলেন, ‘এটি খুবই খারাপ ছিল। আমি বিশ্বাসই করতে পারিনি। আমাদের চুক্তি স্বাক্ষরের মাত্র এক ঘণ্টা আগে এটি ঘটেছে।’

নেতানিয়াহুর সিদ্ধান্তেরও সমালোচনা করেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, ‘বিবিকে কেন এই জঘন্য হামলাটি করতে হলো? আমি খুবই ক্ষুব্ধ হয়েছিলাম এবং তাকে তা জানিয়েছি।’

অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো চুক্তির অন্যতম শর্ত হবে লেবাননের যেসব এলাকা চলমান সংঘাতের সময় ইসরায়েল দখল করেছে, সেখান থেকে সেনা প্রত্যাহার।

আরাঘচির ভাষ্য, ‘যুদ্ধ চলাকালে দখল করা অঞ্চলগুলো থেকে ইসরায়েলি বাহিনী সরে না যাওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ পুরোপুরি শেষ হয়েছে বলা যাবে না।’

তবে একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আলোচনায় থাকা সম্ভাব্য চুক্তিতে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের কোনো শর্ত নেই। এদিকে নেতানিয়াহুও বলেছেন, প্রয়োজন হলে ইসরাইল দীর্ঘ সময় লেবাননে অবস্থান করবে।

সূত্র: এনডিটিভি

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ